আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৫
সুরভী আক্তার
রমনীর সে’রাত কেটেছে জ্ঞান হীন বেঢাল । হুশ ছিলো না সারাটা রাত । রৌদ্র দড়দড় করে বেরিয়ে গেছিলো ঠিক তখনই । মেঘা বড্ড নমনীয় । একটু গাঁ নাড়াতেই শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসে তার । কালও এসেছিলো । একেই হাতের তীব্র যন্ত্রণা , তার উপর দু-দুটো চড়ের আঘাত পেয়েছে । চোয়ালে ব্যথা ধরে গেছিলো আঘাত পেয়ে । কেঁদেছে প্রচুর । রাত গভীর হতে না হতেই জ্বরের কবলে পড়েছিলো রমনী । সে কি ভীষণ জ্বর । পুরো রাত গুঙ্গিয়ে কাটিয়েছে ।
কাল থেকেই কাবির ম্যানসন নিস্তব্ধ ।
কারোর মুখে রা নেই । কেউ কারোর দিকে তাকাচ্ছে না পর্যন্ত । সকলের ব্রেকফাস্ট হয় নি কারোর । শুভ্র,আহিয়ান ওরা না খেয়েই বেরিয়ে গেছে । তোফায়েল কাবির ও বেরিয়ে গেছেন নিশ্চুপ হয়ে ।
দুপুর বারোটা ,, সবে প্রস্তুতি চলছে রান্না বান্নার ।
আদ্র বেরিয়েছিল একটু । ফিরলো কেবল । ফ্রেশ হয়ে মেঘার রুমে যায় সে ।
রমনী দরজার দিকে পিঠ ফিরিয়ে কাত হয়ে শুয়ে আছে । শাফাহ্ রুমে নেই, শাওয়ার নিতে ঢুকেছে বোধহয় । আদ্র দরজায় কড়া নাড়ে । অগত্যা সচকিতে নড়েচড়ে ওঠে রমনী । ঝটপট করে পিছু ফিরে তাকায় । আদ্র কে দেখে ফের মুখ লুকায় ।
আদ্র ভেতরে ঢুকে ডাকে…
” মেঘ ?
উঠে বসে রমনী । চেহারা শুকনো , তবে চোখ ভেজা । দীঘল পাপড়ি যুগল জবজবে । বোঝাই যাচ্ছে এতক্ষণ কেঁদেছে নিঃশব্দে । মেঘা আদ্রের দিকে ফিরে এক চিলতে হাসার চেষ্টা করে । ঘন ঘন শ্বাস ফেলে গলা হালকা করে বলে….
” হ্যাঁ ভাইয়া !
” দুপুরের মেডিসিন নিয়েছিস ?
মেঘা মাথা নাড়ালো । কিছু বলতে পারলো না । বেশি কথা বললেই গলা নিভে আসবে । স্পষ্ট বোঝা যাবে কান্নার তোপ । জবান বন্ধ রাখাই শ্রেয় ।
চোখ নামিয়ে নিলো মেঘা । আদ্র দীর্ঘক্ষণ সূচালো দৃষ্টিতে পরখ করলো ওকে , বললো গলা নামিয়ে….
” কেঁদেছিস ?
মেঘা চিবুক নামায় আরো বেশি । ওষ্ঠ উল্টে চোখ ডলে ।
” মেঘ ,, কি হলো ? কাঁদছিস কেনো এভাবে ?
এবারে ফিকড়ে উঠলো রমনী । আড়চোখে দরজার পাশে দেয়ালের দিকে তাকালো । দেয়াল জুড়ে শুকনো রক্তের ছোপ ছোপ দাগ । মুছে ফেলা হয়েছে অনেকটা । তবুও লাল তরলের ছোপ আভা বোঝা যাচ্ছে । দেয়াল গড়িয়ে স্রোত । লোকটা কাল বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো । নিজেকে এতোটা তীব্র ভাবে আঘাত করতেও দ্বিধাবোধ করে নি । মেঘাকে আঘাত করে প্রতিদান হিসেবে শাস্তি দিয়েছে নিজেকে ।
মেঘা ফুঁপিয়ে ওঠে দেয়ালের ছোপ ছোপ দাগ দেখে । চোখ মুছে বলে ধরা গলায়….
” আমি তোমার ভাইকে ঘৃণা করি ভাইয়া । আই হেইট হিম ,, আই ডিপলি হেইট রুডভিক কাবির রৌদ্র ।
” যার আঘাতে চোখে ঘৃণা ধরাস, তার ব্যাথাতেই চোখে অশ্রু ঝড়াস কেনো তাহলে ?
