Home মেজর কারদার মেজর কারদার পর্ব ৪৪

মেজর কারদার পর্ব ৪৪

মেজর কারদার পর্ব ৪৪
ফিনারা ঝুমুর

নিশুতি রাতের কোন প্রহর চলছে, তা জানা নেই। অম্বরের বুক চিরে অঝোর বারিধারার একচ্ছত্র রাজত্ব। চারপাশ নিঝুম, ঝড়ের ঝাপটায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে।পূবকোণের একটি নিভৃত ঘরে টিমটিমে হাওয়ায় তিরতির করে দোল খাচ্ছে কয়েকটি মোমবাতির শান্ত শিখা। ​মোমবাতির আলো-আঁধারিতে বসে এক প্রবীণ পুরুষ অতীত স্মৃতি মন্থন করে অস্ফুট স্বরে বলতে শুরু করেন–

​”শ্যামা নারীদের মাঝে বোধহয় এক অদৃশ্য বশীকরণ জাদু ফুঁকে দিয়েছেন স্বয়ং বিধি! সদ্য উনিশে পা দেওয়া এক পরম রূপসী শ্যামাঙ্গিনীর প্রেমে চরম মাতোয়ারা হয়ে এক লহমায় খুইয়ে বসেছিলাম দীর্ঘ ৩৫ বছরের সযত্নে আগলে রাখা ধৈর্যের বুনোফল! পয়ত্রিশ বসন্ত পার হয়েও যে পুরুষের জীবনে কখনো ভালোবাসার মাতাল হাওয়া লাগেনি, সেই একগুঁয়ে আমি পা হড়কে বসেছিলাম এক শান্ত-শিষ্ট অচেনা কিশোরীর মায়াজালে।
সেদিন ​আষাঢ়ি পূর্ণিমার রাত। এই কারদার বাড়িতে প্রথম পা রেখেছিল সেই ঊনবিংশী কন্যা –মোছা. শারমিন সুলতানা; আমার মনের একমাত্র প্রিয়া, আমার পারু! আলেয়া আপা আর সাত্তার ভাইয়ের গা ঘেঁষে বড্ড ভয়ার্ত বদনে এই অন্দরে প্রবেশ ঘটেছিল তার। খালাতো ভাই রাশেদের জেঠাস হন আলেয়া আপা। বাবা-মা হারা অনাথ পারুকে নিজের গর্ভধারিণী মায়ের মতো পরম আদরে ও মমতায় বড় করেছিলেন তিনি।
​আমার জীবনের যৌবন তখন প্রায় যাবো যাবো করছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে এক কিশোরী নিঃশব্দে মন কেড়ে নিয়েছিল আমার! সেনাবাহিনীতে আমার পদবী লেফটেন্যান্ট কর্নেল হতে সদ্য পরিবর্তন হয়ে কর্নেলে পদার্পণ করেছে।

সেবার ​পিংকি ভাবি গর্ভবতী হলেন। তাকে দেখতে আর দেখাশোনা করার উপলক্ষেই ওদের কারদার বাড়িতে আগমন ঘটেছিল। ওরা এখানে অবস্থান করেছিল কেবল দিন সাতেকের মতো। সাতদিন পরেই তারা নিজেদের স্থায়ী আবাসস্থল—সাতক্ষীরায় ফিরে যায়।
​বিধ্বংসী নারী এখান থেকে চলে গেলেও, আমার অশান্ত মন আর বিন্দুমাত্র শান্তি পেল না! হৃদয়ের গহীনে কেবলই এক তীব্র দহন! আমি নিজেই অন্য এক বাচ্চার বিবাহিত পিতা! মনের বাসনা আর ধরে রাখতে না পেরে, ঘরে নিজের বিবাহিতা স্ত্রীকে ফেলে রেখে সোজা ছুটলাম সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে!
​সেখানে গিয়ে জানলাম, প্রেয়সী নার্সিং নিয়ে পড়াশোনা করছে। টানা দিনকয়েক ওর পিছু নিলাম, কিন্তু ফলাফল একদম শূন্য!
​অবশেষে মনের সমস্ত সাহস এক ছত্রে সঞ্চার করে নিজের ভেতরের সুপ্ত অভিলাষ ওর কাছে ব্যক্ত করতেই, পারু পরম গাম্ভীর্যে আমায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিল,
​‘আপনার ঘরে নিজের স্ত্রী আর রক্তে গড়া সন্তান রয়েছে, কর্নেল সাহেব! ওদেরকে অত সহজে ঠকিয়ে আমি কোনোদিন আপনাকে গ্রহণ করতে পারব না। আপনি হয়তো ভুল পথে ভুল ঠিকানায় চলে এসেছেন, দয়া করে নিজের আঙিনায় ফিরে যান! সামান্য দু-দিনের সাময়িক মোহতে পড়ে নিজের সুন্দর সাজানো সংসারটা এভাবে ছারখার করবেন না!’

