Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫২

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫২

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫২
রুপা

আর্যর কপালে মনে হয় এই জীবনে আর বাসর করা হবে না! কী সুন্দর বউয়ের সাথে বাসরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু কোথায় বাসর—এই মাঝরাতে বউয়ের জন্য খাবার রান্না করছে! রান্নাঘরের কেবিনেটের ওপর বসে আছে পুষ্প, আর আর্য বউয়ের জন্য এই মাঝরাতে খিচুড়ি রান্না করছে। আর্য একপলক কেবিনেটের ওপরে পা ভাঁজ করে বসা পুষ্পর দিকে তাকাল—মুহূর্তেই যেন সব বিরক্তি গায়েব হয়ে গেল! কী সুন্দর নিষ্পাপ একটা মুখ! একদম আদুরে বিড়ালছানার মতো নিষ্পাপ চোখে আর্যর রান্না করা দেখছে। ওর চাচা-চাচি কীভাবে পারল তার ফ্লাওয়ারের ওপর এতটা অত্যাচার করতে? কতই না কষ্টে ছিল তার ফ্লাওয়ার বিয়ের আগে! বিয়ের পরেও সে ও তো কম কষ্ট দেয়নি। সে তো তার বউটা নিতান্তই সহজ-সরল, দয়ালু—নাহলে কি আর এত কিছু করার পরেও তার কাছে থাকতে চাইত? আদুরে বিড়ালছানার মতো গুটিসুটি মেরে তার বুকে লেপ্টে থাকত?
কিছুক্ষণ আগের ঘটনা।

– “আমার ভালোবাসা সহ্য করতে পারবে, জান?”
কী ছিল আর্যর কথাটায়, কে জানে! রমণীর পুরো শরীর কেঁপে উঠল। শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠাণ্ডা হিমস্রোত বয়ে গেল, শরীর জুড়ে খেলা করছে অদ্ভুত শিরশির করা এক অনুভূতি। রমণী উত্তর দেওয়ার অবস্থায় রইল না; গলা যেন কেউ রুদ্ধ করে রেখেছে, চেয়েও গলা দিয়ে একটা শব্দ উচ্চারণ করতে পারছে না! কিন্তু রমণীর চুপ থাকা আর্যর পছন্দ হচ্ছে না। আগে যেমনই হোক, কিন্তু এখন এই মেয়েটার চুপ থাকা তার সহ্য হয় না। তার শান্ত-শিষ্ট বউয়ের চঞ্চলতা দেখতে চায় সে—যে কারণে-অকারণে তার সাথে চড়ুই পাখির মতো কিচিরমিচির করবে, তাকে জ্বালাবে, বেরোনোর সময় বলবে ‘আমার এইটা লাগবে’, দিতে না চাইলে জেদ ধরবে, বায়না করবে—তার চাই মানে চাই! কিন্তু বউটা একদম কোমল, শান্ত-শিষ্ট, যে তার কথার ওপর একটা টু শব্দ পর্যন্ত করে না। কিন্তু সে চায় তার বউ যেন তার সাথে রাগ, অভিমান, জেদ—সব করুক।

