Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৬২

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৬২

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৬২
jannatul firdaus mithila

বেসিনের ফুটোয় কাঁপা আঙুল ঢুকিয়ে দিল রমণী। মুহূর্তেই স্পর্শে এলো শীতল ধাতুর একখণ্ড ব্লেড। তা তুলে নিয়ে কিছুক্ষণ নির্বাক চেয়ে রইল মাহি। তারপর কেমন ধীরগতিতে দৃষ্টি নামালো নিজ বাঁ-কব্জির দিকে। ফর্সা কোমল হাতখানার সবক’টা রগ দৃশ্যমান। সেথায় ব্লে ড দিয়ে আঁচড় বসালে সে-কি সত্যিই ম’রে যাবে? উদ্ভট ভাবনায় তাড়িত মানবী, তক্ষুনি কাঁপতে লাগলো তার সর্বাঙ্গ! চারপাশের নিস্তব্ধতা ক্রমশ ভারী হয়ে উঠল তার। আঙুলের ফাঁকে আঁটকে রাখা চকচকে ধাতুর খন্ডের পানে একবার তাকিয়ে পরক্ষনে আবার তাকালো নিজ কব্জির পানে। মুহুর্তেই কেঁপে উঠল রমণীর তুলতুলে অধরযুগল। ঢোক গিললো শুকনো। ভারী ঔদ্ধত্যের তাড়নায় আচমকা ঘটিয়ে বসলো আরেক অঘটন। সহসা ধারালো ব্লে ডের গভীর আঁচড়ে ছিঁড়ে গেল রমণীর কোমল হাতের ত্বক। ফিনকি দিয়ে গড়াতে লাগলো লহু। যন্ত্রণার অভিঘাতে ছটফটাচ্ছে সপ্তদশী! ঠিক তখনি এক দমকা হাওয়া এসে আচানক রমণীকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনলো কল্পনার অতল গহ্বর হতে! মুহুর্তেই চেতনার তীরে ভেসে উঠল মাহি! চোখেমুখে ফুটে উঠল একরাশ সন্দিগ্ধতা। সন্দিষ্ট দৃষ্টে নিজ পানে তাকাতেই ভড়কায় মাহি। দুলে উঠে তার পায়ের তলার জমিন। একি! সে-তো এখনো দরজায় পিঠ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে! তারমানে এতক্ষণ যা দেখলো…তা কি সবটা কল্পনা? সহসা বুকের মধ্যিখানে চিনচিন করে উঠল মাহি’র। হাসফাস বাড়ল ক্রমশ। দু’হাতে তক্ষুনি নিজ মাথাটা চেপে ধরে, আত্ম-উপলব্ধিতে চৌচির হতেই অদূর থেকে ভেসে এলো বেশ পরিচিত এক কন্ঠ।

“ কি-রে? কি ভাবছিস ওভাবে দাঁড়িয়ে থেকে?”
তৎক্ষনাৎ বিভ্রম নিয়ে বাক্যের উৎসের পানে তাকায় মাহি। ওমনি বিস্ময়ে চোখদুটো কেমন গোল গোল হয়ে গেল তার। অদূরের বেসিন মিররে ভেসে উঠেছে হুবহু তারই প্রতিচ্ছবি। তবে সে-ই মানবীর মুখশ্রী যথেষ্ট গম্ভীর। ডানহাতের কব্জিসন্ধি উঁচিয়ে রাখা তার, সেখানে গভীর আঁচড়ের ক্ষত স্পষ্ট। লহু গড়াচ্ছে নির্বিকারে! বোকা মানবী কেমন হতভম্ব হয়ে গেল এরূপ দৃশ্যে। হতবিহ্বলের ন্যায় দু’হাতের উল্টোপিঠে বারংবার ডলে নিলো চোখদুটো। পরপর ফের বিভ্রম নিয়ে তাকালো আয়নার দিকে। তবে বালাইষাট! আয়নার ওপাশে থাকা প্রতিচ্ছবিটা এখনো অটল। হতবিহ্বল রমণী পাদু’টো বাড়ালো এবার। ধীরলয়ে আয়নার অভিমুখে এসে হতবুদ্ধির ন্যায় আওড়াল,
“ তুমি?”
সম্মুখের প্রতিচ্ছবিটা হাসলো যেন। বড্ড গাল বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি ফোঁটালো ঠোঁটের কোণে! গমগমে গলায় প্রতুত্তরে আওড়াল,

