আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৩ (২)
সুরভী আক্তার
আদ্র নিরুদ্বেগ । তার কোনো চিত্তবিকার নেই রমনীর কথার পৃষ্ঠে । সে বাইকের গতি বাড়ায় আরো । কোন দিকে ছুটে চলেছে তা সে ব্যাতীত আর কে জানে ?
আদ্রের এমন আচরনে শিশির ভড়কায় আরো বেশি । কেমন ভয় লাগে তার । অযথা সন্দেহ জাগে । যদিও সে ভাবনা মনের বিপরীতে । তবুও ধরা গলা তুঙ্গে তুলে আবার বলে মেয়েটা…
” কি হলো , আমার কথা কানে যাচ্ছে না আপনার ? আমি বাইক থামাতে বলেছি । নামিয়ে দিন আমায় । ওদিকে কোথায় যাচ্ছেন আমায় নিয়ে ? স্যার , আমি নামবো । প্লিজ নামিয়ে দিন !
” শাট আপ বেয়াদব ,, ঘ্যান ঘ্যান করবে না কানের কাছে । চুপচাপ বসে থাকো…
ফের তপ্ত ঝাড়ি । মেয়েটা চমকায় । কেমন হাত পা শিরশির করে । আতঙ্কে ঝমঝম করে পুরো শরীর ।
আদ্র মিররে দেখলো ওর অস্বাভাবিক ভয় টুকু । দুদিকে মাথা নাড়ালো । কি ভাবছে এই মেয়ে ? উল্টো পাল্টা কিছু নয়তো ?
বারবার বিরক্ত হচ্ছে আদ্র । তবে ঠান্ডা বিরক্তি তার । শিশিরের আতকানো অশান্ত চেহারা দেখে আর বেশিদূর এগোনো হলো না ।
রাস্তার একধারে খোলা আকাশের নিচে জন্মানো এক সুবিশাল শিমুল গাছের নিচে বাইক থামালো রয়ে সয়ে । অমনি প্রাণ ফিরে পায় রমনী । বাইক থামাতেই ব্যাগ হাতে তড়িঘড়ি করে নেমে পড়ে । আদ্র নেমে হেলমেট খোলে মাথা থেকে । এলোমেলো ঝাঁকড়া চুল ঠেলে পিছনের দিকে হটিয়ে দেয় । রেগে তাকিয়ে খানিকটা চিবিয়ে বলে….
” পালাচ্ছি তোমায় নিয়ে ? এভাবে ভয় পাচ্ছো কেনো ?
শিশির পেছায় । চোখ তুলে বলে …
” আমি বাড়ি যাবো । এদিকে তো আমার বাড়ি নয়….
” শশুর বাড়ি তোমার এদিকে , খুব যাওয়ার সখ হয়েছে সেখানে ? শশুর বাড়িতেই নিয়ে যাচ্ছিলাম ! বেয়াদব !
নাক ফুলিয়ে ফোঁস করে শ্বাস ফেললো শিশির । আদ্র শান্ত হলো । সংযত হয়ে বললো….
” এই শোনো , কথা আছে তোমার সাথে । একটু নির্জনতা প্রয়োজন ছিলো । তাই এদিকে এসেছিলাম । কিছু প্রশ্ন করবো , নরমালি উত্তর দেবে । হেরফের করেছো তো থাপ্পর খাবে বলে দিলাম । এই বিয়েতে রাজি হয়েছো কেনো তুমি ?
সোজাসুজি প্রশ্ন । শিশির তব্দা খায়…
প্রশ্ন টা ব্যাক্তিগত ভাবে নিতেই বিব্রত বোধ করে ।
” সরি !!
” রাখো তোমার সরি ! খালি কথায় কথায় সরি বলা অভ্যাস তোমার ? যা বলেছি তার উত্তর দাও । বিয়ে করছো কেনো তুমি ?
