বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৬৩
ইশরাত জাহান
সারারাত দর্শন তার জিমঘরে ঘুমালো।ঘুমটা আহামরি ভালো হয়নি। ঘাড় ব্যথা করছে অল্প অল্প। এখন ঘুম থেকে উঠেই হামি তুলে রান্নাঘরে চলে গেলো।গ্রিন টি বানিয়ে চেয়ারে বসে।সিনথিয়া মর্নিং ওয়াক থেকে এসে দেখলো দর্শনকে।মুখে হাসি ফুটিয়ে সিনথিয়া বসে দর্শনের পাশে।দর্শনকে মিষ্টি হাসি দিয়ে জানায়,“গুড মর্নিং।”
দর্শন এভয়েড করতে চাইলো কিন্তু সিঁড়ির উপরের রেলিংয়ের দিকে তাকিয়ে শোভাকে দেখে মুখে রহস্যের হাসি টেনে বলে,“ভেরি গুড মর্নিং।”
শোভা এই প্রথম দর্শনকে এতটা খুশি হতে দেখে মনক্ষুন্ন হলো।সিনথিয়া তো চাঁদ হাতে পেয়েছে।সে এবার গল্প জমিয়ে দিতে চায়।এটাই সূচনা। এখান থেকেই শুরু করতে হবে।দর্শনের কাঁধে হাত রেখে বলে,“এভাবে ঘাড় বেঁকিয়ে আছো কেন?”
দর্শনের চোখ রক্তিম হয়ে আসছে।হাত মুঠ করে রেখে কর্কশ কণ্ঠে বলে,“খুব ব্যাথা।”
সিনথিয়া আগলে নেওয়ার অভিনয় করে বলে,“আমি ম্যাসাজ করে দেই?”
শোভা চোখ বড় বড় করে তাকালো।দর্শন কিছু বলল না।শোভা এখান থেকে গেলে সিনথিয়ার গাল করে দিবে লাল।আপাতত শোভাকে জেলাস ফিল করাতে চায়।সিনথিয়া সত্যি সত্যি উঠে দাঁড়ায়।দর্শনের পিছনে দাঁড়িয়ে দুইহাত রাখে ঘাড়ে।এবার মেজাজ তুঙ্গে গেলো দর্শনের।ধৈর্যের লিমিট আছে। দর্শনের লিমিট দ্রুতই ফুরিয়ে গেছে।যেই উঠে সিনথিয়ার গালে ঠাস করে বসাতে চায় ওমনি দেখে শোভা নিচে নেমে আসছে তাও আবার বাঘিনীর রূপে।থেমে গেলো দর্শন ফরাজি।দ্রুত নেমে সিনথিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলে,“কি হচ্ছে এখানে?”
সিনথিয়া ভাব নিয়ে বলে,“দেখতে পাচ্ছো না?”
দর্শন হাত মুঠ করে ধৈর্য্য ধরতে শুরু করে।শোভা কি করে এটা দেখতে।শোভা বলে,“দেখতে তো পাচ্ছি।খুব ভালো নষ্টামি করতে পারো।”
সিনথিয়া ধমকে বলে,“ইউ ইডিয়ট ক্লাসলেস গার্ল।সবকিছুকে নষ্টামি মনে করো কেন?”
“অন্যের স্বামীকে নিয়ে টানাটানি করাটা বুঝি নষ্টামি না?”
“কোথায় টানাটানি করলাম?”
