Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫২

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫২

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫২
আশফিয়া হিয়া

বাড়ির সবাই আপাতত স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। রুদ্ধ ও ইয়াজের মুখ থেকে এমন কথা শুনে কি প্রতিক্রিয়া দেয়া উচিত সেটা তারা বুঝতে পারছে না। সবার দৃষ্টি এবার সোফার এক কণে গুটিয়ে থাকা মেয়েটির দিকে পড়ল। আহি মুখটা কাঁচুমাচু করে বসে রয়েছে। কারোর দিকে তাকানোর সাহস তার মাঝে নেই। বাড়ির সকলেই হতবাক যাদের কখনোই দুজনের সঙ্গে ভালো করে কথাটুকু বলতে তারা দেখেননি। যখনই এক সঙ্গে থাকত হয় ঝগড়া করছে, নয়ত মা*রামা*রি করছে এদের মাঝে কিছু থাকতে পারে? কারোর এই ব্যাপারে বিন্দুমাএ ধারণা ছিল না। মিতা বেগম এখনো অবাকে চরম পর্যায়ে পৌছে গিয়েছে তার দুই মেয়েই কি তবে একই পথে হেঁটেছে? আর তিনি মা হয়ে কিছুই বুঝতে পারেনি? আজাদ শেখ মুখভঙ্গি গম্ভীর করে বললেন,

– ‘ এসব তোমরা কি বলছো? পরিষ্কার করে কথা বলো আমি বুঝতে পারছি না।
রুদ্ধ নির্লিপ্ত গলায় বলল,
– ‘ না বোঝার তো কিছু নেই চাচ্চু, আমি সরাসরিই কথা বলছি, আহি ও ইয়াজ একে অপরকে পছন্দ করে ইনফ্যাক্ট ভালোওবাসে। ‘
পুরো বাড়িতে যেন একটা ছোট্ট খাটো বিস্ফোরণ ঘটে গেল। সকলেই একবার আহির দিকে তো একবার ইয়াজের দিকে তাকাল। আহির মুখটা ভয়ে রক্তশূণ্য হয়ে আছে। মাথা তুলে সকলের দিকে তাকানোর সাহসটুকু সে পাচ্ছে না। সবাইকে এমন গম্ভীর দেখে আরুর নিজেরই ভয় লাগছে। তাদের ব্যাপারটা জানার পর তো বড় চাচ্চু বাদে সবাই ভীষণ খুশি ছিল। কোনো ঝামেলা ছাড়া মেনেই নিয়েছে তবে ওদের বেলায় সকলে এমন গম্ভীর হয়ে আছে কেনো?
সুমিতা বেগম এবার আর চুপ থাকলেন না। তিনি এ ব্যাপারটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।তার ছেলের ব্যাপারের এত বড় একটা কথা হচ্ছে আর তিনি? তিনি মা হয়ে বিষয়টা জানতেও পারল না। সেটা এখন সবার সামনে রুদ্ধর মুখ থেকে শুনতে হচ্ছে? তিনি গম্ভীর স্বরে ইয়াজকে বললেন,

– ‘ এসব কি হচ্ছে ইয়াজ, রুদ্ধ এসব কি বলছে? তোমরা কি খুব বড় হয়ে গিয়েছো। নিজেদের পছন্দ – অপছন্দ বাবা – মাকে বলার প্রয়োজন মনে করছো না।’
ইয়াজ বলল,
– ‘ মা বিষয়টা সবাইকে জানানোর জন্যই এই কথাগুলো বলছি, আমরা তো এই বাড়িতে কেউ আলাদা নই তাই কথাগুলো সকলের সামনেই বলা উচিত। ‘
সুমিতা বেগম বললেন,
– ‘ তোমার বাবা এখন বাড়িতে নেই, তিনি এলেই তোমার কথা শুনবো এখন আমি এসব নিয়ে কিছু শুনতে চাইছি না।’
আহির মুখটা একেবারে চুপসে গিয়েছে ছোট মা তাকে নিশ্চয় ইয়াজের জন্য পছন্দ করছেন না, তাই হয়তো এমন করছে, তার দিকে অবশ্য সে ঠিকই আছে, ইয়াজ উনার একমাএ ছেলে। নিজের ছেলের জন্য অন্যরকম পছন্দ থাকতেই পারে। রুদ্ধ সুমিতা বেগমের গম্ভীর মুখের দিকে এক পলক তাকিয়ে বলল,
– ‘ আমি ছোট্ট চাচ্চুর সঙ্গে এই বিষয়ে আগেই কথা বলেছি ছোট্ট মা, তিনি সবটায় জানেন এবং তার এই সম্পর্কে কোনো আপওি নেই এটাও জানিয়েছে। ‘
সুমিতা বেগম বললেন,

