Home রাগে অনুরাগে রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৪ (২)

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৪ (২)

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৪ (২)
সুহাসিনি ফাতেহা

তিতলি ফারাজের খুঁজে রোহানের দেখিয়ে দেওয়া পথে পা বাড়াতে গেলে ঝিলিক পেছন থেকে তিতলির হাত টেনে ধরে চিন্তিত কন্ঠে বলল,
—“কথাটা কতটুকু সত্যি তা সঠিক ভাবে যাচাই না করে তোমার কি ওইদিকে যাওয়া ঠিক হবে তিতলি?”
তিতলি পেছন ফিরে আড়চোখে নীলার দিকে তাকিয়ে দেখল নীলা এখনো জুস খাচ্ছে দিব্যি। তিতলি ঝিলিককে ব্যাগ্র কন্ঠে বলল,
“একবার দেখে আসি ঝিলিক আপু সত্যি হয়তো ডাকছেন।”
তিতলির কথা শেষ হতে না হতেই নীলা গ্লাসের সবটুকু জুস খেয়ে মুখ থেকে ধীরলয়ে নামিয়ে তৃপ্তি সমেত বলে উঠলো,

“সত্যি জুসটা দারুন ছিলো ভাবি। না খেলে তো বুঝতেই পারতাম না। এবার ফারাজ ভাইয়া কেন ডাকছে দেখে আসো গিয়ে।”
“যাচ্ছি!”
ঝিলিক পাশ থেকে তিতলির কথা শুনে তিতলিকে থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টার উর্ধ্বে গিয়ে বলল,
“ফারাজ ভাইয়া তো তোমায় রুমে ছাড়া বাড়ির বাইরে ডাকবে না। তুমি আগে কল দাও।”
“আমার মোবাইল নেই!”
“দাঁড়াও আমি দিচ্ছি।”
ঝিলিক মোবাইলের লক খুলে ফারাজের নাম্বারে কল দিলো। রিং হয়েই কেটে গেল। তিতলি প্রশ্নসূচক চাহনি নিয়ে তাকাতেই ঝিলিক ধৈর্য ধরে বলল,
“ধরছে না। দাড়াও আবার দিয়ে দেখি।”
তিতলি পুনরায় কল দেওয়ার অপেক্ষা করল না আর। হাঁটা ধরল সামনে। এমনিতে ফারাজকে দেখছে না যদি ওদিকে গিয়ে একটু দেখে। ফারাজ ডাকছে শুনে কেন যেন বিশ্বাস না করতেও করে নিচ্ছে সপ্তদশীর অবুঝ মন। তার চোখদুটো ফারাজকেই খুঁজছিল এখন তাকে ডাকছে শুনে সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।

তিতলি বাড়ির সদর দরজার পেরিয়ে গিয়ে রোহানের দেখিয়ে দেওয়া বাড়ির পেছনের
বাগানে এসে দাঁড়িয়েছে। এদিক ওদিক তাকায় কিন্তু কোথায়ও ফারাজের চিহ্ন-ই দেখল না। এদিকে মানুষজন একটু কমই বলা যায়। কর্ণারের একপাশে রোহানও সাথে কিছু ছেলেদের দেখতে পেলো। কারো চোখের দৃষ্টি স্বাভাবিক না। যেমন তিতলিকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে। শুধু
তা-ই নয় ওদের এগিয়ে আসতে দেখা গেল তিতলির দিকে। তিতলি দেখল আরেকটা ছেলেও এখানে হাটাহাটি করছে। ভালোর ভালোই বাড়ির ভেতরে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই হঠাৎ হাতের তুলতুলে কব্জিতে টান পড়ল।
তিতলি ভয় পেয়ে গেলো যেমন। ত্রস্ত পাজোড়া থামিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই জনি একহাতে মাথা চুলকে বলে উঠলো,

