অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৩
রুপা
বাগানবাড়িতে পুষ্প আর আর্যর আলাদা সংসারের আজ আট দিন। এই আট দিনে আর্য পুষ্পর সব ধরনের খেয়াল রেখেছে—বলতে গেলে একটা ফুলের মতো আগলে রেখেছে। রান্না করা থেকে খাবার বেড়ে খাইয়ে দেওয়া পর্যন্ত সব নিজে করছে। পুষ্প নিজে করতে চাইলে বারণ করে দিয়েছে। এই তো, যেদিন প্রথম আর্য বাজার করে আনে, সেদিন পুষ্প আর্যকে বলেছিল—
– “সরকার সাহেব, আমাকে দিন, আমি রান্না করব।”
পুষ্পর কথা শুনে আর্য ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল—
– “তুমি কুকিং পারো?”
– “পারব না কেন? আমি তো ক্লাস থ্রিতে ওঠার পর থেকেই রান্না করেছি।”
মুখ ফসকে কী বলে ফেলছে বুঝতে পেরেই সে মুখ চেপে ধরে এদিক-ওদিক তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল—
– “না মানে, আমি রান্না পারি।”
– “তুমি ক্লাস থ্রি থেকে রান্না করো? তখন তো তুমি খুব ছোট ছিলে?”
রমণী কিছু না বলে চুপ করে রইল। সে এসব সরকার সাহেবকে জানাতে চায় না, তাই তো কথা ঘুরিয়ে বলল—
– “গ্রামে সবাই ছোট থেকেই রান্না করে! আপনি আমাকে দিন, আমি রেঁধে দিই।”
– “কোনো প্রয়োজন নেই, ফ্লাওয়ার। আমি বাজার করব, তুমি রান্না করবে, আমি খেতে বসলে তুমি হাতপাখা দিয়ে বাতাস করবে—ইটস ব্যাকডেটেড, ফ্লাওয়ার!”
কঠোর মানবের কথার মর্মার্থ বুঝতে পারল না রমণী। সেও মিনমিন করে জিজ্ঞেস করল—
– “তাহলে নতুন কী?”
– “নাও, নিউ ভার্সন ইজ—বাজার করব আমি, রান্না করব আমি, খাইয়ে দেবোও আমি; খাওয়ার সময় গরম লাগলে বাতাসও করব আমি! তুমি শুধু আমার কাছে থাকবে।”
তারপরে রমণী আর কিছু বলার পেল না। তারপর থেকে রোজ আর্য রান্না করে নিজের হাতে পুষ্পকে খাইয়ে দেয়। রোজ রাতে পুষ্পর মাথা আঁচড়ে দেয়। পুষ্প ও এখন আর্যকে আগের মতো ভয় পায় না—বলতে গেলে ভয় অনেকটাই কেটে গেছে, স্বাভাবিকভাবে আর্যর সাথে কথা বলে। আর্যও ভয় পাওয়ার মতো কিছুই করে না। পুষ্প রোজ রাতে ঘুমায় আর্যর বুকে! এতে অবশ্য পুরো ক্রেডিট আর্যর।
সেদিন রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে যখন রুমে দুজনে ঘুমাতে আসে, তখন পুষ্প নিজের জন্য নিচে বিছানা করতে চাইলে আর্য পুষ্পকে নিজের সাথে ঘুমাতে বলে, কিন্তু পুষ্প বারণ করে দেয় আর্য অনেক বলার পরেও যখন পুষ্প আর্যর সাথে বিছানায় ঘুমাতে রাজি হয় না তখন আর্য পুষ্পর ভয় কে কাজে লাগায় বেশ সিরিয়াস হয়ে বলে—
– “ফ্লাওয়ার, আমি শিওর বলতে পারি না, এখানে দিনের বেলা ভূত না থাকলেও রাতের বেলা ভূত আসলে আসতেও পারে! আর আমি শুনেছি, ভূতেরা সবসময় কিশোরী মেয়েদের একটু বেশি পছন্দ করে।”
ব্যাচ! ভীতু রমণীর মনে ভয়ের বীজ রোপণ করে দিয়ে আর্য নিশ্চিন্তে কমফোটার জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ার অভিনয় করে। এদিকে রমণী ভয়ে এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখে—যেদিকেই তাকাচ্ছে, মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি কেউ আসছে! যাকে বলে—‘ভয় পেলে কাপড় দেখলেও ভূত দেখার মতো অবস্থা হয়’—সেটাই হতে লাগল রমণীর সাথে। পুষ্প এবার ভয় জড়ানো কণ্ঠে ডেকে উঠল—
– “সরকার সাহেব?”
