মেজর কারদার পর্ব ৪৬
ফিনারা ঝুমুর
ছাদের পিচ্ছিল রেলিংয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিঃশঙ্ক চিত্তে বসে ধূমপান করছে শীর্ষ। ওষ্ঠজোড়া হতে নির্গত ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে মেঘার্শীর মুক্ত অম্বরে চপল পদে যেন ছুটে চলেছে অমানিশার একচ্ছত্র নিশান। বায়ুমণ্ডলে ছড়াচ্ছে বিষাক্ত তামাকের তপ্ত গন্ধ। ঠিক পাশে গভীর উদ্বেগে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তোফাজ্জল হায়দার। ওনার চিন্তিত অবয়বে স্পষ্ট পরিলক্ষিত হচ্ছে এক চরম ব্যাকুলতা; স্বজন হারানোর তীব্র ভীতি যেন অতি জোরদমে স্থান করে নিয়েছে ওনার ব্যাকুল বক্ষপিঞ্জরে।
“আগামী পরিকল্পনা কী তোমার, শীর্ষ?”
সিগারেটে শেষ টান দিয়ে ধাবমান ধোঁয়া গগনপানে ছুড়ে দেয় সে। দূর দিগন্তে দৃষ্টি স্থির রেখেই অত্যন্ত শাণিত ও গম্ভীর কণ্ঠে প্রত্যুত্তর করে,
“ওদের চিরতরে ধূলিসাৎ করে দিয়ে পরবর্তী সামরিক মিশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা।”
তোফাজ্জল হায়দার বিন্দুমাত্র চমকালেন না। নিজেও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হওয়ার সুবাদে কঠোর বাস্তবতার সাথে তিনি সম্যক পরিচিত। দেশের স্বার্থে কিংবা সত্য প্রতিষ্ঠার তাগিদে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত তিনিও অতীতে বহুবার গ্রহণ করেছেন।
“আমায় কি এক প্রশ্নের সত্য উত্তর দেবেন, আঙ্কেল?”
তোফাজ্জল হায়দার অত্যন্ত জিজ্ঞাসু নয়নে চেয়ে থাকেন। শীর্ষ নিমেষেই রেলিংয়ের ওপরে উঠে বসে, যার দু-খানা উন্মুক্ত পা শূন্যে ঝুলছে বহুতল ভবনের বাইরে। বিন্দুমাত্র পতনের ভয় নেই তার চোখে-মুখে। ধীরলয়ে পা দোলাতে দোলাতে পুনরায় প্রশ্ন ছুড়ে দেয়,
“আপনি তো নিজেও একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। কিসের তাগিদে এত অনাচার সহ্য করেও ওদের বিরুদ্ধে এতদিন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করেননি?”
“সময়ের সঠিক প্রতীক্ষায় ছিলাম, শীর্ষ। তাড়াহুড়ো করতে গেলে যে আমার পরম অস্তিত্ব, আমার নিজের মেয়েটির জীবনেই এক মহা ঝুঁকি নেমে আসত।”
“আপনি কি তা-ও জানতেন না আঙ্কেল, সশস্ত্র বাহিনীর নিয়মাবলীতে স্পষ্ট নিষেধ রয়েছে — প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় কিংবা আইনসম্মত বিবাহবিচ্ছেদ ব্যতীত কোনো সেনাসদস্যের দ্বিতীয় বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ?”
তোফাজ্জল হায়দার কেবল বিষাদময় এক মৃদু হাসি হাসলেন। প্যান্টের পকেটে দুই হাত আড়াআড়ি রেখে গম্ভীর মুখে পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন,
“ তুমি কেন জেনেশুনে আমার মেয়েকে এভাবে বিবাহ করলে, শীর্ষ? এমন কোনো কথা ছিলো না তোমার-আমার সাথে!”
