Home obsession vs love obsession vs love part 24 (2)

obsession vs love part 24 (2)

obsession vs love part 24 (2)
নিরুর কল্পনারাজ্য

তিয়া হঠাৎ করেই জ্ঞান হারালো। মির্জা পরিবারের কেও-ই এর কারণ বুঝে উঠতে পারলোনা। তারা চোখ ঘুরিয়ে পাশ ফিরতেই কেবল তিয়াকে নিকোলাসের ডান হাতের ওপর পড়ে থাকতে দেখতে পেলো। মুহূর্তেই আইয়ুশ উঠে এলো দ্রুত। নির্ঝর ও এলো। আইয়ুশের চোখ-মুখে অন্যরকম এক গাম্ভীর্যতা। যেনো সে এই পুরুষের সংস্পর্শে নিজের বোনের অস্তিত্ব মেনে নিতে পারছেনা। নির্ঝর দ্রুত এসে তিয়াকে আগলে ধরলো। কোলে তুলে নিলো একঝটকায়। আইয়ুশ একপলক কোণা চোখে নিকোলাসের পানে নজর তাক করলো। নিকোলাসের আদলের ঠোঁটের কোণের হাসিখান ততক্ষণে মিইয়ে গিয়েছে। মির্জা পরিবারের সকলে ব্যস্ত হয়ে পড়লো তিয়াকে নিয়ে। ঝিলিক নিজেও হতবাক হয়ে পড়লো। হঠাৎ জ্ঞান হারালো কী করে? আহনাফের বাবা-মা ও ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে। শাহমীদ মির্জা দ্রুত মেয়ের কাছে এলেন। মেয়েরা তার প্রাণ। প্রাণে আঘাত লাগলে কিছুতেই কী আর ঠিক থাকা যায়? উঁহু!
সেকারণেই তো তিনি এখন মেয়ের কাছে এসে অস্থির হয়ে পড়লেন,

— আম্মু, তিয়া—কী হয়েছে আম্মু?
নির্ঝর বোনকে কোলে তুলে রুমের দিকে নিয়ে যেতে যেতে অস্থির ভঙ্গিতে বললো,
— আব্বু, ডক্টরকে কল করো ফাস্ট। আমি ওকে ওপরে নিয়ে যাচ্ছি।
শাহমীদ মির্জার চোখ-মুখেে ভয়ের অস্পষ্ট ছাপ। হঠাৎ মেয়ের কী হলো! তিনি দ্রুত ফোন বের করলেন। কল লাগালেন চেনা-পরিচিত এক ডাক্তারকে। ওসমান মির্জা এবং শাহদাদ মির্জার চোখ ভরা বিস্ময়তা। কী থেকে কী হয়ে গেলো! এক্ষুনিই তো ঠিক ছিলো মেয়েটা। শাহদাদ মির্জা মুহূর্তেই উঠে গেলেন আসর হতে। ওসমান মির্জা সবকিছু পরখ করলেন। একঝলক নজর ফেললেন ম্যাভিয়াসের ছদ্মবেশী নিকোলাসের দিকে। যে অনুভূতিহীন চোখে দাঁড়িয়ে আছে সদরদরজার কাছে। অতঃপর তিনি আগতমান অতিথিদের নিকট ক্ষমা চাইলেন,
— আমি দুঃখিত, হুট করে এমন একটা ঘটনা ঘটে গেলো…
আহনাফ বড্ড নির্মল গলাতেই জবাব দিলো তার,

