Home রুহ এ ইশক রুহ এ ইশক পর্ব ২৮

রুহ এ ইশক পর্ব ২৮

রুহ এ ইশক পর্ব ২৮
আনান রোজ

তুমি একজন প্রফেসর হয়ে, একটা মেয়ের জন্য এত পাগলামো করছ? তাও কিনা ২০ বছরের ছোট মেয়েটা তোমার থাকে। বয়সের একটা লেহাজ করতে? আর সোসাইটির কথা? সব না হয় বাদ দিলাম কিন্তু তোমার ড্যাড কে কি বলবে উযাইন?
কথা গুলো একনাগাড়ে বলে গেলেন উযাইনের মা এলিজা। উনার ঠিক সামনেই বসা উযাইন আবরার! পাশে আসিফ বসে ওর হাতে ব্যান্ডেজ বেধে দিচ্ছিল। উযাইনের এই নিরবতা উনার একদমই ভালো লাগেনি, উনি আবার কিছু বলতে যাবে তখনি—
—”সে কোনো সাধারণ মেয়ে না, শী ইজ মাই ওয়াইফ! আমরা বিবাহিত। আর আমার লাইফের কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই আমি, কাউকে!”
উযাইনের এই কথা আর কথার ধরন শুনে, মিসেস এলিজা রেগে গেলেন, উনি রাগ মিশ্রিত গলায় বলে উঠেন—

—”এসব কি ধরনের কথা বলছ তুমি, আমি তোমার মা হই। তোমার লাইফে কি হচ্ছে না হচ্ছে সব দেখার রাইট আছে। তোমার একটা ছেলে আছে, আর তুমি নিজের অধেক বয়সের মেয়ের জন্য নিজের মায়ে…”
—”চুপ করুন মিসেস আবরার! আপ্নাদের একটা ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আমাকে অনেক কিছু সইতে হয়েছে, এমন কি আমাইরা কেও। তাই এসব কথা এখন বেমানান।”
উযাইন মিসেস এলিজা কে উনার কথার মাঝ পথে থামিয়ে, গর্জে উঠল। এর প্রতুত্তর করলেন না, উনি! কারণ নিজের মনে তিনি আজও অনুশোচনায় ভোগেন। ওই বিজনেস মেরিজ টা সত্যিই উনার ছেলের জীবন টা একেবারে বদলে দিয়েছে, আর আমাইরাকে এক্সেপ্ট না করার অনুশোচনাও রয়েছে। মায়ের নীরবতায় উযাইন আবার কিছু টা স্বাভাবিক হয়ে বলে—

—”আপনি কেন সমাজের দোহাই দিচ্ছেন? আপ্নিও ত ড্যাডের সিনিয়র ছিলেন! এমন কি অন্য ধর্মেরও ছিলেন, তাহলে?”
—”দেখ উযাইন তুমি আমার একমাত্র সন্তান! আমাইরা কে কোথাও পাওয়া যায়নি। আমি তোমাকে হারাতে চায়না! আমার চাওয়া এটাই তুমি জীবনে সুখী হও। আর তোমার লাইফে যেই আছে ও যেন তোমাকে আগলে নেয়!”
বলে উনি উঠে এসে উযাইনের কপালে চুমু দিয়ে, বললেন—
—”কয়েক বছর আগে আমি অনেক অপরাধ করছি ওই বিয়েতে মত দিয়ে, বাবা! তোমাকে বুঝতে চাইনি। এবার আর এমন হবে না, বলো কবে নিয়ে যাবে আমার পুত্রবধূর কাছে?”
উযাইন মায়ের অনুভূতি বুঝল। সে কখনো মায়ের সাথে এমন আচরণ করেনি,এমন কি ওর লাইফের সেই জঘন্য ঘটনার পরেও সে কোনো বেয়াদবি কয়েনি বাবা মায়ের সাথে, সে মুচকি হেসে বলে—

—”শীগ্রই।”
এরপর মিসেস এলিজা চলেগেন নিজের রুমে। আর এই সবটা সময় আসিফ কাচুমাচু হয়ে ছিল। কারন সে জানে উযাইন আর ওর মা ঠিক একই মেজাজের। কিন্তু এখন সে উযাইনের দিকে তাকিয়ে চিন্তিত গলায় বলে —
—”এবার এসব মারপিট বাদ দে! দিয়ে, সংসারে মন দে। এখন ওই ক্রাইম ওয়ালর্ড থেকে বেরিয়ে আয়। নাহয় তোর পিচ্ছি যখন জানবে যে তুই এত টাও নিশপাপ না তখন যে কি হবে আল্লাহ জানে।”
উযাইন মুচকি হাসে সে বলে —
—”কিছু হবে না, সে একটা বাঘিনী! বাই দ্যা ওয়ে, আবিরের ব্যাকগ্রাউন্ড এর খুজ নিয়েছিস?”
আমি ডাক্তার! তোর মত ক্রিমিনাল না।
উযাইনের প্রশ্নের উত্তরে আসিফ কিছু টা ভাব নিয়ে, কথা গুলো বলে। আর উযাইন ওর দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে বলে—
—”তাই?”
আসিফ হুট করেই শব্দ করে হেসে উঠে।