“আরে তুমি? আমি তোমাকেই খুঁজছিলাম একটু কথা বলা যাবে?”
তিতলি নিজের হাত ছাড়াতে চেয়ে ছেলেটার দিকে তাকালো। মনে পড়লো ওইসময় ড্রয়িংরুমে দেখেছে। কিন্তু হঠাৎ তার হাত ধরায় তিতলি ভয় পেয়ে গেলো। ভয়ার্ত চোখে চারদিকে একবার নজর বুলিয়ে দেখল। রোহানের ছেলেপেলেরা ছাড়া এদিকে চেনাজানা কেউ নেই। ভয় পাওয়ার-ই কথা।
হাতে ঝাড়ি দিয়ে বলল,
“কে আপনি? আমার হাত ধরেছেন কেন?”
জনি বাঁকা হেসে তিতলির হাত আরো কাছে টেনে নিতে চেয়ে মনেমনে বলে,
“ওয়াও কি নরম হাত। বাকিসব কিছু তো মনে হয় ইসস্… ”
জনি আর ভাবতে পারছে না। তিতলিকে মুচকি হেসে বলল,
“আগে পরিচিত হয়ে নিই। তারপর আমি কে জানতে পারবে। আগে বলো তোমার নাম কি?”
“আমার নাম জেনে আপনার কাজ কি?”
“অনেক কাজ। কাজ না থাকলে কি আর জিজ্ঞেস করি?”
“মানে?”

“তুমি অনেক সুন্দর নামটাও মনে হয় তোমার মতোই মিষ্টি হবে।”
“হাত ছাড়ুন! মেয়ে মানুষ দেখলে মাথা ঠিক থাকে না আপনাদের?”
“আগে আমার কথাটা তো শুনে যাও। আমি তেমন কোনো মতলব নিয়ে আসিনি। শুধু আমার মনের কথাগুলো শুনো।”
“ভালো হবে না বলে দিলাম। আমাকে যেতে দিন!”
জনি তিতলির কথা পাত্তা না দিয়ে সুযোগ বুঝে তিতলির হাত নিজের দিকে টানতে টানতে নিজের মনের সাজানো গুছানো কথা বলতে শুরু করল,
“তোমাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। প্রথম দেখাতেই অনেক ভালোবেসে পেলেছি। তোমার মতো একজন মিষ্টি মেয়েকেই খুঁজছিলাম এতদিন। ভাবিনি এখানে আসলেই তোমার মতো সুন্দরীর দেখা পাবো। আম্মুকে বিয়ের প্রস্তাব …”
রোহান সহ রোহানের ছেলাপেলারা সবাই পথিমধ্যে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। তাদের কাজে বাধা দিয়ে আবার এই জনি কোথায় থেকে টপকে আসলো। কত সুন্দর করে ভালোবাসা প্রকাশ করছে।
রোহানের পাশ থেকে একজন বলে উঠলো,
“পাগল মনে হয় জানেনা এই মেয়েটা যে বিবাহিত। জানলে জেনেবুঝে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে আসতো না। এখনই মেয়েটাকে ভুলিয়ে বালিয়ে ওদিকে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞান করার কথা দূর।”
রোহান বলল,

“দাঁড়া গিয়ে দেখছি…”
রোহানের কথা পথিমধ্যে থেমে গেলো। হঠাৎ কিছু একটা দেখে ওদের সবকয়টার মুখ ভয়ার্ত হয়ে গেল যেমন। যেন কিছুই জানেনা এমন ভঙ্গিতে ধীরলয়ে দূরে সরে গেলো ওরা।
জনি কিছু বুঝে উঠার আগেই সহসা নিজের চিমচাম গরনের হাতে বলিষ্ঠ হাতের শক্তপোক্ত একটা থাবা খেয়ে বসল। এতটাই জোরে ছিলো যে জনি কিছুটা দূরে ছিটকে পড়েছে। হাত যেন ভেঙে গিয়েছে বেচারা জনির। তাও রাগ দেখিয়ে সামনের আগন্তুককে বলল,
“তুই আমাদের মাঝে ঢুকলি কেন ফারাজ? একটু ঠিকমতো প্রেম করতে…”

জনির কথা শেষ হতে দিলো না তার আগেই বুকে আরেকটা ধাক্কা বসাল ফারাজ। দূরে যাওয়ার আগে একহাতে জনির শার্টের কলার টেনে ধরে অন্যহাতে তিতলিকে বগলদাবা করে নিলো ফারাজ। ভয়ে তটস্থ মানবীর তখন জান যায় যায় অবস্থা। কোনোভাবে ফারাজের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। রাগের জেরে সুদর্শন মুখখানা কেমন অচেনা লাগছে। অগ্নিদৃষ্টি যুগল একযোগে নিক্ষিপ্ত করল ভয়ার্ত মানবীর পানে। ক্রোধে ফুঁসছে চোখা নাক। তিতলি তাকাতে পারলো না সে আগুনমাখা দৃষ্টিতে। সপ্তদশী স্পষ্ট টের পেলো তার বুক কাঁপছে। এক অজানা, শঙ্কায় আঁতঙ্কে হুট করেই তার অস্থিরতা বাড়ছে। সুকোমল রাজহংসীয় ন্যায় সুদীর্ঘ কন্ঠায় খরা নেমেছে তার। বারেবারে গিলছে শুকনো ঢোক। মনেমনে আওড়াচ্ছে,

“আল্লাহ আজকে তো মনে হয় আমাকে মেরে ফেলবে। নিজের মৃত্যু নিজে ডেকে এনেছি! শেষ আজ আমি শেষ! আল্লাহ একটু রক্ষা করুন!”
দৃষ্টিযুগলে একপ্রকার অদৃশ্য আগুন লেপ্টে ফারাজ তক্ষুনি নিজ বলিষ্ঠ হাতের আক্রমন বসালো রমণীর কোমল চোয়ালখানায়। ঘটনাপ্রবাহে তিতলি ভড়কে গেলো। চোখের দৃষ্টি নত হয়ে গেলো। ফারাজের চোখের অগ্নিদৃষ্টি যেন বলে দিলো,
“তোমাকে পরে রুমে গিয়ে দেখছি। খুব শখ না বাড়ির বাইরে আসার। আজকে শখ মেটাবো না? আগে তোকে ভালোবাসি বলা দুঃসাহসী জনিকে খতম করি তারপর তোকে।”
ফারাজ চোয়াল থেকে হাতখানা সরালো না,যেন ছুড়ল সজোরে। রুষ্ট,ক্ষুব্দ চাহনি নিক্ষেপ করে তিতলির থেকে নজর সরিয়ে জনির দিকে তাকালো। জনি নিজের কলার থেকে ফারাজের হাত ছাড়িয়ে কিছু বলতে নিলে ফারাজ তিতলিকে নিজের সাথে আরো পিষে ফেলে জনিকে আবারও ধাক্কা মেরে জনির দিকে তেড়ে গিয়ে বলল,

“তুই ওর হাত ধরেছিস কোন সাহসে? তোদের মাঝে আমি হাত ঢুকিয়েছি? বল আমি হাত ঢুকিয়েছি? তুই জানিস তুই কার জানের দিকে হাত বাড়িয়েছিস?”
“আমি হাত বাড়িয়েছি তাতে তোর কি? তুই না বিয়ে করেছিস? বউকে তো দেখালি-ই না। বউয়ের কাছে না গিয়ে কাজিনের সাথে ঢলাঢলি করছিস কেন?”
ফারাজের রাগে যেন ঘি ঢালার মতো কাজ করল জনির কথাটা। ব্লেডের ন্যায় তীক্ষ্ণ হলো দৃঢ় চেয়ালের রেখা। দাঁত কপাটি বোধহয় একে অপরের সনে রুষ্ট চাপায় মত্ত। তার বউকে বলছে তার কাজিন? কাজিনের সাথে ঢলাঢলি করছে সে? এসব শুনলে মাথা ঠিক থাকার কথাও নয়।
কেমন কটমট শব্দ তুলে বাজখাঁই কন্ঠে আওয়াজ তুলে ফারাজ বলে উঠলো,
“সি ইজ মাই ওয়াইফ! আমার বউয়ের সাথে আমি ঢলাঢলি করবো না তো তোর সাথে করবো বেয়াদবের বাচ্চা? কাছে আয় দেখি ঠিক কোন জায়গায় সাহস নিয়ে তুই আমার বউয়ের দিকে হাত বাড়িয়েছিস? জানে ভয় নেই? মরতে চাস আমার হাতে?”

