নীরব উন্মাদনা পর্ব ১০২
সুরাইয়া জিয়াসমিন
হারুন মির্জা রুমে প্রবেশ করতে আমিনা বেগম উঠে বসলেন,কাতর কন্ঠে বললেন
_ ” কোনো খবর পেলেন।”
হারুন মির্জার কন্ঠে ভেঙ্গে আসলো, কেমন ভাঙ্গা সরে বললো
_” নবনগরে একটা পুড়া লা,,লাশ পাওয়া গেছে,কাল সকালে আমাদের লাশ সনাক্ত করতে যেতে হবে। বর্ননা অনুযায়ী ধারনা করা হচ্ছে ওটা আ,আরহামের লাশ।”
আমিনা বেগম পিলে চম্কে উঠলেন। হতভম্ব হয়ে বললেন
_”আপনি এরকম কেনো বলছেন, এমন কিছুই না। ওটা আমার ছেলে হতেই পারে না।”
হারুন মির্জা শুকনো ঢোক গিলে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_” আল্লাহ না করুক এরকম কিছু।”
_”হ্যাঁ, ওটা আমার ছেলে না।আপনি একদম চিন্তা করবেন না।ওটা আরহাম হতেই পারে না।”
হারুন মির্জা কিছু সময় নিশ্চুপ থেকে বললো
_” নুবাকে কি নিয়ে যাবো?”
আমিনা বেগম কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_” আপনি পাগল হয়ে গেছেন,ওকে কিছু জানারোর দরকার নেই।আমরা সময় মতো যেএ দেখে আসবো।যেখানে ওটা আমাদের ছেলেই না তাহলে কেন ওকে নিয়ে যাবো।একদমি না, আরহাম এখনো বেঁচে আছে। আমার ছেলের সাথে এরকম কিছু হতেই পারে না।”
কথা শেষ হলো বাইরে থেকে কেউ দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকার শব্দ হলো।দুই জনেই ফিরে তাকালো। হারুন মির্জার আপেক্ষা করছিলো না গত কয় একদিন ধরে সবসময় নুবা হারুন মির্জা আসলেই রুমে চলে আসে যে কোনো খবর পেলো নাকি।আজো ব্যতিক্রম হয়নি সে এসেছিলো খবর নিতে তবে এই সব শুনে তার নিশ্বাস আঁটকে আসলো।
নুবাকে দেখে দুই জিনি চম্কে উঠলো।আমি বেগম এগিয়ে যেএ মলিন কন্ঠে বললো
_”তুই এখানে,আয়রা কোথায় ঘুমিয়েছে।”
নুবা আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে কথা ঘুরিয়ে কাতর কন্ঠে বললো
_”আমিও তোমাদের সাথে যাবো।”
আমিনা বেগম উত্তর দিতে পারলো না,নুবা আমিনা বেগমের এক হাত চেপে ধরে বললো
_”আমাকে নিয়ে যাবে না চাচি আম্মু,আমাকে নিয়ে চলো।আমি শুধু দেখে আসবো।আমি জানি ওটা আয়রার পাপা হতেই পারে না তাও দেখে আসবো,মনের শান্তি তো হবে বলো।”
আমিনা বেগম কম্পিত হাত নুবার এক গালে রাখলেন,নুবার চোখ গড়িয়ে পানি পড়লো,আমিনা বেগম মলিন কন্ঠে বললেন
_” আমরা যেয়ে দেখে আসলেই তো হবে,তোর যেতে হবে না। তুই গেলে,,,”
_ “না না আমি যাবো, আমাকে নিয়ে না গেলে আমি তোমাদের যেতে দিবো না।আমি যাবোই!”
