Home বাবুই পাখির সুখী নীড় বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৬৪

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৬৪

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৬৪
ইশরাত জাহান

তুহিনকে নিয়ে নিজ ঘরে আসে দর্শন।টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে তুহিন শোভার বইগুলো দেখতে থাকে।মৃদু হেসে বলে,“একটা সময় বউকে দূরে সরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতি আর এখন বউকে নিজের করতে পরীক্ষা নিয়েও মিথ্যা নাটক সাজালি!”
দর্শন দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,“ওই সময়টায় ওকে আমার ভালোলাগা ভাবতাম।”
“আর এখন?”
“অক্সিজেন।যেটা আমার খুব প্রয়োজন।”
“অক্সিজেন গ্রহণ করার পর কিন্তু কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করতে হয়।”
“এই জন্যই তো এখন আমি আমার নাটক সাজালাম।”
“অভিনয় করে আটকে রাখার কারণ?তাছাড়া পারবিও না বেশিক্ষণ।কালকেই তো ভার্সিটিতে গেলে ভাবী সত্যিটা জানতে পারবে।যখন দেখবে কোনো পরীক্ষা নেই তখন কি হবে ভেবেছিস?”
“নাটকটা করার কারণ আমার থেকে দূরে যাওয়া।দূরে গেলে ও একা হয়ে যাবে কিন্তু মানিয়ে নিবে।এখন ও আমার কাছে থেকে আমার থেকে দূরত্ব অনুভব করে জ্বলতে থাকবে।”

“তোর ভালো লাগবে ব্যাপারটা?”
“ক্ষণিকের জন্য সহ্য করে নেই।”
“তোর যে পেশেন্স!জানি না সাকসেস হবি কি না।”
“কেন জানি না মনে হয় এবার আমি জিতবো।”
“তুই হেরেছিস কবে?”
“শোভাকে নিয়ে প্রত্যেকবার আমার নেওয়া সিদ্ধান্ত আমাকে হারিয়ে দেয়।ওকে দূরে সরানোর সময়ও আমি হেরে গেলাম আজ ওকে নিজের করতে গিয়েও হেরে যাচ্ছি। আর কিভাবে বোঝাবো তোকে?”
“এক হাতে তালি বাজে না।”
দর্শন ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত ভাব দেখিয়ে বলে, “মানে?”
তুহিন খুব ভালোভাবে দর্শনকে চেনে।বউ মানে দর্শনের কাছে নিজের প্রপার্টি।তাকে নিয়ে যদি কিছু বোঝাতে চায় তো এই বন্ধুত্ব মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যাবে।তাই হালকা কেশে বলে,“এমনিতেই বললাম।সব সম্পর্কের ফাটল আসে দুই পক্ষ থেকেই।কারণটা হলো হতাশ হওয়া।তারউপর তুই হলি উগ্র মেজাজের রাজা।তোর প্রেমে মানুষ এক দেখাতে পড়লেও প্রেম থেকে পালাতে চাইবে সেই মুহূর্তেই।”

“তুই কেন প্রেম করিস না তাহলে? তোর তো কোনোকিছুর অভাব নেই।”
“আমি যাকে ভালোবাসি সেই আমাকে ভালোবাসে না।এর থেকে বড় অভাগা কেউ আছে এই দুনিয়ায়?”
দর্শন তাকালো তুহিনের দিকে।ছেলেটা আগের চেয়ে অনেক শান্ত হয়ে থাকে।দর্শনের সাথেও কথা হয়না।দেখা হয় অনেকদিন পর।তাও কি না দর্শন ডাক দিলে।দর্শন আজ সিদ্ধান্ত নিলো তুহিনকে কড়াভাবে ধরবে।তাই তুহিনের সামনে এসে জিজ্ঞাসা করে,“একটা মেয়েকে ভালোবাসিস ঠিক আছে।তাকে নিজের করতে পারবি না সেটাও মেনে নিলাম।তাই বলে আমাকে কেন ইগনোর করিস?”
তুহিন ভরকে গেলো।হালকা হেসে বলে,“কই ইগনোর করলাম?”
“করিসনি?”
“একদম না।”
“তুই অনেক চেঞ্জ হয়েছিস।আগের মতো তোর হাসি কান্নার কারণগুলো আমাকে জানাস না।”
তুহিন মাথায় হাত দিয়ে চুল সেট করে বড় করে নিশ্বাস ছাড়ে।দর্শনকে বুঝিয়ে বলে,“তোর বিয়ে হয়েছে। বউ আছে।লাইফ চেঞ্জ ইয়ার।এখন সময়টা বউকে ইম্পর্ট্যান্ট দেওয়ার।বেস্ট ফ্রেন্ড তো আছেই সারাজীবন তোর পাশে।”