– ‘ বাহ্ বাবা – ছেলে সবাই সবটা জানে শুধুমাএ আমিই জানি না, আমার কোনো অধিকার নেই আমার ছেলের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার?’
মিতা বেগমের মুখটা থমথমে হয়ে আছে। সুমিতা বেগমের এমন ব্যবহারে সে বুঝতে পারছে আহিকে সুমিতা ইয়াজের জন্য মেনে নিতে পারছে না, তাই এমনটা করছে। তার সমস্ত রাগ গিয়ে আহির ওপর পড়ল। সে হঠাৎ করে আহির দিকে তেড়ে গেলেন কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আহিকে বসা থেকে দাঁড় করিয়ে সপাটে গালে এক চ*ড় মা*রলেন। আরু তড়িঘড়ি করে উঠে বোনকে জরিয়ে ধরল। রুমা বেগম বাচ্চাদের খেলনা দিয়ে বসিয়ে উঠে এলেন। বাচ্চারা টুকুস টুকুস করে তাকিয়ে এইদিকেই দেখচ্ছে। ইয়াজ দ্রুত দাঁড়িয়ে পড়ল। মিতা বেগম আহিকে আবারও মারতে গেলে ইয়াজ আহিকে আড়াল করে সামনে এসে দাঁড়াল। রুদ্ধ মিতা বেগমকে সরিয়ে এনে সোফায় বসিয়ে বলল,
– ‘ কি করছো মেঝো মা ওকে মা*রছো কেনো? এখানে তো কেউ কোনো অন্যায় করেনি। ‘
আসলাম শেখ গম্ভীর স্বরে বললেন,
– ‘ মা*রলেই কোনো কিছু সমাধান হয়ে যায় না মিতা, মাথা ঠান্ডা রাখো।’
আজাদ শেখ মাথা নিচু করে কিছু একটা ভাবছেন। তার এইদিকে কোনো খেয়াল নেই। মিতা বেগম কেঁদে উঠে বললেন,

– ‘ ওকে তো মা*রাই উচিত ভাইজান। বড় বোন যেই পথে হেঁটেছে ও নিজেও সেই পথেই হাঁটল। ওর জন্য আজ আমাদের কতটা ছোট্ট হতে হচ্ছে ভাবতে পারছেন? আমাদের মেয়েদের নিয়ে আমার যেই গর্ব ছিল তা শেষ গয়ে গিয়েছে। ‘ আহি আরুকে জরিয়ে ধরে কাঁদছে। সুমিতা বেগম বললেন,
– ‘ আমার কথার রাগ তুমি ওর ওপরে মেটাচ্ছ তাই না আপা? আমি ভুল কি বলেছি? আমার একটামাএ ছেলে ওর জীবন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আমার নেই? ও আহিকে ভালোবাসে এই কথাটা কি আমাকে একবারও আগে থেকে বলা যেত না, আমি কি এতটায় খারাপ মা? আমার দিকটা তোমরা কেউ কখনো বুঝবে না। রুদ্ধর বিষয়টাও তো আপা আগে থেকেই জানত, রুদ্ধ নিজেই জানিয়েছিল তাকে তবে আমার ছেলে কেনো আমাকে আগে কথাটা বলতে পারল না? প্রচন্ড অভিমান নিয়ে কথাগুলো বললেন তিনি।
ইয়াজ মায়ের অভিমান বুঝতে পারল। তার এই বিষয়টা মাকে আগেই বলা উচিত ছিল এটাও বুঝতে পারছে। ইয়াজ এগিয়ে এসে মাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরল। এরপর ছেড়ে দিয়ে দু হাত নিজের হাতের মাঝে নিয়ে বলল,
– আ’ম সরি মা। আমার তোমাকে আগেই বলা উচিত ছিল। আমি ইউএস থেকে ফিরে এসেই তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কিন্তু সময় – সুযোগ বুঝে তোমাকে কথাটা জানানো হয়নি।
সুমিতা বেগম তার হাত সরিয়ে বললেন,

