Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৪

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৪

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৪
শানজানা আলম

জাকুজির সামনে দাড়িয়ে ঐশি অস্বস্তি বোধ করছে, নাসিরের এমন অদ্ভুত ইচ্ছে, আচরনের সাথে সে পরিচিত নয়৷ গতকাল বিকেল থেকে রাত, সকাল গড়িয়ে দুপুর, নাসির রুমেই আছে, সমস্ত ফুড রুমে দিয়ে যাচ্ছে ফোন এটেন করতেছে, আর ঐশির সাথে.,…
নাসির পেছন থেকে এসে ঐশিকে ঘনিষ্ঠ ভাবে আলিঙ্গন করে ওর চুল সরিয়ে চুমু খেল, শরীর স্পষ্ট করতে শুরু করল। ঐশি সরাতে পারল না।
নাসির ঐশির ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে চুমু খেয়ে বলল, দেশে অনেক রকম বাঁধা ঐশি, এক্সট্রা ফান এক্সাইটমেন্ট নেওয়ার মতন সুযোগ কম। এখানে এই সময়টা শুধু তোমার আর আমার। সো, তোমাকে বুঝতে হবে, আমার কি ভালো লাগে, সেভাবে আমাকে এন্টারটেইন করা শিখতে হবে। তোমার সকল আবদার পূর্ণ করার দায়িত্ব আমার। বুঝেছ?

ঐশি বলল, অস্বস্তি হচ্ছে ভীষণ।
নাসির আদুরে গলায় বলল, ঠিক হয়ে যাবে, আমাকে বুঝতে হবে ঐশি। পারবে না আমাকে বুঝতে?
আর তোমাকে এভাবে কত হট লাগে, সেটা তুমি বুঝবে না, সেটা বুঝতে পুরুষের চোখ লাগবে! এখন এসো তো, সময় নষ্ট করো না।
সন্ধ্যায় আমরা শপিংয়ে যাব। ওকে?
ঐশি একটু সহজ হলো। নাসিরকে সাড়া দিলো। নাসির ঐশিকে নিয়ে আদিম আনন্দে মেতে উঠল।
নাসির কথা রাখল, বিকেলে বের হয়ে ঐশিকে শপিং করে দিলো। ঐশি মত ভরে কেনাকাটা করল, ফটোশুট করল। এরপরে তার মন হালকা হয়ে গেল, নাসির আসলেই তাকে ভালোবাসে, সে ভুল ভাবছিল, নাহলো এত টাকা খরচ করতে পারত না! শুধু ঐশির কাছে রিলাক্সেশন চায়, শান্তি খোঁজে, সেটা ঐশি দেওয়ার চেষ্টা করবে নাসিরের মন মত।

ভিলায় ফিরে নাসির বলল, এবারে খুশি। ঐশির হাত ভরা শপিং ব্যাগ! সে বলল, অনেক খুশি, অনেক।
নাসির ঐশিকে কাছে টেনে নিয়ে কানে ঠোঁট ছুইয়ে বলল, লাভ ইউ সুইটহার্ট। এগুলো সরিয়ে রেখে তৈরি হয়ে এসো, কান্ট ওয়ের ফর ইউ!
ঐশি এবারে সহজ হয়, নাসিরের পছন্দ মত নিজেকে তৈরি করে নাসিরের সামনে আসে! নাসির একটা ড্রিংক নিয়ে শুয়েছিল, ঐশিকে দেখে হাসল। এরকম মেয়েদের চাহিদা নাসির জানে, শপিং, জামাকাপড়, গয়না, ল্যাভিস লাইফস্টাইল, এগুলো দিলেই এরা টুয়েন্টি ফোর আওয়ার জামা কাপড় খুলে বসে থাকতে পারে। প্রফেশনাল কাউকে নিয়ে এলে এত কাহিনি হয় না। তবে তার চাইতে ঐশির মত মেয়েদের সাথে নাসির বেশি এক্সাইটমেন্ট পায়। ঐ সব মেয়েরা টাকার জন্য উদগ্রীব থাকে, ঐশির মধ্যে এখনো টাকা নেওয়ার টেন্ডেন্সি তৈরি হয় নি। প্রফেশনাল প্রস না ঐশি।

সে নাসিরকে মুগ্ধ করার চেষ্টা করছে, এসব নাটক পুরোনো হলেও নাসিরের ভালো লাগে।
তবে তৈরি হয়ে যাবে। চোখ ফুটতে শুরু করবে। তার আগ অবধি ঐশিকে নিয়ে উপভোগ করতে ভালো লাগবে নাসিরের।
ঐশিকে কাছে টেনে বিছানায় ফেলে দিলো নাসির। ঠোঁট ঢেলে দিলে ড্রিংকটা। পানীয় গড়িয়ে পড়ল ঐশির শরীরে। গ্লাস পাশে রেখে ঐশির নেশায় বুদ হয়ে যায় নাসির। ঐশির আর খারাপ লাগে না। নাসির এমনি, বন্য, উগ্র। তাকে মানিয়ে নিতে হবে নাসিরের সাথে নিজেকে।