“স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আমার স্বামীকে নিয়ে মনের মধ্যে জিলাপির প্যাঁচ বানিয়েছেন আপনি।”
“ফালতু কথা না বলে যাও গিয়ে রান্না করো।তুমি না বাড়ির বউ।বউদেরকে রান্নাঘরে মানায়।”
“রক্ষিতাদের অন্যের স্বামীর সাথে চিপকে থাকা মানায়।”
সিনথিয়ার গায়ে লাগলো।বাজে ভাবেই লাগলো অথচ বিবেক এখনও জাগ্রত হয়নি।রেগে শোভার গালে দিলো ঠাস করে।দর্শনের মেজাজ গরম হলো। সেও উঠে সিনথিয়াকে ধরে নিজের দিকে ঘোরাতে নেয় থাপরানোর জন্য কিন্তু তার আগেই শোভা থাপ্পড় দেয়।দুইদিকে দুজনের আক্রমণ পেয়ে সিনথিয়া পরে গেলো নিচে। হাতে ব্যাথা পেতেই শব্দ করে ওঠে, “আউচ।”
শোভা টেবিল থেকে জগ নিলো হাতে।জগ ভর্তি পানি সব ঢেলে দিলো সিনথিয়ার মাথায়।সিনথিয়া প্রথমে ব্যালেন্স হারা হলেও হুশ ফিরতে উঠে দাঁড়ায়।শোভাকে আরো একটা থাপ্পড় দিতে নিলে শোভা হাত ধরে আটকিয়ে উল্টো থাপ্পড় দিয়ে দেয়।তেজ দেখিয়ে বলে,“অনেক সহ্য করেছি আপনার নোংরা আচরণ।ভদ্রতা বজায় রাখি বলে যা খুশি করেই যাবেন ভেবেছেন নাকি?আমি সাধারণ মেয়ে কিন্তু বোকা না।আমার নাকের ডগা দিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে আমার স্বামীকে ফাঁসাতে চাইলে ফল কিন্তু খুব খারাপ হবে।”
সিনথিয়াও তেজ দেখিয়ে বলে,“কি করবে তুমি শুনি?”
“মামলা করে দিবো সোজা।স্বামী স্ত্রী সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি আসতে চাইছে তাও আবার নোংরভাবে।”
সিনথিয়া তেড়ে যেতে নিলে দিজা দৌড়ে এসে শোভাকে দেখে ভয় পেয়ে বলে,“এটা কে!”
সিনথিয়া ন্যাকামি শুরু করে। দিজার কাছে এসে বলে,“একেতো নিজের স্বামীকে সারারাত ঘরের বাইরে রেখেছে তারউপর খোঁজ খবর নেয়নি।সকালে উঠে কোথায় দর্শনকে হেল্প করবে তা না আমি হেল্প করছি দেখে আমার উপর চটাও।এই মেয়েকে নাকি তোরা বাড়ির যোগ্য বউ বলে দাবি করিস!”
শোভাও বলে,“তাতে আপনার কি?আপনি কেন আমার সংসারে আগুনে ঘি ঢালছেন?”
“ঘি ঢালতে হয়না।তোমার কাজকর্মে ঘি নিজে থেকেই তৈরি হয়।তুমি যদি ঠিক থাকো তো তোমার সংসারে অন্য কেউ ঢুকতে পারত না।”
সিনথিয়ার এই কথাটা মনে ধরে দর্শনের।শোভা এবার দিজার দিকে তাকিয়ে বলে,“এমন নোংরা মেয়েদের থেকে দূরে থাকবে।এরা ভালো মানুষ সেজে ভালো সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়।”
সিনথিয়া ঠাট্টার হেসে বলে,“আমার কাজিনকে তুমি এডভাইস দিচ্ছ!হাস্যকর।”
“দিজা অনেক নরম মনের তো তাই আপনার মতো হাজারটা মানুষ ওর শত্রু হলেও ও প্রতিবাদ করতে পারে না।সহজসরল মানুষের জীবনটা আপনি ধ্বংস করবেন এটা আমি হারে হারে টের পাচ্ছি।”
দর্শন মনে মনে বলে,“ঘুরেফিরে তুমি আমার রাস্তায় এলে ওয়াইফি।শুধু সোজাভাবে আমাকে বুঝতে পারছিলে না।যেই না আমি বদলে যাচ্ছি ওমনি তুমি আমার কাছে ফিরে আসছ।আমার দূরত্বই যদি তোমাকে আমার কাছে এগিয়ে আনে তো আমি তোমার সাথে দূরত্বের খেলাই খেলব।”
অনেক কথা কাটাকাটি তৈরি হলো।বিরক্ত লাগছে দর্শনের কাছে।কথার কোনো স্থির সিদ্ধান্ত নেই। মাঝ দিয়ে দিজা দুজনকে থামাতে গিয়ে দুইবার আঘাত পেয়েছে।দর্শন এবার হুঙ্কার দিয়ে ওঠে।সবাই চুপ করলো।দর্শন ধমকে বলে,“এবার যদি আর একটা কথা এগিয়েছে তো দুজনকেই আমি ছাদে কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে রাখবো বিকাল পর্যন্ত।”
বাইরের আবহাওয়া উকি দিয়ে দেখলো দুজনে।শোভা ও সিনথিয়া যেই দেখলো কড়া রোদ উঠেছে।দুজনেই চুপ করে রইলো।রাতে বৃষ্টি হওয়ায় এখন বেশ গরম।সিনথিয়া ওয়াকিংয়ের সময় বেশ ঘেমেছিল এই গরমের কারণে।তাই এখন চুপ করে নিজেকে থামিয়ে রাখলো।শোভাও বাইরের আবহাওয়া দেখে ভয়ে গুটিয়ে গেলো।আচমকা মনে পড়ল আজ সে চলে যাবে।কোনো কথা না বলে চলে গেলো ঘরের দিকে।
সিনথিয়া রান্নাঘরের দিকে যেতে নেয়।এটা দেখে দিজা বলে,“তুমি কি রান্না পারো?”
“না,পারিনা।একমাত্র স্যুপ ছাড়া।”
“স্যুপ কে খাবে?”
“দর্শন।”
দিজার কাছেও সিনথিয়ার কাজকর্ম বাড়াবাড়ি লাগছে।ও কেন দর্শনের যত্ন নিতে যাচ্ছে।শোভা আছে কি করতে?সিনথিয়া বুঝতে পেরে ভালো সেজে বলে,“একেতো রাতে ভিজেছে তারউপর বাইরে নির্ঘুম কাটিয়েছে।গা ছুয়ে দেখ জ্বর এসেছে।”
শোভা ঘরে যেতে নিলে পা থামিয়ে দেয়। দর্শনেরও জ্বর। সে জানেই না।একটু ভেবে আবারও মনে মনে বলে,“মেয়েটা গা ছুঁয়েও দেখেছে!নাহলে জ্বর এসেছে জানবে কিভাবে?”
ভাবতেই আবারও মাথা গরম হয়ে গেলো।কিছু বলতে নিয়েও বলল না।ওই সময় হুশ ছিল না এখন হুশে ফিরেছে।দর্শন যাক গোল্লায়।তাতে তার কিছুই না।
রান্নাঘরে এসেছে সিনথিয়া।পিছন পিছন এলো দর্শন নিজেও। দিজা বেক্কল হয়ে দেখছে।কাহিনী কি?তার ভাই আগ্রহ নিয়ে গেলো কেন?ভাবতেই দাঁড়িয়ে রইলো।এদের কাহিনী দেখতে চায়।সিনথিয়া পাত্র নিয়ে তাতে পানি ঢেলে স্যুপ বানানোর সবকিছুই দিলো।স্যুপ তৈরি হলে দর্শনের সামনে বাটি নিয়ে বলে,“নেও টেস্ট করে দেখো।”
দর্শন মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে,“গরম তো অনেক।”
সিনথিয়া বলে,“আমি ফু দিয়ে দিচ্ছি।”
কথার মধ্যে আকর্ষণ মিশিয়ে রেখেছিল মেয়েটা।সিনথিয়া ফু দিতে নিলে দর্শন রহস্যের হাসি দিয়ে বলে, “ফু দিলে কাজ হবে না।”
“হবে,তুমি দেখো জাস্ট।”
দর্শন দেখছে সিনথিয়ার কাজ।সিনথিয়া চামচে স্যুপ নিয়ে ফু দিয়ে দর্শনের সামনে ধরে বলে,“এবার নেও।”
দর্শন না নিয়ে বলে,“তুমি শিওর স্যুপ ঠান্ডা হয়েছে?”