— ইটস ওকে আঙ্কেল, ইটস টোটালি ফাইন। আমরা নাহয় পরে বিয়ের কথা বলে নিবো। আগে আপনি তিয়াকে দেখুন।
কথাটুকু শেষ করতেই আহনাফ উদ্বেগ ভরা চোখে চেয়ে থাকা শাড়ি পরিহিত রমণী ঐশীর পানে চায়লো একঝলক। ঠোঁটের কোণ ফুঁড়ে অল্পটুকু হাসির রেখা মিললো যেনো। আদলে অন্যরকম ভাব। চোখে কতদিনের না পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। ওসমান মির্জা খুশি হলেন। বললেন,
— ধন্যবাদ তোমাকে, বাবা!
— ইটস মাই প্লেইজার আঙ্কেল।
অতঃপর তিনি আইয়ুশকে ডাক দিলেন। আইয়ুশকে কপাল স্লাইট করতে করতে কিছু হিসেব কষছিলো। তোতা-নির্ঝর ততক্ষণে ওপরে। মা-চাচিরাও ওপরে উঠেছে প্রথমেই। নিচে কেবল ঝিলিক আর সাঁঝ। কপাল কুঁচকে সবকিছু পরখ করছে সে। হঠাৎ ওই পুরুষটিকে দেখে অজ্ঞান হলো কেনো তিয়া? কিছু তো আছেই! ওসমান মির্জার নৈকট্যে যেতেই তিনি আয়ুষকে ধীমি গলায় বললেন,

— ওনাদের এগিয়ে দিয়ে এসো, আমি ওপরে যাচ্ছি।
আইয়ুশ মাথা নাড়ল কেবল। আহনাফের পরিবার বেরিয়ে গেলো। পিছু পিছু আইয়ুশ ও গেলো তাদের এগিয়ে দিতে। ঐশী সাথে সাথে দৌড় লাগালো ওপরের দিকে। এতক্ষণ যেনো বহুকষ্টে নিজেকে আটকে রেখেছিলো সে। অপরপার্শ্বে সাঁঝ মা-চাচিদের চলে যাওয়ায় বড় বউয়ের দায়িত্ব পালন করতেই এতক্ষণ এখানে দাঁড়িয়ে ছিলো। অতিথিরা চলে যেতেই সে-ও দ্রুত পদে এগোলো।
নিকোলাসের এসব ফ্যামিলি ড্রামা দেখার সময় কই? সে-তো পিছু পিছু তার বসের কামড়ায় এগোলো। এসব আরও কত কাহিনী দেখা বাকি। এখনো তো সবে শুরু।
ঝিলিক নিজেও ওপরে যেতেই যাবে। তবে আচানক তার মাথাখানা ঘুরে উঠলো। স্ট্রেস বেশি নিয়ে নিচ্ছে কি-না। এতে চিন্তা কী আর সয় এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক! সে অপারগ হয়েই বসে পড়লো সোফার এককোণায়। মাথায় নিজের মোলায়েম হাতদুটো ঠেকিয়ে কপাল চেপে ধরলো। ধরণী যেনো নিজের ভারসাম্য হারিয়ে কেবল ঘুরেই যাচ্ছে। আর ঝিলিককে শুধু শুধু পেরাশান করছে। ঝিলিক নিজমনেই আওড়ালো বিরক্তির স্বর,
— শালার লো আয়রন আর এই মাইগ্রেশন নিয়ে দুনিয়ায় আসাটাই আমার ভুল হয়েছিলো।
আইয়ুশ দ্রুত পায়ে ওপরেই যাচ্ছিলো। অথচ সম্মুখে স্বীয় প্রিয়তমা কে এহেন বিমূর্ষ অবস্থায় দেখতে পেয়েই তার চোখদুটো ছানাবড়া হয়ে গেলো। সে একপ্রকার দৌড়ে এসেই ঝিলিকের সম্মুখে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। আচমকা আইয়ুশকে নিজের এতো কাছাকাছি দেখতে পেয়ে হতবাক না হয়ে পারলোনা ঝিলিক! সে চমকে খানিকটা পেছালো মাথাটা। কপাল কুঁচকে ফেললো স্বভাবসুলভ। আইয়ুশর উদ্বীগ্ন স্বরে আওড়ালো,