– ‘ বাবাকে তো ঠিকই বলতে পেরেছিস।’
রুদ্ধ বলল,
– ‘ চাচ্চুকে ইয়াজ কিছু জানায়নি ছোট্ট মা আমি জানিয়েছি এই বিষয়ে ইয়াজ কিছুই জানত না।’
আসলাম শেখ বিরক্তির স্বরে বললেন,
– ‘ হ্যাঁ উনি এসেছেন এই বাড়ির কর্তা সব সিদ্ধান্ত উনি একাই নিতে পারে তাহলে আমাদেরকে আর কি প্রয়োজন।’
আজাদ শেখ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
– ‘ এখন? এই সম্পর্কের পরিণতি কি হবে? ‘
ইয়াজ ও আহি দুজনের বুকের ভেতটায় ধ্বক করে উঠল। ইয়াজ এতক্ষণ স্বাভাবিক থাকলেও এখন আর স্বাভাবিক থাকতে পারছে না। ভেতরটা অজানা ভয়ে কেমন চুপসে আছে। রুদ্ধ ভ্রু কুঁচকে বলল,
– ‘ দুজন দুজনে ভালোবাসে ওদের বিয়ে দিয়ে দাও স্পিপেল এখানে তো এত ভাবার কিছু নেই।’
ইয়াজ মাকে চোখে চোখে কিছু ইশারা করল। সুমিতা বেগম ভেবে – চিন্তে এগিয়ে এসে বললেন,
– ‘ আমার এই সম্পর্ক নিয়ে কোনো আপওি নেই ভাইজান। ওরা দুজন দুজনকে ভালোবাসে ওরা সারাটা জীবন এক সঙ্গে হাসি – খুশি থাকলেই আমি খুশি।’
মিতা বেগম বললেন,

– ‘ শুধুমাএ ওদের কথা চিন্তা করে না সুমিতা, তুই নিজের কথাটাও বল তোর নিজের পছন্দ থাকতেই পারে এটা তো দো*ষের কিছু নয়। আহিকে তোর ইয়াজের বউ হিসেবে পছন্দ হতে হবে এমনটা নয় তুই যা বলার সরাসরি বলতে পারিস।’
সুমিতা বেগম অভিমানি কন্ঠে বললেন,
– ‘ তুমি আমাকে এমনটা ভাবো আপা? আহি তো আমারও মেয়ে ছোটবেলা থেকে কি আমি ওকে মানুষ করিনি? বরং ও আমার একটু বেশিই আদরের। আমার অভিমান হয়েছিল নিজের ছেলের প্রতি ও তো আমাকে জানাতে পারত।’
মিতা বেগম বললেন,
– ‘ তুই ভুল ভাবছিস আমি ওভাবে বলতে…
তাকে থামিয়ে দিয়ে সুমিতা বেগম বললেন,
– ‘ থাক আপা আমি বুঝেছি তোমাকে আর বলতে হবে না।’
আজাদ শেখ গম্ভীর মুখে হাসি ফুটিয়ে বললেন,
– ‘ আল্লাহর পরিকল্পনা আমাদের থেকেও উওম, তিনি চাইছিলেন আমার আদরের দুই মেয়ে আমার চোখের সামনেই থাকুক তাই তো এই সম্পর্ক। আমার এখানে বাঁধা দেয়ার কোনো প্রশ্নই উঠছে না। ওরা ভালো থাকলেই আমরাও ভালো থাকব।’
আসসাম শেখ বললেন,