” আমি মোটেও তার ব্যাথায় কাঁদছি না । উনি মেরেছেন আমায় ।
” ও তোকে কাল মেরেছে , আর তুই আজ কাঁদছিস ? দেয়ালের ওসব রক্তের দাগ দেখে কাঁদছিস , তাই তো ? ভাবছিস রৌদ্রের অবস্থা সম্পর্কে ?
মেঘা নিশ্চুপ । নাক টানলো । কাল থেকে বাড়িতে নেই রৌদ্র । এখনো অবধি খোঁজ নেই । মেঘা জানে , লোকটা ওভাবে নিজের হাত টাকে ক্ষত বিক্ষত করে বেরিয়ে গেছে । কি অবস্থা কে জানে ? নিজের দেখভাল করতে আদৌও জানেন উনি ? মেঘার কান্নার হেতু এটাই ।
আদ্র বুঝে শান্তনা দিতে বলে …
” কিছু হয় নি রৌদ্রের ! হবে না কিছু ।
” তার কিছু হলেও আমার কোনো যায় আসে না ।
” আসলেই যায় আসে না ? এতো গুলো চোখের পানি কেনো তাহলে ?
” জানি না । আমি শুধু জানি, আমি তাকে ঘৃণা করি । থাকবো না আমি আর । চলে যাবো । আর বেশিদিন নেই ।
” ও তোকে যেতে দিলে তবেই না যাবি , ও নিজের জিনিস বুঝে নিতে জানে । আটকে রাখতে জানে ।
” আমাকে পারবে না আটকাতে । আমি কারোর জিনিস নই । আমাকে যে অন্য কেউ থাকতে দেবে না । ছিনিয়ে নিয়ে যাবে । শুধু আর কটা দিন ।
” যদি আটকাতে পারে , তাহলে ?
থেকে যাবি ওর কাছে ? জোর করে হলেও আটকাবে ও তোকে ! এতো দিনে বুঝেছিস নিশ্চয়ই ? ও আমার ভাই মেঘ , এক নারীতে যুক্ত ছিলাম আমরা । দুনিয়া দেখেছি তেইশ সেকেন্ডের কম বেশিতে । ওর আগে এ জগতের আলো দেখেছি আমি । ওকে চিনি । হাড়ে হাড়ে চিনি । আমাদের সম্পর্ক টা অগোছালো হতে পারে , রৌদ্র অগোছালো হতে পারে , কিন্তু আমি অগোছালো নই । ও কি চায় আমি জানি, বুঝি যথেষ্ট । ওর চোখ দেখেই ওকে সম্পূর্ণ রূপে পড়ে ফেলার ক্ষমতা রাখি আমি । এতো দিনে কি পড়ে ফেলেছি জানিস ? ও তোকে চায় ! এ সম্পর্ক টাকে এগিয়ে নিতে চায় ও । তোর জন্য দ্বিতীয় বার ও ফিরে এসেছে মেঘ । তুই বুঝিস সবটা । টুকটুকির মতো ইমম্যাচিউর নোস তুই ।
মেঘা বিমূঢ় । চোখ তুললো না । এই প্রসঙ্গে কথা বাড়াতে নারাজ রমনী । আদ্র ওর বিমুখতা বুঝলো । নিঃশব্দে হাঁফ ছেড়ে আসল প্রসঙ্গে আসলো ,,,
পিঠ ফিরিয়ে চলে আসার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতে বাড়াতে বললো কিছুটা চড়া গলায়….
” যা বলতে এসেছিলাম । তৈরি হয়ে নে , লাঞ্চের আগেই চলে যাবি তুই । আর থাকতে হবে না তোকে ।
সব তো গুছিয়েই রেখেছিস দেখলাম । নিয়েই নিয়েছিস সিদ্ধান্ত । রেডি হয়ে নে এখন । দশ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে নিচে নামবি । আমি অপেক্ষা করছি ।
এই বলে গটগট করে বেরিয়ে গেলো আদ্র । সে বেরোতেই দুহাতে মুখ চেপে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে একবিংশী । ঠোঁট কামড়ে ধরে কান্না সংবরনের চেষ্টা করে । টুকটুকি এতক্ষণে শাওয়ার শেষ করে বেরোয় । ঠান্ডায় হাত পা জমে গেছে । ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে ওয়াশ রুম ছাড়লো সে । থুতনি কাঁপিয়ে দ্রুত হিটারের কাছাকাছি দাঁড়ালো । মেঘার ফোপানোর শব্দে তড়াক করে চাইলো বেডের দিকে । হাঁটুতে মুখ গুজে একবিংশীকে ওভাবে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখে এগিয়ে যায় শাফাহ্ । বিচলিত হয়ে বলে….
” মেঘা ! কি হয়েছে ,, কাঁদছিস কেনো এভাবে ?
