Home রাগে অনুরাগে রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৫

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৫

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৫
সুহাসিনি ফাতেহা

“আমি বাদে বাদবাকি সবাই কে তোমার বিশ্বাস করতে হয় তাইনা? রোহানকে হাতের কাছে পাই ওই জনির মতোই নাক ফাটাবো কিন্তু তোমার কি ফাটাবো বলো তোমাকে তো এখনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।”
ফারাজের কন্ঠস্বর রাগী শোনালো এবার। যার প্রতিটি শব্দ কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই ছলাৎ করে উঠল সপ্তদশীর বুক পিঞ্জর। ভয়ার্ত রমণী পেলব ঝাপটে নিলো বারকয়েক। আজকে কি তাকে মেরে ফেলবে সত্যি? একটুও দয়া দেখাবে না? এভাবে তার উপর ভার ছেড়ে রেখেছে কেন? এখনো উঠছে না কেন? ফারাজ পূর্বে কখনো নিজের সম্পূর্ণ দেহের ভার তিতলির উপর ছাড়েনি। বলা যায় আজ-ই প্রথম। তুলোর সাদৃশ রমণীর কাছে এই পাহাড়সম বলিষ্ঠ পুরুষের ভার এতসময় ধরে সহ্য করা সহজ কোনো কথা নয়। ছাড়া পাওয়ারও কোনো উপায় নেই। হাত পা ভেঙে যাওয়ার থেকে শাস্তি পাওয়াটা-ই সয় এখন। ছটফট করে পিঠের শিরদাঁড়া একটু উঁচু করার চেষ্টায় ফারাজের শার্টের কলার টেনে ধরল দুহাতে। কাঁপা কাঁপা গলায় তিতলি প্রত্যুত্তর করল,

“শা–শাস্তি দেন। তার আগে দয়া করে আমার উপর থেকে একটু সরুন প্লিজইই।”
বাঁকা হাসে ফারাজ। চোখ ছোট করে নিজের কলারে ধরে রাখা তিতলির হাতের পানে তাকিয়ে হাত এগালো তিতলির চুলের পেছনে। একটানে খুলে ফেলল রমণীর বেঁধে রাখা সিল্কির সমেত কালো কেশরাশী। টান দেওয়ার ফলস্বরপ এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে পড়ল চুল। ফারাজ এলোমেলো নারীর পানে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে পরক্ষণেই ঝড়ের গতিতে মুখ নামালো গলায়। কোনো রকম ও’য়ার্নিং ছাড়াই ধারালো দাঁতের ছোঁয়ায় গলার বা পাশে বসিয়ে দিলো এক কামড়। ওমনি ব্যথাতুর আওয়াজ বেরিয়ে আসে তিতলির মুখ থেকে। মুখ তুলে কামড়ে দাগ হওয়া অংশটায় দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত করল ফারাজ। অতঃপর হাস্কিসুরে বলল,

“ওসব ছোটলোকি কাজ আমার ডিকশনারিতে নেই!”
তিতলি অসহায় দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো ফারাজের পানে, ওর ঠোঁট যুগল তিরতিরিয়ে কাঁপছে। গায়ের জোরে দুহাতে লোকটাকে সরাবে তার –বালাই নেই। ফারাজ কেমন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়েছে তাকে। হাল ছেড়ে দিয়ে এবার আবারও মিশে গেলো বিছানার সাথে। সবমিলিয়ে অন্তঃকরণ নিভু নিভু করছে তার। এতকিছুর মাঝেও যেন তার ভন্ডামি গেলো না। আরেকবার কামড় খাওয়ার আশায় অসহায় কন্ঠে বলল,
“আপনি তো খুব বড়লোক তাইনা? বড়লোকেরা তো অসহায়দের প্রতি মায়া দেখায়। একটু মায়া…”
তিতলির কথা শেষ হলো কিনা? তার আগেই ফারাজ তার শরীরের নিচে থাকা তুলতুলে নরম মানবীর লতানো শীর্ণকায় শরীরটাকে একহাতে শূণ্য তুলে নিলো। তিতলি শূণ্য ভাসছে সেটা বুঝে উঠার আগেই তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল তার সর্বাঙ্গে। আবারও বিছানায় পড়ল সে। ফারাজ তিতলিকে নিজের শরীরের নিচে চেপে ধরল দ্বিতীয়বার। এবার প্রখরভাবে। মায়াজালের ন্যায় নিভুনিভু
চোখ দুটোতে দৃষ্টি ফেলে তীক্ষ্ণ চোয়ালের পেশি গুলো আরও খানিকটা শক্ত করে গমগমে আওয়াজে ফারাজ বলে,
“সো হোয়াট? তুমি কোন মুখে নিজেকে অসহায় বললে? আন্সার মি? আমি থাকতে কিংবা আমার সামনে দ্বিতীয়বার নিজেকে অসহায় বলতে শুনলে ফল ভালো হবেনা বলে দিলাম।”
তিতলির মনে হলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য
নিজের উপর থেকে ভারী শক্তিশালী কিছু সরে গেলো বুঝি? কিন্তু পরপর তা আবারও অনুভব করলো। কেন করছে এমন তার সাথে? সে-কি বড্ড বেশি ভুল করে ফেলেছে যে তাকে এভাবে চেপে মেরে ফেলতে চাইছে? কান্নামিশ্রিত গলায় বলল,

