আমার আলাদিন পর্ব ৫৯
জাবিন ফোরকান
সারিকার চেম্বারে বসে আছে মিসির। এই মাত্র তার একটা দাঁতের ফিলিং করিয়ে দিয়েছে স্ত্রী। বেশকিছু দিন যাবত বেশ অশান্তিতে ছিল দাঁতব্যথা নিয়ে। চেয়ারে বসে আশেপাশে দেখছে মিসির। সারিকা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে রাখতে নিজের সহযোগীদের কিছু বলছে। আরও দুজন রোগী অপেক্ষা করছে। তাদের অবশ্য সরাসরি সারিকা দেখবে না। খুব গুরুতর কিছু নয়। অ্যাসিসটেন্টরাই সামলে নেবে।
কিছুক্ষণ স্থির বসে গালে হাত দিয়ে স্ত্রীর কর্মকান্ড লক্ষ্য করে গেল মিসির। বরিশাল থেকে ফিরেছে অনেকদিন পেরিয়ে গিয়েছে। অথচ তাদের মধ্যে এখনো কিছু স্বাভাবিক হয়নি। অবশ্য, তাদের মাঝে স্বাভাবিক কিছু কোনোকালে ছিলনা। স্বামী স্ত্রীর দায়িত্ববোধের সম্পর্ক বয়ে এসেছে দুজনেই। মিসিরের এতকাল মনে হত, এটাই সঠিক, এটাই প্রথা। এভাবেই হয়ে আসে এমন স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন যাদের মাঝে অন্তরের সম্পর্ক নেই। প্রথমটায় মিসির চেষ্টা করত, সারিকাকে আগলে রাখার, তার মনটা বোঝার। কিন্তু ইদানীং আর সেই ইচ্ছা হয়না। নিজ স্ত্রীকে মানুষ কম, ছায়া বেশি মনে হয় তার। যে ছায়া অতীতের বৃত্ত থেকে বেরোতে পারছেনা। অপরাধবোধ জাগে মিসিরের মনে। সারিকাকে হয়ত সে ফাঁদে আটকে রেখেছে। বন্দী করে ফেলেছে দাম্পত্য নামক এক খাঁচায়। যে পাখির ডানা ঝাঁপটে নিজের মতন উড়ে চলার শখ, সেই পাখি খাঁচায় নেতিয়ে পড়েছে সম্পর্কের ঘানি টানতে টানতে।
অ্যাপ্রোন – গ্লাভস খুলে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে সারিকা চিন্তায় ডুবে থাকা স্বামীর দিকে তাকাল। মিসিরকে অত্যন্ত ভাবুক দেখাচ্ছে। সে এগোল,
“আমার শেষ। চলো।”
মিসির খানিকটা চমকিত হয়ে ভাবনা থেকে বেরোল। তৎক্ষণাৎ চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ল। বাক্য ব্যয় না করেই চেম্বারের বাইরে হাঁটা দিল।
আজ মূলত কিছু কেনাকাটা করার আছে দুজনের। সামনেই পরপর বেশকিছু দাওয়াত আছে। উপহার, পোশাক আশাক এসব ক্রয় করা আজকের মূল পরিকল্পনা। মিসিরের সঙ্গে গাড়িতে করে শপিং মলে পৌঁছাল সারিকা। দুজনই ভেতরে ঢুকল। আশেপাশে মানুষের ভিড় মোটামুটি। পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে কেনাকাটা করতে এসেছে অনেকেই। তারা দুজন প্রথমে একটা গিফট শপে ঢুকল। উপহারগুলো কেনা হয়ে যেতেই চলল জামাকাপড়ের দিকে। একটা শাড়ির দোকানে ঢুকতেই তাদের সোফায় বসতে দেয়া হলো। স্টাফ পছন্দ জেনে একে একে সবকিছু মেলে দেখাতে লাগল। সারিকা শাড়ি বেছে বেছে দেখছে, আর মিসির চুপটি করে বসে আছে। সমস্ত পথ আর কেনাকাটার সময়ে সে খুব দরকারী ছাড়া বিশেষ কোনো কথা বলেনি সারিকার সঙ্গে। মনে মনে ভাবুক হলো সারিকা। অতঃপর কি যেন ভেবে একটা হলুদ পার্টি শাড়ি কাঁধে ফেলে স্বামীর দিকে ফিরল। মোলায়েম হেসে বলল,
“কেমন লাগছে আমাকে? এটা নেই?”