রমনী চোখ তুলে চাইলো । আকস্মিক নড়বড়ে শরীর টেনে হুড়মুড়িয়ে জড়িয়ে ধরলো শাফাহ্ কে । শাফাহ্ টাল সামলাতে না পেরে পিছনের দিকে পিছিয়ে যায় । মেঘা বলে কাঁদতে কাঁদতে…
” আমি চলে যাচ্ছি টুকটুকি ,, আর আসবো না । কোনো দিন না । চলে যাচ্ছি একে বারেই । খুব মিস করবো তোকে বিশ্বাস কর । সবচেয়ে বেশিই মিস করবো । এরপর আর রোজ দেখা হবে না আমাদের । রোজ একসাথে ঘুমানো হবে না । ভার্সিটি যেতে পারবো না একসাথে ।
আর থাকবো না আমি তোর সাথে । চলে যাচ্ছি । মনে রাখবি আমায় তুই ? নাকি ভুলে যাবি ?
সন্ধ্যার লগন পেরিয়ে ধরনীকে আঁধার জড়িয়ে নিয়েছে ।
আশপাশ যখন মিটমিটে তিমিরে ঢাকা , তখন বাড়ি ফেরে রৌদ্র । ঘড়ির কাঁটা বোধহয় সাতটা দশের ঘরে ।
বাম হাতে চাবি দিয়ে সদর দরজা খুললো রৌদ্র ।
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে চাপিয়ে দিলো দরজা টা । মাথা নামানো । চেহারার হাল বেহাল । কালকের মতোই আছে এখনো । কোনো অংশে পরিবর্তন নেই । অথচ কেটে গেছে চব্বিশ টা ঘন্টা । পড়নে কালকের সেই টিশার্ট আর ট্রাউজার । ভীষণ এলোমেলো চুল গুলো । চোখ ঢেকে গেছে । ঠোঁট মুখ শুকনো ।
প্রচন্ড ঠান্ডায় উজ্জ্বল শ্যামলা শরীর খানা কেমন ভ্যাপসা হয়ে উঠেছে । উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফ্যাটফ্যাটে হয়ে গেছে কেমন ।
কোনো দিকে তাকালো না রৌদ্র । নিস্তেজ পা টেনে হিচড়ে বাড়ালো সিঁড়ির দিকে । দু ধাপ এগোনো মাত্রই মায়ের ভড়কানো ডাক কানে বাজলো….
” রৌদ্র ??
না চাইতেও থামে বেপরোয়া যুবক । তবে তাকায় না । ধড়ফড়িয়ে এগিয়ে যান রুবিনা কাবির । তার ছলকানো দৃষ্টি ছেলের ডান হাতের পানে । ছেলের কাছে যাওয়া মাত্রই ভয়াবহ আতঙ্কে ডুকরে উঠলো মাতৃ হৃদয়…..
” একি অবস্থা করেছিস নিজের হাতের ? রৌদ্র ,,, এসব কি হয়েছে তোর হাতে ? কি করেছিস এসব তুই ?
থামলেন ভদ্রমহিলা । তার উচ্চ বাক্যে ঘর হতে করিডোরে বেরিয়েছে সিরাত । রৌদ্র কে দেখে ধীরে নিচে নামলো সে । রুবিনা কাবির ছেলের নীরবতা দেখে আবার কেঁদে ওঠেন । আলগোছে আঁকড়ে ধরেন ছেলের ক্ষত বিক্ষত ডান হাতটা । যে হাতের অবস্থা নাজেহাল । বিকৃত পুরো ।
দেখলেই মাথা চক্কর দিয়ে উঠছে । থেঁতলে জখম হাতের পিঠ । কতশত রক্তের স্রোত বয়ে গেছে , যার দাগ এখনো স্পষ্ট । হাতের কব্জির কিছুটা উপর থেকে একেবারে আঙ্গুলের ডগা পর্যন্ত রক্ত লাল । খামড়া বেঁধে জমে আছে পুরনো রক্ত ।
শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে ক্ষতের উপর । আঙ্গুলের গিঁট গুলি ফুলে একাকার । চামরা ছিলে ভেতরের সাদা মাংস দৃশ্যমান কতেক স্থানে । টানটান পুরো হাত । ঠান্ডায় জমে কুপোকাত । রৌদ্র খেয়াল রাখে নি নিজ হাতের । যে হাত ওর খেয়াল খুশিকে আঘাত করে , সে হাতের উপর খেয়াল দেওয়ার কোনো ইচ্ছেও নেই তার । রক্ত ঝরেছে কতগুলো , মোছার চেষ্টাও করে নি । বরং কতবার যে আঘাত করেছে নিজের সেই হাতে , তাও বেহিসেবি । ক্ষতের উপর ক্ষত সৃষ্টি হতে হতে দগ্ধ হয়ে গেছে হাতখানা । দেখার মতো অবস্থা নেই ।
রুবিনা কাবির ওর হাত স্পর্শ করা মাত্রই কেঁপে উঠলেন । হাতটা নড়চড় হতেই ঝমঝমে ব্যাথায় মুখ কুচকালো রৌদ্র ।
” কি করেছিস নিজের হাতের অবস্থা ? কেনো করেছিস এমনটা ? কাল তো দেয়ালে ঘুষি মেরে মেরে এসব করেছিস, তাই না ? এখনো তোর হাতের অবস্থা এমন কেনো ? এসব পরিষ্কার করিস নি কেনো রৌদ্র ? এতটা সময় কোথায় ছিলি তুই ? এই ঠান্ডায় টিকে আছিস কি করে এই হাত নিয়ে ?
