Home তুমি আমার শেষবেলা তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৩৭

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৩৭

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৩৭
নীতি জাহি

কান্না পাচ্ছে, গতকাল রাতে তো কি সুন্দর গল্প করেছে দুজন। কত কাছাকাছি ছিলো কিন্তু সকালে মোনার প্রেশার ফল করল। কিছুক্ষন বিশ্রাম নিতে বলেছিলো মোনাকে। বিশ্রামের মাঝে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলো। তখনই আবার বকা খায় ইমরানের। কথা হচ্ছিলো কাকনকে নিয়ে,
‘ মোনালিসা আজ কাঁকন আসবে,তোমার কোনো আপত্তি আছে?’
‘ আসতেই পারে। আমার কেনো আপত্তি থাকবে। তবে আপনার কাছ থেকে দূরে থাকতে বলবেন। হয়তোবা সহ্য হবে না।’
ইমরান ছোট্ট মোনার চোখে স্পষ্ট অভিমান দেখছে। একটু দুষ্টুমি খেলল মাথায়। মুখটা বিরস করে বললো,

‘ গেস্ট আসবে গেস্টের মতো,কাছে বা দূরে কি?’
‘ ইমরান সাহেব আমার সহ্য হয়না আপনার প্রাক্তনকে। ভালোবাসা যদি অনেক বেশি হয়ে থাকে তাহলে আমাকে ক/ব/র দিয়ে তাকে ঘরে তুলুন কেউ ধরে রাখবে না। আমার উনার প্রতি কোনো রাগ নেই।কিন্তু প্রতিদিন যেভাবে আঘাত করেছে আপনার দেওয়া ভালোবাসার চিহ্ন দেখিয়ে, অন্তরঙ্গ মুহুর্ত দেখিয়ে আমার আজো মন চায় ম*রে যাই। লোকে বলে আপনি আমাকে ভালোবাসেন, আমার তো শরীরে কোনো চিহ্ন নেই, আমাকে তো জড়িয়ে ধরেন না যখন তখন। আপনার ভালোবাসা ও শুধু কাঁকনের জন্য আমি জানি। আমার ছেলেটা মা মা করতো।তখন মনে হয়নি আপনার কাঁকনকে প্রয়োজন? এখন কেনো লাগবে কাঁকনকে? আমাকে দিয়ে হবে না? নাকি বিয়ের পর মন উঠে গিয়েছে???
‘মোনা…..’
ইমরান মারার জন্য হাত তুলেও হাত নামিয়ে নিজেকে সংযত করে নিলো। বাড়িভর্তি মেহমান। কথা না বাড়িয়ে মোনার রুম থেকে বেরিয়ে যায় ইমরান নিজেকে বকতে বকতে। রাগের মাথায় এত বড় ভুল সে করতে যাচ্ছিলো। ইশানকে আমার ছেলে বলাটাও ইমরানের কর্ণকুহরে বাড়ি লাগে। ব্যাপারটা অনেক শান্তির।
স্টেজে একটু হেসে কথা বলেছে তাও ফরমালিটি মেইনটেইন করার জন্য মোনা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে। এর মধ্যে অনন্যা এসে মেজাজটা বিগড়ে দিয়েছে।

গেস্ট রা সবাই চলে গিয়েছে। ড্রইং রুমে বাড়ির সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছে। মিনহাজরা ও কিছুক্ষন আগে বেরিয়ে পড়েছে। আজ মোনা খুশি পরিবারের সবাইকে দেখে। মায়াও হেসে হেসে কথা বলেছে। আগলে নিয়েছে। শরীর খারাপ লাগছে, শাড়িটা পাল্টানো প্রয়োজন। ইমরান এর মুখ এখনো থমথমে। মোনা একবার তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নিলো।
সুরাইয়া এবং নওশীন মোনাকে নিয়ে আলোচনা করছিলো,
‘ ভাবী, মোনা চাচীর কপাল কত ভালো দেখছেন চাচাজানের মত একজনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছে৷ টাকা ও তার,কোম্পানি ও তার।’
‘সুরাইয়া আস্তে বলো, চাচীজান বয়সে হয়তো ছোট আমাদের চেয়ে কিন্তু চমৎকার ব্যক্তিত্ব এই মেয়ের। চাচাজানের যোগ্য জীবন সঙ্গী। চাচাজান এমনি এমনি এই মেয়েকে বিয়ে করেন নি। উনাদের দেখে মনে হচ্ছে বয়স শুধু একটি সংখ্যা মাত্র। তাকিয়ে দেখো দুজন কি যেন বলছে নিজেদের মধ্যে। আল্লাহ মেহেরবান।সুখী হোক উনারা।