“আপনার জন্যই তো আমি অসহায় সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। আমি এখন অসহায়ের মতো ছটফট করছি আপনার শরীরের নিচে, এটাকে কি অসহায় বলেনা?”
তিতলির চিবুক ধরে ওর মাথার নিচে একহাত রেখে ফারাজ তিতলিকে বললো,তার চোখে চোখ রাখতে,তিতলি কথা শুনলো। চোখ রাখল। ফারাজ ওর চোখের মধ্যে চোখ রেখে একনাগাড়ে বললো,
“আমার শরীরের নিচে তোমাকে আরও বহুকিছুই সহ্য করতে হবে, তুমি যে জামাকাপড় গুলো এখন পরে আছো এগুলো কিছুই থাকবে না তখন, আমার শরীর দিয়ে ঢেকে থাকবে তুমি। সো… এগুলো যত দ্রুত পজিটিভলি নিবে, তত তাড়াতাড়ি তোমার কাছেও সবকিছু স্বাভাবিক মনে হবে।

তিতলি ফারাজের খোলামেলা কথায় বেশ লজ্জা পেয়েছে, ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ফারাজ ঠোঁট কামড়ে হাসল। তিতলি কিছু বলুক সেটার অপেক্ষা করছে যেমন। তিতলি লজ্জায় দুহাতের আঁজলায় মুখ ঢেকে বলে,
“এসব মোটেও স্বাভাবিক মনে হবে না, আমি মরে যাবো আপনার শরীরের নিচে। আপনার ওজন এত বেশি কেন?”
ফারাজ তিতলির নরম ঠোঁটে নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জণী আঙুল দিয়ে স্লাইড করছে। তিতলি অস্পষ্ট সুরে কথাটুকু বলে আবেশে চোখ বুঁজে রেখেছে। ঠোঁটদুটো দুভাগ হয়ে উপরনিচ ফাঁক হয়ে আছে তার। সেটা ফারাজকে আরও অস্থির,অধৈর্য করে তুলছে যেন। তিতলির কপালে কপাল ঠেকিয়ে হিসহিসিয়ে আওড়ালো,
“সামান্য ভার নিতে গিয়ে যদি এসব বলো, যখন অন্যকিছু করবো তখন আমার লোডগুলো নিবে কি করে? তাই এখন থেকেই এসব অভ্যাস করে নিলে তোমার জন্যই ভালো।”

কথাটা বলে ফারাজ তিতলির পরনের ফ্রকটা টেনেটুনে খোলার বৃথা চেষ্টা চালালো,বাধা দিয়ে তিতলি ফারাজের হাত খামছে ধরে। ফারাজ ইতিমধ্যেই জামা টেনেটুনে কিছুটা নামিয়ে দিয়েছে। ফর্সা মসৃণ কাধ হতে তুলতুলে নরম বুকের খাঁজ অবধি উন্মুক্ত হলো। যুবকের ঘোরলাগা চোখের দৃষ্টি অটল। তিতলি দুহাতে নিজের বুক ঢাকার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে। অজান্তেই র’ক্তাভ হয়ে ওঠে তার পেলব কপোল। মুখশ্রী ছাপিয়ে উষ্ণতা ছড়ায় সর্বাঙ্গে।
ফারাজ একহাত তিতলির বুকে রেখে সামান্য ঝুঁকে এসে ওর মুখের ওপর তপ্তশ্বাস ফেলে। ওমনি ঝ’লসে উঠে তিতলির মুখাবয়ব। বুঁজে নেয় নেত্রপল্লব। কানের কাছে বেজে উঠে পুরুষালি কন্ঠের মাদকীয় ঝঙ্কার,
“আমার বউ তুমি, আমার সম্পত্তি, আমার প্রপার্টি, তোমার সব আমার, সব দেখার অধিকার আমার, সবকিছু করার অধিকারও আমার আছে, আমার জিনিস আমার থেকেই ঢাকার চেষ্টা করছো? কেন?”
“আপনার জিনিস মানে?”

“তোমার সবকিছু আমার,রাইট নাও? আমার সবকিছু তোমার, ? এত কৈফিয়ত চাচ্ছো কোন স্পর্ধায় স্টুপিড?
তিতলি এবার শান্ত হয়ে গেলো। যেন সব ছটফটানি একমুহূর্তে থমকে গিয়েছে। ফারাজের সবকিছু তার। উঁহুহু, তারই তো। কারো ভাগ নেই শুধু তার ফারাজ তার। তাকে যদি একটু ভালোবাসে,এভাবে সুন্দর,সুন্দর কথা বলে, তাহলে সে সব কষ্ট সহ্য করে নিবে। একটুও ছটফট করবে না। এইযে এখন বলল আমার সবকিছু তোমার,, কথাটা শুনে বুকটা তুলতুলে ভালো লাগায় ভরে গেলো যেন। নিভুনিভু রাখা চোখদুটো পুরোপুরি খুলে ফারাজের চোখে চোখ রেখে আচমকা কাঁপাকাঁপা দুহাত তুলে রাখল ফারাজের ক্লিনসেভড করা দুগালে। কেমন অবুঝের মতো আদুরে গলায় ধীরলয়ে বলল,

