Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭১

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭১

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭১
শানজানা আলম

বাসায় ফিরে অথৈ এর জন্য ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট নিয়েছে এহসান। মাকে নিয়ে এসে বাসায় রাখবে ঠিক করেছে। প্রাইভেট জব, সকল সন্ধ্যা ডিউটি, এহসান সময় পাবে না ঠিক মত। এই অবস্থায় অথৈ কে বাসায় একা রেখে যাওয়াটাও ঠিক হবে না। তাছাড়া অথৈ বেশ উইক। এহসান একটু অবাক হয়েছে, কারন ঐশি বলেছে ঐশি নাকি কনসিভ করেছে। তবে ও বেশ শক্ত আছে, তেমন অসুস্থ বলে তো মনে হলো না। অথৈ তো বেশ দুর্বল হয়ে গেছে। এহসানের একবার মনে হচ্ছে, এত তাড়াতাড়ি বেবি প্ল্যানিং করাটা ভুল হলো কিনা। আবার মনে হচ্ছে ঠিকই আছে, দুজনের মাঝে যৌথপ্রাণের আগমন মানে সম্পর্ক পাকাপোক্ত হয়ে যায়।
অথৈকে বলতে হবে, ঐশির বিষয়ে কোনো রকম চিন্ত ভাবনা যেন না করে। একদম চোখ বন্ধ করে থাকবে। বাবা মাও তো অথৈকে সেভাবে ক্ষমা করে নি, তাহলে কি দরকার যেচে পড়ে নিজের মন খারাপ করার!!
অথৈ কথা শুনবে বলে মনে হয় না। বাবা মা তো! অথৈ নিজের অবস্থানটা বোঝাতেই পারে নি তাদের। একটু যদি বুঝতো।

অফিস থেকে ফিরে স্যুপ বানিয়েছে এহসান। অথৈকে কিচেনে ঢুকতেই নিষেধ করে দিয়েছে। অথৈ অবশ্য বুয়াকে ইন্সট্রাকশন দিয়ে মাছ, তরকারি তৈরি করে রেখেছে।
এহসান স্যুপ নিয়ে বসল অথৈ কে খাওয়াতে। অথৈ এর ভালো লাগছে না খেতে, এহসান এত আগ্রহ করে বানিয়েছে, নাও করতে পারছে না।
কি হলো? -অথৈ এর ইতস্ততভাব দেখে জানতে চাইল এহসান।
ভালো লাগছে না- অথৈ বলল।
বমি পাচ্ছে?
অথৈ ঘাড় নাড়ল।
ঠিক আছে, রেখে দিচ্ছি।
না, দাও। কিছু তো খেতে হবে।
আচ্ছা তোমার কি আমাকে ভিলেন মনে হচ্ছে?- এহসান জানতে চাইলো?
অথৈ জিজ্ঞেস করল -কেন?
এই যে, হঠাৎ করে সুস্থ থেকে কেমন অসুস্থ হয়ে গেলে!
আলটিমেটলি তো আমিই দায়ি!- এহসান বলল।
অথৈ বলল, এখনো মনে হচ্ছে না, তবে মনে হবে মনে হয়।
আচ্ছা,, তাহলে তখন কি করবে?

ভাবছি কি করা যায়! – অথৈ চিন্তিত হওয়ার ভাব করল।
হুম, ভাবো। মাইর টাইর দিলে আগে জানিও। আমিও কম স্যাক্রিফাইস করছি না, আমার নতুন বউকে কাছে টানতে পারতেছি না। পুরুষের জ্বালা কেউ বুঝবে না।
সমস্যা কি, ওই যে ডেট করতে গেলে, ওই মেয়েকে খবর দাও, ফ্রি তো এখন তুমি!
এহসান বলল, পাগল নাকি,, আমার কয়টা মাথা ঘাড়ে!
-একটার বেশি হলে ডাকতে নাকি?
-নাআআ না! আর দরকার নাই আমার। একজনই যথেষ্ট। এহসানের বলার ভঙ্গিতে অথৈ হেসে ফেলল।
যাক, একটু হাসি দেখলাম! কাল মা কে নিয়ে আসব।
তাহলে তোমার রান্না নিয়ে প্যারা হবে না। – এহসান বলল।
অথৈ ঘাড় নেড়ে সায় দিলো।

