ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৭
শানজানা আলম
নাসির এডিশন হোটেলের একটা স্যুইট বুক করেছে। আভা শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া সেটল করতে রাজী হয়েছে। বছর খানেক আবুধাবিতে থাকবে, তারপরে মালয়েশিয়া চলে যাবে। নাসির রেগুলার আসা যাওয়া করবে। আভার চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে নাসির বেশ খুশি, আভার শান্ত শীতল দৃষ্টি সে নিতে পারছিল না। বিশেষ করে ঐশির ঘটনায় তাকে আভার কাছে নিচু হতে হয়েছে। কিছু করার ছিল না আসলে, তাকে সব দিকই ব্যালান্স করতে হয়েছে।
আভা জানিয়েছিল, তার ফ্ল্যাইটের টাইম। নাসির যায় নি। সে তার বুক করা স্যুইটে এসেছে। বিভিন্ন স্ট্রেসে বেশ কিছুদিন রিলাক্স করা হয় নি।
একটা মেয়ের রিলস চোখে পড়ল। বাচ্চা মেয়ে বোধ হয়! বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ভিউজ অনেক।
মেয়েটা কে? – হোয়াটসএ্যাপে পিএসকে জিজ্ঞেস করল নাসির।
স্যার, দোয়েল, টিকটক করে, নাচে ভালো।
ওকে নিয়ে এসো এডিশনে- নাসির টেক্সট করল।
আসবে, কারন ড্যান্সগুলো এক্সপোজিং, দেখেই বোঝা যায় ক্লায়েন্ট খুজতেছে, নাহলে টিকটকে পিঠখোলা, নাভী দেখানো ড্যান্স আপলোড করার মানে কি! ওরা তো বলিউড হলিউডে হিরোইন হতে যাচ্ছে না। যাবে কারো বিছানায়, সহজে সিঁড়ি ধরে উপরে উঠে যাবে!
এরাই ভালো, ঐশির মতন প্যারাদায়ক না।
দোয়েল এলো সন্ধ্যার পরে। নাসির জামাকাপড় ছেড়ে হাউজকোট পরে বসেছে, ড্রিংকস সাজানো আছে, এক পেগ নিয়ে ডিভানে আধশোয়া হয়ে হেলান দিয়েছে।
বসো, দোয়েলকে বলল নাসির।
দোয়েল বসল কনফিডেন্স নিয়ে , চড়া মেকাপ করেছে। অফ শোল্ডার টপস, নাসির দেখল, পেটের কিছুটা অংশ বের হয়ে আছে, টাইট লেগিংস।
তোমাকে সুন্দর লাগছে- নাসিরের কমপ্লিমেন্টে দোয়েল বলল, থ্যাংকস!
-তা বাসায় কি বলে এসেছ, বাচ্চা মেয়ে, টেনশন করবে না বাসায়?
-নাহ, শো থাকলে আমার রাত হয় ফিরতে।
-ভালো। চুলের ব্যান্ডটা খুলে ফেলো, আর টপসের সাথে প্যান্টটা মানাচ্ছে না, ওটা খুলে বসো।
নাসির একটু বাজিয়ে দেখছে, এর সাথে ঠিক কিভাবে জমবে।
দোয়েল বলল, ওয়াশরুম কোনদিকে?
ওয়াশরুম দরকার নেই, এখানেই খুলে ফেলো। বাই দ্য ওয়ে, তোমার ড্যান্স দেখলাম, বেশ ভালো নাচো তুমি।
-থ্যাংকস।
-ওঠো, প্যান্ট খুলে ফেলো।
দোয়েল উঠে দাঁড়িয়ে স্বইচ্ছায় প্যান্ট খুলে পাশে রেখে দিলো। লোয়ার পার্টে অফ ব্ল্যাক অন্তর্বাস দেখা যাচ্ছে।
নাসির বলল, ভালো লাগছে এখন। কাছে এসো।
দোয়েল এগিয়ে এলো। নাসির দোয়েলকে কোলে বসিয়ে ওর ঠোঁটে চুমু খেতে শুরু করল। বয়স কম, স্বভাব সুলভ ভাবেই দোয়েলের নিঃশ্বাস গভীর হয়ে এলো। নাসির দোয়েলের অন্তর্বাস খুলে ফেলে দিলো। ওকে তুলে ডিভানে শুইয়ে দিলো।
নগ্ন হয়ে দোয়েল শুয়ে আছে, ওর ওয়েট একেবারেই কম! বয়স কত তোমার? – নাসির জিজ্ঞেস করল।
মেয়েদের বয়স জিজ্ঞেস করতে নেই! – দোয়েল বলল।
হুম, সিক্সটিন, নাকি সেভেন্টিন?
দোয়েল হাসল! ফোর্টিন-
-অনলি- এত কম! ড্যান্স দেখে তো মনে হয় না! কোন ক্লাশে পড়ো তুমি! এত এক্সপার্ট হলে কিভাবে? কোথায় কোথায় যাও তুমি?
