Home মেরিগোল্ড সেনোরিটা মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৩৪

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৩৪

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৩৪
ফারহানা নিঝুম

“তোকে বলেছিলাম না ওই প্রণয়ের থেকে দূরে থাকতে? তুই আমার কথাকে কোন সাহসে ইগনোর করিস?”
বজ্রপাতের ন্যায় গর্জে উঠল শয্যের কণ্ঠ।বলিষ্ঠ মুষ্টির ভেতর বন্দী ঝুমঝুমের কোমল কব্জিটি ক্রমশ রক্তশূন্য হয়ে উঠছে। ব্যথার তীব্রতায় কন্যার সোনালি আঁখিযুগল জলমগ্ন হয়ে এলো। বুকের অন্তর্নিহিত যন্ত্রণাটুকু গিলে ফেলে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল,
“আপনি আমার লাইফ কন্ট্রোল করতে পারেন না।”
বাক্যটি উচ্চারিত হওয়া মাত্রই শয্যের দৃষ্টি ভয়ংকর রূপ ধারণ করল।হ্যাজেল বর্ণের চোখদুটি যেন দাউদাউ করে জ্বলতে লাগল।

“পারি। একশো বার পারি। কারণ এটা আর শুধু তোর জীবন না। তুই সম্পূর্ণরূপে আমার!”
কথাগুলো উচ্চারিত হলো এমন এক অধিকারবোধে, যা শুনে আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন অতিথিও বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। মেহবুব দ্রুত এগিয়ে এসে শয্যের বাহু চেপে ধরল।
“কি করছিস তুই? কন্ট্রোল, ব্রাদার! ভুলে যাস না, আমরা পার্টিতে আছি। এখানে মিডিয়া আছে, গেস্ট আছে!”
কিন্তু শয্য যেন কিছুই শুনছে না।তার দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে ঝুমঝুমের উপর।কিছুক্ষণ পূর্বে প্রণয়ের হাতের মুঠোয় ঝুমঝুমের হাতটি দেখার পর থেকেই তার মস্তিষ্কে যেন প্রলয়ংকরী অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে।হৃদয়ের ভেতর জমে থাকা ঈর্ষা, ক্ষোভ আর অধিকারবোধ মিলেমিশে এক বিভীষিকাময় অনুভূতির জন্ম দিয়েছে।দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বলল,

“ও কোন সাহসে এখানে এসেছে, সেটা জিজ্ঞেস কর!”
ঝুমঝুমও আজ অস্বাভাবিক রকমের ক্ষুব্ধ।কাঁপা হাতে নিজের কব্জিটি ছাড়িয়ে নিল শয্যের মুঠো থেকে।চোখে জমে থাকা অশ্রু মুছে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“আমার জীবন শুধু আমার। আপনি অনধিকার প্রবেশ করছেন। আমি যার সঙ্গে ইচ্ছে পার্টিতে আসব, যার সঙ্গে ইচ্ছে কথা বলব। আপনি বলার কে?”
কথাগুলো যেন ধারালো তীরের মতো গিয়ে বিদ্ধ করল শয্যের বুকে।কিন্তু ঝুমঝুম আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না।
কালো গাউনের প্রান্ত দুহাতে সামলে দ্রুত পদক্ষেপে ফিরে গেল প্রণয়ের কাছে।আর সেই দৃশ্যটাই যেন শয্যের সমস্ত সংযম ভস্মীভূত করে দিল।তার চোয়াল শক্ত হয়ে এলো।
মুষ্টিবদ্ধ হাতের শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠল।দাঁতে দাঁত পিষে বিষাক্ত সর্পের মতো ফোঁসফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়ল সে।

“দেখলি? ওর সাহসটা দেখলি? আমাকে ইগনোর করছে! জুনেদ শয্য বাদশাহকে ইগনোর করছে!”
হিউন জে প্রায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।চারদিকে উদ্বিগ্ন দৃষ্টি বুলিয়ে নিচু স্বরে বলল,
“ব্রাদার, প্লিজ কন্ট্রোল ইয়োরসেলফ! যদি কেউ জেনে যায় দ্য গ্রেট জুনেদ শয্য বাদশাহর লাভ ইন্টারেস্ট আছে, তাহলে মিডিয়া টিম আলফাকে ছিঁড়ে খাবে!”
শয্য কোনো উত্তর দিল না।তার ভেতরে তখন অন্য যুদ্ধ চলছে।অগ্নিগর্ভ, বিধ্বংসী এক যুদ্ধ।সে হনহন করে হেঁটে চলে গেল ড্রিংস কর্নারের দিকে।টেবিলজুড়ে সাজানো ছিল দামী সব হার্ড ড্রিংস।একটি গ্লাস তুলে নিল।
এক চুমুক।দুই চুমুক।তারপর যেন উন্মত্তের ন্যায় একের পর এক পান করতে লাগল। মেহবুব দৃশ্যটা দেখে হঠাৎ খিলখিলিয়ে হেসে উঠল।

