Born to be villains part 41
মিথুবুড়ি
সময় একটি চিরন্তন চক্র। ঘড়ির বারোটার কাঁটা থেকে যার যাত্রা শুরু, ঘুরতে ঘুরতে আবার ঠিক বারোটাতেই তার সমাপ্তি। জীবনের গল্পগুলোও কি ঠিক সেই রূপ নেয় না?
সেদিন গভীর রাতে ম্যানশনে ফিরেছিল রিচার্ড। তবে ম্যানশনে ফেরে সেদিনের ঘটনার কোনো রহস্য উদঘাটন করতে চায়নি। সে জানতে চায়নি এলিজাবেথ কীভাবে বাঙ্কার থেকে মুক্ত হলো, কিংবা ওই নির্মম মুহূর্তে তার ওপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে গেছে। শুধু সেদিনের পর থেকে গ্যারেজে যেসব গার্ড পাহাড়ায় ছিল, তারা একে একে রহস্যজনকভাবে হাওয়া হয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের সাথে কি হয়েছিল, তা কেউ জানে না।
সময় থেমে কারও জন্য থাকে না। নিজের আপন ছন্দে সে সামনে এগিয়ে চলে। সেই একটি ঝড়ো দিন তাসের ঘরের মতো বদলে দিয়েছিল সবকিছু। তাসা নামের মেয়েটিকে আর কেউ মনে রাখেনি। এমনকি যে ফাদার তাকে নিজের ভোগের পণ্য হিসেবে কিনে এনেছিল, তার স্মৃতি থেকেও মুছে গেছে মেয়েটি। ম্যানশনের বাতাসে এখন আর ইবরাতের সেই মিষ্টি, রিনঝিনে হাসির সুর ভেসে আসে না। সেদিন এলিজাবেথের মুখের আঘাত সহ্য করতে না পেরে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া ইবরাত রুমের চার দেয়ালের মাঝে বন্দি করে নিয়েছে নিজেকে।
অন্যদিকে, সেই কালরাতের পর সোফিয়া আর এলিজাবেথও আর মুখোমুখি হয়নি। মুখোমুখি হয়নি এলিজাবেথ আর রিচার্ডও। তাদের মাঝে তৈরি হয়েছে আকাশসম দূরত্বের অলংঘ্য প্রাচীর। আলাদা হয়ে গেছে তাদের শোবার ঘর। রিচার্ড এখন রাতে ম্যানশনের কোন কোণে গিয়ে ঘুমায়, তা এলিজাবেথের অজানা। সে জানার চেষ্টাও করেনি। রিচার্ডের মনে জেদ ও রাগ কেন এলিজাবেথ তাকে ভুল বুঝে এত বড় একটা পদক্ষেপ নিয়েছে! আর এলিজাবেথের হৃদয়ে রিচার্ডের প্রতি জমাট বেঁধেছে তীব্র ঘৃণা। রিচার্ড হয়তো তাকে কেবল মৃত্যুর ভয় দেখাতে চেয়েছিল, কিন্তু সেদিন যদি সোফিয়া সেখানে না পৌঁছাত? এই একটা প্রশ্নের উত্তর তাদের মাঝে তৈরি করে দিয়েছে যোজন যোজন দূরত্ব। এরপর তারা আর একে অপরের সামনে যায়নি। হয়তো ভেতরে ভেতরে ভয় ছিল, মুখোমুখি হলে পরিণতি না আবার আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়ায়!
কিন্তু আজ সেই জমাট বাঁধা দূরত্বের বরফ গলানোর উদ্যোগ এলিজাবেথকেই নিতে হলো। তবে ভালোবাসা কিংবা অনুশোচনা থেকে নয়, এর পেছনে রয়েছে উদ্দেশ্য। অফিসার প্রেম ইতালি এসে পৌঁছেছে। যেকোনো মূল্যে তার কাছ থেকে বইটি উদ্ধার করতে হবে। কিন্তু এই দুর্গসদৃশ ম্যানশন থেকে একা বের হওয়ার সাধ্য তার নেই। প্ল্যান আগেই ছকা হয়ে গেছে। কিন্তু সেটা বাস্তবায়নের প্রথম শর্ত হলো এই দ্বীপ থেকে বের হওয়া।
লিভিং রুমে বসে তখন ন্যাসো আর লুকাসের সাথে কোনো এক গুরুতর বিষয়ে আলোচনায় ব্যস্ত রিচার্ড। তার পাশে কাছে বসে আছে ব্ল্যাকহক। সে এখন পুরোপুরি সুস্থ। এলিজাবেথ দীর্ঘশ্বাস চেপে ধীর পায়ে রিচার্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। এলিজাবেথের উপস্থিতি টের পেয়েও রিচার্ড তার দিকে একবারের জন্যও ফিরে তাকাল না। সে এমন উদাসীন ভাব বজায় রাখল, যেন এলিজাবেথ নামের কোনো অস্তিত্বই কখনো তার জীবনে ছিল না। ভেতরে ভেতরে আঘাত পেলেও এলিজাবেথ নিজেকে সামলে নিল। মুখ ফুটে বলতে গেল,
“আমি শপিংয়ে যেতে চাই, মি. কায়….