দোয়েল হাসল লাস্যময়ী ভঙ্গিতে। টিকটক থেকেই তার অফার আসে, সে মাঝে মাঝে রাতে যায় অনেকের সাথে, একেক রাতে তার যে টাকা আসে, সেটা দিয়ে ইচ্ছে মতন শপিং করা যায়৷ বাসায় বললেই হয়, ব্রান্ড প্রমোশন করছে। আজকের ট্রিপটা বেশ ভালোই টাকা আসবে। আইফোন কিনে ফেলা যাবে।
কথা বলতে বলতে নিজের হাউজকোট খুলে ফেলে দোয়েলের শরীরে চুমু খেতে লাগল৷ দোয়েল সাড়া দিয়ে নাসিরের সাথে যুক্ত হলো, মৃদু শীৎকার নাসিরকে উত্তেজিত করে তুলল।
দোয়েলের উপর শুয়ে নাসির বলল, তুমি এখানেই থাকো, আরেকটু ফান করি।
এখানে? এই লাক্সারিয়াস স্যুইটে?- দোয়েল জিজ্ঞেস করল।
এর চাইতেও লাক্সারিয়াস এপার্টমেন্ট আমি তোমাকে করে দিব- নাসির বলল।
ওকে, আমাকে টিকটক করতে দিতে হবে, ছবি তোলার লোক পাওয়া যাবে?
দোয়েলের কথা শুনে নাসির হাসল।
চলো, পুল সাইডে যাই।
নাসির নতুন কমবয়েসী মেয়ে নিয়ে এতই মগ্ন হয়ে পড়ল, ঐশির লাইভ সে দেখলোই না। দেখল তার বাবা নওফেল সাহেব।
দোয়েলকে নিয়ে পুলে নামতেই বাবার ফোন এলো নাসিরের ফোনে।
নাসির পিক করল।
কোথায় তুমি? – নওফেল সাহেব জানতে চাইলেন।
আছি, একটা জরুরি মিটিংয়ে, দোয়েলকে চুমু খেয়ে নাসির বলল।
কোথায়?
এডিশনে-
তোমার কেপ্ট তোমাকে নিয়ে লাইভ করেছে, মান সম্মান কিছু রাখলে না নাসির। ছি!
হোয়াট? কে?
কে মানে কি, কয়টা মেয়ে রাখো তুমি? এখন বাসায় চলে আসবে, রাইট নাউ। তোমার মায়ের জন্য তোমার এই দশা হয়েছে!-
কে কি করেছে?- নওফেল সাহেব ফোন কেটে দিলেন।
দোয়েল ভেজা শরীরে নাসিরের ঠোঁটে চুমু খেতে যাচ্ছিল। নাসির জোরে সরিয়ে দিলো ধাক্কা দিয়ে। টাওয়েল জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকতেই ঐশির লাইভ সামনে এলো!
-বাস্টার্ড – বে★শ্যা- এত কিছু করার পরেও ভয় পায় নি! রাগে নাসিরের মাথার কাছের রগ ফুলতে লাগল।
দোয়েল উঠে এসেছে! একদম ভেজা, নগ্ন। টাওয়েল জড়ায় নি!
ছোট একটা টাওয়েল নিয়ে নাসিরের চুল মুছিয়ে দিতে লাগল দোয়েল। নাসির সরাতে পারল না। পুরো বিষয়টা কিভাবে ম্যানেজ করবে, সেটা ভাবতে লাগল।
চ্যানেল কানের পেজে লাইভ শেয়ার করা- নাসির ফোন করল মালিক রাকিবুর রেজা পাহাড়কে।
-পাহাড় ভাই, এটা কি হলো? – আপনার চ্যানেলের পেজে এই লাইভ আসে কিভাবে- এক্ষনি সরানোর ব্যবস্থা করেন।
পাহাড় ভাই ইতস্তত করে বললেন, আমি দেখছি বিষয়টা- পেজ টেজ তো আমি দেখি না, পোলাপান চালায়, মনে হয় ভিউজ দেখে পোস্ট করে ফেলসে।
নাসির পিএসকে ফোন করে, গালাগালি করল কতক্ষণ।
দ্রুততার সাথে, চ্যানেল কান থেকে ওটা সরানো হলো। সব নামকরা মিডিয়া থেকে নিউজ সরে গেল পনের মিনিটের মধ্যে, কিন্তু ভাইরাল ইস্যু, ভিউজ ব্যবসায়ীদের হাত থেকে নাসির গ্রুপ বাঁচতে পারল না। তুমুল সমালোচনার মুখে পড়তে হলো তাকে।
তাহিরা বেগম আলাদা ঘুমান, ঐশির বাবা ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়েন, তার সমস্যা না হয় এজন্য, সেদিন রাতে তিনি শুয়ে পড়েছিলেন। রাত দুইটার দিকে তার ছোট বোন ফোন করলেন।
বুবু, কি অবস্থা তোমাদের?
তাহিরা বেগম বললেন, এত রাতে?
-ঐশির খবরটা দেখলাম।
-ঐশির কি খবর?- তাহিরা বেগম অবাক হলেন।
-মানে? তুমি জানো না? ঐশি তো লাইভে আসছে, অরে নাকি নাসির গ্রুপের নাসির প্রেগন্যান্ট করছে, বাচ্চা ফেলাইছে, তুমি কিচ্ছু জানো না? এই জন্য ডিভোর্স হইছিল?
তাহিরা বেগম ফোন কেটে দিয়ে ঐশিকে ফোন করলেন! ঐশির ফোন বন্ধ। অথৈকে ফোন করলেন, অথৈ এর ফোন সাইলেন্ট, পিক করল না কেউ। তাহিরা বেগম তার স্বামীর ঘরে উঁকি দিলেন, ঘুমাচ্ছেন ।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৬
কাকে ফোন করবেন, না বুঝে এহসানকে ফোন করলেন তাহিরা বেগম।
এহসানের ঘুম আসছিল না। ভাইব্রেশন টের পেয়ে দেখল, অথৈ এর মা ফোন করেছে!
এহসান উঠে ফোনটা নিয়ে বের হয়ে গেল।