মোনা ইমরানের একটু পাশ ঘেঁষে বসলো। কাছে গিয়ে আস্তে করে বললো,
‘ইমরান সাহেব এখনো রেগে আছেন।
‘উহু’
‘আপনার মন খারাপ?’
‘না’
‘ আমি খুব খুব স্যরি। তখন ওভাবে কথা বলা উচিত হয়নি, অনেক জোরেই কথা বলেছি আপনার সাথে। আমার বুকে অনেক কষ্ট হয় ইশানের মাকে দেখলে। এরমধ্যে আসছে অনন্যা। ‘
ইমরান চুপচাপ মোনার কথা শুনছে কোনো প্রতি উত্তর করছে না। আজকে কাঁকনকে দেখে ইমরানের করুনা হয়েছিল। আজ কাঁকন নিঃস্ব। এই টুকু জীবনের সব পাপের শাস্তি আজ পেয়ে গিয়েছে। ছেলে অস্বীকার করলো, ইমরানের কাছ থেকে পেলো তীব্র অপমান। ঠিক এভাবে অসহায় করে ১৭ বছর আগে ফে*লে গিয়েছিলো ইমরানকে। ছিন্ন হলো সব সম্পর্ক আজ। সেই কাঁকনের জন্য সকালে মোনার গায়ে হাত তুলতে গিয়েছিলো। কি করতে গিয়েছিলো ইমরান ভেবেই ক্রোধে নিজেকে আঘাত করতে মন চাইছে। মোনা তার কত শখের। সে কি করে আঘাত করতে চাইলো মোনাকে তাও সেটার কারণ কাঁকন। নিজেকে মাফ করতে পারছেনা ইমরান। মোনার পুনরায় ডাকে ইমরানের বোধ ফিরে,

‘কথা বলবেন না? আর করবো না তো স্যরি।’
মোনা একটু জোরেই বললো কথা গুলো। অন্যরা কথা বলতে বলতে থেমে গিয়ে মোনাকে লক্ষ্য করলো। সবাই বুঝতে পারছে ইমরান অন্যমনস্ক। মোনা কিছুর জন্য অনুরোধ করছে এটা বাকিরা বুঝতে পারছে। আইরিন ইমরানকে অন্য মনস্ক দেখে কথা বলতে গেলে নয়নের বাঁধায় পিছিয়ে যায়।
ইমরান সৎবিৎ পেয়ে মোনাকে আস্তে বললো,
‘না রাগ করিনি, আমি স্যরি তখনের ব্যবহারের জন্য। ইশানের মা তুমি। অন্য কোনো নাম মুখেও আনবেনা কেমন।’
মোনা এখনো গাল ফুলিয়ে রেখেছে, চোখ জোড়া ছলছল করছে। ইমরান মোনার দিকে তাকিয়ে মোনাকে সবার সামনেই বুকে টেনে নিয়ে কপালে অধর ছোঁয়ালো। এহেন ঘটনায় মোনা লজ্জা পেয়ে গেলো।
‘ মোনালিসা আই এম অলরাইট। ইউ নিড টু গো ফর চেঞ্জিং। সামান্তা মামীকে নিজে যাও। চেঞ্জ করে দাও।আমার একটু কাজ আছে ওটা সেরে আসছি’
‘পাপা তুমি কি রেগে আছো আমার উপর।’
ইশানের কথায় রুমের প্রতিটি প্রানী ওর দিকে তাকালো। ইমরানের চোয়াল শক্ত।এই প্রথম ছেলের কোনো কাজ ওর পছন্দ হয়নি। কেনো হয়নি তাও বুঝতে পারছেনা। কাজটা নিজেই করতো ছেলে ইনভলভ হয়েছে তাই ভালো লাগে নি। ছেলেকে এতটা কঠিন সে তৈরি করেনি। ইমরান ছেলের দিকে ক্ষীপ্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।