“আপনার সবকিছু আমার?”
তিতলির উপর থেকে সামান্য ভার কমালো ফারাজ। জিভ ঠেলে অধর ভিজিয়ে নিজের গালে রাখা তিতলির একহাতের উপর নিজের হাত রেখে অন্যহাতে পরীধেয় শার্টের বোতামে হাত চালাতে চালাতে অস্পষ্ট মাতাল স্বরে জবাব দিলো,
“হুমম!”
তিতলি আবার মুখ ফসকে একই সুরে বলে উঠলো,
“আর আমার কি কি আপনার?”
“তোমার মাথা থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত সব আমার। শুধু কি, কি বলতে এমন কোনো ওয়ার্ড নেই তোমার মাঝে নেই ওকে?”
তিতলি নিশ্চুপ! নিরবে শুনে যাচ্ছে ফারাজের কথাগুলো। আমার প্রপার্টি আমার সম্পত্তি এসব কথাগুলো এখনো কানে বাজছে। মনেমনে ভাবে,
“এত কিছু আমি ওনার কিন্তু ভালোবাসি বলেনা কেন? আমি ভালোবাসি শুনতে চাই তবু কেন বলেনা?”
তিতলিকে একমনে কিছু ভাবতে দেখে ফারাজ তিতলির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
“এখন আমি যা করবো সব চোখ বুঁজে সহ্য করবে ওকে? ডিস্টার্ব করলে শাস্তি বাড়বে। তবে চাইলে আমাকে আরও উৎসাহিত করতে পারো।”
তিতলি চোখ বড়বড় করে বলল,
“কি..কি করবেন এখন?”

“রে’গে আছি ভীষণ। যতক্ষণ রাগ কমছে না ততক্ষণ আমার তোমাকে চাই, আই নিড ইউ্য!”
শুকনো ঢোক গিলে আর-ও কটা বাক্য আওড়াতে উদ্যোত তিতলি। কিন্তু তা আর হলো কই? তার আগেই দুটো অধর এসে আচানক মিলন ঘটলো তার নরম তুলতুলে ওষ্টপুটের সনে। গভীর,উন্মত্ত টানে চুষে নিচ্ছে তিতলির নরম ঠোঁটজোড়া। সহসা প্রস্তরখন্ডের ন্যায় জমে গেলো তিতলি। চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে নিয়েছে একপ্রকার। ফারাজকে আরও উৎসাহিত করার জন্য ফারাজের পিঠে নখের আছড় বসিয়ে দিয়েছে তিতলি। মুলত সে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসায় খামছে নখ বসিয়ে দিয়েছে, ওটা ফারাজকে আরও সিডিউস করে দিলো। তিতলির শরীরে বেপোরায়া গতিতে হাতের ছোঁয়া একে দিতে দিতে আচমকা তিতলির নিচের ঠোঁটে কামড় বসিয়ে টেনে ধরল ফারাজ। ঠোঁটের উপর দিয়েই যেন সব রাগ ঝাড়তে আরম্ভ করল। রমণীর তুলতুলে নরম ঠোঁট এক্ষুনি বুঝি ছিড়ে যাবে। কিংবা রক্ত বেরিয়ে আসবে আর তা সযত্নে,নির্বিঘ্নে লেহন করে নিবে ফারাজ। হলোও তাই সবকিছু চুষে নিয়ে পরপর ধীরলয়ে আদুরে গভীর চুমু একে দিয়ে তিতলিকে ছাড়ল বোধহয় মিনিট খানেক পর। ফারাজ একটু সরে তিতলির দুউরুর উপর এসে বসলো। একটু ছাড়া পেয়ে গলাকাটা মুরগীর মতো করে উঠল তিতলি। বড়বড় নিশ্বাস নিতে থাকল। শুয়া থেকে উঠার শক্তি নেই। বুঝল তার ঠোঁট আর ঠোঁটের জায়গায় নেই। অনেক সময় পর নিভুনিভু চোখে তাকাতেই দেখল ফারাজ প্যান্টের বেল্ট খুলে ফেলতেছে। তিতলির চোখ বড়বড় হয়ে গেলো। মনেমনে ভাবছে এই লোক প্যান্ট খুলে ফেলতে চাইছে কেন? কিন্তু বলতে চেয়েও পারছেনা। ধরে আসা গলায় কোনোরকমে বলল,

“না, না প্লিজজ!”
ফারাজ প্যান্ট খুলা রেখে তিতলির দিকে চেয়ে বিচলিত হয়ে উঠল। প্যান্টের বেল্ট খোলা রেখেই তিতলির মু্খের কাছে মুখ এনে বলল,
“কী হয়েছে?”
“না না, আমি এখনো…”
অর্ধেক কথা উচ্চারণ করেই থেমে গেল তিতলি। দুহাতে ভর দিয়ে বিছানা থেকে উঠার চেষ্টায় কুপোকাত। তাও পারছেনা। ফারাজ তিতলিকে থামিয়ে দিয়ে তিতলিকে ধরে আবার আলগোছে বালিশে শুয়ে দিয়ে বলে,
“সামান্য আদরে এমন অবস্থা হলে চলবে? আগেই বলছি আমি অল্পসল্প আদরে অভ্যস্ত নয়…”
তিতলি আবারও উঠার চেষ্টা করছে। ফারাজের
কন্ঠ আশ্চর্যভাবে খুবই নরম হলো যেন বিক্ষুদ্ধ সমুদ্রের ওপর এক পশলা মায়ার বৃষ্টি,
“উঠার প্রয়োজন নেই রেস্ট নাও। ”
কাঁপাকাঁপা গলায় তিতলি বলে উঠলো,
“আ–গে বলুন আপনি প্যান্ট খুলতে চাইছেন কেন?

