তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪৬
তানিশা সুলতানা
বিয়ে বাড়ির চেঁচামেচিতে অতিষ্ঠ আদ্রিতা। মাথা ব্যথা করছে।
ওর কক্ষটা দখল করে বসে আছে এক দল আত্মীয়। যাদের একদমই পছন্দ না আদ্রিতার। সারাক্ষণ বড় মাকে কথা শোনাতে থাকে। সেই জন্য কক্ষে গিয়েও বসে থাকতে পারছে না। নিজের ভারি জামা কাপড় খুলে, হাত মুখ ধুয়ে একটু শুতে পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু তারও উপায় নেই।
এই তো কিছু মুহূর্ত আগে
বরযাত্রী তখনো আসেনি
আতিয়া বেগম এক টুকরো শসা সবেই মুখে পুড়তে যাচ্ছিলেন। তখনই আব্দুর রহমানের চাচাতো ভাইয়ের বউ বলে ওঠে
“ভাবি আপনার ছেলে আসলো না যে?
আতিয়া বেগম মুখ গোমড়া করে জবাব দেয়
“ফ্লাইটের টিকিট পায়নি
ডাহা মিথ্যা কথা। কিন্তু এটা না বলে আর উপায় কি?
মানুষের হাসি তামাশা ভালো লাগেনা।
মহিলাটি কুটিল হেসে বলল
“আপনার ছেলের আবার টিকিট লাগে নাকি?
সে চাইলে তো সবই করতে পারে। বলুন যে আসতে চায় না।
ছেলে মেয়ে বড় হয়ে গেলে তাদের নামডাক হয়ে গেলে আর বাবা মাকে পাত্তা দেয় না। সেটা নিজের চোখে দেখলাম। আসলে আপনার ছেলের যে সুন্দর চেহারা
নায়করাও ফেল তার কাছে।
আপনি আর বড় ভাই তো তেমন সুন্দর না। ওই রাজপুত্রের সাথে আপনাদের মানায় না। কিভাবেই পরিচয় দেবে।
ওর ফ্যান ফলোয়াররা শুনলে তো হাসবে।
কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠলো আতিয়া বেগমের। সত্যিই তার ছেলে প্রচুর সুন্দর। নায়করা তো লাইটিং ক্যামেরা মেকআপ এসবের জন্য সুন্দর।
কিন্তু তার আবরার জন্মগত সুন্দর। তার দিকে তাকালে দৃষ্টি ফেরানো দায়। যেদিন আবরারের জন্ম হলো মনে হচ্ছিলো এক টুকরো চাঁদ পৃথিবীতে নেমে এসেছে।
চোখের কোণে অশ্রু কণা জমে গেলো। অতি দ্রুত হাতের উল্টো পিঠে সেটা মুছে নেয়া আতিয়া। চিবোনো শসার গিলতে পারলো না।
কথার জবাবে কিছু বলার ভাষা খুজে পেলো না।
ওই মহিলাটি আবার বলল
“কোন এক বিদেশীর ঘরে জন্ম হলে মানাতো।
বা কোনো সুন্দর মায়ের গর্ভে। তাহলে দেখতেন বাবা মাকে গোটা পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতো।
আদ্রিতা সব কথা শুনতে পেলো। মুহূর্তের মধ্যে সে এগিয়ে এসে জবাব দেয়
” তুমি কি জানো তোমার কোনো সন্তান নেই কেনো?
তুমি আসলে কোনো সন্তান ডিজার্ভই করো না। মায়ের সৌন্দর্য তার চেহারায় নয়৷ তার সন্তানে।
আবরার তাসনিন এতো সুন্দর কারণ তার মা-বাবা সুন্দর।
মহিলাটি মুখ বাঁকিয়ে বলল
“তাহলে আবরার তার মা বাবার পরিচয় দেয় না কেনো? তাদের সঙ্গে কথা বলে না কেনো? কোনো প্রোগ্রামের সে বাবার নামটা উচ্চারণ করে না কেনো? গুগলে সার্চ করলে তার বাবা মায়ের নাম আসে না কেনো?
