Home ইশকে দে ফানিয়ার ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩৯

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩৯

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩৯
মেহজাবিন নাদিয়া

আরিশান মৃধা নিজের রাগটা কোনোমতে চেপে চোয়াল শক্ত করে সারিমের দিকে তাকিয়ে বললেন,
_”বেয়াদপ ছেলে! বাবা হই আমি তোমার। অন্তত এবার ন্যূনতম ম্যানারস শেখো!”
সারিম বাবার কথায় দুই পকেটে হাত গুঁজে, মুখে একটা বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে অত্যন্ত নির্লিপ্ত গলায় জবাব দিল,
_”আমার ম্যানারস ঠিকই আছে ড্যাডি, সমস্যাটা তোমার। আগে নিজে ম্যানারস শেখো, এরপর আমার সাথে কথা বলতে এসো।”
ছেলের মুখে মুখে এমন অদ্ভুত যুক্তি আর পাল্টা আক্রমণ শুনে আরিশান মৃধার চোখ-মুখ ক্রোধে লাল হয়ে উঠল। তিনি এক পা এগিয়ে এসে কিছুটা চড়া গলায় বললেন,
_”বাবার সঙ্গে এভাবে কথা বলতে একটুও লজ্জা করে না তোমার?”
সারিম এবার দুই হাত ছড়িয়ে দিয়ে এমন এক ভাব করল যেন সে আকাশ থেকে পড়েছে। অত্যন্ত উদাসীন ভঙ্গিতে জবাব দিল,

_”লজ্জা? ওটা আবার কী? হুয়াই লজ্জা? প্লিজ এভয়েড দিস লজ্জা অ্যান্ড আস্ক মি!”
ছেলের এই উদ্ভট ইংরেজি আর বাংলা মেলানো কথায় আরিশান মৃধা চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেন। তিনি ভালো করেই জানেন, এই ছেলের সাথে যুক্তি দিয়ে কথা বলা মানে নিজের সময় নষ্ট করা। এর মুখের ভাষার কোনো লাগাম নেই, আর ওনাকে রাগানোর কোনো সুযোগ সে হাতছাড়া করে না। আরিশান মৃধা ওনার এই অতিষ্ঠ স্বভাবের ছেলের সাথে কথা আর বাড়াতে চাইলেন না। তিনি শুধু দাঁত চিবিয়ে একটা শব্দ উচ্চারণ করলেন,
_”বেয়াদপ!”
বলেই তিনি আর এক সেকেন্ডও সেখানে না দাঁড়িয়ে হনহন করে বাইরের দরজার দিকে চলে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সারিম তো সারিমই! সে ওনাকে এভাবে সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। আরিশান মৃধা কিছুটা দূরে যেতেই সারিম পেছন থেকে চিল্লিয়ে বলে উঠল,

_”তুমি তলে তলে বউ নিয়া টেম্পু চালাও, আর আমি বললেই হরতাল?”
ছেলের এই কথা শুনে আরিশান মৃধা দুই হাত দিয়ে নিজের কান চেপে ধরলেন। ওনার নিজেরই অবাক লাগল যে এই ছেলে ওনার নিজের রক্ত! তিনি আর পেছনের দিকে ফিরেও তাকালেন না, অত্যন্ত দ্রুত পায়ে হেঁটে মৃধা নিবাস থেকে বেরিয়ে গেলেন। ওনার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে সারিম ঠোঁট বেঁকিয়ে এক কুটিল হাসল।বাবার ভেতরের রাগটা সে খুব ভালো করেই উপভোগ করছে।
সারিম সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেল। তবে সে নিজের রুমে না গিয়ে সোজা তিনতলায় অরির রুমের দিকে অগ্রসর হলো। ওদিকে রুমে বসে জেবা আর অরি নিজেদের রেজাল্টের ব্যাপারে কথা বলছিল। সারিম যখন দরজার কাছে এসে দাঁড়াল, তখনই তার কানে পৌঁছাল অরির কণ্ঠস্বর।অরি জেবাকে বেশ গর্বের সাথে বলছিল,
_”কোশ্চেন ওই মৃধা আবরার সারিম যতই কঠিন করুক না কেন, ওনারও একটা জিনিস মানা উচিত ছিল যে, অরিয়া কখনো হারে না! ঠিকই এ+ পেয়ে দেখিয়ে দিয়েছি নিজের যোগ্যতায়।”
পাশ থেকে জেবা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু আফসোসের সুরে বলল,
_”ইস! আমিও যদি তোর মতো ভালো রেজাল্ট করে এ+ পেতাম! যাই হোক, মেডিকেলের জন্য তোকে অল দ্য বেস্ট। অন্তত তুই তো ডাক্তার হতে পারবি।”
অরি ভ্রু কুঁচকে অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল,

