Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৪

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৪

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৪
শানজানা আলম

এহসান অফিসে এসেছে বেশ কিছুক্ষণ। আগে এসে ব্রেকফাস্ট করত,, এখন অথৈ সেটা করতে দিচ্ছে না। এহসান নিষেধ করেছিল, অভ্যাস তো হয়েই গেছে বাইরে খেয়ে খেয়ে,অথৈ অভ্যস্ত নয় সকালে এত কাজ সামলাতে, সংসারে ঢুকেই এত কাজ করতে হবে না। অথৈ শোনে নি, আগের দিন সন্ধ্যায় বুয়া অনেকটা কাজ গুছিয়ে দিয়ে যায়, বাকিটা অথৈ সকালে করে নেয়। লাঞ্চের জন্যও ভাবতে হচ্ছে না। এই সামান্য বিষয়টার জন্য এহসানের কি আফসোস ছিল, না, সেরকম নয়। ঐশির সংসারে বিন্দুমাত্র মন ছিল না। অযত্ন অবহেলা টের পাওয়া যেত।

রুবাই আজও টেক্সট করেছে। এহসান ফোন ব্যাক করল।
হ্যালো, কি খবর, কেমন আছ রুবাই?
রুবাই বলল, টেক্সট দেখে একটা রিপ্লাই করা যায় না?
এহসান বলল, হ্যা করলাম তো, টেক্সট না করে ফোন করলাম।
হুম, আশা করেছিলাম ফোন করবেন, করলেন না!
এহসান বলল,তুমিও তো করো নি!
আপনিই তো বলেছিলেন, আবেগকে সহজলভ্য না করতে। তাই সাহস পাই নি!
এহসান বলল, কেমন আছ বলো নি কিন্তু!
– আমার কথা বাদ দিন, আপনি কেমন আছেন?
এহসান বলল, উমমম, এখন ভালো আছি।

-আপনার কণ্ঠস্বর শুনেই বোঝা যাচ্ছে।
-তাই নাকি?
-হ্যা, আমি কিন্তু খুব একটা ভালো নেই।
-কেন, কি হলো!
-জানি না! বিষন্ন লাগে, মনে হয় কিছু একটা নেই, সেই কিছু একটা কি আমি জানি, কিন্তু সেটা স্বীকার করতে ভয় লাগে!
এহসান বলল, ব্যস্ত হয়ে যাও, ব্যস্ত হলে মনকে এত গুরুত্ব দেওয়ার সময় পাবে না।
আপনি কি ব্যস্ত হয়ে গেছেন?
হ্যা, মোটামুটি ব্যস্ত বলতে পারো!
ভালো! ব্যস্ততা আপনাকে অবসর দেয় না কারো কথা মনে করার?
জীবন যুদ্ধে নেমে পড়লে আবেগের জায়গা কম থাকে রুবাই।
রুবাই বলল, একদিন দেখা করা যায়?
এহসান বলল, হ্যা, তবে আমার আসলে সময় খুব কম। দুয়েকটা দিন ছুটিতে পরিবারে সময় দিতে হয়!
পরিবার!!

ওহ, পরিবার মানে অথৈ, আমার বউ!
রুবাই চুপ করে গেল, একটু থেমে বলল, অভিনন্দন! এত তাড়াতাড়ি মুভ অন করে ফেললেন!
জীবন তো থেমে থাকে না রুবাই, দেরী করেই বা কি হতো!
-সেটাই, দেরী করবেনই বা কেন! অনেক শুভকামনা।
-রুবাই, রাখতে হবে, অফিস টাইম তো!
-আপনার সাথে একবার দেখা করতে চাই। প্লিজ!
– হ্যা সিওর, আমার অফিস উত্তরায়। এদিকে এলে জানিও৷
-আসব, খুব তাড়াতাড়িই। রাখছি তাহলে।
-ওকে, বাইই!
এহসান ফোন রাখল। কথা বলতে ভালো লাগছিল রুবাইয়ের সাথে। এটা একটা সাইকোলজিকাল গেম, কেউ যখন জানে অপরদিকের মানুষটি তাকে পছন্দ করে, অন্যরকম পছন্দ, তখন কিছুটা হেয়ালি চলে আসে। তবে এহসান নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে। একদিন কথা বলেছে, বলে বার বার কথা বলে রুবাইকে বিপদে ফেলবে না এহসান। নিজের গোছানো জীবনটাকেও হুমকির মুখে ফেলবে না।