“ব্যস! এবার খেলা শুরু।”
জিয়ান ভ্রু তুলল।
“মানে?”
মেহবুব রহস্যময় হাসি হেসে বলল,
“আজ না হয় কাল। কিন্তু আজকের রাতের পর শয্য নিজের মনের কথা লুকিয়ে রাখতে পারবে না।”
হিউন জে কপালে হাত ঠেকাল।
“আমার কিন্তু ভালো ফিলিংস আসছে না। হিতেবিপরীত হয়ে গেলে?”
মেহবুব ও জিয়ান একসঙ্গে হেসে উঠল।
“চিল, ব্রাদার!”
কিন্তু তারা কেউই বুঝতে পারল না ড্রিংসের গ্লাস হাতে দূরে বসে থাকা শয্যের হ্যাজেল চোখদুটি এখনও নিবদ্ধ রয়েছে একমাত্র ঝুমঝুমের উপর।

হাতে হাত রাখতেই লাইট নিভে গিয়ে ড্যান্স ফ্লোরে আলো নিভে গিয়ে মুহূর্তেই রঙিন স্পটলাইট জ্বলে উঠল। সঙ্গীতের তালে তালে ঝুমঝুম প্রণয়ের হাত ধরে ধীরলয়ে নৃত্যে মগ্ন। তার ভেতরে কোনো ভয় নেই না শয্যের জন্য, না পরিস্থিতির জন্য। তার বিশ্বাস, এই মুহূর্তে শয্য কিছুই করতে পারবে না।
প্রণয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সে যখন পুরোপুরি নিমগ্ন, ঠিক তখনই। ড্যান্স ফ্লোরে প্রবেশ করল শয্য। সঙ্গে সুরাইয়া।
এক মূহুর্তের জন্য স্থবির বনে যায় ঝুমঝুম! ওই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তাকে স্পষ্টভাবে বলছে,
“তুই ভুল করছিস ঝুম, আমি এতটাও বড় অন্যায় করিনি ভালোবেসে যার কারণে আজ এই দৃশ্য আমাকে দেখতে হবে!”
ফাঁকা ঢোক গিলল ঝুমঝুম! সাউন্ড সিস্টেমে মিউজিক বেজে চলেছে।

Aisa laga Mujhe Pehli dafaa
Tanha main ho gayi yaara
Hoon pareshan
si main
Ab ye kehne
ke liy
Tu zaroori sa
hai mujhko
Zinda rehne ke liye
Ho..Tu zaroori sa ( tu zarooi )
sa hai mujhko (sa hai mujhko)
Zinda rehne ke liye
(Zinda rehne ke liye )

প্রণয় যেইনা ঝুমঝুমের নিকটে আসে, ঠিক সেই মুহূর্তে অকস্মাৎ সুরাইয়ার হাত ছেড়ে ঝুমঝুমের হাত খামচে ধরে শয্য; ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব সুরাইয়া এবং প্রণয় দুজনেই স্তব্ধ হয়ে যায়। প্রণয় মুহূর্তের মধ্যে ঘুরে সুরাইয়ার দিকে চলে যায় এবং তারা ধীরে ধীরে নাচে নিমগ্ন হয়।
ঝুমঝুম কাঁপছে! শয্য কোমর চেপে ধরে আঁকড়ে ধরে কন্যাকে। হিসহিসিয়ে বলল,
“আই টাচড ইউ, অ্যান্ড আই’ম অলরেডি ড্যামেজড।ইউ টাচড মি, অ্যান্ড ইউ ড্যামেজড মি।ইউ রুইন্ড মি। ইউ’ভ অলরেডি ডেস্ট্রয়েড মি, ঝুম।
ঝুমঝুম কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“আপনি ভীষণ ডমিনেটিং জানেন?”
শয্য ঝুমঝুমকে ঘুরিয়ে নিল। তার বুকের সাথে ঝুমঝুমের পিঠ লেগে গিয়েছে। অতঃপর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“আমি ঠিক কতটা ডমিনেটিং, তুই সময় হলে ঠিক জানতে পারবি। আর হ্যাঁ, তোর ভাবনার চেয়েও বেশি!”
ঝুমঝুম হাঁসফাঁস করে ওঠে কারণ শয্যের স্পর্শ ক্রমশ বেগতিক হচ্ছে। কোমরের উপর নিজের হাতের স্পর্শে সূক্ষ্ম ব্যথা অনুভব করছে ঝুমঝুম।
শয্যের হিসহিসানি নিঃশ্বাসের শব্দ কর্ণপথ ভেদ করে যেন ভেতরে আ’গুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে!
ঝুমঝুম নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে নিতে বলল,
“আমার জীবনে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই আপনার। আমি প্রণয়কে ভালোবাসি!”
এটুকু বলতেই শয্য নিজের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঝুমঝুমের হাতের কব্জি ধরে টানতে টানতে পার্টি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে লাগল। সুরাইয়া, প্রণয় দুজনেই স্তব্ধ! সুরাইয়ার তো আজ শয্যকে প্রপোজ করার কথা ছিল।
“হোয়াট দ্য হেল? প্রণয়, ঝুমঝুম তো তোমার গার্লফ্রেন্ড তাহলে শয্য কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?”
প্রণয় নিজেও কিছু বুঝতে পারছে না। সে তো আজ ঝুমঝুমকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে চাইছিল!