_”আমি ডাক্তার হব মানে? তুই কী করবি তাহলে?”
জেবা একটু লাজুক হাসল। আরিশান মৃধার কথা মনে পড়তেই ও লজ্জায় মুখ লুকাল ওড়না দিয়ে। অরি ওর মুখের এই অদ্ভুত পরিবর্তন দেখে সন্দেহী গলায় জিজ্ঞাসা করল,
_”কী হলো আবার তোর? এভাবে মুখ লুকাচ্ছিস কেন?”
জেবা লাজুক কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
_”ইয়ে মানে অরি… একটা কথা বলি দোস্ত তোকে, তুই আবার কাউকে বলিস না কিন্তু!”
অরি কৌতূহল সামলাতে না পেরে জলদি মাথা নাড়ল। জেবা আর চেপে রাখতে না পেরে বলেই ফেলল,
_”তুই খুব জলদি খালামণি হবি! মানে তোর একটা ভাই বা বোন আসবে। মানে আমার দিক থেকে দেবর বা ননদ যেটাই হোক… ওফ! সম্পর্কের কী জটিলতা!”
জেবার কথা শুনে অরি যেন শক খেয়ে খাট থেকে পড়ে যাওয়ার দশা হলো! তবে ওর চেয়েও বেশি অবাক আর স্তব্ধ হলো দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সারিম। এটা কেমনে সম্ভব? বিয়ের একমাস পার হতে না হতেই তার বাবা… ছিহ ছিহ! সারিম এত করে মানা করার পরেও বুড়ো বাপটা শেষমেশ তার সম্পত্তির নতুন ভাগীদার নিয়েই আসলো? আহারে, সারিম বেচারার এখন আর একা সব সম্পত্তি আত্মসাৎ করা হলো না!অরির হা হয়ে যাওয়া অবস্থা দেখে জেবা একটু আশ্বাস দিয়ে বলল,

_”আরে তুই যেমনটা ভাবছিস তেমন কিছুই না।”
অরি চোখ বড় বড় করে বলল,
_”তাহলে কী?”
জেবা মুচকি হেসে বলল,
_”আসলে আরিশান আঙ্কেল আমাকে সেদিন হসপিটালে নিয়ে গিয়ে ফুল বডির প্রেগন্যান্সি চেকআপ করিয়েছেন। উনি খুব জলদি বেবি নিতে চাচ্ছেন।”
জেবার কথায় অরি ভীষণ লজ্জা পেল। আরিশান মৃধা যে এই কয়দিনে জেবাকে নিয়ে এত কিছু ভেবে ফেলেছেন, তা ওর স্বপ্নেরও বাইরে ছিল। অরি কৌতূহল নিয়ে আবার জিজ্ঞাসা করল,
_”আচ্ছা তা না হয় বুঝলাম, কিন্তু এর জন্য তোর মেডিকেলে পড়ার সাথে কী সম্পর্ক?”
জেবা ঠোঁট উল্টে বলল,
_”আরিশান আঙ্কেল চান না আমি এখন মেডিকেলে পড়ি। উনি চান আমি যেন ওনার সাথে মন দিয়ে সংসার করি।”

অরি যেন এবার আকাশ থেকে পড়ল! আরিশান মৃধা এসব কথা বলেছেন? এটা বিশ্বাস করতে ওর খুব কষ্ট হলো। এতদিন তো দেখত ওর বাবা পড়াশোনা নিয়ে কতটা স্ট্রিক্ট ছিলেন, আর এখন নিজেই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন জেবার ডাক্তার হওয়া নিয়ে! অরি এবার মনে মনে কনফার্ম হলো-জগতের সকল বেডাই বউরে অন্য নজরে দেখে। তারা বাইরে এক রকম, আর ঘরের বউয়ের কাছে অন্য রকম!অরি এবার আরও একটু চেপে বসে কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করল,
_”আচ্ছা জেবা, একটা কথা জিজ্ঞাসা করি? আমরা তো ফ্রেন্ড, সত্যি করে বলবি?”
জেবা বলল,
_”বল কী বলবি? তোকে সত্যি বলব না তো কাকে বলব!”
অরি এদিক-ওদিক তাকিয়ে গলা নামিয়ে জিজ্ঞাসা করল,
_”আচ্ছা… বাবা তোর সাথে কেমন? আই মিন, উনি কি খুব বেশি রোমান্টিক? একটু বল না, আমার ভীষণ কৌতূহল হচ্ছে এটা জানার জন্য!”
জেবা তো জেবা! সে অরিকে একটু জ্বালানোর একটা মোক্ষম সুযোগ পেয়ে গেল। এমনিতেও অরি ওর চেয়ে ভালো রেজাল্ট করেছে, তার ওপর আরিশান মৃধা অরিকে নিয়ে না জানি আরও কত প্রশংসা করবেন!আর জেবাকে ধমকে বলবেন অরির থেকে কিছু শিখো। তাই জেবা বানিয়ে বানিয়ে বাড়িয়ে বলতে লাগল,