“ অবাক হচ্ছিস?”
বোকা মানবীর মুখাবয়বে হতবাকতার বিশাল ছাপ সুস্পষ্ট! অধর নাড়িয়ে দু-অক্ষর আওড়াবে তার পূর্বেই সম্মুখের প্রতিচ্ছবি কেমন ঝাঁঝিয়ে উঠল,
“ লজ্জা করে না তোর? যেই রাক্ষসটা তোকে নিজ পরিবারের কাছ থেকে ছিনিয়ে এনে বন্দী করেছে তার খাঁচায়, তার প্রতি এতো মায়া-মমতা দেখাতে লজ্জা করে না তোর? কিসের ভিত্তিতে এতো ভালো ব্যবহার করছিস তার সাথে? সে-কি আদৌও কাম্য এসবের?”
দ্বিধাদ্বন্দে জর্জরিত মাহি! খানিক দিশাহীনের ন্যায় দৃষ্টি ঘোরায় অন্যত্র। রয়েসয়ে ভগ্নকণ্ঠে শুধালো,
“ খারাপের সাথে খারাপ করলে, তার আর আমার মধ্যে পার্থক্য রইলো কোথায়?”
মুহুর্তেই কপালের চামড়ায় ভাঁজ টানলো সপ্তদশীর প্রতিচ্ছবি। শক্ত করল মুখ! চিড়বিড় কন্ঠে বলে উঠল,
“ সে তোর আব্বুকে খু নি বলছে। মা’রতে চাইছে তোর আব্বুকে! তারপরও তার পক্ষ নিবি? চোখের সামনে নিজের আব্বুকে খু ন হতে দেখবি?”

এপর্যায়ে রমণীর দৃষ্টিতে অস্থিরতা পরিলক্ষিত হলো। ব্যাকুল কন্ঠে তৎক্ষনাৎ প্রতুত্তরে শুধালো,
“ একদম না। আমি….আমার আব্বুকে ম’রতে দিবো না। কোনোদিন না।”
প্রতিচ্ছবি গম্ভীর এবার। ধীরলয়ে হাত উঁচিয়ে রাখলো আয়নার দেয়ালে। মুখটা বড্ড এগিয়ে এনে হিসহিসিয়ে আওড়ায় ,
“ কিভাবে বাঁচাবি তোর আব্বুকে? ভেবেছিস কিছু? রাক্ষসটা তো ঠিক সুযোগ বুঝে মে’রে দিবে তাকে। এরচেয়ে বরং একটা কাজ করলে পারিস।”
থামলো প্রতিচ্ছবি। অথচ তার সঙ্গে বাড়লো বোকা মানবীর উঁচাটন। সহসা অস্থির কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“ কি কাজ?”
“ সুযোগ নে! নিজের বাবাকে বাঁচাতে এই একটিমাত্র রাস্তাই আপাতত খোলা। কমান্ডারের কথায় রাজি হয়ে যা। অভিনয় কর রাক্ষসটার সাথে কয়েকদিন। তাকে আঁটকে ফেল তোর মায়াজালে। এরপর সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নাহয় তার খেল খতম….”
“ নাহ! একদম না। ক-কি বলছো তুমি? এরকমটা করা তো দূর, ভাবতেও গা শিউরে উঠছে আমার। কি করে বলছো এসব করতে?”

রমণীর এহেন প্রতুত্তরে যেন বেশ অসন্তুষ্ট হলো প্রতিচ্ছবিটি। পরপর চোয়াল করল শক্ত! দাঁতের সনে দাঁত চেপে কটমট কন্ঠে তক্ষুনি শুধালো,
“ তো? তাতে কি হয়েছে? ওতো নির্দয়। তোর ওপর এখন পর্যন্ত কম অত্যাচার করেছে ও? ওসবের বিনিময়ে হলেও তার শাস্তি প্রাপ্য! সেই শাস্তির বাটখারায় নাহয় তোর ছলনাটুকুই থাকুক।”
ব্যথাতুর ভঙ্গিতে হাসলো মাহি। নেত্র ঝোঁকালো পরপর। কন্ঠে একরাশ মায়া ঢেলে মায়াবিনী কেমন থেমে থেমে আওড়াল,
“ শাস্তি দেবার মালিক খোদা! সেখানে আমি তুচ্ছ জীব মাত্র।”
একমুহূর্ত থামলো মাহি! ভগ্নহৃদয়ের ভারে দূর্বল চোখের পাতাদুটো বুঁজে নিলো পরক্ষণেই। বুক ফুলিয়ে লম্বা নিশ্বাস টানতে গেলেই তার বদ্ধ চোখের পাতায় হুট করেই ভেসে উঠল — ছোট্ট অধীর রায়ের তিক্ত অনুভূতিগুলোর প্রতিচ্ছবি। মুহুর্তেই ক্ষুদ্র বদনে ঝংকার বয়ে গেল রমণীর। ধারালো দাঁতের রুষ্ট চাপায় পিষ্ট করল নিজ নিম্নাংশের অধর। বোকা মুখটায় বড্ড আহত ছাপ ফুটিয়ে, ভগ্নকণ্ঠে শুধালো,