ওদিকে এলিনা নিজের ঠোঁটের কোণের হাসি এক নিমেষে মুছে ফেলল। সে নিজের সন্দেহের চোখ জোড়া একদম ছোট ছোট ও তীক্ষ্ণ করে। ইনশিরার দিকে তাকিয়ে রইল! পুরো ডিনার টেবিলের আকাশে এক প্রকাণ্ড ভয়ংকর বজ্রপাতের মেঘ জমতে শুরু করল! ইনশিরার হৃৎস্পন্দন তখন তীব্র আতঙ্কে একশো পার হয়ে গিয়েছিল !
কিন্তু সবাইকে এক প্রকাণ্ড ধাক্কা দিয়ে এলিনা নিজের মুখভঙ্গির তীব্র আতঙ্ক এক নিমেষে লুকিয়ে ঠোঁটের কোণে এক চূড়ান্ত ক্ষুরধার ও রহস্যময়ী বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলল।
এলিনা ইনশিরার এই রূপ দেখে হাততালি দিয়ে চতুর গলায় বলল—
—”বাহ্…! আমার ভাইয়ের চয়েস বলতে হবে সত্যিই অনেক সুন্দর! তোমার জন্য আমার ভাইয়ের এই ছটফটানিটা আজ থেকে এক্কেবারে সার্থক মনে হচ্ছে!”
ইনশিরা নিজের ডাগর চোখ দুটো বড় বড় করে এক চরম অবাক ও বিস্ময় নিয়ে এলিনার ওই ধূর্ত ফেসটার দিকে তাকিয়ে রইল। সে নিজের মনে মনে এক তীব্র আশঙ্কা নিয়ে ভাবল—

— “এই অহংকারী মেয়েটা… মাথায় নিশ্চয়ই নতুন কোনো ভয়ংকর বিষাক্ত চক্রান্ত ঘুরছে !”
ওদিকে পাশে বসা এলিন কোরটান ইনশিরার এই মায়াবী গোলাপি শাড়ির রূপের দিকে এক গভীর, অপার্থিব মুগ্ধতা নিয়ে অপলক চেয়ে ছিল। লন্ডনের নামকরা প্লে-বয় হিসেবে ও নিজের লাইফে এর আগে শত শত মডার্ন মেয়ের শরীর নিয়ে সস্তা খেলা খেললেও এই ১৯ বছরের বাঙালি মেয়েটার এই নিষ্পাপ ও রাগী স্বভাবের সামনে ওর নিজের ভেতরের সমস্ত নোংরা কামনার সত্ত্বা আজ এক নিমেষে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে! ইনশিরার প্রতি ওর নিজের মনের ভেতরের এই অনুভূতিটা আজ বড্ড বেশি পবিত্র আর নিখাদ ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে।
এলিন ইনশিরার একদম কাছাকাছি নিজের মুখটা এনে, এক চরম আকুল ও পরম মায়াবী গলায় ফিসফিস করে উঠল—

—”হেই… ফেইরি! আজ রাতের এই চাঁদের আলোয় তোমাকে এতটা গর্জিয়াস লাগছে যে আমি নিজের চোখেই বিশ্বাস করতে পারছি না যে তুমি খুব জলদি অফিশিয়ালি আমা…”
ইনশিরা এলিনের কথার মাঝপথেই ওনাকে হাত দিয়ে থামিয়ে, এক বুক চরম অস্বস্তি নিয়ে কড়া গলায় বলল—
—”লিসেন, মিস্টার এলিন… আপনার সাথে আমার খুব জরুরি কিছু কথা আছে! আমি আসলে…
ইনশিরা নিজের বিবাহিত থাকার সত্যিটা এলিনকে মুখ ফুটে বলতে যাবে—ঠিক তখনই ডিনার টেবিলের চারপাশ জুড়ে এসে হাজির হলেন এলিনের বাকি বিদেশী রিলেটিভ ও আত্মীয়রা। ওনাদের মাঝখান থেকে এলিনের এক চটপটে চাচী, যিনি নিজেও একজন খাঁটি বাঙালি—তিনি অত্যন্ত হাসিমুখে ইনশিরার কপালে হাত ছুঁইয়ে আদুরে গলায় বলে উঠলেন—
—”বাহ! আমাদের এই কোরটান ফ্যামিলির বাড়ি জুড়ে এবার তাহলে আরেকজন খাঁটি সুন্দরী বাঙালি মেয়ে বউ হয়ে আসতে চলেছে!”
ইনশিরা নিজের মনের ভেতরের তীব্র মানসিক ট্রমাটা চেপে রেখে ওনাদের সামনে সৌজন্যতার খাতিরে একটা ম্লান, শুকনো মুচকি হাসি দিল। সে খুব ভালো করেই বুঝতে পারছিল যে নিজের জেদের কারণে পুরো পরিস্থিতি এখন হিতে বিপরীত হতে চলেছে!
এলিনা দূর থেকে ওনাদের আড্ডার দিকে তাকিয়ে, ইনশিরার দিকে চোখ ছোট করে সায় দিয়ে চতুর গলায় খোঁচা দিল—