“প্রেমে পড়ে সোজা পিছল খেয়েছি আঙ্কেল। আছাড়ও খেয়েছি হিসাব ছাড়া! ব্যাস, এখন কেবল কোনোমতে হার্ট অ্যাটাক করাটাই যা বাকি আছে!”
তোফাজ্জল হায়দার নিঃশব্দে এগিয়ে এসে শীর্ষর পাশে রেলিংয়ের ওপর আসন গ্রহণ করলেন। ওর হাত থেকে অর্ধদগ্ধ সিগারটি নিজের আঙুলে তুলে নিয়ে গভীর এক টান দিলেন। বাতাসে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছুড়ে পরম অভিজ্ঞতা আর বিষাদের সুরে প্রত্যুত্তর করলেন,
“তুমিও তবে আমারই মতো অনুভূতির অতল গহ্বরে পতিত হয়েছিলে! জাত-কূল, সামাজিক মর্যাদা সব বিস্মৃত হয়ে আমি কেবল ভালোবেসে পারুকে তুলে এনে বিবাহ করেছিলাম। তবে সব দিক বিবেচনায় আমার থেকে তুমি কিন্তু অন্তত এক ধাপ এগিয়ে!”
শীর্ষ কিন্তু সম্পূর্ণ অমনোযোগী। নির্ভীক চোয়ালে থমথমে ভাব বজায় রেখে শূন্যে ধীরলয়ে পা দোলাতে থাকে। ভোরের মাতাল হাওয়ায় ওর সামান্য বড় হতে শুরু করা চুলে ভোরের মিহি শিশিরবিন্দু জমে শুভ্র রূপ ধারণ করছে।তোফাজ্জল হায়দার মৃদু হেসে হালকা সুরে পুনরায় যোগ করলেন,
“পাহাড়িয়া সরলতার ছলে ভুল বুঝিয়ে শেষমেশ আমার সেই বোকা মেয়েটাকে বিবাহ করে নিজের করে নিলে তো!”
“বাসরের তীব্র তাগিদ জেগেছিল হৃদয়ে। ব্যস, সুযোগ বুঝে বোকা মেয়েটাকে ভালোবাসার সোনার খাঁচায় বন্দি করে ফেললাম! এ যাবৎ কাল আজ আর কাল রাতে মোটে দু-বার বাসর জমেছে আমাদের। আজ রাতেও পুনরায় হতে পারে!”
এবার তোফাজ্জল হায়দার সাহেব সত্যি পরম অবাক ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হলেন! সম্পর্কে অন্তত ফুফা তো হনই, উপরন্তু পরম সম্পর্কে এখন উনি ওর স্বয়ং শ্বশুরও বটে! তাকেই কিনা মুখ ফুটে একদম নির্দ্বিধায় এসব ব্যক্তিগত কথা! হঠাৎ বিষম খেয়ে খুকখুক করে কাশির উদ্রেক ঘটল ওনার। কাশির দমক কিছুটা সামলে নিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে শুধালেন,
“সম্পর্কে অন্তত আমি তোমার সযোগ্যের শ্বশুর হই, শীর্ষ! অন্তত সেটুকু লোকলজ্জার বোধ তো রাখা উচিত?”
“কেন আঙ্কেল? আপনি নিজে বুঝি জীবনে কোনোদিন বাসর করেননি? তা বাসর যদি না-ই করতেন, তবে আমার এই বোকা রূপসী বউখানা আসলো কোত্থেকে? আকাশ চিরে বুঝি?”
শীর্ষর এমন বিন্দুমাত্র দ্বিধাহীন, ধৃষ্টতাময় ও নির্ভীক অবয়বের পানে চেয়ে তোফাজ্জল হায়দারের অবস্থা চরম সংকীর্ণ হয়ে পড়ল! এ কেমন এক আণবিক বোমা চেপে বসেছে ওনার সম্মুখে!