তার এরূপ মন্তব্য শুনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে নিজের আঙিনায় ফিরে আসি। দিন কাটে, মাস গড়ায়, দেখতে দেখতে দীর্ঘ চারটি বছর অতিক্রম হয়ে যায়। বারবার ওর বন্ধ দোরগোড়ায় হাজির হয়েছি, আর প্রতিবারই ফিরেছি শূন্য হাতে। সে আমায় কোনোভাবেই গ্রহণ করেনি।
​এই দীর্ঘ বিরতির অন্তরালে, এক অত্যন্ত গোপন সামরিক কার্যে হঠাৎ সাতক্ষীরা যেতে হয়। কার্যের একপর্যায়ে আততায়ীদের অতর্কিত হামলায় তীব্র গুলিবিদ্ধ হয়ে আমায় ভর্তি হতে হয় স্থানীয় এক হাসপাতালে। ভাগ্য বোধহয় সেদিন আমার সহায় হয়েছিল! হাসপাতালে সেবাদানকারী নার্স হিসেবে সরাসরি নিজের প্রেয়সীকে পাশে পেয়ে যাই।
​পায়ে এবং হাতে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘ মাস ছয়েক সেখানে স্থায়ী ঠাঁই মিলে আমার। এই দীর্ঘ সময়ে সেবা আর সহচর্যের আড়ালে ক্ষণে ক্ষণে পারুকে দুর্বল করে তুলি আমার প্রতি। অবশেষে গভীর প্রণয়ের শুভ আগমন ঘটে আমাদের দু-জনের মাঝে! ‘চন্দ্রাণু’ নামখানা সে-ই নিজ হাতে দিয়েছিল আমায়। সেদিন হতে আমার নতুন পরিচয় হয়—‘পারুর চন্দ্রাণু।’

​প্রণয়ের মধ্যভাগে একদিন সরাসরি তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম। কিন্তু আবারও সে তা কঠিনভাবে প্রত্যাখ্যান করল! হেতু সেই পূর্বের উক্তি — আমার রক্তে গড়া সন্তান, আমার বিবাহিতা স্ত্রী আর আমার সাজানো সংসার! যা দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় আমাদের দু-জনের পরম মিলনের মাঝে। সম্পর্ক ছিন্ন করে ফের চলে যায়। পরে রইলাম আমি একা, নি:স্ব, নি:সঙ্গ!
​পার’র প্রত্যাখ্যান মানতে পারিনি। হেতুই, ততদিনে প্রেমে অন্ধ হয়ে যাওয়া আমি, জোরপূর্বক তুলে নিলাম তাকে! ওর তীব্র অসম্মতি আর কান্নার মাঝেই কাজি ডেকে বিবাহ করে নিজের অর্ধাঙ্গিনী বানিয়ে নিলাম ঠিকই, কিন্তু নিজের করে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারলাম না!
​আমার প্রথম সহধর্মিণী একপর্যায়ে জেনে গেল এই পরম গোপনীয় বিবাহের ব্যাপারে। ভেঙে খানখান হলো আমার সাজানো প্রথম সংসার, আর চুরমার হয়ে ছিন্ন হলো প্রিয়ার সাথে আমার পবিত্র বন্ধন!
​পারু তখন আমার পাঁচ মাসের গর্ভবতী! আমার মতো এক চরম অভিশপ্ত ব্যক্তির ভুল সিদ্ধান্তের হেতুই পুরো সমাজের সামনে কলঙ্কিত হলো আমার নিষ্পাপ পারু! তাকে ‘চরিত্রহীনা’, ‘কলঙ্কিনী’ সহ কত বীভৎস সম্বোধন করা হলো! এত লাঞ্ছনা, গঞ্জনা আর অপমান সয়েও আমাদের গোপন বিবাহিত সম্পর্কের কথা সে নিজে থেকে কাউকে ঘুণাক্ষরেও উল্লেখ করেনি।