“তুই আমাকে শেখাচ্ছিস আমার জীবন সম্পর্কে?”
দর্শনের রাগী দৃষ্টিতে কথাগুলো বলতে দেখে তুহিন স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় বলে,“চিল ইয়ার।আমি ভার্সিটির স্টুডেন্টদের শিক্ষা দিতে গিয়েই হাপিয়ে যাচ্ছি এখন আবার তোকে শিক্ষা দিতে যাব!আমার কি সেই কলিজা আছে?”
দর্শন আজ আর রাগলো না।কারণ তুহিন সবসময় দর্শনকে বুঝে সেভাবেই কথা বলে।দর্শনের উপর রাগ দেখিয়ে চলে না।কারণ দর্শনকে সে হাজার বোঝালেও কাজ হবে না বরং দর্শন উগ্র মেজাজের হয়ে ওঠে।এর থেকে দর্শনকে সেই বিষয়গুলো এড়িয়ে ওকে নিজের আপন করতে পারলেই লাভ।
তুহিন হাতঘড়ি খুলে টেবিলের উপর রেখে শার্টের দুটো বোতাম খুলে বলে,“ঘড়িটা যে টাইট হয়ে আছে মনে হয় আগের থেকে মোটা হয়েছি।”
দর্শন ঘড়িটা দেখে।তুহিন যেদিন প্রথম চাকরি পায় সেদিন এই ঘড়িটা তুহিনকে গিফট করে দর্শন।আজও পরে আছে।দর্শন ঘড়ি দেখে বলে,“নতুন একটা গিফট করবো।এটা ফেলে দিস।”
তুহিন সাথে সাথে ঘড়িটা নিজের কাছে নিয়ে বলে,“তোর দেওয়া গিফট আমি ফেলে দিবো ভাবলি কিভাবে?আমি এমনিতেই ওয়েট লস করবো।কয়েকদিন জিম করিনি তারউপর গ্রামে গিয়েছিলাম মাকে নিয়ে আসতে। কাকিরা তেলযুক্ত এত খাবার খাইয়েছে যে ওজন একটু বেড়েছে।”

“সে নাহয় জিম করবি কিন্তু তোর হাতে দাগ বসে আছে।হাতের মাপ দিস আমি নতুন গিফট করবো।”
তুহিন কথা না বাড়িয়ে দর্শনের হাতের দিকে চেয়ে মৃদু হাসে।তুহিনের দেওয়া ঘড়ি এখনও পরে আছে।জীবনের ধারা পাল্টে গেলেও দুই বন্ধু দুজনের স্মৃতিগুলো নিয়েই বেঁচে আছে।
দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে দুজনে তাকালো।শোভা ও দিজা হাতে নাস্তার ট্রে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দিজার হাতে কিছু স্ন্যাকস আর শোভার হাতে চায়ের ট্রে।দর্শন ও তুহিন দাঁড়িয়েই আছে দেখে দিজা ভিতরে ঢুকে তুহিনকে এক পলক দেখে টেবিলের উপর খাবার রেখে দর্শনকে বলে,“ভাবীর বইগুলো নিবে।”
“এজ হার উইশ।”
তুহিন সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে দর্শনকে।শোভা বড় বড় নিশ্বাস ছাড়ে নিকাবের আড়ালে।অভিমান বেড়েই যাচ্ছে। দিজা পড়ল বিপাকে।ভেবেছিল দর্শন ধমকে বলবে বই নিবে না।তাকে ঢং করতে না বলে পড়তে বসতে বল।এমন কিছু হলো না উল্টো ফ্রিডম দিয়ে দিলো। দিজা শুকনো ঢোক গিলে বলে,“ভাবী আ আজ থে থেকে আমার ঘরে থাকবে।”

দর্শন ভ্রুকুটি করে দিজার দিকে তাকালো।শোভাকেও একবার দেখে নিলো।দর্শনের এক্সপ্রেশন দেখে মনে হচ্ছে সে চায়না শোভা যাক এই ঘর ছেড়ে।শোভাকে আটকে রাখতে এখনই দর্শন কিছু বলবে।কিন্তু হলো তার উল্টো।শোভার চাওয়াকে এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে দর্শন বলে,“তাহলে সিনথিয়া কোথায় থাকবে?”
তুহিন কেশে উঠলো।দ্রুত চেয়ারে বসে পড়ে।শোভা রেগে বোম। দিজার মাথা ভনভন করছে।এই দর্শন কি না কি করেছে এতদিন শোভার জন্য এক রাত্রেই এত পরিবর্তন! দিজা মনে মনে ভাবছে,“এভাবে চললে সংসার হবে কীভাবে?”
মিনমিন করে দিজা বলে,“সিনথিয়াকে গেস্ট রুমে থাকতে দিচ্ছি।”
“মেয়েটা যদি ভয় পায়? এমনিতেই নিরিবিলি বাড়ি।বাইরের দিকটা দেখে তোরাই থাকতে পারিস না আর ও তো দুইদিনের অতিথি।তোর সাথে কমফোর্টেবল আছে।”
“তাহলে ভাবী?”
“সে কি করবে সেই ভালো জানে।”

