Home প্রেমসুধা সিজন ২ প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯৪ (২)

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯৪ (২)

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯৪ (২)
সাইয়্যারা খান

তুরাগের কঠিন ধমকেও দমানো যাচ্ছে না পলককে। গতরাত থেকে এখন অব্দি তুরাগের ভয়ে তুহিনের কাছে যেতে পারে নি পলক, না চোখের দেখাটা দেখেছে। ছুঁয়ে দেখা তো বহু দূরের বিষয়। আজ সকাল থেকে একটাবার দেখার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না৷ কোন কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না। ওরা যখন বাইরে এলো তখন পলক পেছন থেকে উঠে সামানে এসেছিলো। এই যে গতরাত থেকে এখানে পড়ে আছে ও, এক গ্লাস পানি দিয়ে কেউ জিজ্ঞেস করে নি। এমনকি তৌসিফও না৷ পলক বিষয়টা তুহিনকে জানাবে, তার মেঝ ভাইয়াও পলককে একটিবার স্বান্তনা দিতে আসেনি। পলককে কেউ দেখে নি। দূরছাই করে তাড়িয়েছে শুধু। এখন মানুষজন বেশি দেখে পলক সাহসটা করেছিলো। এগিয়ে দরজার সামনে আসতেই তুরাগ গম্ভীর কণ্ঠে টনিকে উদ্দেশ্য করে বললো,
“আজেবাজে জিনিস যাতে তুহিনের কেবিনে না ঢুকে টনি৷ ওসব জঞ্জাল সরাও।”
টনি খুবই বিব্রত হয়েছে তাতে। বসের বউকে সরাবে তাও টনি? একি সম্ভব? তুহিনের কানে ঢুকলে টনিকে মাগুর মাছের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলবে। চোখ তুলে কথা বলে না সেখানে সরাবে কিভাবে? টনি ইতস্তত করতেই পলক কেবিনের একদম সামনে এসে নবে হাত রাখে, ঠিক তখনই চরম হুংকার শোনা গেলো তুরাগের। তিশা রেগে এসে পলকের হাত সরায় নব থেকে। রাগী স্বরে বলে,

“খেয়ে শান্তি হও নি আমার ভাইকে? এখন কি বাকি জানটুকু খাবে?”
“আপনার সাথে কথা বলছি না আমি। সরুন।”
তিশাকে এক প্রকার ঝাড়া দিয়ে সরায় পলক৷ তাহিয়া বরাবরই শান্ত। চুপচাপ স্বামীর কাঁধে মাথা দিয়ে ছিলো। পরিস্থিতি বুঝে উঠে এলো। তারা কেউ পলকের সাথে কথাবার্তা বলে না। এত বছর পর আজ বললো। তাহিয়া শান্ত কণ্ঠেই শুধালো,
“দেখো পলক, কারো মনমেজাজ ভালো নেই এখন। তুমি বসো নাহয় বাসায় যাও৷”
“আমি কেন যাব? আপনি যান। আমার স্বামী এখানে৷ আমাকে যেতে বলছেন, ধ্যানজ্ঞান নেই কিছু?”
পলকের সাথে তাদের সম্পর্ক কোনদিন ভালো ছিলো না। এই মূহুর্তে এসে ভালো ব্যবহার ওর থেকে কেউ আশাও করে না৷ বড়ই অবাধ্য কি না তুহিনের বউ।
এতসব কথাবার্তা শুনতে মন চাইলো না তুরাগের। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গেলো সটান। রেগে চিরবিড়িয়ে উঠলো,
“যা এখান থেকে।”

পলক মানলো না মোটেও বরং তুরাগকে টপকে যেতে চাইলো তখনই বিকট ধমক এলো তুরাগ থেকে। তৌসিফ, পৌষ শুনেই বেরিয়ে আসে। আসতে আসতেই দেখে তুরাগের হাতে এক চড় খেয়েছে পলক। তুরাগ মোটেও থেমে থাকলো না। দ্বিতীয় চড় মা’রতে উদ্যত হলো, ওমনিই পৌষ এগিয়ে এলো পলকের সামনে। তুলা হাতটা নামিয়ে নিলো তুরাগ৷ কঠিন কণ্ঠে বললো,
“তৌসিফ, তোর বউ সরা!”
তৌসিফ কাছেই ছিলো। তার কিছু বলার আগেই পৌষ মুখ খুললো,
“আপনি কেন ওনার গায়ে হাত তুললেন যেখানে তুহিন ভাইয়া এখানেই আছে। আর একজন ভাসুর কিভাবে ছোট ভাইয়ের বউয়ের গায়ে হাত তুলে? এসব কি বংশীয় রীতি আপনাদের?”
“তুমি বেশি বাড়াবাড়ি করবে না পৌষ।”