আর্য নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসে। এবার পুষ্পকে নিজের সুবিধা মতো বসাল; রমণীর দুই পা ধরে নিজের কোমরের দুই পাশ দিয়ে পেঁচিয়ে দিল। পুষ্প কিছু না বলে আর্যর কোমর পেঁচিয়ে ধরে রাখল দুই পা দিয়ে। এতক্ষণ পুষ্প আর্যর গলায় মুখ গুঁজে ছিল, এবার আর্য পুষ্পর গলায় মুখ গুঁজে দিল। সাথে সাথে পরিচিত মেয়েলি ঘ্রাণ নাসারন্ধ্রের ভেতরে প্রবেশ করল, সার্কিটের মতো ধাক্কা লাগল! সুবাসটা নিজের নাসিকায় টেনে নিতে লাগল আর্য।
একটা ছোট্ট, নরম-তুলতুলে শরীর, কিন্তু ওই ছোট শরীরে যেন আফিমের নেশা মেখে রেখেছে! কাছে আসলেই দিনদুনিয়া ভুলে শুধু ওই শরীরে ডুবে থাকতে ইচ্ছে করে। রাতে যখন মেয়েটা নিজে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমায়, তখন সে জানে সে কীভাবে নিজেকে সামলায়! মেয়েটা তাকে ভালোবাসে, এটা সে আগে থেকেই জানে, কিন্তু তবুও সে মুখে শুনতে চেয়েছিল—আজ শুনেও নিল যে তার ফ্লাওয়ার তাকে ভালোবাসে। কিন্তু সেই ভালোবাসা এখন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে! ফ্লাওয়ার তাকে ভালোবাসে শোনার পরে প্রথমে সুখ-সুখ প্রশান্তি দেওয়ার মতো অনুভূতি হয়েছিল, কিন্তু এখন সে অনুভূতির জায়গা দখল করে চলেছে অন্য এক অনুভূতি! মেয়েটাকে একান্ত কাছে পেতে চাইছে, তার শরীর যেন নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।
আর্য পুষ্পর গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে ছোট ছোট চুমু দিতে লাগল। এদিকে আর্যর গভীর ছোঁয়ায় রমণীর অবস্থা বেশ শোচনীয়! নিজেকে সামলানোর প্রয়াস চালাতে সে খামচে ধরল আর্যর মাথার চুল, বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছে। রমণীর গরম নিঃশ্বাস আর্যর উন্মুক্ত ঘাড়ে আছড়ে পড়ছে, এতে যেন আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে আর্য। রমণীর অবস্থা বুঝে আবার আবেশ জড়ানো কণ্ঠে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল—

– “উত্তর দাও, জান! আমার ভালোবাসা সহ্য করতে পারবে?”
পুষ্প আরও শক্ত করে খামচে ধরল আর্যর মাথার চুল। মৃদু টান লাগল, তবুও আর্য বাধা দিল না, সহ্য করে নিল। পুষ্পকে চুপ করে থাকতে দেখে আর্য আবার ডাকল—
– “ফ্লাওয়ার?”
– “হু…হুম!”
কাঁপা গলায় উত্তর দিল রমণী।
– “আমার ভালোবাসা চাই না?”

আর্যর প্রশ্নের বিপরীতে কিছুক্ষণ চুপ থেকে পুষ্প যেই না উত্তর দিতে যাবে, অমনি বাজখাঁই শব্দে বেজে উঠল আর্যর ফোনটা! নিঝুম রাতে হঠাৎ এই শব্দে ভীত রমণী কেঁপে উঠল। এদিকে আর্যর মেজাজ সপ্তমে চড়ল—শালার কী এক জীবন! যখনই বউটাকে একটু কাছে পেতে চাই, তখনই দুনিয়ার সব গজব এসে পড়ে! আর্য মনে মনে গজগজ করতে করতেই ফোন হাতে নিল এবং মনে মনে ঠিক করল, এই সময়ে যে ফোন করেছে, তার গুষ্টি উদ্ধার করে ছাড়বে সে! ফোন হাতে নেওয়ার পরে নাম্বার দেখে বিরক্তির সাথে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে।
আলগোছে পুষ্পকে কোল থেকে নামিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে ঠোঁটে শব্দ করে চুমু দিয়ে বলল—
– “এক্ষুনি আসবো।”