​আমাদের এই বৈবাহিক জীবনের গোপন সত্যটুকু কেবল জানতেন আলেয়া আপা আর সাত্তার ভাই। উনারা প্রথমে এই অসম সম্পর্ক মানেননি, আমিই অনেক বুঝিয়ে মানিয়েছিলাম।
​পরবর্তীতে ফের ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে ফিরে যেতে চাইলে, এবারও সে আমায় কঠোরভাবে ফিরিয়ে দেয়। আমার অজান্তেই চিরতরে ত্যাগ করল সাতক্ষীরা। নিখোঁজ হয়ে চলে গেল বাগেরহাটের কোনো এক গহীন অন্তরালে!
​চারিদিকে লোক লাগিয়েও আর পেলাম না তার কোনো হদিস! অতিকষ্টে বহু বছর পর যাও বা পেলাম, ততদিনে সেটাও স্রেফ এক নিথর মৃতদেহের পরিচয়! এমনকি সেদিনও পরিচয় পেলাম না আমার সেই সদ্য জন্মানো ফুটফুটে কন্যার! এক ঝলক নিজের চোখে দেখা বা পরম আদরে নিজের কোলে তুলে নেওয়ার সৌভাগ্যটুকুও আর হলো না আমার। আক্ষেপ, কী চরম হতভাগ্য আর পাপিষ্ঠ এক পিতা আমি!”

দীর্ঘ সময় ধরে বুকের ভেতর একনাগাড়ে জ্বলতে থাকা দহনের আগ্নেয়গিরিটা নেভানোর অন্তহীন চেষ্টা করলেন কলমের নীল কালীতে। ধবল সাদা পৃষ্ঠায় নিজের হাতে ফুটিয়ে তুলছেন অতীতের সেই অন্ধকারময় অধ্যায়। সামান্য সময়ের জন্য থামলেন, তারপর আবারও কাঁপা কাঁপা হাতে সটান চালিয়ে যান কলম–
​”আমি আ.খ.ম তোফাজ্জল হায়দার। শেষমেশ বেপরোয়া ভাগ্যের কাছে হেরে গেলাম! ময়ূরী এবং এই কারদার বাড়ির পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদের হিংস্র হস্তেই নিজের অকাল জীবন বিসর্জন দিয়েছিল আমার পারু! ওহ! ময়ূরী, আমার প্রথম বিবাহিতা স্ত্রী। অনিচ্ছাকৃতভাবে নিজের মেজো ভাইয়ের বাগদত্তাকে গ্রহণ করতে হয়েছিল আমায়। বৈবাহিকের এই দীর্ঘ তেত্রিশ বছরের পঙ্গু জীবনে তার সাথে আমার শারীরিক মিলন ঘটেছে বিশের মতো। আর সেটাও পুরোপুরি তার কুৎসিত প্ররোচনায়! যার নামটুকুও কোনোদিন হৃদয়ে স্থান পায়নি, তারই সাথে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলাম সংসার নামের নির্মম যাতাকলে। ময়ূরীকে যতবার স্পর্শ করেছি, ভেতরের কোনো আত্মিক টান আসেনি সেথায়। আমার প্রথম সন্তান প্রহরই কেবল তার ফসল। প্রহর, শীর্ষ এবং নোমান ছিল একদম সমবয়সী। পারুর সাথেও ওদের ভাইদের সম্পর্কটা ছিল ভীষণ বন্ধুত্বপূর্ণ।
​আমার এই ব্যর্থ অস্তিত্বের কারণেই আজ পাঁচ-পাঁচটি নিষ্পাপ জীবন চিরতরে নষ্ট হয়ে গেল! পারুর সুবিন্যস্ত জীবনে আমার অভিশপ্ত আগমনে পারু ত্যাগ করল এই দুনিয়া, অন্যদিকে আলেয়া আপা আর সাত্তার ভাই হারালেন তাদের বোনের মতো আগলে রাখা আপন সন্তানকে।