রৌদ্র নিরুদ্বেগ । শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে ।
চোখ তোলে নি এখনো । সিরাত হন্তদন্ত হয়ে ভাইয়ের এমন বেগতিক অবস্থা দেখে বললো….
” রৌদ্র ,,, এই ছেলে ! পাগল হয়ে গেছিস তুই ? তোর হাতের অবস্থা এখনো এমন কেনো ?
” যেমন থাকার কথা , তেমনই আছে আপু । ঐ হাতের শাস্তি এটা । আমার ইভারা কে আঘাত করার জন্য নিজের এই হাত যদি শরীর থেকে উপড়ে ছিঁড়ে ফেলতে পারতাম , তাও কম হয়ে যেতো ।
” মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোর , কাল থেকে নিজের এই জখম হাত এভাবেই ধরে আছিস তুই ? রৌদ্র ,, নিজের হাতের দিকে তাকা । কি অবস্থা করেছিস , তাকানো যাচ্ছে না । নিল হয়ে গেছে তোর হাত । ইনফেকশন হয়ে যাবে….
” হোক ,, পচে যাক এই হাত । কোনো পরোয়া নেই…
শান্ত উত্তর রৌদ্রের ।
রুবিনা কাবির আঁচলে মুখ চেপে ধরেন । রৌদ্র দুজনকে পাশ কাটিয়ে উঠতে চায় উপরে । সিরাত বাঁধা দেয়….
” কোথায় যাচ্ছিস ? এদিকে আয় , সেনিটাইজ করে দেবো হাত । নয়তো অবস্থা খারাপ হবে আরো ।
রৌদ্র নিজের হাতটা নাড়াতেও পারে না । শক্তি নেই ও হাতে । পচে গেছে এমন । এই অতিরিক্ত ঠান্ডায় জমে পাথর হয়ে গেছে পুরো । বেকার ঝুলে আছে কাঁধে ।
সিরাতের কথা শুনলো না সে । এখন যাবে মেঘার কাছে । রমনীকে দেখা হয় নি চব্বিশ ঘন্টা । মন উতলা । ধড়ফড় লাগছে । সিরাতের ডাক উপেক্ষা করে পা বাড়াতে গেলে সিরাত ডেকে ওঠে ভরাট কন্ঠে….
” রৌদ্র ,, নিজের কথা ভাব আগে । মেঘা বাড়িতে নেই…
শিথিল হয়েই চমকালো রৌদ্র । ঘাড় ঘুরিয়ে চোখ সরু করে শান্ত হয়ে জানতে চাইলো….
” কোথায় ?
” কোত্থাও নেই মেঘা । তুই নিচে নাম আগে…
” কোথাও নেই মানে ? আমার ওকে লাগবে এখন ! চব্বিশ ঘন্টা ধরে দেখিনি আমি ওকে । কোথায় ও ?
” চলে গেছে….
উপরে করিডোর থেকে উত্তর করলেন তোফায়েল কাবির ।
রৌদ্র তড়াক করে তাকায় । নিমিষেই খিচে আসে শান্ত মুখশ্রী । বাপকে দেখে উপেক্ষা করে । সিরাত কে শুধোয় রাগান্বিত স্বরে…..
” আপু , আমার ইভারা কোথায় ?
” চলে গেছে বললাম তো । ওকে আলাদা করে জিজ্ঞেস করছো কেনো ?