মিসিরের দৃষ্টি প্রসারিত হলো। বিস্মিত সে। সারিকা অধিকাংশ নিজের পছন্দে চলতেই ভালোবাসে। মিসিরেরও তাকে তার মতন করেই ভালো লাগে। তবে সরাসরি এভাবে জিজ্ঞেস করাটা এই প্রথম। তাই প্রথম কিছু সেকেন্ড মিসির উত্তর করতে পারলনা। পরে গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
“সুন্দর লাগছে। নিয়ে নাও।”
“সুন্দর? সুন্দর হলে চলবে না। আমার চমৎকার লাগবে!”
বাচ্চামো জেদ ধরে হলুদ শাড়ি সরিয়ে এবার একটা বেগুনি বর্ণের শাড়ি বেছে নিল সে। সেটাও উল্টেপাল্টে দেখে বিরক্ত হয়ে অন্য শাড়িগুলো দেখতে লাগল। যেটাই হাতে লাগছে, সেটাই দুমড়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে। মিসির ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে দেখল স্ত্রীর কান্ডকারখানা। সারিকার হঠাৎ এমন আগ্রাসী আচরণে স্টাফরাও অবাক। কিন্ত কাস্টমারের সঙ্গে কঠোর কথা বলতে পারছেনা। শেষমেষ মিসিরই নিজের হাত বাড়িয়ে দিল। সারিকা তখন একটা কচুপাতা বর্ণের চিকচিকে জরির কাজ করা শাড়ি নেড়েচেড়ে সরিয়েই রাখছিল, কিন্তু এর আগেই মিসিরের হাতটা তার হাতের উপর চেপে বসল। অবাক হয়ে স্বামীর দিকে তাকাল সে। মিসির মুখে কিছু বললনা। শাড়িটা তুলে সারিকার কাঁধে ছড়িয়ে খানিকটা দূরে সরে বসল। বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখল অর্ধাঙ্গিনীকে। সারিকা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল। মিসির থুতনিতে আঙুল ঘষতে ঘষতে এত গভীর দৃষ্টিতে তাকে দেখছে যে সারিকার মনে হলো তার পেটে অসংখ্য প্রজাপতি উড়তে শুরু করেছে। লজ্জা পেল সে। উজ্জ্বল গাল দুটো তপ্ত হলো। মিসির নিজের পর্যবেক্ষণ শেষ করে বলল,
“চমৎকার।”
ওই একটা প্রশংসার শব্দই সারিকার বুকে দামামা বাজিয়ে দিল। অজান্তেই ঠোঁটে লাজুক হাসি ভর করল। শেষমেষ কচুপাতা রঙের জরির কাজের শাড়িটাই কিনল সারিকা। দুজনই পাশাপাশি হেঁটে দোকান থেকে বেরিয়ে আসছিল, ঠিক এমন সময়ে মুখোমুখি এসে পড়ল এক রমণী। লম্বা ফিনফিনে এক সুদর্শনা। গায়ে জড়ানো ট্রেন্ডি পাকিস্তানি সালোয়ার কামিজ। ওড়নাটা সরু ভাঁজ করে কাঁধের একপাশে ঝুলিয়ে রেখেছে। হাতে বেশকিছু শপিং ব্যাগ। রমণীকে দেখেই মিসির থমকে দাঁড়াল। অপরদিকে সেই রমণীও গভীর জ্বলজ্বলে দৃষ্টিতে দেখে গেল মিসিরকে। এক নমনীয় হাসি ফুটল তার ঠোঁটে,
“কেমন আছো মিসির?”
মিসিরকে বিব্রত দেখাল, সাথে খানিকটা বিষণ্নও। সারিকা একবার স্বামী, অতঃপর সেই রমণীর দিকে তাকাল। কৌতূহল ফুটল তার চেহারায়। মিসির শেষমেষ একটি নিঃশ্বাস ফেলে জানাল,
“ভালো আছি। তুমি কেমন আছো আরওয়া?”
মেয়েটার নাম তবে আরওয়া। মনে মনে আওরাল সারিকা। চেনা চেনা লাগছে। কোথায় যেন শুনেছে? মস্তিষ্কের বুঝে উঠতে খানিকটা সময় লাগল। মনে পড়তেই সারিকা নিজের জায়গায় জমে গেল। অবিশ্বাস নিয়ে তাকাল। আরওয়া! বিয়ের আগেই বলেছিল মিসির। একটা মেয়েকে একপাক্ষিক ভালোবাসত সে। সেই মেয়েটা? এখানে? তাদের সামনে দন্ডায়মান?