এ প্রশ্নের উত্তর জানা নেই আদ্রিতা। এই একটা জায়গায় এসে থেমে যায়।। দৌড়ে বেড়িয়ে যায় কক্ষ থেকে। আতিয়া বেগমের সাথে সাথে আদ্রিতার চোখের কোনেও অশ্রু কণা জমে ওঠে।
বিয়ের কার্যক্রম শেষ। এবার বিদায়ের পালা। অহনা নিজের বাবার ঘর থেকে বিদায় নিয়ে স্বামীর ঘরে চলে যাবে।
কান্নাকাটি মন খারাপ এসব পছন্দ নয় আদ্রিতা।
সেজন্য সে বাগানে চলে আসলো। এই দিকটা একদম ফাঁকা এবং স্তব্ধ। এখানে মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে।
লাইটিং করা হয়েছে বলে সবটা স্পষ্ট। আদ্রিতা কিছু মুহূর্ত এদিক ওদিক পাইচারি করলো। তারপর নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে একটু ফেসবুকে ঢুকলো। ইনস্টাগ্রামে খুব বেশি একটিভ নয় সে। তবুও ইন্সটল করে রেখেছে। ইনস্টাগ্রাম থেকে নোটিফিকেশন আসলো। আবরার তাসনিন স্টোরি দিয়েছে।
facebook whatsapp সব জায়গা থেকে মানুষটাকে ব্লক করে দিয়েছে। গ্যালারিতে যতগুলো পিকচার সেভ করা ছিলো সব ডিলেট দিয়েছে। কিন্তু ইনস্টাগ্রামে দেওয়া স্টোরিটা দেখার জন্য মনটা আঁকুপাকু করছে। ফেক নাম দিয়ে অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করা।
একটুখানি স্টোরি সীন করলে সে জানতেও পারবে না। এটা ভেবে সে instagram এ ঢুকলো। এবং আবরার তাসনিনের স্টোরি দেখে। ২৩ সেকেন্ড এর ছোট্ট একটা ভিডিও। কালো টিশার্ট এবং এ্যাশ কালার টাউজার, কানে হেডফোন কানে গুঁজে দৌড়াচ্ছে। জগিং বলা চলে।
পরপর পাঁচবার ভিডিওটা দেখলো। তারপর আইডি থেকে বের হতেই একটা চাইচিজ বা কোরিয়ান মেয়ের ভিডিও সামনে আসলো। দেখতে একদম নিখুঁত সুন্দরী। ধবধবে ফর্সা ব্রাউন কালার চুল কালো রঙের জামা পড়েছে।
কিছু চুল কপাল সমান করে কাটা। হেসে হেসে চাইনিজ ভাষায় কিছু একটা বলছে সাংবাদিকদের। কিছুই বুঝলো না আদ্রিতা
শুধু আবরার তাসনিন নামটা বুঝতে পারলো।
মানে সে আবরারকে নিয়ে কিছু একটা বলছে।
কিন্তু কেনো?
কি সম্পর্ক তাদের মধ্যে?
এক ঘন্টা আগে ভিডিওটা আপলোড করা হয়েছে। এবং এখনই টু মিলিয়ন প্লাস রিয়েক্ট পড়ে গেছে। ওয়ান মিলিয়ন কমেন্ট।
যদিও ওদের ভাষা কিংবা লেখা কোনটাই বুঝবে না আদ্রিতা। তবুও কমেন্টে ঢুকলো।
সবাই কনগ্রাচুলেশন্স বলছে। কেউ কেউ বিশাল বড় আর্টিকেল লিখেছে।
মেয়েটার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। চাইনিজ ওই মেয়েটা অসম্ভব সুন্দরী। এই যে হেসে হেসে কথা বলছে, মনে হচ্ছে তার হাসিতে মুক্ত ঝরছে। ওই মুহূর্তে গুগলে সার্চ করলো ইয়াং ইউ নামটা।
গুগলের সব তথ্যই পাওয়া গেলো।
ইয়াং ইউ চায়নার নামকরা বিজনেস ম্যান গ্রিলব এর বড় কন্যা। বয়স ২৬।
৩ বার মিস ওয়ার্ল্ড বিজয়ী হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর মুখ।
এসব তথ্য ভালো লাগলো না আদ্রিতার। কান্না পেয়ে গেলো। বুকের ভেতরটা টিপটিপ করছে। কিছু একটা খারাপ হতে চলেছে।
এসব নিয়ে আরও কিছু ভাবার আগেই হঠাৎ করে আদ্রিতার চোখ পড়লো পুরনো গোডাউনের দিকে।
৫ ৬ জন কালো পোষাকধারী লোক দাঁড়িয়ে আছে।
ফোন থেকে মনোযোগ সরিয়ে সেদিকে পা বাড়ালো আদ্রিতা।
ওনাদের সামনাসামনি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলো
“আপনারা কারা?
আর এখানে কি করছেন?