—”হ্যাঁ আন্টি, আপনি একদম ১০০% ঠিক কথা বলেছেন! এই বাঙালি মেয়েদের মাঝে বড্ড বেশি গুণ দেখছি আমি! এরা একসাথে এত কিছু নিখুঁতভাবে সামলে নেওয়ার ক্ষমতা আক্ষরিক অর্থেই প্রশংসনীয়!”
এলিনার ইঙ্গিত করে এই ভয়ংকর ডাবল মিনিং খোঁচা সংলাপের আসল ইনডাইরেক্ট মানে—এই পুরো ডিনার টেবিলের শত শত মানুষের মাঝে ইনশিরা ছাড়া আর কোনো দ্বিতীয় প্রাণীর পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না! ইনশিরার পিঠ বেয়ে এক তীব্র শীতের ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। ওদিকে ডাইনিং স্পেসের অন্য এক ভিআইপি কোণে দাঁড়িয়ে ইনশিরার বাবা জাহির আর মা ইরা মিস্টার এডাম কোরটান ও ওনার মডার্ন, অত্যন্ত স্টাইলিশ ও আধুনিক পোশাক পরা স্ত্রী ইভানার সাথে নতুন মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের বিজনেস প্রজেক্ট নিয়ে অনর্গল হেসে হেসে কথা বলছিলেন। ইনশিরা নিজের ফোনটাও ওপরের লাউঞ্জের রুমে রেখেই নিচে নেমে এসেছে।

ঠিক তখনই রাত প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ রিসোর্টের আঙিনায় এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো। হুট করেই জাহিরের পকেটে থাকা ফোনটা তীব্র আওয়াজে রিং হয়ে উঠল। জাহির ফোনটা কানে নিয়ে ওপাশ থেকে কারো একটা গম্ভীর কণ্ঠস্বর শুনে এক গাল হেসে চড়া গলায় রিসোর্টের লাইভ লোকেশনের ঠিকানা আর ডিনারের জায়গার কথা খুব স্পষ্ট করে ওপাশকে বুঝিয়ে দিলেন ।
মিনিট পাঁচেক পর, মিস্টার এডাম কোরটান আর জাহির—দুজনে বিজনেস ফাইলটা হাতে নিয়ে আড্ডা দিতে দিতে ওয়াকওয়ের দিকে কিছুটা সামনে এগিয়ে গেলেন ।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে… রিসোর্টের আঙিনার কুয়াশা আর প্রকাণ্ড সার্চলাইটের আলো ভেদ করে ওদের দিকে এক ভয়ংকর রাজকীয়, দীর্ঘদেহী ও বন্য পুরুষালী সত্ত্বা নিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে আসতে দেখা গেল এক চেনা পুরুষকে! ওর পরনে ব্ল্যাক ওভারকোট আর কালো শার্ট, যার ওপরের কলারটা আলগা করে খোলা। আর সেই খোলা কলারের ফাঁক দিয়ে ওর ফর্সা ফরসা গলায় বেয়ে ওপরের দিকে উঠে যাওয়া সেই রাজকীয় কালো ট্যাটুটা স্পষ্ট উঁকি মেরে নিজের ভয়ংকর রূপের জানান দিচ্ছে!

ওর ট্যাটুটা করা হাতটা সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো, ওল্ফ কাট চুলগুলো বাতাসে এলোমেলো হয়ে আছে। আর ওনার সেই মসৃণ ফরসা ঠোঁটের এককোণে এক গভীর জখম শুকিয়ে আছে! ওকে আলোর সামনে এগিয়ে আসতে দেখামাত্রই— জাহিরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মিস্টার এডাম কোরটানের পুরো শরীরটা এক অজানা আতঙ্কে এক সেকেন্ডে বরফের মতো জমে গেল, সে তীব্রভাবে থমকে দাঁড়াল!
জাহির অত্যন্ত হাসিমুখে এগিয়ে গিয়ে উযাইনকে দুই হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন—
—”আয়… ভেতরে আয় উযাইন!”
এডাম কোরটান নিজের চোখ দুটো অবিশ্বাস্যভাবে বড় বড় করে, তীব্র এক প্যানিকড ও কাঁপানো গলায় জাহিরকে জিজ্ঞেস করলেন—
—”জাহির কায়নাত…?! উযাইন আবরারের সাথে তোমার কী সম্পর্ক? উনি এখানে এই রিসোর্টে কেন এসেছেন?”
জাহির এডামের কাঁধ চাপড়ে খুব গর্বের সাথে বললেন—
—”আরেহ কোরটান সাহেব! ও তো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড! এই লন্ডনের মাটিতে ও-ই আমার একমাত্র পরম আশ্রয় । আর উযাইন… মিট মিস্টার এডাম কোরটান, উনিই হলেন আমাদের এই নতুন মাল্টি-মিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের প্রধান ইনভেস্টর আর বিজনেস পার্টনার!”