” স্যার ,, আমার প্রাইভেট ম্যাটারে ঢুকে পড়ছেন আপনি ।
” আমি জানি এটা পার্সোনাল কোয়েচশন । বাট রিল্যাক্স,, আমার দিকে তাকাও ।
রাইট নাউ , আই এম নট ইউর টিচার । মেঘা আর টুকটুকির ভাইয়া হিসেবেই ধরো । প্রশ্ন গুলোর উত্তর দাও আমায় ! আমি জানতে চাই , কেনো করছো তুমি এই বিয়ে ? যার সাথে তোমার বিয়ে হচ্ছে , তার সম্বন্ধে কতটুকু জানো তুমি ? কি আন্দাজ আছে তোমার ? তুমি ভাবতে পারছো ও কতটা খারাপ ছেলে ? আরে ও একটা স্ক্রাউন্ডেল । পথে ঘাটে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা , নেশা করা , মারপিট করা , মাল খেয়ে টাল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা স্বভাব ওর ! তুমি নিজ চোখে দেখেছো তো সেদিন , তাহলে কেনো এই সম্পর্কে জড়াচ্ছো তুমি ?
শিশির স্তব্ধ হয় । আয়ানের এমন উদ্ভট প্রসঙ্গ উঠতেই ঝিমিয়ে আসে রমনী । চোখ নামায় আলগোছে । আদ্রের সামনে কেমন লজ্জিত অবস্থার সম্মুখীন হয় সে । কথা ফোঁটে না জবানে । আদ্র উত্তরের অপেক্ষা করলো । না পেয়ে আবারো বিচলিত হয়ে বললো….
” বেয়াদব , কথা বলো ! কিছু জানতে চেয়েছি তোমার থেকে ! সবটা জেনেও কেনো ঐ বাজে ছেলেটাকে বিয়ে করছো তুমি ?
” আমি উত্তর করতে বাধ্য নই, স্যার । এটা আমার পার্সোনাল লাইফ , আমাকেই ভাবতে দিন ।
” বলেছি না মুখে মুখে তর্ক করবে না । উত্তর করো আমার প্রশ্নের । নয়তো ভালো হবে না বলে রাখলাম ।
শিশির তবুও নিশ্চুপ । এখান থেকে কেটে পড়ার পাঁয়তারা করছে মনে মনে । আদ্র চোয়াল শক্ত করলো । আর চুপ থাকতে পারলো না । মোক্ষম কথাটা বেরিয়ে গেলো জিভ ফসকে….
” যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছো , সে একজন রে*পিস্ট । রে*প কেসে মামলা আছে তার নামে । জেল খেটেছে অনেক বার । টাকা দিয়ে ছাড়ানো হয়েছে জেল থেকে । এটা জানো ?
শোনা মাত্রই ছলকে তাকায় শ্যামলিনী কন্যা । ধক্ করে ওঠে বক্ষস্থল । চোখ জোড়া কাঁপে ধিকধিক করে । চোখাচোখি হয় আদ্রের সাথে । মেয়েটার মাথা যেনো চক্কর দিয়ে উঠলো । কেঁপে উঠলো পুরো ধরনী । পায়ের তলার মাটি সরলো ।
চোখ জোড়া ছলছল হতে সময় লাগে না ।
আবার ,, তীব্র অস্বস্তি প্রকাশ হতেও সময় লাগে না । চোখ নামিয়ে নেয় মেয়েটা । চিবুক গলায় মিশিয়ে চোখ বুজে নেয় । ভীষণ জ্বলে দুচোখ । এটাই শোনার বাকি ছিলো বোধহয় । এটাও কি সত্যিই ? সত্যিই হলেও বা আদ্র জানলো কি করে ?
আদ্র ওর অপ্রিতিকর অবস্থা বুঝলো । কন্ঠ নামিয়ে ধীরে বললো….
” আই নো, তোমার এসব শুনতে খারাপ লাগছে । বাট এটা সত্যিই । আমি খোঁজ নিয়েছি ঐ ছেলেটার সম্পর্কে । সবটা জেনেছি । ও ভালো ছেলে নয় , খারাপ বললেও কম হয়ে যাবে । বুঝতে পারছো তুমি ?
