Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৩
শানজানা আলম

অথৈ এর জন্য আনা জিনিসগুলো এহসান পাঠিয়ে দিয়ে ফোন করল,
অথৈ, তোমাকে কুরিয়ার করেছি, কিছু জিনিস আছে, নিয়ে নিও- এহসান বলল অথৈকে।
কি পাঠিয়েছেন?
এই কক্সবাজার থেকে আনা টুকটাক জিনিস।
আচ্ছা।
পার্সেল রিসিভ করে অথৈয়ের মন ভালো হয়ে গেল। বড় একটা সাদা শঙ্খ, একটা শামুকে “অথৈ” লেখা।
পার্লের সেটটা ভীষণ সুন্দর। এরকম যত্ন করে কেউ কখনো অথৈকে কিছু দেয় নি, নাকি দিয়েছে, এগুলো খুব বেশি স্পেশাল মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে এগুলো একান্ত নিজস্ব, কারো কোনো ভাগ নেই, এই নিজস্বতাও ভীষণ বিশেষ। তবে এহসান ভাই হয়তো এমনিতেই জিনিসগুলো পাঠিয়েছে। হয়তো কেউ ছিল না বলেই তাকে দিয়েছে। বা ঐশি তার জীবনে থাকলে তাকে দিতে। সব চিন্তা ছাপিয়ে জিনিসগুলো বার বার স্পর্শ করে অথৈ! কোনো এক মায়ায় অথৈ জড়িয়ে যাচ্ছে। যেটা সে অগ্রাহ্য করতে পারছে না।
কেন স্বাভাবিক একটা সম্পর্ক হলো না তার এহসান ভাইয়ের সাথে! কেন কিছু বেশি ভাবতে গেলেই এক পৃথিবী দ্বিধার দেয়াল সামনে এসে দাঁড়ায়!

বেশ কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে। এহসান ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নিজের কাজ নিয়ে। ঐশির টাকা পাঠানোর সময় হয়ে এসেছে। লাস্ট একটা ডিপিএস আছে, সেটা ভেঙে এহসান টাকার ব্যবস্থা করেছে। টাকা সেন্ড করার পরে এহসান ঐশিকে ফোন করল।
হ্যালো-
ঐশি অনিচ্ছা স্বত্তেও ফোন পিক করল। সে এখন বিজি
ফটোশ্যুট নিয়ে। যদিও ঐশি এসব তেমন কিছু বোঝে না। সিদ্রাত আর তার টিমই সব করে, ঐশি বসে থাকে।
ঐশি জিমে ভর্তি হয়েছে, দিনের একটা বড় সময় জিম আর সেলফ কেয়ারে যায় ঐশির। নাসির অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছে, এখনো ফেরে নি। টুকটাক মেসেজ ছাড়া তেমন যোগাযোগও হয় নি।
বলো-

এহসান বলল, টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।
অফিসিয়ালি তিন মাস শেষ। আশা করি তোমার সাথে আমার সব ডিলিং শেষ।
ঐশি বলল, টাকা পাঠিয়েছ এটা জানাতে ফোন করেছ?
হ্যা, কারন টাকাটা আমার কষ্টের টাকা।
চেক করে দেখে নেব! রাখছি এখন!
ওকে, বাইই! তোমার সর্বনাশ দেখার অপেক্ষায় থাকব।
ঐশি তাচ্ছিল্য করে বলল, ওহ, রিয়েলি! ওটাই তো পারো তুমি, অসহ্য! ফোন রাখো!
এহসান রেখে দিলো।
ঐশির কলিংবেল বাজছিল, দরজার খুলতেই সুবহানা এসে ওকে হাগ করল।
কত দিন ফোন করিস নি! একদম ভুলে গেছিস!
ঐশি বলল, না রে, খুব মিস করি তোকে। কিন্তু কি করব, তুই তো রাগ করে থাকিস!
সব বাদ ঐশি, চল তৈরি হয়ে নে, একটা জায়গায় ঘুরতে যাব!
কোথায়??
চল না, দেখতেই পাবি! দেখি তোর ক্লোজেটে কি কি নতুন এসেছে?
ঐশিকে তৈরি করিয়ে সুবহানা ওকে নিয়ে বের হয়ে পড়ল। তিনশ ফিটে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসল।
খাবার অর্ডার করে নিজেরা ছবি তুলছিল। নায়েব পাশা এলো তখনি। যেন সুবহানার সাথে হঠাৎ দেখা হলো।
আরে সুবা, হোয়াটস আপ? কেমন আছ তুমি?