তিশা বাক্যটা বলতেই পৌষ তাচ্ছিল্য দৃষ্টিতে তাকালো। তিশা ভড়কে গেলো তাতে তবে দমলো না। তৌসিফ পৌষকে দুই হাতে ধরে সরাতে চাইলো তবে লাভ হলো না। তুরাগ কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে। পলক পৌষের এক হাত শক্ত করে ধরে রাখলো। আশ্রয় চাইলো বুঝি? কিন্তু পৌষ দয়ার সাগর না। সে পলককে না আগলে নিলো, না হাতটা ধরে রাখতে দিলো বরং আস্তে করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। নিজের দুই হাত তৌসিফের দুই দিকে বাড়িয়ে বাইরে থেকে পকেট হাতড়ালো। বাম পাশে সামান্য ফোলা। অনায়াসে হাত ঢুকিয়ে মানিব্যাগ বের করলো পৌষ। তা খুলে হাজার টাকার নোট বের করে জায়গা মতো তা রেখে দিলো। টনির দিকে তাকিয়ে টাকাটা তার হাতে দিয়ে শুধু বললো,
“ওনাকে বাসায় পৌঁছে দিন ভাইয়া।”
“জি।”
টনি মাথা নিচু করে এতটুকুই বললো। পলক কিছু বলতে চাইলো তবে পৌষ সুযোগ দিলো না। নিজেই বললো,

“নিজের ভালো পা’গলও বুঝে। আপনি বুঝেন নি। কোন তামাশা না করে বাড়ী যান। ভাইয়ার রিলিজ আজ হবে না।”
পলক কেন জানি টু শব্দ করলো না৷ চোখে চোখে করুন আকুতি জানালো এখানে থাকার তবে পৌষ তার দৃষ্টিতে করুনা দেখালো না। অত মায়াদয়া আবার পৌষের মাঝে নেই।
ধীরে ধীরে সকলের দৃষ্টির বাইরে চলে গেলো পলক। এক দুই পা করে অতিক্রম করলো করিডোরটা। টনিকে তৌসিফ ইশারা দিতেই টনি পিছু গেলো। মূহুর্তেই শান্ত হলো করিডোর। তৌসিফ পৌষকে নিয়ে কেবিনে ঢুকলো আবার। পেছন থেকে তুরাগের কণ্ঠ শোনা গেলো,
“তোর বউকে তর্ক থামাতে বলবি তৌসিফ।”
“তর্ক করি নি আমি।”
পৌষ সাথে সাথে তর্ক করলো। তৌসিফ ওকে নিয়ে বসিয়ে দিলো কাউচে। গাল দুটো ধরে খুব নরম স্বরে বললো,
“আমার তোতাপাখিটা এত বুঝদার কেন?”
“জানি না। এখানে আসুন।”
নিজের কোল ইশারায় দেখালো ও। তৌসিফ অনায়াসে মাথা রাখলো। তার একটু ঘুম প্রয়োজন।