​পরবর্তীতে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়তে থাকা আমার নিষ্পাপ কন্যা মেঘের জীবনে ভাগ্যক্রমে আমার আগমন ঘটে। সেদিন প্রথমবার সামনাসামনি দেখেছিলাম তাকে। সেই হুবহু টানাটানা দুটি মায়াবী চোখ, একই শ্যামলা ত্বক, একই অবয়ব — সবই যে আমার পারুর অবিকল ছাপ! এক পলকেই চিনে নিয়েছিলাম আমার রক্তের কলিজাকে। ওর অজান্তে ওকে পরম মমতায় নিজের ক্ষয়ে যাওয়া বক্ষে জড়িয়ে নিয়ে ললাটের ভাগে গভীর একখানা স্নেহচুম্বন এঁকে দিয়েছিলাম।

​কিন্তু হে খোদা! সেটাই যে ওদের সাজানো জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা কে জানত? আমার ওপর তিলে তিলে প্রতিশোধ নিতে ময়ূরী আর তার বাপের বাড়ির কুচক্রী পরিবার অর্থাৎ কারদার বাড়ির কয়েকজন শয়তান এক ভয়ঙ্কর গুটি হিসেবে বেছে নেয় সাত্তার ভাইয়ের নিজের কলিজার টুকরো কন্যা ঝিলিকে! তাদের এক লম্পট ছেলের হাতে তুলে দেয় নিষ্পাপ ঝিলিকে, যে কিনা নিজের তিনজন নরপশু বন্ধুকে সাথে নিয়ে দিনের পর দিন গণধর্ষণ করে ওই পবিত্র ফুলের মতো কন্যাকে! মেয়েটা অমানুষিক চেষ্টা করেও ওদের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারেনি।
​লোকসমাজ তক্কে তক্কে থেকে ওদের বিষাক্ত আঙুল তুলে চরম কণ্ঠাসা করতে শুরু করল পরিবারটিকে। শেষে ঝিলির প্রয়োজনীয় ডাক্তারি ওষুধের সাথে কায়দা করে মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষাক্ত ওষুধ মিশিয়ে দিয়ে পরম ধীরগতিতে ওকে ঠেলে দিল মৃত্যুর মুখে! আমার অবুঝ কন্যা মেঘ তখন কেবল নবম শ্রেণির এক ছোট্ট ছাত্রী!
বছর কাটে, সময় আপন গতিতে আগায়। আমার নিষ্পাপ কন্যা এবার বয়সে বড় হয়। কিন্তু অতীতের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আমারই মতো আমারও কন্যার পরম প্রেমে মাতোয়ারা হয় মেজর শীর্ষ!

​কিন্তু নির্দয় ভাগ্য বোধহয় আমাদের ওপর আবারও মারাত্মক ক্ষুব্ধ হলো! রামুর নির্জন রাবার বাগানে আমার অবুঝ কন্যাকে নির্মম ধর্ষণের শিকার করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠল আমার প্রথম স্ত্রী ময়ূরী ও তার নিজের ভাই জুবায়ের কারদার! তবে অসীম খোদার অশেষ রহমতে, সে যাত্রায় শীর্ষর অধীনে থাকা অনুগত সৈন্যরা ঠিক সময়ে পৌঁছে বাঁচিয়ে নেয় আমার রাজকন্যাকে।
‘আমি এক ব্যর্থ পিতা। নিজের কন্যার মুখের প্রথম “বাব্বাহ্” বুলি শোনার ভাগ্য আমার হয়নি। হাতে হাত ধরে ওকে হাটানো হয়নি। দেখা হয়নি তার বেড়ে ওঠা। খুশিতে আমার তৃষ্ণার্ত বুকে কেউ ঝাঁপিয়ে বলেনি,”তোমায় আমি ভালোবাসি।’