” তোর ওয়াইফ মানে? ওর সাথে আমার বিয়ের কথা বলা হয়েছে। এতক্ষণে আম্মু মনে হয় বলেও ফেলেছে। সবাই রাজী হলে আমরা এখান থেকে যাওয়ার আগেই আকদ করে…”
ফারাজের রাগ এবার বোধহয় আকাশসম হলো। তক্ষুনি বলিষ্ঠ হাতের এক ঘুষি বসাল জনির নাক বরাবর। রাগে হিতাহিত অজ্ঞ হয়ে পড়ল ফারাজ। যেন নিজের মধ্যে নেই। তার বিয়ে করা বউ তার প্রপার্টি। সেই বউকে যখন অন্য কেউ বিয়ে করার নাম তো দূরের বিষয় ছুঁয়েও দেখতে চাইবে তখন দুনিয়া ধ্বংস করার মতো আগুন জ্বলে উঠে ভেতরে। সবকিছু ভেঙে গুলিয়ে দেওয়ার মতো তোলপাড় হয় মনে। এটা সে আরো আগে একদিন যখন তিতলির বন্ধু সিয়াম তিতলির খোলা কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে ছিলো সেদিনই টের পেয়েছে।
ফারাজ জনির কথার উত্তর না দিয়ে জনির কলার ধরে রেখে তিতলির দিকে ঝুঁকে সবটুকু তেজ কন্ঠে ঢেলে তিতলির উপর প্রশ্ন ছুড়লো,
“বলো আমি তোমার কি? ও বারবার একই কথা বলছে কেন? আমার রাগ বাড়িয়ে দিলে আমি খুন করবো। তাড়াতাড়ি বলো আমি তোমার কে হয়?”
“আ…আপনি..আমার আপনি..”

বাক্য এলোমেলো সপ্তদশীর। ভীষণ কুণ্ঠায় আওয়াজ বের হচ্ছে না তিতলির কণ্ঠনালী ভেদ করে। এক্ষুণি রুহুটা বেড়িয়ে গেলো বলে। তিতলির ভয়ার্ত চাউনীতে কোনোরূপ ভাবান্তর দেখা গেলো না ফারাজের মাঝে। উল্টো ফারাজ আবারও বিশাল হুংকার ছেড়ে আওড়াল,
“এখন তোতলামি করলে গাল টেনে ছিড়ে ফেলব। যা বলার স্পষ্ট ভাষায় এক্ষুনি ওকে বলো।
তিতলি ফারাজের এমন রুপ যেন চিনতে পারছে না। বেশ ভালোই টের পাচ্ছে এখন কিছু না বললে অত্যদিক, বেগাতিক হয়ে যাবে পরিবেশ। জনিও থামছে না। বারবার ফারাজকে রাগিয়ে দিচ্ছে। বাগানের পেছনে হওয়ায় হয়তো এখনও কারো কানে যায়নি ঘটনটা। অনেক ভেবে চিন্তে বুঝলো তার ফারাজকে থামানো উচিত । তক্ষুনি ত্রস্ত পা’দুটো উঁচু করে রমণী আচমকা কাঁপা কাঁপা তুলতুলে নরম দুহাত রাখল ফারাজের ক্লিন সেইভড করা দু’গালে। ধীরলয়ে ফারাজের গালে হাত বুলাতেই ফারাজের চোখদুটো আপনাআপনি বুঁজে এলো যেন। শক্ত হাতে ধরা রাখা জনির শার্টের কলার ঢিলে হয়ে এসেছে। তিতলি চোখ পিটপিট করে কান্নামিশ্রিত চাহনিতে তাকালো। ফারাজ চোয়াল কটমট করে চোখ খুলে তাকালো তিতলির পেলব মুখপানে। তক্ষুনি কর্ণকুহরে ভেসে এলো আদুরে রমণীর হৃদয় নিঙরানো কন্ঠ,

“আপনি আমার…আমার সবকিছু হন আমার এমন কোনোকিছু অবশিষ্ট নেই যেটা আপনি নন। সব আপনি আপনি আপনি… ”
তিতলির কথার মাঝেই বাড়ির বাইরে মারামরি লেগেছে শুনে ভেতর থেকে সবাই দৌড়ে বেরিয়ে এসেছেন। হুশিয়ার সাহেব আর আফজাল খান এসে ফারাজকে থামালেন। ফারিন বেগম মনেমনে কিছু আন্দাজ করে ফেললেন যেন। হুশিয়ার সাহেব এসেই ফারাজকে বললেন,
“কি নিয়া মারপিট করতেছিস নাতি? থাম, থাম মাথে ঠান্ডা কর।”
জনির মা সহ হাশেম আলী ও হাশেম আলীর বউ এসে জনিকে ধরলেন। জনিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। নাক পেটে রক্ত বের হচ্ছে। জাহানারা বেগম কেন্দে দিয়ে ছেলের নাকে হাত দিয়ে বললেন,

