Home নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৩

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৩

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নুবা এতোটাই উত্তেজিত হলো যে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে চাইলো তবে তখনি,তাতেই মেতে থাকা তার একমাত্র স্বামী বিরবির করে বলে উঠলো
_”এতো উত্তপ্ত‌ কেনো তুমি,জ্বর এসেছে?”
নুবা জ্ঞান হারাতে যেয়েও পরিচিত কন্ঠে জ্ঞান ফিরে পেলো। কাঁপতে লাগলো নুবা, আরহাম নুবার কমড়ে নিজের সরু আঙ্গুল গুলো বুলিয়ে বললো
_”মেয়ে কোথায়,দেখছি না যে।”
শীতল কন্ঠ তার,তবে খুবি ক্লান্ত। কেমন অস্থির শুনাচ্ছে।নুবা চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেলে , কম্পিত দুই হাত দিয়ে আরহামকে ঠেলে সরিয়ে দিলো। কান্ত আরহাম নুবার থেকে দুই কদম পিছিয়ে গেলো। আশ্চর্য হয়ে নুবার দিকে তাকালো।
নুবা পরপর মনের দ্বিধাবোধে দুই কদম পিছিয়ে গেলো।এটা আরহামের রুপে কোনো বহুরুপি নয় তো কারন সে তো মারা গেছে তবে ফিরে আসার কথাই আসে না ‌।নুবা এলোমেলো শব্দ উচ্চারণ করে বললো

_”ক,কে আপনি?”
নুবার প্রশ্ন শুনে হতভম্ব বনে গেলো আরহাম।দুই কদম এগিয়ে আসলো সে।নুবা ভয়ে পিছিয়ে গেলো। আরহাম ভুরু কুঁচকে অবাক হয়ে বললো
_”what! আমি কে, স্মৃতি শক্তি হারিয়েছেন,নাকি চোখে কম দেখা শুরু করেছেন।”
নুবা বিরবির করে তার মা”কে ডাকলো,ভূত না তো,,না না দিন দুপুরে ভূত কোথা থেকে আসবে?
আরহাম চিন্তিত হয়ে এগিয়ে আসলো। মৃদু কন্ঠে শুধালো
_”এক রাত না ফিরায় এতোটা অভিমান যে ডিরেক্ট না চেনার বাহানা করছেন।”
নুবা ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো,”এক রাত ” আশ্চর্য।এই লোক কি পাগল হয়ে গেছে,নাকি নুবাই আবারো উল্টা পাল্টা দেখছে,শুনছে।
নুবা অবাক হবে হবে এমন সময় আরহাম এগিয়ে এসে নুবার দুই গালে হাত রেখে বললো
_”আমার মিনি হাতিটা এতো শুকিয়ে গেলো কি করে। গাল দুটো চুপসে গেছে কেনো sweet honey।আর মেয়ে কোথায়।”
নুবা চমকের উপর চম্কে উঠলো,ঝাড়া মেরে আরহামের হাত সরিয়ে দিয়ে আমতা আমতা করে বললো,

_”এ,এই,এই কে আপনি? আমার husband তো আরো ৭/৮ মাস আগেই মারা গেছে। আপনি কে,কোথা থেকে এসেছেন।কো,কোনো বহুরুপি না তো,নাকি ভূ,,,ভূত?”
নুবার বাচ্চামো কথা বার্তা শুনে আরহাম নিজেই হতবাক হয়ে গেলো।সবাই তাকে পাগল পেয়েছে।পিছনে দাঁড়ানো দুই জন বলছে প্রায় ৭ থেকে সারে সাত মাস সে কোমায় ছিলো।এখন তার বউ তাকে মৃত দাবি করে বহুরুপি,ভূত বলছে।আসলেই সে কিছুই বুঝতে পারছে।
তার উপর আরহাম খুবি দুর্বল অনুভব করছে।শরীরের পেশি যেনো এগোতে চাইছে না,যেনো মনে হচ্ছে জং ধরে আছে। যেমন অনেক ঘন্টা এক লাগাতার বসে থাকলে কমড় ধরে যায় ঠিক তেমনি আরহামের হাত,পা,ঘাড়, সবকিছু কেমন আঁকড়ে আছে। আরহাম টের পাচ্ছে তার শরীরে বেদি-বেশ- কম হয়েছে।আদেও কি এটা বিশ্বাস যোগ্য ,তবে পরিস্থিতি দেখে তো তাই মনে হচ্ছে।
আরহামের চুল আর দাদি স্বাভাবিক আছে,যদি সত্যিই এমন কিছু হতো তবে ৭/৮ মাসে তার চুল দাঁড়ি আর নক কি নাই বাড়তো, তবে সবি ঠিক আছে।এরা কি সবাই মিলে তাকে পাগল প্রমাণ করতে চাইছে নাকি ষড়যন্ত্র করতে করছে।
আরহাম এক হাত দিয়ে মাথার চুল পিছনে টেনে, শুকনো ঢোক গিলে কম্পিত কন্ঠে বললো