উযাইন আবরার নিজের ঠোঁটের কোণের সেই জখম থেকে গড়িয়ে পড়া রক্তের দাগটার ওপর নিজের জিভ বুলিয়ে, এক চরম চতুর, ক্ষুরধার ও ভয়ংকর বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলল! ওর নীলচে চোখ জোড়া জ্বলন্ত হয়ে মিস্টার এডামের চোখের মণির দিকে নিবদ্ধ হয়ে রইল! সে নিজের ব্যান্ডেজ করা হাতটা বাড়িয়ে এক কদম এগিয়ে এলো।
উযাইন এডামের দিকে এক ইঞ্চি ঝুঁকে এসে, বরফ শীতল ধারালো গলায় বলল—
—”I know him very well, Zahir…!
মিস্টার এডাম কোরটান উযাইনের এই প্রকাণ্ড খুনে চাউনি দেখা মাত্রই নিজের ভয়ের চোটে এক শুকনো ঢোক গিলে নিজের কপাল বেয়ে ঘাম ঝরিয়ে ফেললেন! সে নিজের হাতটা উযাইনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে এক অদ্ভুত ক্যাজুয়াল মুচকি হাসি ফুটিয়ে তোলার ব্যর্থ চেষ্টা করে বলল—
—”হ্যালো, প্রফেসর আবরার… আজ রাতের এই ডিনার পার্টিতে আপনার সাথে আবার এভাবে দেখা হয়ে যাবে, আমি সত্যি কোনোদিন ভাবতেই পারিনি!”
উযাইন এডামের সেই বাড়িয়ে দেওয়া হাতের তালুটা নিজের শক্ত বলিষ্ঠ হাতের মুঠোয় জড়িয়ে ধরে এত জোরে এক প্রকাণ্ড চাপ বা মোচড় দিল যে এডামের নিজের হাড় মট করে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলো! উযাইন ওনার ফেসের একদম কাছে নিজের মুখটা এনে এক ভয়ংকর ডার্ক ক্রিমিনাল ভাইভে ফিসফিসাল—
—”আমিও তো ভাবিনি মিস্টার এডাম… তবে এই দুনিয়াটা বড্ড বেশি ছোট”
এডাম নিজের হাতটা কোনোমতে ওনার শক্ত মুঠো থেকে টেনে ছাড়িয়ে নিয়ে নিজের বাঁকা হাসি ধরে রেখে এক বুক আতঙ্ক নিয়ে বলল—

—”জাহির যে তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড, তা আমার আগে একদমই জানা ছিল না!”
উযাইন মুচকি হাসল। আর ওরা তিন জন ভেতরে গেল, ওদিকে এক কোণে বসে ইনশিরা উযাইনের এন্ট্রি দেখা মাত্রই ওর হৃৎস্পন্দন এক লাফে একশো পার হয়ে গেল! সে উযাইনের ওই তীব্র জ্বলন্ত নীলচে চোখের দিকে এক প্রকাণ্ড আতঙ্কের চাউনি ছুড়ে দিয়ে তাকাল। আর ঠিক তখনই ওপাশে ডিনার টেবিলের সিটে বসা এলিন ইনশিরার প্রতি নিজের একরাশ পবিত্র মুগ্ধতা সামলাতে না পেরে কিছু একটা বলতে গিয়ে আলতো করে ইনশিরার হাতটা চেপে ধরল!
ইনশিরা এলিনের হাত থেকে নিজের হাতটা ছাড়ানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই—উযাইন ধীর পায়ে এগিয়ে এসে জাহির আর এডামের সাথে সোজা ওদের একদম মুখোমুখি সামনে এসে বসল।
উযাইনের হাতে ব্যান্ডেজ, ঠোঁটে জখম, দেখে ইনশিরা নিজের জায়গায় একদম পাথরের মতো নিথর হয়ে স্তব্ধ হয়ে গেল সে এক তীব্র আতঙ্কে আর লজ্জায় এলিনের থেকে আরও কিছুটা দূরত্ব বজায় করে নিজের চেয়ারটা পিছিয়ে সরিয়ে নিয়ে এলো।