শোভা এবার অভিমান করে ঘর ছেড়ে চলেই গেলো।গেস্ট রুম দর্শনের ঘরের পাশে।ওখানে সিনথিয়াকে থাকতে দিলে দর্শনের সাথে চিপকে থাকার আরেকটা কৌশল যে সিনথিয়ার মতো মেয়ে খুঁজবে এটা দর্শন ভালোই বুঝতে পারছে।তাই কথাগুলো বলেছে। এক কথায় এক ঢিলে দুই পাখি মারলো।ইচ্ছা করেই শোভাকে আঘাত দিলো। দিজা বইগুলো নিতে গেলে দর্শন বলে,“ভুলেও ওই মেয়েকে একা গেস্ট রুমে রাখবি না।কার না কার ক্ষতি করার প্লান করে দুর থেকে ধরতে পারবি না।ওকে চোখে চোখে রাখতে হবে।”
দিজা বইগুলো নিয়ে সম্মতি জানিয়ে চলে যায়।তুহিন প্রশ্ন করে,“ওই মেয়ের ক্যারেক্টার নিয়ে আমিও সন্দেহ করেছিলাম কিন্তু তোর কাজিন বলে তোকে এলার্ট করার সাহস পাইনি।ওকে এখানে রাখার দরকার কি?”
দর্শন পকেটে হাত গুঁজে বিরক্তির সাথে বলে,“সিনথিয়ার দেশে আসার কারণই হলো আমার কোম্পানির ডাউন করা।”

কথাটুকু শুনেই দিজা থমকে দাঁড়ালো দরজার আড়ালে।তুহিন অবাক হয়ে প্রশ্ন করে,“কি বলিস তুই?”
“হুমমম,যেদিন দিদার ওকে প্রথম এই বাড়িতে এনেছিল তার আগেই আমার কাছে একটা ফুটেজ আসে।সেখানে দেখা যায় আমার কোম্পানির নতুন প্রজেক্টের ডেটা কপি করতে যায় সিনথিয়া।তখন ও জানতো না যে এটা আমার কোম্পানি।আসলে আমার শত্রু ওকে পাঠায়।কে সে এটা জানি না।যখন ও আমার কেবিনে কাউকে প্রবেশ করার শব্দ পায় তখনই চেয়ারে বসে এমনভাবে থাকে যেনো ও অপেক্ষায় আছে কোম্পানির চেয়ারম্যানের জন্য।”
“ও মাই গড!”

“দিদার কেবিনে ঢুকতেই সিনথিয়া প্রথমে ভাবে দিদার চেয়ারম্যান।পরে দিদার সব প্রকাশ করতেই সিনথিয়া মনে করে আমার বাড়িতে এসে আমার সাথে থেকেই ও আমার কোম্পানির সব তথ্য চুরি করে নিতে পারবে।এটা বুঝলাম তখনই যখন ওর সম্পর্কে আমি খোঁজ চালাতে বলি আমার অ্যাসিস্ট্যান্টকে।আমাকে যেমন ধ্বংস করতে এসেছে এমনটাই আরেক কোম্পানির ক্ষতি করে এসেছে ও।”
“তোর কাজিন তো দেখি তোর মতোই ডেঞ্জারাস।”
দর্শন চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই তুহিন হেসে বলে,“আরে রাগ করিস না।জাস্ট কিডিং।”
“ওর মতো নোংরা অন্তত আমি নই।”
“নোংরা কখন বললাম?ডেঞ্জারাস বলেছি।যেমনটা তুই।কাউকে ধ্বংস করতে তোর এক সেকেন্ড সময় যায়না।বাই দ্যা ওয়ে ওকে কিভাবে শাস্তি দিবি?”
দর্শন চোয়াল শক্ত করে বলে,“বাকিদের যেভাবে দিয়েছি।”