আর্য কোনো জবাব দিল না। পুষ্প আবার ডাকল—
– “সরকার সাহেব?”
আর্য তবুও নিশ্চুপ। আর্যকে চুপ করে থাকতে দেখে রমণী মনে মনে দোয়া-দরুদ পড়তে লাগল। প্রকৃতি নিজেও হয়তো চায় ফুল তার মালিকের সান্নিধ্যেই থাকুক, তাই তো রমণীর ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়ে তুমুল ঝড়-বাতাস শুরু হলো! থেকে থেকে বিকট শব্দে বাজ পড়তে লাগল। হঠাৎ তীক্ষ্ণ বাজ পড়ার বিকট শব্দে রমণী এবার চিৎকার করে আর্যর বিছানায় চলে এল এবং হাত-পা গুটিয়ে বসে পড়ল। এতক্ষণ চুপ করে থাকা আর্য এবার কমফোটার থেকে হাত বের করে রমণীর সরু বাঁকানো কোমরে হাত গলিয়ে একটানে নিজের বুকের ওপর আছড়ে ফেলল! দুই হাতে শক্ত করে সাপের মতো পেঁচিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল।
রমণীর সেদিকে কোনো খেয়াল নেই; সে তো ভয়ের মাঝে যেন একটুকরো নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে, তাই তো চুপটি করে গুটিসুটি মেরে বুকে পড়ে রইল, সরে যেতে চাইল না। সেটা বোধহয় আর্য সরকারের ভালো লাগল না, তাই তো হুট করে রমণীর গলার ভাঁজে মুখ গুঁজে দিল! গরম নিঃশ্বাস গিয়ে ঠেকছে রমণীর স্পর্শকাতর চামড়ায়। পুষ্পর পুরো শরীর শিরশির করে উঠল—ভয়ের জায়গায় ভিড় করল অন্যরকম অজানা এক অনুভূতি! হাঁসফাঁস করে উঠল সে, বুকের বাম পাশে যেন ঝংকার দিয়ে ধিকধিক বেজে উঠল, রমনীর নরম কায়া কেঁপে কেঁপে উঠছে।
এদিকে পুষ্পর মৃদু কম্পন টের পেয়ে আর্য ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না; তার পুরুষালি হরমোন যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠল এবং শরীরের প্রতিটি কোষে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তে লাগল। হঠাৎ প্রকৃতি যেন তার বিরুদ্ধে তাণ্ডব শুরু করল—তার কামনার আগুনে ঘি ঢালার জন্যই বোধ হয় শুরু হলো ঘোর বর্ষণ! বাইরের ঠান্ডা আবহাওয়ায় তার শরীরে উত্তাপ আরও বেশি ছড়াতে লাগল। সে এবার নিজেও ভীষণভাবে হাঁসফাঁস করে উঠল।
আটাশ বছরের তাগড়া পুরুষ সে, নারীর সান্নিধ্যে নিজের মধ্যে পুরুষালি অনুভূতি জেগে ওঠা স্বাভাবিক—আর সেই নারী যদি হয় নিজের অর্ধাঙ্গিনী! ঠান্ডার মধ্যেও আর্যর শরীর ঘামতে লাগল; কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘামে আর্যর টি-শার্ট ভিজে জবজবে হয়ে গেল। তার ঘামে রমণীর শরীরের কিটি প্রিন্ট করা সাদা নাইটড্রেসও ভিজে যেতে শুরু করল। আর্য বড় বড় নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা চালাল, তবে শান্ত আর হতে পারল কই? আর্যকে বড় বড় নিঃশ্বাস নিতে দেখে রমণী উঠে বসল এবং আর্যর শরীরে হাত দিয়ে অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল—
– “সরকার সাহেব, আপনার কী হয়েছে? এ রকম করছেন কেন? আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে? এভাবে ঘামছেন কেন?”
