Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯১

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯১

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯১
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ অমানুষ,, জানোয়ার কোথাকার,,একটারে দিয়ে মন ভরে নাই এখন আমার শিশু মেয়েটার দিকে নজর দেস,,,,মা বোইন নাই ঘড়ে,,,তাগো লোগে পারোস না,,, জানোয়ার কোথাকার,,, অমানুষ,,,কোন মায়ে জন্ম দিছে রে তোর মতো জানোয়ার,,,সেই মহিলার মুখটা দেখতে ইচ্ছা করছে,,কোন জানোয়ার মা বাপ এরকম অমানুষ জন্ম দিছে,,,
নাবিল জায়মা বেগমের কথায় দাঁতে দাঁত চেপে সাগরের দিকে তাকিয়ে বললো
_ হোন থাইকা একটা ছুরি লইয়া এই জাওরা মহিলার জবানটা কেটে দে,,বেশি পকপক করে,,,বেশি কথা বলা মানুষ আমার পছন্দ না,,,
বলেই নাবিল উঠে বসে কান পরিষ্কার করলো,,,সাগর ডাইনিং টেবিল থেকে একটা ছুরি নিয়ে জায়মার দিকে এগিয়ে গেলো,,জায়মা বেগম চোখ মুখ খিচে মেয়েকে আঁকড়ে ধরলো,,
নাবিল কিছু একটা ভেবে বললো,,

_ ওই লো থাক,,কাটিছ না,,না হইলে পড়ে গাল মন্দ করার মতো লোক থাকবে না,,, সবাইকে যদি এক এক করে বোবা করে দি তবে গালি দিয়ে উৎসাহ দিবে কে,,,
সাগর মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ ঠিক কইছেন ভাই,,,
নাবিল সোফায় হেলান দিয়ে বসে টিভিট রিমোট নিয়ে বললো
_ তোগো বোরিং লাগে না,,হুদাই বইয়া আছোস,,টিভি মিভি ছেড়ে দেখবি কি ,,তা না,,,
বলেই নাবিল টিভি ছেড় গানের চ্যালেনে দিলো নাবিল,,,আলিয়া ভাটের গাঙ্গুবাই মুভির “Dholida”
Song চলছে,,,নাবিল সেদিকে এক পলক তাকিয়ে sound বারিয়ে দিলো পরপর পা ঝুলিয়ে বিচ্ছিরি ভাষায় বললো,,
_ ব্যা*** ডারে আমার এত্তোই ভালা লাগে,,, আহ্,,,ওর সব গুলা ছবি দেখছি,, কিন্তু এই ছবিডা সেই হিট লাগছে আমার কাছে,,,ব্যা** পানা অভিনয়ে ওরে মানাইছে,,,ক (বল) ইমন,,,
ইমন নাবিলের বাম হাত বলতে গেলে,,ইমন মাথা ঝুঁকিয়ে বললো

_ হো ভাই ঠিক কইছেন,,
নাবিল পা ঝুলিয়ে বললো
_ কিন্তু ও পরির থৈক্কা বৈশি সৌন্দর না,,,ঠিক কইছি নি,,,পরিরে নায়কা বানাইলে সব গুলা টাস্কি খাইতো,,,মাইরি কি আগুন ডাই”না ফ্লিমে লাগাইতো,,,
সবাই মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ হো হো ভাই,,,
নাবিল সবার কথা শুনে একটু ক্ষেপে গেলো ফট করে সবার দিকে চোখ গড়ম করে তাকিয়ে বললো
_ তার মানি(মানে) তোরা কি কইতে চাস ওই মাগির মতো তোদের ভাবিও ব্য*** পান করতো,,এইডা কইতে চাস,,,
সবাই একটু ভয় পেয়ে বললো
_ না না ভাই,,এইডা কইতে চাই নাই,,,আমরা তো খালি কইলাম আলিয়া থাইক্কা আমগো ভাবি সুন্দর,,,
নাবিল মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ তার মানি তোরা ওর দিকে তাকাইছোস,,
সবাই আরো বিপদে পড়ে গেলো,,নাবিলের সামনে কিছু বলাও দাই,,,সবাই শুকনো ঢোক গিললো,,সাগর মৃদু কন্ঠে বললো

_ তাকাতেই লাগে ভাই,,আপনে যেমনে কন (বলেন)‌ বোঝাই যায় ভাবি কত সুন্দর,,,
নাবিল সাগরের কথায় সন্তুষ্ট হয়ে বললো
_ সাবাস,,,এর লাইগা তোরে আমার এতো ভালো লাগে,,,
এদিকে জায়মা চুপচাপ বসে আছে,,,গানের শব্দে জায়মা বেগম রাগে তিরতির করে কাঁপছেন,,কতটা জানোয়ার হলে মানুষ এরকম করতে পারে,,,একটা পরিবারের সামনে তার ফুলের মতো মেয়েটাকে নিংড়ে খেলো এখন বাইরে এসে অমানুষের মতো মাজা নিচ্ছে যেনো সে কত গর্ভের কাজটা করেছে,,,
এই সবের ভিতরে পরির গুঙ্গানির শব্দ শুনা গেলো,,,প্রিউ বোনের চাঁপা গলার আর্তনাদ শুনলো,,যেনো গলা কাটা মুরগীর মত ছটফট করছে,,,প্রিউ ছোট্ট মনটা বোনটাকে দেখতে ছুটে গেলো,,,প্রিউ মায়ের বুক থেকে উঠে দৌড়ে কক্ষে প্রবেশ করলো,,জায়মা বেগম আহাজারি করে উঠলেন