“আয়’হায় আমার সুস্থ-সবল ছেলেটার নাক পাটিয়ে দিয়েছে এ-কি দানবীয় ছেলে। কেউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করো কীভাবে রক্ত বের হচ্ছে।”
দূর থেকে রোহান বাঁকা হেসে তার সাথের একজনকে বলল,
“কিছু করতে চাইলাম আমরা মাঝখান দিয়ে এই জনি ঝামেলা বাধিয়ে দিয়ে মাইর খেলো। যা করার খুব সাবধানে করতে হবে নয়তো তোদের এই জনির থেকেও বেশি কিছু হবে।”
“আমরা কেন মাইর খাবো?”
রোহান একটার চুল টেনে ধরে বলল,
“তোদের সাথে আমার কি কথা ছিলো? মেয়েটাকে ধরে নিয়ে যেতে পারলে পাঁচ লক্ষ টাকা দিবো যে সেটা কি মাগ্না নে?”

“সেটা তো বুঝলাম কিন্তু…”
“ধরা পড়লে যদি কোনোভাবেই আমার নাম বলিস তোদের একটাকেও ছাড়বো না।”
“তো তোর নাম বলব না কার নাম বলবো? তুই আমাদের টাকা খাইয়ে কাজ করাবি আমরা না হয় কাজ করলাম কিন্তু ধরা পড়লে তোর নামই বলবো কারণ আসল কারপিট তো তুই।”
“এই কু*ত্তার বাচ্চা তোদের নাক কেটে হাতে ধরিয়ে দেবো ডিপজলের তিন নাম্বার বাচ্চা এলিম!”
“নাক কাটিস না। অত্যন্ত তোর পাদের ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য হলেও আমাদের নাক কাটিস না।”
রোহান নাক সিটকে বলল,
“পাদের আবার ঘ্রাণ আছে নাকি? যা আছে তা দুর্গন্ধ। ছিঃ!”
“তাহলে আমরা বলব আমাদের পেছনে কারো হাত নেই আমরাই আসল, আমারাই নকল,আমারাই রাজা, আমারই বাদশা, আমাদের পেছনে কেউ নেই।”
“যা এবার বুঝছিস। কাজ ঠিকমতো করতে পারলে এক্সর্টা এক লাখ বেশি পাবি।”

আফজাল খান বুঝলেন তার ছেলে থোড়াই কারো গায়ে হাত তুলবে না। আন্দাজ করে নিলেন জনি কিছু করেছে যেটা ফারাজকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছে। আর সে রাগের বহিঃপ্রকাশের ফলস্বরপ মেরেছে। তাও মানবতার খাতিরে তিনি ছেলেকে রেগে বললেন,
“এসব কী? ছেলেটাকে এভাবে মারলি কেন?”
ফারাজ কারো কথার কোনো প্রত্যুত্তর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা না দেখিয়ে তিতলিকে টেনেহিঁচরে বাড়ির ভেতরে নিয়ে এলো।
রুমে এসে দরজার ছিটকানি লাগিয়ে দিয়ে তিতলির তুলোর সমেত দেহটাকে বিছানায় ফেলে দিতেই তিতলি হঠাৎ বেঘোরে দাঁত কেলিয়ে হেসে বলে উঠলো,
“আমি জানি আপনি জেলাস হচ্ছেন?”

এইমুহূর্তে তিতলিকে হাসতে দেখে ফারাজের রাগ বাড়বে নাকি কমবে বোধহয় বুঝা গেলো না। রমণীর গৌরবর্ণা সুশ্রী মুখমণ্ডলের হাসিতে যেন রাজ্যের সকল মোহ নিহিত। যুবকের হ্যাজেল রঙা চোখদুটো অটল! কেমন গভীর দৃষ্টে পরোখ করে যাচ্ছে সপ্তদশীর হাসি। রাগ তার কমেছে বৈকি।
হুট করেই বুকের বাঁপাশটা বড্ড জ্বলছে তার। এক অজানা কারণেই মাথার তালু গরম হচ্ছে রাগে। ছেলেটার কতবড় স্পর্ধা! তার সামনেই তারি প্রপার্টির হাত ধরে ভালোবাসি বলে? যুবক দাঁতে দাঁত চেপে তিতলির উপর ঝুঁকে এসে সহজ স্বীকারোক্তি দিলো,
“Me? jealous? yeah, you’re mine and only mine!”
“সত্যি জেলাস!”
ফারাজের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা বাক্যে হতবিহ্বল কন্ঠে পরপর একই প্রশ্ন আওড়ালো তিতলি। এরই মাঝে ওর পরনের ওড়নাটা একটানে খুলে ফেলে দিলো ফারাজ। ওদিকে তিতলি কথাটার মানে খুঁজলো, “হুমম আমি জেলাস কারণ তুমি আমার শুধুই আমার?” ওমন স্বীকারোক্তি শুনে মনের ভেতরে লুকায়িত কথাটা বোধহয় ধরে রাখতে পারল না তিতলি। মুখশ্রী উজ্জল বনে হুট করেই বলে বসল,
“ভালোবাসেন?”