আকস্মিক মেয়েটার নাক টানার শব্দ শোনা যায় । আর পারে না রমনী । আর কত চেপে রাখবে নিজেকে ? কত গুমড়ে মরবে ? শেষ ধাক্কায় এসে গুঁড়িয়ে পড়লো । ফুঁপিয়ে উঠলো চিবুক নামিয়ে । কাঁদতেও জড়তা , অথচ চোখ জড়তা মানতে বিমুখ আজ ।
আদ্র ওর ফোপানোর শব্দে ছ্যাত করে ওঠে । ঝুঁকে তাকায় রমনীর মুখ পানে । আজ উদ্বিগ্ন হয়ে প্রথম উচ্চারণ করে রমনীর নাম…
” শিশির ,,, কাঁদছো কেনো ? আমি তোমাকে কষ্ট দিয়ে এসব বলতে চাই নি । না বলেও উপায় ছিলো না….
” আমার ও উপায় নেই স্যার । উনি যেমনই হোক , আমাকে এই বিয়েটা করতেই হবে ।
রমনী চোখ মুছে নেয় । ঠেলে ফেলে সব রুদ্ধতা । হাসার চেষ্টা করে । আদ্র শুধোয়….
” কেনো ? কিসের এতো বাধ্যবাধকতা ? জানতে পারি ?
মেয়েটা বলবে না বলে পন করেছে । কোথাও একটা বলার ইচ্ছেও আছে । আদ্র ওকে চুপ দেখে আবার বলে অত্যন্ত মোলায়েম কন্ঠে….
” বলো শিশির ? কেনো করছো এই বিয়েটা ?
মেয়েটা হাঁফ ছাড়ে । রাস্তার দিকে পিঠ ফিরিয়ে উল্টো দিকে মুখ করে দাঁড়ায় । চোখ বুজে দীর্ঘ শ্বাস টেনে নেয় ভারাক্রান্ত বুকে । কন্ঠ কাঁপছে । কান্না পাচ্ছে ভীষণ । এভাবে গুমড়ে থাকা যায় না আর । মন হালকা হওয়া প্রয়োজন । হয়তো চিৎকার করে কান্না করতে হবে , নয়তো মনের সব কথা উগড়ে দিতে হবে কারোর সামনে । আদ্রকেই পেলো মুখোমুখি । কান্না চেপে ভেজা গলায় বলতে শুরু করে রমনী….
” আমরা খুব সাধারণ , স্যার । সাধারনের থেকেও সাধারণ । এই ধরুন তিন বেলা দুমুঠো খাওয়ার সামর্থ্য আছে কেবল । জানেন , এক সময় আমাদের একটা সুখি পরিবার ছিলো । আব্বু , আম্মু , আপু , আমি আর ভাই মিলে । ভাই তখন খুব ছোট । আমার নয় বছর বয়স । তখন আব্বু মারা যায় রোড এক্সিডেন্টে । আপু আমার থেকে দু বছরের বড় । এ জগতে আমাদের আর কেউ নেই । আব্বু চলে যাওয়ার পর আম্মু দিশেহারা হয়ে পড়েছিল আমাদের নিয়ে । প্রথম বছর আব্বুর রেখে যাওয়া সেভিংস দিয়ে চলেছি টানাপোড়েনে । দ্বিতীয় বছর থেকে শুরু হয় দূর্ভোগ । আমাদের মানুষ করার জন্য আম্মু অন্যের বাড়িতে কাজ করতো । তখন আমার আর ভাইয়ের খেয়াল রাখতো আপু । ঐ ছোট বয়সে রান্না করতো আমাদের জন্য । ভাইকে সামলাতো । পড়াশোনাও করতো ।
বছর দশেকের মাথায় জানতে পারি ভাইয়ের ব্রেন টিউমার । নরমাল ছিলো তখন । টাকার অভাবে চিকিৎসা হয় নি । আর এখন ওর টিউমার থার্ড স্টেজে । ক্যান্সার হয়েছে আমার ভাইয়ের ! আমি ক্লাসে দেরি করে আসার জন্য অযুহাত দেই নি কোনোদিন আপনাকে ! সত্যিই বলেছিলাম । আপনি মিথ্যে ভেবেছিলেন ।