“আমি ভালো আছি। তোমাকে দেখে আরও ভালো লাগছে।”
আরওয়া মিষ্টি কন্ঠে জবাব দিল। তার দৃষ্টিতে আবেগের প্রজ্জ্বলন স্পষ্ট। যেন তারা ফুটেছে চোখ দুটোর মাঝে। সারিকার ভীষণ অস্বস্তি হলো। বুকের মাঝে একটা চাপা আতঙ্ক ভর করল। স্ত্রীর হাসফাঁস ঠিকই খেয়াল করল মিসির। তৎক্ষণাৎ আলগোছে একটি হাত বাড়িয়ে সারিকার কোমরের পাশে হাত রেখে কাছে টেনে নিল সে। নিজের সাথে ধরে রেখে মৃদু হেসে আরওয়াকে জানাল,
“ওকে তুমি প্রথম দেখছ। পরিচয় করিয়ে দেই। মাই লাইফ, মাই ওয়াইফ, সারিকা বিনতে আহমদ।”
চোখ পিটপিট করল সারিকা। মুখ তুলে মিসিরের সমুজ্জ্বল চেহারার দিকে তাকিয়ে রইল। বুকের ভেতর যে দামামা ক্ষণিক আগে বাজতে শুরু করেছিল, সেটা এবার চড়াও হলো।
সকাল ৯ টা। কোর্ট প্রাঙ্গণে ব্যস্ত পদচারণা। কালো কোট পরনে আইনজীবীগণ নিজেদের কাজে যাচ্ছে দ্রুত পদক্ষেপে। চা ওয়ালারা হাকডাক করছে। বারান্দায় পাতা বেঞ্চিতে সাহায্য প্রার্থীরা বসে আছে। কেউ বা চা পান করতে করতে নিজেদের কেইসের অন্তিম আলোচনা সেরে নিচ্ছে। এমন সময়ে বাইরে এসে থামল একটি গাড়ি। ভেতর থেকে বের হলো নীরব। কালো স্যুট পরনে, কোট আপাতত ভাঁজ করে বাহুতে ঝুলিয়ে রাখা। হাতে ফাইল এবং কাগজপত্র। চুলে আঙুল বুলিয়ে সে সরে দাঁড়াল। গাড়ির অপর দরজাটা খুলে গেল। অভ্যন্তর থেকে বেরিয়ে এলো সাইবান। কালো স্ট্র্যাপ ডিজাইন করা সাদা শার্ট আর বাদামী ট্রাউজার পরিধানে। শার্টের হাতা কনুই অব্দি গুটিয়ে রেখেছে। তার একটি হাতে ধরা অপর একটি নমনীয় হাত। সযত্নে ওপাশের মানুষটাকে গাড়ি থেকে নামতে সাহায্য করল সে। বাইরে পা রাখল ইরাম। হালকা সবুজাভ শাড়ি পরনে তার, চুলগুলো বেণী পাকিয়ে রাখা। প্রথমবার সাইবানের দিকে তাকিয়ে পরক্ষণে কোর্ট প্রাঙ্গণে দৃষ্টি ফেলল সে। বুকের ভেতরে অসহনীয় চাপটা ফিরে এলো। জীবনে কোনোদিন কোর্ট কাচারির চক্করে পড়া হয়নি তার। শুধু সিনেমায় টুকটাক দেখা হয়েছে। তবে বাস্তব জীবন তো আর সিনেমা নয়! সামনের আদালত ভবন, আশেপাশে সবার চিন্তিত উপস্থিতি এবং উকিল, প্রার্থীদের ছোটাছুটি ইরামকে খানিকটা ভয় পাইয়ে দিল। সাইবান স্ত্রীর আতঙ্ক ঠিক অনুভব করতে পারল। তাই নিজের হাতে থাকা স্ত্রীর হাতটা তুলে হালকা চুমু দিয়ে বলল,
“আ’ম হেয়ার, মাই প্রেশিয়াস।”
ইরাম খানিকটা বিস্মিত হলো। পরমুহূর্তে মৃদু হেসে মাথা দোলালো স্বামীর উদ্দেশ্যে। নীরব হাতঘড়ির দিকে চেয়ে বলল,
“চল সাইবান, এগোই। স্যার কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবেন।”