– ‘ তবে আর দেরি কিসের যেহুতু কারোরই কোনো অসুবিধা নেই তাহলে বিয়ের কাজটা দ্রুত সেড়ে ফেললেই হয়।’
রুমা বেগম বললেন,
– ‘ তাহলে আগামী মাসেই ওদের বিয়ের দিনটা ঠিক করা যাক?’
সবাই সম্মতি দিলেন। আরু মিটিমিটি হেসে আহির কাঁধে ধাক্কা দিল। আহি যেন নিজের প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ইয়াজের দিকে তাকাতেই দেখন ইয়াজ তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ঠোঁটের কোণায় হাসি ফুটিয়ে আহিকে এক চোখ মারল আহি সঙ্গে সঙ্গে চোখ ফিরিয়ে নিল।
পানি পড়ার ঝনঝন শব্দ হতেই সকলের মনোযোগ ভঙ্গ হলো। ড্রাইনিং টেবেলের দিকে চোখ যেতেই দেখল। রুদ্র ও আদ্রিতা টেবিলের ওপর থেকে জগের পানি সম্পূর্ণ নিজেদের গায়ে ফেলে দিয়েছে। সকলেই কথা বলার মাঝে ব্যস্ত ছিল।একটু চোখের আড়াল হতেই দুজনেই এই কান্ড করে বসে রয়েছে। পুরো ভিজে চুপচুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আরু আর্ত*নাদ এগিয়ে গেল৷ রুদ্ধও দৌড়ে সেদিকে গেল। বাকিরা শব্দ করে হেসে দিল, এই দুটো বাচ্চাই এখন শেখ বাড়ির প্রাণ। পুরো বাড়িটাই এদের দুষ্টুমি ও চাঞ্চল্যতা দিয়ে মাতিয়ে রাখে। আরু ছেলে কলে নিল, রুদ্ধ মেয়েকে কোলে নিল। রুদ্ধ আদুরে স্বরে বলল,

– ‘ কি করেছো বাবারা ঠান্ডা লেগে যাবে তো।’
তবে আরু দুজনকেই ধমক দিল। ধমক শুনে দুজনই কেঁদে ফেলল। রুদ্ধ আরুর দিকে চোখ রাঙিয়ে বলল,
– ‘ ওরা বাচ্চা মানুষ ওরা কি এসব বুঝে? ওদের বুঝিয়ে বলতে হবে, আমার ছেলে – মেয়েকে একদম বকবি না৷ ‘ বলেই বাচ্চাদের নিয়ে ওপরে উঠে গেল। আরুর রাগ হলেও প্রকাশ করল না৷ রুদ্ধর পিছু পিছু ঘরে গেল। আজাদ শেখ বললেন,
– ‘ আরুও ছোট বেলায় ঠিক এমন দুষ্টুমি করত মনে আছে?’
মিতা বেগম হেসে বললেন,
– ‘ হুম ছোট বেলায় আমাকে কম জ্বালিয়েছে তোমার মেয়ে? এবার নিজে বুঝুক।’
বাড়ির সবাই আবারও হাসল। আহি সেই ফাঁকে চোরের মতো সেখান থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে চলে গেল। রুমের দরজা লক করতে গেলে কেউ আটকে ফেলল। আহি ইয়াজকে দেখে দরজা থেকে সরে দাঁড়াল। ইয়াজ ভেতরে ঢুকে দরজা লক করে দিল।

