Born to be villains part 42

Born to be villains part 42
মিথুবুড়ি

“এই মেয়ে সুস্থ-স্বাভাবিক থাকলে আমার নিজেকে অসুস্থ লাগে!”
কতক্ষণ ধরে ইবরাতের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ন্যাসো, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। সর্বক্ষণ মুখে তেজ ও কাঠিন্য নিয়ে থাকা পুরুষটির চেহারা জুড়ে এখন একধরনের অস্বস্তি আর আঁইটাই ভাব। কুণ্ঠাবোধ নিয়ে দরজার সামনে পায়চারি করছে সে। অস্থিরতায় দুটি হাত কাচুমাচু করছে।
সেদিনের ঘটনাটির পর থেকে ইবরাত একদম নীরব হয়ে গেছে। রুম থেকে মোটেও বের হচ্ছে না, ন্যাসোকে জ্বালানো থামিয়ে দিয়েছে, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলতু-ফালতু পোস্ট দেওয়াও বন্ধ। রুমে খাবার পাঠিয়ে দিলে চুপচাপ খেয়ে নিচ্ছে। কোনো বিষয় ধরে তার সাথে কথা বলার বিন্দুমাত্র সুযোগও রাখছে না পাগলটা। ইবরাতের এই অস্বাভাবিক নীরবতা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না ন্যাসো। ছটফটে এক মেয়ের এমন আকস্মিক স্থবিরতায় ন্যাসোর নিজের ভেতরের শান্ত ভাবটা অস্থির হয়ে উঠেছে!

ন্যাসো আর ভাবনায় সময় নষ্ট করল না। হুট করেই দ্বিধা থেকে বেরিয়ে এলো সে। পর পর কয়েকবার জোরে জোরে গভীর নিঃশ্বাস ফেলে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
এই সাত-সন্ধ্যায় গায়ে কম্বল জড়িয়ে শুয়ে ছিল ইবরাত। কারও পায়ের শব্দ পেয়ে সে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছন ফিরে তাকাল। তবে নিষ্পৃহ চোখে ন্যাসোর দিকে কেবল একবার তাকিয়ে আবার ওপাশ ফিরে শুলো।
বিষয়টা বেশ রাগান্বিত করে তুলল ন্যাসোকে। এতটুকু একটা মেয়ের এতটা সাহস, নিকোলাস ন্যাসোকে এভাবে অবহেলা করা!
ন্যাসো লম্বা কদম ফেলে খাটের সামনে গিয়ে একদম টানটান হয়ে দাঁড়াল। ট্রাউজারের পকেটে হাত দুটি গুঁজে দিয়ে গমগমে গলায় প্রশ্ন ছুড়ল, “কী হয়েছে?”
মেয়েটির নীরবতায় অস্থির হয়ে যে সে নিজে ছুটে এসেছে, তা তার কণ্ঠস্বরে বিন্দুমাত্র প্রকাশ পেল না।
ইবরাতের উত্তর ছিল পাহাড়ি নদীর মতো শান্ত, “কই, কিছু না তো!”
পূর্বের সেই চঞ্চলতা কিংবা একটা প্রশ্নের পিঠে পাল্টা পাঁচটি প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়ার মতো মেজাজ আজ ইবরাতের কণ্ঠে মোটেও ছিল না। ন্যাসোর কাছে ইবরাতের এই স্থির কণ্ঠস্বর ভীষণ অচেনা ঠেকল, একই সাথে মনে কাজ করল তীব্র বিরক্তি। সে এবার নিজের গলার স্বর কিছুটা নিচে নামিয়ে একদম নিরেট ঠান্ডা গলায় জানতে চাইল, “মন খারাপ?”
“শ্যামবর্ণের মেয়েদের মন খারাপ হতে নেই। ওদের মুখের রঙ এমনিতেই কালো দেখায়।”
ন্যাসো কিছুক্ষণ চুপ থেকে ইবরাতের পাশে গিয়ে বসল। ইবরাতও আস্তে করে এপাশ ফিরে শুলো। ন্যাসো মেয়েটির অভিমান জড়ানো দুটি চোখের দিকে তাকিয়ে কুঁচকানো কপালে আওড়াল, “আগে তো কখনো কালো দেখায়নি!”

“সবসময় দেখায়।”
“কই, আমার চোখে তো পড়েনি!”
ন্যাসোর এই গাঢ় দৃষ্টি আর আচ্ছন্ন কণ্ঠে রমণীর দোদুল্যমান হৃদয়টা শিউরে উঠল।
ন্যাসোর কণ্ঠ আরও খাদে নেমে এলো, “মনের ঠিক কোন কোণে মেঘ জমেছে, শুনি?”
চিকচিক করে জল জমে ওঠে ইবরাতের চোখের কোণে। সে আধভেজা চোখে চোখ রাখল ন্যাসোর বাদামী চোখের মণিতে, “মেঘ নয়, বর্ষণ নেমেছে।”
“কোন কোণে?”
“বুকের বাঁ-কোণে।”
“তাহলে আমার কী হবে? ওই কোণটা তো আমার ছিল! আমি ছিলাম ওখানে। কী, ছিলাম না?”
আবারও ভেতর থেকে শিউরে উঠল ইবরাত। ন্যাসো তাকে আরও বেশি কুণ্ঠিত করে দিয়ে বলল, “বর্ষণে ভাসিয়ে দিলে আমায়?”
“আমাকে ডিভোর্স দিন আপনি।”
তড়াক করে চমকে উঠল ন্যাসো।
কপালে ভাঁজ ফেলে বলল, “কেন?”
“আমি তো আপনাকে জোর করে বিয়ে করেছি।”
“কিন্তু সাথে তো রাখছি নিজের ইচ্ছেতে!”

হঠাৎ করেই বাচ্চাদের মতো কেঁদে ফেলল ইবরাত। শোয়া থেকে উঠে বসে হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“কোথায় সাথে রাখছেন? কাছেও টানছেন না, ছুঁড়েও ফেলছেন না! এ কেমন রাখা?”
অকস্মাৎ মেয়েটির সারা শরীরে বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলিয়ে দিয়ে ন্যাসো ইবরাতের হাত টেনে ধরল। অতঃপর ওর আতঙ্কিত চোখের দিকে তাকিয়ে গভীর স্বরে বলল, “খুব করে কাছে টানলে আমার উন্মত্ততা সহ্য করতে পারবে?”
ইবরাত শিহরিত, বাকরুদ্ধ! আজকের ন্যাসোকে তার ভীষণ অচেনা লাগছে।
ন্যাসো বলল,”হাসো, রাত।”
“হাঁ?”
“তোমাকে হাসি ছাড়া মানায় না।”
“আবার বলুন!” হতবিহ্বল ইবরাত।
“তুমি হাসি ছাড়া অসম্পূর্ণ, রাতপাখি।”
“পাখিকে তো মুক্ত হয়ে উড়তে দিচ্ছেন না।”
“উড়তে চাও?”

ইবরাত মাথা নাড়ল। মেয়েটিকে এবার চরম অবাক করে দিয়ে ন্যাসো অকস্মাৎ তার ছোট্ট শরীরটা কোলে তুলে নিল। ইবরাত আঁতকে উঠলেও সুযোগ হাতছাড়া করল না। মুহূর্তের মধ্যেই জড়িয়ে ধরল ন্যাসোর গলা। পুরুষটার বুকের মাঝে সে বিড়ালছানার মতো বিলীন হয়ে গেল! পাথরের মতো শক্ত বুকে নাক ঠেকিয়ে নাসারন্ধ্র দিয়ে হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো টেনে নিল পুরুষালি সুবাস।
ন্যাসো ওকে কোলে নিয়ে কদম বাড়াতে বাড়াতে বলল,”চলো।”
“কোথায়?”
“পাখিকে খাঁচামুক্ত করব।”
“ডিভোর্স দেবেন না?”
“কাল ভেবে জানাব।”
ন্যাসো সোজা লনে গিয়ে ইবরাতকে নামিয়ে দিয়ে বলল,”উড়ো।”
ইবরাত মুখ ভার করে ন্যাসোর দিকে তাকাল, “রাতের আকাশে উড়তে বলছেন?”
“অস্বাভাবিক জীবনে স্বাভাবিক কিছু আশা করছ কেন, রাত?”
“অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে যদি মশা কামড়ায়?”
“এখানে ম্যালেরিয়া ছড়ানোর মতো কোনো মসকিটো (Mosquito) নেই।”
“মসকিটো কী?” ভেবাচেকা খাওয়ার মতো কাঁচুমাচু হয়ে যায় ইবরাতের গোল মুখটা।
“মশা।” ন্যাসো এবার শুদ্ধ বাংলায় বলল!

“ওরে ইংরেজ কুবংশধর! এটা বাংলায় বলা যেত না? বাংলায় বললে কি জাত যেত?”
ইবরাতের মিনমিন ন্যাসো ঠিকভাবে বুঝতে পারে না।
“হোয়াট?”
ন্যাসোর গুরুগম্ভীর ধমকে চমকে উঠল ইবরাত। সে জোরপূর্বক খিলখিলিয়ে হাসতে হাসতে প্রসঙ্গ পালটে বলল,
“আই মিন, ইউ আর সো কিউট!”
“আই নো।” লোকটা ভীষণ আত্মবিশ্বাসের সাথে কাঁধ ঝাঁকাল।
ইবরাত ভেংচি কাটে। এবার আর সে বিচ্ছু ভাব টা আড়াল করে রাখল না। তার মুখ ফসকে গালি বেরিয়েই এলো,
“বাল নো!”
ন্যাসো আশ্চর্য হয়ে শুধায়,”বাল কী?”
“চুল।”
“চুলের ইংলিশ তো হেয়ার। এটা কোন দেশের ল্যাঙ্গুয়েজ, রাত?”
“আজ্ঞে, হিন্দি দেশের।”
“হিন্দি দেশ! স্ট্রেজ্ঞ ! এতো উইয়ার্ড দেশের নাম?”
“জি, আপনার থোবড়ার মতোই উইয়ার্ড।”
“থোবড়া? হোয়াট ইজ থোবড়া, রাত?”
“এটা কী হচ্ছে? আপনি বললেন আমাকে উড়তে দেবেন, তাহলে এত প্রশ্ন কেন?”
“ওকে ওকে, সরি! যাও, ছোটাছুটি করো, মুক্ত বাতাসে উড়ো।”
“কিন্তু আমার তো ভয় করছে!”
“আমি সাথে থাকতেও ভয়? তোমার জন্য তো আমি পুরো পৃথিবী ধ্বংস করে দিতে পারি!”
ন্যাসো হঠাৎ ই তীব্র অধিকারবোধ নিয়ে কথাটা বলে উঠল। কিন্তু তার কথা শেষ হতে না হতেই পেছন থেকে ভেসে এলো কারও চটুল ও বিটলামি কণ্ঠস্বর,
“মঙ্গলগ্রহে চলে যাচ্ছি! কে জানি বউয়ের জন্য পুরো পৃথিবী ধ্বংস করে দিবে বলছে!”
দু’জন একসাথে চমকে পেছন ফিরে তাকাল। পরক্ষণেই বিস্ময় সামলে একসাথে বলে উঠল, “লোকা, তুমি?”
হাতে একটি ট্রে নিয়ে হাসিমুখে এগিয়ে এলো লুকাস। পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো ঝকঝকে সব কটি দাঁত বের করে বলল, “আসলে জুস বানিয়েছিলাম। ভাবলাম তোমাদের জন্য কিছুটা নিয়ে আসি। চন্দ্র বিলাশের সাথে জুস বিলাশ, কম্বিনেশন টা কিন্তু মন্দ না!
ন্যাসো সন্দিগ্ধ চোখে লুকাসের দিকে তাকাল। কপালে সামান্য ভাঁজ ফেলে গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করল, “জুস? এতো রাতে কে জুস খায়?”

লুকাসের ঠোঁটের হাসিটা আরও গাঢ় হলো, তবে গলার স্বর কিছুটা নামিয়ে চাপা গলায় বলল, “এতো রাতে আমরা কখনোই জুস খাই না, নিকোলাস ন্যাসো। আমরা আসলে কী খাই, সেটা তোমার চেয়ে ভালো আর কে জানে, বলো? সাথে মেয়েমানুষ আছে বলেই কিছু বললাম না। যতোই হোক, আমারও তো একটা প্রেস্টিজ আছে! নাও, দু’জনে জুসটা খাও আর গল্প করো।”
কথাগুলো বলে লুকাস একপ্রকার জোর করেই ন্যাসো ও ইবরাতের হাতে জুসের গ্লাস দুটো ধরিয়ে দিয়ে এক মুহূর্তের মধ্যে লাপাত্তা হয়ে গেল।
লুকাসের এমন হঠাৎ সৌজন্য আর তড়িঘড়ি করে চলে যাওয়ার ভাব দেখে দুজনই বেশ আশ্চর্য হলো। তবে এ নিয়ে তারা আর বেশিক্ষণ মাথা ঘামাল না। দীর্ঘদিন পর আজ মুক্ত জীবনের স্বাদ পেয়েছে ইবরাত। এই ম্যানশনে আসার পর আজই প্রথম সে বাইরে বের হতে পেরেছে। এতোদিন পর মাথার ওপর খোলা আকাশ পেয়ে সে পাখির মতো দু-হাত ছড়িয়ে উড়তে লাগল।

হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে সুবিশাল লনের প্রতিটি কোণে চঞ্চলা কিশোরীর মতো ছুটে বেড়াল ইবরাত। আর ন্যাসো দীর্ঘ ছায়ার মতো সার্বক্ষণিক অনুসরণ করে চলল ওকে। দূর থেকে তাদের এই অদ্ভুত জুটিটাকে দেখে মনে হচ্ছিল, কোনো এক মাফিয়ার আহ্লাদী কন্যা স্কুলে যাচ্ছে, আর তার পেছনে কড়া পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ওই মাফিয়ারই সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও সুঠাম দেহের বডিগার্ড! মেয়েটা যখুনি দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিল, মাটিতে পড়ার আগেই তাকে আগলে নিচ্ছিল সে।
ন্যাসোর সূক্ষ্ম ইশারায় শুরুতেই লনের গার্ডরা সেখান থেকে সরে গিয়েছিল। যার ফলে ইবরাতের মনেও কোনো দ্বিধা বা সংকোচ কাজ করেনি। সে কেবল মুক্ত হাওয়ায় ছুটেছে আর উড়েছে। আর তার পেছনে দাঁড়িয়ে মুগ্ধতা নিয়ে তাকে দেখেছে এক যন্ত্র মানব!
ছুটতে ছুটতে ইবরাত যখন একদম হাঁপিয়ে যায়, তখন তারা দুজনে গিয়ে লুকাসের দেওয়া সেই জুসটুকু খেল। ন্যাসো প্রথমে খেতে না চাইলেও ইবরাত জোর করে তাকে খাইয়ে দিল, এবং দুজনে মিলে পুরোটাই শেষ করল।

আজকের আকাশ একবারে মেঘমুক্ত, একদম নিটোল। আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল মিলেমিশে দিগন্তে যেন এক হয়ে গেছে।
একটি ছোট ডিঙ্গি নৌকার হাল ধরে আছে ন্যাসো। অনভ্যস্ত হাতেও সে বেশ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে নৌকাটি। সমুদ্রের জল এখন শান্ত-স্থির, কিন্তু এই শান্ত রূপের আড়ালে কখন যে তা উত্তাল হয়ে ওঠে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সে কারণে ন্যাসো কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দ্বীপের কোল ঘেঁষে নৌকা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আসলে, লনের সবুজ ঘাসে ছোটাছুটি করেও মহারানীর মন ভরেনি। শেষ মাঝরাতে তার অবদার সমুদ্রে নৌকায় ঘুরে বেড়াতে হবে তাকে। অনেকদিন পর মেয়েটার মুখে এমন প্রাণখোলা হাসি আর উচ্ছ্বাস দেখে ন্যাসো আর না করতে পারেনি। আত্মতাগিদে সে কিছুক্ষণের ভেতরই নৌকার ব্যবস্থা করে ফেলে। তারপর একজন নাইট স্যুট আর অন্যজন কালো টি-শার্টের সঙ্গে ট্রাউজার পরেই নেমে পড়ে
মধ্যেরাতের সমুদ্র বিলাসে।

চারপাশে বয়ে চলেছে হিমশীতল হাওয়া। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, এই ঠান্ডা বাতাসের মধ্যেও ন্যাসোর শরীর ভিজে উঠছে ঘামে। ওই জুসটা খাওয়ার পর থেকেই ভেতরটায় কেমন যেন অন্যরকম অস্বস্তি। শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এক নিষিদ্ধ কামনার দহন জাগছে। ন্যাসো ঘন ঘন শুষ্ক ঢোক গিলে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে। এদিক-সেদিক তাকিয়ে মনকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখতে চায় সে।
ইবরাতের অবস্থাও আলাদা কিছু নয়। সে-ও অনবরত ঢোক গিলে চলেছে, হাত দিয়ে ঘামিয়ে ওঠা গলা বার বার ঘষছে। নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, না চাইতেও তার দৃষ্টি বারবার চলে যাচ্ছে ন্যাসোর দিকে। ন্যাসোর ওই ট্যাটুটা যেন কোনো এক তীব্র মাদকের মতো তাকে আকর্ষণ করছে। অন্যদিকে ন্যাসোও চোখ ফিরিয়ে রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে। ইবরাতের উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রঙের ওপর কুচকুচে কালো তিলটা তাকে আনমনেই ব্যাকুল করে তুলছে। ন্যাসো আবার শুষ্ক ঢোক গিলে নিজেকে মনে করিয়ে দেয়, এটা সমুদ্র। মনকে সংযত করার চেষ্টা করে সে, কিন্তু কোনোভাবেই ভেতরের সেই উগ্র, ব্যাকুল সত্তাকে দমিয়ে রাখতে পারে না।
বাস্তবের এই কামনার দহন আর লড়াই থেকে বাঁচতেই ন্যাসো ডুব দেয় অতীতে। আজ তার হঠাৎ মনে হলো স্ত্রী হিসেবে ইবরাতের অধিকার আছে তার অতীতটা জানার।
গম্ভীর গলায় সে বলে ওঠে, “আমার একটা অতীত আছে, রাত।”
ইবরাত তখন ঘামে ভেজা গলায় হাত বুলাচ্ছিল আর ঘন ঘন ঢোক গিলছিল। ন্যাসোর আকস্মিক কথায় সে চমকে ওঠে, প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকায় তার দিকে।

ন্যাসো ইবরাতের সেই চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত, অথচ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলতে শুরু করে:
“ব্রাজিলে থাকাকালীন আমি জিম ট্রেইনার ছিলাম। সেখানে জিম করতে আসত জেনি নামের একটি মেয়ে।অসম্ভব সুন্দর ছিল সে। শুরু থেকেই আমি বুঝতাম মেয়েটা আমাকে পছন্দ করে। কিন্তু আমি সবসময় দূরত্ব বজায় রাখতাম, ওকে এড়িয়ে চলতাম। তবে জেনি ছিল ভীষণ একগুঁয়ে; যা চাইত, তা আদায় করেই ছাড়ত। ঠিক সেভাবেই সে আমাকেও হাসিল করে নেয়। নিজের প্রেমের জালে আমাকে এমনভাবে জড়ায় যে একসময় আমিও ওকে ভীষণ ভালোবেসে ফেলি। আমাদের সম্পর্কটা খুব গভীর রূপ নেয়। দীর্ঘ দুই বছর আমরা একসঙ্গে ছিলাম।
তারপর একদিন… একদম আচমকা জেনি হারিয়ে যায়। আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম ওর জন্য। দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, পাগলের মতো খুঁজেছি ওকে। আমি ওর পরিবার সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। ও সবসময় বলত ওর পরিবারে কেউ নেই, অনাথ আশ্রমে বড় হয়ে স্কলারশিপ পেয়ে এখানে পড়তে এসেছে। আমিও কখনো ওর অতীত নিয়ে বেশি কৌতূহল দেখাইনি। আমরা দুজনে দুজনকে নিয়ে খুব সুখে ছিলাম। তাই ওর এই হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়াটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না।
দীর্ঘ ছয় মাস পর আমি অবশেষে ওকে খুঁজে পাই। কিন্তু ততক্ষণে আসল সত্য উন্মোচিত হয়ে গেছে। জানতে পারি, ও ভিয়েতনামের এক কুখ্যাত মাফিয়ার একমাত্র মেয়ে! সর্বক্ষণ প্রটোকল আর বডিগার্ডের ঘেরাটোপে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠে সে পালিয়ে এসেছিল। পরে ওর বাবার লোকেরা ওকে খুঁজে পেয়ে তুলে নিয়ে যায় এবং অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করে।

প্রথমে আমি ভেবেছিলাম ও হয়তো পরিস্থিতির শিকার। তাই ছদ্মবেশে ওর বাবার বডিগার্ড হয়ে ওদের আস্তানায় ঢুকি। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমার ভুল ভাঙে। জানতে পারি, পরিস্থিতির শিকার হয়ে নয়, ও সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় এই বিয়েতে রাজি হয়েছে। আর আমাকে? দ্যাট বিচ জাস্ট ইউজড মি!
আমার ভেতরে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে। ওর বিয়ের দিন কৌশলে আমি ওর রুমে ঢুকে পড়ি বদলা নিতে। কিন্তু… তখনও আমার হৃদয়ের কোনো এক কোণে জেনির জন্য ভালোবাসা রয়ে গিয়েছিল। আর আমার সেই দুর্বলতার সুযোগই ও নেয়। জীবনের প্রথমবার আমি হেরে গিয়েছিলাম। ভালোবাসার কাছে, বিশ্বাসের কাছে। ও আমাকে চমৎকারভাবে ম্যানিপুলেট করে ফেলে, আর আমিও মুহূর্তের জন্য সব ভুলে যাই। কিন্তু পুরোটাই ছিল ওর সাজানো নোংরা নাটক। চোখের পলকে সে আমাকে অপরাধী বানিয়ে নিজে ভিক্টিম সেজে বসে!
আমি ধরা পড়ি, আমাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। অথচ সেদিন সবাইকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা আর শক্তি—দুটোই আমার ছিল। কিন্তু আমি নিজেকে রক্ষা করার কোনো চেষ্টাই করিনি। কারণ আমি তখব ভেতরে ভেতরে হেরে গিয়েছিলাম! বিশ্বাসঘাতকতার আঘাতটা এত গভীর ছিল যে প্রতিরোধ করার সব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলাম।
ওরা আমাকে জীবিত অবস্থায় হাত-পা বেঁধে সমুদ্রের বুকে ফেলে দেয়। সেদিন আমাকে কে বাঁচিয়েছিল জানো? রিচার্ড কায়নাত! হি ইজ আ ট্রু আলফা। বস সেদিন আমাকে একটা নতুন জীবন দেন, আমি আবার বেঁচে ফিরি।
তারপর আর কখনো নিজেকে ভাঙতে দিইনি, আর কখনো হারতে দিইনি। আমি আমার ওপর হওয়া প্রতিটা অন্যায়ের বদলা নিয়েছি। নিজের হাতে সেই বিচটাকে খুন করেছি। আর তারপর থেকেই আজকের এই নতুন আমি। যাকে সবাই এখন রোবট বলে ডাকে। হ্যাঁ, এখন আর কোনো অনুভূতি আমাকে স্পর্শ করতে পারে না, কারণ…”
হঠাৎ নাক টানার আওয়াজ আর অসংলগ্ন হেঁচকির শব্দে ন্যাসোকে থেমে যেতে হলো। সে মুখ তুলে তাকায়। দেখে, ইবরাত হেঁচকি তুলে তুলে ডুকরে কাঁদছে।

ন্যাসো কিছুটা অবাক হয়ে শুধায়, “এই মেয়ে, তুমি কাঁদছ কেন?”
ইবরাত ডুকরে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল, “আমার জন্ম আরও আগে হলো না কেন! তা হলে তো আর ওই ডাইনিটা আমার আগে আপনার জীবনে আসতে পারত না, আর না আপনাকে এত কষ্ট পেতে হতো! আমি নিজেই শেষ করে দিতাম ওই চুন্নিটাকে!”
বলতে বলতে ইবরাত নৌকার এ প্রান্ত থেকে ছুটে ওপ্রান্তে গিয়ে ন্যাসোর গলা জড়িয়ে ধরল। আকস্মিক ধাক্কায় চমকে উঠল ন্যাসো, তাল সামলাতে না পেরে নৌকাটি তীব্রভাবে দুলে উঠল। ইবরাত এবার ছোট বাচ্চাদের মতো শব্দ করে কাঁদতে লাগল। ন্যাসো একদম থতমত খেয়ে গিয়ে বলল,
“আরে আশ্চর্য! অতীত আমার, আর কান্না করছ তুমি? থামো, রাত!”
কিন্তু কে শোনে কার কথা! ইবরাতের কান্নার বেগ কমাকাতো দূরে থাক, উল্টো বেড়েই চলেছে। নৌকার এক প্রান্তে দুজনের ভর একসাথে পড়ায় নৌকাটা একপাশে বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়ল। তা দেখে ন্যাসো ব্যগ্র কণ্ঠে বলে উঠল,
“রাত, ছাড়ো! নৌকা ডুবে যাবে তো!”
ইবরাত তো ছাড়লই না, উল্টো করে বসল এক দুঃসাহসিক কাজ! হুট করে ন্যাসোর গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। ব্যস, এই একটি ছোঁয়াতেই এতক্ষণ ধরে শিকলে বেঁধে রাখা ন্যাসোর সংযম শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে এলো। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে, অতর্কিতে ন্যাসো মুঠোয় পুরে নিল ইবরাতের একগুচ্ছ চুল। হেঁচকা এক টানে ওর মুখটা নিজের মুখের একদম কাছে এনে, গম্ভীর পুরুষালী হাস্কি কণ্ঠে বলল,
“লেট মি বার্ন ইউ।”

বন্য হিংস্রতায় ন্যাসো হামলে পড়ল ইবরাতের ঠোঁটের ওপর। কেবল স্পর্শ নয়, তৃষ্ণার্তের মতো কামড়ে ধরল। শুরুর প্রথমেই এমন উন্মত্ত আক্রমণে শিউরে উঠল ইবরাত। তবে ক্ষণিকের মধ্যে তার শরীরের ভেতরেও শিহরণের তিরতিরে জোয়ার বয়ে গেল। সে-ও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না; দুহাতে খামচে ধরল ন্যাসোর ঘাড় আর মাথার চুল। ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে, সব লজ্জা আর দ্বিধা বিসর্জন দিয়ে গা ভাসাল প্রেম-জোয়ারে।
কিন্তু এক প্রান্তে দুজনের এত উন্মাদনার ভর সহ্য করতে না পেরে ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে গেল নৌকাটি। গভীর চুম্বনে লিপ্ত থাকা অবস্থাতেই দুজন একসাথে আছড়ে পড়ল ঠান্ডা পানির বুকে। মুহূর্তের জন্য আলাদা হয়ে দূরে সরে গেল তারা। কিন্তু সেই দূরত্ব ছিল স্রেফ কয়েক সেকেন্ডের। দুজনের ভেতরেই তখন সঙ্গী হওয়ার যে কামনার বীজ চারা দিয়ে উঠেছে, তা তাদের চুম্বকের মতো আবারও টেনে কাছাকাছি নিয়ে এলো। দুজন সাঁতরে কাছে এসে, জলের তলদেশেই আবার একে অপরের ঠোঁট কামড়ে ধরল। আজ হয়তো সমুদ্রের জল শান্ত ছিল, কিন্তু তাদের ভেতরটা পরিণত হয়েছিল উত্তাল মহাসমুদ্রে।
ঠোঁটের সাথে ঠোঁটের সেই তৃষ্ণার্ত মিলন বজায় রেখে কখন যে তারা সাঁতরে সমুদ্রের বালুচরে উঠে এসেছে, তা বোধহয় তারা নিজেরাও টের পায়নি। তখনও তাদের ঠোঁট দুটি একে অপরের সাথে বন্দি। দুটো শরীর উন্মাদনায় ব্যাকুল। ন্যাসো ইবরাতকে বালুচরের ওপর শুইয়ে দিয়ে ওর গায়ের ওপর চেপে বসল। টান মেরে সরিয়ে দিতে চাইল কাঁধের নাইট স্যুটের অংশটি। কিন্তু হঠাৎ তার ঝাপসা, মাদকতাময় চোখে বিরক্তি ফুটে উঠল।
“আমি বলেছিলাম, আই হেইট গ্রিন!”

ইবরাত শুকনো ঢোক গিলল। ন্যাসোর কামড়ে ওর ঠোঁট দুটো এতটাই ফুলে উঠেছে যে দেখলে মনে হবে মৌমাছির দংশনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। ওই ফোলা রক্তিম ঠোঁট দুটি থরথর করে কাঁপছে। ইবরাতের এই কাঁপন ন্যাসোকে আবারও উন্মাদ করে তুলল।
হঠাৎ-ই নির্মল আকাশ মেঘলা হয়ে গেল। মেঘলা আকাশের সাথে তাল মিলিয়ে ন্যাসোর বাদামি রঙের চোখে অন্ধকার আদিম বাসনা ফুটে উঠল। সে আরও ঘনিষ্ঠ হলো ইবরাতের সাথে। নাজুক রমণীর পুরো শরীরে এক লহমায় আগুন জ্বালিয়ে দিল সে। কণ্ঠনালী থেকে শুরু করে ঠোঁটের নরম স্পর্শ দিতে দিতে সে পৌঁছে গেল ইবরাতের কানের একদম কাছে। তপ্ত ঠোঁট ইবরাতের বরফের মতো ঠান্ডা কান ও গালের ভাঁজে ছুঁইয়ে হিসহিস করে বলল,
“হানি, আই লাইক ওয়াইল্ড রোমান্স!”
হানি! কী সম্মোহনী ডাক! ডাকটা শুনে ইবরাত শিহরিত হয়ে কাঁপতে থাকে। ঠোঁটের যন্ত্রণায় স্পষ্ট কথা ফুটছিল না, কেবল অতি ক্ষীণ ফিসফিসে স্বরে বের হলো,
“আমার ভয় করছে!”

ন্যাসো নরম সুরে আশ্বস্ত করে বলল, “তুমি কষ্ট পাবে আমি এমন কিছুই করব না, রাত। জাস্ট একটু ওয়াইল্ড হবো। এনজয় অ্যান্ড ফিল দ্য মোমেন্ট!”
ন্যাসো ইবরাতকে নিজের সর্বাঙ্গের সাথে মিশিয়ে নিতে যাবে, ওমনি ইবরাত ধাক্কা মেডে ন্যাসোকে বালুর ওপর ফেলে দিয়ে তড়াক করে তার ওপর উঠে বসল। একটানে ন্যাসোর টি-শার্টটি ছিঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিল সমুদ্রের পানিতে। টি-শার্টটি স্রোতের তোড়ে ভেসে যেতে লাগল। সেই ভেসে যাওয়া কাপড়ের সাথেই ইবরাতের সমস্ত লাজলজ্জা আর সংকোচ ভেসে গেল।
ভেসে যাওয়া টি-শার্টটির দিকে তাকিয়ে ন্যাসো আফসোসের স্বরে বলে উঠল,
“আমার শার্ট! দ্যাট ওয়াজ ব্যান্ড নিউ, রাত!”
“ব্র্যান্ডের শার্টের জন্য আফসোস করবেন না। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো পোশাক ছাড়াই কাটে!”
তার দুষ্টু দৃষ্টি গিয়ে পড়ল ন্যাসোর চওড়া, ঢেউ খেলানো বুকে। সমুদ্রের পানির স্পর্শে সিক্ত বুক যেন আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে! ইবরাত শুকনো ঢোক গিলল। জিহ্বা দিয়ে সিক্ত ঠোঁট দুটো আরেকবার ভিজিয়ে নিয়ে বিড়বিড় করে উঠল,

“উফফ, ভীষণ লোভনীয়!”
ধীরে ধীরে তার চোখ জোড়া গিয়ে স্থির হলো ন্যাসোর সেই ট্যাটুটার ওপর। ইবরাতের মনে হলো, ওই ট্যাটুতে যদি আজ ঠোঁট না ছোঁয়াতে পারে, তবে জীবনটাই বৃথা! এমন সুযোগ আর আসবে না।
ইবরাতের ঠোঁটের কোণে লম্পট হাসি খেলে গেল। সে গুণগুণ করে গেয়ে উঠল,
❝কী নেশা ধরাইলা…
মনের স্বাদ মিটে না!
তোমার এই ট্যাটুতে,
এই মন আজ হইলো যে ছারখার…❞
ইবরাতের মুখে এই সুর শুনে মুহূর্তের জন্য ভয়ের ঝলক ফুটে উঠল ন্যাসোর চোখে। কিন্তু ইবরাতের চোখে তখন বিজয়ের দীপ্তি! সে আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। হুট করে ঝুঁকে ঠোঁট দুটো ছুঁইয়ে দিল সেই কাঙ্ক্ষিত ট্যাটুতে।

ম্যানশনের খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইনোকুলার দিয়ে সমুদ্রতীরের এই দৃশ্য দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসল লুকাস৷
যাক, তার মিশন অবশেষে সফল৷ হ্যাঁ, আজ এই দুই কপোত-কপোতীর সব বাধা ভেঙে এক হওয়ার নেপথ্যে সম্পূর্ণ হাত ছিল তারই। সে যদি চালাকি করে ওদের জুসের গ্লাসে চকলেট মিশিয়ে না দিত, তবে হয়তো কোনোদিনই এই দুজনের মধ্যবর্তী এই অলঙ্ঘনীয় দূরত্ব ঘুচত না। শারীরিক দূরত্ব যখন ঘুচে গেছে, মনের রুদ্ধ দ্বার খুলতেও আর বেশি সময় লাগবে না! আর আজকের সুযোগটাও ছিল চমৎকার৷ ম্যানশনে ফাদার, রিচার্ড কেউই ছিল না।
লুকাস চোখ থেকে বাইনোকুলারটা সরিয়ে কাঁধে ঝুলিয়ে নিল ছোট সাইজের একটা মিউজিক বক্স। বক্সে তখন বাজছে একটি চটুল রিমিক্স গান। গানের লিরিক্সের সাথে ঠোঁট মিলিয়ে, বাতাসে হাত উঁচিয়ে নাচতে নাচতে গাইতে লাগল লুকাস:

❝আসো খেলব, খেলা হবে…
বাইরে থেকে মুরগি আসে,
নিয়ম করে প্রতি মাসে,
আমিও আছি, তুমিও রবে…
বন্ধু এবার খেলা হবে!
খেলা খেলা খেলা হবে…
টিক টিক টিক… খেলা হবে
টিক টিক টিক… খেলা হবে…❞
গাইতে গাইতেই সে হঠাৎ পাহারারত গার্ডদের উদ্দেশ্যে গলার রগ ফুলিয়ে চিৎকার করে উঠল,

 Born to be villains part 41

“এই! কে কোথায় আছিস, মেইন পাওয়ার সুইচ অফ করে দে।”
মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ স্তব্ধ করে দিয়ে পুরো ম্যানশন তলিয়ে গেল গাঢ় অন্ধকারে। এই অন্ধকার প্রচ্ছায়া দূর সমুদ্রের বালুচরে দুই উন্মাদ হৃদয়ের লালিত তৃষ্ণা আর বন্য উন্মত্ততা বাড়িয়ে দিল বহু গুণ!

 Born to be villains part 43

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here