“তাই বলে কি তোমাকে এই কারণেই আমি আমার মাতৃহীন অবুঝ মেয়েটার প্রতি ছায়ার মতো নজর রাখতে বলেছিলাম? চরম নির্লজ্জ ছেলে তো তুমি!”
হাত হতে সিগারের শেষ সুখটানটুকু টেনে তা শূন্যে ছুড়ে ফেলে দেয় শীর্ষ। তোফাজ্জল হায়দারের সরাসরি চোখে চোখ রেখে ঈষৎ মুখ বাঁকায়।
“তবে আপনার পরম ভাগ্য ভালো আঙ্কেল যে, আপনার সেই বারো বছরের কিশোরী মেয়ের প্রতি সুতীক্ষ্ণ নজর রাখতে গিয়ে শেষমেশ ওর প্রেমে আমি নিজেই পা হড়কাই! তা না হলে… আজ এই মুহূর্তে হয়তো কোনো এক অন্ধকার অলিগলিতে মরে পড়ে থাকত আপনার পারুর রেখে যাওয়া রক্ত!”
শীর্ষর এহেন নির্মম সত্য উচ্চারণে তোফাজ্জল হায়দার একদম নিশ্চুপ, নির্বাক হয়ে যান। কোনো ভুল বাক্য তো বলে নি ছেলেটা! নিজের অধীনে থাকা বিশ্বস্ত সেনাসদস্য শীর্ষর ওপর তীব্র ভরসা রেখেছিলেন বলেই তো তিনি পরম বিশ্বাসের সাথে ছোট্ট মেঘের প্রতি সজাগ নজর রাখতে বলেছিলেন। শীর্ষ সেদিন কোনো অতিরিক্ত প্রশ্ন না তুলেই চতুরতার সাথে নজর রাখতে শুরু করেছিল ঠিকই, কিন্তু অতি অল্প সময়ের মাঝেই অনুসন্ধানের মাধ্যমে অতীতের সকল কুৎসিত সত্য জেনে ফেলেছিল। সেদিন তোফাজ্জল হায়দারকে নিজের সিনিয়র কিংবা ট্রেনার হিসেবে সামান্যতম সম্মানটুকুও প্রদর্শন করেনি শীর্ষ! সকলের আড়ালে অত্যন্ত নির্মমভাবে বেদম প্রহার করেছিল এই প্রবীণ পুরুষকে। আর প্রতি আঘাতে গর্জে উঠে বারবার বলেছিল,
“প্রতারক! বেইমান একটা! তোর মতো এক ব্যর্থ পুরুষের জন্যই আজ আমার অসহায় ফুফির জীবনটা ধূলিসাৎ হয়ে গেল! প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে যদি সংসার করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে না-ই ছিল, তবে কেন তাকে মিছে বন্ধনে জড়িয়ে রেখেছিলি? কেন ত্যাগ করিসনি তাকে স্পষ্ট কথায়?”
সেদিন শীর্ষর সেই অমানুষিক ক্রোধ ও রূপ ওনাকে চরম আশ্চর্য ও স্তম্ভিত করেছিল। বাধ্য হয়েই সেদিন অতীতের সকল তিক্ত ঘটনা একে একে প্রকাশ করতে হয়েছিল তার কাছে। সত্য জানার পর শীর্ষ চুপ হয়ে গেলেও কিন্তু নিজের কার্য হতে থামেনি; বরং সুকৌশলে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব খাটিয়ে তোফাজ্জল হায়দারকে আগাম রিটায়ারমেন্ট নিতে বাধ্য করেছিল এই শীর্ষই!
বর্তমানে ওনার বয়স ঊনষাট স্পর্শ করেছে। ধিমে যাওয়া, জরাজীর্ণ গলায় এবার একরাশ ভয়ের তীব্র দানা বাঁধতে শুরু করে। আহত ও অসহায় এক বৃদ্ধ সিংহের ন্যায় ওনার মুখ থেকে অস্ফুট বাক্য নিঃসরিত হয়,
“ওরা যে এবার মেঘের ক্ষতি করতে একদম উঠেপড়ে লেগেছে, শীর্ষ! কীভাবে থামাবে ওদের রক্তচক্ষু?”
