Home নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২১

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২১

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২১
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_”আপনি কাকে লেতুর বললেন?”
নুবার কথায় আরহাম সহ আয়রা দুই জনেই তার দিকে তাকালো।নুবা এগিয়ে এসে আয়রার দিকে ভুরু নাচিয়ে বললো
_”আপনার মাম্মাকে লেতুর বললো,আর আপনি কিছুই বললেন না,not fair.”
নুবাকে দেখে আয়রা ছুটে আসলো তার কাছে।এসেই কোলে উঠার জন্য বায়না ধরলো।নুবা আয়রার কান্ড দেখে মুচকি হেসে তাকে কোলে তুলে নিলো।

পরি পানি খেয়ে যখন গলাটা একটু ভিজিয়ে নিলো।তখনি নাবিল তার চুলের মুঠি আঁকড়ে ধরলো।পরি অতিষ্ঠ হয়ে গেলো। ব্যথায় মস্তিষ্ক চিনচিন করে উঠলো। ক্লান্ত পরি দুই হাত দিয়ে নাবিলকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো।তখনি নাবিল দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠলো
_”ওগো লোগে কিয়ের সম্পর্ক তোর? রাস্তায় দাঁড়াইয়া আলাপ করতাছিলি কেন?”
পরি বুঝতে পারলো আরহামদের কথা বলছে।তবে পরি এই মূহুর্তে কিছুই বলতে চাইলো না, কারণ সবটা বললে যদি আরো খেপে যায় তবে।তার তো রক্ষে নেই। পরি কথা ঘুরিয়ে কম্পিত কন্ঠে বললো
_”কি,কি বলছেন আপনি।আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।”
নাবিল পরির প্রশ্নে আরো তেতে উঠে পরির গাল চেপে ধরে সুধালো
_”কিছুই বুঝোস না,তাই না?গালের উপর ৪/৫ টা পড়লে ঠিকি বুঝবি।”
পরি হাঁসফাঁস করে উঠলো।নাবিল আবারো প্রশ্ন করলো

_”কি হইলো? কস না কেন,ওই মির্জা পরিবারের লোগে কি তোর?ওদের বাচাইতে চাইলি কেন।বলোস না?”
শেষ দুটো শব্দ বেশ চেঁচিয়ে উঠে বললো।পরি টের পেলো।না বললে তাকে রেহাই দিবে না তবে সে পুরো সত্যিটা কিছুতেই বলবে না।পরি কোনো মতে ফিসফিস করে বলে উঠলো
_”ও,ওই বাড়িতে টিউশনি করতে যেতাম।ওখান থেকেই পরিচিত।”
কথাটা নাবিল কিছুটা বিশ্বাস করলো।তবে পরি বুঝতে পারছে না,নাবিলের তাদের সাথে কিসের দুশমনি । কারণ তার জানা মতে এমন কিছুই তো না।তাহলে কি তার অনেক কিছু অজানা।
নাবিল পরির কথা টুকু শুনে তাকে ছেড়ে দিলো ঠিকি তবে মুখের বাক্য দিয়ে তাকে ব্যথায় জর্জরিত করলো।পরি শুধু নাবিলের বিচ্ছিরি কথা গুলো হজম করে নিতে লাগলো
_”পড়ায়তে গেছোস নাকি নডি পানা করতে?কি পিড়িত যে মাঝ রাস্তায় গাড়ি থাইকা নাইমা আলাপ করতে হয়। গল্প মারাও না গল্প?হেগোরে বাঁচাও। কিন্তু তুই চিন্তা করিস না।ওগোরে তোর চোখের সামনেই মারমু।তখন পিড়িত উতলায় উতলায় পড়বোনে।”
কথাগুলা বলে নাবিল কেম খেপে গেলো। এগিয়ে এসে পরির গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো।পরি চোখ মুখ খিচে নিলো।নাবিল কেমন ক্ষিপ্ত হয়ে বললো