লোকগুলো জবাব দিল না। বরং মাথা নিচু করে ফেললো।
গোডাউনের ভেতর থেকে উমমম উমমম আওয়াজ আসতে থাকলো।
চতুর মেয়েটা ফট করেই বুঝে ফেললো কিছু একটা চলছে ভিতরে।
সে সাহস করে গার্ডাদের এড়িয়ে দরজা খুলতে এগোলো।
একজন বলে উঠলো
“ম্যাম আপনি প্লিজ চলে যান।
রেগে গেল আদ্রিতা
“আপনারা কাকে আটকে রেখেছেন সেটা না দেখে আমি এখান থেকে যাবো?
চিনেন আমায়?
বলতে বলতেই দরজা খুলে ফেলল। আসিফ আদনান কে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে অবাক হলো। এবং সাথে সাথে হাত পা মুখের বাঁধন খুলে দিলো।
ছাড়া পেতেই আসিফ হাঁপাতে থাকে। লোকগুলো কোনো কথা না বলেই চলে গেলো। আদ্রিতা তাদের বাধা দিতে চায়
কিন্তু আসিফ বলে ওঠে
“ওরে যেতে দাও।
“আপনি এখানে কেনো?
আর ওরাই বা আপনাকে আটকে রেখেছে কেনো?
আসিফ প্রসঙ্গ পাল্টে বলে
“বিয়ে শেষ?
চলে গেছে সবাই?
“না যায়নি।
চলুন আপনাকে খোঁজাখুঁজি করছিলো।
আসিফ মুচকি হেসে দাঁড়ালো। তারপর কোনো কিছুর পরোয়া না করেই আদ্রিতার হাত ধরলো।
সাথে সাথেই হাত ছাড়িয়ে নিলো মেয়েটা।
বড় বড় পা ফেলে আগে আগে হাঁটতে শুরু করলো। হাতের যে স্থানে আসিফ স্পর্শ করেছিলো ওড়না দিয়ে সেই স্থানটা মুছতে থাকে।
আসিফ দেখলো। তবে কিছু বলল না।
সুইজারল্যান্ড এ ঠান্ডা বেড়েছে। আবহাওয়া ভীষণই খারাপ। কাল থেকে প্লেন চলাচল শুরু হবে। আজকের দিন টা ফ্রি।
এই শীতের মধ্যে নিজেরা নিজেরা রান্না করবে বলে প্রস্তুতি নিয়েছে পাঁচ বন্ধু।
যদিও এসবে আবরারের ইন্টারেস্ট নেই তবু ওদের বারণ করলো না।
কালো রঙের হুডি পড়ে কিচেনে ঢুকলো। আবরারের দেখাদেখি বাকিরাও কালো রঙের হুডি পড়েছে। ইভান চারজনকে এক সাথে দাঁড়িয়ে করিয়ে একটা সেলফি তুললো। এবং তখুনি ইনস্টাগ্রামে আপলোড করে ফেললো।
সিয়াম সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যাশ পটেটো এবং বিফ স্টেক বানাবে।
সেই সঙ্গে নুডলস, মোমোস আরো কিছু বানানো হবে।
আবরার গভীর মনোযোগে কাঁটা চামচ দিয়ে সিদ্ধ আলুর মধ্যে একটুখানি চিজ সল্ট এবং বাটার দিয়ে ভালো ভাবে মাখিয়ে নেয়। তারপর মাংসের টুকরোতে মসলা মাখাতে থাকে।
সিয়াম চেক করে দেখে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা।
আমান নুডলস সিদ্ধ বসিয়েছে। ইভান পেঁয়াজ লঙ্কা টমেটো এসব কাটছে।
আহাদ সাউন্ড বক্সে গান চালিয়ে থালা-বাসন ধুচ্ছে।
সিয়ামও বসে নেই।
তার হাতে এক টুকরো কাপড়। কিচেনের যে জায়গায় ময়লা পড়ছে তখনই সে সেটা মুছে ফেলছে।
এরই মাঝে সিয়ামের ফোনটা বেজে ওঠে। আমাদের পাশেই ছিলো মোবাইল এবং বাংলাদেশী নাম্বার দেখে সাথে সাথে কলটা রিসিভ করে লাউড স্পিকারে দিলো।
ওপাশ থেকে মিষ্টি একটা মেয়েলি কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো
“আপনি কি সিয়াম বলছেন?
রান্নাবান্না কাজকর্ম সব বাদ দিয়ে সবাই আমানের পেছনে এসে দাঁড়ালো আবরার বাদে।
সিয়াম নিজেও বেশ কৌতুহলে আছে। তাকে কোনো মেয়ে কল করেছে?
এটা কি আসলেই বিশ্বাসযোগ্য নাকি কাকতালীয়?
আমার একটুখানি কেশে জবাব দিলো
“আমি আমান বলছি সিয়ামের বন্ধু।
আপনি কে?
