Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ৭

তোমার আমার গল্প পর্ব ৭

তোমার আমার গল্প পর্ব ৭
noorayn

আরহাম বাড়ি পৌঁছে সবার আগে নিজের রুমে গিয়ে আলিশাকে খোজে – তবে কোথাও সে নেই। তারপর ভাবলো – নিশ্চয়ই সকালের বিষয় নিয়ে এখনো রেগে আছে তাই হয়তো নিজের রুমেই আছে। তাই সে আলিশার রুমে গেলো কিন্তু না সেখানেও আলিশা নেই দেখে এবার তার একটু খটকা লাগলো। তাই সে নিজের মায়ের রুমে গিয়ে দরজা নক করলো। আরহাম জানে, এই সময়ে বাড়ির সকলে দুপুরের ভাতঘুম দেয় তাই আলিশা এখন অন্য কারও রুমে থাকার কথা নয়। তবে আলিশা কোথায়? তা জানার জন্য সে নিজের মায়ের রুমের সামনে গিয়ে দাড়ালো।
কিছুক্ষণ পরেই শাইনা বেগম এসে দরজা খুললেন। আরহামকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে উনি বেশ অবাকই হলেন। কারন এই ছেলে আজকাল রাত ৯ টার আগে বাসায় ফিরেনা।
তিনি অবাক হয়ে আরহামকে জিজ্ঞেস করলেন –

“তুমি এই সময় বাড়িতে! কিছু লাগবে?”
“হ্যাঁ, আজ জলদি কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিলো তাই ভাবলাম চলে আসি।”
“ভালো কথা। তবে আজ এদিকে আসার খেয়াল কিভাবে হলো? আপনাকে তো ইনভাইটেশন ছাড়া মা-বাবার রুমে আনা যায়না।”
মায়ের কথায় আরহাম বেশ লজ্জা পেয়ে মুখ এদিক-ওদিক করতে করতে জিজ্ঞেস করলো –
“উমমম…মানে ওই আলিশা কোথায়?”
“আলিশাকে দিয়ে তোমার কাজ কি? সকালে কত কাঁদালে মেয়েটাকে, এমনকি মেরেছো ও। এই নিয়ে মেয়েটা সারাদিন কিছু মুখে তুলেনি।”
“মা, তখন তাড়া ছিলো। এরমধ্যেই আলিশার অযৌক্তিক আবদার শুনে মেজাজ বিগড়ে গিয়েছিলো।”
“তাই বলে মারবে?”
“আর হবেনা, এবার বলো লিশা কই? ওকে নিয়ে বাইরে যাবো।”
“পুতুল বাড়িতে নেই। তাই ওকে নিয়ে আর বের হতে হবেনা।”
আরহাম মায়ের জবাবে ভ্রু কুচকে ফেললো।
“বাড়িতে নেই মানে? কোথায় গিয়েছে এই অবস্থায়?”
“ঘুরতে গিয়েছে জানি, তবে কোথায় গিয়েছে তা বলে যায়নি। পুতুল ফিরলে তার কাছেই শুনে নিও।”
“মা! এই সময়ে ওকে একা ছাড়লে কেন? জানোনা, ও কতটা কেয়ারলেস?”
“ওমা, এই ছেলে বলে কি! তাই বুঝি তুমি অনেক দায়িত্ববান? নিজেতো একটা কাজও ঠিকমত করতে পারোনা। শুধুই পারো পুতুলের সাথে ঝগড়া করতে। আর আমরা ওকে একা ছাড়িনি। ও নোমানের সাথে গিয়েছে।”