_”আমার মে,মেয়ে কোথায়,আয়রা কই।ওকে আনো।”
সঠিক সময়ে হামাগুড়ি দিয়ে আয়রা নুবার পায়ের কাছে এসে,তার পা দুই হাত দিয়ে ধরে উঠে দাঁড়ালো,,তার কথা এখন কোলে নিতে হবে।
নুবা মাথা নিচু করে আয়রার দিকে তাকালো। আরহাম মেয়েকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো।মেয়ে তার হামাগুড়ি দেওয়া শিখলো কবে।এতো বড় কি করে হয়ে গেলো। আরহাম খুঁটে খুঁটে দেখলো আয়ারকে। দাঁতো উঠেছে,কি সুন্দর দেখাচ্ছে।আয়রা মাথা উঁচু করে নুবার দিকে তাকিয়ে মুখ দিয়ে “মাআ,মাআ” উচ্চারণ করলো।
নুবা যেই না আয়ারকে কোলে তুলে নিবে তখনি তার আগে আরহাম এসে আয়ারকে কোলে তুলে নিলো। হঠাৎ এমন হওয়ায় আয়ার চম্কে উঠলো,ভয়ে চোখ বড়বড় করে নিলো,নুবাও বেশ চম্কে উঠলো।
আরহাম মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছু সময় পরপর তার পুরো মুখে চুমু খেলো বিরবির করে বললো

_”আমার little sweet honey টা এতো বড় হয়ে গেলো কবে, আশ্চর্য।”
হঠাৎ করেই আরহামের গম্ভীর কন্ঠ তার উপর আয়রার কাছে আরহাম একদমি অচেনা। আরহামকে দেখে আয়ার ঠোঁট ফুলিয়ে নিলো,বরাবরের অভ্যাস অনুযায়ী চেঁচিয়ে কেঁদে উঠলো।দুই হাত নুবার দিকে বাড়িয়ে তার কোলে যেতে চাইলো।
নুবা হুসে ফিরলো,বুঝতে পারলো আয়রা ভয় পাচ্ছে আরহামকে দেখে। অচেনা মানুষ বরাবরই তার অপছন্দ তার উপর এরকম ঠেসে চুমু দেওয়াও তার পছন্দ না সেখানে আরহাম ডিরেক্ট কোলে তুলে আদর করা শুরু করেছে।
নুবা ছুটে আসলো,খপ করে আয়ারকে আরহামের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দুই কদম পিছিয়ে গেলো।আয়রা নুবার গলা জরিয়ে ধরে কেঁদে উঠলো,নুবা আয়ারকে দোল দিয়ে পিঠে হাত বুলিয়ে বললো
_”কান্না করে না মা, আম্মু আছি তো।”
আয়রা একটু শান্ত হতেই নুবা ভুরু কুঁচকে যায় আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো

_”আপনি কে? আর কেনো এখানে এসেছেন । আমার স্বামী অনেক আগেই মারা গেছে। ”
এদিকে আয়রার কান্নার শব্দে তানিয়া আর হাজেরা ছুটে আসলো যে আবার কি হলো।তবে লিভিং রুমে আসতেই আরহামকে দেখে তারা ভূত দেখার মতো চম্কে উঠলো।তানিয়ার হাতে মসলার বাটি ছিলো তা ঠাস করে পড়ে গেলো। তানিয়া ভীতু কন্ঠে বললো
_”এটা তো ছোটো সাহেবের ভূত আপা।”
হাজেরা নিজেও হতভম্ব হয়ে গেছে,সবার আচরণ দেখে আরহাম নিজেই বিরক্ত হয়ে গেলো। কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”what the h*** . জীবন্ত মানুষকে বার বার মৃতো কেনো বলছেন আপনারা, চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেটা নজরে পড়ছে না। একজন তো তেতে এসে বহুরুপি সুধাচ্ছে। like seriously এখানে কোনো নাটক চলছে।”
পিছনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা দুই জনের ভিতরে একজন এগিয়ে আসলো,যাকে নুবা হসপিটালে উগান্ডা বাসি বলে আখ্যায়িত করেছিলো।ছেলেটা এগিয়ে এসে আরহামের কাঁধে হাত রেখে ইংরেজিতে সুধালো।

_”শান্ত হও।এই অবস্থায় উত্তেজিত হলে মস্তিস্কে চাপ পড়বে।তোমারি সমস্যা হবে!”
আরহাম ফিরে তাকালো ছেলেটার দিকে পটপট করে ইংরেজি ঝেড়ে বললো
_”ইয়ার, সত্যিই আমি নিজেই আশ্চর্য হচ্ছি।বউ টার কথা বাদি দিলাম,এখানে তো আমাকে দেখে আমারি মেয়ে কান্না করছে। আমার কি করা উচিত।”
_”তোমার শান্ত হওয়া উচিত। হয়তোবা সবাই ভাবছে তুমি মারা গেছো।আমরা যা বলেছি তা সত্য আরহাম,একটা কথাও মিথ্যা না ‌। তুমি ভেবে দেখো।”
আরহাম মাথায় চাপ দিলো তবে কিছুই মনে পড়লো না,সে আরো বিরক্ত হলো। কেমন রাগে নুবার দিকে এগিয়ে গেলো।
নুবা মেয়েকে আঁকড়ে ধরে পিছাতে লাগলো। আরহাম যেয়েই নুবার দুই বাহু চেপে ধরে তেতে উঠে বললো
_”তুই আমাকে কি করে ভুলতে পারিস ,look at me,আমি আয়রার পাপা,ভালো মতো দেখ।”
নুবা চেয়ে রইলো। আরহাম আশে পাশে তাকিয়ে বললো

_”বাসার সবাই কোথায়?”
উত্তর দিলো না নুবা, আরহাম বুঝতে পারলো এই ভেবদা মাছ এখনো বিশ্বাস করছে না তাকে। আরামের কেমন মাথা ঘুরে উঠলো অস্থির লাগলো।পরপর কিছু একটা ভেবে হাজেরার দিকে এগিয়ে গেলো ,হাজেরাও কিছুটা আতংকে পিছনে গেলো। আরহাম এগিয়ে যেয়ে নিজের দিকে আঙ্গুল করে বললো
_”আপনিও কি আমাকে চিনতে পারছেন না আম্মা?”
হাজেরা এক হাত মুখে চেপে ধরে অবাক করা কন্ঠ সুধালো
_”কি করে বিশ্বাস করবো,বাড়ির সবাই নিজে হাতে তোমাকে দাফন করেছে বাবা।এটা কি বিশ্বাস যোগ্য নাকি তুমি, তুমি না,অন্য কেউ।’
আরহাম হতভম্ব হয়ে গেলো, অবিশ্বাস কন্ঠে বললো
_”what!”
_”দেখো বাবা, আমার মেয়ের জামাই অনেক আগেই মারা গেছে। তুমি কে সত্যি সত্যি বলো না হলে আমার পুলিশ ডাকবো।”
আরহাম বিষ্ময় নিয়ে, নিজের মাথার চুল নিজে খামচে ধরে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”না মানে আমাকে দাফন করা হয়ে গেছে আর আমি নিজেই জানি না,আমার সাথে মাজা করছেন, nice joke but অন্ততপক্ষে এবার এই সব বন্ধ করুন।”
হাজেরা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো

_”আমরা মজা করছি না।”
_”তাহলে নিশ্চয়,আপনি এই সব করেছেন, আমাকে নিজের মেয়ে থেকে দূরে রাখতে তাই না।এবার নিজের মেয়ের ভুল ভাঙ্গান ।”
হাজেরা এবার একটু একটু বিশ্বাস করলো এটা আরহাম , কারণ সেই একমাত্র মানুষ যে তাকে এভাবে অপবাদ দিবে।হাজেরা গলা ছেড়ে কেশে বললো
_”আমি জানি না তুমি কেনো আমাকে অপবাদ দিচ্ছো তবে আমি যা বলছি সব সত্য,গত ৭ থেকে ৮ মাস আগে তোমার লাশ সনাক্ত করা হয়েছে। তোমাকে দাফন করা হয়েছে এটাই সত্য।”
আরহামের নিজেকে পাগল পাগল মনে হলো। ভেবেছিলো সব মিথ্যা,বাড়িতে ফিরলেই নুবা তাকে জাপটে জরিয়ে ধরবে তাই তো তো সে অসুস্থ শরীর নিয়ে ছুটে এসেছে তবে এমন কিছু হবে সে ভাবতেও পারেনি, আরহাম ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_”ok , কি করলে বিশ্বাস করবেন আমিই ,আমি।আমি আরহাম শাহারিয়ার মির্জা।”
হাজেরা এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে নিজেকে সামলে বললো।
_”এমন কিছু বলো যা নুবা আর তুমি ব্যতিত কেউ জানে না।”
আরহাম ভাবনায় পড়ে গেলো। এখন সে বেঁচে আছে এই প্রমাণ করতে কি কি করতে হচ্ছে তাকে,নিজের পরিচয়ের প্রমান নিজেকেই দিতে হচ্ছে।এমন কি আছে তাদের তাদের ভিতরে। আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে পরপর কিছু একটা মনে পড়তেই আরহাম পকেটে হাত গুজে দুই আঙ্গুল নাড়িয়ে ,সবার সামনে সেই আগের মতো নির্লজ্জ কন্ঠে বলে উঠলো
_”আমারা ২৯ টা বেবি নিবো প্লান করেছিলাম। নুবার তলপেটের একটা ছোট্ট তিল আছে।সাথে ওর বুকের মাঝখানে দুটো।”
পরপর একটু চোখ বন্ধ করে ভাবলো আরহাম কর কি আছে নুবার ভিতরে এটা তো সে ছাড়া কেউ জানে না।একটু পরেই আরহাম হঠাৎ বলে উঠলো

_”সেদিন রাতে অর্ধ বাসর সেরে গিয়েছিলাম।নুবা আমাকে ছাড়তেই চাইছিলো না তবে আমি জুরুরি বিষয় দেখে ওকে অপেক্ষা করতে বলে চলে গিয়েছিলাম। আমাদের ভিতরে এখনো ফুল বাসর হয়নি। বিশ্বাস না হলে আপনার মেয়েকে জিজ্ঞেস করুন।”
বলেই নুবার দিকে তাকালো।নুবার কান গড়ম হয়ে গেলো ।গাল দুটো টকটকে লাল বর্ন ধারন করলো, লজ্জায় মা নিচু হয়ে গেলো।এই কথা গুলো বলে প্রমাণ করার ছিলো ছ্যে, নিশ্চয় এটাই তার গুনধর স্বামী, না হলে সে ব্যতিত এরকম কথা কে বলতে পারবে।হাজেরা বেগম সব সবাই এমন কথায় থতমত খেয়ে গেলো।হাজেরা চোখের পলক ফেলে জোরপূর্বক হেসে বললো
_”এই নির্লজ্জ মার্কা কথা বার্তা তুমি ছাড়া আর কারো মাথায় আসতে পারে না বাবা,তুমিই আরহাম আমি বিশ্বাস করলাম তবে সবকিছু এলোমেলো তুমি বেঁচে থাকলে ওই লাশ কার ছিলো আর এতো দিন তুমি কোথায় ছিলে।”
পিছন থেকে সেই বিদেশি ছেলেটা এগিয়ে এসে মৃদু কন্ঠে মাথা নিচু করে বললো

_”ও এই কয় মাস হসপিটালে ছিলো, কোমায়‌।তবে এই কথাটা ও নিজেই বিশ্বাস করতে চাইছে না।না ক্যালেন্ডার দেখে,না আমাদের কথায়। কিছুতেই ও মানতে পারছে না তবে আশা রাখছি আপনারা বিশ্বাস করবেন।”
কিছুটা ভাঙ্গা চুরা বাংলা তার তবে হাজেরা বুঝলো পরপর চিন্তিত কন্ঠে বললো
_”তাহলে পুলিশ যে একটা লাশকে আরহাম বলে দাবি করলো?”
_”নিশ্চয় আপনাদের কোথায় ভুল হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা হয়তোবা গন্ডগোল করেছে।তাই এই ভুল ধারনা।”
অতঃপর আস্তে আস্তে সবটা খুলে বললো সেই ছেলেটা।আরহামের নিজেরি বিশ্বাস হলো না যে সে এতো দিন মারার মতো হাসপাতালে পড়ে ছিলো,এখন এরা বিশ্বাস করবে কিনা আল্লাহই ভালো জানে।
তবে কেউ বিশ্বাস না করলেও নুবা করলো কারণ সেদিন হসপিটালে এই দুইজনকে নুবা দেখেছিলো তার মানে ওই লোকটা আর কেউ না আরহামি ছিলো।নুবা হসপিটালের নাম জিজ্ঞেস করে আরো sure হলো যে সব কিছু সত্যি। একজন খাঁটি কথা একটাও মিথ্যা না।নুবা বিশ্বাস করেছে দেখে আরহাম শান্ত হলো।

আরহাম হতভম্ব হয়ে গেলো নুবার কাজে।একটু আগে করার জ্বালে নুবাকে লজ্জা দিচ্ছিলো এখন সবার সামনে নুবার আরহাকে অর্ধ নগ্ন করে ফেলেছে শুরু এটা দেখার জন্য যে আসলেই কি এটা তার আয়রার পাপা।মানে সে একদম sure হতে চায়।হুতসে নুবা বারবরা চেক করে নিলো আরহামের জন্মদাগ,সাথে বুকে আর পায়ের তিল গুলো। আরহাম শুধু চেয়ে রইলো।একবার দেখে মন ভরলো না তাই আবারো দেখে নিলো।
সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো,এখানে চেকিং চলছে।আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে ঠোঁট দুটো দাঁতে পিষে আদুরে কন্ঠে বললো

_”রুমে চলো সব দেখিয়ে দিচ্ছি।”
নুবা পাত্তা দিলো না, পরপরই পায়ের তিলে চোখ বুলিয়ে উঠে দাঁড়ালো। আচমকা আরহামকে জাপটে জরিয়ে ধরলো,পরপর কান্নার রোল পড়ে গেলো।নুবা নাক টেনে ফুঁপিয়ে উঠলো। বিশ্বাসি হচ্ছে না এই সব কিছু,মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছে,এই স্বপ্ন এখনি ভেঙ্গে যাবে,তবে সে এই স্বপ্ন ভাংতে চায় না।সে চায়,এটা যদি স্বপ্ন হয় তবে সারাজীবন দেখতে থাকুক, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
হঠাৎ নুবাকে এরকম ভেঙ্গে পড়তে দেখে আরহাম বুঝতে পারলো,বউ টা তার এভাবে কাঁদছে তবে নিশ্চয় সব সত্য,কেউ মিথ্যা বলছে না তার সাথে।
নুবা আরহামের উন্মুক্ত পিঠ আঁকড়ে ধরে বুকে মুখ গুজলো, বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠে সুধালো
_”আমার সবকিছু স্বপ্ন মনে হচ্ছে,এই স্বপ্ন যদি ভেঙ্গে যায় আপনি কি চলে যাবেন।আ, আমার নিঃশ্বাস ফেলতেও কষ্ট হচ্ছে।যদি নিঃশ্বাসের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়।”
আরহাম নুবার পিঠে হাত বুলালো সেই আগের মতো পরপর মাথায় থুতনি ঠেকিয়ে বললো

_”relax ,আমি চলে যাচ্ছি না, যাওয়ার হলে ফিরে আসতাম না।”
নুবা অভিযোগের সুরে বললো
_”আপনি কেনো সেদিন চলে গেলেন। আমার নিজেকে পাগল পাগল মনে হচ্ছিলো জানেন।আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম আয়রার পাপাকে।”
আরহাম এরকম একটা situationনেও ,মুখে দুষ্টু হেসে বললো
_”অনেক কষ্ট হয়েছে sweet honey ,‌ এভাবে ছটফট করতে দেখেও রেখে চলে গেলাম। আচ্ছা ঠিক আছে চলো আগে বাসরটা সেরে নেই পরে বাকি কথা হবে।”
নুবা টের পেলো এটা আরহামি ১০০ % sure. এই লোক ছাড়া কেউ এরকম কথা বলতেই পারবে না।নুবা তার কথায় ভুরু ক্ষেপে করলো না বরং তার শক্ত পোক্ত বুকে গেঁথে যেতে চাইলো যেনো কেউ তাকে তার স্বামীর থেকে আলাদা না করতে পারে, দ্বিতীয় বারের মতো হারিয়ে না ফেলে।
আরহাম নুবার কান্না দেখে অনুভব করলো তার মিনি হাতি তাকে কতটা ভালবাসে । আরহাম নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে গলায় বললো

_”শান্ত হও,আর কক্ষনো এমন করবো না। তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না relax ,আমি আছি,থাকবো।তবু কান্না থামাও,বুকে এসে বিঁধছে এই মরণ কান্না।”
আরহামের আদুরে কন্ঠে নুবারো ভেঙ্গে পড়লো,কত মাস পর এই কন্ঠ শুনলো সে, কত কান্না করেছে এই মানুষ টার জন্য, আহাজারি করছে এই আদুরে কন্ঠ শোনার জন্য।
নুবা হিচকি তুলে শুরু করলো।পারছে না হে খুশিতে চিৎকার করে কাঁদতে। আরহাম নুবাকে শান্ত করতে সেই আগের প্রক্রিয়া ব্যবহার করলো যা নুবা তার ক্ষেত্রে করতো।
আরহাম নুবার নোনা জলে ভেজা দুই হাত আলতো করে ধরলো। চোখের পানি মুছে নুবরা ফুলো চোখের দিকে তাকিয়ে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো। পরপর খুবি আদরের সাথে তার বউয়ের শুকনো ঠোঁট গুলো নিজের অধর দাঁড়া ছুঁয়ে দিলো।
লিভিং রুমে দাড়িয়ে থাকা সবাই এতো সময় দুঃখ প্রকাশ করে চোখের পানি ফেললেও এবার চোখ সরিয়ে নিলো।বিদেশি সুন্দরী রমনি মিটমিট করে হাসলো।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটাকে খোঁচা মেরে ফিসফিস করে বললো

_”এখানেই kissing হয় নাকি?”
ছেলেটা ভুরু কুঁচকে বললো
_”সবসময় জায়গায় হয়,কেনো তোমার কি মনে হয় শুধু আমরাই এই সব করি।”
মেয়েটা মুখে হাত দিয়ে হাসলো,তবে চোখ সরালো না।
আরহাম নুবাকে শান্ত করতে গভীরভাবে চুম্মুন করলো।এতো দিন পর এভাবে আরহামের স্পর্শ পেয়ে নুবা তিরতির করে কেঁপে উঠলো। খুশিতে চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো।আরহামকে দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে নিরব রইলো।সময় নিয়ে আরহাম তার মিনি হাতিকে ছেড়ে দিলো পরপর তার লজ্জা মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে বললো।