_ প্রিউ,,,প্রিউরে,,,
প্রিউ হিচকি তুলতে তুলে কম্পিত শরীরে রুমে ঢুকে সুধালো
_ আপী,,,আপী,,,
পরির ক্লান্ত কন্ঠ বোনের শব্দ পেয়ে মৃদু বাড়লো,,,প্রিউ দৌড়ে বোনের কাছে গেলো,,,পরপর বোনের বিধ্বস্ত মুখ দেখে প্রিউ ভয়ে কেঁপে উঠলো,,তার পরির মতো সুন্দর বোনটাকে কিভাবে অসুন্দর করে দিয়েছে,,ভাবতে পারলো না প্রিউ হু হু করে কেঁদে উঠলো,,
পরি ক্লান্ত হাতে গায়ের উপর থাকা পাতলা চাদরটা গলা অবধি টেনে নিলো,,,প্রিউ ছোটো হাত গুলো বোনের মুখে রেখে কান্না করতে করতে বললো
_ ওই খারাপ লোকটা তোমাকেও মেরেছে আপী,,ওই লোকটা বাবাকেও অনেক মেরেছে আপী,,, অনেক খারাপ ওই লোকটা,,
পরি মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমাকে ছুঁয়ে অপবিত্র হোস না প্রিউ,,ধরিস না আমাকে,

ইতি মধ্যেই মেয়ের পিছন পিছন জায়মা বেগম ছুটে আসলো,,সে আসতে চাইছিলো না,,মেয়ের নাজেহাল অবস্থা যে সে দেখতে পারবে না,,, কিন্তু নিষ্ঠুর ভাগ্য এই পর্যন্ত টেনে আনলো,,,
মেয়ের মুখের অবস্থা দেখেই জায়মা বেগম মুখে আঁচল চেপে কেঁদে উঠলো,,তার মেয়ের পুতুলের মতো মুখশ্রী টাকে যেনো নিংড়ে খেয়েছে,,,হাচরের দাগ,,কামড়ের দাগ,,, ফর্সা মুখটা লাল,,নীল বর্ন ধারন করেছে,,,,
জায়মা বেগম হাউমাউ করে মেয়ের কাছে এগিয়ে গেলেন,,মা”য়ের কান্নায় পরি কান্ত চোখ খুলে তাকালো,,তবে বেশি সময় তাকিয়ে থাকার সাহস পেলো না,,,জায়মা বেগম এগিয়ে এসে কলিজার টুকরা মেয়েটাকে বুকে জরিয়ে নিলেন,,,
পরি শব্দ করে কেঁদে উঠে ভাঙ্গা কন্ঠে সুধালো
_ আমাকে স্পর্শ করিও না মা,,,

জায়মা বেগম পরিকে উঠিয়ে তার উন্মুক্ত পিঠে দুই হাত চেপে ধরে হাহাকার করে সুধালেন,,,
_ হে আল্লাহ তুমি কি দেখো না,,,এই জানোয়ারদের কেন দুনিয়াই পাঠাইছো,,,,
মায়ের কান্না দেখে ছোটো প্রিউ হুহু করে কেঁদে উঠলো,,, কিছু সময় মেয়েকে ধরে আহাজারি করলো জায়মা বেগম,,,পরি বারবার মৃত্যু কামনা করতে লাগলো,,,সব শেষ এখন বেঁচে থাকার মানে নেই,,তার কাছে যেটা সব থেকে মূল্যবান ছিলো সেটাই কেড়ে নেওয়া হলো সে এখন আর কি নিয়ে বাঁচবে,,
পরির কম্পিত শরীরের সাথে জায়মা বেগমেরো শরীর কাঁপতে লাগলো,,,
নাবিল মাথার পিছনে হাত দিয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে এগিয়ে আসলো,,হাম তুলে বললো
_ কান্না কাটি হইছে বাইর হোন,, আমার এখনো কাজ বাকি,,,,
জায়মা বেগম অগ্নি দৃষ্টিতে সামনে দাঁড়ানো নাবিলের দিকে তাকালো,,,,রাগে ক্ষোভে চিৎকার করে বললো
_ জানোয়ারের বাচ্চা,,,তোর মতো জারজ সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে হত্যা করে ফেলে উচিত ছিলো,,,তোর মতো অমানুষ কে ভরা সমাজে টুকরো টুকরো করলেও কম হয়ে যাবে,,,,
নাবিল ঘাড় বাঁকিয়ে জায়মা বেগমের দিকে তাকিয়ে পরপর ক্ষতবিক্ষত পরির দিকে তাকালো,,,হেলামি করে বললো

