ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬০
শানজানা আলম
সকাল বেলায় এহসানকে বের করে দিয়ে অথৈ কিছুক্ষণ গড়িয়ে নেয় বিছানায়। বুয়া আসার পরে একবারে ওঠে। আজো শুয়েছিল। হঠাৎ ফোন বাজল। এই সময়ে কে ফোন করবে, সত্যিই কেউ নেই এখন ফোন করার। এহসান অফিসে পৌঁছে টেক্সট করে দেয়।
আর কে ফোন করবে!
নয়টা বাজে।
অথৈ ফোন পিক করল।
হ্যালো- অথৈ বলছেন?
হ্যা, কে বলছেন প্লিজ?
আমাকে আপনি মনে রেখেছেন কিনা বুঝতে পারছি না। আপনার সাথে একদিন আমার দেখা হয়েছিল।
পরিচয় না দিলে কিভাবে চিনব!
আমি নায়েব, নায়েব পাশা। এবারে চিনেছেন? ঐশির ফ্রেন্ড!
অথৈ ধরফর করে উঠে বসল, মন্ত্রীর ছেলে, আজ কেন ফোন করেছে!
জি চিনেছি, বলুন?
যাক, আমার সৌভাগ্য! কেমন আছেন?
জি ভালো!
হ্যা, ভালো থাকারই কথা, ঐশি বলেছে, আপনার বিয়ে হয়েছে! অনেক শুভকামনা।
অথৈ বলল, ধন্যবাদ, আমাকে সকাল সকাল কেন ফোন করেছেন জানতে পারি?
নায়েব পাশা বলল, আসলে সময় পাই না। রাতে যখন সময় পাই, তখন কোনো বিবাহিতা মেয়েকে ফোন করাটা বিব্রতকর।
-কোনো প্রয়োজন? অবশ্য আমার কাছে আপনার কি ই
বা প্রয়োজন থাকতে পারে!
-ঠিক, কোনো প্রয়োজন নেই। আসলে কয়েক মুহুর্তে আপনাকে খুব আপন ভেবেছিলাম, হুট করে মনে হচ্ছে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে, তাই একবার কথা বলা প্রয়োজন। সিচুয়েশনটা ঠিক বোঝানো যাবে না।
অথৈ বলল, আপনার সাথে আমার একদিনই দেখা হয়েছে, সেটাও আপনি গিয়েছেন দেখা করতে। এর আগে পিছে কোথাও আমি নেই আপনার লাইফে। তাই আপনার কথা অমূলক!
নায়েব পাশা ভাবল, মেয়েটা তো কথার পিঠে কথা বলতে জানে।
আপনার হাজবেন্ড খুব লাকি!
তাই!
হ্যা, ঐশি যেদিন আপনার সম্পর্কে আমাকে জানিয়েছে, বা ছবি দেখিয়েছে, সেদিন থেকে মনে হচ্ছিল আপনার উপর আমার অনেক অধিকার!
আমার সেই পছন্দের জিনিসটা যে পেল, সে ভাগ্যবান নয়? আমার চোখে তো সে ভাগ্যবান।
ফ্লার্ট করার চেষ্টা করছেন!- অথৈ বলল।
আমাকে এত ফালতু মনে হলো, বিষয়টা দুঃখজনক, তবে চারপাশের অবস্থা দেখে এখন মানুষ সত্যিটা বুঝতে পারে না। ফ্লার্টিং মনে করে।
অথৈ একটু নমনীয় হয়ে বলল, দেখুন, আপনি আমাকে এসব কেন বলছেন, এখন তো আর তেমন সুযোগ নেই।
নায়েব পাশা বলল, অথৈ সব বাদ, আমরা কি ভালো বন্ধু হতে পারি?
অথৈ বলল, বিষয়টা আমার জন্য বিব্রতকর। কারন আপনি যদি সাধারণ ভাবে পরিচিত হতেন, তাহলে বন্ধুত্বের সুযোগ থাকত, এতক্ষণ যেভাবে বললেন, সেক্ষেত্রে দূরত্বই ভালো। তাছাড়া আপনার আর আমার পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা কীভাবে বন্ধু হবো, আপনার পলিটিক্স বা ব্যবসা বা অন্য কিছু আমি কিছুই জানি না। আমার ঘর সংসারের আলাপ আপনার সাথে জমবে না। আমি আপুর মতন স্মার্ট নই!