তুহিন জানে ভালোভাবেই।সিনথিয়ার পরিণতি মৃত্যুর দিকে।সাপের লেজে পা দিয়েছে সিনথিয়া।ছোবল খাবার পালা।তুহিন কিছুই বলল না।হাত কাপল দিজার।দর্শন বলে,“যে মেয়ে নিজের স্বামীকে খুন করে পালিয়ে আসে সেই মেয়েকে এর থেকে ভালো শাস্তি আর কিই বা দিবো?”
তুহিন অবাকের সাথে বলে,“স্বামী!”
“হুমমম,ছেলেটা কোটিপতি ছিল।সিনথিয়ার নজর সেদিকেই আটকে ছিল।সব টাকা আত্মসাৎ করলেও যখন সে ধরা পরে ওই স্বামীর কাছে তখনই তাকে খুন করে।”
“তুই কিভাবে জানতে পেরেছিস?”
“ওই ছেলের মা ওর নামে মামলা করেছে।তার কপি উপর মহলে এসেছে।আমি ওর খোঁজ নিতে গিয়ে এসব পেয়েছি।”

“তুই আসলে কিসের জন্য ওকে আটকে রেখেছিস বল তো? টপকে ফেলা।”
“চাইলেই পারি আমি কিন্তু আমার গোপন শত্রুকে এবার নাকানি চুবানি খাওয়াতে চাই।দর্শন ফরাজির ধ্বংস চেয়েছে সে তাকে তো কিছু রয়ে সয়ে তারপর শেষ করতে হবে।”
তুহিনের কাছে এখন সিনথিয়ার ব্যাপারে সবকিছু পানির মতো স্পষ্ট।তুহিন আশ্বস্ত করে বলে,“আমি তোর পাশে আছি।হেল্প লাগলে বলবি।আমি আমার মামাকে দিয়ে তোর ক্রাইম ক্লোজ করে দিবো।”
কথাটা আস্তে করে বলায় দিজা শুনতে পায়নি।তুহিনের মামা একজন উকিল।দর্শনের হয়ে লড়ে।এর আগে যে কয়বার কেস উঠেছিল তিনি সব ক্লোজ করে দেন।বিনিময়ে ভালই টাকা পায়।
দিজা চলে যায়।দর্শন কথা পাল্টে বলে,“সেসব দেখা যাবে।তুই আজ আমার এখানেই থাক।আজকে না কয়েকদিন থাক।নাটকটা ইনজয় কর।”
“আমি!তোর বাড়িতে?”
“কেন আপত্তি আছে?”
“বাড়িতে তিন তিনটে মেয়ে আছে।”

“আমার ওয়াইফ নিয়ে আমি রিল্যাক্স আছি।ও পর পুরুষের দিকে ভুলেও তাকাবে না।আমার বোনকে আমার শিক্ষা দিয়ে বড় করা।তাই ওকে নিয়েও আমার সন্দেহ নেই।বাকি আছে আরেকটা।ওটার থেকে তো তুই নিজেই পালাতে চাইবি।তাই আমি গ্যারান্টি আমার বাড়িতে তুই থাকলে কোনো সমস্যা নেই।তাছাড়া তুই আর আমি একসাথে বাইরে যাবো কাজ শেষ করে একসাথেই আসবো।আমার নজরে থেকে তুই কিছুই করতে পারবি না।”
তুহিন কপাল চাপড়ে বলে,“ইচ্ছা করে ওই মেয়ের ফাঁদে ফেলতে আমাকে রাখছিস।আমি কিছুই বুঝি না তাই না?”
দর্শন মৃদু হেসে বলে,“বুদ্ধি আছে তাহলে তোর?”
“আমার প্রফেশন কি তোকে অন্যকিছু বোঝায়?”
“আচ্ছা বাদ দে।আজকে রাতে পিকনিক করবো সবাই মিলে।”
“ওকে,এবার চল আমার কলেজে যেতে হবে আর তুই তো অফিসে।”
“হুমমম।”
তুহিন এগোতে নিয়েও আবার থেমে বলে,“ওয়েট!”
দর্শন ভ্রু কুঁচকে বলে,“আবার কি?”
“কালকে ভাবীকে ফেস করবি কিভাবে?”
“কালকের দিন আসলেই বুঝবি।”
“কিছু ঘটতে চলেছে?”
“হুমমম।”
তুহিন আর প্রশ্ন করে না।দর্শন কিছু চেপে গেলো।হয়তো এতেই ওর কাজ সফল করবে।