“হেমু ভাই আপা আথে না কেন?”
“আথে না বল আসে না।”
বাক্যগঠনে শব্দে ভুল ধরলো জৈষ্ঠ্য। ইনি, মিনির তোতলানোটা কমেই এসেছে প্রায়। মাঝেমধ্যে বেশি কথা বললে একটু তুতলে যায়। চোখ দুটো বড় বড় করে তাকালো জৈষ্ঠ্যের মুখের দিকে। পরপর দুই বোন একসাথে বললো,
“আগে বলো আপা কই?”
শ্রেয়ান না ঘুমিয়ে কান দুটো খাড়া করে রেখেছে। বেশ আগ্রহ তারও , তার বাবার ঐ বড় মেয়েটা কোথায়? কোথায় তার ফুপি? হেমন্ত কিছুতেই মুখে আনলো না পৌষ যে হাসপাতালে। দুই বোন বুঝবে না অতঃপর ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদবে। ছোট দুই ফুপি কাঁদলে আবার শ্রেয়ান যোগ দেয় তাদের সাথে। এই তো, সেদিন ছোট চাচি কেন জানি দুটোকে ধমক দিয়েছে। ইনি, মিনি টলমলে চোখে দৌড়ে এসেছে ভাইয়ের ঘরে। শ্রেয়ান কিন্তু তখন মাত্রই হাসছিলো বাবার কোলে। ফুপিদের কান্নায় সেই কি কান্না। এমন কান্না যা থামছিলোই না অথচ ইনি, মিনি কান্না থামিয়ে শ্রেয়ানকে সামলাতে ব্যাস্ত হয়েছিলো। ছেলেকে তার মায়ের কোলে দিয়ে হেমন্ত দুই বোনকে কোলে তুললো৷ ঝুটি গুলো এলোমেলো হয়েছে। তাদের ঘুম থেকে উঠার পর সময় দেওয়া হয় নি তেমন৷ পৌষের বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়েছে। কথাটা ভাবতে গিয়েও হেমন্তের বেশ লাগলো। ‘পৌষের বাড়ী’ শব্দটায় খুব মায়া লাগানো। শান্তি শান্তি অনুভব জড়ানো।

“কি অলো। কথা কউ।”
হেমন্তের গাল দুটো ধরে জানতে চাইলো দু’জন। চৈত্র হাতে থাকা চায়ের কাপটা রেখে বললো,
“আপা ডাক্তার দেখাতে গিয়েছে। চলে আসবে একটু পর।”
“সুই দিতে?”
“আমি কি একবারও বলেছি সুই দিতে গিয়েছে? বেশি বুঝিস!”
“আহা, ধমকাস না চৈত্র।”
হেমন্ত থামালো ওদের। ইনি, মিনির চুল গুলো হেমন্ত বেঁধে দিলো সুন্দর করে। ছোট চাচি যে কি করে আল্লাহ জানে। মেয়েদের চুল গুলো পর্যন্ত ঠিকঠাক গুছাতে পারেন না। শ্রেয়া ফোন হাতে এসে বললো,
“চৈত্র, দেখো তো পিহার স্কুল থেকে কল এসেছে। ওর ছুটি হয়েছে। ওকে সোজা এখানে নিয়ে এসো। জামাকাপড় তোমার ভাই আগেই এনেছে।”
“ঠিক আছে ভাবী।”

চৈত্রর সাথে জৈষ্ঠ্যও গেলো। এদের কোন একটা সমস্যা আছে। ইনি, মিনি নাহয় ছোট কিন্তু চৈত্র আর জৈষ্ঠ্যও প্রায় কাজ একসাথে করে। হেমন্ত ঐ দিকে মাথা ঘামালো না। ইনি, মিনি উঠে এদিক ওদিক দৌড়ালো পরপর ভাইয়ের কানের কাছে মুখ দিয়ে ফিসফিস করে বললো,
“হেমু ভাই, তালই নাই?”
“দুলাভাইয়ের বাড়ীতে দুলাভাই না খুঁজে তালই খুঁজিস দু’বোন।”
“কই?”
ক্ষুদ্র শ্বাস ফেললো হেমন্ত। বললো,
“বাইরে আছে।”
“আসবে?”
“আসবে৷ কাল আসবে।”
দুজনকে মন মরা দেখালো তাতে। হেমন্ত শ্রেয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,

“পিহা আসলে ওকে নিয়ে রান্নাবান্না দেখো। বুয়ারা বোধহয় শুনে রান্না করে। হসপিটালেও খাবার পাঠাতে হয় শ্রেয়া। পৌষের এই অবস্থা, ও কতক্ষণ থাকবে ওখানে?”
হেমন্তের চেহারায় চিন্তার ছাপ। শ্রেয়া ছেলেকে কোলে নিয়েই পাশে বসে বললো,
“কল করুন তাহলে।”
হেমন্ত তাই করলো। ওপাশ থেকে কলটা ধরলো তৌসিফ। জানালো সেও পৌষকে পাঠাতে চাইছে কিন্তু পৌষ তুহিনের ঘুম ভাঙার আগে আসবে না। হেমন্ত খাবার পাঠানোর কথা বলতে তৌসিফ আর না করলো না। বাইরের খাবার পৌষের জন্য একদম ঠিক না। সাথে এটাও বললো, তুহিনের জন্য তরল কিছু পাঠাতে। দেখা যাবে হসপিটালের খাবার মুখে তুলবে না।