_”পড়ান চুদাও তুমি না।তা পড়াইতে যাইতা নাকি লাং ঠাপাঠাপি করতে যাইতা?এতো টাকার লোভ,খানকি আমি না থাকায় উইড়া বেড়ায়ছে,যে ওই বাড়ি পর্যন্ত পৌইছা গেছে।”
নাবিলের মনে হচ্ছে পরিকে মেরে আধমারা করতে।একে তো তার জন্য আরহাম বেঁচে গেলো তার উপরে পরি নাকি ওদের সাথে পরিচিত,বিষয়টা হজমি করতে পারছে না। হয়তোবা তার কোনো দিক দিয়ে জেলাস হচ্ছে যে তার বউ লোকের বাড়িতে টিউশনি করে বেড়াতো আর তারি শত্রুর বাড়িতে। নিশ্চয় সেই সময় আরহাম পরিকে দেখছে। আরহাম কেনো অনেক মানুষি দেখছে।এই বিষয়টা নিয়ে অস্থির হলো নাবিল।তার থেকেও বড় বিষয় আরহাম তার হাত ছাড়া হয়ে গেলো তবে নিশ্চয় সে সবটা সুদে আসলে বুঝে নিবে।

নুবা আরহামের ব্যান্ডেজ করা স্থান একটু ছুঁয়ে বললো
_”এখনো ব্যথা হচ্ছে।”
_”উম হুম(না)”
নুবা তাও শান্ত হতে পারলো না, চিন্তিত কন্ঠে বললো
_”বল্লাম doctor এর কাছে চলুন,আপনি আমার একটা কথাও শুনেন না। ধূর ভালো লাগে না।”
আরহাম নুবার চুপসে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে বললো
_”মনে হচ্ছে খতো তোমারি শরীরে হয়েছে। ব্যথাটাও তুমি পেয়েছো,আমি না!”
নুবা ফ্যালফ্যাল করে আরহামের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আরহামকে জরিয়ে ধরে মৃদু কন্ঠে বললো
_”আমার খুব ভয় হচ্ছে আরুর পাপা। আমার সত্যি ভয় হচ্ছে।”
আরহাম নুবার অস্থিরতা বুঝতে পেরে মুচকি হেসে বললো

_”কিছুই হবে না। শান্ত থাকো।”
নুবা কিছু সময় চুপ থাকলো পরপর কিছু একটা মনে পড়তেই নুবা পিলে চমকে উঠে আরহামের দিকে তাকালো।কিছুটা বিচলিত হয়ে বললো
_”আমার পরি মেমের জন্য চিন্তা হচ্ছে। আল্লাহই জানে উনি ঠিক আছে কিনা?”
আরহাম চুপ রইলো। উত্তর দিলো না, কারণ সে কোনো একটা বিষয় নিয়ে বেশ চিন্তিত।আরহামকে চুপ থাকতে দেখে নুবা আবারো তার বুকে মাথা রেখে মিনমিন করে বললো
_”আমার বিশ্বাসি হচ্ছে না,ওই গুন্ডা পরির মেমের husband । আমার কথাটা ভেবেই কেমন যেনো লাগছে। বলুন,পরি মেমকি ওরকম husband ডিজার্ভ করে?”
আরহাম নুবার কথায় ঠোঁট হেলিয়ে হেসে কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_”সবার নিয়তি এক নয়।কখনো ভাবিনি আয়রার জন্য তোমার মতো একজন মা পাবো।তেমনি সবকিছু ভাগ্যো ,যা কখনো বদলানো যায় না।বুঝলে আমার টুনটুনি?”
আরহামের শেষ শব্দে নুবা মুচকি হেসে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো।

আরও কিছুটা সময় কেটে গেলো।এরই মাঝে ঋতুর রংও যেন একটু একটু করে বদলে গিয়েছে।নুবা আর আরহামের বিয়ের অনুষ্ঠানে দিন এগিয়ে আসছে। তাদের সকল প্রস্তুতি শেষ প্রায়। তবে আরহাম প্রচন্ড সতর্ক হয়ে গেছে। কারণ সে জানে নাবিল এতো সহজে তাকে বা তার পরিবারএ ছেড়ে দিবে না। আরহাম শুধু নুবা আর আয়রার মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ আছে। কারণ এদের দুজনের কিছু হয়ে গেলে আরহাম নিঃস্ব হয়ে যাবে।তার উপর আবার অনুষ্ঠান।
নাবিল সবটাই খোঁজ নিয়ে, আপাতত সে খুব সুন্দর করে প্লানিং করছে কিভাবে কি করা যায়। কারণ সে আরহামকে এতো সহজেই মারবে না।অন্য দিকে পরির অবস্থা তেমন ভালো না। চিন্তায় চিন্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছে সে,যে নাবিল কেনো আরহামদের পিছনে পড়ে আছে।