‘ রেগে থাকার মত কাজ করেছো তুমিও জানো। অনেক বড় হয়ে গিয়েছো।’
‘ কাজটা অসমাপ্ত রেখেছিলে কেনো? আমি চাইনি আমার মা কষ্ট পাক।’
আইরিন এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে,
‘ কি কাজরে ইশান।’
‘ তোমার ভাই আর মিসেস কাঁকনের এত বছর মিউচুয়াল ডিভোর্স হয়নি। আজ আমি নিজ হাতে দাঁড়িয়ে থেকে সাইন করিয়েছি। জিগ্যেস করো তোমার ভাইকে সে এখনো ওই লোভী মহিলার কাছে কি চায়। আমি এখন ছোট নেই যে সে আমার মায়ের আশায় ওই মহিলাকে আবার আমাদের গুছানো জীবনে নিয়ে আসবে।’
‘ ইশান তুমি এখনো এত বড় হওনি যে আমার মুখের উপর কথা বলবে। তোমাকে আমার ডিভোর্স হয়নি এই খবর কে দিয়েছে?’
‘ তোমার যেমন উপর অবধি লিংক আছে,আমার তেমন ঠিক জায়গা মত তথ্য দেয়ার ইনফরমার আছে।’
মোনা নিজেকে ইমরানের কাছ থেকে ছাড়িয়ে প্রশ্ন নিক্ষেপ করলো,
‘ এখনো উনাকে ভালোবাসেন ইমরান সাহেব?’
এতক্ষন বাবা-ছেলের তর্কের মধ্যে মনেই ছিলোনা যে এখানে মোনা আছে। ইমরান মোনার দিকে তাকিয়ে আবার ইশানের দিকে ফিরে বলে,
‘এসব কথা থাক পরে হবে।’

‘ পাপা আমি চাই না এগুলা পরে আর উঠুক।আজই শেষ করো সব। মিসেস কাঁকনকে ভালোবাসো এখনো?’
‘ ইশান কাঁকন আমার প্রথম অনুভূতি, তোমার মা।অবশ্যই সফট কর্ণার আছে ওর প্রতি। তোমাকে আমি ওর মাধ্যমেই পেয়েছি। তার মানে এই নয় যে এখন আমি কাঁকনের জন্য ম*রে যাব।’
মোনার বড্ড অসহায় লাগছে নিজেকে। এই কাঁকন নামটা কবে যাবে ওদের জীবন থেকে। আর ভালো লাগছে না। অসহ্যকর নাম।
‘ পাপা এখন তো সব শেষ তাহলে আর ভালোবাসতে হবে না এই মহিলাকে।’
‘ কাঁকনের সাথে আমার সম্পর্ক ১ বছরের মত। সংসার জীবন ১ বছর। এই দুইবছরের মধ্যকার সম্পর্কে একমাত্র পাওয়া তুমি। ভালোবাসার প্রশ্ন আসছে না তো। প্রথম অনুভূতি ভোলার নয়। সেটা তিক্ত হোক বা মধুর। আর বাকি রইলো মোনালিসা। ওর সাথে সম্পর্ক বলো আর সম্পর্কের উত্থাপ পতন বলো এখন অবধি ৭ বছর। বাকি সব তোমার জানা। আর কিছু বলতে হবে?’
‘ এখন অবধি মাকে একবারো বলেছো ভালোবাসি?’
‘বলাটা কি এতই জরুরি ইশান?’
‘অবশ্যই জরুরি। তুমি কাউকে ভালোবাসবে মন দিয়ে অথচ ওই মানুষটা জানতেই পারবেনা,মনে মনে কষ্ট পেয়ে শেষ হয়ে যাবে এটা তো ঠিক নয় পাপা।’