জিভ ঠেলে অধর ভিজিয়ে নিলো ফারাজ। এক নজরে গোটা বউকে পরখ করল মাথা থেকে পা পর্যন্ত। কে জানি হঠাৎ কি হলো তার? কি এমন ঝড় বয়ে যাচ্ছে ভেতরে। সবকিছু জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন এখানে থাকল নিশ্চিত পেন্ডিং কাজটা সেরে বসবে। অতঃপর ফের প্যান্টের বেল্ট লাগাতে লাগাতে গম্ভীর কন্ঠে জবাব দিলো,
“পুরুষ মানুষ বউয়ের সামনে প্যান্ট কেন খুলে?”
তিতলি ভাবলো কথা বলতে গিয়ে এবারও বুঝি তার গলা কাঁপবে। কিন্তু অনেক চেষ্টায় গলা সরু রাখার টেকনিক করলো। পরপর ত্যাড়া উত্তর দিলো,
“এসব সম্পর্কে আপনি-ই বেশি ভালো জানেন আমিতো আর পুরুষ না।”
“ওকে ফাইন, আমিতো পুরুষ তাই বউকে একটু শিখানোর, বোঝানোর দায়িত্ব আছে না? তাহলে বুঝো আমি কেন প্যান্ট খুলতে চেয়েছি? নিশ্চয় তোমার সাথে এখন…. ”

“”না না আমি চাইনা এখন!”
কথাটুকু বলে তিতলি ভয়ে, লজ্জায়, ব্যথায় পারছেনা খাটের নিচে ঢুকে যেতে। তারই ভুল হয়ছে কথা বলা। বালিশ একটা নিয়ে ফারাজের দিকে ছুড়ে মারল। বালিশ ফারাজ হাতে কেচ করে ধরেছে। তিতলি শুকনো ঢোক গিলে কিছু বলতে নিলে তখন ফারাজের আশ্বস্তজনক কথা ভেসে এলো,
“নো রিজন, এত ভয়, লজ্জা পাওয়ার কোনো কারণ নেই, আরও কিছুদিন সময় আছে তোমার কাছে।”
তিতলি নিশ্চুপ। ভাবছে আরো কিছুদিন পর কি হবে? কি হতে পারে? ফারাজ ওয়াশরুমে যাবে এখন। যাওয়ার আগে তিতলিকে হুশিয়ারি দিয়ে বলল,
“এখন যা হয়েছে সব তোমার কর্মের ফল। নেক্সট টাইম আমার কথার অবাধ্য হওয়ার আগে এই চুমুর কথা মনে রাখবে ওকে?”
“এটা চুমু না? আপনি আমাকে… আমাকে…আমার ঠোঁট…”
তিতলি অর্ধেক বলে ঠোঁটে হাত দিয়ে দেখল ঠোঁট ফুলে কলাগাছ। ফারাজের ভেজা ঠোঁটের স্পর্শ এখনো লেগে আছে ঠোঁটে। ফারাজের দিকে তাকিয়ে দেখল ওয়াশরুমে যাচ্ছে। তার নখের আছড়ে ফারাজের শক্তপোক্ত মাংসগড়া পিঠে রক্তজমাট বেঁধেছে কয়েক দজায়গায়। ভালোই হয়ছে সুদে আসলে বরাবর। একহাতে নিজের জামাটা ঠিক করে বিছানায় শুয়ে থাকল। পুরো শরীরে কোনো জোর নেই তার। তাকে কি করবে কিছুদিন পর সে চিন্তায় এখনই মরিমরি অবস্থা বেচারির।

রাতে ফারাজ জানাল সে কালই তিতলিকে নিয়ে ঢাকা ফিরে যাবে। কিন্তু হুশিয়ার সাহেব ও ছকিনা খাতুন তাতে বাঁধা দিয়ে দাঁড়িয়ে, যাতে আরও একদিন থেকে সবার সাথে যায়। মেজবান শেষে বিকেলেই প্রায় সবাই চলে গিয়েছেন। শুধু হুশিয়ার সাহেবের নিকটাত্মীয়রা রয়ে গেছেন।
এখন হুশিয়ার সাহেবের বাড়ি পরিবেশ অনেকটা শান্ত।
জনির মা’বারা ঝগড়া করে চলে গিয়েছেন একপ্রকার। জনির নাকের ডগায় ব্যান্ডেজ করা লেগেছে। ওনারা ঝগড়া করে সেই হাসপাতাল থেকেই বাড়িতে চলে গিয়েছেন।
নাছিমা বেগম তিতলির জন্য একটা ফন্দি খুঁজে মুখ ধুয়ার পানিতে বিষাক্ত জাতীয় মেডিসিন মিশিয়ে দিয়েছেন একটু আগে। ওই পানি ফারাজ সন্ধ্যায় তিতলির জন্য বালতিতে রেখেছিল। নাছিমা বেগমও সুযোগটা কাজে লাগালেন। যাতে এই পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে তিতলির মুখের সৌন্দর্য চলে যায়। তখন ফারাজ নিজের ইচ্ছেতেই ডিভোর্স দিয়ে দিবে।
হুশিয়ার সাহেব ভাত খেতে বসে মেয়ে নাছিমা কে অতিরিক্ত খুশিখুশি দেখলেন। তিনি মেয়ে দুজনকে ভালোবাসেন। আম্মা ছাড়া কথা বলেন না।
ভাত খেতে খেতে বললেন,