“ মানুষ শুধু শুধুই দেহের খু নিদেরকে শাস্তি দেয়, অথচ মৃ ত্যু হয় আত্মার খু নে! যে ব্যাক্তি ইতোমধ্যেই বহুবার ভেঙেছে, ছোট থেকে হারিয়েছে নিজের দয়া-মায়া-অমায়িকতা। তাকে আবার নতুন করে ভাঙতে যেয়ে নরকের দ্বার খুলে দেবার সাধ্যি আছে কার শুনি? কে বলে — মানুষ মা’রতে ধারালো অস্ত্রের প্রয়োজন? আমিতো দেখছি, মানুষ মা’রতে হলে তথাকথিত প্রিয়জনদের সামান্য কিছু ছলনাই যথেষ্ট! অধীর রায় আমার প্রিয় নাহোক, অপ্রিয়র তালিকায় শীর্ষে থাকুক! তবু্ও সেই অপ্রিয় মানুষটার জীবনে আর কোনোদিন হারানোর যন্ত্রণা না আসুক। তাকে নিজের সবটা উজাড় করে দিয়ে ভালোবাসার ক্ষমতা আমার না থাকলেও, নির্দয় মাফিয়া শ্যাডো মনস্টারের খোলসে আবৃত মির্জা সায়ান মুগ্ধকে পুরোপুরিভাবে উম্মুক্ত করে আনার কিছুটা সাধ্যি হলেও আমার আছে! আমি জানি আমার আব্বু কেমন। পুরো পৃথিবী একদিকে এসে আমার বাবাকে খু নি বললেও আমি তা বিশ্বাস করি না। তবে আমি এ-ও জানি, নির্দয় মাফিয়া মনস্টারের কোনো আর্তনাদ মিথ্যে নয়। মিথ্যে নয় তার অতিবাহিত প্রত্যেকটি নির্মম দিন! আমি মানছি আমি বোকা, দূর্বলতায় জড়িয়ে আসে কন্ঠ, কিন্তু আমি কি করে ঐ মানুষটার সঙ্গে ছলনা করব? যার চোখদুটোর প্রিয়’র তালিকায় শীর্ষে আমার মুখ! এর বিনিময়ে আমার মরণ হোক, তবুও দিনশেষে আমার গায়ে ছলনাময়ীর তকমা না লাগুক।”
বাক্য কয়েক আওড়াতে গিয়ে ভঙ্গুর দশা মায়াবিনীর। ঠিক তখনি ওপাশ থেকে প্রতিচ্ছবিটি কেমন সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করে ওঠে,

“ অর্থাৎ….মাহিরা এহসান, তার একমাত্র অপ্রিয় মানুষটার মায়ায় জড়িয়েছে অবশেষে?”
তৎক্ষনাৎ দু’হাতে কান চাপলো মাহি! ত্বরিত বন্ধ করে নিলো চোখদুটো। মন-মস্তিষ্কের বড্ড পীড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে একপর্যায়ে চেঁচিয়ে বলে উঠল,
“ জানি! জানি আমি। বহু আগেই ঐ মানুষটার মায়ায় জড়িয়েছি আমি। আর বলো না এসব।”
বাঁকা হাসলো প্রতিচ্ছবিটি। তৎক্ষনাৎ মুখাবয়বে নাটকীয় ভাবভঙ্গি টেনে আওড়াল,
“ কেনো? তুই মায়ায় জড়াতে পারবি, আর আমি বলতে গেলেই দোষ? তা, কোনোদিন যদি পরিবার অথবা মায়ার মধ্যে কাউকে বেছে নিতে হয় — তাহলে যেকোনো একজনকে বেছে নিতে পারবি তো? পারবি আরেকজনকে চিরতরে ভুলে ফেলতে?”
সহসা রমণীর সিক্ত চোখদুটো এক ঝটকায় পর্দা সরালো নিজেদের। তাকালো অভিমুখে। কয়েকপল নিস্তব্ধতায় নিশ্বাস টেনে পরমুহূর্তেই দৃঢ় কন্ঠে শুধালো,
“ ওমন দিন কখনো আসবেই না। আমি-ই আসতে দিবো না তা। আমার পরিবার যেমন আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি — শত বাঁধাবিপত্তি পেরিয়ে সন্ধান পাওয়া মায়াটাও তেমন গুরুত্বপূর্ণ! থাকলে দু’টোই থাকবে আমার জীবনে, নয়তো এই জীবনের অবসান ঘটাবো আমি নিজ হাতে।”
রমণী বাক্যালাপ জিভ খসতে সেকেন্ড খানেক নিলো বোধহয়। ওমনি ওয়াশরুমের দুয়ারে পড়ল একের পর এক তীব্র কড়াঘাতের শব্দ! ইশশ্! বেপরোয়া লোকটা বোধহয় আবারও দুয়ার ভাঙবার উপক্রম। দরজার ওপাশ থেকে জোরালো হুংকারে শুধচ্ছেন তিনি,

“ সিগনোরা? এ্যাই সিগনোরা? ক’দিনের জন্য গেলি ভেতরে? বের হবি না? তাড়াতাড়ি বের হো। আমার অস্থির লাগছে। এ্যাই মেয়ে? শুনছিস? তুই কি দরজা খুলতে পারছিস না? লকটা কী জ্যাম হয়ে গেল? এ্যাই আমি দরজা ভাঙবো? সিগনোরা? সিগনোরা?”
নিঃশ্বাসের গতি ক্রমশ ভারী হচ্ছে রূঢ় মানবের। ব্যাকুলতায় হাসফাস করছে বড্ড। বারকয়েক হাতবদল করছে সিল্কি চুলগুলোর ভাঁজে। অস্থির চোখদুটো তার এলোমেলো হতেই আচানক সম্মুখ থেকে খট করে খুলে গেল ওয়াশরুমের দরজা। রূঢ় মানব তক্ষুনি সম্মুখে পা বাড়াতে উদ্যোত হলেন। এরইমধ্যে ওয়াশরুম হতে বেরিয়ে এলো সপ্তদশী! সিক্ত মুখমন্ডলে পানির ছিটেফোঁটা স্পষ্ট তার। অবহেলায় ভিজে টাল হয়েছে পরনের জামার কলার। রমণী ঢোক গিলে দু-কদম বাড়াতেই আচানক রূঢ় মানবের শক্তপোক্ত হাত দু’খানা এসে চট করে শূন্যে তুলে নিলো মানবীকে। এহেন অতর্কিত ঘটনাপ্রবাহে হকচকায় মাহি। দোদুল্যমান ক্ষুদ্র বদনখানা সামান্য ধাতস্থ করবার প্রয়াসে ত্বরিত দু’হাতে জড়িয়ে ধরল মুগ্ধের বলিষ্ঠ ঘাড়। ভড়কানো কন্ঠে যেই-না কিছু বলবে ওমনি কর্ণকুহরে প্রবেশ করল অস্থির মানবের উদ্বিগ্ন কন্ঠ!

“ সিগনোরা? হোয়াই ডিড ইউ ক্রাই?”
অকস্মাৎ থতমত খেল মাহি। চোর ধরা পড়ে যাবার ন্যায় মুখটা করল কাচুমাচু। নতমুখে অবনত চোখদুটো লুকচ্ছে সে। তা যেন বেশ ধরতে পারলো রূঢ় মানব। দু’হাতের দৃঢ়বন্ধনে আগলে রাখা মায়াবিনীর ক্ষুদ্র বদনখানা তৎক্ষনাৎ সামান্য ঝাঁকিয়ে উদ্বিগ্ন স্বরে আওড়াল,
“ কথা বলছিস না কেনো?”
মায়াবিনী ধীরলয়ে মুখ তুললো। ছলছলে চোখদুটো একত্রে নিক্ষেপ করল সুদর্শনের মুখপানে। তক্ষুনি অন্তঃকোণে এক অদ্ভুত চিনচিনে ব্যথা অনুভুব করল মুগ্ধ। অস্থিরতার বেগ বাড়াতেই যাবে, ঠিক তখনি মায়াবিনীর নরম কন্ঠফুড়েঁ অস্ফুটে বেরিয়ে এলো,
“ একটা রিকুয়েষ্ট করলে রাখবেন বিস্ট?”
কথাটা যেন তীব্রতার সনে আঘাত হানলো রূঢ় মানবের বুকে। উদ্বিগ্ন মানবের উদ্বিগ্নতা বাড়িয়ে দিলো কয়েকগুণ! সে কেমন উম্মাদের ন্যায় তৎক্ষনাৎ প্রতুত্তরে শুধালো,
“ একটা কেনো? হাজারটা কর! শুধু একবার বল কি লাগবে। সব তুলে নিয়ে আসবো তোর জন্য। দরকার পড়লে পুরো শপিংমল…”
বাকিটা বলার ফুরসত পেলেন না রূঢ় মানব। তার পূর্বেই রমণীর তুলতুলে হাতদুটো আলগোছে চলে এলো তার রুক্ষ গালদুটোর ত্বকে। মুহুর্তেই স্থবির হলো মুগ্ধ! চোখদুটোয় নেমে এলো বেপরোয়া প্রেমিক পুরুষের উন্মত্ততা। সপ্তদশীর কম্পিত হাত! সেই সঙ্গে কাঁপছে কন্ঠও,

“ আমি একটু স্বস্তি চাই! জানি তা কিনতে পাওয়া যাবে না। তবুও আমি একটুখানি স্বস্তি চাই! পারবেন আমায় দিতে?”
দৃষ্টি অনড় মুগ্ধের। কয়েকমুহুর্ত কাঁটালো ভীষণ নিরবতায়। পরমুহূর্তেই বাদামী ঠোঁটজোড়ায় টান বসালো এক চিলতে মুচকি হাসির রেশ। ধীরলয়ে মুখ বাড়িয়ে আনলো মায়াবিনীর মুখের কাছে। অতঃপর কোনরূপ বলাকওয়া ছাড়াই নিজ রুক্ষ অধরযুগল আলগোছে ছুঁইয়ে দিলো মাহি’র মসৃণ ললাটের ত্বকে। আবেশে চোখদুটো তৎক্ষনাৎ বুঁজে নিলো মাহি। খানিকবাদে শুনতে পেলো মুগ্ধের ভরাট কন্ঠ!
“ অফকোর্স আই ক্যান, মা’ই গার্ল! পাঁচ মিনিট দিচ্ছি। গেট রেডি!”
সহসা চোখ খুললো মাহি। কপাল সরিয়ে সন্দিগ্ধ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল সুদর্শনের পানে। সন্দিহান গলায় শুধালো,
“ কেনো? এতো রাতে কোথায় যাবো?”
সঠিক প্রতুত্তরে অভ্যস্ত নয় মাফিয়া বিস্ট। খানিকক্ষণ মৌন থেকে আচানক গম্ভীর কন্ঠে আওড়াল,
“ নো মোর কোয়শ্চেনস। গো এন্ড গেট রেডি!”

বিদঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত আবদ্ধ কামরার দুয়ারপানে খটখট শব্দ হচ্ছে জোরালো। কেউ বোধহয় দুয়ার খোলবার প্রয়াসে মত্ত। কামরায় বন্দীরত বন্দীদের গোঙানির শব্দে তেজ বাড়লো এতক্ষণে। কেউ কেউ তড়িঘড়ি করে অন্ধকার হাতড়ে সিটিয়ে গেলেন একপাশে। এরইমধ্যে ক্যাটক্যাট শব্দ তুলে দরজাটা খুলে গেল একপাশে। বহুক্ষণ পরে একটুখানি আলোকছটার দেখা পেয়ে বন্দীদের মুখাবয়বে খানিক স্বস্তির উপস্থিতি পরিলক্ষিত হলো যেন। কয়েক জোড়া দূর্বল দৃষ্টিযুগল একযোগে নিক্ষিপ্ত হলো অদূরের দুয়ারপানে সটানভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এক বলিষ্ঠ অবয়বের পানে। আলোর বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়সম লোকটাকে চিনতে খুব একটা দ্বিধা হলো না দূর্বল হিমাংশু রায়ের। নিবুনিবু চোখেও বেশ বুঝল — অধীর এসেছে৷ তিনি তৎক্ষনাৎ নড়তে চাইলেন। তবে দূর্ভাগ্যবশত হাত-পাদুটো পিছমোড়া করে বেঁধে রাখায় সামান্য নড়চড়টুকুও হলো না তার দ্বারা। অতঃপর দূর্বল পরাস্ত হলেন খানিক চেষ্টায়। তন্মধ্যে দুয়ার ছেড়ে সম্মুখে অগ্রসর হলেন নির্দয় মানব। তার হাতে একখানা লম্বাটে ধারালো অস্ত্রের মতো কিছু। মেঝের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘর্ষণে সে-ই অস্ত্র তুলছে কর্কশ শব্দ। হিমাংশু রায় ঘাবড়ালেন। শুকনো ফাঁকা ঢোক গিলে অধর নাড়াতে চাইলেন, কিন্তু তার আগেই সম্মুখে এসে দাঁড়ালো রূঢ় মানবের বলিষ্ঠ পাদু’টো। মুহুর্তেই ঘাড়ের পেশী কুঁচকে দৃষ্টি উঁচালেন হিমাংশু রায়। অন্ধকারে সুদর্শনের মুখদর্শন নাহলেও সিগারের জ্বলন্ত ফুলকিটুকো বেশ নজর কাড়লো তার। তিনি কেমন কাঁপা কাঁপা কন্ঠে আওড়ালেন,

“ অ-অধীর!”
প্রতুত্তর করলেন না রূঢ় মানব। খানিকক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে মনের সুখে টানলেন সিগার। পরমুহূর্তে বাহাতে থাকা ধারালো চকচকে অস্ত্রটা তুলে নিলেন সামান্য উঁচুতে। ঠোঁটের ফাঁকে সিগার চেপে রেখেই চিড়বিড়িয়ে শুধালেন,
“ মিসেস অধীর রায়ের স্বস্তি লাগবে! কিন্তু তার আগে আমার নিজের স্বস্তির প্রয়োজন। সো….মে আই বান্দীর ছেলে?”
তৎক্ষনাৎ হকচকিয়ে ওঠেন হিমাংশু রায়। দূর্বল কন্ঠেই পরপর আওড়ালেন,
“ নো..নো অধীর!”
নাকমুখ কুঁচকে নেয় রূঢ় মানব। হাতে থাকা ধারালো তলোয়ারের হাতল চেপে তিক্ত কন্ঠে শুধালো,

“ ওহ শাট আপ বান্দীর ছেলে! চুপচাপ পড়ে থাক, নয়তো হাতের জায়গায় গলা কা ট বো।”
বলেই আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করলেন না নির্দয় মাফিয়া বিস্ট। বরং ধারালো অস্ত্রের জোরালো আঘাতে পরমুহূর্তেই বিধ্বস্ত করল দূর্বল মধ্যবয়স্কের ডানহাতের বাহুবন্ধন! এহেন তীব্র আঘাতের অভিঘাতে সহসা বন্ধন ছেড়ে বিচ্ছিন্ন হলো হিমাংশু রায়ের হাত। লোহুতে লেপ্টে গেল মেঝের চারিপাশ! এক আকাশসম যন্ত্রণায় কাতরাতে লাগলেন মধ্যবয়স্ক। বুকচেরা আর্তনাদে ফেঁটে পড়ছে তার কন্ঠা! এদিকে বাবার এহেন করুণ আর্তনাদ কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই চেতন ফিরলো নিরুর। মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সজাগ হতেই ভড়কায় সে। তৎক্ষনাৎ ভড়কানো কন্ঠে ডাক পারে,
“ বাবা? বাবা কাঁদছো কেনো তুমি?”
অষ্টাদশীর আহত কন্ঠ কর্নধার হতেই বলিষ্ঠের ঘাড় কাত হলো অন্ধকারে। জ্বলন্ত সিগার চেপে রাখা ঠোঁটদুটো বেঁকে গেল আপনাআপনি। রূঢ় মানব পা বাড়ালেন। গটগটিয়ে কয়েক কদমে এগিয়ে এসে আচানক শক্ত পায়ের তলায় পিষে ধরলেন নিরুর কোমল হাতখানা। মুহুর্তেই গগনবিদারী চিৎকারে ফেটে পড়ে নিরু। কাঁদতে কাঁদতে অনুনয় জুড়ে বেশ। এতেও বুঝি গললো না মুগ্ধ। উল্টো জোর বাড়ালো পায়ের। ঠোঁটের ফাঁক হতে সিগারখানা নামিয়ে এনে, তক্ষুনি হিং স্র কন্ঠে হুংকার ছুঁড়ল,

“ এডউইন!”
মনীবের এক ডাকে সদা বিরাজমান এডউইন! ঝড়ের বেগে ছুটে এসে দাঁড়ালো একহাত দুরত্বে। নতমুখে শুধালো,
“ জ্বি মনস্তার!”
“ এই উচ্ছিষ্টটাকে নিয়ে যা। এন্ড মেক শিওর, কাল সকালে যেন ও নিজের পায়ে ঠিকমতো দাঁড়াতে না পারে। সারারাত বেডে নাচিয়ে ছাড়বি কু***বাচ্চাটাকে। অধীর রায়ের স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার পরিণাম ঠিক কতটা ভয়ানক হতে পারে, তা দেখিয়ে ছাড়বি!”
ভড়কায় এডউইন। সহসা কুঁচকে নেয় কপালের চামড়া। মনীবের মুখের ওপর না বলার সাধ্যি নেই তার। তবুও কেমন মিনমিনে স্বরে আওড়াল,
“ কিন্তু মনস্তার…এই মেয়ে কিসব উদ্ভট গা ঢাকা কাপড়চোপড় পরে। এ আমার টেস্টের সঙ্গে যায় না। আপনি তো জানেন, আমার টেস্ট কতটা হাই ক্লাস! আপনার রাইট হ্যান্ড হয়ে আমি যাকে-তাকে বেডে নিতে পারিনা।”
কথাটা শেষ হতে দেরি, অথচ অন্ধকারের মাঝে রূঢ় মানবের হিং স্র থাবার আক্রমণ বসতে দেরি হলো না এডউইনের গায়ে। বেচারার কন্ঠনালী বরাবর শক্তপোক্ত চাপ বসিয়েছে মাফিয়া বিস্ট। হিং স্র কন্ঠে চিড়বিড়িয়ে বলে ওঠে,

“ তোর কাছ থেকে তোর অপিনিয়ন চাইনি আমি বাস্টা’র্ড। আ’ই জাস্ট অর্ডার ইউ! এবার তা মানবি নাকি গর্দান দিবি, সেটা তোর ইচ্ছা।”
ভয়ার্ত ঢোক গিলে এডউইন। ত্রস্ত কম্পিত কণ্ঠে বলে,
“ ও-ওকে মনস্তার! আমি যাচ্ছি।”
ছাড়লো মুগ্ধ! এদিকে ছাড়া পেতেই মেঝেতে পড়ে থাকা নিরুর পানে ছুটে এলো এডউইন। ক্রন্দনরত রমণী ইজ্জতের ভয়ে ছটফটালেও সেসবে কর্নপাত করলো না এডউইন। উল্টো এক ঝটকায় মেয়েটাকে তুলে নিলো পাঁজা কোলে। নিরু ডুকরে উঠে এবার। দু’হাত জোর করে এডউইনের সম্মুখে। বড্ড অনুনয়ের সুরে বলে,
“ প্লিজ আমার এতবড় ক্ষতি করবেন না। দয়া করে আমায় ছেড়ে দিন। এরচেয়ে ভালো আমায় মে’রে ফেলুন আপনারা।”
মেয়েটার এহেন ছিঁচকাদুনে স্বভাবে বড্ড বিরক্ত এডউইন। সম্মুখে পা চালাতে চালাতে ধমকে ওঠে বলল,
“ শাট আপ চিপকু মেয়ে! নয়তো এক্ষুণি মাটিতে ছুঁড়ে ফেলব। যত্তসব! কি দিন আসলো আমার। শেষমেশ একটা বাঙালি মেয়ে ডেট করতে হচ্ছে! ইয়াক!”