অস্থির হয়ে রমণী একের পর এক প্রশ্ন করতে লাগল। এদিকে রমণীর হাতের ছোঁয়ায় আর্য যেন আরও বেসামাল হয়ে উঠল! নিজের শরীরে থাকা রমণীর হাত চেপে ধরে কোনো রকমে বলল—
– “ফ্লাওয়ার, আমি যদি তোমাকে একটু কষ্ট দিই, তুমি কি বেশি রাগ করবে?”
আর্যর কথা শুনে রমণী কিছু বুঝতে পারল না—সরকার সাহেব তাকে কষ্ট দেবেন? কিন্তু কেন? রমণী অবুঝ সুরে বলল—
– “মানে? আপনি আমাকে কষ্ট কেন দেবেন?”
রমণীর কথা কানে গেল কি না সন্দেহ—সে তখন বেসামাল এক পুরুষ! আচমকা রমণীকে একটানে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজে রমণীর ওপর উঠে বসল। রমণীর বোধগম্য হলো না সরকার সাহেব কী করছেন! সে উঠে যেতে চাইল, তবে আর্য তা হতে দিল না; দুই হাতে রমণীকে আটকে নিল—যেন খাঁচায় বন্দি করতে চায়! বাইরে ঝড়ের তাণ্ডবের সাথে এবার রমণীর বুকেও ঝড় শুরু হলো। বুকের খাঁচা থেকে যেন হৃৎপিণ্ড নামক যন্ত্রটা বেরিয়ে আসবে—এমনভাবে লাফাচ্ছে!
আর্য এবার উঠে নিজের শরীর থেকে টি-শার্টটা একটানে খুলে বিছানার পাশে ছুড়ে মারল। মুহূর্তেই উন্মুক্ত হলো পুরুষালি আকর্ষণীয় পেটানো শরীর—চওড়া কাঁধ, টানটান পেশি, প্রশস্ত বুক—যেন কোনো শিল্পীর হাতের নিখুঁত ভাস্কর্যের প্রতিমা! পুরো শরীরের ভার ছেড়ে দিল নাজুক রমণীর ওপর। এত বড় দানবীয় শরীরের ভার কি আর নাজুক নরম শরীর নিতে পারে? তাই তো রমণী ও তা নিতে পারল না; হাঁসফাঁস করতে করতে কোনো রকমে বলল—
– “সরকার সাহেব, কী করছেন? আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তো!”
রমণীর কোনো কথাই যেন আর্যর কানে যাচ্ছে না; সে তখন নিজের খেয়ালে রমণীর গলার ভাঁজে মুখ ডুবিয়েছে, ভেজা চুমুতে ভরিয়ে দিচ্ছে সেথায়!
– “সরকার সাহেব!”
কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে ডেকে উঠল রমণী! আর্যর বোধ হয় কানে গেল রমণীর ডাক, তাই তো চোখ তুলে তাকাল রমণীর মুখের দিকে। রমণীর আঁখিজুগল টলমল করছে, এদিকে আর্যর চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করেছে! আর্যর লাল চোখ দেখে রমণী ভয় পেল। এর আগে মনে হয় রমণী আর্যর এরকম লাল চোখ দেখেছে মাত্র দুবার—যখন আর্য অতিরিক্ত রেগে গিয়েছিল। রমণীর মনে হলো, আর্য আবারও কোনো কারণে রেগে গেছে! কিন্তু কেন রেগে আছে? সে তো কিছু করেনি, শুধু বিছানায় এসেছে বলে কি রেগে গেছে? রমণীর মনে ভীতি জমল—হয়তো আবারও তাকে ধমক দেবে কিংবা গায়ে হাত তুলবে! এবার কে বোঝাবে তাকে যে, তার সরকার সাহেব রেগে নেই, সে তো এই মুহূর্তে নিজের সাথেই লড়াই করছে—যেন তার দ্বারা ভুলেও তার ফ্লাওয়ার কষ্ট না পায়! রমণীর টলমলে চোখের দিকে তাকিয়ে আর্য নিজেকে দামানোর চেষ্টা করল। চোখ বন্ধ করে রমণীর কপালে নিজের ঠোঁট দুটো চেপে ধরল।
আর্যর অধরের কোমল ছোঁয়ায় পুষ্পর আঁখিজুগল বুজে এল। দীর্ঘক্ষণ পর আর্য ঠোঁট সরালো। রমণীর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল, সে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। আর্য সেদিকে তাকিয়ে মৃদু কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল—
– “আমি আমার ফ্লাওয়ার কষ্ট পায়, এমন কিছুই করব না—প্রমিজ! গিভ মি টু মিনিটস, জান!”
ভীষণ আদুরে শোনাল আর্যর গলা। এদিকে আর্যর মুখে প্রথমবার এত আদুরেভাবে ‘জান’ ডাক শুনে চমকে থমকে গেল রমণী! তবে আর্য রমণীর থমকে যাওয়া চেহারার দিকে তাকাল না, সে তো নিজের কথা শেষ করেই অধর ডুবিয়ে দিল রমণীর গোলাপের পাপড়ির ন্যায় অধরে। আটাশ বছরের জীবনে এই প্রথম কোনো নারীর কোমল অধর-সুধা পান করতে লাগল আর্য! আর্যর অতর্কিত হামলায় রমণী তড়াক করে চোখ খুলে তাকাল এবং চোখ বড় বড় করে উমম-উমম করতে লাগল। রমণী দুই হাতে আর্যকে ঠেলে দূরে সরাতে চাইল, আর্য তা হতে দিল না।
বলিষ্ঠ এক হাতে রমণীর দুই হাত বন্দি করে নিল, অন্য হাত গলিয়ে দিল পুষ্পর ঘন কেশযুক্ত মাথায়। রমণী উমম-উমম করতে লাগল, তবে আর্য ছাড়ল না। সে পাক্কা দুই মিনিট শেষ করে রমণীর অধরযুগল ছেড়ে দিল। রমণী যেন আর একটু হলেই নিঃশ্বাসের অভাবে প্রাণ হারাত! জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগল সে, আর আর্য গভীর চোখে তা অবলোকন করতে লাগল। চোখ বন্ধ করে রমণীর জোরে জোরে নিঃশ্বাস নেওয়ার দরুন রমণীর আকর্ষণীয় বক্ষঃস্থল ওঠানামা করছে, যা এই মুহূর্তে আর্যর নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে!