তিতলির খুশিখুশি মুখটায় এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে ফারাজ তিতলির উপর ঝুঁকে আসতে শুরু করল। তিতলিও সহসা এমন কাজে ধনুকের মতো বেঁকে গিয়ে বিছানার সাথে লেপ্টে গেলো। একসময় ফারাজ নিজের বলিষ্ঠ দেহের সম্পূর্ন ভার ছেড়ে দিলো তিতলির উপর। তিতলির তুলতুলে নরম দুহাত বিছানার পাশে চেপে ধরল। তিতলির পাদুটো নিজের বলিষ্ঠ উরুর সাথে বাঁধল। তিতলির জামার ফাঁকে হাত গলিয়ে দিয়ে ফারাজ বলল,
“যেদিন আমার ডিএন এ তোমার ভেতরে প্রবেশ করবে সেদিন-ই বুঝবে ভালোবাসা কাকে বলে। ইউ্য নো, না! আমি বুঝিয়ে দেবো। নেক্সট টাইম ভালোবাসি শুনতে আসলে সরাসরি লাইভ দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। মাইন্ড ইট!”
তিতলি ফারাজের মুখের দিকে তাকাতে পারছে না। চোখখিঁচে বন্ধ করে রেখেছে। তার তুলতুলে নরম ছোট্ট শরীর ফারাজের বলিষ্ঠ শরীরের ভারে যেন পিষে যাচ্ছে বিছানা ছিড়ে। তারউপর ফারাজ জামার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে রেখেছে। সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে সুড়সুড়ি লাগছে।
একনাগাড়ে ব্যথাতুর সুরে আওড়াল,

“ছাড়ুন মরে গেলাম। এত ভারী কেন আপনি? আমার সব ভেঙে যাচ্ছে। হাত বের করুন!”
ফারাজ ছাড়লো না ওকে। উল্টো তিতলির নরম শরীরে আরও চাপ প্রয়োগ করল এবার। অবাধ্য হাতদুটোর এলোমেলো বিচরণ আরও বাড়ালো তিতলির জামার ভেতরে। ভ্রুযুগল মাত্রাতিরিক্ত কুঁচকে রেখে গমগমে আওয়াজে ফারাজ বলে,
“ভালোবাসি শুনতে চাও অথচ একটু ভার নেওয়ার শক্তি নেই? ওই ছেলে যখন তোমার হাত ধরছে তখন মুখে কি রুমাল পেঁচিয়ে রেখেছিলে? নাকি এসব শুনতে খুবই ভালো লাগছিলো। আন্সার মি?”
তিতলি ফারাজের শক্তিশালী শরীরের সাথে পেরে না উঠে ছটফট করতে করতে বলল,
“বি-বিশ্বাস করুন আমি আপনাকে খুঁজতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ছেলেটা এসে এসব বলা শুরু করেছে। এবার সরুন প্লিজ!”

“আমাকে খুঁজতে গিয়েছিলে? আমি একবারও বলছিলাম আমাকে খুঁজতে? বেশি পাকনামি করো না? কোনদিন এই পাকনামি করার জন্য তোমাকে আমি থাপ্পড় মারব না।”
“আপনার খালাতো ভাই রোহান এসে বলছে আপনি নাকি আমাকে ওখানে ডাকছেন তাই গিয়েছি!”
তিতলির কপালে কপাল ঘষলো ফারাজ।
ওর উত্তপ্ত নিঃশ্বাস গিয়ে আঁচড়ে পড়ল তিতলির কাঁপতে থাকা ঠোঁটে। ঘন শ্বাস ফেলে গাঢ় স্বরে বলল,

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৪

“আমি বাদে বাদবাকি সবাই কে তোমার বিশ্বাস করতে হয় তাইনা? রোহানকে হাতের কাছে পাই ওই জনির মতোই নাক ফাটাবো কিন্তু তোমার কি ফাটাবো বলো তোমাকে তো এখনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।”

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৫