Home মেজর কারদার মেজর কারদার পর্ব ৪০

মেজর কারদার পর্ব ৪০

মেজর কারদার পর্ব ৪০
ফিনারা ঝুমুর

মাথায় সফেদ ওড়নার দীর্ঘ ঘোমটা টেনে প্রহরের পাশের চেয়ারে সুবোধ বালিকার মতো দাপটের সাথে বসে আছে কিঞ্জা।পোশাকের পরিবর্তন হয়েছে।। প্রহরের হাত আর কোমর অবশ্য এখনো রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। ওদের ঠিক সামনে একহাত লম্বা পাকা দাড়ি ভর্তি মুখ নিয়ে কাঁপতে কাাঁপতে বসে আছেন সত্তর ছুঁইছুঁই কাজী সাহেব। আর সেই কাজী সাহেবের মাথার দু-পাশে জোড়া রক্ষীর মতো হকস্টিক আর ধারালো চাপাতি উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নাহিদ আর ইমন! ওদের চোখে চরম জেদ আর ক্ষোভ।​কাজী সাহেবকে ভয়ে থমকে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে সজোরে ধমকে ওঠে নাহিদ,

​“কী রে হা/লা কাইল্লা পাঁঠা! এমনে ক্যাবলার মতো বইসা আছোস ক্যা? ফটাফট শাদী পড়া!”
​নাহিদের এমন ভয়ংকর ধমকে কেঁপে ওঠেন বৃদ্ধ কাজী সাহেব। সত্তরে পা দেওয়া কাজী বয়সের ভারে ঝুলে পড়া চোখ জোড়া তুলে আকুল হয়ে ভয়ে ভয়ে বলেন,
​“হেইডা তো বুছলাম গো বাজান— তা হের লাইগ্যা আমার প্রহর আব্বাটারে এমনে বাঁধন দিয়া থোওন লাগব নাকি? হেরে একটু ছাইড়া দেও না, বাপ! আই সুন্দর কইরা শাদী পড়াইতাসি!”
​ইমন বেজায় বিরক্ত হয়ে চট করে হাতের ধারালো চাপাতিখানা কাজী সাহেবের ঘাড়ের কাছে ঠেকায়। খ্যাঁপা কণ্ঠে গর্জে উঠে বলে,
​“তোরে যা কইছি সোজা হেইডা কর! এখানে আকাইম্যা মতলব বাতলাইতে কেউ তোরে ডাকে নাই। সোজা হাঙ্গা পড়া, নইলে কিন্তুক!”
​ঘাড়ের ওপর চাপাতির বরফশীতল ছোঁয়া পেতেই ভয়ে থরথর করে ঘেমে যান কাজী সাহেব। শুকনো ঢোক গিলে মিনমিন করে অতি দ্রুত কাঁপাকাঁপা গলায় আওড়াতে শুরু করেন,
​“পুরান ঢাকা নিবাসী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ.খ.ম তোফাজ্জল হায়দারের সুযোগ্য বড় এবং সর্বশেষ পুত্র মোহাম্মদ প্রহর ইবনাতের সহিত — পুরান ঢাকার উত্তরপ্রান্তের নিবাসী জুবায়ের কারদারের কনিষ্ঠা কন্যা কিঞ্জা ইয়াশফার সহিত পনেরো লক্ষ টাকা নগদ অর্থ দেনমোহর ধার্য করিয়া বিবাহের শুভ সূত্রপাত হইলো! এই বিয়েতে আপনার মনঃপূত পূর্ণ সম্মতি থাকিলে বলুন মা—”কবুল”!”

​কাজী সাহেব অফ-হোয়াইট কালারের ওপর ভারী স্টোনের কাজ করা রাজকীয় বিয়ের গাউন পরিহিত কিঞ্জার দিকে তাকালেন। পরম আত্মবিশ্বাসে চেয়ারে বাঁধায় আটকানো প্রহরের দিকে চেয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও উচ্চস্বরে কিঞ্জা বলে ওঠে,
​“কবুল!”
​পরপর আরও দুইবার উচ্চারণ করে মোট তিনবার পরম সগর্বে ‘কবুল’ বলে নিজের সম্মতি জানিয়ে দেয় কিঞ্জা।​কাজী সাহেব এবার ভয়ার্ত চোখে প্রহরের দিকে তাকান। একই বাণী পুনরাবৃত্তি করে কাকুতি-মিনতি ভরা গলায় প্রহরকে অনুরোধ করেন,
​“বলো বাবা– বলো, কবুল!”
​প্রহর রাগে রি-রি করে উঠে মুখ খিঁচে খ্যাঁক করে ওঠে,
​“কবুল তোর বা/ল! বুইড়া কাজী চোখে দেখতে পাস না, আমি হাত-পা বান্ধা অবস্থায় আটকায় আছি?”