_”খুশি হওয়ার বলদে কান্না করছেন,এটা কিন্তু ঠিক নয়!”
নুবা ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,সে কি করে বুঝাবে মরা মানুষ ফিরে পেয়ে সে খুশিতে কাঁদছে,তার মনে হচ্ছে কোনো চমৎকার হয়েছে।আরহামকে ফিরে পেয়েছে সে।সে খুশি খুশি মনে তাকিয়ে রইলো তবে চুমু খাওয়ার অতিরিক্ত খুশিতে তার মস্তিষ্ক স্তব হয়ে গেলো। হঠাৎ করেই নীরব থাকা নুবা আস্তে করে আরহামের বুকে লুটিয়ে পড়লো। আরহাম নুইয়ে যাওয়া নুবাকে দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরলো।বুঝতে পারলো জ্ঞান হারিয়ে তার বউ।
আরহাম নুবাকে দুই হাত দিয়ে বুকে জরিয়ে ধরে বিরবির করে সুধালো
_”আসতে না আসতে বাসর করার ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলো নাকি মরা জামাই ফিরে আসার খুশিতে? বুঝলাম না!”

পুরো লিভিং রুমে থমথমে নিরবতা।আমিনা বেগম ছেলের এক হাত চেপে ধরে শব্দ বিহীন কাঁদছেন। আরহাম এক হাতে তার d*** certificate নিয়ে বসে আছে। আশ্চর্য হচ্ছে সে, বেঁচে থেকেও সে কাগজে কলমে মৃত।সবি শুনেছে হারুন মির্জার থেকে, এমন কি পরিস্থিতি দেখে বিশ্বাসো করেছে সে টানা ৭/৮ মাস কোমায় ছিলো।
জীবন থেকে এতো গুলো মাস হারিয়ে ফেলেছে সে।তার উপর,তার পুরো পরিবার কার না কার পুরা লাশ দাফন করে তাকে মৃত বানিয়ে দিয়েছে।এই কথা ভাবলেও আরহামের অদ্ভুত লাগছে।
নীরবতা কাটিয়ে হারুন মির্জা বলে উঠলেন।

_”বসে না থেকে ওদের দুইজনের গেস্ট রুমে দিয়ে আসো,একটু রেস্ট নিক।”
আমিনা বেগম স্বামীর আদেশে মাথা ঝুঁকিয়ে কম্পিত কন্ঠে বললেন
_”আচ্ছা যাচ্ছি।”
বলেই উঠে দাঁড়িয়ে জিমি আর রোজিকে নিয়ে গেলো।জিমি আরহামের কাছের কেউ তবে বন্ধু। তাদের সম্পর্কে সবি জেনে হারুন মির্জা।তারা যে ছেলের ছি বিপদে পাশে ছিলো এটাও শুনেছে।এখনকার সময় পর কেউ কি এভাবে কারো খেলায় রাখে?সেখানে টানা দীর্ঘ মাস তারা আরহামের খেলায় রেখছে যার নমুনা এখন তাদের সামনে দাঁড়ানো স্বয়ং সুস্থ সবল আরহাম।

একজন অচেতন মানুষ কে দেখে রাখা মুখের কথা না।সবকিছুর খেলায় রাখতে হয়।তারা যে আপন ভেবেই আরহামের যত্ন নিয়েছে তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। কারণ আরহামকে দেখে বোঝার উপায় নেই এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে বা আরহাম এতো মাস হসপিটালে পড়ে ছিলো। তাদের ছেলে বাড়ি থেকে যে ভাবে বেড় হয়েছিলো ঠিক সেভাবেই ফিরে এসেছে তবে কিছু নতুন খতোর দাগ বহমান রয়েছে।
এদিকে আরশির ছোট্ট মেয়েটা কান্না করছে।নাম রাখা হয়েছে তার রিশিতা।আরশি চুপচাপ ছলছল চোখে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।রিহান পাশে বসা।মেয়েকে কোলে নিয়ে বসে আছে।সবটা শুনে তারাও অবাক।এই বাড়ি থেকে কল পাওয়ার পরপরই ওই বাড়ির সবাই ছুটে এসেছে,আসার পর সব জানতে পেরেছে।
সব জানা হলেও জানা হয়নি ওই লাশটা কার ছিলো,এই নিয়ে চিন্তিত সবাই।
তারা যেতেই আরহাম বিষ্ময় নিয়ে বললো

_”কি আশ্চর্য ব্যাপার। বেঁচে আছি কিনা সেই খোঁজ নেওনি তোমরা।কার না কার লাশ দাফন করে আমার মরণ পত্র বানিয়ে ফেলেছো। তোমাদের একবারো মনে হয়নি যে তোমাদের ছেলে বেঁচে আছে।আরে আমার তো এটাই মাথায় ঢুকছে না তোমরা কি করে অন্য কাউকে নিজের ছেলে ভেবে নিলে। চোখ না চুলা তোমাদের।”
হারুন মির্জা কিছু বলার আগেই কাতর কন্ঠে আরশি বলে উঠলো
_”ভাইয়া লাশটা আগুনে পুড়া ছিলো,আমরা ভেবেছিলাম কোনো দুর্ঘটনা হয়েছে।মুখ চেনার উপায় ছিলো না তার উপর পুলিশরা তোমার ফিঙ্গারপ্রিন্ট সহ DNA নিয়ে তোমার সনাক্ত করেছিলো। তুমি তো সবি শুনলে।এতো কিছুর পর কি করে অবিশ্বাস করতাম।”
আরশি থামলো,আরাফ পাশ থেকে কান্ত কন্ঠে বললো
_”আমরা ভেবেছিলাম তুমি মারা গিয়েছো।এটাই ভেবেছিলাম।”
আরহাম সবার কথা শুনে হাসতে লাগলো, নিজেকে পাগল মনে হচ্ছে তার,পুরো পরিবার মেনে নিয়েছে সে মারা গেছে। এমন কি তার বউ বাচ্চাও!
আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে ভারি কন্ঠে বললো,