হারুন মির্জা নুবার অস্থিরতা বুঝতে পেরে বললেন
_ ” আচ্ছা ঠিক আছে,যাবি তো,কোনো সমস্যা নেই।”
পরপর আমিনার দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারা করে মৃদু কন্ঠে বললো
_”আরহাম তো না তবে যেতে সমস্যা কি তাই না।”
আরও একটি রাত কেটে গেল, কিন্তু মির্জা বাড়ির কেউই যেন শান্তির ঘুম ঘুমাতে পারল না। চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে থাকলেও সবার মনে চলছিল অজানা এক ঝড়। পুরো রাত নুবা চোখের পাতা এক করতে পারলো না,নামাজের পাটিতে পড়ে রইলো, নামাজের ফাঁকে ফাঁকে বারবার তার দৃষ্টি আটকে যাচ্ছিল জানালার বাইরে অন্ধকার আকাশে, শুধু অপেক্ষা করছিল কখন ভোরের আলো ফুটবে। প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার কাছে একেকটা দীর্ঘ বছরের মতো মনে হচ্ছিল। তবুও তার মন একটাই আশায় ছিল,হয়তো সকালের আলো কোনো নতুন খবর নিয়ে আসবে। হয়তোবা ওটা আরহাম হবে না।
নুবার বুকটা কাঁপছে।লাশ সনাক্ত করতে বাড়ির সবাই যাচ্ছে শুধু আরশি বাদে,সে বাড়িতে এসেছে তবে রিহান বলেছে এই অবস্থায় যাওয়ার দরকার নেই তাই বাড়িতেই রয়ে গেছে তারা।
পরি মাত্র গোসল সেরে বেড় হলো।শরীরের নাবিলের দেওয়া চিহ্ন গুলো দেখে তার গা গুলিয়ে আসছিলো।ঘৃনায় শরীর রিরি করছিলো তবু মাথা পেতে নিয়েছে সে।
গোসল সেরে বেড় হতেই দেখলো নাবিল বিছানা বসে পেটে মলম লাগাচ্ছে।খতো সেরে গেছে প্রায়,তবু মাঝে মাঝে সমস্যা হয় তর উপর দাগ বিদ্যমান তাই মলম লাগাতে হচ্ছে।
পরি লাম্বা চুল গুলো মুছে বিছিনায় এসে বসলো। দুপুরের খাবার খাওয়া হয়নি তার,তাই নিজে যেএ খাবার রুমে নিয়ে এসে বারান্দায় যেএ নিরিবিলি খেতে লাগলো,নাবিল সবি খেলায় করলো। ইদানিং পরি নিজের খেলায় রাখছে, খেয়াল রাখছে বলতে হয়তোবা সব মেনে নিয়েছে।
নাবিল বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আড়মোড়া ভেঙ্গে বারান্দায় এগিয়ে গেলো,পরপর গম্ভীর কন্ঠে বললো
_” ভর দুপুরে এখানে বইসা কি করোস?”
পরি উত্তর দিলো না।তার মতো মানুষের সাথে কথা বলতেও পরির রুচিতে বাঁধে। উত্তর না পেয়ে নাবিল তেতে উঠে বললো
_” শুনিস না তুই কি বল্লাম।”
পরি হেলামি করে শান্ত কন্ঠে বললো
_”চোখ নেই?দেখেন না কি করছি?”
নাবিল ভুরু কুঁচকে বললো
_”সাহস বাইড়া গেছে,ত্যারা উত্তর দেস?”
পরি মৃদু কন্ঠে বললো
_”আপনার সাথে কথা বলতে চায় কে, আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। আপনার তো শুধু আমার শরীর দিয়ে কথা। রাতে ঠিকমতো পাচ্ছেন আমাকে এটাই আপনার ভাগ্য।এর থেকে বেশি আশা করবেন না।না আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই আর না কিছু শুনতে চাই!”
বলেই পরি ভাতরে প্লেট নিয়ে উঠে গেলো। বোতল থেকে পানি ঢেলে হাত ধুয়ে ওরনায় মুছে নিলো।নাবিল কথার উত্তর দিতে না পেরে ক্ষেপে গেলো তবে তার জিততেই হবে তাই রুমে এসে পরির হাত চেপে ধরে বললো।
_”তাইলে তোর কর্তব্য পালন কর। চল।”
পরির দাঁতে দাঁত চেপে আসলো,নাবিল পরিকে নিয়ে যেএ বিছানায় ফেললো।পরি তেতে উঠলো তবে কিছু বলতে পারলো না। কথায় না জিততে পেরে,পরির শরীরের উপর ঝাল উঠালো নাবিল।পরি শুরু চোখের পানি ফেলে সব সহ্য করে নিলো। একদিন এই জঘন্য পরিস্থিতি শেষ হবে সেদিন পরির থেকে খুশি আর কেউ হবে না।
কিছু মিনিট পার হলো।দরজা ঠেলে কেউ ভিতরে আসলো।পরি পিলে চমকে উঠলো,সে ভুলেই গেছিলো দরজা খোলা।নাবিলের রাগে শরীর ফেটে গেলো।রুমের ভিতরে কে ঢুকেছে তাও নক না করে কার এরকম সাহস।পরি নিজেকে গাঁয়ের উপর থাকা পাতলা চাদরটা দিয়ে ঢেকে নিলো,নাবিলের কমড় পর্যন্ত চাদরটা সে তা আর একটু টেনে নিয়ে পিছনে ঘুরে তাকালো।
রুমের ভিতরের অবস্থা দেখে মনে মনে বিব্রত হলেও জব্বার খান তবে তা প্রকাশ করলেন না।অন্য দিকে চোখ ঘুরিয়ে বললেন।
_” বাইরো আসো,কথা আছে।”
বলেই গটগট করে বেড় হয়ে গেলেন, জব্বার খানের গলা শুনে পরি চুপসে গেলো।বাপ এসেছে দেখে নাবিল টু শব্দ করলো না। পরপর পরির শরীর থেকে চাদর টেনে নিয়ে কমড়ে জরিয়ে নিলো,পরি চোখ মুখ খিচে নিলো।বুকটা কেঁপে উঠলো তার,
নাবিল আদেশ স্বরুপ বললো
_”হুইয়া থাক আইতাছি, বিছানা থেইকা উঠলে পা দুইটা ভাইঙ্গা দুয়ারের সামনে ঝুলাই রাখমু।”
বলেই নাবিল রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো, পরি নগ্ন বদন খানা তাড়াতাড়ি বিছানার চাদর দিয়ে ঢেকে নিলো।যেখানে নিজের শরীর দিকে নিজেরি তাকাতে লজ্জা লাগে সেখানে এই সব মানুষ এরকম অমানুষের মতো কাজ কিভাবে করে বেড়ায় তার জানা নেই!’