এগিয়ে গিয়ে বারান্দার দরজায় দাঁড়িয়ে কল রিসিভ করে ‘হ্যালো’ বলতেই ওপাশ থেকে বলা কথাগুলো শুনে আর্যর কপালের রগ দপদপ করে ফুলে উঠল, চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ ও ধারালো হয়ে উঠেছে, চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেছে। আর্য চোখ বুজে একটা লম্বা শ্বাস নিল। সে কাউকে ছাড়বে না; তার ফ্লাওয়ারের সব কষ্টের হিসাব নেবে! যে কষ্ট তার ফ্লাওয়ার পেয়েছে, তার দশগুণ কষ্ট পেতে হবে সবাইকে!
পুষ্পর চাচা-চাচি আসার পর থেকেই আর্যর তাদের দেখে সুবিধার মনে হয়নি। সবাই কী রকম হিংসাত্মক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল পুষ্পর দিকে! তার ওপর রান্নাঘরে শেহনাজ সরকারকেও তাদের দেখে অসন্তুষ্ট মনে হয়েছে। আর্য সবকিছু খেয়াল করে তার লোক পাঠিয়েছে গ্রামে, তাদের সবকিছু খোঁজ নেওয়ার জন্য—যাতে তারা কিছু করতে চাইলে সে আগেই পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু তার লোক সেখানে গিয়ে পুষ্পর চাচার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে পুষ্পর ওপর করা তাদের সেই অত্যাচার ও নির্যাতনের কথা! চাচাতো বোনের উচ্ছিষ্ট খাবার খাওয়ানো থেকে শুরু করে তার পরা পুরোনো জামা পরা, সেই আট বছর বয়স থেকে বাড়ির সব কাজ করা, একটু এদিক-এদিক হলেই পুষ্পকে মারধর করা, গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়া—সব শুনে আর্যের ভেতরে কী চলছে, একমাত্র সে-ই জানে! পুষ্পর সেই কষ্টের দিনগুলোর কথা ভাবতেই বুকের ভেতরে চিনচিনে ব্যথা অনুভূত হলো, বুকে মোচড় দিয়ে উঠল, তীব্র হাহাকার করে উঠে—তার ছোট ফ্লাওয়ারটা কত কষ্ট সহ্য করেছে! চোখ বন্ধ করতেই যেন সেই দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

হঠাৎ আর্যের মনে তীব্র ভয় হতে শুরু করল—সেও তো বিয়ের পর অনেক কষ্ট দিয়েছে তার ফ্লাওয়ারকে! যদি সেকারণে তার ফ্লাওয়ার তাকে ছেড়ে চলে যায়? চোখের সামনে ভেসে উঠল সবচেয়ে বিশ্রী এক দৃশ্য—তার ফ্লাওয়ার তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে, চোখ দুটো যেন তাকে বিদ্রুপ করে বলছে, ‘আপনিও তো আমাকে কষ্ট দিয়েছেন! অনেক বেশি কষ্ট দিয়েছেন!’ বলতে বলতে তার ফ্লাওয়ার হারিয়ে যাচ্ছে!
– “নাহ!”
হঠাৎ আর্য চিৎকার করে উঠল!
এতক্ষণ বিছানায় বসে অন্যমনস্ক কিছু ভাবছিল পুষ্প। হঠাৎ আর্যের চিৎকারে পুষ্প উদ্বিগ্ন হয়ে এগিয়ে এল আর্যের নিকট! অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল—
– “সরকার সাহেব, কী হয়েছে আপনার? এভাবে চিৎকার করছেন কেন?”
আর্য শুনল কি না কে জানে, আকুল চোখে তাকিয়ে রইল সামনে অস্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রমণীর দিকে। হঠাৎ করে কোনো সতর্কতা ছাড়াই পুষ্পকে জাপটে জড়িয়ে ধরল—যেন বুকের খাঁচায় বন্দি করে লুকিয়ে রাখতে চাইছে! হঠাৎ আর্যের এমন আচরণের কারণ খুঁজে পেল না পুষ্প, তবে সে কিছু জিজ্ঞেস করল না, শুধু দুই হাতে আর্যের পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল।
– “সরি ফ্লাওয়ার, সরি! খুব করে সরি! আমি আর কোনোদিন তোমাকে কষ্ট দেবো না। রেগেও আর কোনোদিন তোমাকে বকব না। তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না, কেমন? তুমি কষ্ট পাবে এমন কিছু আর জীবনেও করব না; তুমি শুধু আমার কাছে থাকবে, তুমি কোথাও যাবে না।”
আর্য কী বলছে, হয়তো নিজেও জানে না। পুষ্পকে কষ্ট দেওয়ার দিনগুলোর কথা ভাবলেই অপরাধবোধ ও অনুশোচনায় দগ্ধ হচ্ছে সে। আত্মগ্লানি যেন তাকে স্থির থাকতে দিচ্ছে না; মনে হচ্ছে, তার ফ্লাওয়ার তাকে ছেড়ে চলে যাবে, কারণ সে তাকে কষ্ট দিয়েছে! আর্য আবারও অস্থির হয়ে বলতে লাগল—
– “আমি আর কোনোদিন তোমাকে হার্ট করব না ফ্লাওয়ার, প্রমিজ! আমি ভুল করেছি—তোমাকে কষ্ট দিয়ে অন্যায় করেছি! আমাকে শাস্তি দাও, হ্যাঁ, তুমি আমাকে শাস্তি দাও, কিন্তু আমাকে ছেড়ে যেও না ফ্লাওয়ার! আমি নিঃস্ব হয়ে যাবো! দমবন্ধ হয়ে মরে যাবো তোমাকে ছাড়া!”
হঠাৎ আর্যর কথাগুলো শুনে পুষ্পর স্মৃতিতে ভেসে উঠতে লাগল বিয়ের প্রথম দিনগুলোতে আর্যর করা আচরণগুলো—তাকে অপমান করা, অবহেলা করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, এমনকি একদিন গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেছিল! কিন্তু সে তো সেগুলো ভুলেই গেছে; সে এখন কেন সরকার সাহেবকে ছেড়ে যাবে? যাওয়ার হলে তো ফুফু-মনি প্রথমবার বলার পরেই চলে যেত! এখন তো সে নিজেই সরকার সাহেবকে ছাড়া থাকতে পারে না, অস্থিরতা জেঁকে বসে, হাঁসফাঁস করতে করতে দমবন্ধ হয়ে আসে! পুষ্প দুই হাতে আর্যকে জড়িয়ে ধরে পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল—এই টুকু ছোঁয়া, অথচ সেই ছোঁয়াতেই আর্য স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। অনেকক্ষণ পরে পুষ্প ডেকে উঠল—

