Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪৯

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪৯

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪৯
রূপন্তী সরকার

ড্রয়িংরুমের সবাই যখন বিয়ে আর নতুন ভবিষ্যতের গল্পে মগ্ন, ঠিক তখনই কোলে থাকা ছোট ইয়ান হঠাৎ কেমন যেন উসখুস করে কেঁদে উঠলো।
ইয়াশফা বুঝতে পারলো এত মানুষের মাঝে বাবু একটু বিরক্ত হচ্ছে। সে ড্রয়িংরুমের কোলাহল থেকে বাঁচতে ইয়ানকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটু একপাশে, ভেতরের করিডোরের দিকে চলে গেল। সেখানে দাঁড়িয়ে সে বাবুকে দুলিয়ে দুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগলো।
এদিকে সোফায় বসে থাকা আয়েশা শেখের মনটা কেন যেন ইয়াশফার ওপরই আটকে ছিল। ইয়াশফাকে নিচে নামতে দেখার পর থেকেই ওনার বুকের ভেতরটা কেমন যেন চিনে চিনে উঠছিল। ইয়াশফা উঠে যেতেই ওনার মনে এক অদ্ভুত কৌতুহলের জন্ম নিল। তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না, ড্রয়িংরুমের আড্ডা ছেড়ে ধীর পায়ে উঠে ইয়াশফার পেছন পেছন করিডোরের দিকে এগিয়ে গেলেন।

ইয়াশফা তখন পিঠ চাপড়ে ইয়ানের কান্না থামানোর চেষ্টা করছিল। হঠাৎ পেছনে কারো উপস্থিতির টের পেয়ে সে ঘুরে তাকালো। আয়েশা শেখকে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইয়াশফা কিছুটা অবাক হয়ে মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলো, “আন্টি, কিছু বলবেন?”
আয়েশা শেখ একটু ইতস্তত করে ইয়াশফার একদম কাছাকাছি এসে দাঁড়ালেন। তারপর আলতো গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
“তোমাদের বিয়ে হওয়া কতদিন হয়েছে মা?”
ইয়াশফা বাবুর কপালে হাত বোলাতে বোলাতে সহজভাবেই উত্তর দিল, “এই তো সাড়ে চার বছর পার হয়ে গেছে। আর তিন মাস গেলেই পুরো পাঁচ বছর হবে।”
আয়েশা শেখ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নরম সুরে বললেন,
“ওহ আচ্ছা, তুমি অনেক মিষ্টি একটা মেয়ে। তোমাকে যতবার দেখছি, কেন জানি আমার খুব কাছের একজনের কথা মনে পড়ছে।”

