ইন্তেজার এ ওয়াসিল পর্ব ৫
নওরিন কবির তিশা
ক্যাম্পাসের সবুজ আবৃত মাঠটাতে বসে আছে তিয়াশা। কিঞ্চিৎ শঙ্কিত ওর দৃষ্টি। মাথাটা নুইয়ে ফোনে কিছু স্ক্রল করতে ব্যস্ত ও। আদ্রিতা বরাবরের ন্যায় একখানা ঠান্ডা ড্রিংক এনে ওর পাশে বসলো। তিয়াশা এক ঝলক ওর দিকে তাকিয়ে পরক্ষণে মনোনিবেশ করল পূর্বের কার্যে। আদ্রিতা ক্যানের ক্যাপটা খুলে একটা চুমুক দিল। তারপর তিয়াশার দিকে তাকিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল,
— কী রে তিয়ু? সকাল থেকে দেখছি ফোনের ভেতর পুরো ঢুকে আছিস!
তিয়াশা ফোন থেকে চোখ না তুলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ওর কপালে চিন্তার সূক্ষ্ম ভাঁজ। ও নিচু স্বরে বলল,
— কিছুই ভালো লাগছে না রে! বাবার আচরণও ইদানিং অস্বাভাবিক লাগছে তার ওপর এসব ঝামেলা!
আদ্রিতা কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে একটা হুলস্থূল পড়ে গেল। চারপাশ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের দল হুড়মুড় করে মাঠের এক কোণে ছুটতে শুরু করেছে। বাতাসে ভেসে আসছে তীব্র চিৎকার আর স্লোগান,,
— এভি! এভি! ওহ মাই গড, এভি ইজ ব্যাক!
— আজকে তো পুরো আগুন জ্বলবে ট্র্যাকে! এভি… এভি!
চারপাশের এই উন্মাদনায় তিয়াশা আর আদ্রিতা দুজনেই কিঞ্চিৎ অবাক হলো। ঠিক সেই সময় ওদের ডিপার্টমেন্টের নুহা নামক একটা মেয়ে হাতের ব্যাগটা কাঁধে সামলাতে সামলাতে ওদিক দিয়েই দৌড়ে যাচ্ছিল। আদ্রিতা জলদি করে নুহার হাত টেনে ধরে জিজ্ঞেস করল,
— এই নুহা! নুহা শোন, কী হয়েছে রে ওখানে? সবাই ওভাবে এভি এভি বলে চিল্লাচ্ছে কেন? কোনো সেলিব্রিটি আসছে নাকি?
নুহা এক গাল হেসে বলল,
— আরে তোরা জানিস না? আজকে ক্যাম্পাসের পেছনের ওই ফাঁকা ভিআইপি রোডে ইন্টার-কলেজ বাইক রেস চ্যাম্পিয়নশিপ আছে! আর সেখানে মেইন আকর্ষণ হচ্ছে এভি, মানে আমাদের আরাভ খান! ও জাস্ট অসাধারণ বাইক রাইডিং করে, ইন্ডিয়ান প্রফেশনাল রেসারদের মতো ট্রিকস জানে ও। ওর এই ডেডলি লুক আর রাইডিং স্টাইলের ওপর ক্যাম্পাসের অর্ধেক মেয়ে তো এমনিই ক্রাশ খেয়ে মরে আছে! আমি যাই রে, জায়গা পাব না নাইলে!
নুহা কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলেই আবার ভিড়ের দিকে দৌড় দিল। তিয়াশার পুরো মুখটা বিরক্তি আর ঘেন্নায় কুঁচকে গেল। ও আদ্রিতার দিকে তাকিয়ে ক্ষুব্ধ স্বরে বলল,
— দেখলি মেয়েগুলোর অবস্থা? জাস্ট ডিসগাস্টিং! একটা ড্রাগিস্ট, ইভটিজার আর এত নোংরা মস্তিষ্কের একটা ছেলের ওপর মানুষ কীভাবে এভাবে ক্রাশ খেতে পারে? এদের কি কোনো আত্মসম্মানবোধ নেই?