“আমার নাম ইশারা। সিয়াম বোধহয় আমায় চেনে। একই বাসে কক্সবাজার গিয়েছিলাম।
এবার সিয়ামের মনে পড়লো। সে বলে উঠল
“দেখুন মিস
প্রেমে পড়ে থাকলে ভুলে যান।
আমি প্রেম করতে চাই না। মেয়ে মানুষ জনমের খারাপ।
আমার বন্ধু আবরার একবার বলেছিলো
” মেয়ে তুমি ছলনাময়ী
জীবন ধ্বংসের কারণ
লাগলে মদ গাঁজা খাও
তবুও প্রেমে পড়া বারণ
আবরার ভ্রু কুচকে তাকালো সিয়ামের মুখ পানে। ইভান মাথায় থাপ্পড় মেরে বললো
“ওই শালা এমন আওলাঝাওলা কবিতা আবরার কবে বললো?
এটা তুইই বললি।
আমান বলে
“ইশারা
তুমি কি সত্যিই এই বলদ মার্কা ছেলেটার প্রেমে পড়ে গেছো?
তুমি জানো না
ওর কোষ্ঠকাঠিন্য আছে। একবার ওয়াশরুমে ঢুকলে তিন ঘণ্টার মধ্যে আর বের হয় না।
আর কত রাতে ঘুমের মধ্যে বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। এমন আর্টিস্টিকের প্রেমে তুমি কিভাবে পড়তে পারো?
ইশারা কল কেটে দেয়। সিয়াম খুশি হয়েছে। ঠিকই আছে। মেয়ে মানুষ জব্বর খারাপ।
তারপর আবার সবাই রান্নায় মনোযোগী হয়।
রান্না শেষ হতেই সকলে ডিসিশন নিয়েছে ছাদে বসে খাবে। সেই মোতাবেক সকল খাবার ছাদে নেওয়া হয়।
সবাই সুইমিংপুলে পা ডুবিয়ে বসে খাবার খেতে থাকে।
সিয়ামের বরাবরের অভ্যাস
খেতে খেতে ফোন ঘাটবে। আজকেও তার ব্যতিক্রম নয়। ফোনটা ওপেন করে ইনস্টাগ্রামে ঢুকতেই তার নজরে আসে ইয়ং ইউয়ের ভিডিও।
স্টেক মুখে পুরে ভ্রু কুঁচকে প্রথমে নিজে দুইবার ভিডিওটা দেখে। তারপর ফোনটা এগিয়ে দেয় আবরারের দিকে।
বলে
“আব্বো
এই শালী তো দেখছি কাহিনী ঘটায় দিছে। পাবলিক প্লেসে এনাউন্স করে দিয়েছে যে সে আবরারের সঙ্গে রিলেশনশিপে গিয়েছে।
ভেরি সুন তারা বিয়ে করবে।
বাই এনি চান্স
এই ভিডিও আদ্রিতা দেখতে পেলে কি হবে?
ইভান হেসে বলে
“আরেহ
আম্মো তো চাইনিজ ভাষা কিংবা ইংরেজি কোনটাই বোঝেনা। নো টেনশন।
আমান বলে
“কিন্তু চাইনিজ মেয়েটা চাচ্ছে টা কি?
আহাদ বলে
“আমি যদি ভুল না করে থাকি
তাহলে ইয়ং ইউ এখন সুইজারল্যান্ড এ। পাবলিক কে তাদের রিলেশনশিপের কথাটা বিশ্বাস করাতে এক্ষুনি ছুটে আসবে এখানে।
আবরার সিয়ামকে তার ফোন ফিরিয়ে দিয়েছে। এবং আপাতত সুইমিং পুলে নীল পানির দিকে দৃষ্টি রেখে মনোযোগ দিয়ে খাচ্ছে। যেনো এরকমটা হবে সে আগেই জানতো।
সিয়াম আবরারের মাথা থেকে হুডির টুপি ফেলে দিলো।
তারপর বড় বড় চুল গুলো এলোমেলো করে দিয়ে বললো
“কিরে
কথা বলছিস না কেনো?
” কি বলবো?
“ইয়ং ইউকে কি করবি?
“ও যেটা চাচ্ছে সেটাই করব
ইভান বলে
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪৫
” ও কি চাচ্ছে?
“আমার সাথে ইন্টিমেন্ট হতে।
কেশে উঠলো ওরা। সিয়াম বলে
” ভাই তুই ঠিক আছিস?
আবরার প্লেট নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। যেতে যেতে বললো
“আছি
বাট ওই মেয়ে ঠিক থাকবে না।