” এত খুশিখুশি লাইগতেছে ক্যান আম্মা?”
নাছিমা বেগম হেসে বললেন,
“তরকারি অনেক স্বাদ হয়ছে আব্বা।”
“আইচ্ছা খাও।”
ফারিন বেগম সহ সবাই ভাত খাচ্ছেন নিজেদের মতো। নাছিমা বেগম তাড়াহোড়ো করতে গিয়ে কীভাবে যেন চোখে তরকারির ঝুল পড়েছে। তরকারিটা অনেক ঝাল তাই নাছিমা বেগমের চোখ অতিরিক্ত জ্বলছে। তিনি চোখ ঢলছেন প্রথমে। ফারিন বেগম একপাশ থেকে বললেন,
“কীরে কি হয়ছে?”
“চোখ জ্বলে ছায় হয়ে যাচ্ছে রে। সর সর সামনে থেকে চোখে তরকারির ঝুল পড়েছে।”
নাছিমা বেগম দৌড়ে কলপাড়ের দিকে গেলেন।
সবাই ভাত খাওয়া ছেড়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকলেন। কেউকেউ উঠে গেলেন সেদিকে।
“মাইয়াডার কিযে অইলো। এহনও তো কইলো তরকারি স্বাদ হয়ছে এহন আবার চোখে তরকারির ঝুল পড়তে গেলো।”

কথাটা বলে ছকিনা খাতুন লাঠির ভর দিয়ে গেলেন সেখানে।
নাছিমা বেগম সব ভুলে কল না চিপে আগেভাগে নিজে গুলিয়ে রাখা বালতির পানি দিয়েই চোখে পানি দিতে শুরু করেছেন। সাথে মুখও ধুয়া হয়ে গেলো। প্রথমে কিছু না হলো না, বুঝাও গেলো না। শুধু মুখ চুলকে লাল হতে শুরু করেছে। নাছিমা বেগম সব ভুলে গিয়েছেন। ভাত খাওয়া রেখেই রুমে শুতে চলে গেছেন।
প্রায় তার পরপরই ফারাজ বাইর থেকে আসলো। ফারিন বেগম পুত্রবধুর জন্য সহ ছেলের জন্য প্লেটে ভাত বেড়ে দিয়ে বললেন,
“তিতলিকে ডাকলাম ভাত খেতে আসেনি। নিয়ে গিয়ে খাইয়ে দে মেয়েটার কি হয়ছে কে জানে। দুপুরের ঘটনাটার পর থেকে আর রুম থেকে বের হয়নি।”
ফারাজ হাতে প্লেট নিয়ে ছোট করে উত্তর দিলো,
“ওহ!”
যেতে যেতে মনে মনে তিতলির কথা ভাবতে ভাবতে বাঁকা কন্ঠে আওড়ায়,
“রুম থেকে বের হবে কী করে? আমার কথার অবাধ্য হওয়ার ফল এখনো মনে রেখেছে যে।”
ফারাজ ভাত নিয়ে রুমে আসলো। তিতলি ঘুমিয়ে আছে ওল্টো পিঠ হয়ে। ফারাজ টেবিলে ভাত রেখে তিতলিকে ডাকতে আসলো। অজান্তেই দুষ্টুমি খেলা করছে তার সুদর্শন মুখখানায়। ফারাজ তিতলির মুখের একদম কাছে মুখ নিদারুন সুরে ডাকল,

” বউ!”
নাহ! কোনো সাড়শব্দ এলো না। ফারাজকে ধৈর্যবান দেখাল এবার। তিতলিকে আবার ডাকল এবার। এবারও কোনো শব্দ এলো না। আরো কয়েকবার ডাকল। ফারাজ এবার অধৈর্য হয়ে গেল যেমন। তক্ষুনি তিতলির পৃষ্টদেশের স্পর্শকতার অঙ্গদুটোতে শক্তপোক্ত হাতের তালুর ঝাঁঝাল স্পর্শে পরপর দুইটা থাপ্পড় বসালো। ওমনি তীব্র ব্যথায় বিকৃত হলো রমণীর ঘুমন্ত মুখখানা। কুঁচকে গেল নাক-মুখ! তক্ষুনি দু’হাতে নিজ পৃষ্ঠদেশের ত্বকে হাত ডলতে ডলতে, ঘুমের মাঝেই নড়চড়ে বলে,
“উফফ, এমন করছেন কেন?”
ফারাজের জবাব এলো সাথেসাথেই,
“আমি ডাকছি কখন থেকে।”
তিতলির হুড়মুড়িয়ে শুয়া থেকে উঠে বসল। পেট ডাকছে খিদায়। এতক্ষণ ঘুমানোর ফলে খিদের কথা মনে ছিলোনা। এখন খিদে পেয়েছে যেহেতু তাহলে আর ঘুম ভালো হবেনা। উঠেই ঘুমঘুম চোখে ফারাজর দিকে তাকিয়ে বলে বসল,
“এভাবে ওখানে মারলেন কেন?”
“মারার পরই তো কাজ হলো।”
“আমার খিদে পেয়েছে। ”
ফারাজ ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
“তো খাও। আমি তো নিষেধ করিনি।”