“প্লিজ,ছাড়ুন আমাকে! কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? ছাড়ুন!”
শয্য ছাড়ল না। উল্টো তাকে গাড়িতে টেনে বসিয়ে লক করে দিল দরজা। অতঃপর কাউকে দ্রুত টাইপ করে ম্যাসেজ করল! অতঃপর নিজেও গাড়িতে উঠে বসল!
ঝুমঝুম ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“প্লিজ আমাকে নামিয়ে দিন। আমি ভেতরে যাবো, প্রণয়ের কাছে….
সহসা তার গাউনের বুকের অংশ শয্যের আগ্রাসী হাতটা টেনে নিজের নিকটে নিয়ে এলো,
“জানে মেরে ফেলব তোকে ঝুম! আর একবার প্রণয় প্রণয় করলে তোকে এখুনি শেষ করে ফেলব!”
শয্যের এহেন টানে গাউনের সামনের অংশ ছিঁড়ে এল! ঝুমঝুম ফুঁপিয়ে উঠলো! ইতিমধ্যেই তার ভেতরের ইনারের অংশ দৃশ্যমান। লজ্জায় চিবুক লাল হয়ে আসছে কন্যার। তৎক্ষণাৎ শয্য নিজের স্যুট খুলে মেয়েটাকে জোরপূর্বক পরিয়ে দিতে দিতে জিজ্ঞাসা করল।
“এখুনি জিজ্ঞেস করছিলি না কিসের অধিকার আমার? আজ দেখতে পাবি তুই!”
দ্রুত গতিতে ড্রাইভ করে চলেছে শয্য! আধ ঘন্টার মধ্যে এসে পোঁছেছে কোর্টে! কোর্টে নিজেদের দেখে বুকের উপর ধক করে উঠল ঝুমঝুমের!
তৎক্ষণাৎ বলল,

“আপনি,,, আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন?”
শয্য কোনো উত্তর দিল না। যেন সমস্ত বাক্য তার কণ্ঠনালীতেই স্তব্ধ হয়ে আছে। দৃঢ় পদক্ষেপে ঝুমঝুমের কব্জি আঁকড়ে তাকে নিয়ে প্রবেশ করল আদালত প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরে। ভেতরে ঢুকতেই মেহরিমা ও রাকিবকে দেখতে পেল ঝুমঝুম। পরক্ষণেই বাঁধভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়ে ছুটে গেল তাদের দিকে।
“আপু!”
মেহরিমা বিস্ময়ে চমকে উঠল। রাকিবও দ্রুত এগিয়ে এসে স্নেহভরে বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। কন্যার এই বিপর্যস্ত অবস্থা দেখে দুজনেই হতবাক।
“কি হয়েছে? এভাবে কাঁদছিস কেন?”
ঝুমঝুম কাঁপতে কাঁপতে মেহরিমার বাহু আঁকড়ে ধরল।