‘কি চাও তুমি?’
‘ কনফেশান। টেল হার ভালোবাসি।’
ইমরান আর ইশানের এই যুদ্ধ বাড়িসুদ্ধ সবাই দেখছে। সবার মনের অবস্থা ভীতসন্ত্রস্ত। বাবা-ছেলের এই তর্ক-বিতর্ক ঝড়ের আগে গুমোট পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
‘ইশান সারাদিন অনেক ধকল গিয়েছে রুমে যাও। আমার শরীর টাও ভালো না।’
ইশান ইমরানের কথা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মোনার দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ মা আজ থেকে তুমি আমার সাথে থাকবে। আমি কোনোভাবেই চাই না এই লোক তোমার আশে পাশে থাকুক। অনেক হয়েছে। নিজের মানুষদের ভালোবাসবে এটা বলতে এত সংকোচ কিসের?’
মোনা এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ কাটিয়ে ইমরানের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ ইমরান সাহেব, আপনি যান রেস্ট নিন। আমি দেখছি এসব। ইশান থাক না বাবা,কেনো এসব নিয়ে কথা।’
মোনা সামনের দিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছিলো। নিজের হাতে কারো স্পর্শ পেয়ে থমকে দাঁড়ালো। পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে ইমরান ওর হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে আছে।
‘ দাঁড়াও মোনালিসা। কথা শেষ হয়নি। তুমি এভাবে দ্বিধায় ফেলে যেও না। আমার ভেতর কি চলছে আমি কাউকে বোঝাতে পারছিনা। আজ ইশান ও আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালো। তুমিও কি তাই করবে,অবিশ্বাস করে আবার চলে যাচ্ছ?’
‘ আমি তো কিছু চাইছিনা,আপনি কথা আগাচ্ছেন কেনো? ও ছোট মানুষ বাদ দেন না এসব।’
ইমরান হাঁটুগেড়ে বসলো সবার সামনে। মোনার একহাত ধরলো। চোখ দুটো বন্ধ করে আবার খুললো। পুরো রুমজুড়ে পিনপতন নিরবতা। বড় শ্বাস নিলো,

‘ মোনালিসা,আবেগের বয়স অনেক আগেই হারিয়ছি, ভুলে গিয়েছি কিভাবে নিজের ভালোবাসা জাহির করতে হয়। মিটিং, দায়িত্ব,ইশান সব মিলিয়ে ভালোই চলছিলো জীবন। মাঝে তুমি এসে সব এলোমেলো করে দিলে, আমার নিয়ম ভেঙ্গে দিলে। অদ্ভুত এক বন্ধনে আবদ্ধ করলে। নিজেকে প্রশ্ন করেও নামহীন একটা সম্পর্কে মন বেঁধেছিলাম সাত বছর আগে। এই সম্পর্কে আগাতে চাইনি কখনো। কিভাবে আগায় তাই তো জানিনা। তোমাকে দেখলে অনুভূতিটা মোটেও ইশান এবং নাহিয়ার মত মনে হয় নি। প্রথম দিকে তোমাকে মোটেও অন্য চোখে দেখেনি। দিন দিন আমার পেছনে যেভাবে ঘুরঘুর করেছো বাচ্চামি গুলোর জন্য মজা পেতাম। একটা সময় ভয়ংকর রূপ ধারণ করলো। নিজেকে তোমার থেকে দূরে সরিয়ে দেশের বাইরে পাড়ি জমালাম। অনুভূতি তখন অনেকক্ষানী গ্রাস করে ফেলেছে। ভেতরে ভেতরে আমি নিজের সত্তাকে হারিয়ে মোনালিসার প্রেমে পড়ে গিয়েছি। স্বীকার করছি সবার সামনে আমি তোমার প্রেমে পড়ে গিয়েছি, ভয়ানক প্রেমে পড়েছি। বাকি দিন গুলো অস্বাভাবিক যন্ত্রনায় পার করেছি,এখনো করছি। জানিনা কেনো এই অপরাধবোধ কাজ করেছে বা করছে। মাঝে মাঝে মনে হয় বাঁচবোই কতদিন। এই মধ্যবয়সে তোমাকে নিজের ছন্নছাড়া জীবনের সাথে জড়ানো বড্ড বোকামী হয়েছে।’