নুবা গালে হাত দিয়ে আরহামের দিকে তাকিয়ে আছে। এদিকে আরহাম খুব মনোযোগ সহকারে নিজ বউয়ের হাতে মেহেদি পড়িয়ে দিচ্ছে।নুবার কাছে যা স্বপ্ন মনে হচ্ছে, কারণ এই সবকিছুই তার কাছে একটা স্বপ্নের মতো।আরহামের মতো স্বামী সে পাবে কখনোই ভাবেনি তবে পেয়ে গেছে।
নুবাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরহাম তার দিকে না তাকিয়েই বললো
_”কি ম্যাডাম? তাকিয়ে আছেন যে?”
নুবা আরহামের কথায় আরো নিরিক করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_”আপনার মতো একজন husband কেনো পেলাম বলুন তো?”
_”তুমিই বলো কেনো পেলে,আমি তো জানি না!”
নুবা মিটমিট করে হেসে বললো

_”কারণ আমি অনেক ভালো। অনেক সুন্দর, অনেক গুনোবতী ,আমি একদম পারফেক্ট,আর তার থেকেও বড় কথা,আমার ভাগ্য সোনা দিয়ে মুড়ানো।”
বলেই হাসলো নুবা,তাকে এরকম ভন্ডামি করতে দেখে আরহাম ফিক করে হেসে উঠলো।এই মেয়ের থেকে শিখুক কেউ,নিজের প্রশংসা নিজে কিভাবে করতে হয়।
আরহাম নুবার দিকে এক পলক তাকিয়ে সময় নিয়ে বললো
_”কারণ আয়রা,ও যদি আমার জীবনে না আসতো তবে এই আরহাম কখনোই তোমার প্রতি attracted হতো না।এটাই সত্যি!”
আরহামের কথা শুনে নুবার কেমন যেনো খারাপ লাগলো।নুবা আর কোনো কথা বলতে চাইলো না তাও বিরবির করে বললো

_”তার মানে আয়রার জন্য সব, হয়তোবা আমাকে একটুও পছন্দ করেন না আপনি? তাই না?”
আরহাম বুঝতে পারলো তার গাল ফুলানো বউয়ের রাগ হয়েছে তাই সে মিটমিট হেসে বলে উঠলো
_”যদি আয়রা না থাকতো তবে আমি তো আর জানতাম না তুমি এতো ভালো আর পারফেক্ট।আর না জানলে কি করে বিয়ে করতাম হুম?”
আরহামের কথায় নুবা আবারো স্বাভাবিক হলো। আরহাম নুবার মাথায় আলতো করে চুমু খেয়ে বললো
_”এই মাথাটা শুধু শুধু ফেলে রেখে জং ধরাচ্ছো।একটু ব্যবহার করা শিখো জান!না হলে সবাই তোমাকে পাগল বলবে।”
কথাটা শুনে নুবা একটু তেতে উঠলো।কত বড় সাহস পাগল বলছে।নুবা দাঁত কিরমির করে বললো
_”আমি পাগল, আমি?
আরহাম এক গাল হেসে বললো
_”কোনো সন্দেহ?”
নুবা সাপের মতো ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”তাহলে পাগল কি করে এটাও দেখে নেন!”

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২০

বলেই নুবা হাতে মেহেদি নিয়েই আরহামের উপর ঝাপিয়ে পড়লো। আরহাম একটু হাসলো।নুবা মেহেদি দেওয়া হাত উঁচু করে রেখে অন্য হাত দিয়ে আরহামের কাঁধে চেপে ধরে তার গালে দাঁত বসিয়ে দিলো। আরহাম শব্দ করে হাসলো নুবার কান্ডে ।আরহামকে এখনো হাসতে দেখে নুবা এবার গাল ছেঁড়ে আরহামের ঠোঁট দাঁত দিয়ে চেপে ধরলো। আরহাম তাও যেনো হাসার চেষ্টা করলো।তা দেখে নুবা এবার দুই ঠোঁট দিয়ে আরহামের ঠোঁট দুটো চেপে ধরলো।এই সুযোগে আরহাম বেশ ভালো ভাবেই বউটাকে আদর করে নিলো।

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here