নাবিল লিভিং রুমে এসে জব্বার খানের সামনে বসে বললো
_ “কি হইছে?”
জব্বার খান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন
_” অন্ততপক্ষে দরজাটা লাগিয়ে নেওয়া উচিত ছিলো তোমার!’
নাবিল বিরক্ত হয়ে বললো
_”কি কইবা কও , তুমি তো আর ডাকোনের সময় পাও না।”
মর্গে দাঁড়িয়ে আছে মির্জা পরিবার তবে ভিতরে দুই জনি যেতে পারবেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো আমিনা আর হারুন মির্জা যাবে তবে নুবা ভিতরে যাবেই যাবে,তাই অনুরোধ করে তিন জনকে ঢুকতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলো।
নুবা যত এগিয়ে যাচ্ছে ততই তার নিশ্বাস আঁটকে আসছে,আমিনা বেগম বারবার শুকনো ঢোক গিলছে, এমন কিছু যাতে না হয় তাই প্রার্থনা করছে।
এক পর্যায়ে তারা সেই কক্ষে পৌঁছে গেলো।সামনে তাদের দেখানোর জন্য লাশটা বেড় করে রাখা হয়েছে, পুলিশ কর্মকর্তা এগিয়ে গেলো মৃদু কন্ঠে বললো
_ “আপনারা ভেঙ্গে পড়বেন না,এখনো নিশ্চিত করা যাচ্ছে না এটা কার লাশ, অনুরোধ রইলো পর্যবেক্ষণ করে বলতে পারবেন এটা আপনাদের ছেলের কিনা। আমাদের সনাক্ত করতে সাহায্য করুন!”
কথা গুলো বলতে বলতে পুলিশ কর্মকর্তা এগিয়ে গেলো। দাঁড়িয়ে থাকা তিন জনের হার্ড বিট বেড়ে গেলো, নুবা চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রইলো,মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করলো সে যাতে সব মিথ্যা হয়,,
সময়ের পরিবর্তনে আস্তে আস্তে লাশটার মুখ থেকে সাদা কাপড় সরিয়ে দিলো।সাথে সাথে নুবা আর আমিনার গা ঝাড়া দিয়ে উঠলো।নুবা ভয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিলো।মুখ পুরে গলে গেছে কেমন ভয়ংকর দেখাচ্ছে।চেনার উপায় নেই।
নুবা দুই কদম পিছিয়ে যেএ মৃদু কন্ঠে বললো
_” আপনারা ভুল ভাবছেন,এটা আমার স্বামী না।চলো চাচি,এটা তোমার ছেলে না, কিছুতেই না!’
নুবা এখান থেকে বেড় হতে চাইলো,আর তাকাতে পারছে না সে এক ঝলক দেখেই তার গা ঝিমঝিম করছে।বুক ভেঙ্গে আসছে ভয়ে শরীর কেমন কাঁপছে।
পুলিশ কর্মকর্তা এগিয়ে এসে বললেন
_”আপনি পেনিক হবেন না, আমাদের সনাক্ত করতে সাহায্য করুন।লাশের কাছ থেকে কিছু জিনিস পেয়েছি আমরা সেগুলোও দেখানো হবে ধৈর্য ধরুন।”
নুবা শুনতে চাইলো না পুলিশ কর্মকর্তা কথা,কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”আমি বলছি তো এটা আমার husband না,আপনি কেন বুঝতে পারছেন না।চাচা চলো আমার এক মূহুর্ত এখানে থাকবো না।”
হারুন মির্জা কম্পিত শরীর নিয়ে এগিয়ে এসে বললেন
_ “শান্ত হো,”
পরপর পুলিশ কর্মকর্তা দিকে তাকিয়ে বললো
_”আপনি কিছু মনে করবেন না,ভয় পেয়ে গেছে তাই হয়তোবা এমন করছে।আমি সবটা দেখছি।”
নুবা আর আমিনা দূরে দাঁড়িয়ে রইলো,আমিনা নুবা কেউ দ্বিতীয় বারের মতো লাশটা দেখতে পারলো না, তাদের কলিজা কাঁপছে,সেই সাহস নেই।
হারুন মির্জা কম্পিত শরীর নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার কথা অনুযায়ী খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব দেখলো। হারুন মির্জার শরীর ভেঙ্গে আসছে সাথে কন্ঠ কথা বলতে পারছেন না তিনি।
লাশ দেখা শেষ হলে হারুন মির্জা আমতা আমতা করে বললো
_” উচ্চতা ব্যতিত তেমন কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছি না।”
হারুন মির্জার কথায় নুবা খুশি হয়ে গেলো। চোখের পানি ফেলে বললো
_”আমি বল্লাম না এটা উনি হতেই পারেন না!”