“হ্যাঁ,খেয়ে দেখো।”
“আমি খাওয়ার আগে ভালোভাবে শিওর হতে চাই।যদি সত্যিই ঠান্ডা হয় তবেই ভেবে দেখবো।”
সিনথিয়া বলে,“কিভাবে শিওর হবে?আমি খেলে?ওয়েট খাচ্ছি আমি।”
বলেই খেতে নিলে দর্শন বলে,“তোমার মুখের খাবার আমি খাবো ভেবেছো নাকি?”
সিনথিয়া ভরকে গেলো।তারপর নিজেকে সংযত করে বলে,“তাহলে?”
“হাত দিয়ে ভালোভাবে চেক করো গরম নাকি ঠান্ডা।”
সিনথিয়া তর্জনী আঙুলের ডগা দিয়ে ছুঁয়ে কিছুই অনুভব করেনি।বুঝলো খাওয়া যাবে। তাই বলে,“খেতে পারবে তুমি।”
“তুমি তো চেক করলেই না।”
সিনথিয়া বিরক্ত হলো।এই ছেলে খাওয়ার দরকার খাবে তাই না করে উল্টো পাল্টা বকছে।নিজের রাগ ক্ষোভ চাপা রেখে দর্শনকে বলে, “আর কিভাবে চেক করবো?”
“দাঁড়াও দেখিয়ে দিচ্ছি।”
বলেই সিনথিয়ার হাত নিয়ে পুরো গরম প্যানভর্তি স্যুপের মধ্যে রাখলো।গরমে হাত ঝলসে যাচ্ছে মেয়েটার।দর্শন মুখে হাসি ফুটিয়ে রেখেছে।স্থির হাসি।কোনো পরিবর্তন নেই সেই হাসির।পরিবর্তন হচ্ছে চোখের মনির পাশের সাদা অংশ। সাদা স্থানে লাল রক্তিম হয়ে আছে।সিনথিয়া কাতরাতে শুরু করে।অনুরোধ করছে, “ছাড়ো প্লীজ।”
দর্শন একই হাসির সাথে বলে,“কেন?তুমি না আমার সেবা করতে এসেছো?আমার প্রপার কেয়ার না নিয়ে পালাবে নাকি?তাহলে আমি সুস্থ হব কিভাবে?”
“আমি আর পারছি না।এবার থামো।”
“আরেকটু অপেক্ষা করো।দেখবে কষ্ট দূর হয়ে যাবে।”
“প্লীজ ছেড়ে দেও।”
“সময় হলেই ছেড়ে দিবো।”
সিনথিয়া কান্নারত কণ্ঠে বলে,“তোমার সময় কখন হবে?”
“আমি সেটিসফাই হলেই।”
“আমি তো আর পারছিনা।আহ!খুব জ্বলছে।”
“প্যানিক নিও না।আমি জ্বলন্ত স্থানে আরাম লাগার জন্য বরফ ঘষে দিবো।”
শোভা ব্যাগ নিয়ে নিচে নামার সময় এদের কথা শুনে থমকে গেলো। বাইরে দিজা দাঁড়িয়ে।মুখে হাত দিয়ে অবাক হয়ে চেয়ে আছে।শোভা ওদের কথা শুনে ঘৃণায় বলে উঠল, “ছিঃ!লোকটা এত নোংরা।যেই একটা মেয়ে হালকা ছুঁয়ে দেখলো ওমনি তার মধ্যে পুরুষত্ব জেগে উঠলো।ওই মেয়ের সাথে সময় কাটাচ্ছে এখন।”
ভেবেই হাত থেকে ব্যাগ ফেলে দেয়। ব্যাগ পড়ার শব্দ পেয়ে দিজা পিছন ফিরে বলে,“কোথায় যাচ্ছো?”
“বাড়িতে।”
“কেন?”
“এখানে থাকার রুচি আমার নেই।”
শোভার কর্কশ কণ্ঠে দিজা বুঝলো তার ভাবী রেগে আছে।তাই বলে,“মাথা ঠাণ্ডা রাখো।আমি দাদাজানের সাথে কথা বলব।বাড়িতে দরকার হয় আলাপ হবে সবাই মিলে।তবুও একা বের হইও না।”
শোভা চোখের পানি মুছে বলে,“জীবনের লম্বা জার্নিতে বুঝেছি সবসময় একা বাঁচার অভ্যাসটা ধরে রাখতে হয়।তাহলে কারো উপর নির্ভরশীল হওয়া লাগে না।”
দিজা কিছু বলতে নিলে দর্শনের পায়ের শব্দ পায়।দর্শন জিজ্ঞাসা করে,“কি হয়েছে?”