কিন্তু তার কথা শেষ করার আগেই পেছন থেকে ভেসে এলো সোফিয়ার ন্যাঁকা কণ্ঠ,
“প্রিন্স! আমাকে শপিংয়ে নিয়ে চলো না, প্লিজ!”
মুহূর্তের মধ্যে এলিজাবেথের চিবুক শক্ত হয়ে এলো। পাখির পালকের মতো নরম হাত দুটো রাগে মুঠো হয়ে উঠল। রিচার্ড কিন্তু তখনও আগের মতোই গম্ভীর, তার চেহারায় কোনো ভাবাবেগের প্রকাশ নেই।
সোফিয়া এগিয়ে এসে রিচার্ডের মুখোমুখি এবং এলিজাবেথের ঠিক পাশে এসে দাঁড়াল। সাথে ফাদার। ফাদারের কনুইয়ে নিজের হাত আটকে সোফিয়া বাচ্চাদের মতো বায়না ধরে বলল,
“ড্যাড! প্রিন্সকে বলো না আমাকে নিয়ে যেতে!”
এলিজাবেথের চোখ-মুখে তখন ক্ষোভের আগুন। সে সোফিয়াকে কড়া কিছু একটা বলতে মুখ খুলতেই, সবাইকে অবাক করে দিয়ে রিচার্ড নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়াল। তারপর হাতের ঘড়ির দিকে একনজর তাকিয়ে বরফশীতল কণ্ঠে তাগিদ দিল,
“আমি বাইরে ওয়েট করছি। কাম ফাস্ট।”
উপস্থিত সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়ে হনহন করে বেরিয়ে গেল রিচার্ড। তার এই হঠাৎ আচরণে এমনকি তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বডিগার্ডও এক মুহূর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে রইল। তবে পা বাড়ানোর ঠিক আগের মিলি-সেকেন্ডে লুকাসের সাথে রিচার্ডের যে সূক্ষ্ম চোখের ইশারা আদান-প্রদান হলো, তাতে লুকাসের বিমূঢ় ভাবটা সামান্য কেটে গেল।
সোফিয়া বিজয়ের ভঙ্গিতে এলিজাবেথের দিকে তাকিয়ে একটা বিদ্রূপাত্মক গা-ঝালা হাসি দিল, যাওয়ার আগে চোখ টিপে যেন জানিয়ে দিল নিজের জয়।
এলিজাবেথ তখন যেন জীবন্ত বরফখণ্ডে পরিণত হয়েছে। চোখের কোণে জমা হলো জলবাষ্প। পাশে থাকা ফাদার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভেতরের দিকে চলে গেলেন। সেদিনের ঘটনার পর থেকে রিচার্ডের সামনে এলেই তাঁর বুকটা ভীষণ ভারী হয়ে আসে।
লুকাস এলিজাবেথের দিকে এগিয়ে এলো। মাথা সামান্য নুইয়ে বিনীত স্বরে বলল, “ম্যাম, আমার সাথে চলুন।”
অন্য কোনো দিন হলে হয়তো এলিজাবেথ এই প্রস্তাবে সাড়া দিত না। কিন্তু আজ তাকে বের হতেই হবে। এই সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না। এলিজাবেথ আর কিছু না ভেবে চোখের জলটুকু ভেতরে চেপে নিল, নিজেকে শক্ত করে পা বাড়াল বাইরের দিকে।
সবকিছু ঠিকঠাকভাবেই চলছিল। কিন্তু শপিংমলের সামনে এসে গাড়িটা থামতেই ঘটে গেল এক অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন। সোফিয়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতর্কিত আক্রমণে শিউরে উঠল। অকস্মাৎ রিচার্ড হিংস্র ঝড়ের বেগে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। লোহার মতো শক্ত হাতে চেপে ধরল সোফিয়ার নরম গলা। চাপের নির্মমতা এতটাই তীব্র ছিল যে সোফিয়ার মাথাটা গিয়ে সজোরে ঠেকল সিটের সাথে। তবে র ক্ত হিম করা সেই মুহূর্তেও সোফিয়ার চোখে-মুখে ভয়ের বিন্দুমাত্র ছাপ দেখা গেল না। রিচার্ডের হিংস্রতা আর গর্জনে ভরা চোখের দিকে সে শুধু শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
সোফিয়ার এই নিরাসক্ততা আর নিস্তব্ধতা রিচার্ডের ভেতরের ক্রোধকে মুহূর্তেই আকাশছোঁয়া করে তুলল। দাঁতে দাঁত পিষে ক্ষোভ নিয়ে রিচার্ড ফিসফিসানো স্বরে গর্জে উঠল,
“কে তুই? আর কেউ না জানলেও আমি খুব ভালো করেই জানি সোফিয়া আমাকে কতটা ঘৃণা করত!”