ভেতরে প্রবেশ করল সকলে। বারান্দায় সারে সারে লাইন ধরে বেঞ্চ পাতা। অধিকাংশ দখল হয়ে গিয়েছে। সাইবান খুঁজে একটা জায়গা বের করল। ইরামকে বসাল। সামনেই সে আর নীরব দাঁড়িয়ে রইল। মিনিট বিশেকের মধ্যেই নীরবের সিনিয়র পৌঁছে গেল। সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির চৌধুরী। বয়স পঞ্চাশের কোঠায় হলেও শারীরিক গঠন অত্যন্ত সুঠাম। আধপাকা চুল এবং চিবুকে ধূসর দাঁড়ির রেখা। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তিনি। অবয়বে সেই প্রভাব স্পষ্ট। দূর্লভভাবে নিম্ন আদালতের কিছু কেইস লড়েন। তার মধ্যে ইরামের কেইস একটি। শিশির চৌধুরীর সঙ্গে রয়েছে আরও একজন জুনিয়র অ্যাডভোকেট। তিনি এসেই বিনা বাক্য ব্যয়ে শুধুমাত্র তাকিয়ে সাইবান এবং ইরামকে দেখলেন। ইরাম সালাম দিতেই সেটি খুব সংক্ষিপ্তভাবে গ্রহণ করে অগ্রসর হলেন। আজ প্রথম শুনানি, আদালতে এখনো ইযানের উপস্থিতি চাওয়া হয়নি, শুধু ইরামের হাজিরা চাওয়া হয়েছে। তাই ইযান বাড়িতেই। তারা সকলে যখন ধীরে ধীরে বারান্দা দিয়ে কোর্টরুমের দিকে এগোচ্ছে, তখন বাইরে এসে থেমেছে ভিন্ন একটি গাড়ি। সাইবানের পাশে হাঁটতে হাঁটতে মুখ ঘুরিয়ে তাকাল ইরাম। অজান্তেই চোখ পড়ল তার দৃশ্যটার উপর। গাড়ির দরজা খুলে বাইরে পা রাখল অরণ্য। তার সুদীর্ঘ সুদর্শন অবয়ব সকালের মিষ্টি রোদের আলোয় দেখাল প্রীতিকর। আশেপাশের বেশকিছু মানুষ ঘুরে ঘুরে তাকাল দেখার জন্য। কালো ফরমাল পোশাকে অরণ্যকে আলাদা ধরণের পুরুষালী দেখাচ্ছে। আজ চোখে কোনো চশমা নেই। আছে শুধু ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি। দূর থেকেই ইরামের সঙ্গে চোখাচোখি হলো তার। তাতে ঠোঁটের সেই হাসিটি দ্বিগুণ বিস্তৃত হলো। ইরাম সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নিল। তাকাল ভিন্নদিকে।
সিনেমায় দেখানো রাজপ্রাসাদের মতন বিশাল নয় কোর্টরুম। বরং মাঝারি আকৃতির। তাও সামনে সার দিয়ে বেঞ্চ পেতে রাখার কারণে সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। সামনে মাঝখান বরাবর বিচারকের আসন। যেটা বর্তমানে ফাঁকা। ডান পাশে পেশকারের টেবিল। মাথার উপরে ঝুলছে বেশ কতক পুরাতন ফ্যান, যার ক্যাঁচর ক্যাঁচর শব্দ হচ্ছে। বেশিরভাগ বেঞ্চ ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্যান্য মামলার বাদী বিবাদী পক্ষের উপস্থিতিতে। মাঝখানের দিকের কিছু জায়গা খালি আছে। রুমের বাতাসজুড়ে পুরোনো ফাইলের ঘ্রাণ। সেই বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে লোকজনের চাপা গুঞ্জন।
ইরাম রুমে প্রবেশের আগে দাঁড়িয়ে খানিক লম্বা শ্বাস টানল। চোখ মেলে তাকাল দরজার দিকে। একটা রংচটা সিলভার প্লেটের উপর খচিত নামফলক।
বিচারক: সৈয়দা ফারহানা ইয়াসমিন
যুগ্ম জেলা জজ ও বিচারক, পারিবারিক আদালত।
ইরামের বুকে সামান্য কম্পন তৈরি হলো। যে দুয়ারে পা রাখছে সেই দুয়ার থেকে বেরোনোর সময় পরিস্থিতি কেমন হবে জানা নেই। ইযান যেন শুধু তার হয়েই থাকে, এটুকুই কাম্য মাতৃহৃদয়ের। যে ছোট্ট প্রাণের জন্য এত লড়াই, সেই ছোট্ট প্রাণের জীবনে যেন ওই লোকটার ছায়াও না পড়ে।
“আমাকেই ভাবছ, কবিতা?”