_ মাইয়ারে জিগ্গান( জিজ্ঞেস)মজা পাইছেনি,,হুদাই নাটক করে,,,, আমার থেকে আপনার মাইয়া বেশি আনন্দ পাইছে,,,জিগ্গান ওরে,, আমারে বাহবা দেওয়ার বদলে আরো গালি দিচ্ছেন,,,,জানেন তো এর পরিনতি কি হবে,,,?? হুম,,,গলা থেকে মাথা আলাদা কইরা ফালামু,,,
শেষ বাক্যে টুকু নাবিল গর্জে উঠে বললো,,,
জায়মা বেগম মেয়েকে রেখে উঠে দাঁড়ালেন,,রাগে কাঁপতে লাগলেন সে,,পরির সেই ফেলে রাখা ছুরিটার দিকে নজর পড়লো তার,,,ছুটে যেএ হাতে ছুরি তুলে নিলেন,,,আজ হয়তো নাবিলকে মরবে না হয় নিজে মরবে,,,
জায়মা বেগম কে ছুরি তুলতে দেখে নাবিল আড়মোড়া ভেঙে বললো
_ আবার সেই কাহিনি,,,বাইনচো*** তোরে তো,,,,
জায়মা বেগম রাগে ক্ষোপে নাবিলকে আঘাত করার জন্য এগিয়ে আসলেন,,,নাবিল উল্টা সু কৌশলে তার হাত থেকে ছুরি কেড়ে নিয়ে জায়মা বেগমের গলায় ধরলেন,,,,

হঠাৎ কান্ডে জায়মা বেগম হতভম্ব হয়ে গেলো,,, পরি ফুলো চোখ সেদিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো,,মাথা ঝুঁকিয়ে তার মাকে মারতে না করলো,, এদিকে প্রিউ তার মা আর বোনকে আঘাত করতে দেখে এগিয়ে এসে নাবিলের শক্ত শরীরে কিল ঘুষি মারতে মারতে বললো
_ ছাড়,, আমার মাকে ছাড়, শয়তান,, খারাপ লোক,,,
প্রিউ মার গুলো নাবিলের শরীরে তুলার মতো লাগলো,,, নাবিল জায়মা বেগম কে ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দিলেন,,,
পরপর ক্ষিপ্ত চোখে প্রিউ দিকে তাকালো সে,,প্রিউ ভয় পেলো কান্না করতে করতে বললো
_ খারাপ লোক,,,

নাবিল দাঁতে দাঁত চেপে ছোট্ট অবুঝ প্রিউর গলা চেপে উঁচু করে ধরলো,,,প্রিউ ছটফট করে উঠলো,,,,,দুই হাত দিয়ে নাবিলের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো,,,পরি সবটা শুনলো তবে চোখ খুলে দেখার বা কিছু বলার শক্তি টুকু সে পাচ্ছিলো না,,,, অতঃপর পরি অনেক কষ্ট করে কান্ত কন্ঠে বললো,,
_ আ,, আমার বোনটাকে ছেড়ে দিন,, আল্লাহর দোহায় লাগে,,,
নাবিল প্রিউ দিকে তাকিয়ে বিচ্ছিরি একটা হাসি দিলো দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আমার মতো খারাপ মানুষ দুনিয়ায় আর দুটো পাবে না মনা,,,,
বলেই কিছুটা উঁচু থেকে প্রিউ কে ছেড়ে দিলো,,নিচে পড়ে প্রিউ ব্যথায় ককিয়ে উঠলো,,,,দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে কাঁশতে লাগলো,,,
নাবিল জায়মা বেগমের পড়ে থাকা শরীরকে পা দিয়ে ঠেলে বললো,,,
_ ওই ইমন,,ওই দুই জোকারকে নিয়ে যা তো,,,,শালা মুডটাই নষ্ট করে দিলো,,,
এদিকে জয়মা বেগমকে ধাক্কা দেওয়ার ফলে মাথায় প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছে তাই তার হুস নেই বললেই চলে,,,ইমন মাথা নিচু করে রুম ঢুকলো এক হাত দিয়ে পড়ে থাকা প্রিউকে অন্য হাত দিয়ে জয়মা বেগমের এক হাত ধরে দুজনকে টেনে বাইরে আনলো,,,পরপর দরজা চাপিয়ে দিলো সে,,,
নাবিল চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে পরির কাছে এগিয়ে গেলো,,,পরি মরার মতো পড়ে আছে,,,শরীরে থাকা অবশিষ্ট শক্তি টুকু হারিয়েছে সে,,,