এহসান বাসে উঠে অথৈকে ফোন করল।
অথৈ বইপত্র গুছিয়ে নিচ্ছিলো। চাকরির পরীক্ষাগুলো দিতে হবে।
ফোন পিক করতেই, এহসান বলল, বাসে উঠলাম।
অথৈ বলল, কখন পৌছাবেন?
সকাল হয়ে যাবে, সাতটা!
আচ্ছা।
নেমে ব্রেকফাস্ট করে ইনানি চলে যাব।
আচ্ছা।
তুমি কি করছ?
কিছুই না।
এহসান ইতস্তত করে বলল, সাদিকের বিষয়ে বাসায় কি বললে?

আপাতত সময় নিতে চেয়েছি।
আচ্ছা, পরে ভাববে?
না, পরেও ভাববো না।
তাহলে স্পষ্ট করে বলে দাও, বিয়েটা করতে চাও না। এরকম বললে তো ঝুলে থাকবে।
অথৈ বলল, এভাবে তো ভাবি নি!
ঠিক আছে, রাখছি তাহলে?
ওকে।
জেগে থাকবে?
আছি কিছুক্ষণ।
ওকে।

ফোন রেখে এহসান বাসে বসল। অথৈকে আর ফোন করবে না এহসান। জটিলতায় জীবনকে আটকে ফেলার কোনো মানে হয় না। মাস ছয়েক পরে না হয় মুভ অন করার চেষ্টা করবে।
বাস চলতে শুরু করলে ইয়ার ফোনে পছন্দের প্লে লিস্ট অন করে চোখ বন্ধ করল এহসান।
তার মনে হলো, অথৈ এর কথা, শান্ত চুপচাপ একটা মেয়ে। যে কটা দিন বাসায় ছিল, এহসানের প্রতি মুহুর্তে খেয়াল রেখেছে, তবে এহসান তাকে তখনো অন্য চোখে দেখে নি। পারিবারিক মিটিংয়ের দিন যে কথাটা বলেছে, সেটা রাগের মাথায় বলেছে।
আচ্ছা রাগের মাথায় কি এমন কথা কারো মাথায় আসে? আসে না। হয়তো অবচেতন মন অথৈকে চেয়েছে।
কুমিল্লায় থেমে হালকা কিছু খেয়ে এহসান সিগারেট ধরালো। এহসানর একা লাগছে, যেটা গতকাল থেকে ছিল না। বিষণ্ণ লাগতে শুরু করেছে।

ফোন হাতে নিয়ে দেখল, অথৈ টেক্সট করেছে।
কোথায় এখন? –
এহসান ফিল্টার ফেলে পায়ে ডলে কল করল অথৈকে।
ঘুমাও নি?
না, একটা সিরিজ শুরু করলাম, হইচইয়ে।
আচ্ছা। রাত জেগো না। একটা রুটিনে থাকো।
লাইফে রুটিনটা খুব দরকার।
অথৈ বলল, কোথায় আছেন, বললেন না তো!
এহসান হেসে বলল, তোমাকে লাইভ লোকেশন শেয়ার করে দিচ্ছি। প্রতি মুহুর্তে জানতে পারবে কোথায় আছি। ঠিক আছে?
অথৈ কেন যেন ভীষণ খুশি হয়ে গেল।
এহসান ভাইয়ের সাথে কথা বলতে তার কেমন একটা অন্যরকম ভালো লাগছে, আগে কখনো কারো সাথে এভাবে কথা হয় নি অথৈয়ের।

বিষয়টা ঠিক হচ্ছে না। তবু নিষিদ্ধ সব কিছুর প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা চিরায়ত।
অথৈ টেক্সট করা বন্ধ করল না। এহসানও রিপ্লাই করলো। এহসান ঠিক ভুলের দ্বিধা অতিক্রম করে ভাবল, ভালো থাকাই ফাস্ট প্রায়োরিটি হওয়া উচিৎ। অথৈ এর সাথে সে কথা বলবে। এটা ভালো লাগছে, এটাই করবে এহসান।
প্রতি মুহুর্তে টেক্সট বা ফোন কলে এহসান আর অথৈয়ের যোগাযোগ হতে লাগল। এমন ভাবে শেষ কবে কার সাথে কথা বলেছিল, এহসান মনে করতে পারে না।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৩

এমনকি রিসোর্টে পৌঁছার আগে মেরিন ড্রাইভে এহসান অথৈকে ভিডিও কল করল।
সরি, ঘুম ভাঙালাম, দেখো অথৈ….. আমার সামনে অথৈ জল! তোমাকে দেখাতে ইচ্ছে করল।
ঘুম ঘুম চোখে অথৈ দেখল বিস্তৃত বিশাল জলরাশি।
সেই সাথে একটা তীব্র আনন্দ কোথাও, যে আনন্দের উৎস অথৈয়ের অজানা।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৫