তিতলি খিদের জ্বালায় পেটে হাত দিয়ে বসে আছে। দুপুরেও বাবুর্চিদের রান্না তেমন একটা খেতে পারেনি। অর্ধেক খেয়েছে শুধু। ফারাজ যে ভাত এনে টেবিলে রেখেছে এটা এখনো তার চোখে পড়েনি। এখন মনে হয় যা দিবে তাই খেয়ে ফেলবে। তেমন ভঙ্গিতে বলল,
“কি খাবো তাড়াতাড়ি দেন।”
ঠোঁট কামড়ে ক্ষীণ নাচাতে নাচাতে ফারাজ তিতলির কথার প্রত্যুত্তরে মৃদুস্বরে বলে,
“আমাকে খাবে।”
তরাগ চোখ তুলে চাইলো তিতলি। ঘুমঘুম দৃষ্টি উবে গেলো মুহূর্তেই। মুখাবয়বে হতভম্বতার রেশ ধরে আওড়াল,
“আপনার কি খেতে পারি ?”
ফারাজ তিতলির মুখের আশেপাশে চলে আসা এলোমেলো চুলগুলো কানের পিঠে গুঁজে দিতে দিতে উত্তর দিলো একেবারে নিজের ঢঙে,
“তোমার একটু পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এখন তুমি ভাবো আমার কি খেতে পারলে তোমার শরীরে পুষ্টি বাড়বে?”

“আমি বলিনি যে আপনাকে খাবো, আপনি নিজেই তো বলছেন, আমাকে খাবে। তাই আমিও বলছি আপনার কি খেতে পারি। কথা পেঁচাবেন না একদম।”
“আমি আমাকে খাবে সেটা বলছি,রাইট? আমিতো বলিনি যে তুমি আমার এটা খাও ওটা খাও। তুমি নিজেই তো কি খেতে পারি সেটা মিন করেছো তাইনা?”
ফারাজের কথার পিঠে তিতলি আর কিছু বলতে পারল না। তার আগেই বুঝা উচিত ছিলো যে এই লোককে একটা কথা বললে সে কথাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে দশটা কথা বানাবে। তারপর তাকে সে কথায় ভুলিয়ে বালিয়ে সে কথার সাথে গুলিয়ে ফেলবে।
“আপনার সাথে কথার জবাব দেওয়াটাই ভুল হয়ছে।”
“দুপুরের কথা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে?গলার জোর বেড়ে গেছে মনে হচ্ছে?”
“অনেক মনে আছে এইযে দেখুন আমি একদম ভালো হয়ে গিয়েছি আপনার কথামতো রুম থেকে বের হয়নি।”
“হুমম! গুডগার্ল! এবার আমার কি খাবে সেটা ডিসাইড করো, আ’ম ওয়াটিং!”

ফারাজ তিতলিকে একটু জ্বালানোর জন্য যাতা কথা বলা শুরু করে দিয়েছে। এবার কথাটা বলে উঠে টেবিল থেকে ভাত এনে তিতলিকে খাইয়ে দিতে শুরু করল আর কথা না বলে। তিতলিও চুপচাপ বাধ্য মেয়ের মতো খেয়ে নিলো। সাথেসাথে ফারাজও খেয়ে নিলো। রাতে তিতলি ঘুমিয়ে যাওয়ার পর ফারাজ তিতলিকে টেনে আনলো বুকে। তিতলি রাতে ঘুমের মাঝে খাট থেকে পড়ে যাওয়ার অভ্যাস আছে। বিয়ের প্রথম প্রথম কতদিন যে তিতলি খাট থেকে বিছানা মুড়িয়ে নিচে পড়ে ঘুমিয়ে ছিলো। কি সুন্দর করে নিচেও ঘুমিয়ে ও থাকতো।

পরেরদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই নাছিমা বেগম বিলাপ করা শুরু করেছেন। আয়নায় নিজেকে দেখে চিনতে পারছেন না তিনি। মুখে বড়বড় ব্রণের মতো উঠেছে। এ-কি অবস্থা। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে সবাই নাছিমা বেগমের রুমে চলে এসেছেন।
ফারিন বেগম মুখে হাত দিয়ে বোনকে বললেন,
“তোর মুখে এসব কি উঠেছে নাছিমা?”
নাছিমা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
“সকালে উঠে দেখি এসব। আমি কিছু জানিনা কিছু জানিনা রে।”
বাড়ির সবাই এসেছেন নাছিমা বেগমকে দেখতে।
ছকিনা খাতুন মেয়ের মুখ দেখলেন। বুড়ো হয়ে গেলেও চোখের দৃষ্টি ভালোই। নাছিমা বেগমের গায়ের রঙ একটু চাপা। যুবতি বয়সে কত ফর্সা হওয়ার ক্রিম মাখতেন। ছকিনা খাতুন সে কথা মনে করেই মেয়েকে বললেন,
“মুখে কি মাইখছিস নাছু? সাদা হইবার ক্রিম মাইখছিস না তো? সত্যি কইরা ক? ওই ডাক্তার ডাক তোরা। ”
হুশিয়ার সাহেব বললেন,