পুলিশ কর্মকর্তা মৃদু কন্ঠে বললো
_”ভাগ্যক্রমে হাতের ছাপ পাওয়া গেছে,আর কিছু জিনিস।অনুমতি দিলে আপনাদের DAN টেস্ট করা হবে সাথে সব মিলিয়ে দেখা হবে।
হারুন মির্জা মৃদু কন্ঠে বললেন
_”হ্যাঁ হ্যাঁ,যা ভালো তাই করুন।”
নুবা চুপচাপ বসে আছে,আমিন বেগম আর হারুন মির্জার DNA test করা হয়েছে,এখনো সব রিপোর্ট আসেনি, অবশ্য অন্য কারো ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে ১ সপ্তাহ লাগিয়ে দিতো এই সব করতে তবে হারুন মির্জার ক্ষেত্রে ৩/৪ ঘন্টা সময় চেয়েছে,বলেছিলো তাদের বাড়ি চলে যেতে তবে তারা কেউ যেতে চাইছে না। অপেক্ষা করছে।
নুবা মনে মনে দোয়া করছে সব যাতে মিথ্যা হয় , এদিকে সবার মুখে চিন্তার ভাব। কিছু ঘন্টা এভাবেই কেটে গেলো। অনেকটা সময় পর দুই জন পুলিশ সদস্য আসলেন। হারুন মির্জা উঠে দাঁড়ালেন।
পুলিশ কর্মকর্তা মৃদু কন্ঠে বললেন
_” আপনি একটু আমাদের সাথে আসেন।”
হারুন মির্জা মাথা ঝুঁকিয়ে তাদের সাথে চলে গেলেন।
আলাদা একটা স্থানে নিয়ে যেএ পুলিশ কর্মকর্তা মৃদু কন্ঠে বললেন
_”বিষয়টা ওখানেই জানাতে পারতাম তবে উনারা অনেক ভেঙ্গে পড়েছেন,
হারুন মির্জার বুকটা ছ্যাত করে উঠলো, কেমন বিচলিত কন্ঠে বললো
_”কি,কি বলতে চাচ্ছেন,ওটা আরহাম না আমি জানি।”
পুলিশ কর্মকর্তা মাথা নিচু করে বললেন
_”আপনিও ভেঙ্গে পড়লে কি করে হবে,sir সত্য তো আর চাঁপা দেওয়া যায় না।”
হারুন মির্জা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”মিথ্যা, এমন হতেই পারে না, আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে!”
_ “জানতাম আপনাদের এরকম টাই মনে হবে তাই আমার ১ বারের জায়গায় ২/৩ বার চেক করেছি তবে প্রতিবার একি ফলাফল এসেছে।”
হারুন মির্জা কাঁপতে লাগলেন, অস্থির কন্ঠে বললেন
_”তাহলে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো বলুন কি হয়েছে?”
পুলিশ কর্মকর্তা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_”ফিঙ্গারপ্রিন্ট ৩ বার চেক করা হয়েছে তবে বরাবরই মিলে গেছে।DNA test ও মিলে গিয়েছে,সাথে উচ্চতা, আপনাদের বলা অনুযায়ী বোডি সেপ, সাথে সেই আন্টিটা, আপনার বউ মা বললো উনি নাকি অনমিকা আঙ্গুল আন্টি পড়তেন, অবশ্য আন্টি টাও পুরে গেছে তাও বর্ননার সাথে মিলে যাচ্ছে,আপনি বুঝতেই পারছেন আমি কি বলতে চাইছি!”
হারুন মির্জা সাথে সাথে বুকের পা পাশ চেপে ধরলেন,পড়ে যেতে নিলেন তিনি, পুলিশ কর্মকর্তা চম্কে উঠলো। তাড়াতাড়ি করে হারুন মির্জাকে চেপে ধরলেন যাতে পড়ে না যায়, জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলেই সমস্যা যদি ঘাড়ের রগ ছিরে যায়।”
_ “sir নিজেকে সামলান,এভাবে ভেঙ্গে পড়বেন না।আপনি এরকম করলে বাকি সবার কি হবে?”