— ঝিলিক! কী হয়েছে?
আইয়ুশের এমন উদ্বীগ্বতা এবং চিন্তিত স্বরে ঝিলিকের বুকটা আচমকা ধক করে ওঠে। সে নিরন্তর চেয়ে রয় আইয়ুশের দিকে। অবশ্য, আদলে তার একদণ্ডও ভেসে ওঠেনা। আইয়ুশ ফের শুধায়, চোখে তার ব্যাকুলতা,
— খারাপ লাগছে?
ঝিলিক শ্লেষাত্মক হাসে। বলে,
— আপনার কী তাতে?
ঝিলিকের চোখে আইয়ুশের কৃষ্ণগহ্বরের ন্যায় চোখদুটোতে ভেসে ওঠা নোনাজলের রেখা স্পষ্টতর। এও বুঝতে পারছে—এ চিন্তা নিছক নয়; এর মাঝে সত্যতা রয়েছে। হ্যাঁ! রয়েছেই তো। তার আইয়ুশ তারই রয়েছে। এই চোখজোড়া—ভীষণ চেনা ঝিলিকের। ভীষণ। তাহলে কী এমন বাধ্যতা যা আইয়ুশকে তার কাছে আসতে দিচ্ছেনা? কেনোই-বা দিচ্ছেনা? ঝিলিক নরম হলোনা মোটেই। সে চায় সে কঠোর থাকুক। আইয়ুশ নিজ মুখেই সবটুকু স্বীকার করুক। ঝিলিক এক হাঁটু গেড়ে বসে থাকা আইয়ুশকে এড়িয়ে চলতে চায়। এড়িয়ে চলতে চায় ওই পুরুষের চিন্তিত আদল। চিন্তায় আইয়ুশের কপালে অসংখ্য ভাঁজ। শ্বাসের গতি বেগতিক। পৃথিবীর সকল পরিস্থিতি আইয়ুশকে শান্ত রাখলেও ঝিলিকের বেলায় তার হৃদয় বেইমানি করে বসে! এই রমণী–তার স্ত্রী! এক এবং একমাত্র নারী তার জীবনের। তার অনাগত সন্তানের মা।
আইয়ুশ দিশেহারা হয়ে ওঠে এই রমণীর চোখের জলে। আর ঘৃণায়? সে ভেসে যায় কোনো এক মহাশূণ্যে!
ঝিলিক উঠতে চায় আইয়ুশের নিরুত্তর আদলের পানে চেয়ে। মুখ ঘুরিয়ে হাঁটু তুলতেই আইয়ুশের পুরুষ্ঠ হস্তের তোপে পড়ে তা আর হয় কই? আইয়ুশ এক লহমায় ঝিলিককে আবারো আগের স্থানে বসিয়ে দেয়। চেয়ে রয় দুশ্চিন্তায় ভরা লোচনে। ঝিলিক শুধায়,

— কী সমস্যা?
আইয়ুশ শোধরায় নিজেকে। বাড়ির আনাচে-কানাচে বহু সিসি ক্যামেরা ফিট রয়েছে। তার ওপর সায়ন নিজেও বাড়িতে। শরীরের কোনো এক স্থানে থাকা চিপের সাহায্যে সে আপাতত সবই শুনতে পাচ্ছে। আইয়ুশ চায়লেও ঝিলিকের অতিরুক্ত কাছে যেতে পারবেনা। সায়নের হাতের অস্ত্র অধিক কঠোর। সে অস্ত্রের সনে লড়াই করার জন্য আয়ইয়ুশের আরও সময় প্রয়োজন। আইয়ুশ সাদা পাঞ্জাবিতে হাঁটু গেড়ে বসে নিজের উদ্বীগ্ন লোচন লুকিয়ে পলক ফেললো। জবাব দিলো রূঢ় কন্ঠে,