“হাশেম,কাশেম ডাক্তারের ধরে ফোন দে।”
নাছিমা বেগমের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছেনা। রোহান মায়ের এঅবস্থা শুনে বাইর থেকে এসেছে। এ কাজে সেও সামিল ছিলো। জিনিসগুলো সেই মাকে এনে দিয়েছে। বেশ বুঝে গেলো তার মা নিজে মুখ ধুয়েছে। এখন তিতলির উপর আরও বেশি ক্ষোভ জমলো। ওই মেয়েটার জন্য তার মায়ের এ অবস্থা। নীলাও রোহান মাকে ধরে বলল,
“এসব কি করে হলো আম্মু?”
নাছিমা বেগম নিজের ভুল বুঝে গেলেন। নিজের গুলিয়ে রাখা পানিতে যে নিজেই মুখ ধুয়ে ফেলেছেন সেটা সবার সামনে ছেলে-মেয়েদের কীভাবে বলবেন। দুঃখের সহিত বললেন,
“কীভাবে হলো জানি নারে। সকালে উঠে আয়না দেখার পর দেখি এ অবস্থা।”
নাছিমা বেগমকে নিয়ে হাসপাতলে যাওয়া হবে। ডাক্তার আসলে হবেনা। মুখের অবস্থা শুধু খারাপ হচ্ছে। এ অবস্থায় হাসপাতলে গিয়ে পরিক্ষা নিরিক্ষা করে চিকিৎসা করতে হবে।

তিতলি বিছানা থেকে উঠে বাইরে কি হয়ছে সেটা দেখার জন্য আসতে চাইছে। কিন্তু ফারাজ তিতলিকে আসতে দিচ্ছে না কিছুতেই। যখনই বিছানা থেকে নামতে চাই তখনি টেনে নিজের আবার পাশে শুইয়ে দিচ্ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হলোনা। তবে এবার আর পাশে শুয়ালো না বিছানা থেকে নামতে গেলে ফারাজ তিতলিকে টেনে আনলো। নিজে সোজা হয়ে শুয়ে তিতলিকে নিজের গায়ের উপর স্রেফ পেটের উপর এনে বসিয়ে বলল,
“আমি এখনো উঠেনি তাই তুমিও উঠবেনা। আর একবার যেন উঠার চেষ্টা না করো হুম।”
“বাইরে কি হয়ছে সবাই চিল্লাচিল্লি করছে শুনছেন?নাকি কানে তুলো দিয়ে রেখেছেন? ছাড়ুন।”
তিতলি কথাটি বলে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ফারাজের পেটের উপর থেকেই নড়চড়া করেই যাচ্ছে। তাতে যদি ফারাজ বিরক্ত হয়ে ছেড়ে দেয়। কিন্তু হলো উল্টো। বাঁকা হাসল ফারাজ। জিভ ভিজিয়ে তিতলির পানে দৃষ্টি রেখে দুষ্টুমির প্রলেপ লেপে আওড়ালো,
“বাইরে সবাই চিল্লাচিল্লি করছে করুক। কিন্তু এখন তুমি চিল্লাচিল্লি করবে রুমের ভেতরে?”
“মা..মানে? আমি চিল্লাবো কেন?”
“আমি নেগেটিভ ফিল করছি।”
“কিন্তু কেন?”
ফারাজ তিতলির দুপা ধরল নিজের দুপাশে।

“তো মিসেস তিতলি? তুমি আমার কিসের উপর বসে আছো সেটা খেয়াল করেছো? কিছু টের.”
তিতলি ফারাজকে সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে না দিয়ে পাশ থেকে বালিশ নিয়ে ফারাজের মুখের উপর চেপে ধরল। লজ্জায় মুখ কুঁচকায় সে। অথচ সে এমন কিছু ভাবেওনি। তক্ষুনি ঝড়ের গতিতে উঠতে চাই। কিন্তু ফারাজ তিতলির পা দুটো দুপাশ থেকে শক্ত করে চেপে রাখায় তিতলি উঠতে পারে না নড়তে ও পারেনা। বলিষ্ঠ পুরুষের শক্তপোক্ত হাতের রুষ্ট বাঁধন হতে, নিজেকে ছাড়ানোর বৃথা প্রয়াসে মত্ত থেকে পরপরই ঝাঁঝিয়ে শুধালো,
“অসভ্য লোক। আপনি নিজেই তো টেনে এনে বসিয়েছেন আমি নিজে বসিনি! এখনও তো ধরে রেখেছেন?”
ফারাজ তিতলিকে নিজের সাথে প্রখরভাবে অনুভব করল। তিতলিকে আরো জ্বালিয়ে লজ্জার সাগরে ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য পাতলা অধর নেড়েচেড়ে বলে,