দিজা ঢোক গিলে বলে,“ভাবী চলে যেতে চাইছে।”
দর্শন শুধু বলল,“ওহ।”
শোভা মন খারাপ করে।সিনথিয়ার লাল টকটকে ঝলসে থাকা হাতে ফু দিতে দিতে বাইরে আসে।শোভাকে চলে যেতে দেখে খুশি হয়।শোভা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো।তখনই তুহিন ঢুকল বাসায়।তুহিনকে দেখে চমকে গেলো সবাই।শুধু দর্শন ব্যতীত।শোভা যেহেতু বাইরে যেতে নিচ্ছিল তাই মেয়েটার মুখ ঢেকে রাখা হিজাব দিয়ে।সিনথিয়া পরনে জিন্স আর স্লিভলেস গেঞ্জি।কাধ থেকে হাত সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। গায়ে ওড়না নেই।
সিনথিয়াকে দেখে এই প্রথম দিজার রাগ হলো।তুহিন যদি ওর দিকে তাকায় তাহলে তো সিনথিয়ার বডির দিকে নজরে যাবে।শখের পুরুষ অন্য নারীর শরীর দেখবে ভাবতেই গা গুলিয়ে আসলো।এখন তো দিজার কষ্ট হচ্ছে শোভার প্রতি।মেয়েটা তাহলে ওমন রাগ দেখাবে না কেন?ভালোবাসার ব্যক্তিকে অন্য নারীর সান্নিধ্যে কেউই দেখতে পারে না।
তুহিন যেই দর্শনের দিকে তাকাতে নিবে দিজা প্রথমবার আজ তুহিনের নিকট এসে নিজে থেকে প্রশ্ন করে,“কোনো দরকার আছে আপনার এখানে?”
তুহিন চোখের তৃষ্ণা মিটিয়ে নিচ্ছে দিজার দিকে চেয়ে।এই চোখ এতদিন জ্বালাপোড়া করতো এই মুখটা দেখার জন্য। আজ ভাগ্যে মিলল দেখার।নীরব হয়ে দেখছে মেয়েটার মুখ।এদিকে কোনো উত্তর না পেয়ে দিজা আবারও বলে,“কি হলো?”
তুহিন গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,“ভাবীর তো পরশুদিন ইনকোর্স আছে।আমি ভাবীর জন্য সাজেশন এনেছি।ভার্সিটির সবাইকে দেওয়া হয়েছে।”
“ইনকোর্সের জন্য সাজেশন?”
দিজার কথা শুনে তুহিন কি বলবে বুঝতে পারছে না।মাত্র বিশ মার্কের পরীক্ষা তাও আবার ক্লাসে।এর আবার কিসের সাজেশন!তুহিন এবার দর্শনের দিকে তাকালে দর্শন এগিয়ে যেতে ইশারা করে।তুহিন হালকা কেশে বলে,“প্রথমত ভাবী ভার্সিটিতে যায়না তাই সে জানতেও পারছে না কালকে থেকে ইনকোর্স শুরু।ক্লাস টিচার নিজেরা নিজেদের ক্লাসে পরীক্ষা নিবেন।প্রশ্ন তারাই করবেন। ওনারা এই পর্যন্ত ক্লাসে যা যা শিখিয়েছেন সেগুলোর মধ্যেই পরীক্ষা নেওয়া হবে।আমার কাজিন ভাবীর সাথে পড়ে তাই ওর থেকেই সব কালেক্ট করে এনেছি।”
শোভা অবাক হয়ে বলে,“কালকে পরীক্ষা?”