আয়েশা শেখের এমন আপন করে বলা কথায় ইয়াশফা একটু লজ্জিত হয়ে হালকা হাসলো। আয়েশা শেখ যখন কথা বলছিলেন, তখনই ওনার চোখ চলে গেল ইয়াশফার ডান হাতের কবজির একটু ওপরের দিকে। শাড়ির হাতাটা কিছুটা সরে যাওয়ায় সেখানে চামড়ার ওপর একটা অদ্ভুত, গাঢ় লালচে জন্মদাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। দাগটার দিকে তাকানো মাত্রই আয়েশা শেখের পুরো শরীর যেন এক নিমেষে জমে পাথর হয়ে গেল! ওনার চোখের মণি দুটো স্থির হয়ে গেল। কারণ, হুবহু ঠিক এই একই রকম একটা জন্মদাগ ওনার ছেলে অদ্রীতের হাতেও রয়েছে!
আয়েশা শেখ আর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলেন না। তিনি হুট করেই ইয়াশফার সেই হাতটা নিজের দুই হাতের মুঠোয় টেনে নিলেন। ওনার এমন আকস্মিক কাণ্ডে ইয়াশফা বেশ অবাক হলো। সে কপালে হালকা ভাঁজ ফেলে ভ্রু কুঁচকে ওনার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“কী হয়েছে আন্টি? এভাবে দেখছেন কেন?”
আয়েশা শেখের কণ্ঠ তখন কাঁপছিল। তিনি কোনোমতে নিজের আবেগ চেপে রেখে জিজ্ঞেস করলেন,
“তোমার… তোমার এই হাতের দাগটা কি জন্মগত মা?”
ইয়াশফা একটু অস্বস্তি বোধ করলো। সে নিজের গলাটা হালকা ঝেড়ে নিয়ে আমতা আমতা করে বললো,
“হ্যাঁ, এটা জন্ম থেকেই আছে।”
আয়েশা শেখের বুকের ভেতরটা তখন তীব্র এক আশঙ্কায় তোলপাড় হতে শুরু করেছে। তিনি ইয়াশফার চোখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললেন, “ঠিক এই একই রকম একটা দাগ যে আমার অদ্রীতের হাতেও রয়েছে…।”
কথাটা শুনে ইয়াশফাও মনে মনে কিছুটা অবাক হলো, তবে সে বিষয়টাকে অতটা গুরুত্ব না দিয়ে আবারো একটু হালকা কাশলো। ঠিক এই চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তেই জ্যোতি ড্রয়িংরুম থেকে করিডোরের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বেশ জোরে ডেকে উঠলো, “কী রে ইয়াশফা, তোমরা এখানে দাঁড়িয়ে কী করছো? ওদিকে তোমাকে ডাকছে, চলো।”

জ্যোতির গলার আওয়াজ পেয়ে ইয়াশফা যেন এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচার একটা সুযোগ পেল। সে আয়েশা শেখের হাত থেকে নিজের হাতটা আলতো করে ছাড়িয়ে নিয়ে ওনাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
“পাপা ডাকছেন, চলুন আমরা ওইদিকে যাই।”
ইয়াশফা জ্যোতিকে সাথে নিয়ে ড্রয়িংরুমের দিকে পা বাড়ালো। কিন্তু আয়েশা শেখ ওখানেই থমকে দাঁড়িয়ে রইলেন। ওনার চোখের সামনে তখন ইয়াশফার ফ্যাকাশে মুখ আর হাতের সেই লালচে দাগটা ভাসছে। ওনার মনের ভেতরের সন্দেহটা এবার এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গেল। ওনার সমস্ত শরীর কাঁপতে লাগলো এক অজানা আশঙ্কায়। মনে মনে তীব্র এক জেদ চেপে বসলো কে এই মেয়ে? কোথা থেকে এসেছে ও? এই মেয়ের আসল পরিচয় কি?
মেহমানদের সাথে আজকের মতো সব কথাবার্তা বেশ সুন্দরভাবেই শেষ হলো। সব দিক বিবেচনা করে সামনের মাসেই রুহি আর অদ্রীতের বিয়ের দিন ঠিক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এই বাড়িতে আবার বিয়ের সুর বাজবে ভেবে সবার মনই এখন ফুরফুরে। ড্রয়িংরুমের থমথমে ভাব কেটে গিয়ে এখন এক চমৎকার আনন্দময় পরিবেশ তৈরি হয়েছে।সবাই যখন সোফায় বসে রিল্যাক্স করছে,

তখন রিদ সবার সামনে ঋষভকে একটু খোঁচানোর এবং রাগানোর একটা মোক্ষম সুযোগ পেয়ে গেল। সে বেশ গম্ভীর হওয়ার ভান করে ইয়াশফাকে দেখিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বললো,
“সব তো ঠিকই আছে। তবে আমি ভাবছি এবার আমার বউমা, মানে ইয়াশফা মায়েরও একটা গতি করা দরকার। ওর জন্য আমি একটা খুব ভালো আর হ্যান্ডসাম ছেলে দেখেছি, এবার ওর বিয়েটা দিয়ে দেবো।”
বাবার মুখ থেকে এই কথা শোনা মাত্রই সোফায় বসে থাকা ঋষভ এক ঝটকায় সোজা হয়ে বসলো। ওর চোখ-মুখ মুহূর্তেই রাগে লাল হয়ে গেল। সে বেশ চড়া গলায় চেঁচিয়ে উঠে বললো,