–নোমানের সাথে একা বাইরে গিয়েছে শুনেই আরহামের রাগ যেন আকাশ ছুলো। নোমানের সাথে তার পরিবার কি ভেবে আলিশাকে একা ছাড়লো তা সে বুঝে উঠতে পারলোনা – যেখানে আরহাম একদমই পছন্দ করে না নোমানকে।
আরহাম তেতে উঠে শাইনাকে বললো –
“ওই নোমানের সাথে আমার লিশাকে একা কেন ছাড়বে তোমরা? আমাকে একবারও জিজ্ঞেস করেছিলে এই নিয়ে?”
“না ছেড়ে কি করবো? মেয়েটা সকাল থেকে মন খারাপ করে ছিলো। সারাদিন মুখেও কিছু তুলেনি। এই অবস্থায় না খেয়ে থাকলে বাচ্চার উপর সেটা কতটা প্রভাব ফেলবে তা জানো তুমি? তাই বিকেলে নোমানকে কল করেছিলাম। সে এসেই আলিশাকে নিয়ে বাহিরে গিয়েছে।”
–আরহাম আর একটি শব্দও ব্যায় করেনি বরং রেগেমেগে ধুপধাপ পা ফেলে প্রস্থান করলো সেখান থেকে।
সে অপেক্ষা করছিলো আলিশার বাড়িতে ফেরার। আজকে এই মেয়ের সব জেদ ছুটাবে সে। কত্ত বড় সাহস হলে ; আরহাম আজ বাইরে নেয়নি বলে ; তাকে না জানিয়ে সে নোমানের সাথে বাইরে যায়! আজকে এই মেয়ের একদিন কি তার একদিন।

নোমান হলো ইজাজ খানের ছোটবেলার বন্ধু জামাল আহমেদ এর ছেলে।
জামাল আহমেদ এর পরিবারের সাথে খান বাড়ির সম্পর্ক প্রায় এক যুগের ও বেশি। খান এবং আহমেদ পরিবারের মধ্যে বেশ আগের থেকেই অনেক ভালো সখ্যাতা রয়েছে। তারা এক পরিবারের মতোই একে অপরের বিপদে পাশে থাকে। তাই আরহাম-আলিশার বিয়ের ব্যাপারটা এখনো খানদের কোনো রিলেটিভ না জানলেও আহমেদ বাড়ির সবাই জানে। এবং তারাও এই বিষয়টি গোপন রাখতে সহযোগিতা করে।

–আরহাম এবং নোমান সমবয়সি হলেও তাদের মধ্যে কোনো বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক নেই – যার কারন আরহাম নিজেই।
শৈশব থেকেই আরহাম নিজে ব্যাতিত অন্য কোনো কাজিনদের সাথে আলিশাকে মিশতে দেয়নি। তার মনেহয় – সে একমাত্র আলিশাকে মারতে পারবে আবার আদরও করতে পারবে কিন্তু অন্যকেউ তা পারবেনা। আলিশাও যেন ছোট থেকেই আরহামের অবাধ্য। তাই সে মানা করার পরও সে নোমানের সাথে খেলতো। যার কারনে আরহাম একদিন রাগের বসে নোমামের গায়ে ইট ছুড়ে মারে এবং ঠিক তখন থেকেই যেন আরহাম আর নোমান এর শত্রুতা বিরাজমান। তবে আলিশার সাথে এখনো দেখা হলে কথা হয় নোমানের।
–আলিশার কাছে তার নোমান ভাই অনেক ভালো। এইযে, আরহামের মতো তাকে বকেনা, মারেনা বরং কেউ কিছু বললে তার হাত থেকে বাচাঁয়।
তাইতো সে তার নোমান ভাইয়ার বিগ ফ্যান।