“তুমি আমার কথা শুনবে না তোতাপাখি?”
“সবসময়ই শুনি।”
“তাহলে চলো, বাসায় দিয়ে আসি।”
“যাব কিন্তু ভাইয়ার সাথে দেখা করে।”
“আমি বলব তুমি অপেক্ষা করছিলে।”
“উঁহু। লাগবে না বলা।”
“বাসায় সবাই আছে। জমজ জোড়া খুব মিস করছে তোমাকে।”
“আমাকে মিস করা ওদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। স্কুল রেখে আমাদের বাসায় যে?”
“ইনি, মিনির নাকি বন্ধ চলছে। পিহা স্কুল থেকেই সরাসরি গিয়েছে।”
“ওহ্।”
দরজায় নক করলো কেউ। পরপর ভেতরে এলো। ডক্টর এসেছে রেগুলার চেকআপ করতে। তুহিন বেহুঁশের মতো ঘুমাচ্ছে তখন। তার গলাটা ড্রেসিং করলেন একজন নার্স। ঘুমের মধ্যেও ব্যথায় গুঙিয়ে উঠলো তুহিন। পৌষ হিসিয়ে উঠলো,
“আস্তে করুন।”
“একটু লাগবেই ম্যাম, ক্ষত গভীর।”

পৌষ বেশিক্ষণ দেখতে পারলো না। গলার ব্যান্ডেজ খুলতেই জঘন্য দাগটা ফুটে উঠেছে একদম। তুরাগ ঘুমন্ত ভাইয়ের হাতটা ধরে বসে আছে। ডাক্তার চেক-আপ শেষ করে বললেন,
“ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর যদি খেতে চায় তাহলে পাতলা কিছু খাওয়াবেন। গিলতে পারবে না আপাতত। প্রেশার দিয়ে কিছু খাওয়া যাবে না। রাতে স্যুপ হবে শুধু।”
মাথা নাড়লো তুরাগ। ডাক্তার বিদায় নিতে চলে গেলেন পরপরই হেমন্ত ঢুকলো কেবিনে। খাবার এনেছে। তিশা আর তাহিয়াকে বাসায় পাঠানো হয়েছে। তারা রাতে আসবে আবার। বিকেল নাগাদ মীরা আসবে। তৌসিফ কত সুযোগ খুঁজছে পৌষকে পাঠানোর কিন্তু লাভ হচ্ছে না। রনি, টনি দুজনেই এখানে। তৌসিফ আদিত্যকে ডেকে আনলো। খেতে বসালো একসাথে। পৌষ ভাইকে দেখে মলিন হেসে বললো,
“তুমি নাকি বউ, বাচ্চা নিয়ে আমার ঘরে উঠেছো?”
“শুধু বউ, বাচ্চা? গুড়াগাট্টি কিছুই বাদ রাখিনি।”
“হেমন্ত তুমিও বসো। এসো।”

তৌসিফ তাড়া দিলো। পৌষ সবার প্লেটে খাবার বেড়ে দিলো। তৌসিফ ডিমটা পৌষের পাতে দিয়ে বললো,
“গড়িমসি ছাড়া খেয়ে নাও নাহয় বাসায় পাঠিয়ে দিব।”
পৌষ টু শব্দ করলো না। খাওয়া দাওয়া শেষ করেই তুরাগ আদিত্যকে উদ্দেশ্য করে বললো,
“তুমি এখানে থাকো। আমি তোমার মেঝ চাচ্চুকে নিয়ে একটু বাইরে যাচ্ছি।”
আদিত্য মাথা নাড়লো। তৌসিফ আর তুরাগ তখন হসপিটাল থেকে একটু বাইরে গিয়েছে কোন কাজে।
হেমন্তের সাথে পৌষের আজ অনেকক্ষণ কথা হলো। কথার সবটাই তুহিনকে ঘিরে। হেমন্ত নিজেও অবাক হয়েছিলো তুহিনের ঘটনায়। তুহিন কোন নরম মানুষ না বরং সেই এককালে সবচাইতে খারাপ হিসেবে আখ্যায়িত ছিলো।
“পুষি তুমি কি চা খাবে?”
“ভালো পাওয়া যাবে?”
“খুঁজে নিয়ে আসব।”
“পাঁচ কাপ আনবে তাহলে।”
আদিত্য মাথা নাড়লো। পেছন থেকে পৌষ আবার ডাকলো,
“অ্যাঁই, আদি আরো দুই কাপ বেশি আনবে। তোমার মেঝ চাচ্চু আর বড় ভাইয়াও আসবে।”
“ঠিক আছে।”