প্রায় আধ ঘন্টা খানিক পর হারুন মির্জা সবার সামনে এসে দাঁড়ালো।তার শরীর চলছে তো চলছে না।বারবার কপাল ভিজে উঠছে। শরীর কাঁপছে তার।সে ভেবেছে কাউকে কিছুই বলবে না, কয়দিন গেলে বলবে এখন মোটেও বলা যাবে না।
হারুন মির্জা কে আসতে দেখে সবাই উঠে দাঁড়ালো । আমিনা বেগম এগিয়ে যেএ বললো
_”কি,,কি হলো?”
হারুন মির্জা একটু হাসার চেষ্টা করে বললেন
_”না,না মি,মিলেনি।সবাই বাসায় চলো। ও,,ওই লাশ আ, আমাদের ছেলের না।”
আমিনা বেগম কথাটা শুনে কান্না করতে করতে এক চিলতে হাসি দিয়ে বললেন
_”দেখলে বলেছিলাম না, শুধু শুধু কত ভয় পেলাম।”
অতঃপর আমিনা বেগম নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_”চল নুবা,আর বসে থাকতে হবে না।সবাই কান্ত। উঠ তাড়াতাড়ি।”
হারুন মির্জা সবার আগে হাঁটা দিলেন, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না তিনি।এই বিষয়ে কিছুই বলবেন না তিনি অবশ্য আরাফকে বলতেই হবে কারণ হারুন মির্জা বলে এসেছেন লাশ যাতে বাড়িতে না পাঠায়,আজ রাতের দিকে আরাফকে নিয়ে আসবে সে অতঃপর লাশ নিয়ে যেএ দাফন কার্য সম্পূর্ণ করবে। এমনিতেই লাশের অবস্থা বেশি ভালো না ,তাই। অবশ্য এই নিয়ে তদন্ত করতে বলেছেন তিনি যাতে পুরো ঘটনা জানা যায়।
নুবার কেমন খটকা লাগলো।যদি সত্যিই এমন হয় তবে হারুন মির্জার চেহারা এমন দেখালো কেনো।আর আলাদা ভাবেই কথা বললো কেনো।নুবার ভাবনার ভিতরে হাজেরা নুবাকে তাড়া দিয়ে বললেন
_”চল!”
নুবা ফট করে হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”ওখানেই থেমে যাও চাচা আব্বু।”
নুবার চিৎকারে সবাই পিলে চমকে উঠলো, হারুন মির্জার পা থেমে গেলো।নুবা আয়রাকে হাজেরার কোলে দিয়ে ব্যস্ত পায়ে এগিয়ে যেএ হারুন মির্জার সামনে দাঁড়িয়ে অস্থির কন্ঠে বলে উঠলো
_”আমি,,আমি রিপোর্ট গুলো দেখতে চাই।যতখন না দেখছি তত খন শান্তি হচ্ছে না।”
হারুন মির্জার বুকটা কেঁপে উঠলো, থতমত খেয়ে বললো
_”না,না তোর,তোর কেন দেখতে হবে, উনারা বলেছেন কোনো কিছুই মিলেনি,বা,,বাসায় চল।”
নুবা হারুন মির্জার মুখের দিকে তাকালো, হারুন মির্জা ফ্যাকাশে মুখ দেখে নুবা ছলছল চোখে বললো
_”আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলো,এভাবে মুখ লুকাচ্ছো কেনো?”