​প্রহরের এমন বেপরোয়া চিৎকারে চরম বিরক্ত হয় কিঞ্জা। এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে হাত উঁচিয়ে ঠাস করে হাতের বন্দুকের ভারী বাট দিয়ে প্রহরের সুঠাম কপালে সজোরে বারি হাঁকায়! মুহূর্তেই শ্যামলা কপাল চিরে তাজা রুধির চুঁইয়ে পড়তে শুরু করে প্রহরের মুখাবয়বে। আঘাতে মাথা ঝিমঝিম করে উঠলেও দাঁতে দাঁত চেপে চুপ মেরে বসে থাকে প্রহর।​কিঞ্জা চট করে বন্দুকের নলটা প্রহরের কাটা কপালে চেপে ধরে অতি মিষ্টি কিন্তু হুমকি ভরা মিহি গলায় শুধায়,
​“একদম সোনা ছেলের মতো ভালোয় ভালোয় ‘কবুল’ বলে ফেলো তো সোনা! প্রমিজ করছি, এরপর আর মারব না!”
প্রহরও দাঁতে দাঁত চেপে চরম ক্ষোভে হিসহিস করে ওঠে,

​“কবুল না বললে কী করবি শুনি, হ্যাঁ?”
​“সোজা মাইরা বস্তায় ভইরা বুড়িগঙ্গায় ভাইসা দিমু!”
​ঘরের দরজার লক খুলে ভেতরে প্রবেশ করতে করতে ঠান্ডা গলায় জবাব দেয় রাহাত। প্রহর একপলক তাকিয়ে দেখে সুভাষী চেহারার রাহাত এসে হাজির হয়েছে। প্রহরকে অমন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখে ওর মুখে ফুটে ওঠে এক গা-শিউরে ওঠার মতো হিংস্র হাসি! প্রহর যে চেয়ারে বসে আছে, সেটির ঘাড়ের কাছে নিজের দুই হাত রেখে ঝুঁকে পড়ে রাহাত। অতি শান্ত কিন্তু ভয়ংকর গলায় বলে ওঠে,
​“হয় সোজা আঙুলে ঘি তুলে আমার বোনকে ‘কবুল’ বলবেন, আর না হয় আজ রাতেই মরবেন! কোনটা চান ক্যাপ্টেন?”
​নিজের চেয়ে বয়সে অনেকটা ছোট রাহাতের মুখে এমন হুমকি শুনে চরম রাগান্বিত ও ক্ষিপ্ত হয় প্রহর,

​“করলাম না তোর এই খাঁটি পাগলি বোনকে বিয়ে! যা পারিস কর তুই, কী করবি বল?”
​কথাটা শুনে রাহাত একটুও বিচলিত হলো না। সোজা ঘুরে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে মুখ করে হাঁক দেয়,
​“নাহিদ্দা আর ইমইন্না! বুইড়া কাজীরে লইয়া ঘর থাইকা সটান ভাগ! আমি দরজার হুক বাইরে থেইকা লক কইরা দিয়া যাইতেছি। কিঞ্জু শুরু কর তোর আসল কাজ! এবার সোজা ধ—র্ষ—ণ!”
​রাহাতের ইশারায় নাহিদ আর ইমন বৃদ্ধ কাজীকে একপ্রকার কোলে তুলে নিয়ে ঘর থেকে চটজলদি বেরিয়ে যায়। রাহাতও বাইরে থেকে ভারী দরজার খিল সজোরে আঁটকে দেয়!​ঘরের ভেতরে সৃষ্টি হয় এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। কিঞ্জা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়, তারপর ধীরপায়ে এগিয়ে এসে ফের সগর্বে বসে পড়ে প্রহরের বাঁধায় আটকানো কোলজুড়ে! প্রহরের মাথার ঘন চুলগুলো পেছনের দিকে টেনে শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে সে। নিজের তপ্ত ওষ্ঠ প্রহরের ঠোঁটের একদম কাছাকাছি এনে চোখ দুটো ছোট ছোট করে বিষাক্ত ফিসফিসানিতে বলে,