“শাট আপ পাপা! দুনিয়ার সবাইকে ছেড়ে তুমি শুধু আমার বউয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য এভাবে উঠেপড়ে লেগেছো কেন, বলবে? আমি তোমাকে সাফ সাফ বলে দিচ্ছি, আমার বউয়ের থেকে একদম দূরে থাকবে তুমি!”
রিদ অবশ্য ছেলের এই রেগে যাওয়া দেখে মনে মনে বেশ মজা পেল। সে নিজের গম্ভীর ভাবটা ধরে রেখে পাল্টা খোঁচা দিয়ে বললো, “কেন হে? তুমিই না দুপুরে সবার সামনে বললে যে তুমি ইয়াশফাকে নিজের বউ বলে মানো না? একটা বাচ্চার জন্ম দিয়ে ফেলার পরও এখন বলছো বউ মানো না! লজ্জা লাগা উচিত তোমার। তুমিই আমার বউমার থেকে দূরে থাকবে, একদম ওর আশেপাশেও ঘেঁষবে না!”
বাবার এই অকাট্য যুক্তিতে ঋষভ এক মুহূর্তের জন্য দমে গেল। কিন্তু ঋষভ রায়ান চৌধুরী কি আর এত সহজে হার মানার পাত্র? সে সোফার হাতলে একটা চাপ দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো, “ওকে, ফাইন! তুমি যদি আমার বউয়ের অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চাও, তবে আমিও তোমার বউকে, অন্য কোনো কারো সাথে বিয়ে দিয়ে দেবো! দেখে নিও!”

ছেলের মুখে এমন বেয়াদবি আর অদ্ভুত কথা শুনে রিদ এবার সত্যি সত্যি রেগে আগুন হয়ে গেল। সে সোফা থেকে আধো-উঠে দাঁড়িয়ে পাশে বসা মিহির দিকে তাকিয়ে নালিশ করার সুরে বললো, “মিহি! দেখছো তোমার ছেলে সবার সামনে দাঁড়িয়ে এসব কী বলছে? ওর এত বড় সাহস!”
এতক্ষণ মিহি চুপচাপ সব শুনছিল। এবার সে নিজের ছেলের দিকে এক নজর তাকিয়ে মুচকি হাসলো। তারপর রিদের দিকে তাকিয়ে বেশ কড়া মুখেই ছেলের দালালি করে বলে উঠলো,
“ও তো একদম ঠিক কথাই বলেছে! তুমি সকাল-বিকাল ওর বউকে নিয়ে টানাটানি করলে ও কি তোমার বউকে ছেড়ে কথা বলবে? আমিও এই ব্যাপারে পুরো একশো ভাগ আমার ছেলের দলেই আছি!”
মিহির মুখে নিজের ছেলের পক্ষ নেওয়া দেখে রিদ পুরো আকাশ থেকে পড়লো। ঠিক এই সময়ে পাশে বসা অভ্র পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য হাত তুলে দুজনকে থামিয়ে দিয়ে হেসে উঠে বললো,
“আরে তোরা বাপ-বেটা এবার থামবি? এখানে রুহির বিয়ে ঠিক হচ্ছে, তোরা সেটা বাদ দিয়ে, মেহমানদের সামনে নিজেদের বউ আর বিয়ের চিন্তা নিয়ে কামড়াকামড়ি শুরু করে দিলি!”
রিদ তখনো রাগে ফুঁসছে। সে ঋষভের দিকে আঙুল উঁচিয়ে গর্জে উঠে বললো, “ওর সাহস কত বড় দেখেছিস অভ্র? আমার বউকে নাকি ও অন্য জায়গায় বিয়ে দেবে! এবার যদি এই কথা মুখ দিয়ে বের করিস, তোকে আমি জ্যান্ত কবর দিয়ে দেবো ঋশ!”
ঋষভও নিজের জেদ থেকে এক চুলও নড়লো না। সে নিজের বাবার চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে সিংহের মতো গর্জে উঠে বললো,