_”দোস্ত, তোকে যে কীভাবে বলি…”
জেবার মুখের অভিব্যক্তি দেখে অরির নিজেরই ঘাম ছুটে গেল। জেবা একটু আমতা আমতা করার ভান করে বলল,
_”তোর বাবা একটু বেশিই করেন! ওনার জন্য আমি একদণ্ড শান্তিতে থাকতে পারি না। যেখানেই ওনার সঙ্গে বের হই, ওনার নাকি সেখানেই মুড চলে আসে! এটা আমার পক্ষে সামলানো আসলেই খুব কষ্টকর।”
জেবা কথা শেষ করে পাশ ফিরতেই দেখতে পেল অরি একদম চুপচাপ বসে আছে। ওর মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই, খালি একমনে ঠোঁট নাড়িয়ে কী যেন বিড়বিড় করে চলেছে। জেবা ওকে একটু কনুই দিয়ে গুঁতো মেরে জিজ্ঞাসা করল,
_”কী হলো দোস্ত তোর?”
অরি একদম রোবটের মতো উত্তর দিল,
_”বাদামনি, আমি একটু ঘুমাব।”
_”হঠাৎ করে তোর আবার ঘুম কেন পেল?
অরি বলল,
_”সত্যিই দোস্ত আমার ভিষশন ঘুম পাচ্ছে।
_”ওহ আচ্ছা, তাহলে ঘুমা। আমি আসছি।”

বলেই জেবা রুম থেকে বেরিয়ে এল। জেবাকে বের হতে দেখে সারিম চট করে দরজার পাশের দেয়ালের আড়ালে লুকিয়ে গেল। জেবা সিঁড়ি দিয়ে নেমে যেতেই সারিম দ্রুত পায়ে অরির রুমে ঢুকে পড়ল।রুমের ভেতর অরি তখনো পাথরের মতো নিশ্চুপ বসে ছিল। সারিম বুঝতে পারল অরি এখনো জেবার দেওয়া তথ্যের শকে আছে। সে অরিকে একটু বাস্তব দুনিয়ায় ফেরানোর জন্য ওর কাঁধে সজোরে একটা ধাক্কা দিল।অরি আচমকা ভয় পেয়ে “মাগো!” বলে চিৎকার করে উঠল। কিন্তু পরক্ষণেই সামনে সারিমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে আবার থতমত খেয়ে চুপ হয়ে গেল।

তবে অরির কিছুক্ষণ আগের সেই মহিষের খাঁচার রাগটা আবার নতুন করে চাড়া দিয়ে উঠল। সে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে সারিমকে পুরোপুরি উপেক্ষা করতে লাগল। সারিম পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মুখে কিছু বলল না। সে এক মুহূর্ত দেরি না করে হুট করে অরির কোলে মাথা রেখে খাটের ওপর শুয়ে পড়ল।
হঠাৎ কান্ডে অরি চরম বিরক্ত হয়ে সারিমের মাথাটা কোল থেকে সরাতে চাইল। কিন্তু সারিম ওর চেয়েও চতুর। সে খপ করে অরির হাত দুটো ধরে ওকে এক টানে ডাইরেক্ট নিজের চওড়া বুকের ওপর এনে ফেলল! আকস্মিক এই কাণ্ডে অরি ভয়ের চোটে থরথর করে কেঁপে উঠল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সারিম অরির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। অরি নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ছটফট করতে লাগল, সারিমের বুকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিল; কিন্তু সারিম ওকে শক্ত বাঁধনে আটকে রাখল, একটুও ছাড়ল না। বেশ কিছুক্ষণ গভীর চুম্বনের পর সারিম অবশেষে অরিকে মুক্তি দিল।
ছাড়া পেয়েই অরি হাঁপাতে হাঁপাতে অগ্নিদৃষ্টিতে সারিমের দিকে তাকাল। ওর চোখ দুটো দেখে মনে হচ্ছিল, সেই চোখের আগুনে সারিমকে এখনই পুড়িয়ে ভস্ম করে দেবে! সারিম মনে মনে বুঝল-টোপটা এবার উল্টো কাজ করেছে। বউয়ের রাগ কমার বদলে আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে মাথা চুলকে হাসল। অরির মনোযোগ অন্য দিকে ঘোরানোর জন্য মিষ্টি গলায় বলল,