নাবিল পরির উপর থেকে এক টানে পাতলা চাদর টুকু সরিয়ে ফেললো,,,পরির ক্ষত বিক্ষত শরীর কম্পিত হলো,,,,নাবিল পরির শরীরে চোখ বুলিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,,,
_ যা শালা,,,এতো সুন্দর,,,,আবার দেখি মন চাইতেছে,,,,
পরির শুধু নিঃশ্বাসে শব্দ শোনা গেলো,,যেনো নিঃশ্বাস নিতেও তার কষ্ট হচ্ছে,,নাবিল ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো,,, দ্বিতীয় বারের মতো আবারো পরির অর্ধ মরা শরীরকে আঁকড়ে ধরলো,,,,পরির চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,
কি পাপ করেছিলো সে,,,,যে এরকম শাস্তি পাচ্ছে,, নিশ্চয় আল্লাহর দেওয়া সৌন্দর্য ডেকে রাখেনি পরি,,,যদি সুন্দর মতো পর্দা করে বাইরে যেতো তবে না কোনো দিন নাবিলের চোখে পড়তো সে আর না এই সব হতো,, হয়তোবা নিজের সৌন্দর্য ডেকে না রাখার শাস্তি পাচ্ছে সে,,তার সব কিছু স্বযত্নে আগলে রাখা উচিত ছিলো তবে সে তা করেনি যার ফল স্বরুপ আজ তার এই দশা,,,,

নুবার নিঃশ্বাস ক্রমাগত ভারি হয়ে আসছে,,,আয়রাকে ফিড করাচ্ছে সে,,পিছনে তাকে আঁকড়ে ধরে আরহাম তাতেই লেপটে আছে,,,নুবার কেমন জেনো লাগছে,,আজ কোনো ভয় নেই যে কেউ চলে আসবে,, কারণ আরহাম তার বৈধ স্বামী,,,সে তার স্ত্রী,,তবে মনের ভিতরে কেমন আনচান করছে এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না কিছু সময় আগেই তাদের বিয়ে হলো,,,
আরহাম নুবার পিঠে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো,,নুবা তিরতির করে কেঁপে উঠলো,,, আরহাম নুবাকে হঠাৎ কেঁপে উঠতে দেখে মৃদু হেসে ফিসফিস করে বললো
_ মিনি হাতি কি ভয় পাচ্ছে,,
নুবা চোখ মুখ খিচে বললো
_ আপনি নিজেও ঘুমাচ্ছেন না,, আমাকেও ঘুমাতে দিচ্ছেন না,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ আজ কি ঘুমানোর রাত,,,
নুবা মিনমিন করে বললো
_ একটু পরে ফজরের আযান দিবে,,,রাত কোথায় পেলেন,,,

আরহাম আরো শক্ত করে নুবাকে নিজের সাথে আগলে নিলো,,গলায় ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো,,
_ আপনার আরু বাবু ঘুমিয়ে গেছে,,,
নুবার বুকটা টিপটিপ করে উঠলো,,বাক্যটা তাকে স্বরণ করিয়ে দিলো সে বিবাহিত,,তার একটা ছোট্ট মেয়েও আছে,,নুবার কেমন আনন্দ হলো,,,তবু বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,,,আলতো করে নড়ে চড়ে উঠলো সে,, মৃদু কন্ঠে সুধালো,,
_ না,,,এখনো ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,নুবা কিছু সময় চুপ থেকে একটু বউ বউ ভাব নিলো,,,ঝগড়া করার মুডে বললো,,
_ আচ্ছা,,ওই যে রেজিস্ট্রি পেপার দেখালেন ওটা কি সত্যি ছিলো,,
_ হুম,,একদম রিয়েল,,
নুবার ভুরু কুঁচকে গেলো,,,কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ এটা কি অন্যায় না কাউকে না বলে বিয়ে টিয়ে করে নেওয়া,,, বলুন অন্যায় না,,,আমি যদি আপনার সাথে সম্পর্কে না জড়াতাম তখন কি হতো,,আমি কি দুটো বিয়ে করতাম নাকি,,যেখানে জানতামি না আমার প্রথম স্বামী আছে,,,

আরহাম ভারি নিঃশ্বাস নুবার গালে ফেললো,,,পরপর গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো
_ ঝগড়া করতে ইচ্ছা হচ্ছে,,,
_ আমি কখন বল্লাম ঝগড়া করবো,,,
_ না করতে ইচ্ছা করলে ওরকম কথা বার্তা টেনে আনছেন কেনো??
নুবা মুখ কালো করে সুধালো
_ আমার তো সব জানা থাকা উচিৎ,,,
_ হ্যাঁ,,তবে সব জানতে হয় না,,
অনেক টা সময় তারা খোশগল্প করতে লাগলো অতঃপর শোনা গেলো ভোরের আযান,,, গল্প করতে করতে তিন জনি আস্তে আস্তে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলো,,,তবে আয়ানের শব্দ শুনে নুবা চোখ খুলে তাকালো,,,আরহামকে কুনুই দিয়ে খোঁচা মেরে বললো
_ উঠুন,,, যেহেতু জেগেই আছি দুই জোন মিলে নামাজ টা পড়েই নি,,,
আরহাম ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো

_ তুমি পড়ো,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ অন্ততপক্ষে আমাকে পেয়েছেন সেই শুকরিয়া তো আল্লাহর কাছে আদায় করেন,, অসভ্য লোক,,
আরহাম আড়মোড়া ভেঙ্গে বললো
_ তুমি আমার টা আদায় করে দিও,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আরহামকে টেনে তুলে বললো
_ আসেন আমার সাথে,,কোনো বাহানা না,,,

মস্তিষ্কে ফজরের আযান পৌঁছাতেই নাবিল দ্বিতীয় বারের মতো পরিকে ছেড়ে দিলো,,,তখন পরি যন্ত্রনায় গুঙ্গাচ্ছে,,তবে তার এমন যন্ত্রনা ভরা আর্তনাদ শুনার মতো কেউ নেই,,,
নাবিল শেষ বারের মতো পরির শরীরে নিজের হাত বিচোরণ করে উঠে বসলো,,, দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে নিঃশ্বাস নিলো সে,,,পরপর নিজের দিকে তাকিয়ে অনুভব করলো পরির রক্তাক্ত শরীর তাকেও মেখে একাকার করে দিয়েছে,,,নাবিল ভুরু কুঁচকে বললো
_ ইস্ অপবিত্র রক্ত গুলো মেখে নিলাম,, শরীর ঘৃন ঘৃন করছে,,,
ভান যেনো এমন ধরলো গা গুলিয়ে আসছে তার,,তবে এই রক্ত দিয়েই তার প্রতিদানের সকাল শুরু হয়,,,নাবিল উঠে দাঁড়িয়ে ওই অবস্থায় পড়ে থাকা শার্ট পেন্ট পড়ে নিলো,,, পেন্ট এর জিপ লাগাতে লাগতে রুম থেকে বেড় হয়ে আসলো,, পরপর জিমতে থাকা সাগরের কাছে সিগারেট চাইলো সে,,,
নাবিল চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে সিগারেটের ধোঁয়া বাতাসে উড়িয়ে দিলো,,,ইমনের দিকে তাকিয়ে বললো,,

_ গাড়িতে বস্তা আছে,,,
ইমন মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ হ ভাই আছে,,
_ চাপাতি,,,
_ হ,,,
সাগর এগিয়ে এসে মৃদু কন্ঠে বললো
_ কেন ভাই,,লাগবো নি,,,
নাবিল সিগারেটের ধোঁয়া ছেঁড়ে বললো
_ লাশ টুকরা টুকরা করতে লাগবো না মগা,,,
সাগর একটু চম্কে গেলো,,পরিকে কি তাহলে সে মেরে ফেলবে,,, অবশ্য প্রশ্ন করার সাহস পেলো না সে,, কারণ নাবিলের উপরে কথা বলা তার পছন্দ নয়,,,
চেলাদের ভিতরে এই কথা শুনে এক জনের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো,,, এগিয়ে এসে লোভনীয় কন্ঠে বললো,,,

_ মাইরা ফালাইবেন ভাই,,,
নাবিল ভুরু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে হুতসে মাথা ঝুকালো,,,ছেলেটা চকচক করতে থাকা চোখে বললো
_ মাইরাই যেহেতু ফালাইবেন ভাই আমারে একটু সুযোগ দেন,,,, ভীষণ হুন্দর (সুন্দর),, মনে তাক লাগায় দিছে ভাই ,,,,
নাবিল ঠোঁট হেলিয়ে হেসে ছেলেটার কাঁধে হাত রেখে বললো
_ সুযোগ লাগবোনি,,,,
ছেলেটা মাথা ঝুকালো,,,
নাবিল সিগারেটের ধোঁয়া ছেঁড়ে বললো
_ মনে এই ছিলো তাইলে তোর,,
নাবিলের কথার ধরনে ছেলেটা একটু ভয় পেয়ে গেলো,,, জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ না মানে ভাই,,মাইরা ফেলবেন বললেন না তাই বল্লাম আরকি,,,
_ ও,,তা কয় বছর যাবত কাম করোস আমার লোগে,,,
ছেলেটা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ ২/৩ বচ্ছর হইবো,,, মনে হয়,,
নাবিল হুহু করে হেসে উঠৈ বললো