ফের কথার মাঝে মুখ খুললেন তোফায়েল কাবির । রৌদ্র রাগে চোখ বুজে নেয় । আর কান দেয় না কোনো কথায় । তড়তড় করে উপরে উঠে যায় ।
শাফাহ্ রুমে একা । অনাথের মতো চেয়ারে বসে টেবিলের উপর মাথা এলিয়ে রেখেছে । কান্না পাচ্ছে । ঠোঁট ফোলাচ্ছে মাঝে মাঝে ।
মেঘা ছাড়া সবটা মলিন , বোরিং । গুমোট পুরো ঘর । এই কয়েক ঘন্টাতেই একলা থাকতে দম বেরিয়ে যাচ্ছে শাফাহ্’র । বারবার মেঘার কথা মনে পড়ছে । চোখ ভিজে আসছে একবিংশীর শূন্যতায় ।
রৌদ্র ঠাস করে দরজা খোলাতে লাফিয়ে ওঠে রমনী । হুমড়ি খেয়ে ভেতরে ঢোকে রৌদ্র । এপাশ ওপাশ দেখে নেয় । মেঘা কে না দেখে কেমন আনচান রাগে আতঙ্কে । ঢোক গিলে নিরেক কন্ঠে শুধোয়…..
” টুকটুকি ,, ইভারা কোথায় ?
চোখ নামায় মেয়েটা । কাঁদো কাঁদো হয়ে যায় এ বেলায় । ভাঙ্গা স্বরে উত্তর করে….
” চলে গেছে ।
ধক্ করে ওঠে রৌদ্র । চোখ গোল হয়ে আসে । বিচলিত হয়ে জানতে চায়…..
” চলে গেছে মানে ? কোথায় চলে গেছে ? ঘুরতে গেছে ও ?
” জানি না । তবে মেঘা আর আসবে না ভাইয়া । একেবারে চলে গেছে ও । কোথায় গেছে আমি জানি না ।
রৌদ্র টাল হারিয়ে পেছায় ।
শ্বাস বন্ধ হয়ে গলায় আটকায় । ফের ধড়ফড় করে নিচে নামে । তোফায়েল কাবির বসে আছেন ।
সিরাত উঠছিলো ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে । পথিমধ্যে ওর দেখা পেয়ে রৌদ্র হাঁসফাঁস করে বলে…..
” আপু , ইভারা কোথায় ?
চোখ নামায় সিরাত । রৌদ্র হাঁক ছাড়ে…..
” মম , মম আমার ইভারা কোথায় ?
উত্তর নেই কারোর থেকেই । শাহিনা কাবির হাঁকডাক পেয়ে নিচে নামতেই রৌদ্র তাকে চেপে ধরে….
” মনি,,, ইভারা কোথায় মনি ? ঘুরতে গেছে ও ? আদ্রের সাথে গেছে ? যাক । রাগ করবো না একটুও । আমি আর মারবো না ওকে । ট্রাস্ট মি , ওকে মারবো না । তোমরা বলো ও কোথায় ?
কেউ কিছু বলছো না কেনো ? কোথায় আমার ইভারা…?
সবাই চুপ । মেঘা কোথায় , তা কেউ জানেন না । জানেন তোফায়েল কাবির । শাহিনা কাবির আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন….
” রৌদ্র ,, শান্ত হ একটু ।
এমন ছটফট করছিস কেনো ?
” মনি ,, আমাকে বলো আমার সানি কোথায় ? ওকে পেলে শান্ত হয়ে যাবো আমি,প্রমিস । ছাদে উঠেছে ও ?
রৌদ্রের এতো বার জিজ্ঞেস করাতেও কারোর কোনো উত্তর নেই । এবার চড়ে যায় মেজাজ । পিছিয়ে সিঁড়ির পাশের বড় ফুলদানি টায় সজোরে একটা লাথি মারে রৌদ্র । সেটা উল্টে পড়ে ভেঙে টুকরো টুকরো হয় নিমিষেই । বিকট শব্দ হয় । রৌদ্র চোখ মুখ খিচে নেয় । পুরো শরীরের শিরা গুলো ফুলে ফেঁপে ওঠে তার । যেনো এক্ষুনি চামড়া ভেদে বেরিয়ে আসবে । চিবিয়ে বাড়ি কাঁপিয়ে গর্জায় সে…
” সবাই চুপ করে আছো কেনো , বলো ? আমার ইভারা কে লাগবে ! এক্ষুনি ওকে চাই আমার । কোথায় ও ?
” চলে গেছে যেখানে যাওয়ার ,, পাবে না আর ওকে । তোমার মার খাওয়ার জন্য ও এখানে পড়ে থাকবে না নিশ্চয়ই । আর না মার খাওয়ার জন্য ফিরে আসবে ।
শান্ত কন্ঠ তোফায়েল কাবিরের ।
ব্যস , রৌদ্রের উন্মাদ হতে সময় লাগে না । একেই পুরো শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা । হাতের যন্ত্রণা । তার উপর চব্বিশ ঘন্টায় পেটে দানা পড়ে নি । পড়েছে পানি জাতীয় বিষাক্ত নেশার তরল । একের পর এক মদ খেতে গিয়ে আজ সারাটা সকাল বমি করেছে । নিস্তেজ পুরো শরীর । শক্তি নেই বিন্দুমাত্র । ধৈর্য হারিয়েছে আরো আগে ।
গর্জে উঠলো সে ।
” আআআআআ,, চুপ করুন,,,
আমি বলছি তো, আমি আর মারবো না ওকে । কোথায় আমার ইভারা ?
