Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৫

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৫

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৫
শানজানা আলম

অথৈ এহসানের কথায় আহত হলেও আর কথা বাড়ালো না৷ এহসান বেশ উচ্চ স্বরে কথা বলছিল, আশেপাশের সবাই তাকাচ্ছিল। তবে টেনশনে অথৈ এর খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। এমন না যে ঐশির সাথে তার রোজ কথা হয়, তবু সেফ আছে, এটা তো জানা থাকে!
কয়েকদিন আগেই জানতে পেরেছে, ঐশি কনসিভ করেছে, ওর পাশে কেউই নেই। মুখে যতই বড় বড় কথা বলুক, আপু আসলে এতটাও শক্ত মেয়ে নয়, কেন যে এমন খারাপ হয়ে গেল, অথৈ বুঝতে পারে না।
ডাক্তার ম্যাডাম চেক করে বললেন, এখন অবধি সব ঠিকঠাক আছে মনে হচ্ছে। ওষুধগুলো চলুক, টেস্টগুলো করান, ইউএসজি টা নাহার ম্যাডামের কাছেই করবেন। রিপোর্ট দেখিয়ে প্রেসক্রিপশন আপডেট করে নিয়েন।
এহসান জানতে চাইলো, ম্যাডাম, ওর কি আসতে হবে?

-না, আপনি এসে রিপোর্ট দেখিয়ে গেলেই হবে। কোনো সমস্যা না হলে, নেক্সট মাসে ডেট দেওয়া থাকল৷ সিরিয়াল দিয়ে যান, তখন আসলেই হবে।
আর আপনাকে খুব স্ট্রেসড লাগছে, প্রেশার একটু বেশি আছে, এত স্ট্রেসে থাকা যাবে না, প্রথম প্রেগন্যান্সি তো কি হয়েছে, এটা তো কোনো অসুস্থতা না, স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। একটু সাবধানে থাকতে হবে যেন আনওয়ান্টেড কোনো সিচুয়েশন না হয়৷ বেডরেস্টে থাকার মতনও কিছু হয় নি। প্রথম তিন মাসে একটু মর্নিং সিকনেস, দুর্বলতা থাকে। শরীর খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করলে ঠিক হয়ে যাবে, হাসিখুশি থাকবেন, মা হাসিমুখে থাকলে বাচ্চাও হাসিখুশি হবে।
স্ট্রেস কারো জন্যই ভালো না।
চেম্বার থেকে বের হয়ে এহসান বলল, শুনলে তো, ডাক্তার কি বললেন।
অথৈ বলল, হুম।

এহসান শক্ত ভাবে বলল, অথৈ, অন্য কারো জন্য স্ট্রেস নিয়ে নিজের ক্ষতি করবে না, বিশেষ করে যারা তোমার ভালো চায় নি।
একদম মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। ঐশির চিন্তা করার জন্য বাবা মা আছে, ওর বন্ধু বান্ধব আছে, তোমার কোনো দরকার নেই ওর জন্য চিন্তা করার।
তোমার বাবা মা যদি স্বাভাবিক ভাবে তোমাকে একসেপ্ট করে নিতো, আমি কিছুই বলতাম না। তারা তো সেটা করে নি। স্টিল নাউ, ঐশির অবস্থার জন্য তোমাকে দায়ী ভাবে। অথচ ও আমার লাইফটার কি অবস্থা করে ছেড়েছিল! ঐশির কোনো বিষয়ে তুমি থাকবে না। তাতে আমাকে খারাপ মনে হলে, আমি খারাপ।
অথৈ এর মনে হলো বলে, এরকম পরিস্থিতি হলে স্বাভাবিক হতে সব বাবা মায়ের সময় লাগে। তোমাকে বিয়ে করে আমার পুরো পরিবার আমার পর হয়ে গেছে। যতই তুমি বলো, আমার তো বাবা মা বোন!

তবে এহসান এটা বুঝবে না। কারন ওর ফ্যামিলি স্ট্রাকচার অথৈ এর মত নয়। সবার সাথে একটা ফর্মাল সম্পর্ক, উপর দিয়ে। আন্তরিকতার চাইতে দায়িত্ব বেশি।এহসান বেশ অনেকদিন একাই থাকে, ঐশির সাথে বিয়ের আগ দিয়ে। অথৈ ঐশির মত দুই মেয়ে বাবা মায়ের ছোট্ট সংসার, টান ভালোবাসা এহসানের নেই।এখন এহসানের সাথে ঝগড়া বা কথা কাটাকাটি করতে ভালো লাগছে না। কোনো একটা আবেগে এহসানের কাছাকাছি এলেও এহসানকে মাঝে মাঝেই অসহ্য লাগছে অথৈ এর।
অথৈ সারাপথ চুপচাপ থাকলো। কথা বাড়ালো না।
অথৈ কে বাসায় রেখে এহসান একটু বের হলো, কিছু কেনাকাটা আছে, সেগুলো সারবে। অথৈ ঐশিকে কয়েকবার ফোন করে সুইচড অফ পেলো।
হঠাৎ তার এহসানের বলা একটা কথা মাথায় এলো, ঐশির বন্ধু! নায়েব পাশার ফোন নম্বর তো অথৈ এর কাছে আছে। তাহলে নায়েব পাশাকে কল করে জানা যেতে পারে! ওর সাথে যোগাযোগ করেছে কিনা!
কিন্তু ফোন করার আগেই এহসান বাসায় চলে এলো।আপাতত অথৈ আর ফোন করতে পারলো না।

মিসেস নওফেল অনেক ভাবলেন। তারপর একটা প্ল্যান করলেন। ঐশি মেয়েটাকে বের হতে দেওয়া যাবে না। ওকে একটা ভয় দিতে হবে। ওর কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে এই বাড়ির আঙিনায় অন করার ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর এখান থেকে বের হয়ে ঐশির গুলশানের বাসার সামনে নিয়ে ফোনটা ভেঙে ফেলতে হবে। দেন, লোকেশনের ভেজাল শেষ।
সামান্য একটা মেয়েকে নিয়ে এত চিন্তা করতে হচ্ছে শুধু পরিস্থিতি হাতের মুঠোয় রাখতে। একটু এদিক ওদিক হলে সংবাদ লিক হলে হয়তো কোনো ক্ষতি তার করতে পারবে না, তবে ইমেজে মারাত্মক হ্যাম্পার করবে।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৪

ফোনের ব্যবস্থা হলে মেয়েটাকে মে★রে পুতে দিলেও কেউ ট্রেস পাবে না।
মিসেস নওফেল নিজের চিন্তা অনুযায়ী কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
গভীর রাতে ঐশির ঘরে ঢুকল চারজন মুখোশ পরা মানুষ!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৬