_”like seriously,এতো কিছু হয়ে গেলো, উফ্ কি শান্তি, মারা পড়েছে আরহাম মির্জা তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে তার ভূত এসে এখানে বসে আছে। কেউ বহু রুপি‌ বলছে,আবার ভূত বলেছেন তো আখ্যায়িত করছে।কারো কাছে প্রমাণ দিতে হচ্ছে আমি আসলেই আমি!”
পরপর থামলো আরহাম, হঠাৎ করেই মাথা গড়ম হলো তার,দাঁতে দাঁত পিষে সুধালো
_”কোনো মাদারচ**** আমার লাশ সনাক্ত করেছে ওকে ডাকো।একটা সারপ্রাইজ দেওয়া যাক।”
বলেই হারুন মির্জার দিকে তাকালো তবে তার বাপ তার দিকে কেমন করে তাকিয়ে আছে।তা দেখে আরহাম ভুরু কুঁচকে নিয়ে বললো

_”তোমারো কি কোনো সন্দেহ হচ্ছে যে আমি তোমার রক্ত কিনা।”
হারুন মির্জা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”একদমি না”
আরহাম হেঁসে ফেললো,যেনো পাগল হয়ে যাচ্ছে সে।পরপর ভারি কন্ঠে বলে উঠলো
_”আশ্চর্য,তাহলে এভাবে তাকিয়ে থাকার কি আছে,রুপ গজিয়েছে আমার।”(শেষ শব্দ টুকু চেঁচিয়ে বললো আরহাম,মাথা কাজ করছে না তার এই সব শুনে।)
হারুন মির্জা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন
_”তোমার কেস যে দেখছে তাকে আসতে বলছি।”
_”যে আমাকে সনাক্ত করেছে তাকে আসতে বলো,সাথে ওই doctor কেও যে আমার DNA আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট চেক করেছে।”
হারুন মির্জা শান্ত কন্ঠে বললেন
_”শান্ত হও,বলছি,আগে পুলিশ কর্মকর্তাকে ধরা যাক। নিশ্চয় ওরা কোনো গবলা করেছে।”
আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে রাগে ফুঁসতে লাগলো ‌।

নুবার জ্ঞান ফিরেছে মাত্র, জ্ঞান ফিরতে আমিনা বেগমকে ছলছল চোখে সামনে দেখে নুবা ফাল দিয়ে উঠে বসলো, পরপর অতিরিক্ত খুশিতে লাফিয়ে উঠলো সে। হাঁসফাঁস করে বলে উঠলো
_”তো, তোমার ছেলে মারা যায়নি চাচি মা।উনি বেঁচে আছে।আয়রার পাপা বেঁচে আছে।”
নুবার কথায় সবাই নিশ্চুপ রইলো। সবাইকে চুপচাপ দেখে নুবার মুখটা চুপসে গেলো কিছুটা ভয় নিয়ে বললো
_ “কি,,কি হলো,তোমার কি খুশি হওনি।উনি বেঁচে আছে। সত্যি বেঁচে আছে!”
আবারো নিরবতা,নুবা ভুরু কুঁচকে সবার দিকে তাকালো। সবাইকে এরকম চুপসে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নুবা পিলে চম্কে উঠলো।তার মা, আমিনা বেগম, ইশিতা,সবাই এতো চুপ কেনো তবে কি নুবা এতো সময় স্বপ্ন দেখছিলো।কথাটা ভেবেই নুবা ছটফট করে উঠলো,বিছানা থেকে নামতে নামতে বললো
_”উ,উনি কোথায় আম্মু।উনাকে একটু ডাক দেও তো, আমার মনে হচ্ছে চাচি মা বিশ্বাস করছে না।”
হাজেরাও নিশ্চুপ,হাজেরাকে এরকম চুপ থাকতে দেখে আত্মকে উঠলো নুবা‌। কেমন হঠাৎ করেই কেঁপে উঠলো।নুবা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো

_”এটা স্বপ্ন ছিলো মা,না না স্বপ্ন হাতেই পারে না।এতো গুছিয়ে আমি কাখনোই স্বপ্ন দেখিনি। আমি,,আমি ভুল না হলে এটা বাস্তব, স্বপ্ন নয়। তুমিও তো উনার সাথে কথা বলেছিলে তাই না। (একটু থেমে আবারো বললো)উফ্,কথা বলছো না কেনো,সবাই কি বোবা হয়ে গেছো?”
আবারো নিরবতা,এবার নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো, নিজেকে পাগল মনে হলো তার।ছুটে চলে যেতে চাইলো বাইরে তবে সে যাওয়ার আগেই সবাই নিরবে বেড় হয়ে গেলো।নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো।নিজের গালে নিজে থাপ্পর মারলো।তবে ব্যাথা পেলো সে,এটা তো স্বপ্ন না।ভাবতেই পারছিলো না সে এতো সুন্দর স্বপ্ন দেখেছিলো। কিন্তু কি করে এতোটা গুছিয়ে সবকিছু হলো। যেই না নুবা মনের ভয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বাইরে ছুটে যাবে তখনি চিনা পরিচিত কন্ঠে কেউ বলে উঠলো।

_”সব স্বপ্ন, স্বপ্ন হয় না sweet honey, কিছু স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নেয়।তখন হুতসে সেটাকেও স্বপ্ন মনে হয়।আর স্বপ্ন ভেবে যদি দূরে ঠেলে দেন তবে দুঃখের অভাব নেই, একদম কষ্টের সাগরে ভেসে যাবেন ম্যাডাম।”
নুবা চম্কে উঠে পিছনে তাকালো।আরহামকে দেখে তার অস্থির বদন খানা শান্ত হলো। অনুভব করলো এটা স্বপ্ন না,বরাবরের মতো নুবাকে আরহাম এসে নুবাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। আলতো করে তার কাঁধে থুতনি রখলো।নুবা কিছু বলতেই যাবে তার আগেই আরহাম বলে উঠলো
_”সবাইকে আমিই চুপ থাকলে বলেছিলাম। একটু দেখে নিলাম আমার বউটা কিরকম ছটফট করে আমার জন্য।”

নুবা হুহু করে কেঁদে উঠলো।আরহামের হাতের উপর নিজের হাত রেখে চেপে ধরলো।ঘাড় ঘুরিয়ে আরহামের দিকে তাকানোর চেষ্টা করলো। আরহাম আলতো করে নুবার নরম গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো।নুবা কান্না করতে করতে হেসে ফেললো।বিরবির করে সুধালো
_”স্বপ্ন নয় তবে?”
আরহাম নিজের দুই হাত নুবার হাত থেকে বাহু পর্যন্ত স্লাইড করে এনে কাঁধে থামালো,পরপর ভারি কন্ঠে বললো
_”কতটা গভীরে ডুব দিলে টের পাবেন এটা যে স্বপ্ন নয়।”
নুবা সেই চেনা পরিচিত কন্ঠ শুনে তিরতির করে কেঁপে উঠলো। আদুরে কন্ঠে সুধালো
_”যতোটা গভীরে ডুব দিলে আপনাকে কেউ আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না।”
আরহাম মিচকে শয়তানের মতো হাসলো।বিরবির করে বললো

_”এমন ভাবে আপনিতে আপনিময় হবো যে আপনি আন্দাজ করতে পারবেন না। গভীর থেকে গভীরতমো ভাবে মিশে যাবো আমার নুবুর সাথে।আত্মায় আত্মায় মিলে একাকার হয়ে যাবো, যাতে কেউ বিচ্ছেদ না ঘটাতে পারে।আপনিতেই বেঁচে থাকবো আমি।”
নুবা কিছু অংশ বুঝলো,আবার বুঝলো না তবে অনুভব করলো। অনেকটা সময় পর এভাবে একত্রিত হয়ে দুইজন আবেগে ভেসে গেলো। আরহাম নুবার নিরবতার সুযোগ নিয়ে পিঠে মুখ ডুবালো।নুবার পিটের আবরনে বয়ে যাওয়া চেইনটা দাঁতের সাহায্যে কিছুটা খুলে ফেললো।নুবা লজ্জায় লাল হয়ে গেলো।

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২

আরহাম কিছুটা সময় নিয়ে নুবার উন্মুক্ত পিঠে মুখ গুজে দিলো। পরপর নাক ঘঁষে চুম্মুন করলো।নুবা একটু কম্পিত হলো।আরহামের এক হাত চেপে ধরলো ‌।এখনো বিশ্বাস করতে ব্যস্ত হলো আরহাম ফিরে এসেছে ‌।সে মারা পড়েনি,সে বেঁচে আছে।
কিছু টা সময় যেতেই আরহাম নুবার পিঠে আঙ্গুল বুলিয়ে দিতে লাগলো।নুবা শুধু চোখ বন্ধ করে অনুভব করলো। এমন একটা রোমাঞ্চকর মূহুর্তে আয়রার কন্ঠ ভেসে আসলো। হয়তোবা হাসছে আয়রা_

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৪