রুদ্ধ বাচ্চাদের এনে বেডের ওপর বসিয়ে ভেজা জামা খুলে দিল। আলমারি থেকে অন্য জামা বের করে পড়ানোর মাঝেই আরু শব্দ করে রুমে প্রবেশ করল। রুদ্ধ তখন রুদ্রকে জামা পরিয়ে দিচ্ছিল আরু আদ্রিতাকে নিজের কাছে নিয়ে মাথাটা ভালো করে মুছিয়ে দিল। জগে অনেক ভালো পরিমানেরই পানি ছিল দুজনেরই মাথা ভিজে গিয়েছে। আরু মুখ ফুলিয়েই রুদ্রর ও মাথা মুছিয়ে দিল। এর পর ওয়াশরুমে ঢুকল বাচ্চাদের জমানো কাপড়গুলো ধোঁয়ার উদ্দেশ্যে। বাচ্চাদের জামা – কাপড় আরু নয়ত রুদ্ধ নিজেরাই ধুঁয়ে ফেলে। আজ আরুই গেল জামা – কাপড় ধুতে। রুদ্ধ বাচ্চাদের সামনে খেলনা ছড়িয়ে – ছিটিয়ে দিল এরপর রুমের দরজা লক করে ওয়াশরুমে গেল। আরু দরজা চাপিয়েই রেখেছিল। রুদ্ধকে প্রবেশ করতে থেকে মুখটা ঘুরিয়ে নিল তবে কিছুই বলল না। এতে রুদ্ধর ভ্রু কুঁচকে গেল। আরুর মাথার ওপরের শাওয়ার অন করে দিল। আরু হকচকিয়ে দ্রুত সরে পড়ল। এমনেই রেগে ছিল, রুদ্ধর এহন কান্ডে তার রাগ আরোও বেড়ে গেল। রুদ্ধর বুকে হালকা দিয়ে বলল,

– ‘ এটা কি করলেন আপনি? এখন কি আমার ভেজার সময়?’
রুদ্ধ তার দু হাত পেছনে ঘুরিয়ে বন্দি করে বলল,
– ‘ ভেজানোর কোনো নির্দিষ্ট সময় আছে নাকি? আমার ইচ্ছে হয়েছে ভিজিয়েছি, মুখটা ওমন ফুরিয়ে রাখলে আরও ভেজাব।’
আরু চোখ রাঙিয়ে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে তবে রুদ্ধর সঙ্গে পেরে উঠছে না। না পেরে হতাশ হয়ে এক সময় থেমে গেল। রুদ্ধ শব্দ করে হেসে বলল,
– ‘ গায়ের জোর শেষ?’ বলেই আবারও হাসল। রুদ্ধর হাসি দেখে আরুর আরও বেশি রাগ হচ্ছে। সে এবার রুদ্ধর বুকে জোরে কা*মড় বসিয়ে দিল। রুদ্ধর শার্টের দুটো বোতাম আগে থেকেই খোলা ছিল, কা*মড়টা বেশ ভালো জোরেই লেগেছে। রুদ্ধ দাঁতে দাঁত চেপে কা*মড় সহ্য করে নিল। আরুর হাত জোড়া এক হাত দিয়ে চেপে ধরে অন্য হাতে আরুর গায়ের ওড়না এক টানে জরিয়ে ফেলল। এক দৃষ্টিতে আরুর উন্মুক্ত গলার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। যেখানে রুদ্ধর দেয়া চিহ্নগুলো এখনও তাজা হয়ে আছে। রুদ্ধ সেই জায়গাগুলোতে গভীরভাবে ঠোঁটের ছোঁয়া দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আরুর হাত ছেড়ে দিয়েছে সে, আরু তার মাথা ঠেলে উঠালে চাইলে রুদ্ধর সেটা পছন্দ হলো না, গলা থেকে অনেকটা নিচে কা*মড় বসিয়ে দিল। আরু তার বাহু খাঁমছে ধরল। রুদ্ধ তাকে ছেড়ে ভ্রু উঁচিয়ে মিটিমিটি হাসল। আরু তাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল,