“আমার বউকেও অন্য কারো সাথে বিয়ে দেওয়ার কথা এই বাড়িতে যেই মুখে আনবে, আমিও তাকে জ্যান্ত কবর দিয়ে দেবো! সে যেই হোক না কেন, আমার কিছু যায় আসে না!”
রিদ এবার একটু দমে গিয়ে ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে দুঃখী মুখে বললো,
“আরে, আমি তো আর তোমার মতো নিজের বউকে সবার সামনে অস্বীকার করি না!”
ঋষভ কপালে হাত দিয়ে নিজের চেপে বললো বললো, “আমি করি, করতেই পারি! আমার বউ, আমি যা খুশি তা-ই করবো! তাতে তোমার কী?”

বাপ-ছেলের এই ছোট বাচ্চাদের মতো ঝগড়া আর জেদ দেখে ড্রয়িংরুমের সবাই তখন হাসতে হাসতে শেষ। এতক্ষণ ইয়াশফা চুপচাপ থেকে বেশ মজা নিচ্ছিল, কিন্তু এবার ঝগড়ার গতিবেগ দেখে সে আর চুপ থাকতে পারলো না। সে কোলে থাকা ইয়ানকে একটু শক্ত করে ধরে বেশ ধমকের সুরে বলে উঠলো, “থামুন তো আপনারা! নিজেদের এই ফালতু ঝগড়া এবার বন্ধ করুন। এত বড় একটা শুভ কাজেও এসব কী শুরু করেছেন আপনারা? আপনারা আদেও বাপ-ছেলে, নাকি একে অপরের জন্মশত্রু সাপ আর নেউল? একটুও কি লজ্জা করে না আপনাদের?”
ইয়াশফার ধমক খাওয়া মাত্রই ঋষভ এক মুহূর্তও দেরি করলো না। সে সোফা থেকে চিতা বাঘের মতো উঠে এসে এক ঝটকায় ইয়াশফার কোল থেকে ছোট ইয়ানকে মিহির কোলে চালান করে দিল। তারপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে ইয়াশফাকে এক টানে পাঁজকোলা করে নিজের কোলে তুলে নিলো। ইয়াশফা হুট করে ওপরে উঠে যাওয়ায় ভয়ে ঋষভের গলা জড়িয়ে ধরলো। ঋষভ সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে রিদের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বললো,

“তোমাকে যেন আর কোনোদিন পাপার আশেপাশে ঘুরঘুর করতে না দেখি,!”
হসপিটালের পর আজ মেহমানদের সামনে এমন কাণ্ড দেখে ইয়াশফা লজ্জায় পুরো লাল হয়ে গেল। সে ঋষভের বুকে ছোট ছোট কিল মেরে ফিসফিস করে বলতে লাগলো,
“ছিহ ছিহ! ছাড়ুন বলছি! নিচে সবাই হাঁ করে তাকিয়ে আছে। এত অসভ্য কেন আপনি? একটুও কি লজ্জা-শরম নেই আপনার? ছিহ!”
এদিকে নিচ থেকে রিদও সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সে সোফা থেকে ঘাড় উঁচিয়ে বেশ জোরে চেঁচিয়ে উঠলো, “আরে, তোকে তো আমি আমার বউমার থেকে দূরে থাকতে বলেছি! নামা ওকে নিচে বলছি!”
কিন্তু কে শোনে কার কথা! ঋষভ রায়ান চৌধুরী তখন নিজের ধ্যানে মগ্ন। সে নিচের সবার হাসাহাসি আর রিদের চেঁচামেচিকে পাত্তা না দিয়ে ইয়াশফাকে কোলে নিয়েই গটগট করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।দেখতে দেখতে রাত নামলো…