হারুন মির্জা নিজেকে কোনো মতে নিয়ন্ত্রণ করে বললেন
_”কি লুকাবো,বাসায় চল। বিকাল হয়ে যাচ্ছে এখনো খাওয়া দাওয়ার নাম নেই,চল।”
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”না না,আমি সবটা নিজের চোখে দেখবো।চলো আমার সাথে,ওই লোককে ডাক দেও।”
বলেই নুবা এগিয়ে যেতে নিলো , হারুন মির্জা অশান্ত কন্ঠে বললো
_”বল্লাম তো কিছুই মিলেনি কেনো তামাশা করছিস বাসায় চল।”
নুবা কঠিন কন্ঠে বললো
_ “না আমি দেখবো।”
হারুন মির্জা এবার একটু ধমক দিয়ে বললেন
_”অতিরিক্ত করছিস নুবা, আমার কথা শুন।”
নুবা ফুঁপিয়ে উঠৈ বললো
_”দেখলে কি সমস্যা,একটু দেখি,মনের শান্তি হবে।”
_”আমি বলছি তোর শান্তি হচ্ছে না,নাকি আমাকে অবিশ্বাস্য করছিস।”
_”হ্যাঁ অবিশ্বাস করছি, আমার সাথে চলো।”
হারুন এবার চেঁচিয়ে উঠে বললেন
_ “কেনো নিজেকে শেষ করতে চাইছিস, দেখতে হবে না,বুঝলি দেখতে হবে না।”
হারুন মির্জার কথায় সবাই থমকে গেলো।আমিনা বেগম ধপাস করে ওখানে বসে বসে পড়লেন,নুবা সবটা বুঝলো তাও তার অবুঝ মন সব সরাসরি জানতে চাইলো তাই নিজেকে শক্ত রেখে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”আমি জানতে চাই, আমাকে জানতে দেও। please”
হারুন মির্জা নুবার হাত ছেঁড়ে দিয়ে বললো
_”তাহলে যা নিজেকে শেষ করে আয়।”
পুলিশ কর্মকর্তার মুখের কথা শুনে সাথে সাথে নুবার শরীর নুইয়ে পড়লো ।সে যেনো মুখের শব্দ হারিয়ে ফেললো।আমিনা বেগম আর্তনাদ করে উঠলো,ইশিতা দৌড়ে যেএ শাশুড়িকে আঁকড়ে ধরে বলে উঠলো
_”মা নিজেকে সামলান।”
নুবা কিছু সময় নিশ্চুপ,কোনো কান্না করলো না সে শুধু নিরবে উঠে দাঁড়ালো।কোনো দিকে না তাকিয়ে হাঁটা দিলো সে বাইরের দিকে।হাজেরা নুবা বলে চিৎকার করে তার পিছনে ছুটে গেলো।
নুবা বাইরে আসতেই হাঁটু গেড়ে কাঁচা রাস্তায় বসে পড়লো,তার যেনো আর পা চলছে না।সে বারবরা কেমন করে নিঃশ্বাস ফেললো পরপর দুই হাত বুকে চেপে ধরে আর্তনাদ করে উঠলো সে।গলা ফেটে গেলো তার চিৎকারে।তার মনে হচ্ছে সব শেষ, শেষ সব।
নুবার হাহাকারে চারদিকের নিস্তব্ধতা বিদীর্ণ হয়ে গেল। সে উন্মাদের মতো মাটিতে লুটিয়ে পড়ে দু’হাতে মাটি খাবলে আঁকড়ে ধরল, যেন এই পৃথিবীটাই তাকে ধরে রাখুক। নখের নিচে মাটি জমে গেল, হাতের তালু ছড়ে রক্ত বেরোল, তবুও সে থামল না। আর্তনাদ করে বললো
_”এমন টা হতে পারে না,সব মিথ্যা।আমি বিশ্বাস করি না!আমি মানি না এই নিয়তি!”
পিছন থেকে হাজেরা ছুটে এসে আহাজারি করে নুবাকে জরিয়ে ধরলো নুবা পাগলের মতো মাটি হাচরে চিৎকার করে বললো
_ “আমার স্বামীকে ফিরিয়ে এনে দেও।”
হাজেরা নুবার বাহু চেপে ধরে কান্না করতে করতে বললো
_”নুবা,এটাই সত্যি মানতে হবে নুবারে।”
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো সে মানবে না।সে কিছু্ই বিশ্বাস করে না।এর ভিতরে সবাই ছুটে আসলো।
নুবার অবস্থা দেখে সবাই আরো ভেঙ্গে পড়লো।আরাফেরো মায়া হলো ছন্নছাড়া নুবাকে যেএ শান্ত করার চেষ্টা করলো।আরাফের স্পর্শ পেয়ে তার মুখটা দেখে নুবার শরীর ঘৃনায় আরো রিরি করে উঠলো দুই হাত দিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো চিৎকার করে বললো
_”আমাকে ধরবি না,কেউ ধরবি না আমাকে।”
পুলিশ কর্মকর্তা এসে বিচলিত কন্ঠে বললো
_ “আপনি নিজেকে সামলান মিসেস মির্জা ,সত্য মেনে নেওয়াই উত্তম।”
নুবা লাল বর্ন চোখে পুলিশ কর্মকর্তার দিকে তাকালো পরপর ফট করে সবাইকে ঝাড়া মেরে উঠে দাঁড়িয়ে পুলিশ কর্মকর্তার কলার চেপে ধরে চিৎকার করে বললো
_”মিথ্যা বলছেন আপনারা,সব মিথ্যা, আমার স্বামী বেঁচে আছে।উনি আমাকে আমার সান্তনকে এভাবে ফেলে রেখে যেতে পারেন না।”
পুলিশ কর্মকর্তা নুবার কথায় থতমত খেএ বললেন
_” মিথ্যা কেনো বলবো মিসেস, এতে আমাদের লাভ কি,আমারা সনাক্ত করেছি,DNA , ফিঙ্গারপ্রিন্ট এমন কি __