কন্ঠটা ইরামের কানে বুঝি বিষ ঢেলে দিল। ভ্রু কুঁচকে চাপা ক্ষোভ নিয়ে পিছনে তাকাল সে। দন্ডায়মান অরণ্য। পাশেই অরণ্যর আইনজীবী। মধ্যবয়সী এক মহিলা। চোখেমুখে কঠোর ব্যক্তিত্বের ছাপ। খানিকটা কুটিলও বোধ হলো। ইরামের দিকে একনজর চেয়ে সে দ্বিতীয় বার তাকাল না। অরণ্যকে কিছু একটা বলে একদম নিঃশব্দে ঢুকে গেল কোর্টরুমে। পিছনে পিছনে তার দুজন জুনিয়র অ্যাডভোকেট। নীরব এবং শিশির চৌধুরীও ভেতরে চলে গিয়েছে। শুধু সাইবান পিছনে ঘুরে তাকাল। অরণ্যকে দেখেই তার মাথায় রক্ত চড়ে গেল। তবে নিজেকে শান্ত রাখল সে। ধীরপায়ে অর্ধাঙ্গিনীর কাছে গিয়ে দাঁড়াল, কাঁধে হাত রেখে নিকটে টেনে বলল,
“কোনো সমস্যা?”
ইরাম সাইবানের দিকে চেয়ে মাথা নাড়ল। তারপর তীক্ষ্ণ নজরে অরণ্যর দিকে তাকাল। দৃপ্ত গলায় বলল,
“ওই নামে আমাকে ডাকবেন না। শুনলে বমি আসে।”
এক মুহূর্ত থেমে সে জানাল,
“আমার নাম ইরাম কিবরিয়া। মিসেস কিবরিয়া ডাকলেই বেশি খুশি হব। আরও ভালো হয় যদি একেবারেই না ডাকেন।”
“মিসেস তো তুমি শুধু মির্জা সওদাগরেরই, কবিতা।”
ইরামের সমস্ত শরীর গুলিয়ে এলো বুঝি। এই লোকটার সঙ্গে একটা কথা বলতেও সে নারাজ। তাই উল্টো ঘুরে হনহন করে কোর্টরুমের ভেতরে চলে গেল। প্রাক্তনের চলার পথে চেয়ে মুচকি হাসল অরণ্য। বৃদ্ধাঙ্গুলে ঠোঁট ঘষে সে পা রাখল। নজর ইরামের উপরেই স্থির রইল। এক পা, দুই পা, তৃতীয় পা দেয়ার সময়েই অরণ্যর মনে হলো কিছু একটার সঙ্গে হোঁচট খেয়েছে সে। ভারসাম্য হারিয়ে আশেপাশে হাত বাড়ালেও ধরার মতন কিছু খুঁজে পেলনা। হুট করে তার হাতের কব্জি চেপে ধরল কেউ, ফিরে দেখল অরণ্য। দাঁড়িয়ে আছে সাইবান। চেহারায় বিরাট হাসি মেখে উজ্জ্বল চোখে চেয়ে আছে তার দিকে।
“আপনার পতনের সূচনালগ্নে জানাই মোবারকবাদ।”
তৎক্ষণাৎ হাতের বাঁধন ঢিলে করে ফেলল সাইবান। যে হাতে অরণ্যকে ধরে রেখেছিল, সেটা এমনভাবে ছেড়ে দিল যেন পিছলে গিয়েছে। অরণ্য ধপাস করে উল্টে পড়ল মেঝেতে। শব্দে আশেপাশের সকলে ঘুরে তাকাল। শরীরটা ব্যথায় ঝিমঝিম করে উঠল অরণ্যর। প্রসারিত দৃষ্টি মেলে সে দাঁড়ানো সাইবানকে দেখল। ছেলেটা হাসল তীর্যকভাবে, নিজের হাতটা সরিয়ে পকেটে ভরে বলল,
“উপস, মিসটেক!”