রাত প্রায় ৮ টা বাজে…
–নোমান মাত্রই আলিশাকে খান ম্যানশনে ড্রপ করে দিয়ে গেছে।
আলিশা বাড়িতে ফিরেই সবার আগে নিজের কামরায় গেলো। আজ তার মন অনেক ফুরফুরে। নোমান ভাই আজকে তাকে অনেক ঘুরিয়েছে। আজ কতদিন পর আলিশা বাড়ি থেকে বের হয়েছে।
সব মিলিয়ে আজ সে ভীষণ খুশি। তাই আর আরহামের রুমে গেলোনা। কারন সে জানে ওই গন্ডার যদি বাসায় থাকে তবে আজ তার কপালে শনি বিরাজ করবে। কেননা, আলিশা আজ তার শত্রুর সাথে বের হয়েছিল। আর আলিশা এখনো আরহামের সাথে রেগে আছে। তাই সে এখন আরহামের কামরায় যায়নি। সে নিজের রুমে গিয়ে কিছুক্ষণ বেডে বসে থাকলো। সে ফ্রেশ হবে কিভাবে? তার সব কাপড় তো আরহামের রুমে। এই রুমে যা আছে তা এখন আলিশার ফিট হবেনা আর হলেও তা গায়ে লেগে থাকবে যার ফলে পেটটা উঁচু দেখাবে। তার মানে কি আলিশাকে মোটা লাগবে? না না। এটা দেখলে তো আরহাম তাকে আবারও গোল আলু বলে মজা নেবে। তাই সে অনেক ভেবেচিন্তে আরহামের রুমের দিকে পা বাড়ালো; আস্তে আস্তে দরজা খুলে আগে চারিপাশ নজর বুলালো। রুমের লাইট অফ তার মানে আরহাম ফিরেনি। এই ভেবে,আলিশা রুমে প্রবেশ করেই দেখতে পেলো – বেডের উপর আরহাম উল্টো হয়ে শুয়ে আছে। যা দেখে আলিশার মনে হলো ; এই গন্ডার নিশ্চিত ঘুমাচ্ছে; তাই আর কিছু না ভেবেই সে কাবার্ড খুলে নিজের কাপড় নিয়ে আবার আস্তে আস্তে চোরের মতো রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে সে একেবারে বেডে শুয়ে পড়লো। অনেক ক্লান্ত লাগছে তার।

আজ আর রাতে খাবেনা। বাইরে থেকে খেয়ে এসেছে। আজ মা এবং বড় মা ও খাবার নিয়ে তাকে বিরক্ত করবেনা কারন তারা আজ তাদের এক দূর সম্পর্কের ফুফুর বাড়ি গিয়েছেন – এটা তাকে বের হওয়ার আগে কল করে বলে দিয়েছেন আয়শা আর পইপই করে বলেছেন যাতে সে জলদি বাসায় ফিরে।
এসব ভাবতে ভাবতেই তার চোখে ঘুম এসে হানা দিলো। তবে সে যেই না চোখ বন্ধ করতে যাবে তখনই কেউ যেন তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। আলিশা প্রথমে ভয় পেলেও সময়ের সাথে বুঝেছে যে এটা আরহাম।
–আরহামের হাত আস্তে আস্তে তার কামিজ ভেদ করে জায়গা করে নিলো তার উদরে। হাতের স্পর্শ গভীর হতেই সে আরহামের হাত খামচে ধরলো।
কাঁপা কাঁপা স্বরে শুধালো –

“প্লিজ স্টপ…”
–কিন্তু না, আরহাম তো থামলোই না সে বরং সে আলিশার কাধ থেকে চুল সরিয়ে সেখানে মুখ ডোবালো। এতে আলিশা হালকা কেঁপে উঠলো।
যেই না আরহাম তার কামিজের চেইন খুলতে যাবে; ঠিক সেই মুহুর্তে আলিশা বলে উঠলো –
“আই এম প্রেগন্যান্ট আরহাম, প্লিজ স্টপ।”
–এটা শুনেই আরহামের হাত আপ্না-আপনি থেমে গেলো। তবে সে আলিশাকে ছেড়ে দিলোনা বরং আলিশার ঘাড়ে জোড়ে কামড় দিলো। কামড়ের জোড় এতই ধারালো ছিলো ; যাতে আলিশার ঘাড় থেকে রক্ত বের হতে শুরু করলো। আলিশা ‘আহ’ করে চিৎকার দিয়ে উঠে বসলো। অনেক বেশি ব্যাথা পেয়েছে সে। কাধে হাত রেখে দেখলো জায়গ টা থেকে রক্ত পড়ছে বের হচ্ছে। এটা দেখেই আলিশা কান্না শুরু করে দিলো।
আলিশার কান্নার আওয়াজে আরহাম হাত বাড়িয়ে সাইড ল্যাম্প অন করলো; মুহুর্তের মধ্যেই রুমটা আলোকিত হয়ে উঠলো। আরহাম তাকিয়ে দেখলো কান্নারত আলিশাকে তবে একটা টু শব্দও করেনি। সে চোখ লাল করে আলিশার দিকে চেয়ে থাকলো; যা দেখে আলিশার কান্নার হার আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেলো। মিনিট পাচেঁক পরও যখন আলিশার কান্না থামছেনা তখন আরহাম ডান হাত দিয়ে আলিশার গাল চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বললো –