– “সরকার সাহেব?”
– “হুম!”
– “আপনি ভয় পেয়েছেন?”
– “এখনো পাচ্ছি!”
– “কেন? কিসের ভয়?”
পুষ্পর প্রশ্নে আর্য নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করল। পুষ্পকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে নিজের সামনে দাঁড় করাল, রমণীর মুখে আছড়ে পড়া কয়েক গুচ্ছ চুল আলগোছে সরিয়ে কানের পিঠে গুঁজে দিল। পুষ্পর মুখটা দুই হাতের আজলায় আলগোছে তুলে নিয়ে রমণীর কপালে অধর ছোঁয়ালো; সাথে সাথে রমণী আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলল। সময় নিয়ে চুমু খাওয়া শেষে রমণীর ছোট কপালের সাথে নিজের চওড়া কপাল ঠেকাল আর্য, চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলল—
– “আমার ফ্লাওয়ারকে হারানোর ভয়! আগে কোনো কিছুতে ভয় না পাওয়া এই আমি এখন খুব করে ভয় পাই! রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলে যেরকম ভয় পায়, ঠিক সেরকম ভয়—তোমাকে হারানোর ভয়! তুমি নেই, এই চিন্তাটা আমার পুরো সত্তা ঝংকার দিয়ে কাঁপিয়ে তোলে। তুমি আমাকে ছেড়ে কোনোদিন কোথাও যেও না, কেমন?”
আর্যর কথা শুনে পুষ্পর মনে যেন রং বেরঙের প্রজাপতি ডানা ঝাপটাতে লাগল, মন যেন অকারণেই খুশি হয়ে গেল। তার সরকার সাহেব তাকে হারানোর ভয় পায়, যেরকম সে তার সরকার সাহেবকে হারানোর ভয় পায়—তার মানে কি তার সরকার সাহেবও তাকে ভালোবাসেন? রমণীর খুব করে ইচ্ছে হলো আর্যকে জিজ্ঞেস করার—সে কি তাকে ভালোবাসে? রমণী সাহস সঞ্চয় করে জিজ্ঞেস করেই ফেলল—