_ এতোদিনেও আমারে চিনোস নাই,,, আইচ্ছা,,,যা আরো আগে কইবি সিনা,,, এমন দেরিতে কইলে হয়,,
ছেলেটার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো,, হেসে বললো
_ সত্যি ভাই,,যামু,,
নাবিল ছেলেটার কাধে দুটো আলতো করে থাপ্পর হেসে অন্য দিকে এগিয়ে যেএ বললো
_ আরে যা,,আবার কইতে লাগেনি,,,
ছেলেটা খুশি হয়ে রুমের দিকে যেতে লাগলো,,,তবে রুমের দরজায় পা দেওয়ার আগ মূহুর্তে নাবিল ডেকে উঠলো তাকে,,
_ খাঁড়া,,,,
ছেলেটা দাঁড়িয়ে গেলো,,,নাবিল সিগারেটা পায়ের তলে পিষে ফেললো,, ডাইনিং টেবিলের উপর থেকে কাঁটা চামচ হাতের মুঠোয় নিয়ে এগিয়ে গেলো,,ছেলেটা সেদিকে খেয়াল করলো না,,, শুধু নাবিলের দিকে তাকিয়ে রইলো,,,
নাবিল এগিয়ে এসে ছেলেটার চোখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপলো,, হঠাৎ করেই কাঁটা চামচ ছেলেটার মা চোখে ঢুকিয়ে দিলো,,,ছেলেটা সাথে সাথে ছটফট করে উঠলো,,সবাই হতভম্ব হয়ে গেলো,,,জায়মা বেগমের নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গেলো,,,প্রিউ কে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে চোখ বড় বড় করে সেদিকে তাকালো,,নাবিল আবারো আঘাত করলো,,ফ্লোরে ফেলে দিলো তাকে,,,
নাবিল ছেলেটার অন্য চোখে কাঁটা চামচ ঢুকিয়ে দিয়ে বললো,,,
_ আমার মাগির উপর নজর দেস,,,, হ্যাঁ,, আমার মাগির উপর,,,
ছেলেটা আর্তনাদ করে উঠলো,,,,নাবিল হুংকার ছেড়ে বললো

_ সাগর,,,,
সাগর ভাইয়ের ডাক বুঝতে পেরেই ডাইনিং টেবিলে রাখা ছুরি নাবিলের দিকে ছুরে দিলো,,,
ছেলেটা আর্তনাদে সবার বুক কেঁপে উঠলো,,সে চিৎকার করে বললো
_ ছাইরা দেন ভাই আর বলমু না,,,ছাইরা দেন,,,
নাবিল সাথে সাথে গরু জবাই করার মতো ছেলেটাকে সবার চোখের সামনে জবাই করে দিলো,,,গলা থেকে তিরতির করে উষ্ণ রক্ত এসে তার শরীর আর মুখ মেখে গেলো,,,নাবিল গলায় ছুরি চালাতে চালতে বললো,,
_ একবার নজর দিছসো দ্বিতীয় বার দিবি না কি ভরসা আছে,,,এই নাবিল কাউকে দ্বিতীয় দফা সুযোগ দেয় না,,,
বলতে বলত ছুরিটা ছেলেটার গলায় গেথে দিলো,,,, সাথে সাথে গলা কাটা মুরগীর মত ছটফট করতে থাকা ছেলেটা ওখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো,,নাবিল আরো অনেক গুলো কোপ বসিয়ে দিলো তার উপর‌ এই পুরো দৃশ্য জায়মা বেগম দেখলো,,প্রিউ চোখ চেপে ধরে আছেন সে যাতে প্রিউ ভয় না পায়,, এদিকে ভয়ে তারি জান বের হয়ে যাচ্ছে,,,
ছেলেটাকে শেষ করে নাবিল রক্ত ভেজা হাত দিয়ে কুঁকড়ে যাওয়া চুল গুলো পিছনে ঠেলে হুংকার ছেড়ে বললো,,

_ আর কারো সুযোগ লাগবো,,,
সবাই আতংকিত হয়ে সুধালো
_ না না ভাই,,,
নাবিল উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ তার মানে সুযোগ চাইতেছিলি,,
সবাই ভীতু কন্ঠে বললো,,
_ না না ভাই,,হেই তো আমগো মায়ের মতো,,কি যে কন(বলেন)‌ভাই,,,
নাবিল হাত দিয়ে মুখের রক্ত গুলো মুছে বললো
_ ইমন,,,
ইমন দৌড়ে কাছে এসে বললো
_ জী ভাই,,
নাবিল এক গাঁদা থুথু ছেলেটার উপর ফেলে বললো,,
_ এইটাকে নিয়ে যেএ গাড়িতে যেই লাশ আছে ওইটার লোগে রাইখা দে,,দুই টাকে একসাথে কুপাইয়া নর্দমায় ফালায় দিবি,,

ইমন মাথা ঝুকালো,,,পরপর দুই জন মিলে রক্তাক্ত লাশ উঠিয়ে চলে গেলো,,ফ্লোরে রক্তের স্রোত দেখে জায়মা বেগমের মাথা ঘুরে উঠলো,,মনে হলো সেও এখানে শেষ হয়ে যাবে,,, চোখের সামনে নিজের মেয়েরি ধর্ষণ দেখলো,,,আবার খুনো দেখে নিলো,,,আর কি বাকি আছে,,,
গাড়িতে লাশ ছিলো,,,গাড়িতে থাকা লোকের লাশটাও তাদের দলের,, অর্থাৎ নাবিলের বাপের দোলের,পরিরা কোথায় থাকে সে জানতো জিগ্গেস করায় “না” বলায় মেরেছিলো,,,পরে অবশ্য বলেছে তবে আর বাঁচতে পারেনি,,, খাড়াখাড়ির ভিতরে নাবিল দুটো খুন করে ফেললো,,,
নাবিল রক্তে মাখা ফ্লোরে কদম ফেলে রুমের দিকে এগিয়ে গেলো,,,পরপর পরিকে পাতলা খেতা দিয়ে পেঁচিয়ে কাঁধে তুলে নিলো,,, জ্ঞান শূন্য পরি বুঝতে পারলো না তার সাথে কি হচ্ছে,,,
নাবিল পরিকে নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে এক পলক জায়মা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_ চইলে পুলিশেরে খবর দিতে পারোস,,,, কিন্তু আফসোস খবর তো দিবি কিন্তু এর পর না মাইয়ারে পাইবি না নিজেদের,,৪ টা খুন করতে আমার হাতে তেমন বাঁধবো না,,,

