প্রিয় বেলিফুল পর্ব ২০
উম্মে হাবিবা
~~~কলেজের মাঠের দক্ষিণ কোণে কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে বসে আছে সোহা আর রাইসা। চারপাশটা ছাত্র ছাত্রী বসে যে যার মতো গল্পে ব্যাস্ত , কিন্তু সোহা আর রাইসার মধ্যের নীরবতাটা ভারী। রাইসার মুখটা একদম থমথমে, যেন সে ভেতরে ভেতরে খুব অভিমান করে আছে। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সোহা আলতো করে রাইসার হাতটা ধরল।
”রাইসা, তুই এমন করছিস কেন? আমি কি কোনো ভুল করেছি? আমার সাথে কথা বলছিস না কেন বল তো?”
রাইসা নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে সোজা হয়ে বসল। তোর বর যে রুদ্র স্যার এটা তুই আমাকে বলিসনি! আমি না তোর বেস্ট ফ্রেন্ড আমাদের মধ্যে কি কোনো গোপন রহস্য থাকা উচিত?”
মহারানী এ জন্য রাগ করেছে বুঝি? তোর মুখটা ও কেমন ফ্যাকাসে হয়ে আছে,মনে হচ্ছে সারা রাত ঘুমাস নি।
আমার উওর বেশি অভিমান করেছিস পাখি।
না শুধু এ জন্য না, আমার তোর জন্য চিন্তা হচ্ছিল সোহা, কাল যেভাবে স্যার তোকে টেনে নিয়ে গেলো।
রাইসা সোহার দিকে তাকিয়ে আবার জিজ্ঞেস করে__
তোদের মাঝে সব ঠিক আছে তো? দেখ কিচ্ছু লুকাবি না আমার থেকে।
সোহা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাইসার কাঁধে মাথা রাখল। সে খুব শান্তভাবে বলল,, রুদ্র স্যার আমার শিক্ষক, তার ওপর পরিস্থিতিটা এতটা জটিল যে আমি নিজেও এখনো বুঝে উঠতে পারছি না আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। তার মনে আমার জন্য কি চলে আমি জানি না।উনাকে আমি বুঝতে পারি না,,।এই তার আচরণে মনে হয় আমার জন্য তার অনুভূতি আছে। আবার এই মনে হয় তিনি শুধু দ্বায়িত্বের খাতিরে করছেন।
তোদের মাঝে কি এখনো স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে উঠে নি।
সোহা শান্ত ভাবে নিচের দিকে তাকায়,,তারপর__রাইসার অভিমানি মুখটা দেখে সোহার মনটা ভিজে এল। সোহা প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে একটু ইতস্তত গলায় জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা রাইসা, কালকের দিনটার কথা কি কিছু জানিস? আর কী হয়েছিল?”
রাইসা মলিন মুখে সোহার দিকে তাকাল। কালকের সেই প্রাণবন্ত, হাসিখুশি রাইসাকে যেন আজ আর চেনা যাচ্ছে না। তার মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। সে খুব ছোট গলায় বলল, “তেমন কিছুই না সোহা। সব যেন তালগোল পাকিয়ে গিয়েছিল।”
হঠাৎ রাইসা সরাসরি সোহার চোখের দিকে তাকিয়ে একটা অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসল, “সোহা, তুই সত্যি করে বল তো আমি দেখতে সুন্দর না ? তোর কি মনে হয় যে কেউ আমাকে সোহার চেয়েও বেশি পছন্দ করবে?”
সোহা অবাক হয়ে রাইসার দিকে চাইল। রাইসা কী বলছে এসব? সোহা শ্যামলা, তার গায়ের রঙ কালো বা উজ্জ্বল না হলেও এক ধরণের মায়াবী স্নিগ্ধতা আছে। অন্যদিকে রাইসা যেন দুধে-আলতা মেশানো এক অপার্থিব সৌন্দর্যের অধিকারী, যাকে দেখতে একদম টিভিসিরিয়ালের নায়িকাদের মতো। সোহা একটু হেসে বলল,
“তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? তোর মতো রূপবতী কি আর কেউ আছে? আমাদের কলেজে তোর মতো সুন্দরী আর একটাও দেখা যাবে না। এসব কেন বলছিস?”
রাইসা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “রূপ দিয়ে কি মন জয় করা যায়? সোহা, আমরা যাদের ভালোবাসি, তারা কেন আমাদের ভালোবাসে না? কেন তারা অন্য কারো মায়ায় আটকে থাকে?”
সোহা রাইসার দিকে তাকিয়ে নিজের জীবনের কথা ভাবল। সেও তো রুদ্রে নামক মানুষ টার ভালোবাসায় নিজেকে বন্ধী করতে চায়। কখন যে তার প্রতি ভালোবাসা জন্মেছে, সোহা নিজেও জানে না। কিন্তু রুদ্র তাকে দেখছে এক অদ্ভুত সন্দেহ আর ঘৃণার দৃষ্টিতে।
দুজনেই দীর্ঘক্ষণ জীবনের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা নিয়ে কথা বলল। একটা সময় তারা দুজনেই হেসে উঠল, সব কষ্ট পেছনে ফেলে ক্লাসের দিকে হাঁটা শুরু করল।
রুদ্র আজ কলেজে আসেনি, তাই অন্য একজন স্যার ক্লাস নিলেন। এরপর রাফিনের ক্লাস শুরু হলো। রাফিন বারবার সোহার দিকে তাকাচ্ছিল, কিন্তু সোহা কালকের ঘটনার জন্য খুব অস্বস্তিতে ছিল, তাই সে মাথা নিচু করে রইল।
কলেজ শেষে গেটের কাছে আসতেই রাফিন পেছন থেকে ডেকে উঠল, “সোহা, একটু দাঁড়াবে?”
রাফিন সোহাকে ডাকতেই রাইসা ও দাড়িয়ে যায়। মনে পড়ে যায়, সোহার প্রতি রাফিনের ভালোবাসা স্বীকারোক্তির কথা।
বুকের ভিতর টা ভিষন ব্যথা হয়ে উঠে,,চোখে পানি জমতে শুরু করে। তাই দ্রুত সোহাকে বলে__
তুই থাক আমার যেতে হবে,, আজ একটু তাড়া আছে।
সোহাকে কিছু বলতে না দিয়েই চলে যায়।
রাফিন কিছু বলার জন্য এগিয়ে আসে,, কিন্তু সোহা বলে, আমার ও তাড়া আছে স্যার বাসায় থযেতে হবে। কোনো রকম অজুহাত দেখিয়ে দ্রুত গেট পেরিয়ে বাইরে এল। গেটের বাইরে আসতেই দেখল একটা গাড়ির সাথে হেলামন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রুদ্রের বন্ধু ডাক্তার ফয়সাল। ফয়সালের বাম ভ্রুর পাশে আর ঠোঁটের কোণে আঘাতের চিহ্ন!
ফয়সাল হাসি মুখে সোহাকে জিজ্ঞেস করে__
কেমন আছো বোন?
সোহা ও হাসি মুখে উত্তর দেয়__
আলহামদুলিল্লাহ ভালো ভাইয়া। আপনি ভালো আছেন।
আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
ভাইয়া! আপনার মুখে এই আঘাত কেন? কী হয়েছে?”আর আপনি এখানে কোনো কাজ ছিলো?
ফয়সাল মুচকি হেসে বলল, “আরে, তেমন কিছু না। তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”
সোহা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “আমার জন্য? কেন?”
ফয়সাল একটু লাজুক হেসে বলল, “মনে আছে, বলেছিলাম একদিন তোমার সাহায্য লাগবে? আজ সেই দিন।
আমার সাহায্য! বলুন ভাইয়া কি সাহায্য লাগবে। আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো।
তোমার ননদ রৌদকে আমার হাতে তুলে দিতে হবে বোন আমার। আমি রৌদের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি, ওকে না পেলে আমার জীবনটাই বৃথা।”
সোহা হেসে বলল, “রৌদ? কিন্তু সে কি আপনাকে পছন্দ করে?” ফয়সাল বলল, “সেটাই তো তোমাকে জানতে হবে। আর হ্যাঁ, আমার এই আঘাতের কারণ তোমার জাদরেল স্বামী। সকাল সকাল আমাকে মেরে আমার মুখটা আলু বানিয়ে দিয়েছে।”
কিন্তু উনি আপনাকে কেনো মারলো।
ফয়সাল কাল রাতে রুদ্রের করা মেসেজ দেখায়,, আর রৌদের সাথে করা ব্যবহারের কথা ও বলে।
সব শুনে সোহা অবাক,, আপনি রৌদ কে এভাবে কথা শুনেয়েছেন ভাইয়া।
আমি দিবো আমার ননদ কে আপনার হাতে তুলে।
প্লিজ বোন আমার এসব বলে না আমার হার্ট অ্টা চলে আসছে এটা শুনে।
ফয়সালের কথায় সোহা হেসে দেয়,তাদের কথা আর হাসাহাসির মাঝে হঠাৎ তানিয়া ম্যাম এসে হাজির হলেন।
তিনি সোহাকে দেখে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললেন, “আরে সোহা, তুমি তো দেখি দারুণ ফাস্ট! রুদ্র স্যারকে বিয়ে করে রাফিন স্যারের সাথে কফি খাও। এখন আবার এই ছেলেটাকে নিয়ে ঘুরছ? তোমার এই চেহারা দিয়ে কতজনকে ফাঁসাবে?”
তানিয়ার মুখে এমন কুৎসিত কথা শুনে সোহা ভিষন লজ্জা সাথে অপমান বোধ করলো। নিজেকে সামলে বললো__
আপনি এসব কি বলছেন ম্যাম,, একজন শিক্ষিকা হয়ে এসব ধরনের কথা আপনি কিভাবে বলতে পারেন।
তুমি এই টুকু মেয়ে হয়ে আমাকে জ্ঞান দাও। তোমার তো রুপও নেই,, কি দিয়ে ফাঁসাও ছেলেদের,, নাকি শরীর….
ফয়সাল ক্ষেপে গিয়ে বলল, “আপনি কি মেয়ে না? একজন শিক্ষিকা হয়ে এমন নোংরা কথা বলতে লজ্জা করে না? সোহা আমার বোন হয়, আপনার মতো নোংরা মানসিকতার মানুষের সাথে কথা বলাই সময় নষ্ট।
” যে নিজেই কুকুরের মতো আজ কয়েক বছর রুদ্রের পিছনে পড়ে আছে। পাত্তা না পেয়ে কি পাগলা কুকুর হয়ে গেছেন যে মুখ দিয়ে যা আসছে বলে দিচ্ছেন।
আপনার এতো বড় সাহস আপনি আমাকে কুকুরের সাথে তুলোনা করছেন।
ওহোহো কুকুরের সাথে তুলোনা করে কুকুরকে ও ছোট করে পেললাম,, বেয়াদব নোংড়া মহিলা মানুষ।
সোহা বোন আমার গাড়িতে উঠে,, আমি ঐ রাস্তা দুয়েই যাবো তোমাকে নামিয়ে দিবো। আর এসব নোংরা মহিলাদের থেকে দূরে থাকবে বুঝলে।
সোহা কোনোমতে ফয়সালের গাড়িতে উঠে পড়ল।
তাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রাগে কাঁপতে থাকে তানিয়া__
এর শোধ আমি তুলবোই মেয়ে,, আমাকে তুমি চিনো না।
ফয়সাল গাড়ি চালাতে চালাতে বলল, ” এই তানিয়া রুদ্রের পেছনে অনেকদিন ধরে পড়ে আছে। রুদ্র তাকে পাত্তাই দেয়নি, তাই সে এখন তোমার ওপর বিষ ঢালছে।”
রাতে রুদ্র বাসায় ফিরল। আজ তার ভাবভঙ্গি রহস্যময়। খাবার টেবিলে সোহা অন্য পাশে বসল, রুদ্রের পাশে আদিবা,, রুদ্র আজ সোহার দিকে তাকালোও না। খাবার শেষ করে সোজা নিজের রুমে চলে গেল।
সোহা একটু অবাক হয়,, একটু পর সবার খাওয়া শেষ হতেই যে যার রুমে চলে যায়।
সোহা নিজের রুমে গিয়ে দরজা লক করতেই দেখল রুদ্র বিছানায় শুয়ে আছে। সোহা অবাক হয়ে বলল, “আপনি এখানে কী করছেন?”
রুদ্র উঠে বসে ধীর কণ্ঠে বলল, “বউয়ের কাছে এসেছি। সমস্যা?”
সোহা তাচ্ছিল্য করে বলল, “চরিত্রহীন মেয়ের ঘরে আসা কি আপনার মতো মানুষের সাজে?”
রুদ্র সোহা এগুলো বলবে,, সে সোহার দিকে এগিয়ে এসে বলল, “রুদ্র মেহতাবের বউ চরিত্রহীন না।” সে সব সময় পবিত্র।
সোহা ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি রেখেই বলে,, এই কথা গুলো তো সেদিন শুনতে ছেয়ে ছিলাম।
নিজের প্রিয় কিছু হারানোর ভয়ে উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলাম আমি।
ভুলে গিয়েছিলাম সেই প্রিয় কিছুই আমার কথায় কতোটা কষ্ট পাবে।
কথা গুলো বলতে বলতে রুদ্রের চোখে যেনো অদ্ভুত অনুশোচনা দেখা যায়।
সোহা ভাবে মানুষ টা কি সত্যি অনুতপ্ত নাকি!
নিজেকে সামলে সে রুদ্র কে বলে উঠে __
আপনি প্লিজ নিজের রুমে যায়,,আমাকে একা থাকতে দিন।
বিয়ের পর স্বামী রেখে একা থাকতে নেই জানো না মেয়ে। না এই অন্যায় তো জাতি মেনে নিবে না।
কি সব আবল তাবল বলছেন,, আপনি প্লিজ যান আমি ঘুমাবো।
রুদ্র বিছানা থেকে উঠে আস্তে আস্তে সোহার দিকে এগোতে থাকে।
এটা দেখে সোহা তুতলিয়ে বলে__
আ-আপনি এভাবে এগোচ্ছে ককেনো।
তুমি পিছিয়ে যাচ্ছো কেনো।
আপনি এগোচ্ছেন তাই,,
ভয় পাচ্ছো?
ভ-ভয়! ভয় কেনো পাবো।
তাহলে স্থির হয়ে দাঁড়াও তো দেখি।
রুদ্র চট করে সোহার একদম কাছে চলে আসে।
সোহা পিছু হটতে চাইলে রুদ্র তার হাত ধরে কাছে টেনে নিল। সোহা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু রুদ্রের দৃঢ়তার কাছে সে হার মানল। রুদ্র তাকে কোলে তুলে নিয়ে সোজা নিজের রুমের দিকে এগোলো।
ছাড়ুন বলছি কি করছেন এগুলে,, নামান বলছে।
একদম ছুটোছুটি করবে না,, নাহলে সোজা করিডর থেকে নিছে ছুড়ে পেলবো।
এটা শুনে সোহা কিছুটা ভয় পেয়ে থেমে যায়।
এই লোকের বিশ্বাস নেই যদি সত্যি সত্যি ফেলে দেয়!