‘ ভালোবাসেন না?’
ইমরান মোনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। সেই প্রশ্ন। কি হতে পারে এই প্রশ্নের উত্তর? কিছুক্ষন চুপ থেকে ইমরান নিজের দুই হাত দিয়ে মোনার হাত ধরলো।
‘ এই প্রশ্ন আমাকে করার আগে নিজেকে করো? তুমি আমায় অবিশ্বাস করেছে ভেবেই যে কান্ড ঘটিয়েছি এরপর ও কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে মোনালিসা? আরেকবার অবিশ্বাস করোনা। কাঁকনের ব্যাপারটা আমি নিজেই তোমাকে বলতাম।’
মোনা ইমরানের হাত ধরে চোখের পানি ফেলছে।
ইমরান উঠে দাঁড়ায়, দুহাতের আজলায় মোনার গাল তুলে ধরে এবার জোরেই বলে,
‘ মোনালিসা হাত জোড় করছি দ্বিতীয় বার অবিশ্বাস করোনা। আমি এমন কিছুই করিনি। তুমি ইশানকে জিগ্যেস করো।’
ইমরান ইশান এবং নয়নের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকায়।
‘ ইশান তোর বাপ আজন্ম নিরামিষ। শালা কইবি ভালোবাসছ তা না মাইয়াটারে কান্দায় ছাড়ছোস। তোর কি এইজীবন ও বুদ্ধি হইবোনা। ‘
‘ নয়ন চুপ কর। আমি মোনালিসার চোখে সেই আগের মত অবিশ্বাস দেখছি।’
মোনা মুখ তুলে আবদার করে
‘ একবার বলেন নিজের মুখে ভালোবাসি।’

‘ একবার না শতবার বলছি ভালোবাসি,ভালোবাসি বড্ড বেশি ভালোবাসি। অবিশ্বাস করোনা মোনালিসা। অনেক কঠিন বিপদ, ঝামেলা,ঝড় আমাকে টলাতে পারেনি। গুলি লাগার পর ও আমি শান্ত ছিলাম কিন্তু তোমার অবিশ্বাস আমাকে মে*রে ফেলবে। ‘
মোনালিসা অধর প্রসারিত হাসি। ইমরান আকস্মিক মোনাকে ছেড়ে সোফায় বসে পড়ে,
‘ আপা এক গ্লাস পানি দাও।’
ইমরান পানি খেয়ে সোফার কুশনটা সরিয়ে হেলান দিয়ে সোফায় আধশোয়া হয়ে বসে। মোনা পাশে বসে। ইমরানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আইরিন মুখ চেপে কাঁদছে। এই কাঁকন সব তছনছ করেই ছাড়ছে।
‘ ইমরান সাহেব আমি আপনাকে একটু ও অবিশ্বাস করিনি। আপনার ছোট্ট মোনালিসা,আপনাকে আগের মতই ভালোবাসে। এনটাইস এ কি গ্রে’ সনের সাথে রিভার এর কি বিয়ে হয়েছিলো? গল্পটা তো আমি পুরো জানিনা। আমাকে শুনাবেন?’
ইমরান চোখ বন্ধ করেই মুচকি হেসে নয়নকে বলে,