— তোমার খারাপ লাগছে?
— না!
— মিথ্যে বলো না।
— বলছিনা, সরুন। যেতে দিন।
ঝিলিক ফের উঠতে চায়। তবে এবার আইয়ুশ নয়; লো আয়রন তাকে আটকায়। তার মাথাটা এতোবাজেভাবে চক্কর দিচ্ছে কেনো। আজ তার গুরুত্বপূর্ণ এক কাজ রয়েছে। ঝিলিককে নিশ্চুপ এবং এমন অবস্থায় দেখে আইয়ুশএকমুহূর্ত অপেক্ষা করলোনা। না-তো তোয়াক্কা করলো কোনো কিছুর! সে ঝটপট কোলে তুলে নিলো ঝিলিককে। ঝিলিক হতবাক হয়ে গেলো। গলা জড়িয়ে ধরলো আয়ুষের। টগবগিয়ে বললো,
— আরে! করছেন টা কী? আমাকে ক্যারি করার অনুমতি দিলো কে আপনাকে?
আইয়ুশর স্বগোতক্তি,
— অনুমতি তো চাইনি।

ঝিলিকের নাকের পাটাতন অদৃশ্যভাবে ফুলে উঠলো। আর আইয়ুশের মুখশ্রী পূর্বের ন্যায় স্থির। ঝিলিকের বুঝে ওঠা দায়! সে বুঝতে পারেনা কে সঠিক আর কে ভুল। মন বলছে আইয়ুশ সঠিক; অথচ পরক্ষণেই গিয়ে মনে হয় কোথাও কী ভুল হচ্ছে! হওয়ার কী কথা? এতোটা ভুল করবেনা সে নিশ্চয়। ওই চিরকুট। আইয়ুশের উদ্বীগ্নতা! হ্যাঁ। আইয়ুশের উদ্বীগ্নতা। সে তড়াক গতিতে আইয়ুশের পানে চায়লো। মাথায় খেলে গেলো এক বুদ্ধি। আইয়ুশ যদি সত্যিই তাকে এখনো উন্মাদের মতো চেয়ে থাকে তবে সে-তো ঝিলিকের কষ্টও সহ্য করতে পারবেনা তাইনা! ততক্ষণে আইয়ুশ সিঁড়ি ডিঙিয়ে ঝিলিকের কক্ষে এসে পৌঁছেছে। ঝিলিককে সন্তপর্ণে নরম বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ব্ল্যাঙ্কেট টেনে দেয় সে। বেড-সাইড টেবিল হতে পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়। ঝিলিক নেয়না তা। মুখ ঘুরিয়ে হেডবোর্ডের সাথে চোখ বুজে লেপ্টে থাকে। আইয়ুশের ছুঁয়ে দেওয়ার ইচ্ছে হলেও সে পারেনা ছুঁয়ে দিতে। সে পিছিয়ে গিয়ে বেরোনোর পথ ধরে। তার কোনো কথা ঝিলিক এখন শুনবে বলে মনে হয়না। তবে আইয়ুশ বেরোনোর আগেই সে থমকে গেলো এক বিমূর্ষ আওয়াজে। ঝিলিক! সে পিছু ফিরে অতিসত্বর বিছানার কিনারায় হাঁটু গেড়ে বসে। ধীমি স্বরে আওড়ায়,

— ঝিলিক!
ঝিলিক তার পরিকল্পনা অনুযায়ী পেট আঁকড়ে মুখ গুঁজে শুয়ে রয়। আর নাটক শুরু করে।
— আহহ! পেটে..পেটে ব্যাথা করছে!
আইয়ুশ বিস্মিত হয়ে পড়লো। পেটে ব্যাথা! তাও এমন অকস্মাৎ। কী এমন হলো হঠাৎ? অজানা ভয়ে তার গলা শুকিয়ে এলো। তড়িতে সে শুধালো,
— উল্টোপাল্টা কিছু খেয়েছো?
ঝিলিক সরাসরি উত্তর দেয়না। দু’পাশে মাথা নাড়িয়ে জবাব দেয় ‘না।’
ঝিলিক তলপেট আঁকড়ে পড়ে রইলো। বোঝাতে চায়লো—তার পেটে এমুহূর্তে অসম্ভব ব্যাথা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আইয়ুশ অতিরিক্ত উদগ্রীব হয়ে উঠলো। যেমনটা হয় পাগল প্রেমিক। সে শুধালো,

— কোথায় ব্যাথা করছে? হু?
— ত..তলপেটে!
— তলপেটে?
আইয়ুশের বিস্মিত এবং চিন্তিত স্বর। সে উঠে যেতে যেতে আওড়ালো,
— একটু অপেক্ষা করো, আমি এক্ষুণি ডক্টর ডাকছি।
ঝিলিক তা হতে দিলে তো! সে আটকে ফেললো আইয়ুশের হাত নিজের তুলতুলে হাতের মুঠোয়। বাধা পেয়ে আইয়ুশ ফিরে তাকালো। ভ্রু’দুখান কুঁচকে। ঝিলিক অস্থির কন্ঠে শুধায়,
— কেনো করছেন আপনি এসব?
— কোনসব?
আইয়ুশর চিন্তিত স্বর।
— কেনো বারংবার আমার কাছে আসছেন? আমার যত্ন করছেন?আপনি যে বিবাহিত! ভুলে গেলেন?
— ঝিলিক এখন এসব বলার সময় নয়।
ঝিলিক উঠে বসলো। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এই অসুস্থতা নাটক। সে ছেড়ে দিলো আইয়ুশের হাত। বললো,

— এখনই সময়। যা দিতে পারবেন না তার চাহিদা বাড়াচ্ছেন কেনো? চলে যান।
— ঝিলিক, বোঝার চেষ্টা করো।
— বুঝতে পারছি বলেই তো বলছি, ছেড়ে দিন না আমায় একা। এভাবে বারংবার আমাকে আঘাত হেনে আপনার কী এমন লাভ হচ্ছে? আপনি কী বুঝতে পারছেন না ঝিলিক আইয়ুশকে ঘৃণা করে?
কঠোর কন্ঠ ঝিলিকের। অথচ আইয়ুশরে বুক ভাঙে। তার বোধ করি ভীষণ আকাঙ্ক্ষা জাগে একটি বার ঝিলিক নামক রমণীকে ছুঁয়ে দেওয়ার। ভীষণভাবেই জাগে। ঝিলিক আড়চোখে আইয়ুশের অগোচরে একবার আইয়ুশের অবস্থা দেখে নেয়। উন্মাদ; উন্মত্ত দেখাচ্ছে আইয়ুশ মির্জাকে কেমন যেনো। ঝিলিক আরও খানিকটা নিজের নাটকের প্রয়োগ বাড়ায়।
— আউচ!
আইয়ুশ উপায়ন্তর না পেয়ে এক প্রকার ঝিলিকের উদরে হাত দিয়ে বসে। উৎকন্ঠায় বলে,

— এ..এখানে? এখানে ব্যাথা করছে?
ঝিলিক এক লহমা থমকায়। থেমে গিয়ে চোখ তুলে চায়। বলছেনা কেনো কিছু পুরুষটি? সে সরে যায়। বলে,
— ছুঁবেন না আমায়।
উঠে বসে ঝিলিক। চোখদুটো ভয়ানক রক্তিম। হাতের আঙুল দেখিয়ে কেবল ইশারা করে বেড সাইড টেবিল পানে এবং দূর্বল চিত্তে বলে,
— ওই..খানটায় ওষুধ আছে।
আইয়ুশ তড়িতে ড্রয়ার খুলে। বলে,
— কোথায়?
— তিন নাম্বারটায়!
আইয়ুশ অতিদ্রুত ওষুধের বক্সখানা বের করে আনে ঝিলিকের সম্মুখে। টেবিল হতে পানি নিয়ে এসে সামনে রাখে রমণীর। ঝিলিক মিছে মিছে একটি ওষুধ বের করে তা মুখে পুরে। পানি খাওয়ার ভান ধরে সে গেলেও তা। আইয়ুশ তবু আরেকবার শুধায়,
— ডক্টর ডাকি? তিয়ার ওখানেই তো আছে।
ঝিলিক রুক্ষ স্বরে চেয়ে জবাব দেয়,
— তো ওখানেই যান না।

আইয়ুশের শ্বাসের গতি বেগতিক। বুকের উচাটন যেনো দূর হতেই দৃশ্যমান। ঝিলিকের চোখের অশ্রুজল সে কীভাবেই বা সহ্য করবে! আইয়ুশ একটিবার ঝিলিককে ছোঁয়ার প্রয়াস চালায়। অথচ কক্ষের বাহিরে কারও ফর্সা পদধূলি আটকায় তাকে। হ্যাঁ! আইয়ুশ মির্জা সর্বত্রই নজর আন্দাজ হচ্ছে। অফিস; রাস্তা কোথাও বাকি নেই। আইয়ুশ ও জানে, তার নিজের কক্ষেও সিসিটিভি বসানো। সেবার প্রথমবার যে নেটওয়ার্ক গেলো? সায়ন ছাড়া এর পেছনে আর করও হাত ছিলোনা। সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক হ্যাক করে ফেলেছিলো কেবল আইয়ুশকে হয়রানিতে ফেলতে। তাকে একমাসের চার্জ করা হয়েছে। এই একমাসের মাঝে ঝিলিককে ডিভোর্স দিতে হবে। আইয়ুশের ধারণা মতো–সায়ন ঝিলিকের প্রতি দূর্বল। এ’কারণেই সাঁঝকে বিয়ে করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে আইয়ুশের ওপর। বাহিরের ওই পা দুটো আইয়ুশের খুব ভালো করেই চেনা। সে দূরে গিয়ে দাঁড়ালো। ফের নিজেকে গাম্ভীর্যতার আড়ালে নিয়ে গিয়ে বললো,

— না দেখাও, হু কেয়ারস। লিভ ইট দ্যান।
কথাটুকু বলার সময় আইয়ুশের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে বদ্ধ হলো।।চোখদুটোয় জলের ফোয়ারা বইলো। আর ঝিলিক স্ত্রী হয়ে এসব বুঝবেনা? পুরুষটি কী বোকা? ঝিলিক একবার সম্পূর্ণ আইয়ুশকে পর্যবেক্ষণ করলো। হুট করে এমন পরিবর্তনের হেতু কী? আইয়ুশ গটগটিয়ে বেরিয়ে যায়। সে বেরিয়ে যেতেই একটি ছায়মূর্তি পাশ কেটে সরে যায় দেয়ালের ওপারে। রাগে তার তার হাত-পা কাঁপছে অনবরত। চোখে-মুখে ক্রোধ।
আইয়ুশ বেরিয়ে যায় কক্ষ হতে। ঝিলিক বসে রয় ওভাবেই। কিছুসময়..কিছুমুহূর্ত…কিছপল…থমকে রয় সে। অনুভূতিহীন আদলে সবটুকু চেয়ে রয়। অতঃপর আচমকা হেসে ওঠে সে। উদরে নিজের ডান হাত ছুঁইয়ে বিড়বিড় করে,

obsession vs love part 24

— আয়ুষ মির্জা—তুমি কী ভাবছো? ঝিলিক মির্জা এতো সরাসরি নিজের ভালোবাসার ওপর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? ইম্পসিবাল মাই লাভ, ঝিলিক কখনো হারেনা; ঝিলিক মির্জা হারতে শেখেনি। ঝিলিক ছিনিয়ে নিতে জানে। আদায় করে নিতে জানে তার প্রাপ্যটুকু। যত যাই হোক, এই রহস্যের শেষটুকু আমি উদঘাটন করবোই।

obsession vs love part 24 (3)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here