দর্শন আর তুহিন বের হতে নিলে সিনথিয়া সামনে চলে আসে।উপর থেকে শোভা আর দিজা দেখে বিরক্তির সাথে দাঁড়ালো।সিনথিয়া সালোয়ার কামিজ পড়েছে।তাও মেয়েটার মাঝে শালীনতা নেই।দর্শনের দিকে এক পলক চেয়ে মনে মনে দর্শনকে গালী দিয়ে তুহিনকে বলে, “হেয় হ্যান্ডসাম।আবারও দেখা হলো।”
তুহিন চশমা ঠিক করে বলে,“হুট করে চলতি পথে সামনে দাঁড়ালে তো দেখা হবেই।”
সিনথিয়া বুঝলো ওকে অপমান করেছে তুহিন কিন্তু গায়ে মাখলো না।কাজ সফল করার উদ্দেশে সব সয়ে নিচ্ছে মেয়েটা।দর্শন সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বলে,“কি চাই?”
সিনথিয়া হাত উঁচিয়ে ইশারা করে দেখাল টেবিলের দিকে।বলে,“ব্রেকফাস্ট রেডি।”
টেবিলের দিকে তাকিয়ে দর্শন বলে,“ক্ষুধা নেই।”
“স্যুপ খাওনি এখন আবার ব্রেকফাস্ট করবে না। জ্বর সেরেছে তোমার?দেখি তো।”
দর্শনের কপালে হাত দিতে নিলে দর্শন দূরে সরে যায়।সিনথিয়া হাত এগিয়ে নিতেই পরে যেতে নেয়।তুহিন মুখ টিপে হাসে।সিনথিয়ার উদ্দেশে বলে,“আমার ফ্রেন্ডের কেয়ার করতে আমি আছি মিস।”

“আপনি?”
“হুমমম,আজ থেকে এখানেই থাকবো।”
সিনথিয়া কপাল কুঁচকে তাকাতেই তুহিন জিজ্ঞাসা করে,“কোনো সমস্যা?”
সিনথিয়া ভরকে গিয়ে বলে,“না।”
অতঃপর নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বলে,“কেন সমস্যা হবে?বাড়িতে সিঙ্গেল হ্যান্ডসাম বয় থাকবে।এটা তো সৌভাগ্যের।”
রহস্যের হেসে দর্শন বলে,“এবার এটাকেও চাই তোমার?”
“আর ইউ জেলাস?”
দর্শন হেঁয়ালি হাসে।সে নাকি জেলাস!তাহলে তুহিনকে থাকতে দিতো নাকি?দর্শন এক ভ্রু উঁচিয়ে বলে,“আমি জেলাস হই এটাই তো তুমি চাও।”
তুহিন বিষম খেলো।সিনথিয়া দ্রুত গ্লাসে পানি এনে দিতেই তুহিন নাকোচ করে বলে,“লাগবে না।”
দর্শন পানির গ্লাস নিয়ে তুহিনের সামনে ধরে বলে, “আরে নে।মেয়েটা কষ্ট করে এনেছে। আফটার অল সিঙ্গেল হ্যান্ডসাম পেয়েছে।হাতছাড়া করতে দিস না।”
সিনথিয়া কনফিডেন্সের সাথে বলে,“এবার কিন্তু আমি সত্যিই কোনোকিছু পোড়ার গন্ধ পাচ্ছি।”
দর্শন বলে, “পুড়তেও পারে। কারো ভাগ্য তো কারো মন।”
বলেই আড়চোখে উপরের দিকে শোভাকে এক পলক দেখে।রেলিং ধরে দাঁত পিষে দাঁড়িয়ে আছে শোভা।মেজাজ এতটাই খারাপ হলো যে পাশে থাকা বড় ফুলদানি নিচে ফেলে দেয়।সোজা দর্শন ও সিনথিয়ার মাঝে গিয়ে পড়ে।সিনথিয়া আর দর্শন দুজনেই ছিটকে দূরে সরে যায়। এতে লাভ হলো না সিনথিয়ার। পায়ে আঘাত পেয়েছে মেয়েটা।

চোখ খিচে শক্ত করে রাগ মিশ্রিত কণ্ঠে বলে, “আর ইউ ব্লাইন্ড?”
শোভা বিড়বিড় করে বলে,“ব্লাইন্ড না হলে কি আর তোকে এই বাড়িতে থাকতে অনুরোধ করতাম!”
সিনথিয়া ঝাঁজ মিশিয়ে বলে,“এনসার দিচ্ছ না কেন?”
শোভাও বলে এবার,“আমাকে দেখে কি আপনার অন্ধ মনে হয়?চোখে দেখেন না?আমার চোখে দেখার ক্ষমতা আছে কি না বোঝার বোধ নেই আপনার?”
“পাঁচ ফুটের মেয়ের গলা চলে দশ ফুট।”
“তাও ভালো আপনার মত একেকটা ছেলে দেখেই তাদের উপর ঢলে পড়ি না।”
সিনথিয়া আঙুল উঁচিয়ে কিছু বলতে নিলে দর্শন তাড়াহুড়ো করে বলে,“তাড়াতাড়ি চল তুহিন।এদের কীর্তিকলাপ দেখলে তোর মাথা ব্যাথা করবে।”
বলেই দর্শন হাটা শুরু করে।সিনথিয়ার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইচ্ছা করে আঘাত লাগা পায়ে পারা দেয়।সিনথিয়া চিৎকার করে যেই দর্শনের শার্ট ধরতে নিবে দর্শন ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো সিনথিয়াকে।নিচে পড়ে চোখ খিচে বন্ধ করে।আজ এখানে সিনথিয়াকে দেখে কারোরই মায়া হয়না। উল্টো সবাই বিদ্রুপের হাসে।
দর্শন আর তুহিন চলে যেতেই দিজা ওড়নার আঁচল শক্ত করে ধরে বলে,“বাজে একটা মেয়ে।”
শোভাও সম্মতি দেয়। দিজা ঘরে আসতেই পিছন পিছন শোভা এসে দিজাকে দেখে হতাশার নিশ্বাস ছেড়ে বলে,“আজকে জানলে নাকি?কয়েকদিন ধরেই দেখছি এসব নোংরামি করে ও।”

