Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৬
শানজানা আলম

রাতে ডিনারের সময় তাহিরা বেগম আরেকবার ফোন করলেন অথৈকে। ঐশি এখনো যোগাযোগ করে নি।
এহসান পাশ থেকে শুনলো বিষয়টা। অথৈ এর দিকে দৃষ্টি দিয়ে বুঝিয়ে দিলো, এহসান পছন্দ করছে না, অথৈ কথা বলুক মায়ের সাথে।
অথৈ শুধু বলল, আমি দেখি, কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারি কিনা।
ফোন রাখার পরে অথৈ বলল, এটা কি হলো?
এহসান বলল, কোনটা?
-এই যে আমি কথা বলছিলাম, আর তুমি এভাবে তাকালে!
-যাক বুঝেছ তাহলে আমি পছন্দ করছি না বিষয়টা!

অথৈ রেগে গিয়ে বলল, তুমি পছন্দ করো বা না করো তাতে আমার বাবা মায়ের সাথে আমার সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় না। আমার বোনের সাথেও আমার সম্পর্ক শেষ হবে না। হতে পারে, ও তোমার এক্স ওয়াইফ ছিল, কিন্তু আমার তো বোন হিসেবে ও এক্স না! তাই না? ও বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, সেটার খোঁজ আমি করব না?
এহসান শান্ত স্বরে বলল, না করবে না।
অথৈ এর নিজেকে অসহায় মনে হলো! ও বলল, সত্যিই এমনটা চাও তুমি?
এহসান বলল, হ্যা, কারন আমি চাই পৃথিবীর সব টক্সিক বিষয় থেকে তুমি দূরে থাকো। তুমি বুঝতে পারছ না, ওরা কেউ তুমি ভালো থাকো, সেটা চাচ্ছে না। তোমার শরীরের জন্য স্ট্রেস ক্ষতিকর হবে, সেটা জেনেও বারবার তোমাকে ফোন করছে। আমি কোনো ভাবেই এটা হতে দিব না অথৈ। ওদের প্রায়োরিটিতে অনেকে থাকতে পারে, আমার শুধু তুমি আছ! এহসানের জন্য অথৈ ছাড়া কেউ নেই!
অথৈ এবারে একটু শান্ত হয়ে বলল, ঠিক আছে।
এহসানের সাথে ঝামেলা করা মানে সংসারে অশান্তি করা, মনে অশান্তি করা। ও পছন্দ করছে না, না করার পিছনে কারন আছে। তাই যা করার, ওকে না জানিয়ে করতে হবে। নায়েব পাশাকে ফোনটা অথৈ কাল করবে।

অথৈ রুমে গিয়ে লাইট কমিয়ে শুয়ে পড়ল। এহসান রুমে ঢুকে টেম্পারেচার এডজাস্ট করে দিলো।
অথৈ, ওষুধ গুলো খেয়েছ?
আজ একটাও খাওয়া হয় নি, অথৈ বলল, হুম!
এহসান মেডিসিন বক্স চেক করে বলল, মিথ্যা বলবে না। আমি সব সময় খেয়াল রাখছি, ওষুধ কয়টা আছে, আর তুমি নিচ্ছ কিনা, কেন বলেছি তোমার জন্য স্ট্রেস ক্ষতিকর, সেটা দেখো।
এহসান প্রেসক্রিপশন মিলিয়ে ওষুধ খাইয়ে দিলো অথৈকে।
এখন ঘুমাও, ফোনটা আমাকে দাও, চার্জে দিয়ে রাখি।
অথৈ বলল, দরকার নেই।
এহসান চেয়েছিল ফোনটা সরিয়ে রাখতে, তবে জোর করল না। এইক্ষেত্রে কঠিন না হলে, অথৈ এর ক্ষতি হবে। তার একমাত্র প্রায়োরিটি অথৈ। অথৈ বুঝলেও সই, না বুঝলেও! এক ভুল বারবার এহসান করবে না।

পরদিন এহসান অফিসে বের হয়ে যাওয়ার পরে অথৈ সুযোগ পেলো নায়েব পাশাকে ফোন করার।
নায়েব পাশা ফোন রিসিভ করল। যদিও মাত্র সকাল আটটা দশ বাজে। নায়েব পাশা নিজের বাড়িতে জিমে ছিল। অথৈ এর ফোন দেখে একটু অবাক হলো।
হ্যালো- নায়েব পাশা বলছি-
আমি অথৈ, চিনতে পেরেছেন, ঐশি আমার বোন।
হ্যা, চিনব না কেন, ফোন নম্বর সেভ করা আছে আমার! হঠাৎ আমাকে স্মরণ করার কারন? তাও এত সকালে?
অথৈ বলল, আসলে একটু সমস্যায় পড়েছি, আপু বাড়ি থেকে এসেছে কিন্তু তারপর আর কারো সাথে যোগাযোগ করে নি। ওর এখনকার বন্ধু বলতে আপনার ফোন নম্বরটাই আমার চেনা। এজন্য ফোন করতে বাধ্য হলাম, যদি জানেন, ওর বিষয়ে কিছু…

নায়েব পাশা অনেক ধরনের কাজে ব্যস্ত থাকে, ঐশির বিষয়টা মাথা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। ঐশির যোগাযোগ করার কথা, কিন্তু গত দুদিন কোনো যোগাযোগ করে নি!
নায়েব পাশা বলল, আমি এই মুহুর্তে জানি না, তবে চেষ্টা করছি ওকে খুঁজে বের করতে।
অথৈ কৃতজ্ঞতার সাথে বলল, কাইন্ডলি যদি দেখতেন, খুব উপকার হতো।
হ্যা হ্যা, অবশ্যই, আর তুমি বলেছ, এটার গুরুত্ব অন্যরকম আমার কাছে-
ফ্লার্টিং হলেও অথৈ অখুশি হলো না। বিপদের সময়ে যে পাশে থাকব বলে, সাময়িক ভাবে তাকে আপন মনে হয়।

এখন বলো তো, কেমন আছ? সংসার কেমন চলছে?
ভালো- অথৈ সংক্ষিপ্ত করে বলল।
নায়েব পাশা বলল, তুমি চরম একটা মেয়ে, ইউ ডিসার্ভ এ বেটার লাইফ! এনিওয়ে, এখন সব বলা অর্থহীন যদিও!
অথৈ বলল, দেখুন, আমার লাইফ নিয়ে আমি যথেষ্ট ভালো আছি! আমি সম্পূর্ণ আলাদা একটা বিষয়ে আপনাকে ফোন করেছি।
-হ্যা, সেটা বুঝতে পেরেছি।
নায়েবপাশা বলল৷

-তবে তুমি যদি কোনো বিষয় বা প্রয়োজন ছাড়াও আমাকে ফোন করো, আমি কিছু মনে করব না।
তুমি আমার হও নি মানে তুমি আমার শত্রু এমন তো নয়, হতেও পারে, আমরাই সব চাইতে ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৫

নায়েব পাশার আন্তরিকতা এবারে অথৈকে কিছুটা মুগ্ধ করল। বিশেষ করে একই বিষয়ে এহসানের উদাসীনতা আর কাঠিন্যে অথৈ খুবই কষ্ট পাচ্ছিল।
নায়েব পাশা বলল, আমি কোনো খোঁজ পাওয়া মাত্র তোমাকে জানাব৷ ওকে? তাহলে রাখছি এখন।
অথৈ, থ্যাংকস বলে ফোন রাখল।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৭