এই তো, তুমি?
চলছে, ঐশির দিকে তাকিয়ে বলল, হু ইজ দিস বিউটিফুল লেডি? সো গর্জিয়াস, প্রিটি এন্ড…
সুবহানা বলল, মিট মাই ফ্রেন্ড, ঐশি!
ঐশি বলল, হ্যালো!
পাশা বলল, আমি নায়েব পাশা, কেমন আছেন ঐশি?
ঐশি মাথা নাড়ল৷
সুবহানা বলল, একটু বসো, আমি আসছি, বলে সুবহানা ওয়াশরুমে চলে গেল।
ঐশি, আপনি বোধহয় কম্ফোর্টেবল ফিল করছেন না, রাইট? লিসেন, আমি খুবই সাধারণ মানুষ৷ ভয়ংকর কেউ নই!
ঐশি হেসে বলল, না না তেমন কিছু নয়।
পাশা বলল, আপনি সুবার ফ্রেন্ড মানে তো আমারও ফ্রেন্ড, আমরা তো একটু ফ্রি হতেই পারি, তাই না?
কি করছেন থার্স ডে রাতে, লেট নাইট পার্টি আছে একটা ব্লু লেগুন ক্লাবে, ইনভাইট করলাম। চলে আসুন!
ঐশি বলল, আমি? আমি তো চিনি না৷
সুবা নিয়ে আসবে, চলে আসুন। আপনি এলে খুব ভালো লাগবে।
ঐশি বলল, চেষ্টা করব।
বাই দ্য ওয়ে, আপনি ভীষণ সুন্দর! আপনার মধ্যে কিছু একটা ডিফরেন্ট বিষয় আছে, যেটা সাধারণত খুব রেয়ার, এট্রাকটিভ, পুরুষের নজর কাড়ে!
সরি, মাইন্ড করলেন না তো?
ঐশি হাসল। নিজের রূপের প্রশংসা অনেকবার শুনেছে ঐশি।
নায়েব প্রশ্রয়ের হাসি পেয়ে বলল,এন্ড ইউ হ্যাব মোস্ট জুসি লিপস, ইউ নো! ভীষণ এট্রাকটিভ!

সুবহানা ফিরে এসেছে, নায়েব আরো কিছুক্ষণ আলাপ করে উঠে গিয়েছে, সুবহানা বলেছে নিয়ে আসবে ঐশিকে।
ঐশি নায়েব চলে যাওয়ার পরে বলল, তুই চিনিস ওকে?
সুবহানা বলল, ওর বাবা মন্ত্রী, এসব মানুষকে হাতে রাখতে হয়, বুঝলি!
ঐশি বলল, হাতে রাখতে হয় মানে? আমাকে এত প্রশংসা করল!
তোকে মনে ধরেছে, বুঝবি আস্তে আস্তে! বোকামি করিস না, তোকে সবাই পছন্দ করে, এটা কাজে লাগা, লাইফ সেট করে নিতে হবে! নাসির তো আছেই। হাই ক্লাস মেইনটেইন করতে তোর আরো অনেককে লাগবে! এখন নাসির দেশে নেই, তুই কি শোক পালন করবি নাকি! যখন তুই নিজে বিজি হয়ে যাবি, নাসিরও তোর পাত্তা খুজবে, এভেইলাবল কিছুকেই মানুষ গুরুত্ব দেয় না! আর পাশা ভালো ছেলে, তোর প্রতি আগ্রহ আছে, ফ্রেন্ডশিপ করতে সমস্যা কি!
ঐশিকে রাজি করিয়ে ফেলল সুবহানা থার্সডে নাইটে পার্টিতে যাবে।

ঐশিকে টাকা পাঠানো শেষ, এটা জানাতে এহসান অথৈ কে ফোন করেছে।
অথৈ, ঐশিকে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি, আর আমার তিন মাসও শেষ। মনে হচ্ছে মুক্তি পেলাম।
অথৈ বলল, নিজের আপুর বিষয়ে এরকম শুনতে কারো ভালো লাগে না।
সরি, অথৈ, কিন্তু তুমি তো সবটা জানো।
অথৈ বলল, আপু ঢাকায় নিতে চাচ্ছে আমাকে। ওর সাথে থাকার জন্য।
একদম না, ঐশির ধারেকাছেও তুমি আসবে না- এহসান নিষেধ করল।
কিন্তু ও তো একা আছে! কি বিজনেস করতেছে বলল!
-অথৈ, আমি না বলেছি, মানে না! তুমি ওখানেই থাকো।

এহসানের জোর অথৈ এর কানে লাগে, তবে সত্যি বলতে এই জোরটা অথৈ অগ্রাহ্য করতে পারে না।
এটা সত্য, এহসানের সাথে তার কোনো সম্পর্ক হয়তো হবে না, আসলেই কি তাই?
এহসানের সাথে গত এক দেড় মাসে অথৈ জড়িয়ে গেছে, ফোনে কথা না বললে, টেক্সট দিতে লেট হলে, অস্থির লাগতে শুরু হয়।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩২

ফোন রেখে এহসান ভাবল, অথৈ এর বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। ঐশি অথৈকে নিয়ে এলে অথৈ না করতে পারবে না।
এহসানের ভাইয়া বারবার বলছে, নীলার সাথে দেখা করার জন্য৷ এহসান ভেবেছে, একবার দেখা করে জানিয়ে দেবে, তার পছন্দ হয় নি।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৪