বলেই পরিকে নিয়ে এগিয়ে গেলো,,,জায়মা বেগমের কলিজা কেঁপে উঠলো,, নিশ্চয় মেয়েটাকে নিয়ে যেএ মেরে ফেলবে,,,ওই ছেলের মতো তার মেয়েটাও টুকরো টুকরো করে কোনো এক নর্দমায় ভাসিয়ে দিবে,,,,
কথা টুকু ভেবেই প্রিউকে ছেড়ে হামাগুড়ি দিয়ে রক্তে একাকার হয়ে সে এগিয়ে যেএ নাবিলের এক পা জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বললো,,
_ আমার মেয়েটাকে ছেড়ে দেও বাবা,,আমরা কাউকে কিছু বলবো না ,,তাও আমার মেয়েটাকে মেরো না,,,আমরা এখান থেকে দূরে চলে যাবো,, কাউকে কিছু জানতে দিবো না,,আমার মেয়েটাকে একটু বাঁচতে দেও,,,, আমার মেয়েটাকে ছাড়া আমরা বাঁচবো না,,
নাবিল পা দিয়ে ঠেলে জায়মা বেগমকে সরিয়ে দিলো,,, সাগরের দিকে তাকিয়ে বললো
_ একটা কাজ কর,,,তিনটারেই হেনেই কবর দিয়া ফালা,,,, বেঁচে থেকে আর কি করবে,,,
_ আইচ্ছা ভাই,,,
নাবিল এক পলক জায়মা বেগমের দিকে তাকিয়ে পরিকে নিয়ে ফ্লাট থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,
সাগর পকেট থেকে বন্ধুক বেড় করে জায়মা বেগমের দিকে ত্যাগ করলো,,,, ছোট্ট প্রিউ হাউমাউ করে কেঁদে মায়ের কাছে ছুটে এসে বললো

_ আমার মাকে মেরো না আঙ্কেল,,,মেরো না,,,
সাগর আফসোস করে বললো
_ তুমিও শিঘ্রই তোমার মায়ের কাছে চলে যাবা বাচ্চা,,,
বলেই সাগর টিগার চাপতে নিলো,,,ইমন বলে উঠলো,,
_ দাঁড়া,,মারিস না আমি আইতাছি,,,
ভয়ে প্রিউ কাঁপতে লাগলো,,,তারা কি সত্যি মরে যাবে,,
ইমন বাইরে যেএ পিছন দিকে নাবিলকে ডাক দিয়ে বললো
_ ভাই খাড়ান কথা ছিলো,,,
নাবিল ইমনের দিকে ফিরে তাকালো,,,ইমন এগিয়ে এসে শান্ত কন্ঠে বললো
_ সত্যি সত্যি ওগোরে মাইরা দিমু ভাই,,,
নাবিল ভুরু কুঁচকে বললো
_ তাইলে কি তোগে লোগে ইতরামি করি আমি,,,
ইমন মাথা ঝুঁকিয়ে বললো

_ মাইরা কি হইবো ভাই,,,ভাবি তো জীবন্ত থাকতে মইরা যাইবো,,এর থাইক্কা ভালো আপনে যা করছেন তো করছেন কালকে চাচা আর চাচিরে নিয়া আইসা তুইলা নিয়া যাইয়েন,,,,যতোই হোক,,মাইয়া মানুষ,খুব নরম,,,
নাবিল একটু হেসে বললো
_ তোর আবার এতো মায়া দয়া কবে থৈক্কা হইতে শুরু করলো,,,
ইমন মাথা নিচু করে বললো
_ প্রিউর মতো আমার একটা ছোট্ট বোইন আছে ভাই মায়া লাগে,,,
নাবিল দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ ধান্দায় মায়া দয়া রাখতে হয় না জানোস না,,,
ইমন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ হ ভাই জানি,,, কিন্তু ওগোরে মারলে তো আর আপনার লাভ হইবো না,,, এমন না যে ওগোরে মারলে আমাদের ব্যাংকে লাক্ষ খানিক টাকা জমা হইবো,,,আর এমনিতেও ওরা এখন অবস্থায় আছে,, আর কি এমন করবো যা হারোন তো হারাই ফালাইছে,,রুখে দাঁড়ানো হলে থরি এখানে এসে লুকিয়ে থাকতো,,,
নাবিল মাথা ঝুঁকিয়ে বললো,,

