Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৭

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৭

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৭
শানজানা আলম

উবার কল করেছে এহসান। গাড়ি এলে অথৈকে নিয়ে বের হয়ে গেল। অথৈ একটু সরে বসেছিল, এহসান পাশে এগিয়ে অথৈ এর হাত নিজের হাতের মুঠোয় বন্দী করে নিলো।
অথৈ আঁড়চোখে দেখে মুচকি হাসল মনে মনে।
এহসানকে নিয়ে তার কোনো দ্বিধা নেই, তাদের সম্পর্ক এতটা সহজ কিছুও না। আপু বারবার চেষ্টা করবে তাকে সরিয়ে দিতে হয়তো ঈর্ষা থেকে, আসলেই কি আপুর ঈর্ষা করার মতন কিছু আছে অথৈ এর। অথৈ তো আপুর হেলায় ফেলে যাওয়া সংসার আর মানুষটাকে গুছিয়ে নিজের করে নিয়েছে।
তাতে আপু কেন এত রেগে যাচ্ছে, এটা অথৈ বুঝে উঠতে পারে না। আর বোঝে না এহসান তার জন্য এত পাগল কেন! সবাইকে দূরে সরিয়ে অথৈকে নিয়ে একটা সংসার করার কি খুব দরকার ছিল! তাদের অনুভূতি তো লং ডিসট্যান্স অনুভূতি। হয়তো দূরত্ব তৈরি হলে শেষ হয়ে যেতে পারতো। এহসান তা হতে দেয় নি, আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছে অথৈ কে।

নায়েব পাশা কফিশপে ঢুকে দেখল, ঐশি খুবই আনরেস্ট হয়ে আছে।
কি হলো?- নায়েব জানতে চাইল। এরকম ভাবে ফোন ভাঙল কিভাবে?
একটা হারামি কুত্তার বাচ্চা ফোন ছুড়ে মারসে- ঐশি বলল।
মানে? কে সে? কি হয়েছে? – নায়েব ভাবল নাসির।
নাসির?
নাহ, এহসান, আমার এক্স হাজবেন্ড, আর আমার বোনের প্রেজেন্ট পেয়ারের স্বামী। গাঁধা মেয়ে একটা!
কি হয়েছে? –
ঐশি পুরো ঘটনাটা খুলে বলল।
নায়েব পাশা হাসতে হাসতে বলল, তুমি তো কঠিন মাল
ভাই! সরাসরি ভিডিও কল করে দিলে, সংসার কি আছে বেচারার! নতুন বিয়ে করেছে, বউ তো মনে হয় ভেগে যাবে!
-কে জানে, মরুক! – তোমাকে যে কারনে ডেকেছি!
নাসির এর বিষয়ে কথা বলতে !- ঐশি বলল।

-কি করল নাসির?
-ও আমাকে মালদ্বীপ ট্যুরে নিয়ে গেল। সেখানে আমাকে বলল, কিছু ক্লায়েন্ট আসবে, তাদের কাছে যেতে হবে। অথচ আমি ভেবেছিলাম নাসির আমাকে ভালোবাসে!
নায়েব পাশা বলল, ভালোবাসা আর নাসির! ও তো মেয়েদের সাথে এমনি করে, বহুদিনের চেনা আমার! তা তুমি কি করতে চাচ্ছ এখন?
-আমার এই ফোনে ওর সাথে ক্লোজ ছবি ছিল, ভিডিও ছিল, সব তো চলে গেল! আজকাল এগুলো অন্য কারো হাতে গেলে ভাইরাল করে দিবে! কোথাও যাওয়া যাবে না।
-নতুন আইফোন কিনে, এ্যাপেল আইডি লগইন করো। সব চলে আসবে আই ক্লাউডে থাকলে।
-আচ্ছা।
-তোমার আইফোন চলে আসবে, তোমার হাতে পৌছে যাবে রাতের মধ্যে। তুমি নাসিরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করো না। ও যেদিন তোমাকে ক্লায়েন্টের কাছে পাঠাতে চাইবে, বলো তুমি সিক। বাড়ি চলে যাও।
-কিন্তু এভাবে কতদিন পারব! আমার পার্মানেন্ট সলুশন চাই।
পাশা বলল, যেমন? তুমি কি ভাবছ?
-নাসির আমাকে যেভাবে ইউজ করেছে, ও এমনটা করতে পারে না আমার সাথে।
-নাসির সব মেয়েদের সাথেই এমন করে। খুব ভালো হতো, তুমি ওর সাথে সম্পর্কটা কিছুদিন টেনে একবার কনসিভ করতে পারলে, প্রেস মিট করলে ও চাপে পড়ে তোমাকে স্বীকার করে নিবে মিডিয়ার চাপে। বাই দ্য ওয়ে, তুমি নাসিরের কাছে পৌঁছালে কিভাবে?