​“আমারে কিন্তু তোমার ওই পুরান মরা বউ ইতুর মতন ভাইবো না, ক্যাপ্টেন! যে সুযোগ পাইলেই তোমার পরম বন্ধুরে লইয়া ভাইজ্ঞা যামু যেমনে তোমার আগের বউ তোমারে বাঁশ দিয়া গেছিল! আমি কিন্তু কোনোদিন তোমারে ছাইড়া যামু না! আর ভুলবশত কোনোদিন ছাইড়া যাইতে চাইলে, তোমারে নিজ হাতে মাইরা উঁচা পাহাড়ের উপর থেইকা সোজা নিচে ফেলাই দিমু বুঝছ?”
​কথাগুলো বলেও কিঞ্জা তার ঠোঁট প্রহরের ঠোঁটে মেলায় না। বরং অবাধ্য হাতটা অতি ধীরে ধীরে নিয়ে যেতে থাকে নিষিদ্ধ অন্য কোনো স্পর্শকাতর স্থলের পানে! কিঞ্জার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেপরোয়া মতলব মুহূর্তে আঁচ করতে পেরে প্রহর ভয়ে-আতঙ্কে আর ধরে রাখতে পারল না নিজেকে! মাথা ঝাঁকিয়ে পুরো ঘর কাঁপিয়ে সজোরে চিল্লায়ে ওঠে,
​“কবুল! কবুল! কবুল রে ভাই! ওরে মাঙ্গের পুত বুইড়া কাজী গেলি কই? ওই হা/লার কাজী শোন—আমি প্রহর ইবনাত কবুল কইতাছি, ভাইরে ভাই! আটকা এবার তোদের এই পাগলিরে!”
কিঞ্জার মুখে বিজয়ীর হাসি ফুঁটে ওঠে। কুটিল হেসে চুমু খায় প্রহরের রক্তাক্ত ললাটে। ঠোঁট মিষ্টি পরশ মাখাতে মাখাতে হুমকি হাঁকায়,

“পূর্বে ছেলেরা মেয়েদের জোর করে বিবাহ করতো। পরিবর্তিত হয়ে, মেয়েরা নিজের হৃদপুরুষকে জোর করে বিবাহ করেছে। মনে রাখবেন উডবি এমপি— এমপি’র ঘারওয়ালী কিঞ্জা ইবনাত। আজ হতে আপনাকে পূর্ণ নিজের করার দায়িত্ব আমি নিলাম। আপোষে হোক নয় জোরপূর্বক, আপনাকে আমার
করবো।যেভাবে আজ কবুল বলিয়ে আমিটাকে স্ত্রী হিসেবে কবুল করালাম।”

পুরো কারদার বাড়িজুড়ে তখন এক শোরগোল আর চরম হায়-হায় পড়ে গেছে! বিয়ের ঠিক কয়েকমুহূর্ত আগে কনে ঘর থেকে উধাও এমন অদ্ভুত কথা শুনে উপস্থিত সব মেহমান আর আত্মীয়স্বজনদের মাঝে ছি-ছি পড়ে গেছে।
​“এসব কী শুনছি আঙ্কেল? কুঞ্জ — কুঞ্জ কোথায় গেছে?”
​মাথার সুসজ্জিত রাজকীয় পাগড়িটা এক ঝটকায় খুলে মেঝেতে ফেলে দৌড়ে আসে বর সামী! ধবধবে ফর্সা চেহারাটা এক নিমেষে কালচে মার্বেল পাথরের মতো হয়ে গেছে ওর। অজানা ভয়ে আর তীব্র শ্বাসকষ্টে বুকে হাত দিয়ে হাঁপাচ্ছে বেচারা।
​“জুবায়ের, কথা বলছিস না কেন? আমাকে স্পষ্ট করে বল আমার কিঞ্জা মা কোথায় গেল?”
​সামীর বাবা লোকমান হোসেন তীব্র আকুলতা নিয়ে জুবায়ের কারদারের দিকে এগিয়ে এলেন। উপস্থিত সকলের চোখেই তখন একরাশ প্রশ্ন আর বিষাদ। কেউ যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না এত প্রাণবন্ত আর চঞ্চল কিঞ্জা সত্যিই বিয়ের পিঁড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে!
​“আমি — আমি সত্যি কিছু জানি না! এই তো আর মাত্র কিছুক্ষণ আগেও মেয়েটা নিজের ঘরেই সাজছিল –”