আদ্রিতা ড্রিংকসের ক্যানটা নাড়াতে নাড়াতে বলল,
— আরে ধুর, ব্যাড বয়েজদের প্রতি এই জেনারেশনের মেয়েদের একটা অন্ধ মোহ থাকে। ওরাই তো এই সাইকোদের মাথায় তোলে। চল, আমরা এখান থেকে ক্লাসরুমের দিকে যাই, এই উগ্র চিল-চিৎকার আর সহ্য হচ্ছে না।
ওরা দুজন মাত্র উঠে দাঁড়াতে যাবে, ঠিক তখনই দূর থেকে একটা কানফাটানো স্পোর্টস বাইকের ইঞ্জিনের গর্জন ভেসে এলো। পিচঢালা পথ ছেড়ে কালো রঙের একটি দুর্ধর্ষ ইয়ামাহা আর-ওয়ান বাইক তীব্র গতিতে ঘাসের মাঠের ওপর দিয়ে ধুলো উড়িয়ে ধেয়ে এলো সরাসরি ওদের দিকে।
তিয়াশা আর আদ্রিতা ভয়ে আর আকস্মিকতায় স্তব্ধ হয়ে গেল। ঠিক ওদের থেকে মাত্র দুই ইঞ্চি দূরত্বে এসে বাইকটা সজোরে ব্রেক কষল। টায়ারের ঘর্ষণে ঘাস আর মাটি উপড়ে একাকার। বাইকের ওপর সম্পূর্ণ কালো গিয়ার আর লেদার জ্যাকেট পরা সেই চালক অত্যন্ত স্টাইলিশ ভঙ্গিতে মাথার হেলমেটের গ্লাসটা ওপরে তুলল। চোখের সেই চেনা পৈশাচিক তীক্ষ্ণ দৃষ্টি জোড়া উন্মোচিত হতেই তিয়াশার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। আরাভ খান!
ওরা দুজন কিঞ্চিৎ অবাক আর তীব্র আতঙ্ক নিয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ওর মুখোমুখি। পরক্ষণেই সমস্ত শঙ্কা ভয়াল ক্রোধে রূপ নিল তিয়াশার। স্মৃতির পাতায় কাল রাতের কথাগুলো দোলা দিতেই ও দাঁত কিড়মিড়িয়ে কিছু বলতে গেল আরাভ বাইকের ফুয়েল ট্যাংকের ওপর দুই হাত রেখে একটু সামনের দিকে ঝুঁকে বসলো,শ্লেষাত্মক গলায় বলল
— হ্যোয়্যাটস আপ ড্রামা কুইন? ক্যাফেতে কাল তো বেশ ফুরফুরে মেজাজে এসপি সাহেবের সাথে হাহা-হিহি করছিলে! আজ হঠাৎ এত তেজ কিসের?
তিয়াশা রাগে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে এক পা এগিয়ে এল। ওর হাতের মুঠো শক্ত হয়ে গেছে। ও চেঁচিয়ে বলল,,
— আরাভ খান! নিজের লিমিট ক্রস করবেন না। এটা কলেজ ক্যাম্পাস, আপনার ওই নোংরা আস্তানা নয় যে যা ইচ্ছে তা-ই করবেন। রাস্তা ছাড়ুন!
আরাভ একচুলও নড়ল না, বরং আরও একটু ঝুঁকে তিয়াশার মুখের কাছাকাছি এসে চোখের ইশারায় ওকে আপাদমস্তক মেপে নিল। তারপর তেরছা হেসে বলল,,
— লিমিট? আরাভ খানের ডিকশনারিতে ওমন কোনো শব্দ নেই, তিয়াশা চৌধুরী। আর তুমি তো দেখছি দিন দিন বড্ড বেশি অবাধ্য হয়ে উঠছ। আমার সামনেই চোখ রাঙাচ্ছ? এত সাহস পাও কোথায় বলো তো? ওই যে তোমার সৎ, অফিসার বাবা… ওনার দেওয়া লাইসেন্সে?
তিয়াশার সহ্যক্ষমতা এবার সীমানা ছাড়িয়ে গেল। ও চিৎকার করে বলল,,
— আমার বাবার নাম আপনার ওই নোংরা মুখে উচ্চারণ করবেন না! আপনার মতো একটা থার্ড ক্লাস, ড্রা গিস্ট লুজারের শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। বাবা কোন পরিস্থিতিতে আপনাকে ছেড়েছে আমি জানি না, কিন্তু মনে রাখবেন—অন্যায় করে কেউ পার পায় না। আপনি একটা জা নো য়ার!