যাই হোক , এখন আসি আমি এই বিয়েটা কেনো করছি ? করছি তো আমার আপুর জন্য । আবিদ ভাইয়া আপুকে খুব ভালোবাসে । আমি তো জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি , কিন্তু আমার আপু ? আপু কিছুই পায় নি জীবনে । সবটা বিসর্জন দিয়ে এসেছে । বিয়ে , নিজের জীবন , সংসার , এসবের চিন্তাও করে নি কখনো । সবসময় আমাদের কথা চিন্তা করে গেছে । দিনশেষে হাড়ভাঙা খাটুনি করেও ক্লান্তি দেখায় নি কখনো । ওর জীবনে কিছু পাওয়ার ছিলো , প্রয়োজন ছিলো কাউকে ! এসেছে আবিদ ভাইয়া । আপু আমাদের ছাড়বে না । তাই ভাইয়া আপুর জন্য নিজের পরিবার ছাড়তেও রাজি । ওনার ছোট ভাইয়ের মতো খারাপ নন উনি । ইনফ্যাক্ট , ওনার ভাইয়ের সাথে আমার বিয়ে হবে , এটাতেও রাগারাগী করেছিলেন । আমাকেও বুঝিয়েছেন ।
তাদের পরিবারের শর্ত , তারা আবিদ ভাইয়ার বিনিময়ে আমাকে চায় । ছোট ছেলের বউ করতে চায় আমায় ।
আপু এটাতেও রাজি ছিলো না । কিন্তু আমি রাজি । আমার আপুর জন্য । আমি তো পেয়েছি বলুন , বাকিটা জীবন আমার আর কিছু না পেলেও চলবে । এবার আমার আপুর পাওয়ার পালা । ওর একটা সংসার হোক । আমি চাই ও সুখী হোক । তাই করছি এই বিয়েটা….
বলতে গিয়ে পুরোটা সময় গলা কেঁপেছে রমনীর । চোখ ঝড়িয়েছে অশ্রুর ঝর্না । আপন খেয়ালে গাল বেয়ে পানি বয়ে গেছে চোখ ছাপিয়ে । আদ্র ছটফট করতে শুরু করে মেয়েটার ভেজা চোখ দেখে । কেমন চিনচিনে যন্ত্রণা লাগে তার । যন্ত্রনা ধরে রেখেই বলে এক বাক্য…
” আর তোমার সুখ ?
” লাগবে না ! আমি যথেষ্ট সুখ পেয়েছি জীবনে । বাকিটা জীবন না হলেও চলবে…..
থামে একটু । ভেজা গাল মোছে ।
হাসার চেষ্টা করতে গিয়ে হেঁচকি ওঠে গলা চিরে । ফুঁপিয়ে ওঠে মেয়েটা । নিজের এমন জীবনের প্রতি ক্ষণে ক্ষণে আফসোস হয় তার । ফের গাল ভেঁজে ঝরঝরিয়ে । কান্নারত কন্ঠে বলে….
” আমার আব্বু বেঁচে থাকলে হয়তো আমাদের জীবনটা এমন হতো না, স্যার । এখন আর কিছু করার নেই । আমি আমার আপুকে সুখি দেখতে চাই । আর উনি , উনি বখাটে ? হোক , আপত্তি নেই আমার । বিয়ের পর যদি পরিবর্তন হয় , তাহলে তো ভালো ।
আদ্র রমনীর চোখ জোড়ার পানে থমকায় । মেয়েটার আঁখি দ্বয়ের আর্দ্র কিনারে রক্ত জমাট বেঁধেছে । লালচে হয়ে উঠেছে চোখ জোড়া । দেখেই বোঝা যাচ্ছে , কতটা কষ্ট চেপে জবান খুলেছে । চোখ টই টুম্বুর । বারবার পানি ঝরেও ভরাট হতে সময় লাগছে না । মায়াময় মুখ খানা ফিকে হয়ে এসেছে রমনীর । আদ্রের হাঁসফাঁস লাগে ওর চোখে পানি দেখে । সেদিন রিকশায় ওর চোখের জল দেখেও ঠিক এমনটাই লেগেছিলো । ছটফট করেছিলো অন্তরাত্মা । যেনো খুব কষ্ট হচ্ছে তার । আজও ব্যাতিক্রম নয় । বুক কেমন মুচড়ে আসে । চিনচিনে ব্যথা পায় কোথাও একটা । সহসা চোখ নামিয়ে পেছায় আদ্র । হেলে পড়ে বাইকের সিটে । মাথা নামিয়ে বুকের বাম পাশে হাত উঠিয়ে জোরে জোরে শ্বাস টানে । সচকিতে পিছু ফিরে তাকায় শিশির । আদ্রের এমন বিচলিত হাঁসফাঁস অবস্থা দেখে থতমত খায় । দ্রুত চোখ মুছে এক কদম এগোয়…..