ঘুম সামান্য আলগা হতেই নড়চড় শুরু করলো তুহিন। তৌসিফ মুখটায় হাত বুলিয়ে ডাকলো,
“তুহিন? খারাপ লাগছে?”
চোখ দুটো টেনে খুললো তুহিন। মুখের ফুলা ভাবটা কমে নি এখনও ততটা। পৌষ ইলেকট্রিক্যাল কেতলিতে পানি গরম করে তাতে রুমাল ভিজিয়ে নিয়ে এলো। তুহিনের কপালে আর গালে দিতে বললো তৌসিফকে। তৌসিফ তাই করলো। দেখা গেলো তুহিন তাতে আরাম পাচ্ছে। ফুলা ভাবটা হয়তো ধীরে ধীরে কমবে। তুহিন চোখ খুললো ধীরে ধীরে। সময়টা তখন বিকেলের ভীষণ পড়ে। মাগরিব হয়ে যাবে যাবে ভাব। তুহিন যতক্ষণে পুরোপুরি জাগ্রত হলো ততক্ষণে মাগরিবের আজান হয়ে গেলো। তৌসিফ কেবিনেই নামাজ পড়লো। পৌষ খানিকটা হাসলো। এটা সেই তৌসিফ যে কি না দিনে কয়েকবার পোশাক বদলায়। মুখে নানানপদ লাগিয়ে পরিষ্কার থাকে অথচ আজ দেখো তাকে। কত সুন্দর গতরাতের পোশাকে দিন পাড় করে দিচ্ছে।
“ভাইয়া, কিছু খাবেন?”
তুহিন মাথা নাড়লো। ঔষধের ডোজ কমতেই তার ব্যথা শুরু হয়েছে। পৌষ বাটিতে স্যুপ নিলো। চামচ দিয়ে মুখের সামনে নিতেই তুহিন মুখ ফিরালো। আশ্চর্য! খাবে না কেন? পৌষ প্রথমে নরম স্বরেই বললো,

“খেয়ে নিন৷”
তুহিন মাথা নাড়ে। খাবে না সে। পৌষ অবাক হয়ে বললো,
“ক্ষুধা না লেগেছে?”
তুহিন মাথা ঝাকালো। পৌষ যতটুকু বুঝলো তাতে বললো,
“এটা বাসার। বাসা থেকে এনেছে৷ গরম করলাম মাত্র। গরম স্যুপ খেলে গলায় আরাম লাগবে।”
তুহিন বড়ই ঝামেলা করলো খাওয়া নিয়ে। দুই চামচ খেলো কোনমতে। হ্যাঁ, গলার আরাম লাগছে কিন্তু পেট ভরছে না৷ কোনমতে বললো,
“ভা..ত।”
“ভাত? বিরিয়ানি দেই?”
তুহিন মাথা নাড়লো। পৌষ রেগে গেলো তাতে। সে তো রেগে বলেছে। এখন নাকি বিরিয়ানি খাবে। তৌসিফ নামাজ শেষ করে উঠে বললো,
“ভাত তো গিলতে পারবি না তুহিন।”

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯৪

তুহিন বড়ই অসহায় চোখে তাকালো। বুঝালো ক্ষুধা লেগেছে। পৌষ ক্ষুদ্র শ্বাস ছাড়লো। তৌসিফের হাতে স্যুপের বাটি দিয়ে বললো,
“অর্ধেক হলেও খাওয়ান।”
পৌষ প্লেটে সামান্য ভাত নিয়ে ডাল দিয়ে চটকে দিলো। গোস্ত হাত দিয়ে ডলে একদম নরম করে এগিয়ে এলো। তৌসিফ তখন কোনমতে দুই চামচ খায়িয়েছে। পৌষ প্লেট এগিয়ে দিলো। তুহিনকে খুশি দেখালো তাতে। তার গিলতে কষ্ট হলো বটে কিন্তু ধীরে ধীরে খেলো তুহিন, পুরোটা।

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here