– ‘ রাক্ষস একটা। আমার সম্পূর্ণ শরীরে ক্ষত বানিয়ে দিয়েছে।’
রুদ্ধ হাসতে হাসতেই বলল,
– ‘ এমন মাখনের মতো শরীর দেখলে মাথা ঠিক থাকে না ইচ্ছে করে কা*মড়ে খেয়ে ফেলি। ‘
– ‘ অসভ্য। ‘
আরু ঘরের ভেতর চলে গেল। রুদ্ধ নিজেই বাচ্চাদের কাপড় ধুয়ে দিল। রুমে এসে দেখল আরু বেড এ শুয়ে আছে রুদ্র আরুর মাথার ওপর বসে আছে, আদ্রিতা পেটের ওপর মাথা ফেলে গড়াগড়া খাচ্ছা। আরু হাসচ্ছে, রুদ্রকে সরিয়ে দিতে চাইলে সে সরল না উল্টো আরুর গায়ের সঙ্গে সঙ্গে গাল লাগিয়ে নিজেদের ভাষায় কথা বলছে, আদ্রিতা তাকে সরিয়ে দিতে চাইছে তবে পারছে না, প্রায় সময় বাচ্চারা এমনই করে, রুদ্ধকে পেলে রুদ্ধর ওপর থেকে কেউই উঠবে না তার ওপরেই এমন গড়াগড়ি খেয়ে দুষ্টুমি করবে। রুদ্ধর বু*কের ভেতটা প্রশান্তিতে ভরে উঠল। বাচ্চাদের সঙ্গে আরুকে দেখলে তার আবারও নতুন করে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। যাকে সে নিজের সবটা দিয়ে ভালোবেসে এসেছে, সেই মেয়েটা আজ তাকে এতটা সুখ দিয়েছে। তার বাচ্চাদের মা এখন মেয়েটা৷ রুদ্ধ কাপড়গুলো বেলকনিতে মেলে দিয়ে আরুর পেটে মুখ গুজে শুয়ে পড়ল। বাচ্চারা তাকে দেখে বাবা বাবা বলে রুদ্ধর পিঠের ওপর চেপে বসল। আরু না চাইতেও হেসে দিল। রুদ্ধ ও ছেলে – মেয়েদের সম্পূর্ণ ভার এখন আরুর ওপর, এটা রোজকার কাহিনী তিনজন মিলেই তার ওপরে এসে শুয়ে থাকবে। এখন তার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে।

ইয়াজ আহির ঘরে বেডের ওপর বসে পা দোলাচ্ছে। আহি তাকে বার বার বলছে এখন ঘর থেকে চলে যেতে কেউ দেখলে খারাপ ভাবতে পারে তবুও সে এখান থেকে নড়ছে না। আহি এবার বিরক্ত হয়ে বলল,
– ‘ তুমি কি চাচ্ছো মায়ের হাতের আরো একটা চ*ড় আমার গালে পড়ুক? মা তোমাকে এখানে দেখলে আমাকে আবারও মারবে।’
ইয়াজ হঠাৎ আহির দিকে এক পা এক পা করে এগুতে লাগল। আহি কিছুটা ভড়কে পেছাতে লাগল। পেছাতে পেছাতে তার পিঠ গিয়ে আলমারির সঙ্গে ঠেকে গেল। ইয়াজ আহির দুদিকে দু হাত রেখে তাকে আটকে দিল। আহি আমতা আমতা করে বলার চেষ্টা করল কিছু তবে তার পূর্বেই ইয়াজ তার চ*ড় মারা গালটায় আলতো করে সাইড করতে লাগল। আহি চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিল। ইয়াজ কন্ঠ স্বর নিচু করে বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫১

– ‘ খুব ব্যাথা করছে?’
আহি দুদিকে মাথা নাড়াল। ইয়াজ তার দিকে এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে গালে গভীরভাবে ঠোঁট ছোঁয়াল। আহি চোখ জোড়া আরোও একটু খিঁচে নিল।ইয়াজের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস তার হলো না। ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইল। দরজার খোলার শব্দ পেতেই চোখ মেলে দেখল ইয়াজ চলে গিয়েছে। দরজাটা হাট করে খোলা। আহি দু হাতে মুখ ঢেকে হেসে ফেলল।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here