​জুবায়ের কারদার বড্ড চাপা আর অপমানিত স্বরে কথাটি বললেন। লোকমান হোসেন আর দিয়া বেগম লোকলজ্জা আর চরম অপমানে সবার সামনে মাথা নত করে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। জুবায়ের কারদার চারপাশের মানুষের এতসব কুৎসিত আর অপমানের তিক্ষ্ণ দৃষ্টি আর সহ্য করতে পারছেন না। চারপাশের গুঞ্জন আর কানাঘুষায় মনে হচ্ছে সবাই যেন একযোগে বিষ উগরে দিয়ে বলছে — “ছিঃ ছিঃ! অত বড় ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর মেয়ে কিনা শেষমেশ বিয়ের আসর ফেলে পরপুরুষের সাথে পালিয়ে গেল?” — —“নিশ্চয়ই বাবা- মা জোর করে বিয়ে দিচ্ছিল। এমন বখাটে বাপ-মায়ের বলীহারি যাই!”
​চারপাশের মানুষের এমন অবজ্ঞা আর তাচ্ছিল্য সহ্য করতে না পেরে ধপ করে একটা চেয়ারে বসে পড়েন জুবায়ের কারদার। শিউলি বেগম আকুল হয়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে কোলের মাঝে ধরে রাখেন। ওনার চোখের কোণ বেয়ে অঝোরে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে নিজের পরম আদরের কিঞ্জা যে আজ এমন কাজ করবে, তা তিনি স্বপ্নেও মানতে পারছেন না!

​তারপরই হাবাতে ও বিষাক্ত চোখে এদিক-ওদিক তাকান শিউলি বেগম। হুট করে ওনার নজর গিয়ে পড়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা শীর্ষর পাশে আতঙ্কে বিড়ালছানা বনে যাওয়া মেঘের ওপর! স্বামীকে সাবধানে রেখে একপ্রকার ঝড়ের গতিতে ছুটিয়ে যান তিনি মেঘের পানে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেঘের ফর্সা গালে ওনার ডান হাত সজোরে ধেয়ে যায়।মনের মাঝে জমা সকল ক্ষোভের এক চরম প্রতিশোধের চড় মারার লক্ষ্যে!​কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তা পারলেন না!
​“কী করতে যাচ্ছিলে তুমি, হ্যাঁ?”
​বাতাস ভেদ করে শিউলি বেগমের সেই উদ্যত হাতটি মাঝপথেই এক ঝটকায় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় শীর্ষ! ওর ধূসরচোখজোড়ায় তখন জ্বলন্ত তেজ আর হুংকার! শিউলি বেগমও অবশ্য আজ এত সহজে দমার পাত্রী নন ছেলের এমন আচরণে তিনি আরও দ্বিগুণ তেজস্বিনী হয়ে ওঠেন!
​“অলক্ষ্মী এসেছে রে এই ঘরে। এক আস্ত অলক্ষ্মী! এ বাড়িতে পা দিতে না দিতেই কতশত ক্ষতি করল আমার! আর আজ কিনা আমার নিজের পেটের সোনা মেয়েটাকেও বাড়ি থেকে ভাগিয়ে দিল এই অলক্ষ্মীটা!”

​কথাটা শোনামাত্রই চরম চমকে ওঠে মেঘ! পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভাই নোমানের চোখেও মুহূর্তেই অপমানের ক্ষোভ জমা হতে শুরু করে। মেঘ এবার নিজের ওপর হওয়া অবিচারের বিরুদ্ধে জোর গলায় প্রতিবাদ করে বলে ওঠে,
​“এসব কী ফালতু কথা বলছেন আপনি, আন্টি?”
​মেঘের মুখে উল্টো জবাব শুনে শিউলি বেগম যেন আরও চরম চড়বড়িয়ে ওঠেন!
​“কী বলছিস রে তুই? আমার নিষ্পাপ ছেলেটাকে তো দিনরাত গিলে খাচ্ছিলি। তাতেও তোর পেট ভরেনি? শান্তি হয়নি তোর? আজ আমাদের এই বংশের এত বছরের মান-সম্মানটাও একেবারে ধূলিসাৎ করে দিলি? তুই এক আস্ত কালিনী, কালকুটি, রক্তচোষা কালনাগিনী!”

মেজর কারদার পর্ব ৩৯ (২)

​নিজের মনের গহীনে জমে থাকা সমস্ত বিষ আর আক্রোশ এক নিমেষে উগরে দিতে থাকেন মেঘের ওপর। তবে এবার আর সহ্য করল না শীর্ষ! পুরো বাড়ি কাঁপিয়ে গর্জে উঠে ধমকে ওঠে সে,
​“অনেক বলেছ তুমি। বড্ড বেশি বলেছ! আর একটা শব্দও নয়! কিঞ্জুকে এই বাড়ি থেকে কোনো ব্ল্যাক ব্যাট ফ্লাওয়ার বের করে দেয়নি। সে নিজ ইচ্ছায় পালিয়েছে! প্রহরকে ও ভালোবাসে, তাকে পাবার জন্য গৃহত্যাগ করেছে।”

মেজর কারদার পর্ব ৪১