তোমার আমার গল্প পর্ব ৩
noorayn
“শুন আমার কাছে একটা প্লেন আছে।” (আরহাম)
“কি প্ল্যান?” (আলিশা)
“আজকে যখন মিটিং বসানো হবে তখন আমরা বলে দিবো ভুল হয়েছে আর তুই কান্না কাটি শুরু করে দিবি আর তোর কান্না দেখে বাবা গলে যাবে। এরমধ্যে আমিও বলে দিবো এটা ভুলে হয়েছে এবং আমরা পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে বেবিটা রাখতে চাচ্ছিনা, আমরা তাদের জন্যই এই সেক্রিফাইসটা করতে রাজি আছি; যেহেতু বিয়ের কথা এখনো কেউ জানেনা।”
“এটা একটু বেশি ড্রামাটিক হয়ে গেলোনা? মা তো আমায় আবার মারবে।” বলেই আলিশা গালে হাত ঠেকিয়ে রাখলো।
“চুপ কর। একটু মার খেলে খাবি তবে এত অল্প বয়সে বাচ্চার ডাইপার চেঞ্জ করার চেয়ে তো ভালো আছে।”
“আমার কেমন যেন লাগছে। ঠিক করছি তো আমরা?”
“বেশি ভাবিস না, কান্নার নাটক ঠিকমতো করলে তোকে নিয়ে সাজেক ঘুরতে যাবো, পাহাড়ে ঘুরবো।”
–ঘুরতে নিয়ে যাবে শুনে আলিশার চোখ চকচক করে উঠলো –
“সত্যি বলছো? পরে আবার আমায় ফেলে যাবেনা তো?”
“বলেছি তো নিয়ে যাবো।”
সন্ধ্যা ৭ টা….
–কিছুক্ষন আগেই বাড়ির কর্তারা ফিরেছেন; এরমধ্যেই শাইনা বেগম সবাইকে জরুরি তলবে লিভিং রুমে ডেকেছেন।
দাদিও আছেন তবে অবাক করা বিষয় হলো উনি এখনো এই ব্যাপারে কিছুই বলেন নি।
ইজাজ সাহেব জিজ্ঞেস করলেন – “কি হয়েছে? হঠাৎ এভাবে ডাকার কারন?”
নিয়াজ সাহেব আয়শার দিকে তাকিয়ে বললেন – “আজ এতো চুপচাপ? মেয়ে কোথায়?”
মেয়ের প্রসঙ্গে কথা শুনেই আয়শা রেগে গিয়ে বললেন – “ওই বেয়াদব মেয়ের জন্যই তো আজ এভাবে সবাইকে নিয়ে বসতে হচ্ছে।”
নিয়াজ সাহেব অবাক হয়ে শুধালেন – “কি হয়েছে? কি করেছে আমার মেয়ে?”
আয়শা কিছু বলার আগেই শাইনা বেগম বলে উঠলেন – “আগে আরহাম-আলিশাকে আসতে দাও তারপর নাহয় যা বলার বলবে। এই বলে তিনি নিলুকে (বাড়ির মেইড) আদেশ দিলেন ওদের দুজনকে ডাকার জন্য।
–কিছুক্ষণ পর আরহাম – আলিশা এসেছে তবে দুজনের মুখ নিচু করে রাখা যেন চুরি করে ধরা পড়েছে।
ওদের আসতে দেখে, ইজাজ সাহেব বললেন – এবার যা বলার বলে ফেলো তোমরা, আমাদের টেনশন হচ্ছে।
শাইনা বেগম কিছুটা থেমে থেমে বললেন আসলে ওই..মানে…আপনি দাদা হবেন।
লিভিং রুমে যেন শাইনার এই কথায় বিষ্ফোরন ঘটলো। ইজাজ সাহেবের লেগেছে তিনি ভুল শুনেছেন তাই আবার জিজ্ঞেস করলেন – “কি বললে? আবার বলো আমি বোধহয় ভুল শুনেছি।”
“ভুল শুনেন নি। যা শুনেছেন তাই সত্যি।”
“আবার বলো কি বললে?”