অন্ধকার কক্ষ! সেথায় ধীরলয়ে প্রবেশ করল মুগ্ধ। নিরব পায়ে এগিয়ে এলো বিছানার ধারে। মায়াবিনী এলোমেলো ভঙ্গিতে গভীর নিদ্রায় মগ্ন। নিশ্চয়ই তৈরি হতে গিয়ে ঘুমের ঔষধের প্রকোপে ঢলে পড়েছে ঘুমের রাজ্যে। বলিষ্ঠ মানব ঘাড় বাকিয়ে কিয়তক্ষন অপলকভাবে তাকিয়ে রইলো ঘুমন্ত মাহি’র সুশ্রী মুখমণ্ডলে। অতঃপর কি মনে করে সামান্য ঝুঁকে এলো সে। মায়াবিনীর কানের কাছে মুখ ঠেকিয়ে আলতো করে শুধালো,
“ মা’ই বার্থডে গার্ল! কাম, লেট’স বায় সাম ‘ স্বস্তি ’ ফর ইউ!”
বলেই ঘুমন্ত মানবীকে এক ঝটকায় পাঁজা কোলে তুলে নিলো মুগ্ধ। একপ্রকার পেঁজা তুলোর ন্যায় মায়াবিনীকে আগলে নিলো নিজ বুকের সনে। অতঃপর পায়ে টানলো জোরালো গতি!

রাত পেরিয়ে ভোর হবার যোগাড়! পূব আকাশে ধীরে ধীরে উদয় হচ্ছে সূয্যিমামা। তন্মধ্যে ক্ষুদ্র বদনে খানিক নড়চড় বাড়ল ঘুমন্ত রমণীর। চোখদুটো বুঁজে থাকা অবস্থাতেই নিজেকে আবিষ্কার করল শূন্যে। ঘুমন্ত মস্তিষ্ক তার কি বুঝলো কে জানে! সে হঠাৎ ঘাবড়ে গিয়ে খামচে ধরল সম্মুখে যা কিছু আছে। মুহুর্তেই তার ধারালো নখর গিয়ে দেবে গেল কারো মাংসল ত্বকে। তবুও রমণী শূন্যে অটল। এবারে আর চোখ বন্ধ করে রাখার উপক্রম হয়নি তার। ধীরে ধীরে নিবুনিবু চোখদুটো খুলতেই অক্ষিপটের সম্মুখে ভেসে উঠল — সুদর্শনের সুশ্রী মুখমণ্ডল। তাকে কোলে নিয়ে কেমন গম্ভীর মুখে এগোচ্ছে সে। সন্দিগ্ধ বোকা রমণী আনমনে দৃষ্টি কুঁচকে প্রশ্ন ছুড়ঁল,
“ বিস্ট! কোলে নিয়ে হাঁটছেন কেনো?”

গম্ভীর মুখো রূঢ় মানব বড্ড ওয়েল ড্রেসড আজ। পরনে কালো রঙা দামী স্যুট-ব্যুট। বরাবরের ন্যায় বাদামী সিল্কি চুলগুলো পেছন দিকে টেনে ঝুঁটি বেঁধে রাখা। রমণীর ঘুম জড়ানো কন্ঠে মুহুর্তেই আবিভূত সে। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসির রেশ টেনে হাঁটতে হাঁটতেই শুধালো,
“ গুড মর্নিং চাশমিস! ঘুম কেমন হলো?”
রমণী গাল ফোলায়। ধীরলয়ে হাতদুটো দিয়ে জড়িয়ে ধরে রূঢ় মানবের কাঁধ। খানিকটা উঁচু হয়ে মুখ গুঁজল লোকটার বুকের কাছে। আলতো স্বরে জবাব দিলো —
“ ভালো। তা…এভাবে সকাল সকাল আমায় কোলে নিয়ে হাঁটছেন কেনো?”
“ হাঁটছি না, যাচ্ছি সিগনোরা!”
সহসা ভ্রু গোটায় মাহি। ত্বরিত মুখ তোলে তাকায় লোকটার পানে। সন্দিগ্ধ গলায় আবারও জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ কোথায়?”
“ জাস্ট লুক এরাউন্ড।”
গম্ভীর মানবের ছোট উত্তর। তা কর্নধার হতেই আনমনে ঘাড় বাঁকায় মাহি। দৃষ্টিজোড়া অন্যত্র তাক হওয়া মাত্রই মেয়েটা কেমন হোঁচট খেল অভ্যন্তরে। চোখের সামনে রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা অতবড় প্রাইভেট হেলিকপ্টার দেখে চক্ষু ছানাবড়া তার। ত্রস্ত ঘাড় সোজা করে অপ্রস্তুত কন্ঠে বলে ওঠে,