তিয়াশার মুখের ওপর এমন চড়া কথা শুনেও আরাভ একটুও রাগল না। ও জানত, এই মেয়েটাকে এভাবে খেপিয়ে তোলার মাঝেই আসল আনন্দ। ও পকেট থেকে চুইংগামের একটা প্যাকেট বের করে একটা মুখে পুরল। তারপর চিবোতে চিবোতে অত্যন্ত শান্ত, শীতল দৃষ্টি ছুড়লো তিয়াশার দিকে। অতঃপর বাইকটা স্টার্ট দিয়ে গিয়ারে ফেলল। যাওয়ার আগে ও তিয়াশার খুব কাছে মুখ এনে ওর তপ্ত নিঃশ্বাস তিয়াশার গালে ছুঁইয়ে দিয়ে এক চূড়ান্ত হুঙ্কার ছাড়ল,,
— তোর এই তেজটাই আমার বড্ড ভালো লেগেছে রে তিয়াশা! এক্কেরে কলিজার মধ্যে গাইথা রাখার মতো তুই সুইটহার্ট! তাই আমার তোরেই লাগবে, জাস্ট তোরেই লাগবে! রেডি থাকিস।
কথাটা শেষ করেই আরাভ বাইকের এক্সিলারেটর পুরো ঘুরিয়ে দিল। কানের পর্দা ফাটানো শব্দে স্পোর্টস বাইকটা মাঠের ঘাস উপড়ে, ধুলোর ঝড় তুলে চোখের পলকে রেসিং ট্র্যাকের দিকে ছুটে গেল। তিয়াশা আর আদ্রিতা ধুলোর সেই কুয়াশার মাঝে স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে; আকস্মিক আদ্রিতা বলল,
— সাবধানে থাকিস তিয়ু। এই ছেলের মতিগতি সুবিধার ঠেকলো না!
তিয়াশা প্রত্যুত্তর না করে ব্যাগটা ঘাড়ে ভালো মতো বসিয়ে বেরিয়ে গেল ক্যাম্পাস ছেড়ে।
— তুই আজকে আবার ওই মেয়ের কলেজে গিয়েছিলি?
সময়টা সন্ধ্যার কিছুটা পর। নেশাগ্রস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে সদ্য ঘুমানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল আরাভ।আচমকা পেছন থেকে ভেসে আসা গম্ভীর নারী কণ্ঠস্বরে ওর কানের পর্দা যেন ঝাঁঝরিয়ে উঠল।
মুহূর্তের মধ্যে মেজাজটা চড়চড় করে গরম হয়ে গেল ওর। প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে ও তড়িৎ বেগে বিছানায় উঠে বসল। র-ক্তাভ চোখ জোড়া মেলে পেছনে তাকাতেই দেখল, দরজার সামনে হাত দুটো বুকের ওপর বেঁধে শক্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছেন ওর ফুফু, আম্বিয়া খান। আনোয়ার খানের একমাত্র বোন হওয়ায় এই বাড়িতে তাঁর দাপট মন্ত্রীর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
আরাভ কপালের রগ দুটো চেপে ধরে ভেতরের উগ্র চিল-চিৎকার সামলানোর চেষ্টা করল। তারপর টেনে টেনে এক অদ্ভুত অবহেলার সুরে বলল,,
— হোয়াট দ্য হেল, ফুফু! পার্সোনাল রুমে ঢোকার আগে একটু নক করার কার্টেসীও কি ভুলে গেছ? আর সকাল-সন্ধ্যা আমার পেছনে স্পাই লাগানো বন্ধ করো তো! এইসব উল্টাপাল্টা নিউজ কে সাপ্লাই দেয় তোমার কাছে?
