Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ১৯

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৯

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৯
noorayn

আরহাম যাওয়ার পরে আলিশা ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো।
আরহাম এসব কি বলে গেলো? আলিশা কি সত্যি তাকে শান্তি দেয়না…হ্যাঁ তাই তো।
আলিশার কাছে যেন নিজেকে হঠাৎ করে অনেক ছোট মনে হচ্ছে, পেটে হাত রেখে বললো, সোনা আমরা কি তোর বাবাকে বেশি জ্বালাচ্ছি?
এসব ভাবনার মাঝে ছোট প্রানটি যেন মা এর পেটে লাথি মেরে তার উপস্থিতি জানান দিলো।
আলিশা একবার রুমের দিকে তাকালো, তার বানানো কফি টা পড়ে আছে মেঝেতে, রুম সাউন্ডপ্রুফ হওয়াতে তাদের ঝগড়ার আওয়াজ বাইরে যায়নি।
আলিশা ধীরে ধীরে উঠলো, কাল রাত থেকেই তার শরীর টা ভালো লাগছেনা।
রুমের বাইরে এসে, সাবরিনা নামের মেইড টি কে বললো তার রুম ক্লিন করে আসতে।
আলিশা ডাইনিং টেবিলে এসে বসতেই আয়শা বললো, আরহাম কই?

“চলে গেছে” (আলিশা)
“সেই কি, নাস্তা না করেই চলে গেলো?”
“জানিনা মা, তার ইচ্ছা হয়নি তাই না খেয়ে গেছে এখন এতে আমি কি করতে পারি?”
“তোমার স্বামী সে আর তুমি বলছো জানোনা?”
আলিশা রাগে আর একটি কথা না বলেও টেবিল থেকে উঠে চলে গেলো, খাবেনা সে।
“আলিশা এসব কি ধরনের বেয়াদবি! না খেয়ে যাচ্ছো কেন?
“ক্ষিদে নেই খাবোনা”
নিজের আগের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে শুয়ে থাকলো।
একটু পর আয়শা হাতে নাস্তার প্লেট নিয়ে আসলো।
বেডে আলিশার মাথার কাছে বসে তাকে আদর করে দিতে দিতে বললো,

“আমার ছোট পরিটার মন আজকে এত খারাপ কেন?”
“আলিশা উত্তর করলোনা”
“আরহাম এর সাথে ঝগড়া হয়েছে?”
“না”
“তাহলে আজ এই রুমে?”
“আমার রুমে কি আমি আসতে পারিনা?”
“অবশ্যই পারো তবে তুমি তো কারন ছাড়া তেমন আসোনা মা তাই জিগ্যেস করেছি।”
“আলিশা বালিশ থেকে মাথা উঠিয়ে নিজের মার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লো”
“এখন শুলে তো হবেনা, আগে খেতে হবে”
“ক্ষিদে নেই”
“না থাকলেও খেতে হবে, এখন তুমি একা নও।”
“উঠো তুমি, খেয়ে ঘুমাও”
আয়শা জোড় করে আলিশা কে তুলে খাইয়ে দিলো।

খেয়েদেয়ে আলিশা একটু ঘুমিয়েছিলো, কিন্তু ঘুমাতে পারলো কই, তার ছানা যেন পেটের মধ্যে ফুটবল খেলছে।
“সোনা একটু ঘুমাতে দে মাকে, মার শরীর খারাপ লাগছে”
“উফ তুই কি থামবি?”
“নিজে তো ইচ্ছা মত ঘুমাস, আর মাকে একটু ও শান্তি দিচ্ছিস না”
আলিশা শেষে না পেরে উঠে গেলো।
আলিশা উঠে লিভিং রুমে সোফা তে গিয়ে বসলো,
“পুতুল কখন উঠলি?” (শাইনা)
“মাত্রই”
“কিছু খাবি?”
“না বড় মা, পেটে ব্যাথা করছে”
পেটে ব্যাথা শুনে শাইনা চিন্তিত হয়ে আলিশার কাছে এসে বসলো,