তবে উযাইনের চেহারায় তখন কোনো বিশেষ ভাবের বা রাগের লক্ষণ বিন্দুমাত্র প্রকাশ পেল না। সে অত্যন্ত মার্জিত ও কোল্ড-হার্টেড মেজাজে জাহির সাথে অনর্গল কথা বলতে লাগল, যেন সে এই ডিনার টেবিলে বসে থাকা ইনশিরাকে জীবনের প্রথমবার দেখছে বা ওকে কখনো দেখেনি! ইনশিরা নিজের ডাগর চোখ দুটো মেলে অপলক চেয়ে রইল ওর ওই জখম মুখটার দিকে, কিন্তু উযাইন একবারের জন্যও ওর চোখের দিকে নিজের চোখ জোড়া ফেরাল না।
তবে ইনশিরা ভালো করে খেয়াল করল—উযাইনের সেই মায়াবী আইস ব্লু চোখ জোড়া তীব্র কামনায়, জেলাসি আর রাগে লালচে হয়ে জ্বলজ্বল করছে ! ওর এই বিধ্বস্ত রূপ, হাতের ওই সাদা ব্যান্ডেজ আর ঠোঁটের তাজা ক্ষতটা দেখে ইনশিরার বুকের ভেতরটা এক প্রকাণ্ড মরণ যন্ত্রণায় এক নিমেষে মুচড়ে ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল! সে সব ভুলে গিয়ে, সবার সামনে ওখান থেকেই এক আকুল গলায় বলে উঠল—
—”উযাইন সাহেব…?! আপ.. আপনার হাতে ওভাবে ব্যথা পেলেন কীভাবে আপনি…?”
উযাইন ইনশিরার এই আদুরে ও প্যানিকড কণ্ঠস্বর শোনামাত্রই নিজের চোখ জোড়া তুলে ওর ফেসের দিকে এক তীব্র শীতল চাউনি ছুড়ে দিল। সে অত্যন্ত শুকনো ও নিচু গলায় জবাব দিল—

—”তেমন কিছু না…।”
বলেই সে এক সেকেন্ডে ইনশিরার থেকে নিজের চোখ জোড়া সরিয়ে নিয়ে আবার জাহিরের ডিল ফাইলের দিকে মনোযোগ দিল। উযাইনের এই প্রকাণ্ড অবহেলা আর পর করে দেওয়ার আচরণে ইনশিরার চোখ জোড়া নোনা জলে পুরোপুরি ছলছল করে উঠল। সে নিজের মনে মনে এক তীব্র অনুশোচনার সুরে বুঝতে পারছিল যে—সে হয়তো নিজের এই অভিমানের পরিস্থিতি ঠিক করতে গিয়ে, উযাইনকে জেলাসি ফিল করানোর এই ফালতু খেলা খেলতে গিয়ে ওর চোখের সামনে বড্ড বেশি ছোট হয়ে গেছে!
উযাইন নিজের ফাইল চেক করতে করতেই আড়চোখে একপলক তাকাল ইনশিরার দিকে। গোলাপী শাড়ির এই অনিন্দ্য সুন্দর সাজে ইনশিরাকে দেখতে আজ আক্ষরিক অর্থেই এক জান্নাতী পরীর মতো অপরূপ লাগছিল । কিন্তু এই রূপ, এই মায়াবী শাড়ি আর সুগন্ধি আজ ওর জন্য নয়—আজ ও সেজে এসেছে অন্য এক পুরুষের পাশে কনে হয়ে বসার জন্য!
এ গুলো ভেবেই সে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে এক্কেবারে জ্বলে খাক হয়ে গেল! সে আর এক সেকেন্ডও এই ডিনার টেবিলে বসে অন্য পুরুষের পাশে নিজের বউকে দেখতে চাইল না। সে নিজের চোয়াল শক্ত করে এক ঝটকায় চেয়ার ছেড়ে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াল। ওনার এই হঠাৎ রাগী মুভমেন্ট দেখে ইনশিরাও নিজের জায়গায় তীব্রভাবে চমকে উঠল।
উযাইন ইনশিরার চোখের দিকে নিজের সেই জ্বলন্ত লালচে চোখ দুটো নিবদ্ধ করে, পরমুহূর্তেই জাহিরের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল—

—”জাহির… আমি ভেতরের কটেজ এ যাচ্ছি। আমি বড্ড বেশি ক্লান্ত।”
জাহির ও এডাম তাড়াহুড়ো করে ওকে আটকানোর ভঙ্গিতে বললেন—
—”আরেহ প্রফেসর সাহেব! অন্তত আমাদের সাথে রাতের ডিনারটা শেষ করে তারপরে যান!”
উযাইন ইনশিরার দিকে এক শেষ ভয়ংকর ওম ছড়ানো কোল্ড চাউনি ছুড়ে দিয়ে বরফ শীতল গলায় বলল—
—”না জাহির, আগামীকাল সকালে ফিরতে হবে! need some rest!
বলেই উযাইন আবরার নিজের ব্ল্যাক ওভারকোটের কলারটা হাত দিয়ে ঠিক করে, ডিনার টেবিল থেকে হনহনিয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে রিসোর্টের কটেজের অন্ধকারের দিকে চলে গেল। ইনশিরার বুকে তখন আর এক ফোঁটাও এই দীর্ঘ অবহেলা আর বিরহের হাহাকার সহ্য হচ্ছিল না, ওর নিজের দম আটকে আসছিল!