“হ্যাঁ ভাবি, আবার বলেন আমিও বোধহয় ভুল শুনেছি।” (নিয়াজ)
শাইনা আবার বেশ ইস্তগেত করে বললো –
“আপনি দাদা হতে চলেছেন।”
–ইজাজ এবং নিয়াজ সাহেব যেন নিজেদের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা। দুজনেই দাঁড়িয়ে গেলেন। এরমধ্যেই আয়শা রেগে মেগে বললেন – “এই মেয়েকে অনেক করে বলেছিলাম আমি, এখন যেমন আছো তেমন থেকো ঠিক আগের মতো। বিয়ের ব্যাপারটা মাথায় এনোনা। এখন যা হলো তা শুনলে মানুষ কি বলবে? বিয়ের ব্যাপার টাই তো এখনো কেউ জানেনা আর ওর বয়স কত? যদি ওর কিছু হয়ে যায় তখন আমি কি করবো? আমার কত সাধনার ফল সে। এটা কি জানে ও? নিজের জানের উপর রিস্ক নিয়ে জন্ম দিয়েছি এখন এই মেয়ের কিছু হলে আমি কিভাবে বাঁচবো?” বলেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন আয়শা।
–বাকিরা সবাই থমকে গেছে এবং কি আরহাম-আলিশা ও, তারা তো আর এত কিছু ভাবেনি।
ইজাজ সাহেব বললেন – যা হওয়ার হয়ে গেছে এখন কান্নাকাটি করে লাভ নেই আয়শা। নিজেকে সামলাও আর আলিশাকে দোষ দিবেনা একা, এখানে সমান দোষী আরহামও।
শাইনা বেগম সায় জানালেন স্বামীর কথায় আর আয়শাকে বললেন – “তুমি নিজেকে সামলাও ছোট। আমরা সবাই আছি তো। কিছু হবেনা।” (সম্পর্কে জা হলেও একে অপর কে বোনের মতো স্নেহ করেন তারা)
–নিয়াজ সাহেব বসে পড়লেন সোফায় – বলার মতো বাক্য তিনি খুজে পাচ্ছেন না।
সবকিছুর মাঝে হঠাৎ আরহাম বলে উঠলো – “আমাদের কিছু কথা বলার আছে।” শুনেই সবাই ওদের দিকে তাকালো।
–আরহাম কনুই দিয়ে আলিশাকে গুতা মারতেই আলিশা কেঁদে উঠলো আর ন্যাকা স্বরে শুধালো – “আমরা বুঝিনি যা হয়েছে ভুল হয়েছে।” তারপর আরহামও বললো – “তবে আমরা আমাদের এই ভুলটা শুধরাতে চাই।”
“কিভাবে?” (শাইনা)
“যেহেতু বিয়ের কথা এখনো কেউ জানেনা তাই আমরা ভেবেছি বাচ্চাটা আমরা রাখবোনা আর কালকেই এবোরশে….” কথাটি শেষ করার আগেই আরহামের গালে থাপ্পর পড়লো দাদির।
মেহরোজা আক্তার বললেন – “এই কথাটা যেন আরেকবার উচ্চারন না হয়। নয়তো আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবেনা। তোমরা সবাই এমন হতাশ হচ্ছো কেন এত খুশির সংবাদে? খান বাড়ির উত্তরাধিকারি আসতে চলেছে পুরা শহরে মিষ্টি বিলাও।”
“আম্মা আপনি আমার মেয়ের কথাটা একবারও ভাবলেন না? বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে যদি ওর কিছু হয়ে যায়? ও এখনো অনেক ছোট।”
“চুপ করো ছোট বউমা, আগের যুগে এই বয়সে ৩/৪ জন বাচ্চার মা থাকতো মেয়েরা।”
“আগের আর এখনকার দিন কি এক?”
“আমি এই বিষয়ে আর কথা শুনতে চাইনা।”
“কিন্তু দাদি…” (আরহাম)
“চুপপপ। আজকে থেকে আলিশার খেয়াল রাখবে আর বাচ্চাটার যদি কিছু হয় তবে আমার মরা মুখ দেখবে তোমরা।”
“দাদিইইই…” (আলিশা)
আয়শা রেগে চলে গেলেন নিজের রুমে।
স্ত্রীর চলে যাওয়ার পথে চেয়ে নিয়াজ সাহেব বললেন –
“কিন্তু মা এখনো বিয়ের ব্যাপারে কেউ জানেনা সেখানে বাচ্চা?”
“এই বিষয়ে পরে কথা হবে, এখন যে যার রুমে যাও।”
–এই কথা শুনেই আরহাম চলে গেলো রুমের দিকে। ওর পিছে পিছে গেল আলিশা।
আরহাম যেন বাচ্চার কথাটা মেনে নিতেই পারছেনা যার কারনে সব রাগ গিয়ে পড়লো আলিশার উপর।
“খুশি হয়েছিস এখন? সব নষ্ট করে ভালো লাগছে এখন? আমার ক্যারিয়ারের কি হবে ভাবতে পারছিস? এখনো কেউ জানেনা আমি বিবাহিত এরমধ্যে আবার বাচ্চা তাও কিনা এই বয়সে? মিডিয়া যদি একবার এই খবরটা জানে তাহলে আমার ক্যারিয়ারের উপর কতটা ইম্পেক্ট পড়বে ভাবতে পারছিস? আমার এতদিনের শ্রম সব বৃথা যাবে। কি করবো আমি?”
তোমার আমার গল্প পর্ব ২
–আলিশা অশ্রু ভেজা চোখে তাকিয়ে থাকলো আরহামের দিকে। আরহাম কেবল নিজেরটা ভাবছে – একবারও তার কথা ভাবছেনা যে আলিশারও একটা লাইফ আছে ও নিজেও একটা বাচ্চা আর ওর ফ্রেন্ড সার্কেল এসব জানলে ওর কি হবে? ওর পড়াশোনার কি হবে?
আলিশা কিছুই বললোনা, চুপচাপ চলে গেলো ব্যালকনিতে।
একটু পরেই যেন আরহামের হুশ ফিরলো যে ও ঠিক কি করলো আলিশার সাথে কিন্তু যাওয়ার আগেই আলিশার চিৎকার শুনতে পেলো আর গিয়ে যা দেখলো তাতেই সে…..