আম্বিয়া খান এক পা এগিয়ে এলেন। চোখে-মুখে স্পষ্ট ক্ষোভ আর তাচ্ছিল্য,
— উল্টাপাল্টা নিউজ? পুরো গুলশান-বনানী এরিয়ার লোকজন তোদের এই সস্তা ইভটিজিংয়ের গল্প ছড়াচ্ছে! ডিআইজির ওই সামান্য একটা মেয়ের জন্য তুই কাল রাতে নিজের বাপের সাথে ক্যাচাল করলি, আজকে আবার মাঝমাঠে বাইক নিয়ে গিয়ে ওরে থ্রেট দিয়ে আসলি? মাথাটা কি পুরোপুরি গেছে তোর, আরাভ? ওই সস্তা মেয়ের জন্য তুই খান ফ্যামিলির রেপুটেশন ধুলোয় মেশাবি?
‘সস্তা মেয়ে’ শব্দটা কানে লাগতেই আরাভের নেশাগ্রস্ত চোখের মণি দুটো হুট করে স্থির হয়ে গেল। ও বিছানা থেকে নেমে টলমলে পায়ে ফুফুর একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক মাদকতাময়, বক্র হাসি। আনমনে বিড়বিড় করে ও বলল,,
— সস্তা? ওহ নো ফুফু, ইউ আর কমপ্লিটলি রং! ও মোটেও সস্তা নয়। তুমি নিজে যদি একবার ওই মেয়ের চোখের তেজ দেখতে না… কসম, নিজের চোখ ফেরাতে পারতে না। শ্যি ইজ আ পিওর ওয়াইল্ড ফায়ার!
আরাভের ঘোরাচ্ছন্ন কথায় আম্বিয়া খান বিরক্তিতে ওনার কপাল কুঁচকে ফেললেন। তবে ওনাকে পাত্তা না দিয়ে আরাভ তখনো নিজের খেয়ালে বলে চলেছে,,
— উফ! কী মারাত্মক অ্যারোগেন্স মেয়েটার! ও যখন রাগ করে না, তখন ওর ওই ফর্সা মুখটা একেবারে লাল হয়ে যায়। জাস্ট দেখার মতো…।
আম্বিয়া খান আর সহ্য করতে পারলেন না। ওনার নিজের ভাতিজার এই উন্মাদনা দেখে ওনার গা রি রি করে উঠল। ওনার হাত বাড়িয়ে আরাভের কাঁধে একটা সজোরে ধাক্কা দিয়ে গলা চড়িয়ে বললেন,,
— এই আরাভ! কী সব উল্টোপাল্টা বকছিস তুই নেশার ঘোরে? একটা সাধারণ মেয়ের জন্য এভাবে পাগল হচ্ছিস? কার কথা বলছিস তুই?
ধাক্কাটা খেয়ে আরাভ একটু পেছাল, কিন্তু ওর মুখের সেই পৈশাচিক হাসিটা আরও চওড়া হলো। ও ফুফুর দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় পেছনের দেয়ালটাকে দেখিয়ে বলল,,
— কার কথা বলছি? নিজেই দেখে নাও।
আম্বিয়া খান ভ্রু কুঁচকে পেছনে ঘুরলেন। ওনার সামনে এখন বেডরুমের বিশাল, শূন্য দেয়ালটা। ঠিক তখনই আরাভ পাশ থেকে একটা ব্লুটুথ রিমোট তুলে নিয়ে এক ঝটকায় ওটার লাল বাটনটা প্রেস করল।
মুহূর্তের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো রুমের লাইটগুলো অফ হয়ে গেল এবং দেওয়ালে থাকা হিডেন থিয়েটার প্রজেক্টরটা সশব্দে চালু হয়ে উঠল। সেই অন্ধকারের বুক চিরে বিশাল দেয়াল জুড়ে ভেসে উঠল তিয়াশার একখানা অসম্ভব সুন্দর, হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রীর ছবি। ক্যাম্পাসের কোনো এক রোদেলা দুপুরে আনমনে হাসার সময় কেউ একজন অত্যন্ত গোপনে, নিখুঁত ফোকাসে স্ন্যাপটা নিয়েছিল। সেই বিশাল স্ক্রিনের আলোয় আরাভের নেশাতুর, হিংস্র মুখটা আরও ভয়ঙ্কর দেখাল। ও রিমোটটা উঁচিয়ে ফুফুর কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,,
— মিট তিয়াশা চৌধুরী, ফুফু। মাই ফিউচার ব্রাইড!