_ কথায় দম আছে,,,তা কি করমু,,
ইমন চাপা কন্ঠে বললো
_ ভাবিরে রাইখা যান,,, কালকে আইয়েন সবাইরে লইয়া,, এমনিতেও আপনার আব্বা এগুলো নিয়া ঝামেলা করবো এর থেইক্কা ভালো রাইখা যান,,,আমরা বিল্ডিং এর আশেপাশের থাইকা পাহারা দিমুনে,,এমনিতেও এতো কম সময়ে পালাতে পারবে না,,,,সবাই যেহেতু অসুখে ভুগছে,,,
_ যাক জীবনে তোর মাথায় একটু বুদ্ধি আইছে,,,একটু সোখ পালন করে শান্তি মিলুক,,,
বলেই নাবিল পরিকে নিয়ে ফ্লাটে ফিরে গেলো,,, জ্ঞান শূন্য পরিকে ফ্লোরে রাখলো,, সাগর নাবিলকে ফিরে আসতে দেখে বললো
_ কি হইলো ভাই,,,
নাবিল কাঁপতে থাকা জায়মা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ একটা মাইয়া ডাক্তার ডাইকা দে,,,সবগুলারে চিকিৎসা কইরা যাক,,,আর এই রক্ত পরিষ্কার কইরা ফেল,,,এতো কষ্ট দেওয়া যায় না ওদের,,,এতো সুন্দর একটা মাইয়া দিলো আমারে,, ওদের কি কইরা মারি,,,

নুবার মোনাজাত শেষে করে জায়নামাজ ভাঁজ করে উঠে দাঁড়ালো,,,,পরপর আরহামের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে নামাজ শেষে করে বেঙ্গের মতো উপুর হয়ে ওখানেই প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে,,,নুবা মৃদু হাসলো,,,তার চাওয়া পাওয়া শুরু এতটুকুই যে সে একটু সুখে থাকুক,,একটা পরিবার পাক,,আর তার মা খুশি মনে সব মেনে নিক,,,

সকাল ৮ টা নাগাত,,,নুবার নামাজ পড়ে মাত্র একটু ঘুমিয়েছিলো তবে আরহামের বিরবিরানিতে তার ঘুম হালকা হয়ে আসলো,,, চোখ মুখ কুঁচকে আয়রার দিকে তাকালো,,,আয়রা গভীর ঘুমে মগ্ন,,,নুবা ঘুমের মধ্যে একটু হাসলো পরপর পাশ ঘুরলো সে,,,আরহাম তাঁকে আঁকড়ে ধরে শুয়ে আছে,,,নুবা হাম তুলে নড়েচড়ে তার দিকে ঘুরে শুয়ে বোঝার চেষ্টা করলো লোকটা কি বিরবির করছে,,,
কিছু সময় মনযোগ দিয়ে শুনার পর বুঝতে পারলো ঘুমের ভিতর “আমার বউ””আমার বউ” নাম জপছে,,,নুবা তার বিরবির শুনে হতভম্ব হয়ে গেলো,,,ঘুমের ভিতরেও কি বকছে সে,,খুশিতে পাগল হয়ে গেলো নাকি,,,,
নুবা কিছু সময় তাকিয়ে রইলো পরপর একটু উঁচু হয়ে তাকে বুকে টেনে নিলো,,,ঘুমের ভিতরে বউকে আরো কাছে আসতে দেখে আরহাম দুই হাত দিয়ে নুবাকে আঁকড়ে ধরে বক্ষ যুগলে মুখ গুজলো,,,নুবার ঘুম উড়ে গেলো,,,এক হাত দিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে কপালে চুমু খেলো,,, আরহাম মুচকি হাসলো,,,এতোটাও ঘুম ধরেনি তাকে শুধু চোখ লেগে এসেছে তার,,,
নুবা মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আরহামের মাথায় চুমু খেলো,,আজ এই স্পর্শ পুরোপুরি ভাবে পবিত্র,,,কোনো অপূর্ণতা নেই আছে শুধু পূর্ণতা,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯০

পরি চুপচাপ দুই হাঁটু আঁকড়ে ধরে বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে,,,পেটের তীব্র ব্যথা এতে করে একটু কমেছে,,,সামনে হাতে পায়ে,,এমনকি মাথায় ব্যান্ডেজ করা পরশ হাওলাদার বসে আছে,,,মুখে কথা নেই তার,,, শুধু নিরব যেনো সে কথা বলতে ভুলে গেছে বড় একটা সোক্ট খেয়েছে সে,,,যা ভাবার মতো না,,,জায়মা বেগম সামনে বসে মুখে আঁচল চেপে কাঁদছেন এদিকে ভয়ে প্রিউর জ্বর এসেছে ছোট্ট প্রিউ মায়ের কোলের ভিতরে পরে আছে,,,তারা যাওয়ার আগে সব ঠিকঠাক করে দিয়ে গেছে তবে আফসোস মানুষ গুলোর মন ভেঙ্গে রেখে গেছে যা ঠিক করা অসম্ভব,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here