চারিদিক একদম শান্ত। বেডরুমের এক কোণায় টেবিলের ওপর নিজের ল্যাপটপটা অন করে কিছু জরুরি কাজ করছিল ঋষভ। অন্যদিকে ইয়াশফা খাটের ওপর বসে ছোট ইয়ানের ধোয়া সুতি কাপড়গুলো এক এক করে ভাঁজ করছিল। ঘর জুড়ে এক পিনপতন নীরবতা।
কাপড় ভাঁজ করতে করতেই হঠাৎ ইয়াশফার মনের ভেতর প্রায় সাড়ে তিন বছর আগের পুরোনো একটা অদ্ভুত স্মৃতির কথা মনে পড়ে গেল। সেদিনও রাতটা ঠিক এমনই নিঝুম ছিল। ইয়াশফা বিছানায় একটু নড়েচড়ে বসে কাজ থামিয়ে দিল। সে ঋষভের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করেই বেশ কৌতুহলী গলায় জিজ্ঞেস করলো, “আচ্ছা, আপনার মনে আছে? সেই সাড়ে তিন বছর আগে, আমাদের বিয়ের প্রথম দিকে একদিন মাঝরাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন হুট করে কে যেন আড়ালে এসে আমার পেটে খুব শক্ত করে একটা কামড় বসিয়ে দিয়েছিল! ব্যথায় তো আমার ঘুমই ভেঙে গিয়েছিল।”

ইয়াশফার মুখ থেকে হুট করে এই পুরোনো কাণ্ড শোনার সাথে সাথেই ল্যাপটপে টাইপ করতে থাকা ঋষভের হাত দুটো মাঝপথেই থমকে গেল। সে আচমকা বেশ জোরে জোরে কাশতে লাগলো, যেন ওনার গলায় কিছু একটা আটকে গেছে
ঋষভের এই বিষম খাওয়া দেখেও ইয়াশফা থামলো না। সে নিজের কপালে হাত দিয়ে আরেকটু ভেবে নিয়ে রহস্যের সুরে আবারো বললো, “জানেন? আপনি ওই মিশনে চলে যাওয়ার ঠিক কয়েক মাস পরেও… একদিন মাঝরাতে হুবহু একই রকম ঘটনা ঘটেছিল! আমার আধো-ঘুমে মনে হয়েছিল ঠিক একইভাবে কেউ একজন এসে আবার আমার পেটে মুখ ডুবিয়ে গভীর একটা চুমু দিয়েছিল।”
ইয়াশফার এই শেষ বাক্যটা শোনা মাত্রই ঋষভ ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে নিজের চোখটা সরিয়ে নিলো। সে এক বুক বিস্ময় আর সংশয় নিয়ে ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে একটু চড়া গলায় বললো, “মানে? কী বললি তুই? প্রথমবার তো না হয় মাঝরাতে লুকিয়ে আমিই ওই কাজটা করেছিলাম! কিন্তু পরের বার যখন আমি এই দেশেই ছিলাম না, তখন তোর পেটে আবার কে কামড় দিল?”

ঋষভের এই সরাসরি স্বীকারোক্তি শুনে ইয়াশফা পুরোই আকাশ থেকে পড়লো। সে বড় বড় চোখ করে ঋষভের দিকে তাকিয়ে বললো, “তার মানে… প্রথম দিন ওই কাণ্ডটা আপনিই করেছিলেন? কিন্তু যখন আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তখন তো আপনার রিঅ্যাকশন দেখে মনে হয়েছিল আপনি কিচ্ছু জানেন না! পুরো সাধু সেজে বসেছিলেন!”

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪৮

ইয়াশফার এই বোকা বোকা অভিযোগ শুনে ঋষভ এতক্ষণের গম্ভীর ভাবটা একদম ঝেড়ে ফেললো। সে চেয়ার ছেড়ে আস্তে আস্তে ইয়াশফার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। ওর ঠোঁটের কোণে তখন এক শয়তানি হাসি। সে বিছানার একদম কিনারে এসে ইয়াশফার দিকে ঝুঁকে পড়ে ফিসফিস করে বলতে লাগলো…

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৫০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here