সব ভুলে খানিক উদ্বিগ্ন হয়ে শুধোয়….
” স্যার ,, আর ইউ ওকে ? কি হলো হঠাৎ ? এমন করছেন কেনো ? পানি খাবেন ?
বলতে বলতে উতলা হয়ে নিজের ব্যাগে হাত ঢোকায় রমনী । ওয়াটার বোতল বের করে । অর্ধেক পানি আছে বোতলে । বাকি অর্ধেক ও খেয়েছে । বোতলের মুখোয় মুখ লাগিয়েছিলো । মনে পড়তেই অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো….
মিনমিন করে বললো….
” আমি তো মুখ লাগিয়ে খেয়েছি !
আদ্র শুনলো । পরোয়া না করে এক নিমিষেই ওর হাত থেকে বোতলটা ঝটকা মেরে ছিনিয়ে নিলো । ছিপি খুলে নিজেও মুখ লাগিয়ে ঢকঢক করে খালি করলো পুরো বোতল । শেষ করে ফাঁকা বোতলটা কেমন আগ্রাসী হয়ে ছুড়ে মারলো পিচ ঢালা রাস্তার একধারে ।
শিশির তাজ্জব বনে । চাহনি বড় বড় করে বিস্মিত হয়ে তাকায় । ভেজা চোখের পাপড়ি । গাল বেয়ে পানি গড়ানোর ছাপ স্পষ্ট । আদ্র উদ্বিগ্ন হয়েই নিবিড় ভাবে দৃষ্টি রাখে রমনীর ভেজা শীতল মুখ পানে । এই ঠান্ডাতেও যুবকের কপালের ধারে ঘাম জমেছে । রাগ দেখিয়ে আঙ্গুল তুলে শাশ্বিয়ে বললো সে….
” এই শোনো ,, এই বিয়ে করবে না তুমি ! কিছুতেই করবে না । আমি হতে দেবো না এই বিয়ে । আমার কাছে তোমার সুখ সবার আগে । যেখানে সুখ নেই সেখানে ঠাই হবে না তোমার । এই বিয়ে তো হবে না । কিছুতেই হবে না….
শিশির এবারে সম্বিতে ফেরে । খানিক আগে প্রকাশ করা দূর্বলতা টুকু ঘুচিয়ে ফেলে তৎক্ষণাৎ ।
মুখ কুঁচকে সুক্ষ্ম করে । বলে….
” কি বলছেন আপনি ? আপনি আমার বিয়ে হতে না দেওয়ার কে ?
আদ্র চোয়াল খিচলো । হাতে হেলমেট তুলে নিয়ে মাথায় পড়ে নিলো । গ্লাস নামিয়ে মুখশ্রী আড়াল করে হিসহিসিয়ে বললো….
” আমি যে কে , সেটা পরে বুঝতে পারবে । বেয়াদব,, সুখ চাও না তুমি ? যা চাওনা , সেটাই তোমার হবে । যা হবে , তা সামলানোর জন্য প্রস্তুত হও এবার । বেয়াদব…
বলেই বাইকে উঠলো । কথা গুলো পরিষ্কার শুনতে পেলো না শিশির । আদ্র বাইকে উঠে গজগজ করে বলে…..
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৩
” ওঠো এখন । শশুর বাড়ি না হোক , বাপের বাড়িতেই পৌঁছে দেই । সময় হলে শশুর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব টাও আমার । ওঠো বেয়াদব….
শিশির মুখ ভেংচায় । চোখ মুখ ভালো ভাবে মুছে নেয় । ফাঁক রেখে দ্বিরুক্তি হীন উঠে বসে দ্বিতীয় বার ।