আর্য দৃষ্টি সরাতে চেয়েও সরাতে পারছে না। দৃষ্টি ফেরাতে চাইলে ভেতর থেকে কেউ যেন বিরোধিতা করে বলছে—‘এটা তোর হালাল বউ, তুই চাইলে সব দেখতে পারবি! একমাত্র তুই তো দেখবি, তুই ছাড়া আর কারও দেখার অনুমতি নেই।’ পুষ্প নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে যেই না কিছু বলতে যাবে, তার আগেই আর্য আবারও পুষ্পর গলার ভাঁজে মুখ গুঁজে দিল! চোখ বন্ধ করে নিজেকে বোঝাল আর্য—‘কন্ট্রোল! এতটা কন্ট্রোললেস হওয়া ঠিক নয়, ফ্লাওয়ার আরও একটু বড় হলে তখন দেখা যাবে। কন্ট্রোল, শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়, ফ্লাওয়ার তোকে ভয় পাবে—যেটা এই মুহূর্তে হতে দেওয়া যাবে না। তাই শান্ত হ।’ নিজেকে একশ যুক্তি দিয়ে কোনোভাবে বোঝানোর চেষ্টা করল সে। এদিকে আর্যর পুষ্পর গলার ভাঁজে মুখ গুঁজে দেওয়ায় রমণী হাঁসফাঁস করছে, কেঁপে কেঁপে উঠছে কিশোরী তনু। এদিকে রমণীর কম্পন আর্যকে স্থির থাকতে দিচ্ছে না, হরমোন নাড়িয়ে দিচ্ছে! সে এবার গভীর কণ্ঠে বলল—
– “উমম, ফ্লাওয়ার, শান্ত হও! আমি অশান্ত হলে কিন্তু সামলাতে পারবে না। তোমার সরকার সাহেব একবার অশান্ত হলে তোমার প্রতি রাতের শান্তি ছিনিয়ে নেবে! তাই কাঁপাকাপি করে আমাকে অশান্ত না করে নিজে শান্ত হও। এই মুহূর্তে আমি অশান্ত হতে চাই না—যেটা হলে তুমি কেঁদেও ছাড় পাবে না।”
কী হলো কে জানে, আর্যর কথা শুনে অদ্ভুতভাবে রমণী শান্ত হয়ে গেল। আর্য সেভাবেই রমণীর গলায় মুখ গুঁজে পড়ে রইল। অনেক্ষণ পরে রমণীর নিঃশ্বাসের ভারী শব্দ শুনে আর্য যখন বুঝতে পারল তার ফ্লাওয়ার ঘুমিয়ে পড়েছে, তখন সে রমণীর ওপর থেকে উঠে পড়ল। পুষ্পকে ভালোভাবে কমফোটার জড়িয়ে দিয়ে নিজে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল। প্রায় দুই ঘণ্টা কোল্ড শাওয়ার নিয়ে মাথার চুল মুছতে মুছতে বেরিয়ে এল।
খাটের পাশে এগিয়ে এসে ঘুমন্ত পুষ্পর দিকে তাকিয়ে আর্য ভাবতে লাগল—যেখানে কত সুন্দরী যুবতী মেয়ে কোনো দিন তার একটু নজর কাড়তে পারেনি, সেখানে এই টুকুনে একটা পিচ্চি মেয়ে তাকে কন্ট্রোললেস বানিয়ে দিয়েছে! আর্য আর ভাবল না; কত কিছু তো নতুন হচ্ছে তার ফ্লাওয়ার তার জীবনে আসার পরে, এটা আর কী! টাওয়েলটা একপাশে রেখে নিজেও কমফোটারের ভেতর ঢুকে পুষ্পকে নিজের প্রশস্ত বুকে তুলে নিয়ে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ল।
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪২
এরপর থেকে প্রতিদিন পুষ্প আর্যর বুকে ঘুমায়। ঘুমানোর আগে পুষ্প আর্যর থেকে দূরে খাটের একপাশে ঘুমালেও সকালে ঘুম ভাঙে আর্যর বুকে! এদিকে প্রতিদিন রাতে পিচ্চি বউয়ের ঘুমের সুযোগ নিয়ে বউয়ের ঠোঁটে চুমু খেয়ে কন্ট্রোললেস হয়ে মাঝরাতে দুই-তিন ঘণ্টা কোল্ড শাওয়ার নেয় পুষ্পর সরকার সাহেব—যা পুষ্পর অজানায় রয়ে যায়! এভাবে সুন্দরমতো তাদের আলাদা সংসারের সাত দিন শেষ হয়ে আট দিনের মাথায় ঘটে আরেক বিপত্তি—বাড়ি থেকে খবর আসে…