রুদ্র সোহাকে নিয়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। বারান্দার আড়াল থেকে আদিবা এই দৃশ্য দেখে রাগে ফেটে পড়তে লাগল।
কিভাবে আমি এই মেয়েকে রুদ্র থেকে আলাদা করবো।
দরজা খুলুন আমি থদকবো না এই রুমে,, আপনার সাথে থাকবো না আমি।
রুদ্র সোহার দিকে ঝুঁকে বলে তোমাকে আমার সাথেই থাকতে হবে “জান”
এই প্রথম রুদ্রের মুখে এমন শব্দ শুনে সোহা স্তব্ধ। মনে মনে ভাবে এই লোক এসব শব্দ বলতে পারে?কিন্তু মুখে বলে__
থাকবো না কি করবেন আপনি,, কালকেই আমি ওবাসায় চলে যাবো।
রুদ্র এবার কিছুটা রেগে যায়,,তবে নিজেকে শান্ত করে সোহার মুখের দিকে ঝুঁকে ,, গম্ভীর আর ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠে__
“তুমি আমার জীবনের একমাত্র জিনিস, যেটা আমি চাইনা হারাতে… তাই তোমাকে ধরে রাখার জন্য আমি নিষ্ঠুর হতে পারি।
তোমার হৃদয়টা যদি দেয়াল তুলে রাখে, আমি দরজা খুঁজব না… ভেঙে ঢুকে পড়ব।
আমি অন্ধকার, আর তুমি সেই একমাত্র আলো—যাকে আমি নিভতে দেব না, এমনকি আমার ছায়ার মধ্যেও।
তোমার ভাগ্যে যদি ধ্বংস লেখা থাকে, তবে সেই ধ্বংসের নাম হবে আমি।”
সোহা স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে রুদ্রের দিকে,, সে জেনো মানুষ টাকে চিনতে পারছে না।
এমন অধিকারবোধ, আর এই কথা গুলো কখনো দ্বায়িত্ব থেকে আসে না।
সোহা কিছু বলবে তার আগেই রুদ্র ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে থামিয়ে দেয়।
সোহা কেঁপে উঠে,,
হুস আর কেনো কথা নয় এসো ঘুমাবো,, আমি অনেক ক্লান্ত,, বউ ছাড়া একটুও ঘুম হয় না বিশ্বাস করো।
বলেই সোহাকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।
সোহা যখন বুঝতে পারে রুদ্র তাকে জড়িয়ে ধরে আছে সে ছিটার চেষ্টা করে।
কি করছেন ছাড়ুন আমাকে এভাবে ধরে আছেন কেনো।
হুশ একদম নড়বে না,এখন তো শুধু জড়িয়ে ধরেছে,, আমাকে বিরক্ত করলে কিন্তু বাসর টাও সেড়ে পেলবো।
আমাদের বাসর তো এখনো বাকি মিসেস রুদ্র মেহতাব। আপনি চাইলে এখনি,,,
ছিঃ আপনি কবে থেকে এমন ঠোঁট কাটা হয়েছেন বলেন তো। অসভ্য লোক।
আমি তো সভ্য থাকতে চাচ্ছি তুমি তো দিচ্ছো না। এভাবে নড়াচড়া করলে এবার কিন্তু সত্যি সত্যি ___
চুপ করুন প্লিজ ঘুমান আপনি আমি নড়বো না।
এই তো ভালো বউ তুমি।
প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১৯
মনে মনে রুদ্রকে বকতে বকতে, একটা সময় সোহা নিজেই ঘুমিয়ে যায়। রুদ্র সোহার মায়াবী মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।
আঙ্গুল দিয়ে কপালের চুল গুলো সরিয়ে কানের পিছনে দেয়।
বিরবির করে বলে,,
“আমার #প্রিয়_বেলিফুল আমার শ্যামলতা”