বাকি কথা বলার আগেই নুবা ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো পুলিশের গালে,সবাই হতভম্ব হতে পারলো না তার আগেই পুলিশের গলা চেপে ধরলো নুবা,লাল বর্ন চোখে হুংকার ছেড়ে বললো
_”আর একটা কথাও বলবি না তোরা,সব মিথ্যুক,সবাই মিথ্যা বলছে।ওই লাশ আরহামের না,আমি আমার স্বামীকে চিনি ওটা আরহাম না।”
হারুন মির্জা এগিয়ে এসে নুবাকে ছাড়িয়ে নিলেন তার থেকে ভাঙ্গা কন্ঠে বললেন
_”কি করছিস।”
নুবা নিজেই লুটিয়ে পড়তে লাগলো,মুখ দিয়ে বিরবির শব্দ বেড় হলো
_”আয়রার পাপা আমাকে ছাড়তে পারে না। এমন হতে পারে না।”
নুবা পাগলের মতো আলাপ করতে লাগলো,সে পাগল হয়ে যাচ্ছে ,মেনে নিতে পারছে না নিয়তি,
_”আরহাম, আরহাম ”
বলতে বলতে নুবা ওখানেই মাথা ঘুরে পড়ে গেলো। হারুন মির্জা নুবা পড়ে যাওয়ার আগেই নুবাকে বুকে আগলে নিলো,পরপর পুলিশ কর্মকর্তার দিকে তাকিয়ে বললো
_” আসলে,,,”
বাকি কথা বলার আগেই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে দিলো।বুঝতে পারলো নুবার অবস্থা তাই নিজেই বলে উঠলো
_”sir আমি কিছু মনে করিনি।”
এদিকে আমিনা বেগম স্তব,মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।আতংকে কান্না করতে ভুলে গেছেন
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই মির্জা বাড়ি মানুষে মানুষে ভরে উঠল। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, পরিচিত,সবাই ছুটে এসেছে শেষবারের মতো আরহামকে বিদায় জানাতে। লিভিং রুম সহ বাগান জুরে নেমে এসেছে ভারী শোকের আবহ, চারদিকে শুধু চাপা কান্না আর দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।
রিহান আর কিছু কাজিন মিলে সবাইকে খবর দিয়েছে।সাথে সব সামাল দিচ্ছে।আরশি ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ভেঙ্গে পড়েছে।রিহান না এদিকে যেতে পারছে না ওদিকে। তবে আত্মীয় স্বজন আশায় ভালো হয়েছে।বাড়ির মানুষদের একটু সামাল দিতে পারছে।
সন্ধ্যার আযানের আগ মূহুর্তে অ্যাম্বুলেন্স এসে বাড়ির সামনে থামল।লাশের কার্যক্রম শেষ করে পাঠানো হয়েছে,সাদা কাফনে মোড়ানো আরহামের নিথর দেহটি নামিয়ে আনা হলো। মুহূর্তেই চারপাশে কান্নার রোল পড়ে গেল। হারুন মির্জা এই সব কিছুর ভিতরেও নিজেকে শক্ত রেখে পুলিশদের জানান দিলো পুরো বিষয়টা তদন্ত করতে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নাটি কেউ করেছে তা যাচাই করতে। পুলিশ কর্মকর্তা আশা দিয়েছেন সন্দেহের তালিকায় যারা যারা আছে সবাইকে আবারো জিরা (যাচাই)করা হবে।
লাশ বেশি সময় রাখা হবে না,কোনো আত্মীয় স্বজনদের জন্য রাখরা সময় নেই অবস্থা খারাপ যতো রাখা হবে তত খারাপ প্রভাব পড়বে তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কবর দেওয়া হবে।
কিছুক্ষণ পর মসজিদের মাইকে ঘোষণা ভেসে এলো
_”হারুন মির্জার বড় ছেলে মরহুম আরহাম মির্জার জানাজার নামাজ আজ সন্ধ্যার নামাজের পর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। সকল মুসল্লিকে জানাজায় শরীক হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করা যাচ্ছে।”
মাইকের প্রতিটি শব্দ যেন বাতাস চিরে মির্জা বাড়ির প্রতিটি মানুষের বুকে গিয়ে আঘাত করল। বাস্তবটা আর অস্বীকার করার উপায় রইল না,আরহাম সত্যিই আর ফিরে আসবে না। বাড়ির প্রতিটি কোণ, প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি নিঃশ্বাসে তখন শুধুই এক গভীর শোকে কাতর হয়ে আছে।
আমিনা বেগমের পেশার বারবার বেড়ে যাচ্ছে,সবাই মিলে তাকে শান্তনা দিচ্ছেন,চুপ করতে বলছেন, আয়রা ইশিতার কাছে।ইশিতার ওতোটা কষ্ট হচ্ছে না তবে সবার কান্না দেখে তার চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে।