_”তুমি খুব সুন্দর, বউ!”
অরি একটুও না গলে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় জবাব দিল,
_”আমি জানি।”
সারিম আবার একটু হেসে বলল,
_”তোমার নামটাও খুব সুন্দর। কে রেখেছিল তোমার নামটা?”
অরি ছোট করে বলল,
_”জানি না।”
সারিম ঠোঁট উল্টে বলল,
_”ওহ, জানো না? আচ্ছা… তা আমার ওপর থেকে রাগটা কি এখনো কমেনি?”
অরি হঠাৎ সারিমের দিকে এগিয়ে এসে একদম শান্ত গলায় বলে উঠল,
_”আপনার ঠোঁটটা কেটে দিই?”
অরির মুখে এমন অদ্ভুত আর শীতল কথা শুনে সারিম পুরো স্তব্ধ হয়ে গেল। অরিকে দেখে মনেই হচ্ছে না সে কোনো মজা করছে। সারিম কিছুটা চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল,
_”কী হয়েছে তোমার? আর ইউ ওকে।তুমি ঠিক আছ?”

অরি শুধু মাথা নেড়ে বোঝাল সে ঠিক আছে। সারিম আর কোনো প্রশ্ন করল না। সে ভাবল অরি হয়তো এখন আদুরে মুডে আছে, তাই সে নিজের মুখটা আবার অরির দিকে বাড়িয়ে দিল। অরি সুযোগ বুঝে সারিমের মুখটা নিজের দুহাতের আজলায় শক্ত করে ধরল। তারপর হঠাৎ নিজের মুখ থেকে একদলা থুতু পুরোটা সারিমের ঠোঁটে আর মুখের ভেতর প্রবেশ করিয়ে দিল! পরক্ষণেই সে খাট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে, সোজা হয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে থাকা সারিমের পিঠের ওপর চড়ে বসল।
অরির এই অবিশ্বাস্য কাণ্ডে সারিম চরম বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে ফেলল। এই বজ্জাত বেডি যে তাকে এভাবে থুতু দেবে, তা সে কোনো জন্মেও ভাবেনি! ওদিকে অরি তখন সব রাগ ভুলে সারিমের পিঠে আরাম করে বসেছে। সে সারিমের গলাটা পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে, তার কানের কাছে মুখ এনে বলল,
_”আমাকে এখন ঘোড়া চড়ান! আমার খুব ইচ্ছে করছে। জানেন, ছোটবেলায় আমার বাবা আমাকে এভাবে পিঠে নিয়ে ঘোড়া চড়াতেন।”

অরির কথা শুনে সারিম কষ্ট করে ঘাড় ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকাল। বউয়ের মুখে ঘোড়া চড়ার উচ্ছ্বাস, আর নিজ থেকে এমন একটা আবদার করতে দেখে সারিম মুহূর্তেই গলে গেল। সে তো সবসময় এটাই চাইত-তার চন্দ্রিমা যেন মন খুলে তার কাছে সব আবদার করে, নিজের ভেতরের সবটুকু অধিকার তার ওপর দেখায়। সারিম তার চন্দ্রিমার মুখের এই হাসির জন্য পৃথিবীর সবকিছু করতে রাজি!
সে আর এক মুহূর্তও নষ্ট না করে অরির দুহাত নিজের কাঁধের ওপর শক্ত করে রাখল। তারপর চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে সত্যিকারের ঘোড়ার মতো পুরো রুম জুড়ে অরিকে পিঠে নিয়ে ঘুরতে লাগল।

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩৮

অরি খুশিতে একদম আত্মহারা হয়ে গেল। সে খিলখিল করে হাসতে হাসতে সারিমের গালে পরপর বেশ কয়েকটা চুমু খেল।বউয়ের থেকে এরকম ফ্রীতে আদর পেয়ে সারিম ফুলে ফেপে উঠেছে খুশিতে।
অরি সারিমের গলাটা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে পিঠের সাথে লেপ্টে রইল। অরির মনে হলো, সে যেন আবারও সেই সোনালী শৈশবে ফিরে গেছে। ছোটবেলার সেই বাবার পিঠে চড়ার আনন্দটাই সে আজ সারিমের মাঝে খুঁজে পাচ্ছে। তার আবদারের সকল ভাণ্ডার যেন এখন এই একটা মানুষকে ঘিরেই। অরির এই চঞ্চলতা আর মুখের মিষ্টি হাসি দেখে সারিমের বুকটাও এক পরম সুখে আর শান্তিতে ভরে উঠল।

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৪০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here