“শিক্ষা দেওনা কেন ওকে?”
“তোমার ভাইয়ের কষ্ট লাগবে না!তাছাড়া তুমিও তো কম ছিলে না।আমাকে ঠেলে পাঠিয়েছিলে তোমার ভাইকে রাজি করাতে যেনো ওকে এই বাড়িতে রাখি।”
শোভা কটাক্ষ করে বললেও দিজা বিষম খায়।সিনথিয়ার ব্যাপারে যা শুনেছে এরপর দিজা কিছুই বলার মুখ রাখে না।মন খারাপ করে বলে,“খাল কেটে কুমির আনার জন্য সরি।”
“আমাকে সরি বলে কি হবে?কুমিরের হাত থেকে রক্ষা পেতে কি করতে হবে তাই ভাবো।”
“ভাববো।তুমিও কিছু ভাবো।”
“আমার পরীক্ষা।পড়তে হবে।”
“তুমি কি গো?তোমার সংসারে আগুন লাগাতে কেউ ব্যাস্ত তুমি পানি না ঢেলে পরীক্ষা দিতে ব্যাস্ত!”
“আগুনে পানি ঢালবো কার জন্য?তোমার ভাই!সেই তো আমার সাথে হেলাফেলা করে।তার মধ্যে কোনো স্থির আচরণ আমি পাইনা।সে কি আদৌ চায় আমি তার জীবনে থাকি নাকি শুধুই সম্পর্কে আটকে আছে বলেই অধিকারবোধ দেখায়!একমাস হয়ে গেলেই সে ছুটি দিয়ে দিবে।এই সবকিছুর মধ্যে আমি হাপিয়ে উঠেছি।এবার আমি সময়ের আগেই নিজেকে ছুটি দিতে চাই।তাই তো চলে যেতে নিয়েছিলাম।কিন্তু পারলাম কই?পরীক্ষা শুরু।”

সিনথিয়া বলে,“তুমিও একটু চেষ্টা করো ভাইজানের মন জুগিয়ে চলার।দেখো ভাইজান কি করে।”
“তার মন জুগিয়ে চলবো কিভাবে শুনি?আর চার পাঁচটা বৈবাহিক জীবনের মতো তো আমার বৈবাহিক জীবন না।তোমার ভাইয়ের কোন কথায় রাগ কোন কথায় অনুরাগ কিছুই তো বুঝি না।”
দিজা আচমকা বলে,“বোঝার চেষ্টা করেছো কখনও?দাদাজান তোমাকে অনেক কিছুই বলল।হ্যাঁ তুমিও ভাইজানের সাথে থাকতে রাজি হয়েছিলে এমনকি মন জোগানোর চেষ্টা করেছো কিন্তু ভাইজানকে চিনবে এমন চেষ্টা করেছো?তার রাগের কারণ কী জেনেছো?তার মুখে হাসি আসে কখন এটাও কি দেখেছো?তার ভালো লাগার মুহূর্তটা তাকে পরখ করে দেখেছো?যে তোমার তাকে তোমার কাছে কীভাবে ভালো রাখতে হবে এটা তো তোমাকেই জানতে হবে।”