“আপু… উনি পাগল হয়ে গেছেন! কি করছেন?কেন করছেন? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না!”
এমন সময় ধীর পদক্ষেপে তাদের নিকটে এসে দাঁড়াল শয্য। তাকে দেখেই রাকিব কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করল,
“কি হয়েছে ভাইয়া? ঝুমঝুম এসব কি বলছে?”
কিন্তু উত্তর দেওয়ার আগেই আদালতকক্ষের দরজার দিকে সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো। এক এক করে ভেতরে প্রবেশ করল আরও কয়েকজন। মেহবুব, জিয়ান, হিউন জে সমগ্র টিম আলফা। তাদের মুখাবয়বেও স্পষ্ট বিস্ময়ের ছাপ। শয্য জরুরি বার্তায় ডেকেছে বটে, কিন্তু কেন ডেকেছে তা কেউই জানত না। পরবর্তী মুহূর্তেই বজ্রাঘাতের ন্যায় বিস্ফোরিত হলো একটি বাক্য,
“আমি বিয়ে করব! ওকে বিয়ে করব!”
কথাগুলো উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন সমগ্র পরিবেশ স্তব্ধ হয়ে গেল। মেহরিমা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারল না।

“কি? বিয়ে? মানে ঝুমঝুমকে বিয়ে করবে?”
ঝুমঝুমের পা দুটো যেন হঠাৎ শক্তিহীন হয়ে পড়ল। ধপাস করে নিকটবর্তী চেয়ারে বসে পড়ল সে। রাকিবও নির্বাক। তবুও কোনোমতে প্রশ্ন করল,
“বিয়ে? কিন্তু হঠাৎ করে কিভাবে?
শয্যের মুখমণ্ডলে কোনো আবেগের ছায়া নেই। অদ্ভুত স্থিরতায় ঝুমঝুমের দিকে তাকিয়ে বলল,
“হ্যাঁ, ওকে বিয়ে করব। ও হবে আমার স্ত্রী। মিসেস জুনেদ শয্য বাদশাহ। আর তোমরা সবাই হবে আমাদের বিয়ের সাক্ষী।”
মেহবুব, জিয়ান এবং হিউন জে পরস্পরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল।এবার তারা বুঝতে পারল শয্যের সেই রহস্যময় বার্তার অর্থ।সে সত্যিই আজ, এই মুহূর্তেই বিবাহ করতে চায়!
“কখনো না!”
আচমকা চিৎকার করে উঠল ঝুমঝুম।
“আমি কখনো আপনাকে বিয়ে করব না! আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে! আপনি আমার ভাই হন!”
শয্যের ওষ্ঠপ্রান্তে বিদ্রূপাত্মক হাসি ফুটে উঠল।
“এনি ব্লাড রিলেশনশিপ? তুই কি আমার আপন বোন? সৎ বোন? নাকি কাজিন সিস্টার? কোনটা? যদি কাজিনই হোস, তাহলে মেহরিমা আর রাকিবও তো কাজিন। সো, নো ইস্যু।”
ঝুমঝুম আতঙ্কগ্রস্ত ভঙ্গিতে মেহরিমাকে জড়িয়ে ধরল।

“আপু, কিছু বলো! উনি এসব কি বলছেন?”
মেহরিমার নিজেরই যেন ভাষা হারিয়ে গেছে।কিছুক্ষণ নীরব থেকে সে বলল,
“এক মিনিট ভাইয়া,তুমি কি বলছো? আর মাশাকেই কেন?”
শয্য এবারও কোনো জবাব দিল না।ঝুমঝুমের বুকের ভেতর জমে থাকা ভয় ক্রমশ বিস্ফোরিত হতে লাগল।
“আমি বাড়ি যাবো! এখনই বাড়ি যাবো!”
কথাটি বলে সে যেই না এক পা পিছিয়ে এলো, অমনি পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নিল।শয্য ধীর ভঙ্গিতে কোমরের পাশ থেকে রিভলভারটি বের করল।ধাতব অস্ত্রটির ঝলকানি মুহূর্তেই সকলের শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নামিয়ে দিল।হ্যাজেল বর্ণের চোখ দুটো অদ্ভুতভাবে জ্বলছে।
অতঃপর বরফশীতল কণ্ঠে উচ্চারণ করল

“আর এক পা এগোলেই আমি কিন্তু শ্যুট করব, ঝুমঝুম!”
থমকে দাঁড়িয়ে গেল ঝুমঝুম। ধীরে ধীরে পিছন ফিরে তাকাতেই তার দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো শয্যের হাতে ধরা রিভলবারের উপর। মুহূর্তেই রক্তশূন্য হয়ে এলো তার মুখশ্রী। তবুও ওষ্ঠপ্রান্তে এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বলল,
“আপনি আমাকে বিয়ে করতে পারবেন না বলে মেরে ফেলবেন?”
শয্যের মুখাবয়বে কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না। বরফশীতল কণ্ঠে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল সে,
“প্রয়োজনে তাই। বাট আপাতত সেটা করছি না।”
পরক্ষণেই এমন এক কাণ্ড ঘটাল সে, যা উপস্থিত সকলের হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। রিভলবারটি ঘুরিয়ে নিজের কপালে ঠেকিয়ে দিল শয্য!
“শয্য!”
“শয্য ভাইয়া, প্লিজ!”
“হোয়াট আর ইউ ডুয়িং?”