মম , মরে যাবো আমি ? শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে আমার । প্লিজ বলো সে কোথায় ? ওকে প্রয়োজন আমার ! যদি আমাকে জীবিত দেখতে চাও তাহলে আমার ইভারা কে এনে দেবে তুমি ! এক্ষুনি এনে দেবে । ও অক্সিজেন আমার । প্লিজ মম , বলো ও কোথায় ? ওর অনুপস্থিতিতে মরে যাবো আমি….
” পাঁচ বছর তো মরো নি , বেঁচে ছিলে ওকে ছাড়া । এখন মরবে কেনো ? ও তোমার এমন কেউ নয় , যাকে ছাড়া মরে যাবে তুমি !
তোফায়েল কাবিরের নিরেট বাণীতে রুবিনা কাবির ধরা গলায় ছলকে ওঠেন….
” কিসব বলছেন আপনি ? চুপ করুন…
এখনো শান্তি হয় নি আপনার ? মেঘা কে এ বাড়ি থেকে সরানোর কি প্রয়োজন ছিলো ? কোথায় সরিয়েছেন ওকে আপনি ?
রৌদ্র ঘন পলক ফেলে বাপের দিকে তাকায় । দাঁত পিষে ঘন ঘন শ্বাস ফেলে হাঁপানি রোগীর ন্যায় । তোফায়েল কাবির সরিয়েছেন মানে ?
গিজগিজ করে পুরো শরীর আগুনের ন্যায় জ্বলে ওঠে তার । এ বাড়ির সবাই ওকে প্রতিহত করতে লেগে পড়েছে । তবে অনবদ্য সে । এবার রাগের মাত্রা সীমা ছাড়ালো । হুংকার ছেড়ে তেড়ে গেলো । টেবিলের পাশ থেকে একটা চেয়ার টেনে হিচড়ে বের করলো । রাগ খাটালো কাঁচের টেবিলটার উপর ।
শক্ত কাঠের চেয়ারটা মাথার উপরে তুলে এক আছাড় মেরে ফেললো টেবিলের উপর । মুহুর্তেই নিঃশেষ পুরো ডাইনিং । বিকট শব্দের ঝংকার তুলে ঝরঝরিয়ে মার্বেলের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লো টেবিলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাঁচ গুলো । আকস্মিক এমন কান্ডে চমকালেন উপস্থিত সকলে ।
রৌদ্র পাগলাটে । দাপুটে উন্মাদ । সবকিছু এলোমেলো করতে ব্যস্ত । যা হাতের কাছাকাছি পেলো , তাই ভাঙচুর করলো সে । লন্ডভন্ড করে দিলো পুরো হল রুম । তাকে আটকানোর চেষ্টা করলো না কেউ । তোফায়েল কাবির কিংকর্তব্য বিমূঢ় ,, বরং আরো শান্ত তীক্ষ্ণ চোখে পরখ করলেন ছেলেকে । রুবিনা কাবির ছেলের এমন ক্ষ্যাপাটে তুলকালাম কাণ্ড দেখে অস্থির । সিরাত দৌড়ে যায় রৌদ্র কে আটকাতে । পাগলাটে ছেলেটাকে টেনে ধরে সে….
” রৌদ্র ,, এসব কি করছিস ? কাম ডাউন ভাইই । শান্ত হ একটু ।
রৌদ্র তার বাপের শেষ কথাটাকে টেনে বলে…..
” ছাড়ো আমায় !! ও আমার সব । প্রাণ ও আমার । ওকে চাই আমি । এক্ষুনি চাই ।
সে উন্মাদ । বিভৎস অবস্থা তার । চোখে পানি । রক্তিম পুরো শরীর ।
ড্রইং রুমের সব এলোমেলো করে সিরাত কে টপকে ধুপধাপ উপরে উঠে গেলো সে । বাকিরা ভয়ে নিস্তব্ধ । মেহের আর শাফাহ্ সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে জড়োসড়ো হয়ে । সবটা শান্ত হতেই মৃদু হাসলেন তোফায়েল কাবির । হাঁফ ছাড়লেন কিছু একটা ভেবে ।
আদ্র ফিরেছে এতক্ষণে ।
ড্রইং রুমের এমন ভাঙচুর, লন্ডভন্ড অবস্থা দেখে ভড়কায় সে । চেয়ার গুলো এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে । কাঁচ পুরো মেঝে জুড়ে । সিঙ্গেল সোফা গুলো উল্টে পড়ে আছে । ফুলদানি সহ বাকি সব আসবাব ভাঙচুর । এসব দেখে কিছু বুঝে উঠতে না পেরে রুবিনা কাবিরের কাছে যায় আদ্র । নিস্তব্ধ হয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে আছেন ভদ্রমহিলা । পানি ভরা দৃষ্টি নিচুতে । আদ্র তাকে টেনে ধরে জানতে চায়…
” আম্মু ,, এসব কি ?