-সুবহানার সাথে একটা পার্টিতে দেখা হয়েছিল, সে এক অন্য নাসির ছিল- ঐশি নিঃশ্বাস ফেলল। আমি তার জন্য সব ছাড়লাম আর এখন!
-ভয় নেই, আমি আছি তোমার পাশে। দেখো এই কাজটা পারো কিনা, প্রেগন্যান্ট হও, তারপরে দেখা যাবে কি করা যায়।
ঐশি বলল, নক করলে নাসির যদি না আসে?
-ট্র্যাপ করো, হানি ট্র্যাপ। তোমার একাউন্ট ডিটেল দাও,
আমি টাকা ট্রান্সফার করে দিচ্ছি।একটা রিসোর্টে হানিমুন স্যুইট বুক করে নাসিরকে সারপ্রাইজ দাও। ওকে মিট করো, ওর যেভাবে পছন্দ করে, সেভাবে ওর সাথে ইন্টিমেট হও। প্রয়োজনে গাইনি ডাক্তারের পরামর্শ নাও কখন মিট করলে প্রেগন্যান্ট হতে পারবে।
ঐশি বলল, আমিও এমন ভেবেছিলাম, তবে পারব কিনা জানি না।
-নাসির তো তোমাকে পছন্দ করে, সেভাবে ডাকো, ঠিক আসবে।
ঐশি বলল, দেখি!
না দেখি না, ইউ হ্যাভ টু ডু ইট। মনে করো এটা একটা কন্ট্রাক্ট। আমি তোমাকে খুশি করে দিব, কাজটা করতে পারলে!

-কিন্তু প্রেগন্যান্ট হওয়ার পরে নাসির যদি অস্বীকার করে?
-ওর যা ডিফেম হওয়ার হয়ে যাবে তুমি প্রেস মিট করলে। দেন তুমি না চাইলে এবর্ট করে ফেলবে। আমি ব্যবস্থা করে দিব। অন্য কেউ হলে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে কাজ হতো, নাসির গভীর জলের মাছ। তোমাকে ডাক্তার সহ প্রেস মিট করতে হবে প্রয়োজনে। বহু টাকার ডিলে আসতে চাইবে নাসিরের ফ্যামিলি। টাকা সব তোমার। আমি তোমাকে টেন ক্রোড়স দিব কাজটা করতে পারলে, পরবর্তী জীবন নিয়ে আর ভাবতে হবে না! এসব শোরুম টোরুম সব আই ওয়াশ!
ঐশির দ্বিধা লাগে, নাসির তো তাকে এত কিছু দিয়েছে, সেই নাসিরকে ট্র্যাপ করতে হবে! মন সায় দেয় না।
নায়েব বুঝতে পেরে বলল, কাম অন ঐশি, মিডল ক্লাশ সেন্টিমেন্ট পাশে সরিয়ে রাখো। চালাক না হলে, তোমাকে প্রসটিটিউট বানিয়ে রাখবে, এস্কর্ট, বিভিন্ন মানুষের সাথে বিছানায় যেতে হবে। আর কাজ করতে পারলে আমি তোমাকে দুবাইয়ে সেটল করে দেব। কেউ তোমাকে খুঁজতে আসবে না। নাসিরের সাথে আমার হিসেব পুরনো। আমি ওর একটা নাকানিচুবানি চাই! অন্য মেয়ে দিয়ে কাজটা হবে না। আমার লাগবে তোমাকে। তুমিই পারবে। তোমারও আমার হেল্প প্রয়োজন, লজিস্টিক সব সাপোর্ট তুমি পাবে। যেভাবে চাও, সেভাবে তোমাকে সেট করে দেব। পলিটিক্সে আসতে চাইলে সেটাও করিয়ে দিব।
ঐশি ঘাড় নাড়লো।
-আর তোমার বোনের সাথে আমি কথা বলব, চেষ্টা করব ওখান থেকে বের করে আনতে। এটা সিলি ইস্যু।
বাট আই রিয়েলি লাইকড হার! মেয়েটা আসলেই তেমন, যেমন আমি খুঁজছি। ওয়াইফ ম্যাটেরিয়াল। হলো না।
নায়েব আশ্বাস দিলো ঐশিকে সাহায্য করার।

মিটিং শেষ করে ডিনার সেরে অথৈকে নিয়ে এহসান বাসায় ফিরল। ফ্রেশ হয়ে এহসান বের হলো ওয়াশরুম থেকে। অথৈ পোশাক পাল্টে নাইটি পরে নিয়েছিল। ড্রেসিংটেবিলের সামনে চুল বেঁধে নিচ্ছিল।
এহসান এসে অথৈ এর হাত থেকে চিরুনি নিয়ে চুল ঠিক করে দিতে দিতে বলল, অথৈ কোনো কাজ নেই আজ তোমার, শুধু তুমি আর আমি-
অথৈ বলল, এমনিতেও তুমি আর আমিই থাকি।
এহসান দুষ্টুমি করে বলল, দুপুরের ডোজটা কি দারুণ ছিল! হবে নাকি আবার! আমি ভাবি, তুমি এত ওয়াইল্ড হলে কি করে!

অথৈ এহসানের দিকে ফিরে এহসানকে ঠেলে বিছানায় শুইয়ে দিলো-
কেন আমি ওয়াইল্ড হতে পারি না? আর তোমার শখ তো কম না! ডেট করতে গিয়ে ধরা খেয়ে আবার বউয়ের সাথে রোমান্স করার কত ইচ্ছা!
এহসান স্যারেন্ডার করার মত হাত তুলে বলল, বাহ্, আমি কি করলাম, আমি ইনোসেন্ট, আমার বউ আমার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আমি শুধু তাকে শান্ত করেছি, তাই না?

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৬

অথৈ পাশে শুয়ে পড়ে বলল, হুম, তাই ই তো!
এহসান অথৈ এর উপরে ঝুকে ওকে কাছে টেনে বলল, আমি খুব ভালো, বউয়ের কোনো আবদার ফেলতে পারি না, জানো না?
অথৈ হাসতে হাসতে বলল, একদম!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৮