– “সরকার সাহেব, আমাকে ভালোবাসেন?”
রমণীর প্রশ্নে চমকে উঠল আর্য, থমকাল। ভালোবাসা? আসলেই কি ভালোবাসে? হ্যাঁ, ভালোবাসে! যদি তার ফ্লাওয়ারের অনুপস্থিতিতে তার দমবন্ধ করা অনুভূতি হয়, তবে সেটা কি ভালোবাসা নয়? ওসব ভালোবাসা সে বোঝে না; সে শুধু জানে, তার ফ্লাওয়ারকে তার লাগবে মানে লাগবে—যে কোনো মূল্যে! তাই তো রমণীর প্রশ্নের সোজা উত্তর দিল না, বরং কণ্ঠে কিছুটা দুষ্টুমি মিশিয়ে বলল—
– “আগে বলো, আমার ভালোবাসা সহ্য করতে পারবে? যদি বলো হ্যাঁ পারবে, তাহলে ভালোবাসতে দ্বিধা নেই আমার!”
আর্যর কথায় পুষ্প মুখ নামিয়ে নিল, লজ্জায় মুখ লুকাল আর্যর প্রশস্ত বুকে। আর্য পুষ্পকে নিজের বুকে লুকাতে দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল, পুষ্পকে আরও একটু জ্বালানোর জন্য দুই হাতে জড়িয়ে ধরে বলে উঠল—

– “বউ, তুমি কিন্তু বলোনি এখনো—আমার ভালোবাসা সহ্য করতে পারবে কি না?”
আর্যর কথায় এবার পুষ্পর চেহারায় কিছুটা অসন্তোষের দেখা মিলল। লোকটা সেই কখন থেকে বলেই যাচ্ছে ভালোবাসা সহ্য করতে পারবে কি না? পারবে না কেন? সে কি ছোট নাকি? শান্ত-শিষ্ট পুষ্প হঠাৎ কিছুটা রেগে গিয়ে বলল—
– “আপনি কখন থেকে ‘ভালোবাসা সহ্য করতে পারবে, সহ্য করতে পারবে’ জিজ্ঞেস করছেন? আমি কি ছোট যে ভালোবাসা সহ্য করতে পারব না?”
হঠাৎ পুষ্পর চড়া গলায় ভড়কে গেল আর্য। বাইরে ঝুম বৃষ্টি হওয়ায় পুষ্পর চড়া গলার স্বর বেশি জোরালো শোনাল না, তবে কেন জানি আর্যর ভালোই লাগল! যাক, এই সুযোগে বউ রেগে গেলে কেমন দেখায়, সেটাও দেখা যাবে!
– “আর ইউ সিওর? আমি কিন্তু একদম ছাড় দেবো না, কান্না করলেও না!”
– “আমি কখন কান্না করেছি?”
– “এখনো তো কান্না করার মতো কিছু করিনি, ফ্লাওয়ার! যখন করব, তখন তো কেঁদে ভাসাবে!”
এবার সত্যি সত্যি পুষ্প চুপ হয়ে গেল। আর্যর কথার টোন অদ্ভুতভাবে বদলে গেছে, ভীষণ সিজি শোনাচ্ছে—এরকমভাবে কোনো দিন কথা বলেনি আর্য! তাই তো রমণী না চাইতেও হাঁসফাঁস করে উঠল। পুষ্প এবার আর্যর বাঁধন থেকে ছাড়ানোর জন্য মুচড়ামুছড়ি শুরু করল। আর্য পুষ্পর এভাবে ছাড়া পাওয়ার জন্য মুচড়ামুছড়ি করায় মোটেও ভালো লাগল না, তাই গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
– “কী হয়েছে? এমন করছ কেন?”
– “খিদে পেয়েছে!”

আর্য চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল—আল্লাহ, সব কেন তার সাথেই হয়? বউয়ের সাথে রোমান্স করার সময়ে এখন…! আর কিছু বলল না; কী বলবে, সব তার কপালের দোষ! আর্য হুট করে পুষ্পকে কোলে তুলে নিল এবং রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
– “সরকার সাহেব?”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫১

পুষ্পর ডাকে নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসে আর্য। তাকিয়ে দেখল, খিচুড়ি রান্না শেষ। আর্য এবার একটা ডিম ভেজে নিল; প্লেটে খিচুড়ি নিয়ে ডিম আর মুরগির রোস্ট নিল এবং নিজের হাতে মেখে খাইয়ে দিতে লাগল। আর নিজে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখতে লাগল—এই মেয়ের খুশির জন্য সে সব করতে পারবে, কাউকে মারতেও দুইবার ভাববে না সে!

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫২ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here