রুবিনা কাবির চোখ তুলতেই তার ভেজা চোখ দেখে ছলকে ওঠে আদ্র । বুঝতে বাকি রয় না । ঢোক গিলে বলে কিয়ৎ কাল বাদ….
” রুডি কোথায় ?
রুমে আছে , এই ইশারা করেন ভদ্রমহিলা । আদ্র ধড়ফড় করে উপরে উঠে যায় । ঘরেও তোলপাড় চালিয়েছে রৌদ্র । সব তছনছ সেখানেও । কোনো ফার্নিচার ঠিক নেই ।
বিছানা, বালিশ সব মেঝেতে পড়ে আছে । রুমের মিনি ফ্রিজটা ভরা ছিলো উইস্কির বোতলে । ফ্রিজটাও উল্টে আছে একপাশে । বোতল গুলো ভেঙ্গে চুঁইয়ে চুঁইয়ে সবটুকু নেশার তরল মেঝেতে লুটোপুটি খাচ্ছে ।
আদ্র আরো ভড়কায় এসব দেখে । ডান পাশে চোখ পড়তেই রৌদ্র কে দেখতে পায় । টেবিলের পাশে মেঝেতে পা ছড়িয়ে বসে আছে রৌদ্র । হাতে অ্যালকোহলের আরেকটা বোতল । হাঁপিয়ে নিস্তেজ সে । আদ্র ডাকলো…
” রুডি ?
অমনি সতেজতা ফিরে পেতে সময় লাগে না । এক ঝটকায় তেড়ে আসে রৌদ্র । আকস্মিক চেপে ধরে আদ্রের কলার । নিজের জখম হাতটায় ব্যাথা পায় নিজেই । হাত থেকে আবারো রক্ত বেরোচ্ছে গলগলিয়ে ।
” তোকে ছাড়বো না আমি ? আমার ইভারা কোথায় বল ? কোথায় সরিয়েছিস ওকে তোরা ? আমার কাছ থেকে কেড়ে নিবি ওকে তুই ? প্রাণে মেরে ফেলবো একদম ,, ওর উপর কিসের এতো টান তোর ? কি চাস তুই ? আমার ইভারা শুধু আমার । ওর ভাগ কাউকে দেবো না আমি ,,,
আদ্র শান্ত রাখে নিজেকে । ভাইয়ের উন্মাদ অবস্থা দেখে নিজে সংযত থাকে । ধীরে বলে….
” রুডি ,, কাম ডাউন । মেঘ….
” চুপপপ ,,, খবরদার ওর নাম নিবি না মুখে । ও শুধু আমার । শুধু মাত্রই আমার ।
” ও তোর বুঝি ? কবে থেকে তোর ?
” ছয় বছর থেকে আমার ! যবে থেকে আমি ওকে দেখেছি তবে থেকে ও আমার !
” ছয় বছর ধরে ও তোর ? বিয়ে তো করেছিস পাঁচ বছর চার মাস হয় । তাহলে ছয় বছর ধরে ও তোর হলো কি করে ?
রৌদ্র ওর কলার ছাড়লো । নিজেই নিজের চুল খামচে ধরলো দুহাতে । রাগে গর্জালো ।
” ওও আমার । কোথায় ও বল ?
” পাঁচ বছর আগে রেখে চলে গেছিলি কেনো ওকে ?
আদ্রের পাল্টা প্রশ্ন । রৌদ্র রেগে বলে….
” রেখে গেছিলাম ,,, তাই বলে তোকে ওর দায়িত্ব দিয়ে যাই নি । তোর কাছে রেখে যাই নি আমি ওকে ।
” ফিরে এসেছিস ওর জন্য ?
” হ্যাঁ এসেছি ,,, ওর জন্যই ফিরে এসেছি আমি । এবার বল ও কোথায় ? কোথায় চলে গেছে…
” বলবো ,, তবে একটা শর্তে ।
রৌদ্র বিচলিত হয়ে জানতে চায়…..
” কি শর্ত ?
” নিজের হাতের অবস্থা দেখ । স্যানিটাইজ করে ব্যান্ডেজ করবি আগে । রক্ত ঝরছে এখনো । মেঘ রক্ত ভয় পায় , রুডি । রক্তে ফোবিয়া আছে ওর ।
ওর সামনে যাওয়ার আগে নিজেকে ঠিক করবি আগে । শান্ত হবি । যা ফ্রেশ হয়ে আয় । ব্যান্ডেজ করার পর বলবো মেঘ কোথায় । তার আগে নয় !