শোভা তাকিয়ে আছে দিজার দিকে। দিজা শুকনো ঢোক গিলে বলে,“তোমার দোষ দিচ্ছি না আমি।তবে একটা কথা বলি।তুমি ভাইজানের সাথে সংসার করার পর থেকেই আমি অনেক পরিবর্তন দেখেছি ভাইজানের মধ্যে।তোমার জন্য ভাইজানের পাগলামো দেখেছি।তোমার জন্য ভাইজানকে পরিবর্তন হতে দেখেছি।সবার সাথে মিশুক হতেও দেখেছি।যে ভাইজান কারো পরোয়া করে না সেই ভাইজান তোমার পরোয়া করে।তোমার পরিবারের সাথেও ভাইজানের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।যেটা আশার বাইরে।ভাইজান বাচ্চাদের কখনও কোলে নেয়নি।অথচ তোমাদের বাড়িতে গেলেই মৌলির জন্য কতকিছু নিজ দায়িত্বে নেয়।তোমার ভাইকে আপন করেছে।তোমাকে নিজ দায়িত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিলো।তোমার জ্বর আসলেও রান্না করতে তো দেয়না উল্টো নিজে রান্না করে দেয়।তোমার যেনো কষ্ট না হয় সেই কথা ভেবে ভাইজান তোমার যত্ন নেয়।মুখে বলেছে তোমাকে মানে না কাজে করেছে উল্টোটা।একটা গম্ভীর একা জীবনের মানুষের মধ্যে কতটা পরিবর্তন চাও তুমি?”

শোভা মাথা নিচু করে। দিজা বলে,“স্বামী স্ত্রীর সংসার জীবন সম্পর্কে আমার ধারণা নেই বললেই চলে কিন্তু একেবারেই কিছু বুঝি না তাও না।ছোট থেকে যেমন তুমি শুনে এসেছো মেয়েদের কুড়িতেই বুড়ি হয়।বিয়ে দিলেই স্বামীর প্রতি যত্নশীল হতে হয়।স্বামীকে মান্য করতে হয়।এগুলো আমার শিক্ষার মধ্যেও আছে।আমাকেও আমার মা এসব শিখিয়েছে।দাদাজান তো সবসময় বলেন আমাদের দাদীজান নাকি তার কথায় উঠতো আর বসতো।বিয়ের পর আমরাও তাই করবো।সেখানে তোমাকে আমরা মাথায় রাখি ভাবী।এর একটা কারণ তুমি আমার ওই গম্ভীর ভাইজানের বউ।বাড়ির বউ হলো সবথেকে বড় সম্মানের।তার জায়গাটা সবসময় উপরেই থাকবে।আমি বাড়ির মেয়ে হলেও ওই বাড়ি থেকে এক সময় বিদায় নিবো।অতিথি হয়ে আসব দুই একদিনের জন্য।ওই পরিবার তোমার।দায়িত্ব তোমার।অধিকার তোমার।এগুলো কারো বলার অপেক্ষায় থাকলে তো হবে না।নিজেকে অধিকার ছিনিয়ে নিতে হবে।”
শোভার হাত ধরে দিজা অনুরোধ করে বলে,“ভাইজানকে একটু বুঝে চলো।দেখো না কি হয়।”
শোভা সম্মতি দিয়ে চুপ থাকে। দিজা বলে,“একটু বিশ্রাম নিয়ে পড়তে বসো।আমি তোমার জন্য চা করে আনি।ব্রেন ক্লিয়ার হবে।আজকে সারাদিন পড়ো।রাতে পিকনিকে তাহলে আনন্দ করতে পারবে।”
শোভা কিছুই বলল না।ওর মধ্যে ইতস্তত বোধ আসলে ও চুপ থাকে।মনে মনে অনুতপ্ত হয়। দিজা বুঝতে পেরে চা বানাতে যায়।

সারাদিন বই নিয়ে ব্যস্ত ছিল শোভা।সিনথিয়া কাজের নামে কোথাও গেছে।বাড়িতে আছে শুধু শোভা ও দিজা।তাই ওরা আলু আর চাল ধুয়ে রাইস কুকারে চাপিয়ে দেয়।দুপুরে কাঁচা মরিচ পেঁয়াজ ভেজে আলু ভর্তা করে সাথে কালো জিরা ভর্তা ও ডিম ভাজি।এগুলো দিয়ে দুই ননদ ভাবী তৃপ্তি করে খায়।
খাওয়ার পরেই দুজনে বই পড়তে মনোযোগী হয়।আজকে দিজার সাথে শোভার দিনটা ভালই গেলো।নির্ভেজাল মুহূর্ত।ঝগড়া হলো না অভিমান হলো না।কিন্তু তারপরও দর্শনের কথা মাথায় ঘুরছে বারবার।পড়তে বসে কয়েকবার চা পান করেছে দুজনে এর ঠিক নেই।তুহিনের দেওয়া সাজেশন কমপ্লিট করলো।অল্প কিছু বিষয় ছিল তাই সুবিধা হয় শোভার।
দর্শন আর তুহিন কিছু জিনিস নিয়ে বাড়িতে এসে দিজার হাতে সবকিছু দেয়। দিজার থেকে শুনলো,“ভাবী সারাদিন বই নিয়ে বসেছিল।এখন পড়া শেষ।”
তুহিন তাকালো দর্শনের দিকে।বউকে ঘরে আটকে রাখতে কি বুদ্ধি না খাটালো!একেবারে বই ছাড়া বউ সরল না।দর্শনের তারিফ করছে তুহিন।
সিনথিয়া আসার পর সবাই একসাথে ছাদে গেলো।দর্শন মুরগি কেটেই এনেছে।চারপিস করে।বার্বিকিউ বানাবে। নান কেনা আছে।সব মেরিনেট করছে দর্শন নিজেই।তুহিন বার্বিকিউ মেশিনে আগুন ধরায়।সিনথিয়া আগ বাড়িয়ে এসে বলে,“আমি হেল্প করি।”