_ ” আমি একটু দেখে আসি, আমাকে একটু দেখতে দেও মা, আমাকে একটু যেতে দেও।”
হাজেরা মেয়েকে বুকে জরিয়ে নিয়ে হুহু করে কেঁদে উঠে বললেন
_” না না যেতে হবে না, সহ্য করতে পারবি না। শান্ত হ।”
নুবার গলা বসে গেছে কান্না করতে করতে।তার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না আরহাম আর নেই।
পুলিশ কর্মকর্তা মৃদু কন্ঠে বললো
_”যেভাবে থাপ্পর মেরে গলা চেপে ধরেছিলো এক মূহুর্তের জন্য আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম। কি একটা অবস্থা।”
পাশ থেকে একজন বলে উঠলো
_” দুঃখে পাগল হয়ে গেছে। যাক মাথার উপর থেকে আপদ টেলে গেলো।লাশ নিয়ে চিন্তিত ছিলাম কার না কার।
সামনের জন মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_” হ্যাঁ, Mr মির্জা খুবি সৎ এর জন্য তার কপালেই হয়তোবা এমন হলো।গত এক মাস ধরে মাথাটা খেএ ফেলছিলো তবে আমাদের প্রাপ্তটা দেওয়ার নামে নেই। ভালোই হয়েছে বেঁচে গেলাম। জীবনে শান্তি ফিরে আসলো।”
_”কিভাবে শান্তি ফিরে আসলো, ভেবেছিল লাশ পেয়ে বালা মাথার উপর থেকে কেটে যাবে এখন খুঁজে বেড় করতে বলছে কে করেছে, এটা কি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নাকি হত্যা,,তখন হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খোঁজা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম এখন আবার তদন্ত করতে হবে। ঝামেলা যেনো আরো বেড়ে গেলো।”
এই কথা শুনে সবার বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো। এখন খুঁজে বেড় করতে হবে সব,আর না বেড় করতে পারলে হয়তোবা মাস,বছর পর কেসের ফাইলটায় ধুলো জমে যাবে।
নুবার হাত পা কাঁপছে,বারবরা জ্ঞান হারাচ্ছে সে, নিস্তেজ হয়ে পড়ছে।তার অপেক্ষা যে আর শেষ হলো না,কেনো সব জানলো সে? না জানলে হয়তোবা সারা জীবন অপেক্ষা করতো।
এর ভিতরে অনেকেই জেনে গেলো নুবা আরহামের স্ত্রী কেউ আবাক হলো না কারণ আরহামকে কেউ তেমন চিনে না তাই হতেই পারে স্বাভাবিক।মেহেরিমারাও এসছে।যতোই হোক মানুষের মৃত্যুর সময় রেগে বসে থাকলে হয় না।
হাজেরা বেগম নুবার কান্না থামানোর চেষ্টা করলো,পাশ থেকে একজন বলে উঠলো
_” আপা কাঁদতে দেন,না হলে আরো কষ্ট হবে।ওকে ওর মতো কাঁদতে দিন।”
নুবা গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করে উঠলো আহাজারি করে বলে উঠলো
_”মা আমকে একটু যেতে দেও।আমি একটু দেখে চলে আসবো।উনাকে একটু দেখতে দেও।”
হাজেরা কিছু বলতেই যাবেন তার আগেই কয় একজন নুবার কাছে এগিয়ে এসে মৃদু কন্ঠে বললো
_” যেহেতু দেখতে চাইছে,একটু যেতে দেন। শেষ বারের মতো একটু দেখে নিক।”
অনেক কান্নাকাটি আর জোরাজুরির পর অবশেষে নুবাকে আরহামের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। গোসল সম্পন্ন হয়েছে, সাদা কাফনে মোড়ানো আরহাম নিথর হয়ে শুয়ে আছে। চারপাশে মানুষের ভিড় থাকলেও নুবার কাছে যেন পুরো পৃথিবীটাই নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। কাঁপতে কাঁপতে সে কয়েক পা এগিয়ে এলো, অথচ কাফনের দিকে চোখ পড়তেই তার পা যেন মাটিতে গেঁথে গেল। বিশ্বাস করতে পারছে না সে এই সব কিছু।
নীরব উন্মাদনা পর্ব ১০১
নুবার বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠল, কিন্তু কান্নার শব্দটুকুও যেন গলায় আটকে রইল। অপলক দৃষ্টিতে সে শুধু আরহামের নিথর দেহটার দিকে তাকিয়ে রইল, মনে হচ্ছিল এই বুঝি সে আদুরে কন্ঠে ডেকে উঠবে তাকে।
নুবা এক মূহুর্তের জন্য স্তব হয়ে গেলো। পরপর হাঁটু গেঁড়ে বসে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেলো সে।হাজেরা পিছন পিছন এসে নুবার মাথায় ওরনা টেনে দিলো কারণ আশে পাশে অনেক মানুষ।