রৌদ্র যেনো বাচ্চাদের মতো মেনে নিলো । দুদিকে মাথা ঝাকালো । আর কথা বাড়ালো না । নিজের মাঝে বিড়বিড় করতে করতে ছটফট করে ঢুকলো ওয়াশ রুমে । খুব সহজে ওর হঠাৎ এমন মেনে নেওয়া আচরণে কিছুটা অবাক হয় আদ্র ।
চোখ সরু করে ঠোঁট ঠেলে মৃদু হাসে ।
পিছনে রুবিনা কাবির এসে পৌঁছেছেন । হাতে ফাস্ট এইড বক্স । রৌদ্র কে ওয়াশ রুমে ঢুকে যেতে দেখলেন তিনি । বললেন…..
” কি বললি ওকে ?
আদ্র ঘাড় কাত করে । ধীরে প্রত্যুত্তর করে….
” রৌদ্রের তেজ দমনের জন্য মেঘের আবডাল প্রয়োজন,, আম্মু । সেই আবডাল পেলে আপনা আপনি দমে যাবে ও । চিন্তা করো না ,, তুমি যাও । আমি ওকে সামলে নেবো ।
” বলে দিবি মেঘার হোদিশ ?
” দেবো ! তুমিও তো বলতেই এসেছো বোধহয় ?
” তোর বাপ পাঠিয়েছে ?
আদ্র যেনো ঝটকা খেলো । সচকিতে অবিশ্বাস্য নয়নে তাকালো মায়ের দিকে । সন্দিহান হয়ে শুধালো….
” হোয়াট ?? আব্বু ?
” হু,,, নিজে কারসাজি সাজাবেন , আবার নিজেই উদারতা দেখাবেন । আর সহ্য হয় না আমার এসব !
সময় তখন দশটার কাছাকাছি । সবে রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ হলো ।
মেঘা একটু আধটু খাবার গলা দিয়ে নামিয়েছে কোনো রকমে । বাকিটা ছেড়ে উঠেছে । বসে ছিলো বাকিদের খাওয়া শেষ হওয়ার জন্য । অবশেষে শেষ হলো খাওয়া দাওয়ার পাট ।
রেহানা শিকদার এঁটো বাসন গুছিয়ে কিচেনে ঢুকলেন । সারা বেসিন থেকে হাত ধুয়ে এসে মেঘার সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসে । ধীরে বলে…
” রুমে চল ।
একসাথে পা বাড়ায় দুই রমনী । এমতসময় ডোরবেল বাজে । সারার বাবা খাওয়া শেষে একটু জিরিয়ে নিতে শরীর এলিয়েছিলেন সোফায় ।
কলিং বেলের শব্দে থামে দুই রমনী । ভদ্রলোক ও চকিতে তাকান দরজার দিকে । এই রাতে অসময়ে কে হতে পারে ?
উঠে দাঁড়ান তিনি । দৃঢ় পায়ে দরজা খুলে দেওয়ার জন্য সদরের দিকে এগোন ।
মেঘার কেমন অস্থির লাগে আচমকা । কে হতে পারে এই অসময়ে ? দেখার আগ্রহ জাগে । তাই দাঁড়িয়ে রয় সে ।
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৪
ভদ্রলোক দরজা খুলে দিলেন । অমনি ওপাড়ের জনকে দেখে আঁতকে ওঠে একবিংশী । বৃহৎ হয়ে আসে আঁখি জোরা । হৃৎপিণ্ড থমকায় এক মুহুর্তেই ।
ভদ্রলোক ও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছেন । রৌদ্র সটান দাঁড়িয়ে । দৃষ্টি সোজাসুজি ভেতরে অবস্থানরত মেঘার দিকে । ভদ্রলোক কিছু বলার আগেই রৌদ্র ত্রম্ভ পায়ে তাকে টপকে দ্রুত এগিয়ে আসলো । সিঁড়ির নিচে সারার পাশে মেঘা দাঁড়িয়ে নিস্প্রভ হয়ে । রৌদ্র এসেই আকস্মিক শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ওকে । রমনীর মাথা ঠেকে রৌদ্রের বুকের নিকট । ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে তার দূর্বল কায়া । রৌদ্র হাতের বাঁধন শক্ত থেকে শক্ততর করে । রমনীকে খুব করে মিশিয়ে নেয় নিজের বাহুডোরে । আগলে নেয় বুকের মাঝে । চোখ বুজে রমনীর মসৃন কাঁধের ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে ফিসফিস করে…..
” আ’ম সরি সুইটহার্ট । আ’ম হেয়ার….