“কি হয়েছে তোর, বেশি খারাপ লাগছে?”
“জানিনা বড় মা, কাল রাত থেকে বাবু বেশি নড়াচরা করছে।”
“ডাক্তার কাছে যাবি?”
“এখন না, আরেকটু দেখি”
ইতিমধ্যে দাদি এসেও বসেছে।
“এই সেরি এমন করস কেন? বাচ্চা পেটে আইলে এমন একটু আকটু হয়।
“উফ দাদি তোমার ভাষা ঠিক কর আগে, কখনো পরি কখনো সেরি এসব কি?”
“চুপ কর সেরি, বেশি কথা কইবিনা”
আলিশা চুপ করেই রইলো আর উত্তর দিলোনা, এমনিতে শরীর টা খারাপ লাগছে তার।
আলিশা একটু পর দাদির কোলে মাথা রেখে সোফাতেই শুয়ে পড়লো।
দাদি পরম আদরে আলিশার মাথায় মালিশ করতে করতে তার আর তার প্রয়াত স্বামীর প্রেম কাহিনী শুনাতে লাগলেন।

“তারপর তোর দাদা আমার বাড়ির সামনে আইসা দাড়ায়া থাকতো…
“উফ দাদি আর কতবার শুনবো এসব? এবার নতুন কিছু বলো।
তাদের কথার মাঝেই আরহাম ঘরে প্রবেশ করলো, এসেই দেখলো আলিশা সোফা তে শুয়ে আছে, মনে মনে বললো, এই মেয়ে এখানে শুয়ে আছে কেন, রুমে কি বেড নেই নাকি?
আলিশা ও আরহাম কে দেখলো, কিন্তু দেখেও না দেখার ভান করলো।
আরহাম নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেডে শরীর এলিয়ে দিলো।
” কিরে কি ব্যাপার লিশা তাকে দেখার পরও রুমে আসেনি কেন এখনো?
মাথা ব্যাথা করছে তার, একটা গরম কফি দরকার।
নিজের রুমের ইন্টারকম থেকে কল দিয়ে জানালো কফির কথা, একটু পরেই মেইড কফি নিয়ে আসলো।
কফি মুখে দিতেই আরহাম মুখ বিকৃত করে ফেললো, ছিঃ এই জঘন্য কফি কে বানিয়েছে? সে কিভাবে কফি খায় সেটা কি আলিশা জানেনা তাহলে কেন নিজে বানালো না?
আরহাম কফির মগ রেখে মাথার উপর বালিশ দিয়েই ঘুমিয়ে পড়লো।

সন্ধ্যা নাগাদ আলিশার পেটে ব্যাথা যেন বেড়েই চলছে,
সে না পেরে আয়শা কে গিয়ে বললো ডাক্তার কাছে নিয়ে যেতে।
আয়শা মেয়ের চিন্তায় সব কাজ ফেলে তাকে ডাক্তার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন,
“পুতুল শরীর কি বেশি খারাপ লাগছে? আমি সহ যাবো চল। (শাইনা)
” না বড় মা, তুমি বাসায় থাকো, আমি মার সাথে দেখিয়ে আসতে পারবো।”
“আরহাম কে বলেছিস?
“না প্রয়োজন নেই”
“প্রয়োজন নেই মানে? আরহাম জানেনা?
” বড় মা আরহাম সারাদিন পর বাসায় আসে, এখন হয়তো ঘুমুচ্ছে তাই তাকে বিরক্ত করতে চাচ্ছিনা”
“বাচ্চা টা তারও পুতুল, তোর একার দায়িত্ব না তাহলে এখানে বিরক্ত হওয়ার কথা আসছে কেন?”
“জানিনা, তবে আরহাম কে এসব বলার দরকার নেই”
“কিন্তু…
শাইনা কিছু বলার আগেই আয়শা এসে তাড়া দিলেন যাওয়ার জন্য।
আলিশা আর কোনো কথা না বলেই বের হয়ে গেলো।

আরহাম এর ঘুম ভাঙলো রাত ৮ টা নাগাদ,
ঘুম ভাঙার পরও আলিশা কে রুমে না দেখে বেজায় চটে গেলো,
রুম থেকে বের হয়েই আলিশা কে চিল্লিয়ে ডাকতে লাগলো,
লিশা, লিশাাাাা….
শাইনা কিচেন থেকে বললো,
“এভাবে ষাঁড়ের মত চিল্লাচ্ছিস কেন?”
“লিশা কোথায়?”
“নিজের বউ বাচ্চার খবর নিজে রাখতে পারোনা?”
“মা আলিশা কোথায়?”

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৮

“অসুস্থ ও, পেটে ব্যাথা করছিলো কাল রাত থেকে তাই আয়শার সাথে এখন হসপিটাল গেছে।
আরহাম অবাকের চরম সীমানায় পৌছে গেলো,
আলিশার কি হয়েছে, আর সে তাকে না বলে কোথায় গিয়েছে কেন গিয়েছে?
রাগ যেন তার দপদপিয়ে বাড়লো।

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৯ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here