“স্টাইল টা কিন্তু খারাপ না।”
“মা..মানে কিসের স্টাইল?”
“আসো করিয়ে দেখায় তারপর বুঝবা।”
ফারাজের কথার মানে খুব বুঝতে পেরে তলপেটে মোচড় দিয়ে উঠল লাজুকময়ী মেয়েটার। লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া মেয়েটা জোরে মুষ্টি বসাল ফারাজের বুকে। বালিশটা আবারও ফারাজের লাগামছাড়া মুখের উপর চেপে ধরে বলল,
“সকাল সকাল শুরু হয়ে গিয়েছে আপনার অসভ্যতামি। কি করিয়ে দেখাতে চাচ্ছেন আপনি?”
“এসব বিষয়ে মুখে বলে বোঝানো যাবেনা। আইমিন, আমি জানি আমি যা বলছি তুমিও তা বুঝেছো তাই বুঝেও না বোঝার ভান ধরে থাকলে আই সোয়ার, আমি প্যাকটিক্যালি ভাবে বোঝানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। মাইন্ড ইট!”
ফারাজের কথা শেষ হতে না হতেই মোবাইল বেজে উঠল পরপর। ফারাজ বিরক্ত হলো বটে এসময়ে কারো ফোন আসায়। কার এত দরদ উতলে পড়ছে বউকে একটু ধরেছে সবে। ফারাজ কল রিসিভ করছে না দেখে তিতলি মোবাইল নিলো বালিশের পাশ থেকে। রিসিভ করে নিজেনিজে আগেভাগে বললো,

“হ্যালো আপনি যাকে কল করেছেন সে বাতরুমে…”
“ভাবি এখনো ঘুম থেকে উঠেন নাই ?”
মোবাইলের ভলিউম একটু বাড়ানো ছিলো তাই ফারাজ শুনতে পেলো। মোবাইল নিয়ে নিলো তিতলির হাত থেকে। অতঃপর কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“আমি একবারও বলছি ফোন রিসিভ করো?”
ওপাশ থেকে আলভী অর্ধৈর্য হয়ে বলল,
“হ্যালো ভাবি কথা বলেন। আপনার সাথেই কথা বলি তাহলে।”
ফারাজ ভ্রু কুঁচকে সন্দেহের গলায় বলল,
“যা বলার আমাকে বল। আমার বউয়ের সাথে তোর কিসের কথা?”
ওপাশ থেকে আলভী মনে হয় হো হো করে হেসে দিলো। হাসির ঠেলায় কথা বলতে পারছে না,
“বিয়ে করবো না আমি, করবো না বিয়ে, একথাটা বলা মানুষ টা কি তুই। এখন দেখি কথায় কথায় আমার বউ ছাড়া কথাও বলিস না দেখছি। আসলেই ভাবির কাছে এক্সর্টা ফাওয়ার আছে।”

“কি বলতে চাচ্ছিস সোজা সেটা বল।”
“আমরা সবাই আজকে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছি। চাচ্চু বললো কালকে নাকি চলে যাবে। তাই আজকে ঘুরাঘুরি করার কথা ভেবেছি।”
“তো কর ঘুরাঘুরি।”
“তুইও যাবি সাথে ভাবিও।”
তিতলি আলভী কি বলে সেটা শোনার জন্য ফারাজের বুকের উপর কিছুটা উপুড় হয়ে ঝুঁকে এসে মোবাইলের কাছে মুখ এনে কানখাড়া করে রেখেছিল। আলভীর কথা শুনে চোখমুখ উজ্জল হয়ে গেলো। ফারাজ কিছু বলার আগেই সে জবাব দিলো,

“অবশ্যই ভাইয়া। আমিও যাবো আপনাদের সাথে। কখন যাবেন একটু বলেন রেডি হতে হবে তো…”
ফারাজ কল কেটে দিলো। তিতলি তাকাতেই তিতলিকে চোখ রাঙালো। তিতলি মুখশ্রী অন্ধকার করে নেয়। মুখ ফুলিয়ে ফারাজের বুকে চিমটি কাটে। খামছে ধরে শক্তপোক্ত প্রশস্ত বুক। অভিমানি কন্ঠে বলে,
“আচ্ছা আপনি আমাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যান না কেন? আমি সবখানে ঘুরতে চাই অথচ আপনি এখনও পর্যন্ত কখনও আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাননি। আমি কি সত্যি আর কোথাও ঘুরতে পারব না?”
তিতলির কথায় ফারাজের মাঝে কোনো রকম ভাবান্তর দেখা গেলো না। প্রশ্নের জবাব দিবে তো দূরের বিষয়! সে খুব মনেযোগ দিয়ে শুনলো তিতলির কথা। তিতলি এবার অতিষ্ট, অধৈর্য হয়ে পড়ল। ফারাজের ক্লিনসেভড করার পর সদ্য উঠা খোঁচা খোঁচা দাড়িতে আদুরে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আবদারের সুরে তিতলি বললো,
“ঘুরতে নিয়ে যাবেন প্লিজ!”

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৪

তিতলি ভেবে রেখেছে ফারাজ আকাশ ফাটিয়ে ধমক দিবে৷ নাহলে বলবে, আমার কথা না শোনার ফল কি হবে জানো তো? ঘুরতে গিয়ে কি করবে? বা তাকে পাত্তাই দিবেনা৷ কিন্তু ফারাজ কি আর তার বউয়ের ওমন আদুরে আবদার ফেলে দিতে পারে? আজ তাকে ভড়কে দিতে ফারাজ বলল,
“নিয়ে যাবো।”

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৬