সকাল সাতটায় মিসেস নওফেল ঘুম থেকে ওঠেন, তারপরে বাড়ির সামনে লনে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন।
নওফেল সাহেব আলাদা রুমে থাকেন। মিসেস নওফেল তার লেডিস ক্লাব, পার্টি, সোশ্যাল ওয়ার্ক নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। তিনি বিশিষ্ট সমাজ সেবক।
নিজের গার্মেন্টসে অসংখ্য মেয়েদের চাকরি দিয়ে নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নারী জাগরনে বিশেষ অবদান রেখে বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন। সামনের বছর তার একুশে পদক পাওয়ার কথা।
তিন সন্তানের মধ্যে নাসির থাকে তাদের সাথে। নাসির গতরাতে মালয়েশিয়া গিয়েছে ছেলেকে নিয়ে। নাসিরের স্ত্রী আভা যায় নি। আভার দুবাইয়ে সেটল করার কথা চলছে, তবে আভা যাচ্ছে না।
তার দুই মেয়েই ইউএসএ থাকে, আসা যাওয়া করে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে চিটাগংয়ে বনেদি পরিবারে। আপাতত সে সেখানে আছে।

ঘুম ভাঙার পরে ব্যক্তিগত সহকারী তাকে খবর দিলো, গেটে একজন ভিজিটর আছে। রাত থেকে বসে আছে। প্রথমে তিনি ভেবেছিলাম, সাহায্য চাইতে এসেছে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা অন করে বুঝলেন অন্য ইস্যু। তবে ইস্যু কার, বাবা নাকি ছেলে, সেটাই প্রশ্ন।
নওফেল সাহেবের বয়স তেষট্টি বছর। তার নিজের বয়স বায়ান্ন। এই বয়সে স্বামীর শয্যায় তার যাওয়া হয় না। কমবয়েসী মেয়েদের সাথে নওফেল সাহেবের বিছানার গল্প তার অজানা নয়, তবে সেটা বাড়ি অবধি আসবে না। কিন্তু আজকাল তো এমন ঘটনা রেয়ার না, সুন্দরী কমবয়সী মেয়েরা বৃদ্ধ বয়স্ক বিজনেস টাইকুনদের বিয়ে করছে, সুগার ডটার হয়ে থাকছে। এটা সেরকম ইস্যু হতে পারে। নাসিরের বোকামিও হতে পারে৷

এই মেয়েকে অবলা মনে হচ্ছে না। তার স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স পাঠিয়ে তাড়িয়ে দিলেই হয়, তবে এখন ভুঁইফোড় মিডিয়াগুলো খুব ঝামেলা করে। কোনো দুর্বলতা পেলে ভাইরাল করে দিবে, তখন সোসাইটিতে ফেসলস হবে, ক্ষতি তাদের কেউ করতে পারে না, কিন্তু সোসাইটি সবার আছে। তাছাড়া এসব ইস্যু তার পুরস্কার প্রাপ্তির অন্তরায় হতে পারে। তার চাইতে ভেতরে এনে দেখতে হবে, জল কতদূর গড়িয়েছে। সেরকম কিছু হলে মেয়েটাকে বাইরে রাখা যাবে না। তিন তলায় কয়েকটা স্টোর হাউজ আছে, সেখানে রাখতে হতে পারে।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭০ (২)

পুরো বিষয়টা ঠান্ডা মাথায় সামলাতে হবে।
তিনি সিকিউরিটি গার্ডকে বললেন, নয়টার দিকে মেয়েটাকে পাঠতে। ততক্ষণে তিনি স্বামী আর ছেলের আমলনামা ঘেটে দেখবেন, কোথায় কি ইস্যু হতে পারে!!!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭২