Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫১

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫১

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫১
রুপা

সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেহেতু বাড়িতে মেহমান বেশি, তাই রুম শেয়ার করে ঘুমাতে হচ্ছে। ছেলে কাজিনদের আহনাফের রুমে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে আর মেয়ে কাজিনদের সিমরানের রুমে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুষ্পর চাচা-চাচি এবং ওনাদের ছেলে-মেয়ে দুজনের সাথে একটা গেস্ট রুম দেওয়া হয়েছে। বাড়ির কাজের মেয়েরা প্রত্যেক রুমে পানি আছে কি না, তা চেক করে পানি রাখছিলেন।
সব রুমে পানি দেওয়া শেষ করে যেই না গেস্ট রুমে পানি দিতে যাবে, এমন সময় কাজের মেয়ের ডাক পড়ে। তাই সে পানির জগ রেখে তাড়াহুড়ো করে নিচে যাচ্ছিল। এমন সময় পুষ্প শেহনাজ সরকারের রুম থেকে বেরিয়ে আসে। কাজের মেয়েটাকে তাড়াহুড়ো করতে দেখে পুষ্প জিজ্ঞেস করে, কী হয়েছে? তখন কাজের মেয়ে বলে, গেস্ট রুমে পানি দেওয়া বাকি আছে। তখন পুষ্প হেসে বলে, সে দিয়ে যাবে। কাজের মেয়ে দিতে না চাইলেও পুষ্প হেসে পানির জগ নিয়ে দিতে যায়। কিন্তু গেস্ট রুমের দরজার কাছে আসতেই পুষ্পর কানে আসে ভেতরের কিছু কথোপকথন—

– “শুনো, যেভাবেই হোক আমাদের পুষ্পকে আমাদের সাথে নিয়ে যেতে হবে! নাহলে ওর নামের সম্পত্তি কিছুই পাবো না।”
– “কিন্তু মা, ও কেন যাবে আমাদের সাথে? তোমার মনে হয় ও এই রাজপ্রাসাদ ছেড়ে আমাদের সাথে গ্রামে যাবে?”
– “না গেলে কীভাবে নিয়ে যেতে হয়, আমার খুব ভালো করে জানা আছে! এতদিন আমাদের খেয়ে-পরে বেঁচে আছে, এখন বিয়ে হয়ে গেছে বলে কি ছেড়ে দেবো? ছোটবেলা থেকে খাইয়ে-দাইয়ে বড় করেছি, কিছু তো আমাদের পাওয়া উচিত!”
– “কিন্তু মা, ওই ছেলেটা মানে পুষ্পর বর, তোমার মনে হয় ওকে নিয়ে যেতে দেবে? দেখনি সবার সামনে কীভাবে ওকে আগলে রাখছিল?”

– “তাহলে আগে পুষ্পর বরের কাছ থেকেই ওকে আলাদা করতে হবে!”
ভেতরের কথাগুলো শুনে আর কিছু শোনার প্রয়োজন মনে করল না পুষ্প। তার কানে বারবার বাজতে থাকে— “তাহলে আগে পুষ্পর বরের কাছ থেকেই ওকে আলাদা করতে হবে।” তার সরকার সাহেবের কাছ থেকে তাকে আলাদা করে আবার গ্রামে নিয়ে যাবে— এই ভাবনাটা যেন ভেতর থেকে পুষ্পকে আতঙ্কিত করে তুলল। সে আর পানির জগ দিতে ভেতরে গেল না, পাশে একটা টেবিলে পানির জগটা রেখে দৌড়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। তাকে তার সরকার সাহেবের কাছ থেকে আলাদা করে আবার গ্রামে নিয়ে যাবে— এই ভাবনাটা আসতেই তার চোখ উপছে পানি পড়ছে। রুমে ঢোকার সময় আর্যর সাথে দেখা হতেই পুষ্প আর কিছু না ভেবে তাকে জাপটে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে ওঠে। এদিকে পুষ্পকে কাঁদতে দেখে আর্য অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করে—

– “ফ্লাওয়ার, কী হয়েছে? কাঁদছ কেন? কেউ কিছু বলেছে?”
– “আমি আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না! আমি আপনার সাথে থাকতে চাই, আমি কোথাও যেতে চাই না!”
পুষ্পর কথার মর্মার্থ কিছুই বুঝতে পারে না আর্য। তবে আর্য সেটা নিয়ে মাথা ঘামাল না, তার মন অস্থির হয়ে উঠেছে পুষ্পর কান্নায়। শুরু থেকেই পুষ্পর কান্না আর্যর দুর্বলতা। পুষ্পর চোখের পানি সে সহ্য করতে পারে না, তাই তো শুরু থেকেই পুষ্পর কান্নারত মুখটা দেখলে সে অকারণেই রেগে যেত।
– “ওরা আমাকে নিয়ে যাবে, আপনার থেকে আমাকে আলাদা করে নিয়ে যাবে! কিন্তু আমি যেতে চাই না, আমি আপনার সাথে থাকতে চাই। আমি যাবো না ওদের সাথে!”

– “কেউ নিয়ে যাবে না আমার ফ্লাওয়ারকে আমার কাছ থেকে! এতই সহজ নাকি, কেউ চাইল আর আর্যর ফ্লাওয়ারকে তার কাছ থেকে নিয়ে যাবে? গর্দান থেকে মাথা আলাদা করে দেবে না, এই আর্য!”
আর্যর কথা শুনেও পুষ্পকে শান্ত হতে দেখা গেল না। তার মনে তীব্র ভয় বাসা বেঁধেছে— হারানোর ভয়। যদি সত্যি সত্যি তাকে তার সরকার সাহেবের কাছ থেকে আলাদা করে দেয়, তখন কী হবে? সে থাকতে পারবে না তো! তার তো এখন তার সরকার সাহেবের বুক ছাড়া ঘুম আসে না। সে ঘুমাতে পারে না, খেতে পারে না। আর্য পুষ্পকে ছাড়িয়ে পুষ্পর মুখটা দেখতে চাইল, কিন্তু পুষ্প তা হতে দিচ্ছে না। সে একইভাবে মুখ লুকিয়ে আছে আর্যের প্রশস্ত বুকে। এখনো হেঁচকি তুলে কাঁদছে। আর্য পুষ্পকে বুকের সাথে জড়িয়ে রেখেই কোলে তুলে নিল। রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল, পুষ্পকে নিয়ে খাটের ওপর বসল।

– “তুমি ওদের ইনভাইট কেন করেছ, আমজাদ?”
শেহনাজ সরকারের কথার কিছুই বুঝতে পারলেন না আমজাদ, তাই তো তিনি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন—
– “কাদের কথা বলছ, শেহনাজ?”
– “মজিবদের কথা বলছি!”
এবার আমজাদ সরকার নড়েচড়ে বসলেন। স্ত্রীর গম্ভীর মুখপানে চেয়ে কী বলবেন বুঝতে পারলেন না; তিনি তো ভেবেছিলেন স্ত্রীর ছোট ভাইকে দাওয়াত দিলে স্ত্রী খুশি হবেন।
– “কী হলো, বলছ না কেন? ইনভাইট কেন করেছ ওদের?”
– “শেহনাজ, ওরা তোমার ছোট ভাই, ভাইয়ের বউ! ভাবলাম, ওদের দেখলে তুমি খুশি হবে, তাই দাওয়াত দিয়েছি।”
– “তোমার মনে হচ্ছে, আমি ওদের দেখে খুশি? খুশি হওয়ার মতো কী কাজ করেছে ওরা, যে ওদের দেখলে আমি খুশি হব!”

শেহনাজ সরকার এই মুহূর্তে ভীষণ রেগে আছেন। এতক্ষণ মেহমানদের সামনে নিজের রাগ সামলে রাখলেও রুমে এসে এখন আর পারছেন না। ওদের দেখলেই মনে পড়ছে পুষ্পর ওপর করা অতীতে তাদের সেই অত্যাচারের কথা! মেয়েটাকে আর্যর সাথে বিয়ে দিয়ে নিয়ে আসার পরে তিনি দেখেছিলেন মেয়েটার হাতে ফোস্কা পড়ার দাগ, খুন্তির ছ্যাঁকার দাগ—যেটা সময়ের সাথে সাথে হয়তো মিলিয়ে গেছে, কিন্তু এখন ওদের দেখে মেয়েটারও নিশ্চয়ই পুরোনো কথাগুলো মনে পড়ছে! যেখানে ওনার নিজেরই মনে পড়ছে, সেখানে পুষ্পর মনে পড়বে না কেন? কিছুক্ষণ আগে তিনি পুষ্পকে ডেকে ওর চাচা-চাচির থেকে দূরে থাকতে ও সাবধানে থাকতে বলেছেন। স্ত্রীর রাগত চেহারার দিকে তাকিয়ে আমজাদ সরকার বললেন—
– “শেহনাজ, পুরোনো কথা বাদ দাও! তোমারই তো ছোট ভাই, বিয়েতে এসেছে, খেয়ে-দেয়ে বিয়ে শেষে চলে যাবে। এখন পুরোনো কথা—!”

– “ছোট ভাই? ভাই বলেই তো ছেড়ে দিয়েছি! এখনো বাইরের হাওয়া গায়ে লাগিয়ে ঘুরতে পারছে, না হলে ওরা পুষ্পর সাথে যা করেছে, তাতে এত দিনে হাজতবাস করাতাম!”
আমজাদ সরকারের কথা শেষ হওয়ার আগেই শেহনাজ সরকার কথাটা বলে ওঠেন। আমজাদ সরকার আর কী বলবেন, বুঝতে পারলেন না। তিনি এবার স্ত্রীর রাগ সামলানোর চেষ্টা করে বললেন—
– “আচ্ছা, ক্ষমা করে দাও, আমার ভুল হয়ে গেছে। আমার এত কিছু খেয়ালে ছিল না; আমার মনে হয়েছিল, যেখানে সব আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে, সেখানে তোমার ছোট ভাইকে দাওয়াত না দিলে কেমন দেখাবে! তাই দাওয়াত দিয়েছি, আমি এত কিছু ভেবে দেখিনি।”
শেহনাজ সরকার আর কিছু বললেন না, কেবল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। এখন শুধু এই বিয়ে শেষ হওয়া পর্যন্ত সব ঠিকঠাক থাকলে হয়! পুষ্পকে নিয়ে ওনার চিন্তা অনেকটাই কমে গেছে, কারণ আর্য পুষ্পর যথেষ্ট খেয়াল রাখে—যথেষ্ট বললে ভুল হবে, প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত খেয়াল রাখে! কিন্তু তাও, আর্য বাড়ির বাইরে থাকাকালীন ওনার পুষ্পর খেয়াল রাখতে হবে। ওনার ভাই কিংবা ভাইয়ের বউ—কাউকেই তিনি ভরসা করেন না; কে জানে, কোন দিক দিয়ে আবার ওনার পুষ্পর ক্ষতি করতে চায়!

সিমরানের রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে সিমরান, সারা ও শিফা। বাইরে প্রচণ্ড ঝড়-বাতাস বইছে, সাথে আছে ঝুম বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির দিকেই একমনে তাকিয়ে আছে তারা। অন্য কাজিন মেয়েরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, শুধু এই তিনজন জেগে আছে—সিমরান, সারা ও শিফা। যদিও শিফার থাকার কথা ছিল স্নিগ্ধর ওখানে, কিন্তু শিফা মাকে বলে চলে এসেছে যে ছেলের বিয়েতে নাকি আনন্দ কম! সে বিয়ের আগের সব অনুষ্ঠান মেয়েপক্ষের হয়ে করবে, শুধু বিয়ের অনুষ্ঠানটা ছেলেপক্ষের হয়ে করবে। মাকে অনেক বলে সে রাজি করিয়ে এসেছে।
সিমরান বিষণ্ন মনে বাইরে বৃষ্টির পানির দিকে তাকিয়ে আছে। আকাশও বুঝি তার মতো কষ্টে আছে, তাই তো এভাবে কাঁদছে! আকাশকে উদ্দেশ্য করে তার বলতে ইচ্ছে হলো—‘হে আকাশ, তোমারও বুঝি মন খারাপ, তাই কি এত কান্না?’ কিন্তু সে তো কান্নার ও সুযোগও পাচ্ছে না! সবার সামনে এই স্বাভাবিক আচরণ করতে করতে সে হাঁপিয়ে উঠেছে, সে আর পারছে না। একটা নিরিবিলি জায়গায় বসে তার কাঁদতে ইচ্ছে করছে। কাঁদলে নাকি মন হালকা হয়, সে কেঁদে নিজেকে হালকা করতে চায়, কিন্তু সেই নিরিবিলি জায়গাটা সে কোথায় পাবে? এখনো তার কানে বাজছে ছাদে বলা ইভানের সেই কথাটা—‘খুব সুন্দর, একদম পুতুলের মতো নিজের মায়ায় আচ্ছন্ন করা এক মায়াবিনী!’ ব্যস, আর কিছু না বলেই সে ছাদ থেকে নেমে গিয়েছিল।
সিমরানের চোখ আবার জ্বালাপোড়া শুরু হলো, তার আবারও কান্না পাচ্ছে। হয়তো কান্না আটকানোর চেষ্টার দরুন চোখের এই জ্বালাপোড়া! সিমরান নিজের কান্না আড়াল করার জন্য ভেতরে ওয়াশরুমে চলে গেল, হয়তো সেখানে বসে গুমরে কাঁদবে নীরবে।

এদিকে সারার মনও ভীষণ খারাপ। সারাদিন সবার সাথে হাসিখুশিভাবে থাকলেও রাতের আঁধারে সেও হয়ে পড়ে বিষণ্ন পথহারানো এক পথিক। এই যে সে স্নিগ্ধকে বোঝাতে চাইছে—তার বিয়েতে তার কিছুই যায় আসে না, সে আর ভালোবাসে না স্নিগ্ধকে—আসলেই কি যায় আসে না? ভালোবাসে না? স্নিগ্ধ নামক পুরুষটা তার কিশোরী মনে ঝড় তোলা প্রথম পুরুষ! কারণে-অঅকারণে খুব ভালোবেসেছিল মানুষটাকে। সেই ভালোবাসা ফুরিয়ে যাওয়া কি এতই সহজ? চাইলেও কি ভালোবাসা ছেড়ে দেওয়া যায়?

কিন্তু ভালোবাসা থাকলেও সেই ভালোবাসা উজাড় করতে চায় না সে। অবুঝ কিশোরী, চঞ্চল সারা নিজের অনুভূতি চেপে রাখত না, যা মনে আসত—সবকিছু উজাড় করে দিত সামনের মানুষটাকে। হয়তো সে বেহায়া হয়ে সবকিছু উজাড় করে দিত বলেই স্নিগ্ধ ভেবেছে, সারা ভালোবাসে, তাই ছেড়ে গিয়ে আবার ফিরে আসতে চাইলে ফিরিয়ে দেবে না। হ্যাঁ, সে আসলেই বেহায়া! সে ফিরিয়ে দিত না, যদি সেদিন বিয়ে না হওয়ায় তার মা হার্ট অ্যাটাক করে মারা না যেতেন। হয়তো এখনো বেহায়ার মতো ভালোবাসার মানুষটা ফিরে আসতে চাইলে ক্ষমা করে দিয়ে মানুষটাকে ভালোবাসত, কিন্তু এখন ওই মানুষটাকে সে ভালোবাসলেও ক্ষমা করে দিতে পারছে না। মনে হচ্ছে, যদি সেদিন লোকটা না যেত, তাহলে তার মা বেঁচে থাকতেন!
কিন্তু তা-ও মনকে এত এত বোঝানোর পরেও তার কষ্ট হচ্ছে, বুকের ভেতরে চিনচিনে ব্যথার উপস্থিতি টের পাচ্ছে। মনের কোণ থেকে কেউ একটা খুব করে চাইছে—বিয়েটা যাতে না হয়। সে কী করবে বুঝতে পারছে না; সে না পারছে স্নিগ্ধর ভালোবাসা ছাড়তে, না পারছে তাকে ক্ষমা করে কাছে টেনে নিতে। আর এখন না পারছে স্নিগ্ধর সাথে সিমরানের বিয়েটা মেনে নিতে। সে শুধু নিজের ভেতরে নিঃশব্দে ভেঙে যাচ্ছে আর সেই ভাঙন সে টের পাচ্ছে, কিন্তু কিছু করতে পারছে না বা পেরেও করছে না।

আর্যর কোলে বসে গলা জড়িয়ে ধরে রেখেছে পুষ্প। এখনো থেকে থেকে নাক টানছে। আর্য খুব ধৈর্য নিয়ে পুষ্পর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কত আদুরে কথায় শান্ত করার চেষ্টা করছে—
– “ফ্লাওয়ার?”
পুষ্প কোনো জবাব দিল না। সে একইভাবে আর্যর গলায় মুখ গুঁজে দুই হাতে গলা জড়িয়ে ধরে রইল।
– “বউ?”
– “হু!”
– “কে বলেছে তোমাকে আমার কাছ থেকে আলাদা করে নিয়ে যাবে?”
আর্যর কথা শুনে আবারও মনে পড়ল গেস্টরুমে বলা তার চাচা-চাচির কথাগুলো। পুষ্প আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আর্যকে। আর্য সেটা টের পেয়ে বলল—
– “কী হয়েছে জান? এত ভয় পাচ্ছ কেন? কেউ নিয়ে যাবে না তো তোমাকে আমার কাছ থেকে? আমি নিয়ে যেতে দেবো না!”

– “ওরা আমাকে নিয়ে যেতে এসেছে!”
অস্পষ্ট স্বরে বলে ওঠে পুষ্প।
– “হুস!”
সাথে সাথে পুষ্প চুপ হয়ে গেল। আর্য হঠাৎ অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসল—
– “আমাকে ছেড়ে যেতে চাও না কেন, জান?”
এত আদুরেভাবে ‘জান’ ডাকার পরেও পুষ্প চুপ করে রইল। কী উত্তর দেবে সে—কেন সে যেতে চায় না? বলেছে তো, তার সরকার সাহেবের বুক ছাড়া ঘুম আসে না, অস্থির লাগে, কোথাও কিছু ভালো লাগে না, শান্তি পায় না! রমণী কোনো উত্তর দিল না। কিন্তু আর্যর তো উত্তর চাই! উত্তর কী হবে জানা থাকলেও সে তার বউয়ের মুখ থেকেই শুনতে চায়।

– “ভালোবাসো?”
ভালোবাসো? একটা সাধারণ প্রশ্ন, কিন্তু এর মর্মার্থ অনেক! এই ভালোবাসা যে পায়, তার দুনিয়াতে স্বর্গবাস আর যে পায় না, তার নরকবাস। রমণী সময় নিয়ে বলল—
– “হু!”
– “কতটা?”
– “খুউউউব!”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫০

অস্পষ্ট ক্ষীণ স্বরে কথাটা শুনে আর্য হাসে—প্রশান্তির প্রাপ্তির হাসি যাকে বলে! তার শরীর শিহরিত, পুলকিত হচ্ছে, মনে প্রশান্তির হাওয়া বইছে। তার ফ্লাওয়ার তাকে ভালোবাসে, এটা জানার পরে তার এতটা শান্তি লাগছে কেন? এত খুশি-খুশি লাগছে কেন? সে এই এত খুশি কোথায় রাখবে? আর্য নিজের ভেতরের উচ্ছ্বাস বাইরে প্রকাশ করল না। নিজের খুশি নিজের মধ্যে চেপে রেখে জিজ্ঞেস করল—
– “আমার ভালোবাসা সহ্য করতে পারবে, জান?”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here