“হ্যাঁ।”
“আমি যে যশোর যাচ্ছিলাম।”
তুহিন ভ্রু কুঁচকে বলে,“কালকে পরীক্ষা আর আপনি আজকে চলে যাবেন।এটা তো ফাইনালের সাথে যুক্ত হবে।এখানে ২০ মার্ক অর্জন করতে না পারলে বোর্ড পরীক্ষায় অনেক সমস্যা হবে।”
“তাহলে করণীয়?”
“যাওয়া ক্যান্সেল করুন।”
শোভা একবার দর্শনের দিকে চাইল।দর্শন ভাবলেশহীন।কোনো ভাবভঙ্গি নেই তার মাঝে।শোভা অনেক ভেবে দিজাকে বলে,“তোমার তো অনেক ফ্রেন্ড হয়েছে ভার্সিটিতে। কেউ কি ভালো ম্যাচের সন্ধান দিতে পারবে?”
দিজা কপাল কুঁচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বলে,“পেলে তো আমি নিজেই কবে চলে যেতাম।তাছাড়া তুমি ম্যাচ দিয়ে কি করবে?”
“এখান থেকে চলে যেতাম।”
তুহিন গলা খাঁকারি দিয়ে দর্শনকে বলে,“চল আমরা আলাদাভাবে কথা বলি।”
দর্শন রাজি হতেই সিনথিয়া এগিয়ে এলো তুহিনের নিকট।হাতের জ্বালার কথা ভুলেই গেছে।তুহিনের সামনে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে বলে, “হাই মিস্টার।আমি সিনথিয়া।দর্শনের কাজিন।”
দিজা ক্ষেপে গেল ভীষণ।ওর চোখ দেখে শোভা বুঝতে পারছে। দিজা হাসফাঁস করছে রাগে।শোভা সামলে বলে,“এই মেয়ে ডেঞ্জারাস কিন্তু।ওর থেকে সাবধানে থেকো এমনকি ওনাকেও সাবধানে রেখো।”
দিজা মন খারাপ করে চেয়ে আছে।সিনথিয়া হাত স্থির রেখেই আছে কিন্তু তুহিন হাতে হাত মেলাচ্ছে না।অপেক্ষা করতে করতে সিনথিয়া অপমানিত হলো।তুহিন মুখে বলল,“আমি দর্শনের বেস্ট ফ্রেন্ড।”
হাত না মেলানোর কারণে দিজা ভীষণ খুশি হলো।দর্শন ডাক দেয়,“আমার রুমে আয় তুহিন।”
তুহিন চলে যেতেই পিছন থেকে দুই বন্ধুকে দেখে সিনথিয়া বলে, “ঠু মাচ হ্যান্ডসাম প্লাস হট।এদেরকে এত হ্যান্ডসাম হতে কে বলেছে?কোনটা ছেড়ে কোনটা নিবো এবার দ্বিধায় পড়তে হচ্ছে যে!”
বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৬২
দিজা এবার সহ্য করতে না পেরে ধাক্কা দিলো সিনথিয়াকে।ধাক্কা সামলাতে না পেরে সিনথিয়া পরে গেলো ফ্লোরে। পায়ে পেলো ভীষণ ব্যাথা।হয়তো পা মচকেও গেছে। দিজা ক্ষেপে থাকলেও দর্শন যখন সিনথিয়ার চিৎকার শুনে পিছনে ফিরল দিজা ভয়ে ভয়ে বলে,“আমি বুঝতে পারিনি ধাক্কা লাগবে আর আপু পরে যাবে।”
দর্শন নিজের মত চলে গেলো। দিজাও আর কথা না বাড়িয়ে চলে যায়।এখন আছে শুধু শোভা আর সিনথিয়া।শোভা বিজয়ের হাসি দিয়ে বলে,“একদিনে কত ধকল সামলালেন!থুরি একদিনে না এক সকালেই।”
বলে দাঁড়িয়ে থাকলো।দিজা আবারও ফেরত আসে।শোভার হাত ধরে টেনে নিয়ে উপরে যায়।সিনথিয়া ফ্লোরে হাত দিয়ে বারি দিয়ে হিসিহিসিয়ে বলে,“সবাইকে দেখে নিবো আমি।”