‘ নয়ন তুই যেন আমাকে কি বুঝিয়েছিলি- মোনা মামনী একটু চঞ্চল,কিন্তু তুই যা ভাবছিস ওরকম কিছুই না। ও তো সারাক্ষন বই,আর নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আর তোর এই মোনা মামনী বই পড়েই মাথা খারাপ করছে বুঝছিস। এনটাইচ পড়েই ওর মাথাটা খারাপ হয়েছে, তার শিকার আমি। আভা হ্যারিসনের সাথে দেখা করে জিগ্যেস করবো আমার মোনালিসার মাথা খারাপ করছে কেনো?’
‘ জিগ্যেস করলাম কি আর উত্তর দিলেন কি?’
‘ অনেক পড়েছো বই,শুধু যে পড়েছো তা নয় নিজের জীবনে এপ্লাই ও করেছো এসব। এখন চুপ থাকো।
ইমরান আশপাশ না দেখে মোনাকে আরেকবার বুকে টেনে নিলো সবার সামনে।
‘ ভালোবাসি যখন বলতে তো বাঁধা নেই। ভালোবাসি মোনালিসা। যদি কয়েকবার জন্ম নেয়ার সুযোগ পেতাম প্রতিবারই প্রার্থনায় তোমাকে চাইতাম। সবসময় দোয়া করি সুখে থাকো,ভালো থাকো,সবাইকে ভালো রাখো। ‘
এই দৃশ্যটা পরিবারের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।
অকস্মাৎ ফোনটা বেজে উঠলো। হাতের ফোনের স্ক্রিনে চোখ পড়েছে মোনার। ইমরানের দৃষ্টি মোনার দিকে। মোনার অনুমতি চাইছে। তবে মোনা আজ নিশ্চিন্ত। মাথা নেড়ে ইশারায় অনুমতি দিলো ইমরানকে।
ইমরান ফোন রিসিভ করে লাউড স্পিকার দিলো। ও পাশ থেকে ভেসে এলো নারী কন্ঠ,

‘ ইমরান,আমাকে কেনো শেষ সুযোগটা দিলে না। কি পেয়েছো ওই মোনাতে।’
‘নিজের জিনিস আগলে রাখার টেকনিক।মোনার মত মেয়ের জন্য হাসতে হাসতে আমার জা*ন কুরবান করতে পারি।’
‘আর আমি?’
‘প্রাক্তন’
‘ইশান?’
‘ আমার সবটা ঘিরে থাকা অস্তিত্ব। যাকে ছাড়া আমি এই পৃথিবীতে কিচ্ছু না।’
‘ সাইনটা না করলেও পারতে। তোমাকে পাবার একটা আশা থাকতো।’
ইমরান হেসে উত্তর দিলো, ‘ সাইন না করলে এতক্ষনে আমার ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখতে আমার লা*শ উঠেছে। আমাকে পাবার তো প্রশ্নই আসেনা।তোমার জন্য আরেকটু হলে ছেলে, বউ আমার অবিশ্বাস করতো। রাখছি কথা বাড়াতে ইচ্ছে করছে না।’
ফোনটা কেটে দিয়ে উঠে দাড়ালো ইমরান।

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৩৬

‘উপরে যাও। সামান্তা,তুশি নিয়ে যাও ওকে।’
ইমরান বেরিয়ে গেলো।
মোনাকে নিয়ে উপরের দিকে চলে গেলো সামান্তা,তুশি। রেখে গেলো কিছু প্রশ্নসূচক মুখের বিস্ময়কর দৃষ্টি।
‘ মোনা চাচী সত্যি অসাধারণ।চাচাজান এর যোগ্য রানী। ‘
নকিবের কথায় বাকিরাও মাথা দুলালো।
‘চাচাজান ও বা কম কিসের। কি সুন্দর অবলীলায় মনের কথা জানালেন। মানুষ যদি নিজের দিক থেকে স্বচ্ছ থাকে, কোনো শক্তিই তাকে আঘাত করতে পারেনা।

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৩৮