অরণ্য হুট করে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ায় কতক মানুষ না চাইতেও ফিক করে হেসে ফেলল। আর কতক অবশ্য নেহায়েত ভদ্র তাই অরণ্যর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল। উঠে দাঁড়াল অরণ্য। শীতল দৃষ্টিতে তাকাল সাইবানের দিকে। কিন্ত সাইবান তাকে দেখার জন্য বসে নেই। ছেলেটা ততক্ষণে হেঁটে চলে গিয়েছে স্ত্রীর কাছে, যেখানে বসে আছে বিবাদীপক্ষ।
কাঁটায় কাঁটায় ঠিক দশটায় পেশকার উঠে দাঁড়ালেন। দৃঢ় গলায় ঘোষণা করলেন,
“সবাই উঠে দাঁড়ান।”
তৎক্ষণাৎ পিনপতন নীরবতা নেমে এলো চারপাশে। বেঞ্চ থেকে সকলে উঠে দাঁড়াল। মৃদু পদশব্দ শোনা গেল। তারপরই দেখা মিলল বিচারকের।
এক বয়স্ক নারী। মাথার চুলগুলো রূপালী বর্ণ ধারণ করেছে। পরিপাটি করে আঁচড়ে খোঁপা বাঁধা। অফ হোয়াইট রঙের শাড়ি এবং তার উপরে জড়ানো বিচারকের কালো উর্দী। চোখে রিমলেস চশমা। চেহারায় বয়সের ভার নেই। আছে দূরদর্শিতা এবং তীক্ষ্ণতা। তার নামটাই কিছুক্ষণ আগে এজলাসে ঢোকার আগে পড়েছিল ইরাম, ফারহানা ইয়াসমিন। তিনি এসে নিজের আসন গ্রহণ করলেন। এতক্ষণ যাবৎ যে গুঞ্জন ছিল, তা একেবারেই মিলিয়ে গিয়েছে। বিচারক এখন পর্যন্ত কিছু বলেননি। তবুও তার উপস্থিতির প্রভাব ছড়িয়ে গিয়েছে চারপাশে। নীরবতা ভাঙছে শুধু পুরাতন ফ্যানের ক্যাচক্যাচ আওয়াজ।
“বসুন।”
গভীর কণ্ঠটি ধ্বনিত হলো। সকলে একে একে বসে পড়ল। বিন্দুমাত্র সময় ক্ষেপণ ছাড়াই মামলার কার্যক্রম শুরু হলো। পেশকার এক এক করে মামলা নং ধরে ডাকছেন, আর বাদী বিবাদী পক্ষ উপস্থিত হচ্ছে। কেউ পাঁচ মিনিট, কেউ বা গুরুত্ব অনুযায়ী দশ মিনিটের মতন সময় পাচ্ছে। যত মামলা অগ্রসর হচ্ছে, তত উৎকণ্ঠা বাড়ছে ইরামের। অজান্তেই শাড়ির কাপড় চেপে ধরছে। কখনো বা এদিক সেদিক তাকাচ্ছে, পা নাড়াচ্ছে। সাইবান অর্ধাঙ্গিনীর পাশে বসে আশ্বাসস্বরূপ শক্ত করে তার হাত ধরে বসে রইল।
প্রায় ঘণ্টাখানেক বাদে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ডাক শোনা গেল। পেশকার চড়া আওয়াজে বললেন,
“মামলা নং ১৫৮/ ২০২৭, অরণ্য মির্জা সওদাগর বনাম ইরাম কিবরিয়া।”
ইরামের বুকের ভেতরে এবার একটা মোচড় দিয়ে উঠল। নীরব ইশারা করল সবাইকে। বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়াল তারা। তবে বাইরে বেরোল না। বাইরে গিয়ে মাঝখানে দাঁড়ালেন শুধু শিশির চৌধুরী এবং অরণ্যর পক্ষের উকিল। বিচারক ফারহানা ইয়াসমিন তার টেবিলে পরিবেশন করা কাগজগুলো ঘেঁটে দেখলেন। না তাকিয়েই জিজ্ঞেস করলেন,
“বাদীপক্ষ?”
এক পা এগোলেন অরণ্যর পক্ষের উকিল মহিলাটি। দৃপ্ত গলায় বললেন,
“জি মহামান্য। বাদীপক্ষের পক্ষে উপস্থিত আছি।”
“বিবাদীপক্ষ?”
পরের প্রশ্নে শিশির চৌধুরী ভারী এবং দৃঢ় গলায় জবাব দিলেন,
“জি মহামান্য, উপস্থিত।”
ফারহানা কাগজপত্র ঘেঁটে বললেন,
“বিবাদীপক্ষ এখনো লিখিত জবাব দাখিল করেনি। তাই পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাদের সময় দেয়া হবে। বাদী পক্ষের কিছু বলার আছে?”
অরণ্যর উকিল বললেন,
“মহামান্য আদালত, বাদী মানে আমার মক্কেল উক্ত শিশুটির জৈবিক পিতা। দীর্ঘদিন সন্তানের কাছ থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। একজন পিতা হিসাবে তিনি নিজের অধিকার চান। তাই আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।”
“শুধু অধিকার চাইলেই তো হয়না। শিশুর ভালো মন্দ, সুবিধা অসুবিধা এবং সর্বোপরি স্বার্থের কথাও বিবেচনা করতে হয়। সে যাই হোক, বিবাদী পক্ষ, এর বিপরীতে আপনাদের কিছু বলার আছে?”