বর্তমানে আমার পরম মায়ার মেঘমালার বয়স ঠিক আঠারো। বড় ছেলে প্রহর হতে তার বয়সের ফারাক সেই ১৩ কিংবা ১৪ বছরের। প্রতিটি পদক্ষেপে আমার এই নিষ্পাপ কন্যার জীবনে এত দুর্যোগ ও বিপর্যয় নেমে আসার পেছনে সরাসরি আমিই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী! কেবল ওকে নিজের করে কাছে পেতে চাওয়ার পাপিষ্ঠ ইচ্ছাতেই বারবার ওর হাসিখুশি জীবনে এত দুঃখ আর কালো মেঘ নেমে এসেছে!
​’ইহজীবনে আমার দ্বারা ঘটিত সমস্ত পাপের চরম মাশুল আর সাজা শেষমেশ পেল আমারই এই হতভাগা কন্যা! না পেল সে গর্ভধারিণী মায়ের পরম উষ্ণ আঁচল ও মায়াবী ভালোবাসা, না কোনোদিন জানতে পারল নিজের আসল জন্মদাতার পূর্ণ পরিচয়! রক্তের কন্যার মায়াবী চোখের মণিতে আজ আমি চিরতরে এক ঘৃণিত ও নরপশু অপরাধী। তবে আমার এই অভিশপ্ত ও পঙ্গু জীবনের জন্য মরণ এসেও কেন অধরা হয়ে থাকে? আর কত কাল এভাবে আমায় নরকযন্ত্রণা সয়ে অপেক্ষা করাবে মরণ?’

​আজ এমন হাজারও বুকচাপা উক্তি আমার জরাজীর্ণ মন আর মস্তিষ্ক জুড়ে প্রতিনিয়ত ঘুরে বেড়ায়, কালবৈশাখীর মতো তোলপাড় সৃষ্টি করে বুকের ভেতর। আজ আর এই নশ্বর ধরণীতে নয়, হাতড়ে আমি খুঁজতে চাই সেই চিরশান্তির সুখের নীড়। যার স্থান ওই ওপারের শুভ্র জগতে; যার নাম—চন্দ্রের পারুলতা!”
হস্ত থামে তার। চারিদিকে এবার ভোরের শুভ সূত্রপাত হয়েছে। পূব আকাশে সোনালী আর কমলার মায়াবী আভার এক মনোহর কল্পপট যেন প্রকৃতি নিজ হাতে তুলিতে রাঙিয়ে তুলেছে। আসমানের সেই বৈচিত্র্যময় রঙিলা চিত্রের দিকে গভীর নজর লেপ্টে রেখে অস্ফুট ও করুণ স্বরে জানান দেয় সে,

মেজর কারদার পর্ব ৪৩

​“আমি এক বিভীষিকাময় অভিশাপ। সবার সাজানো জীবনের জন্য চিরন্তন এক অভিশাপ! আমার কৃতকর্মের সমস্ত পাপের শাস্তি নিঃশব্দে সয়ে গেল আমার দুই-দুটো নিষ্পাপ সন্তান, আর আমার একমাত্র কলিজার টুকরো প্রিয়া! হে পরম খোদা, ওদের জীবনে এত কষ্টের কালো ছায়া না দিয়ে… সব সাজা দিয়ে আমায় নিজের কাছে তুলে নিলেই তো পারতে! আর কতকাল অপেক্ষা করাবে? কবে আমায় নিজের কোলে তুলে নেবে, বলো? আমার পারু যে ওই ওপারে বড্ড আকুল হয়ে আমার পথচেয়ে বসে রয়েছে!”

মেজর কারদার পর্ব ৪৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here