“এই কান্না থামা..”
“আহ, ছাড়ো লাগছে আমার।”
“চুপ একদম চুপপপ…”
“ব্যাথা পাচ্ছি আমি, ছাড়ো। কি সমস্যা এমন কেন করছো? কি করেছি আমি?”
–আলিশার মুখে ‘কি করেছি’ শুনেই যেন আরহামের হাতের চাপ আরও বাড়লো।
আলিশা শেষে সইতে না পেরে বললো –
“বাবু কষ্ট পাচ্ছে আরহাম।”
–বাচ্চার কথা কানে ঠেকতেই আরহামের হাত আগের তুলনায় শিথিল হলো। তবে সে রাগে হিসহিসিয়ে বললো –
“এখন বাবু কষ্ট পাচ্ছে? আর সারাদিন যখন নোমানের সাথে ঘুরেছিস তখন বাবুর কষ্ট হয়নি? কেবল আমি ধরলেই কষ্ট লাগে?”

“নোমান ভাই আমাকে তোমার মতো মারেনা। তাই বাবু কষ্টও পায়না।”
“কোন সাহসে ওই নোমানের সাথে বের হয়েছিলি? জানিস না, ওকে পছন্দ করিনা আমি?”
“তাহলে কি করতাম আমি? ঘরে দম বন্ধ হয়ে আসছিলো আমার। তোমাকে কত করে বললাম সাথে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য তখন নিলেনা। এরপর আর কি করতাম আমি?”
“অপেক্ষা করিস নি কেন? আমি এসেই নিয়ে যেতাম তোকে বাইরে।”
“কেন করবো অপেক্ষা? সব কি তোমার ইচ্ছা মতো হবে? আমার ইচ্ছার কি কোনো দাম নেই? বাচ্চা কি আমার একার তাহলে সব কষ্ট আমায় একা করতে হচ্ছে কেন? আমি কেন একা ঘরবন্দী হয়ে থাকবো? যেখানে সমান দোষী তুমিও; কিন্তু না সব দায়িত্ব যেন আমার একার। তুমি তো ঠিকি সবাইকে নিয়ে ফূর্তি করে বেড়াচ্ছো।”

–এসব শুনে আরহাম বললো –
“তাই? সব কষ্ট তোর একার? আমি কিছুই করিনা? আমার সেক্রিফাইস গুলা কি তবে?”
“কোন সেক্রিফাইস করেছো তুমি?”
“সারাদিন পর বাসায় এসে রাতে ঘুমাতে গেলেই তোর বায়না শুরু হয়ে যায়। এটা লাগবে ওটা লাগবে।
রাতের ৩ টা বাজলেই তোর ক্ষিদা পায়; তখন উঠে আমার আবার রান্না করা লাগে। তোর হঠাৎ ভোর বেলা ছাদে গিয়ে গান শুনতে মন চায়; তখন নিজের সব কাজ, আরাম বাদ দিয়ে তোর ইচ্ছা পূরন করি আমি। আর আমার এসব কিছুই তোর কাছে ম্যাটার করেনা? বাহ লিশা বাহ।”

তোমার আমার গল্প পর্ব ৬

“আমি তা বলতে চাইনি।”
“তাহলে কি বলতে চেয়েছিস তুই? তোর সব কথায় আমি আজ অনেক হার্ট হয়েছি লিশা। আমার তো লাগছে এসব কিছু নোমান ঢুকিয়েছে তোর মাথায়…”
–কথা শেষ করেই আরহাম উঠে চলে গেলো নিজ কামরায়।আলিশাও উঠে পিছু নিলো তার। আজ এই গন্ডার ক্ষেপেছে।

তোমার আমার গল্প পর্ব ৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here