“ কোথায় যাচ্ছি আমরা?”
এমুহূর্তে থামলো মুগ্ধ। থামলো তার ব্যস্ত কদম। ঘাড় বাকিয়ে বুকের কাছে পড়ে থাকা আদুরে মায়াবিনীর পানে তাকিয়ে থেকে অধর কামড়ে হাসল সে। রয়েসয়ে চোখ মে’রে শুধালো,
“ স্বস্তি পেতে!”
অবোধ্য ছাপ ফুটলো মাহি’র মুখাবয়বে। তার সন্দিগ্ধতার রেশ কাটতে না কাটতেই মুগ্ধ গতি টানলো পায়ে। জোরালো কায়দায় হেলিকপ্টারের অভিমুখে এগিয়ে এসে মানবীকে আলতো করে তুলে দিলো পাইলট সিটের পাশে। এহেন কান্ডে যারপরনাই হতবাক মাহি। বসার জায়গা ওমন পরিবর্তিত দেখে তক্ষুনি হতবিহ্বলের ন্যায় প্রশ্ন ছুড়ঁল,
“ এখানে বসালেন যে? আমাদের না পেছনে বসার কথা?”
গম্ভীর মানব প্রতুত্তর করলেন না। উল্টো মায়াবিনীকে এক আকাশসম হতবাকতায় ডুবিয়ে দিয়ে রূঢ় মানব নির্বিকার ভঙ্গিতে ককপিটের আসনে স্থির হলো। একে একে সক্রিয় করল সকল যন্ত্রপাতির সুইচগুলো। মুহূর্তের নীরবতা ভেঙে গভীর গর্জনে জেগে উঠল হেলিকপ্টারের ইঞ্জিন। ক্রমেই তীব্র হলো সেই গর্জন, আর তার সঙ্গে ঘূর্ণায়মান রটার ব্লেডগুলো বাতাসকে উন্মত্ত বেগে কাঁপিয়ে তুলল।
বোকা মানবী হতবাকতার শীর্ষে আবির্ভূত হলো। রূঢ় মানবের এহেন কর্মকাণ্ড দেখে হতবাক কন্ঠে আওড়াল,

“ আপনি হেলিকপ্টারও চালাতে পারেন?”
ককপিটের গেজগুলোর দিকে একবার সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিশ্চিত হলো রূঢ় মানব। যেই দেখলো সবকিছু স্বাভাবিক ওমনি ঘাড় বাকিয়ে তাকালো মানবীর পানে। মুখাবয়বে এক অদ্ভুত দুষ্টুমির প্রলেপ লেপ্টে আচানক বলিষ্ঠ হাতের টানে সপ্তদশীকে এক ঝটকায় তুলে এনে বসিয়ে দিলো নিজ কোলে। বোকা মানবী হতভম্ব! তার পাদু’টো ঠাঁই পেয়েছে পুরুষালী ভি শেইপড কোমরের দুপাশে। মুখ ঠেকলো রূঢ় মানবের রুক্ষ বক্ষভাঁজে। কর্ণকুহরে ভেসে এলো মুগ্ধের সে-ই চিরচেনা দুষ্ট কন্ঠ!
“ শুধু হেলিকপ্টার না, তোকেও চালাতে পারি। শুধু তুই ঠিকঠাক মতো চড়তে পারিস না বলে চালাতে সময় লাগছে!”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৬১ (২)

বোধগম্যহীনতায় ডুবলো মাহি। ধীরলয়ে উঁচায় মুখ। এরইমধ্যে হেলিকপ্টারের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে হেলিকপ্টারটিকে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করল মুগ্ধ। অতঃপর সময় ব্যাবধানে তা দক্ষ হাতে উড়াতে লাগলো আকাশের বুকে। বোকা মানবী হতভম্ব চোখে তাকিয়ে থাকতেই দৃষ্টি ঝোঁকায় মুগ্ধ। ফের চোখ টিপে দুষ্ট কন্ঠে আওড়াল,
“ ডু ইউ ওয়ান্না গুড মর্নিং কিস দেড়ব্যাটারী?”
লজ্জায় লাল হলো মায়াবিনীর গালদুটো। ত্রস্ত নজর ঝোঁকাতে গেলেই তার নরম তুলতুলে অধরযুগলের ওপর হামলে পড়ল রূঢ় মানব!

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৬৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here