মেহরিমা, রাকিব, জিয়ান, মেহবুব, হিউন জে সবাই প্রায় একসাথে চিৎকার করে উঠল।ঝুমঝুমের চোখ বিস্ফারিত হয়ে এলো আতঙ্কে। সমগ্র দেহ কাঁপছে তার। শয্য ধীর অথচ ভয়ংকর স্বরে বলল,
“আমার কিছু হলে মাম্মা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। হয়তো মানসিক ভারসাম্যও হারাবে। এখন তুই ভেবে দেখ, কি করতে চাস।”
কথাগুলো যেন বজ্রাঘাতের ন্যায় আছড়ে পড়ল ঝুমঝুমের উপর।হুহু করে কেঁদে উঠল কন্যা। কান্নায় তার কণ্ঠরোধ হয়ে আসছে।
“কেন এমন করছেন আপনি? কি চান?”
শয্যের উত্তর এলো বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছাড়াই।
“তোকে চাই।”
স্তব্ধ হয়ে গেল ঝুমঝুম। একদিকে জেসমিন বাদশাহর ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে নিজের জীবন, নিজের পরিবার, নিজের সমস্ত সম্পর্ক। মুহূর্তের মধ্যে যেন এক ভয়াবহ দ্বিধাবিভক্তির সম্মুখীন হলো সে। শয্য এবার কণ্ঠ কঠোর করে বলল,
“তোর কাছে পাঁচ সেকেন্ড সময় আছে। এই পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে যদি বিয়েতে রাজি না হোস, তাহলে,,
সে কপালে ঠেকানো রিভলবারটিতে চাপ বাড়াল।
“আই উইল শ্যুট মাইসেল্ফ!”
উপস্থিত সকলে আতঙ্কে তার দিকে এগিয়ে যেতেই শয্য আরও এক ধাপ পিছিয়ে গেল।ঝুমঝুম প্রায় আর্তনাদের স্বরে বলে উঠল,
“প্লিজ, এমন করবেন না! বন্দুকটা সরান!”
শয্যের কণ্ঠ গর্জে উঠল।
“ওয়ান!”
সে কারও কথা শুনতে প্রস্তুত নয়।ঝুমঝুম অসহায় চোখে তাকালো টিম আলফার দিকে।
“মেহবুব ভাইয়া,জিয়ান ভাইয়া,হিউন জে ভাইয়া কিছু বলুন উনাকে!”
“টু!”
হিউন জে ব্যাকুল কণ্ঠে বলে উঠল,

“শয্য, প্লিজ স্টপ ইট!”
“থ্রি!”
ঝুমঝুমের কান্না ক্রমেই উন্মত্ত হয়ে উঠছে।কিন্তু শয্যের মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।
“ফোর!”
এইবার ঝুমঝুম স্পষ্ট দেখতে পেল, শয্যের তর্জনী ট্রিগারের উপর স্থির হয়ে গেছে।আর মাত্র এক মুহূর্ত।
“ফাইভ!”
“আমি রাজি!”
চিৎকার করে উঠল ঝুমঝুম।অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে, ভাঙা হৃদয়ে, অসহায় আত্মসমর্পণের স্বরে সে বলল,
“আমি রাজি করব আমি বিয়ে! প্লিজ সরান ওটা!”

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৩৩

মুহূর্তেই আদালতকক্ষ জুড়ে নেমে এলো শ্বাসরুদ্ধকর নীরবতা।কেউ কথা বলল না।কেউ নড়ল না। শুধু ঝুমঝুমের বুকফাটা কান্নার শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল চারদিক জুড়ে।
বিয়ের পুরোটা সময় স্তব্ধের ন্যায় ছিল রমণী! রেজিস্ট্রি পেপারে সাইন করার সময় এবং কি মালা বদলের সময়টাও কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাল না!
আইনিভাবে বিয়েটা সম্পন্ন হতেই দৃষ্টি যুগল ঝাপসা হয়ে এলো ঝুমঝুমের অতঃপর ঢলে পরে কন্যা।তাও আবার সেই পুরুষটির বুকে যার থেকে বাঁচতে চেয়েছিল!

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৩৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here