রুদ্রদ্বীপ সবেমাত্র ডিউটি শেষে বাড়ি ফিরেছে। নেভি ব্লু শার্টের ওপরের বোতামটা আলগা করে সোফায় বসতেই রূপকথা আনম ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা এনে ছেলের সামনে রাখলেন। রুদ্র চায়ের কাপে চুমুক দিতেই তিনি পাশে বসে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন,,
— তা, মেয়ে পছন্দ হয়েছে?
মায়ের এমন হুট করে বলা কথায় রুদ্র চায়ের কাপটা টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখল। ওর তীক্ষ্ণ চোয়ালে এক চিলতে লাজুক হাসি ফুটে উঠল কি না! অতি সন্তর্পণে ও গোপন করে ও মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,,
— মা! তুমিও যে কী বলো না… মাত্র একবার একটা ক্যাফেতে দেখা হয়েছে। আর তুমি এখনই এইসবে চলে গেলে?
রূপকথা আনম ছেলের কপালে আদরের একটা টোকা দিয়ে বললেন,,
— কেন? পছন্দ হয়নি? আমার ছেলে তো কাউকে সহজে নোটিশ করে না। যখন নিজে থেকে বললি ক্যাফেতে তাহের ভাইয়ের মেয়ের সাথে দেখা হয়েছে, তখনই বুঝেছি ডাল মে কুছ কালা হ্যায়!
রুদ্র হাসল, তবে পরক্ষণেই ওর চোখে একটা বাস্তবসম্মত চিন্তা ফুটে উঠল। কোনোরূপ ভনিতা ছাড়াই ও মায়ের হাতটা ধরে বলল,,
— পছন্দের কথা ভাবার আগে রিয়্যালিটিটা ভাবো, মা। উনি আমার সিনিয়র একজন রেস্পেক্টেড অফিসার, ডিআইজি তাহের চৌধুরী। ওনার একমাত্র মেয়ে তিয়াশা। ওনারা এত বড় ফ্যামিলি, সেখানে আমাদের মতো সাধারণ একটা পরিবারে কেন ওনার মেয়েকে আমার সঙ্গে বিয়ে দেবেন, বলোতো?
রূপকথা আনম ছেলের কথা শুনে মৃদু হেসে বললেন,,
— ধুর পাগল, ওসব নিয়ে একদম চিন্তা করিস না। তিয়াশার বাবা আর তোর প্রয়াত বাবার সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল, সেটা তুই ছোট বলে হয়তো পুরোটা জানিস না। তোর বাবা যখন মারা গেল, তারপর থেকে তাহের ভাই আমাদের কতটা টেককেয়ার করেছেন! তুই পুলিশে জয়েন করার পরও উনি তোকে কতটা গাইড করেন, সেটা তো তুই নিজেই জানিস। ওনার মনে কোনো অহংকার নেই।
রুদ্র একটু গম্ভীর হয়ে গেল। চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে বলল,
— আমি জানি, মা। স্যার আমাকে নিজের ছেলের মতোই দেখেন। কিন্তু প্রফেশনাল লাইফ আর পার্সোনাল লাইফ আলাদা। শুধু শুধু আমার এই একটা জেদ বা ইচ্ছার জন্য যদি ওনার সাথে আমাদের এত বছরের সুন্দর পারিবারিক সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যায়? যদি উনি মাইন্ড করেন?
— তাহের ভাই মোটেও তেমন মানুষ নন,তুই একবার ওনার সাথে খোলাখুলি কথা বলেই দেখ না। আমার তো মনে হয় উনি খুশিই হবেন।
রুদ্র আর কথা বাড়াতে চাইল না। ও চায়ের কাপটা শেষ করে সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। মায়ের কাঁধে আলতো চাপ দিয়ে বলল,,
ইন্তেজার এ ওয়াসিল পর্ব ৪
— উফ মা, তুমি বেশি এসআইডি অফিসারদের মতো ইনভেস্টিগেশন শুরু করে দিয়েছ! আমি অনেক টায়ার্ড, একটু ফ্রেশ হতে গেলাম। এসব নিয়ে পরে ভাবা যাবে।
কথাটা বলেই রুদ্রদ্বীপ আর কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করে দ্রুত পায়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। রূপকথা আনম ছেলের যাওয়ার পানে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।