তোফাজ্জল হায়দারের সেই ভয়মিশ্রিত নয়নজুগে গভীর দৃষ্টি হাতড়ে নেয় শীর্ষ। সেখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে নিজের রক্তের কন্যার ওপর নেমে আসা অঘোষিত এক ঘোর তিমির মেঘের ঘনঘটা। নিজের অতীতে কৃত অপকর্মের সমস্ত প্রায়শ্চিত্ত যেন আজ অন্যায়ভাবে ধেয়ে আসছে তার নিষ্পাপ মেঘের ওপর দিয়ে!
শীর্ষ কিয়ৎকাল একদম নিস্তব্ধ ও নীরব রইল। পুরো ছাদ যেন এক থমথমে, জমাটবদ্ধ শান্ত গম্ভীরতায় জর্জরিত হয়ে উঠল। ধুমকেতুর বলয়ের ন্যায় ওর তীব্র হুশিয়ারি বার্তা ছুড়ে দেওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি চলে যেন মননে! নিজের বুদ্ধি আর রক্তের অদম্য সাহসিকতার সংমিশ্রণে শ্বাসনালির পাশে অবস্থানরত ক্ষরণ হওয়া হৃতপিণ্ডের পরম সংকল্প ফুটিয়ে তুলে গম্ভীর কণ্ঠে গর্জে ওঠে শীর্ষ,
“আমার পরম কলিজায় হাত দেওয়ার একমাত্র অর্থ হলো নিজের হাতে মৃত্যুকে সাদরে আলিঙ্গন করে নেওয়া! আমি হয়তো শপথসূত্রে সমগ্র দেশরক্ষার দায়িত্ব ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছি আঙ্কেল, তবে আমার পরম প্রিয় সেই ‘ব্ল্যাক ব্যাট ফ্লাওয়ার’কে রক্ষা করতে নিজের প্রাণ দিতেও পারি… আর শয়তানগুলোর প্রাণ এক লহমায় ছিনিয়ে নিতেও পারি!”
গৃহের অন্তর্নিহিতে কুসুম-উষ্ণ চায়ের তৃপ্তিদায়ক আড্ডায় মজেছে মেঘ এবং কিঞ্জা। চায়ের ধোঁয়া ওঠা পেয়ালায় সুকোমল ঠোঁট দাবিয়ে পরম তৃপ্তিতে চুমুক দিয়ে গলধঃকরণ করছে মিষ্টান্নে ভরা কালচে লালচে চা। নানা বিধ সুবাসিত মসলার যৌথ মিশ্রণে যা অত্যন্ত সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর! মেঘ তার মায়াবী গোল গোল বাদামি চোখ জোড়া নিবদ্ধ করে রাখল কিঞ্জার শুভ্র, ফর্সা আননে। মোটে এক রাতের ব্যবধানে মেয়েটার রূপের জেল্লা যেন কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে!
কিঞ্জা চতুরতার সাথে ভ্রু উঁচিয়ে মেঘের সেই একনাগাড়ে চেয়ে থাকা চাহনি সুসূক্ষ্মভাবে পরখ করে। ললাটে তিন-তিনটে স্পষ্ট ভাঁজ ফেলে ভেবে পায় না। কী এমন অদ্ভূত দৃষ্টিতে দেখছে এই মেয়েটি? মনের ভেতরের জমাটবদ্ধ প্রশ্নের দানাটুকু আর চেপে রাখতে পারল না, সটান উগলে দেয়,
“কী দেখছ ওভাবে একধ্যানে, মেঘ?”
“ভাবছি এক রজনীর সেই অলৌকিক কূট-কৌশল!”