নায়েব পাশা বলল, সবার জমাতে হয় না। কিছু সম্পর্ক একদম না জমেই ভালো থাকে। আমি মাঝে মাঝে তোমাকে ফোন করতে পারি? তবে অবশ্যই তোমার হাজবেন্ডের সামনে তোমাকে বিব্রত করব না।
অথৈ বলল, সেটা বোধহয় ঠিক হবে না।
নায়েব পাশা বলল, ঠিক আছে, আমার ফোন নম্বরটা থাকল। কখনো একা মনে হয় যদি, একবার ফোন করো। ঠিক আছে?
অথৈ বলল, ধন্যবাদ।
অথৈ, একটা কথা জানার ছিল, জিজ্ঞেস করব?
অথৈ বুঝল নায়েব পাশা এহসানকে নিয়ে জানতে চাইবে।
হ্যা বলুন।
-হঠাৎ কি এমন হলো, যে বোনের এক্স হাজবেন্ডকে বিয়ে করতে হলো। তুমি তো এতটাও ফেলনা কেউ নও!
অথৈ বলল, এহসান আপুর এক্স হাজবেন্ড সেটা ঠিক আছে। আপুর সাথে ডিভোর্স হওয়ার পরে আমার সাথে ওর যোগাযোগ হয়, আমার মনে হয়েছে, আমি ওর সাথে ভালো থাকব। এখানে ফেলনা হওয়ার কিছু নেই। এহসানও হালকা কেউ নয় যে ফেলনা কেউ ওর প্রাপ্য হবে।
ইউ আর অবসেশড উইথ ইউর হাজবেন্ড! হাউ লাকি হি ইজ!
ইয়েস, আই এ্যাম! – রাখছি তাহলে- অথৈ ফোন রাখতে চাইল।
হ্যা সিওর।
নায়েব ফোন রেখে চিন্তা করল, ফোন করে মনে হচ্ছে, অথৈকে আবার ফোন করতে হবে। কিছু মেয়ে থাকে, সাধারণের মধ্যে অসাধারণ। অথৈ তেমন কিছু। ঐশি এমন নয়। টাকা পয়সা, চাকচিক্য ঐশিকে ভোলাতে পারবে, অথৈকে নয়। এহসান ছেলেটা লাকি! না হলে অথৈকে পেয়ে যায়, ডিভোর্সি একটা ছেলে! সাধারণ কর্পোরেট কামলা টাইপ জব করে! নায়েবের কী নেই, টাকা, ক্ষমতা, প্রপার্টি! চেহারা! সব কিছু নিয়েও অথৈকে মুগ্ধ করতে পারল না। কোথাও কি এহসান নায়েবের চাইতে অনেক বেশি যোগ্য অথৈ এর কাছে!
এখন আরেক জনের বউকে তো নায়েব বিয়ে করবে না। ফ্যামিলি মানবে না। তবু কথা বলতে হবে, বলতেই হবপ।
বুয়া এসেছে, অথৈ ডাইনিংয়ে বসে এহসানকে ফোন করল।
এহসান ফোন ধরে বলল, কি ব্যাপার, এত তাড়াতাড়ি মিস করছ আমাকে! সকালেই না আদর করে দিলাম!
উফফ, এহসান, তুমি না অফিসে!
তো কি হয়েছে, বউয়ের সাথে কথা বলছি না?
শোনো না কি হয়েছে, মন্ত্রীর ছেলে ফোন করেছে আমাকে!
এহসান বলল, কি বলে? হঠাৎ ফোন করল?
কিছু না, ধানাই পানাই, আমাকে আপন ভেবেছিল। বন্ধু হতে চায়।
এহসান বলল, তা বন্ধুত্ব করলে?
এভাবে বলছ কেন! তোমাকে জানাতেই তো ফোন করলাম!
-শোনো অথৈ, এটাও ঐশির চাল। তোমাকে আমার থেকে দূরে সরাতে সে উঠে পড়ে লেগেছে, বিষয়টা মনে রাখবে। আমি বলব না, তুমি ফোন রিসিভ করবে না, তুমি এডাল্ট, যেটা ভালো মনে হয়, করবে।
অথৈ বলল, হুম!
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৯
এখন চুমু পাঠাও তো!
যাহ, আবার শয়তানি! তোমার এই বয়স আছে এখন?
এহসান বলল, প্রেমে পড়ার কোনো বয়স নেই অথৈ, আমি আমার বউয়ের প্রেমে পড়েছি! শুধু পড়িনি, ভালো ভাবে ফেঁসে গেছি!
অথৈ হেসে বলল, রাখছি তাহলে।
এহসান বলল, বাইই!