উযাইন চলে যেতেই, এলিনা নিজের ঠোঁটের কোণে এক ধূর্ত বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলল । সে চারপাশের শত শত মানুষের চোখ ফাঁকি দিয়ে, অত্যন্ত চুপিচুপি উযাইনের যাওয়ার করিডোর ধরে ওনার পেছনের ব্যাকস্টেজ দিয়ে পিছু নিল। রিসোর্টের এই নিঝুম অন্ধকার আঙিনায় ওর ওভাবে পিছু নেওয়াটা ডিনার টেবিলের অন্য কোনো ফ্যামিলি মেম্বার বিন্দুমাত্র খেয়াল করতে পারল না।
এলিনা রিসোর্টের নির্জন কটেজের ওয়াকওয়ের সামনে এসে, উযাইনের সেই ব্ল্যাক ওভারকোট পরা দীর্ঘদেহী পিঠের দিকে তাকিয়ে এক চড়া ও তীব্র গলায় ডেকে উঠল—
—”প্রফেসর…!!
উযাইন নিজের করিডোরের ওয়াকওয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তীব্র বিরক্তি নিয়ে ঝট করে পেছনের দিকে ফিরে তাকাল।
এলিনা এক কদম তড়িড় গতিতে এগিয়ে এসে, উযাইনের একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ওর ওভারকোটের কলারটা নিজের হাত দিয়ে শক্ত করে খামচে ধরে আকুল গলায় বলল—

—”প্রফেসর… ওই ইনশিরা মেয়েটা আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছে! ও একটা সুবিধাবাদী মেয়ে! আপনি ওসব ফালতু মেয়ের মায়া ত্যাগ করুন… আই… আই রিয়েলি লাভ ইউ, প্রফেসর!”
এলিনা নিজের এই ভালোবাসার কথা প্রকাশ করার পর উযাইনের ওভারকোট খামচে ধরে ওর আরও কাছে ঘেঁষে দাঁড়াতে চাইল। কিন্তু অন্য মেয়ের এই নোংরা স্পর্শ নিজের গায়ে লাগামাত্রই এক সেকেন্ডে আক্ষরিক অর্থেই পুরোপুরি বেসামাল হয়ে উঠল! সে নিজের ব্যান্ডেজ করা অন্য হাতটা এক ঝটকায় বাড়িয়ে—এলিনার হাত নিজের ওভারকোটের কলার থেকে অত্যন্ত নির্মম ও রুক্ষভাবে এক টানে ছিটকে বের করে ছাড়িয়ে দিল!
উযাইন নিজের চোয়াল শক্ত করে, দাঁতে দাঁত চেপে এক তীব্র ভয়ংকর ও বরফ শীতল চড়া গলায় ধমকে উঠল—

—”I’m married, Elina! Stay away from here!”
এলিনা নিজের হাতটা ওভাবে নির্মমভাবে ছিটকে যেতে দেখেও নিজের জেদ ছাড়ল না। সে উযাইনের দিকে তাকিয়ে তীব্র হিংস্র গলায় চিৎকার করে বলল—
— “কিন্তু প্রফেসর…! আপনি কেন বুঝতে পারছেন না যে সে আপনাকে বিন্দুমাত্র রেসপেক্ট করে না, সে আপনাকে…”
উযাইন এলিনার কথা মাঝপথেই এক কুখ্যাত ক্রিমিনালের মতো চড়া ধমকে কেটে দিয়ে, চোখ রাঙিয়ে বলে —
—”শাট আপ এলিনা! সে আমার ওয়াইফ। ইনশিরার বিষয়ে আমি দুনিয়ার কোনো দ্বিতীয় প্রাণীর মুখ থেকে কোনো নেগেটিভিটি কটু কথা বা অপবাদ আমি টলারেট করব না!”