শিশির চৌধুরী সংক্ষিপ্তভাবে জানালেন,
“পিতাকে সন্তানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বিষয়টির সঙ্গে আমরা একমত নই। আমরা মামলার কপি পেয়েছি, নির্ধারিত সময়ে লিখিত জবাব দাখিল করব।”
ফারহানা মাথা নাড়লেন। কাগজগুলো আরেকবার দেখলেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন,
“শিশুটি এখন কার কাছে আছে?”
“মায়ের কাছে।”
চশমা সামান্য তুলে সামনে তাকালেন ফারহানা। বেঞ্চের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইরামের সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় হলো তার। ইরাম ঢোক গিলল। বিচারকের দৃষ্টিতে সে সামান্যতম সহমর্মিতা কিংবা অনুগ্রহ খুঁজে পেলনা। তাতে শুধু নিরীক্ষণ। এক পলক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাইবানের দিকে তাকালেন তিনি। অতঃপর সরাসরি ইরামকেই শুধালেন,
“উনি আপনার বর্তমান স্বামী?”
ইরাম খানিকটা ভড়কে গেল। তবে জবাব দিতে সময় নিলনা,
“জি।”
“আপনার ছেলের বয়স কত?”
“নয় মাস।”
“ছেলে আপনার আর আপনার বর্তমান স্বামীর সঙ্গেই থাকছে?”
“জি।”
আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না ফারহানা। কাগজ দেখে শেষ একবার অরণ্যর দিকে তাকালেন। অতঃপর ঘোষণা করলেন,
“বিবাদীপক্ষ লিখিত জবাব দাখিল করবে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ…”
ফারহানা দুই সপ্তাহ বাদের তারিখ দিলেন। আপাতত সেখানেই সমাপ্তি ঘটল। ইরাম ভেবেছিল আরও কিছু বোধ হয় হবে। কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কিন্ত প্রথম দিনে তেমন কিছুই হলোনা। পরবর্তী শুনানির দিন থেকে সবটা শুরু হবে বোঝা গেল।
শুনানির কাজ শেষ হতেই সাইবান এবং ইরামকে আগামীকাল দেখা করার কথা বলে প্রস্থান করলেন শিশির চৌধুরী। গাড়ির দিকে এগোল ইরাম। মাথাটা ব্যথা করতে শুরু করেছে বিনা কারণেই। তাই কাউকে কিছু না বলে সে গাড়ির ভেতর উঠে বসল। সাইবান বাইরে দাঁড়িয়েই নীরবের সঙ্গে কথা বলছে কেইস নিয়ে। নীরবকে সিনিয়রের কাছে যেতে হবে অন্য কাজে, তাই যা বলার এখনি বলে নিচ্ছে। বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে বলতে হঠাৎ একটা তামাটে গন্ধ নাকে গেল তার। পাশ ফিরে তাকাতেই দেখা মিলল অরণ্যর। মনের সুখে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে। ধারাল দৃষ্টি সাইবানের মুখে আবদ্ধ। নীরব বন্ধুর কাঁধে হাত রাখল,
“সাই..”
“কাজে যা, স্যালাইন।”
বন্ধুকে শীতল গলায় বলল সাইবান। নীরব এক নজর তাকাল, পরক্ষণে সাবধান থাকার ইশারা করে হাঁটা দিল। সাইবান গাড়ির দিকে যাবে ভাবল, তবে কি মনে করে আবার অরণ্যর দিকে ফিরল। অরণ্য কিছুই করছেনা, দুই আঙুলে সিগারেট ধরে একমনে ফুঁকে চলেছে। তবে তার দৃষ্টি সাইবানের উপর থেকে সরছেই না। রাস্তাঘাটে বখাটে ছেলেপিলে যেমন করে, তেমন লাগছে অরণ্যকে। সাইবান ট্রাউজারের পকেটে দুহাত ভরে কাছে এগিয়ে গেল। মুখোমুখি দাঁড়াল অরণ্যর।
“পছন্দ হয়েছে? বিয়ে করবেন? সরাসরি প্রস্তাব দিতে লজ্জা পাচ্ছেন?”
অরণ্য একটুও ঘাবড়াল না। বরং সাইবানকে আপাদমস্তক দেখল।
“লজ্জা?”