হ্যালো, নিউ এন্টারপ্রেনার, ঐশি নওশিন!- নায়েব পাশা ফোন রিসিভ করল।
ঐশি সরাসরি বলল, পাশা, তোমার সাথে আমার দেখা করা জরুরি।
-হঠাৎ?
-হুম
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-তুমি ফোন করেছ অথৈ কে?
-না, সময় পাই নি। করে নেব একসময়। তোমার কি দরকার বলো?
-শোনো, আমার ধারনা ছিল, নাসির আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু সেটা ঠিক নয়। সে আমাকে যতখানি দিয়েছে, সেটা সে উসুল করে নেবে। আমাকে কিছু ক্লায়েন্টের কাছে পাঠাতে চাইছে।
ঐশির পরিবার সম্পর্কে একটু খোঁজ খবর করেছিল পাশা। ঐশিকে তাই হুকার টাইপের মনে হয় নি। মনে হয়েছে, ঐশি উচ্চাভিলাষী তাই ট্র্যাপড হয়ে গেছে আর ওকে দিয়েই নাসিরকে বিপদে ফেলার ছক আঁকছিল নায়েব পাশা। এখন নায়েব বুঝল, ঐশি তার সাহায্য চাইছে, সেও চায় নাসিরকে বিপদে ফেলতে। তাই এখন তার ঐশিকে কাজে লাগাতে হবে।
নায়েব বলল, তুমি কি চাও ঐশি?

-আমি বুঝতে পারছি না! কি করা উচিৎ।
-নাসির কিন্তু অনেক ক্ষমতাবান।
-জানি।
-তোমার লাইফ রিস্ক আছে। যা করতে হবে, খুব ভেবে করতে হবে তোমাকে।
ঐশি বলল, সেটাও জানি। আমি ভাবছি, নাসিরের বাসায় যাব। গিয়ে আমাদের সম্পর্কের কথা জানাব ওর পরিবারে।
নায়েব পাশা বলল, তোমাকে বাসায় ঢুকতেই দেবে না।
-তাহলে?
-তুমি তোমাদের কোনো ইন্টিমেট ভিডিও বা ছবি করেছ?
-হুম। দুয়েকটা আছে, কিন্তু সেটা দিয়ে কি হবে, ওইটা বের হয়ে পড়লে তো আমাকেও বোঝা যাবে।
-ব্ল্যাকমেইল তো করতে পারবে?
-আমি সেটা চাচ্ছি না৷
-তাহলে কী করতে চাচ্ছ ?
-এখন আসলে আমি গলা অবধি ডুবে গেছি, ভয় পেলে চলবে না। আমাকে কিছু করতেই হবে।
-আচ্ছা। ঠিক আছে। আগে দেখা করি। দেখা করে আমরা প্ল্যান করব কি করা যায়। এজ এ ফ্রেন্ড তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারো।

-আমি তোমাকে বিশ্বাস করছি!
-ওকে! আই উইল কিপ ইওর ফেইথ!
ফোন রেখে ঐশি ভাবল, নাসিরকে সে ছাড়বে না। তাকে দিনের পর দিন ন্যাং★টা করে রেখে দিয়েছে, যেভাবে মন চায়, সেভাবে ইউজ করেছে ঐশিকে, ঐশি
সংসারটা ছেড়ে এসেছে, নাসিরকে বিয়ে তো করতে চায় নি, কিন্তু তাই বলে তাকে ক্লায়েন্ট ম্যানেজ করতে পাঠাবে, এটা তো হতে পারে না!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৩

মরতে হলেও সে একটা ভেজাল করে মরবে। আর মরবেই বা কেন! এত দূর এসে মরার প্রশ্নই আসে না! নায়েবের সাথে দেখা করার পরে ঐশি কিছুদিন নন্দীপুরে গিয়ে থাকবে। নাসির অনেকবার ইন্টিমেট হয়েছে, ঐশি কোনো এমার্জেন্সী পিল নেয় নি, কনসিভ করে গেলে খেলাটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৫