বলেই উযাইন এলিনাকে আর কোনো কথা বা চক্রান্তের সুযোগ দিল না । সে ওকে এক তীব্র অবহেলা আর ঘৃণার চাউনি ছুড়ে দিয়ে, লম্বা লম্বা পা ফেলে কটেজের অন্ধকার দিকে চলে গেল। ওদিকে এলিনা রিসোর্টের ওয়াকওয়ের মাঝখানে একা দাঁড়িয়ে উযাইনের মুখে ইনশিরার জন্য এই ভয়ংকর অধিকারের কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে চেয়ে রইল।
উযাইন ডিনার টেবিল ছেড়ে চলে যাওয়ার ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় ইনশিরা আর এক মুহূর্তও সেখানে বসে থাকতে পারল না। সে টেবিল থেকে উঠে এক দৌড়ে রিসেপশনের দিকে গেল এবং ওখান থেকে উযাইনের কটেজের রুম নম্বরটা জেনে নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গেল ওনার লাউঞ্জের দিকে। কিন্তু ওর রুমে গিয়ে ইনশিরা দেখল পুরো রুমটা ফাঁকা, উযাইন ওখানে নেই! সে এক বুক আতঙ্ক নিয়ে দ্রুত পায়ে নিজের লাউঞ্জ রুমের দিকে ছুটে গেল ওনার সাথে যোগাযোগের জন্য নিজের আইফোনটা নিয়ে আসার জন্য। রুমে ঢুকে অন্য কোনো দিকে এক সেকেন্ডের জন্যও না তাকিয়ে, সে সোজা বেডের কাছে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের ওপর থেকে নিজের ফোনটা হাতে তুলে নিল।
ইনশিরা ফোনটা নিয়ে রুম থেকে এক্কেবারে বের হয়ে যেতে যাবে—ঠিক তখনই সে হঠাৎ খেয়াল করল ঘরের আবছা অন্ধকারের মাঝে কেউ একজন চুপচাপ ওর রুমের সোফাটার ওপর একা বসে আছে! জানলা গলে আসা চাঁদের আলোয় ইনশিরা এক সেকেন্ডে স্পষ্ট বুঝতে পারল এই দীর্ঘদেহী পুরুষটা আর কেউ নয়—তার শখের প্রফেসর উযাইন আবরার! ইনশিরা নিজের হাতের ফোনটা একপাশে ফেলে দিয়ে এক দৌড়ে এসে উযাইনকে নিজের দুই হাত দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

সে ওর গলার খাঁজে নিজের পুরো মুখটা খুব গভীরভাবে গুঁজে দিয়ে এক বুক ফাটানো তীব্র কান্না শুরু করে দিল। উযাইন একদম নিথর, নিস্তব্ধ পাথরের মতো চুপ করে রইল। বেশ কিছুক্ষণ পর উযাইন নিজের দুই হাত বাড়িয়ে কোনো রকম শব্দ না করে, অত্যন্ত নিঃশব্দে ইনশিরাকে নিজের গায়ের থেকে আলাদা করে একপাশে সরিয়ে দিল।
ইনশিরা ওর এই নীরবতা সহ্য করতে পারল না। সে নিজের দুই হাত বাড়িয়ে উযাইনের দুটো ফরসা গাল নিজের হাতের মুঠোয় পরম মায়ায় আগলে ধরল। সে ওর ঠোঁটের কোণের জখমটার ওপর গভীর এক মিষ্টি চুমু খেল। তারপর ওর কপালে আলতো করে হাত দিয়ে, এলো চুলগুলো কপাল থেকে একটু সরিয়ে দিয়ে এক আকুল কান্নাভেজা গলায় জিজ্ঞেস করল—

—”কীভাবে… কীভাবে ব্যথা পেলেন আপনি, উযাইন…?”
উযাইন নিজের মুখটা শক্ত করে ইনশিরার ওই হাত দুটো নিজেকে থেকে এক নিমেষে সরাতে গেল। কিন্তু ইনশিরা ওনার সেই সাদা ব্যান্ডেজ করা হাতটা নিজের দুই হাতের মুঠোয় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওটার ওপর নিজের কপাল ঠেকিয়ে আকুল হয়ে বলল—
—”বলুন না উযাইন সাহেব…? প্লিজ বলুন কী হয়েছে আপনার?”
উযাইন ইনশিরার চোখের মণির দিকে নিজের সেই লালচে চোখ দুটো নিবদ্ধ করে, এক চরম বরফ শীতল ও নিচু গলায় বলল—
—”কেন শোনো না আমার কথা, ইনশিরা… ?”
ইনশিরা উযাইনের শার্টের কলারটা খামচে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল—