তুহিন ধোয়ার কারণে চশমা খুলে সিনথিয়ার দিকে তাকাতেই মুখ হা হয়ে গেলো।সিনথিয়া শাড়ি পরেছে।স্লিভলেস হাতার।পাতলা নেটের শাড়ি।দর্শন এখনও তাকায়নি।এদিকে ফোঁসফোঁস করছে দিজা।দর্শনকে বিভিন্ন মশলা এগিয়ে দিয়ে সাহায্য করছিল।এবার মেজাজ এতটাই বিগড়ে গেলো যে হাতে থাকা টমেটো সসের বোতল জোরে চেপে ধরে।সমস্ত সস বোতল থেকে ছুড়ে আসে সিনথিয়ার গায়ে।
অন্ধকারে গায়ের উপর কিছু ছিটকে আসার কারণে সিনথিয়া চোখমুখ খিচে দিজাকে বলে,“চোখে কি সমস্যা হয়েছে তোদের?”
দিজা দাঁত চেপে বলে, “দেখছো না ভাইজানকে সাহায্য করছি।একটু তো সস লেগেছে গায়ে। এতে বকার কি আছে?”

সিনথিয়া কিছু বলতে নিলে দর্শন বলে,“ঝগড়া শুরু হয়েগেলো?পিকনিকের মুড নষ্ট করবি না কেউ।”
সিনথিয়া কিছু বলল না।শোভা এসেছে শসার ঝুড়ি হাতে নিয়ে।ঢিলাঢালা সালোয়ার কামিজের সাথে হিজাব বাধা মুখে।তুহিন না থাকলে হিজাব পড়তো না।হয়তো শাড়িও পড়তে পারতো।শোভা আসতেই চোখ তুলে তাকালো দর্শন।হালকা আলোয় শোভার চোখ দেখে আটকে গেলো দর্শন।চোখে কাজল দেওয়া।মোটা করে গাঢ় কালীর কাজল।এই চোখের আকৃতি দেখেই দর্শন চোখ ফেরাতে সাহস পাচ্ছে না।শরীরে শক্তি নেই যেনো অন্যদিকে ফিরবার জন্য।
দিজা মিটিমিটি হেসে তাকালো দর্শনের দিকে।তুহিন নিজের কাজে ব্যস্ত।এই ধোঁয়া ওর চোখের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। খুঁক খুঁক করে কেশে ওঠে।সিনথিয়া এগিয়ে যেতে নিলেই দিজা দ্রুত পা ফেলে সিনথিয়ার পায়ের উপর পারা দিয়ে চলে গেলো তুহিনের কাছে।ব্যাথা পায়ে আবারও পারা খেয়ে মেয়েটা পঙ্গু হবার পালায় এসেছে।চোখ খিচে তাকাতেই দেখে দিজা তুহিনের থেকে পাখা নিয়ে বলে,“আপনি সরুন।আমি আগুন ধরাচ্ছি।”

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৬৩

সিনথিয়া এবার দর্শনের দিকে তাকাতেই দেখে হ্যাংলার মত শোভাকে দেখছে।সিনথিয়া বিড়বিড় করে,“এই মেয়েকে দেখার কি আছে?কোনো সাজ তো দেয়নি উল্টো হিজাব পরে আছে।”
সিনথিয়া তাকাতেই শোভার চোখজোড়া দেখে নিজেও অবাক।শোভার সাজার কিই বা দরকার?মেয়েটা এমনিতেই সুন্দরী।সাজ ছাড়াই আকর্ষণীয় লাগে।এত ফর্সা এত মিষ্টি মুখের আর্ট যে ওর সামান্য কাজল চোখে দিলেই সাজ পরিপূর্ণ।
সিনথিয়া হাত মুঠ করে চলে গেলো নিচে।এবার আরো বেশি সুন্দরকরে সাজতে হবে।শোভার থেকেও বেশি সুন্দর দেখাতে চায় নিজেকে।

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৬৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here