“কেমন কূট-কৌশল, শুনি?”
কথার মধ্যে রস মিশিয়ে অমায়িক বুলি মুক্ত হলো কিঞ্জার কণ্ঠ চিরে। শুভ্র আননে উপচে পড়ছে জানার এক তীব্র আগ্রহ ও সীমাহীন কৌতূহল! মেঘ মুখ চেপে বড্ড দুষ্টু ও চঞ্চল এক চিলতে হাসল বটে!
“ভাবছি, আমাদের দুলামিয়া মোটে এক রজনীতে তোমাকে কেমন এমন জাদুকরী আদর-সোহাগ ছিটাল? কোন সোহাগ পেয়ে এত শত রূপের দ্যুতি ও জেল্লা আচমকা উদয় হলো কোন গোপন জমিন থেকে?”
মেঘের মুখে এমন সরল রসিকতা শুনে কিঞ্জা বাঁকা হেসে সটান জবাব ছুড়ে দিল,
“গত রজনীতে কিন্তু দুটো বেপরোয়া নাগ-নাগিনীও উন্মুক্ত ছাদে পরম আবেগে দলিত-মলিত হচ্ছিল! কী যে উগ্র তাড়া ছিল তাদের দু-জনের! একে-অপরের উষ্ণতায় পিষ্ট করতে গিয়ে যেন সমগ্র দুনিয়ার শৃঙ্খলা আর লোকলজ্জা বেমালুম ভুলে বসেছিল। তাদের সেই মাতাল কাণ্ড দেখে গভীর নিদ্রায় মগ্ন থাকা বেচারা নিশি-বিহঙ্গও ডানা মেলে পালিয়ে বাঁচে! এত শত বেশরম কান্ড কারখানা…”
“চুউউউপ!”
কথা শেষ হওয়ার আগেই চিৎকার করে উঠল মেঘ! ওর সমস্ত অভিব্যক্তিতে চরম লজ্জারা এসে এক নিমেষে বাসা বেঁধেছে। নিঘাত এক চরম রক্তিম লালিমা ছুঁয়ে গেল ওর শ্যামলা গোলগাল নিষ্পাপ আদলে। রূপের অপরূপ দ্যুতি ছুটছে সেখান থেকে! একেই বুঝি বলে পৃথিবীর পরম ভাগ্যবতী নারী? উঁহু! “চেহারা সুন্দর হওয়ার চেয়ে ভাগ্যবতী হওয়াটা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। সকলের কপালে তো আর এমন মাতাল করা স্বামীর পরম সোহাগ জোটে না!”
নিজেকে সামলে নিয়ে উৎসুক মনে মেঘ হঠাৎ পরম ধীরস্বরে প্রশ্ন ছুড়ে দিল,
“প্রহর ভাইয়ার কি এর পূর্বেও একবার বিবাহ হয়েছিল, কিঞ্জা আপু?”
কিঞ্জার এই প্রশ্নে চমকানোর যথেষ্ট যুক্তি থাকলেও সে বিন্দুমাত্র চমকাল না। বয়সে কিছুটা বড় ও পরিপক্ব হওয়ার সুবাদে মেঘের এমন সরল ও কৌতুহলী মনোভঙ্গি সহাস্যে পড়ে ফেলে সে। পরম অস্বস্তিহীন ও অত্যন্ত নির্ভুল শব্দচয়নে গম্ভীর প্রত্যুত্তর করে,
মেজর কারদার পর্ব ৪৫
“ভগ্ন হৃদয়ের চরম ঠকে যাওয়া এক পোড়া পুরুষ সে, মেঘ! সুন্দর একটা সংসার পাতার পূর্বেই নিজের হৃদয়ে পরম আদরে ঠাঁই দেওয়া প্রথম বিবাহিতা স্ত্রীর কাছ হতে মারাত্মক ধোঁকা আর বঞ্চনা পেয়েছিল সে!”