“হুম। অনেক লজ্জা পান বলেই আমার সামনে আসতে দ্বিধা। চোরের মতন আমি যখন থাকি না, তখনি প্রকট হন।”
বাঁকা হাসল সাইবান। বুকে দুবাহু বেঁধে দাঁড়াল। অরণ্য হাত থেকে সিগারেটটা ফেলে পা দিয়ে পিষে ফেলল। অতঃপর বলল,
“আর যাই হোক, অন্ধ জন্তুর মতন কারো বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর করি না, হামলেও পড়ি না।”
সাইবান জানে অরণ্য কোনদিকে ইঙ্গিত করছে। তবে সে একটুও টললনা।
“মহিষ যদি নিজেকে বনের রাজা ভেবে বসে, তবে সিংহের থাবা তো খেতেই হবে।”
অরণ্য খিলখিল করে হাসল। সোজা হয়ে সাইবানের মুখোমুখি দাঁড়াল।
“সৈনিক ভালোই হয়েছিস দেখা যাচ্ছে। তবে, যুদ্ধটা কার জন্য করছিস ভেবে চিন্তে দেখবিনা? অবশ্য, তোদের তো রক্ত গরম। শুধু চোখে একটুখানি আদরের ঠুলি চাপিয়ে দিলেই হলো। শত্রুতা তো আমার তোর সঙ্গে নয়।”
ভ্রু কুঁচকে গেল সাইবানের। প্রথমবারের মতন অরণ্যর কথায় সে সামান্য একটু দ্বিধান্বিত হলো।
“কি বলতে চাইছেন?”
“এটাই যে বুদ্ধি ঘটে কম না। এইটুকুন বয়স, কি করছিস, কার জন্য করছিস ভেবে চিন্তে করবি না?”
বলতে বলতে অরণ্য প্যান্টের পকেট থেকে নিজের ফোন বের করে নিল। সাইবান সতর্ক হলো, প্রস্তুত হয়ে রইল যেন উল্টোপাল্টা কিছু করলেই পাল্টা আক্রমণ করা যায়। কিন্তু অরণ্যর তরফ থেকে তেমন কিছু এলোনা। নিজের ফোন বের করে সে সাইবানের দিকে এগিয়ে দিল। প্রথমটায় সাইবান হাতে নিলনা।
“এটা কি?”
“নিজেই দেখ? নাকি ভয় পাচ্ছিস?”
এবার সাইবানের গায়ে লাগল। তাই ফোনটা ঝটকা দিয়ে নিজের হাতে নিল। স্ক্রীনের দিকে তাকাল। প্রথমটায় তার মাঝে বিশেষ কোনো অনুভূতি হলোনা। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মাথায় তার সমস্ত শরীর পাথরে পরিণত হলো। হৃদযন্ত্র বুঝি বিরতিতে গেল। মস্তিষ্ক দপদপ করে উঠল তীব্র চমকের তাড়নায়। সমগ্র দেহের শিরা উপশিরাজুড়ে খেলে গেল শীতল আতঙ্কের তরঙ্গ। অবিশ্বাস, বিস্ময়, বিহ্বলতা, ভয় সবকিছু একসঙ্গে ভর করল অন্তরে।
ফোনের স্ক্রীনে ভাসছে একটি ছবি। খুবই অন্তরঙ্গ এক দম্পতির ছবি। রমণীটি ইরাম, কিন্তু পুরুষটি অরণ্য নয়। ভিন্ন কেউ। সাইবান নিষ্পলক চেয়ে রইল, শুধুমাত্র ছবির ইরামের মুখপানে। না, ইরাম হতেই পারে না। এটা অন্য কেউ, নিশ্চিত। ইরামের মতন দেখতে অন্য কেউ! ভুল দেখছে সাইবান। ঠিক ওই মুহূর্তেই তার কানে বাজল অরণ্যর ফিসফিসে কন্ঠস্বর,
আমার আলাদিন পর্ব ৫৮
“তাকদীরের যত্নের পাখি অবহেলার পাখিতে পরিণত হয় কেন জানিস? কারণ সেই পাখি অন্য কারো খাঁচায় ডানা ঝাপটায়।”
ব্যাস। আর সম্ভব হলোনা নিজেকে ধরে রাখা। কয়েক সেকেন্ড কোনো প্রতিক্রিয়া করলনা সাইবান। চোখের সামনে শুধু কালো দেখতে পেল। শরীরটা ভারী হয়ে এলো, যেন কোনোকিছু ভর করেছে তার উপর। তীব্র আগ্রাসন অনুভব করল সে, ইচ্ছা হলো টেনে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে কোনোকিছু। আর হাতের সামনে অরণ্যই আছে। সাইবানের কন্ঠ বেয়ে এক অমানবিক শব্দের উদগীরণ হলো। ফোনটা মাটিতে সর্বশক্তিতে ছুঁড়ে ভেঙে ফেলল সে।
“ইউ মাদারফা*র!”
অরণ্যর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল সাইবান, হিংস্র জন্তুর মতন।