—”আমাকে ক্ষমা করে দিন উযাইন সাহেব… আর কোনোদিন ওমন ভুল হবে না, আর কখনো হবে না, প্লিজ!”
উযাইন ইনশিরার এই আকুতি শুনে নিজের ভেতরের সব অবদমিত ৩ বছরের আক্ষেপ আর দীর্ঘদিনের কষ্ট এক সেকেন্ডে মুখে উগরে দিল। সে ইনশিরাকে নিজের কোল থেকে এক ঝটকায় নিচে নামিয়ে দিয়ে সোফার ওপর সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াল।
উযাইন তীব্র পজেসিভনেসে ফিসফিস করে চোয়াল শক্ত করে বলল—
—”তুমি তো নিজের ইচ্ছায় এসেছ, ইনশিরা… এই একাকীত্বে তুমি নিজেই ঝড়ের মতো উড়ে এসেছিলে।তুমি নিজেই তো বেছে নিয়েছিলে তোমার থেকে ২০ বছরের বড় একটা লোক কে! তুমি নিজে জেনে-বুঝে বেছে নিয়েছিলে একটা ডিভোর্সি লোক কে! তবে কেন আজ এই অবমাননা, ইনশিরা? কেন অন্য পুরুষের পাশে কনে সেজে বসে এই নোংরামি? তবে কি… তবে কি তোমার ওই ১৬ বছরের কিশোরী বয়সের প্রথম অন্ধ মোহটা আজ ৩ বছর পর এসে এক নিমেষে মিটে গেল?”

উযাইনের মুখ থেকে এই “মোহ মিটে গেল” র প্রকাণ্ড অপবাদ শোনামাত্রই ইনশিরার বুকের ভেতরটা এক নিমেষে হাজার টুকরো হয়ে ভেঙে গেল ! সে আর নিজের শরীরে দাঁড়িয়ে থাকার বিন্দুমাত্র শক্তি পেল না। সে উযাইনের একদম পায়ের কাছাকাছি কটেজের ফ্লোরের কার্পেটের ওপর ধপ করে বসে পড়ল । কান্নায় গোলগাল ফর্সা মুখটা এক নিমেষে তীব্র কষ্টএ লাল হয়ে উঠেছে।
ইনশিরা উযাইনের পা দুটো ছুঁতে গিয়ে, চোখের জলে ডুকরে বলল—
—”বিশ্বাস করুন উযাইন সাহেব… এমন কিছুই না! আমি আপনাকে অনেক… অনেক বেশি ভালোবাসি! আমার দেহ, মন আর মস্তিষ্ক জুড়ে আজীবন শুধু একটা মাত্র পুরুষেরই একচ্ছত্র আধিপত্য আর রাজত্ব লেখা হয়ে গেছে!”
উযাইন ওর দিকে ঘুরে দারাল। ইনশিরা ওর কোটের কাপড়টা খামচে ধরে আকুল চোখে ওপরের দিকে তাকিয়ে আকুতি জানাল—
—”প্লিজ উযাইন… আমাকে একটা বারের জন্য ক্ষমা করে দিন, প্লিজ !”
উযাইন সামান্য নিচু হয়ে । সে নিজের দুই হাত বাড়িয়ে ইনশিরাকে এক টানে ফ্লোরের কার্পেট থেকে ওপরের দিকে তুলে নিজের একদম মুখোমুখি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিল। সে ইনশিরার চোখের দিকে নিজের সেই মায়াবী আইস ব্লু চোখ দুটো নিবদ্ধ করে অত্যন্ত গম্ভীর, রাজকীয় ও এক পরম সম্মানের গলায় বলল—

—”তুমি যতই অপরাধ করো ইনশিরা… ইভেন তুমি যদি নিজের ইচ্ছেয় আমার ধ্বংসের কারণও হও… তাও কখনো তোমার জায়গা আমার পায়ে হবে না! আমি এতটা অহংকারী বা ইগোইস্টিক পুরুষ নই যে নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে পায়ের নিচে ফেলে রাখব!”
ইনশিরা তীব্র গতিতে ঘনঘন দ্রুত শ্বাস নিতে নিতে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে —
—”আ… আব্বু… আব্বু জোর করছিলেন উযাইন সাহেব! উনারা ওই বিজনেসের কথাবচিন্তা করে মিস্টার এডামের ছেলের বিয়ের ডিলটা…”

রুহ এ ইশক পর্ব ২৭

—”চল…! অনেক লুকিয়ে রাখা হয়েছে, আর কোনো দূরত্ব নয় জাহিরকে বলে দেই!”
বলেই উযাইন ইনশিরার হাতটা শক্ত করে ধরে এক টানে ওকে রুমের বাইরে মেইন ডাইনিং হলের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগল! কিন্তু ইনশিরা নিজের পুরো শরীরটা মোচড় দিয়ে—উযাইনের সেই শক্ত হাতের আলিঙ্গন থেকে নিজের হাতটা এক ঝটকায় ছাড়িয়ে নিয়ে একপাশে পিছিয়ে গেল উযাইন দাঁড়িয়ে নিজের ফাঁকা হাতের দিকে তাকিয়ে ইনশিরার দিকে ঘুরে তাকাল ! ওনাদের এই মুখোমুখি দ্বন্দ্বে রিসোর্টের রুম জুরে এক মরণ নীরবতা নেমে এলো….

রুহ এ ইশক পর্ব ২৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here