সোফিয়া তখনও নিরুত্তর। ছটফট করে নিজেকে ছাড়ানোর কোনো চেষ্টাটুকুও করছে না। সোফিয়ার এই অটল নীরবতায় রিচার্ড আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। তার ধারালো নখ গভীর থেকে গভীরে গেঁথে গেল সোফিয়ার গলার নরম চামড়ায়। নখের আঁচড়ে ত্বক চিরে ফোঁটা ফোঁটা তাজা র ক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগল।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে গাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ন্যাসো মৃদু কণ্ঠে সতর্ক করল,
“বস, মরে যাবে!”
কিন্তু রিচার্ডের যেন কোনো হুশ নেই। গলার ওপর চেপে বসা বাঁধন সে আলগা করল না। দুজোড়া তেজস্ক্রিয় স্থির দৃষ্টি কতক্ষণ যে একবিন্দুতে আটকে রইল, তার হিসাব নেই।কারো চোখের পাতাটুকুও পড়ল না।
রিচার্ড তার বাঁধন ছেড়ে সোফিয়াকে সিটের ওপর আছড়ে ফেলে দিল। তারপর হনহন করে গাড়ি থেকে নেমে শপিংমলের ভেতরে চলে গেল।
রিচার্ড দৃষ্টিসীমার আড়ালে চলে যেতেই সোফিয়া ধীরস্থিরে সোজা হয়ে বসল। কম্পিত আঙুলে আলতো করে ছুঁয়ে দেখল গলার ক্ষত স্থানটা। র ক্তে রাঙানো হাতটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল সে। তারপর ঘেন্নায় দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে উঠল,
“ব্লাডি মনস্টার!”
সোফিয়া শপে ঢোকার আগে গলার জমাট বাঁধা রক্ত পরিষ্কার করতে ওয়াশরুমে ঢুকল। গলায় পানির ঝাপসা স্পর্শ লাগতেই তীব্র যন্ত্রণায় জায়গাটা মরিচের মতো জ্বলে উঠল। অনিচ্ছাসত্ত্বেও ব্যথায় তার চোখমুখ কুঁচকে যায়। তবে সেই তীব্র যন্ত্রণা আর মুখের বিষণ্ণ ভাব এক লহমায় হাওয়া হয়ে গেল অজ্ঞাত এক শিশুর উল্লাসে।
সোফিয়া সোজা হয়ে দাঁড়াল। পাশে তাকাতেই নজর কাড়ে একটি বেবি স্ট্রলার। স্ট্রলারে বসে আছে সোনালী চুলের এক ছোট্ট পরী। পরীটার বয়স এক কি দেড় বছরের বেশি হবে না। গায়ের রং গোলাপের মতো নরম গোলাপি, আর হ্যাজেল রঙা চোখ দু’টো শান্ত দীপ্তিতে ভরা। ঘন, রেশমি চুলগুলো সুন্দর দুটি জুটিতে বাঁধা। হাত-পা ছুঁড়ার সাথে সাথে জুটি দুটো দুলছে! গোটা কয়েক চুল ফুলের মতো বিছিয়ে আছে কপাল, যা চোখের পাপড়ি ছুঁই ছুঁই।
সোফিয়াকে দেখামাত্রই শিশুটি উল্লাসে হাত-পা ছুড়ে নেচে উঠল। তার সেই নিষ্পাপ হাসি দেখে সোফিয়ার ঠোঁটের কোণেও হাসির আলোড়ন ফুটে ওঠে। সোফিয়া শিশুটির দিকে এগিয়ে যায়। পরম মমতায় তাকে কোলে তুলে নিয়ে আদরে ভরিয়ে দেয়।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এলিজাবেথ সোজা গুচির শপে ঢুলে পড়ল। রিচার্ড তখন আশেপাশে নেই, আর এটাই উপযুক্ত সুযোগ। ঠিক ১২:৪০ মিনিটে এলিজাবেথ ৪ নম্বর ট্রায়াল রুমে ঢুকে পড়ল। কথা ছিল সেখানেই থাকবে কাঙ্ক্ষিত সেই বইটি। আর সত্যিই বইটি ঠিক সেখানেই রাখা ছিল।
বইটি হাতে পেয়ে এলিজাবেথ শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে রাখল কিছুক্ষণ। তারপর পরপর কয়েকবার গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে ট্রায়াল রুম থেকে বেরিয়ে এলো। কিন্তু কয়েক কদম এগোতেই হঠাৎ রিচার্ড তার সামনে এসে দাঁড়াল! এলিজাবেথ যেন ভূত দেখে চমকে উঠল। তৎক্ষনাৎ বই ধরা হাতটা সে তড়িৎ গতিতে পিঠের পেছনে লুকিয়ে ফেলল।
রিচার্ডের তীক্ষ্ণ, গোয়েন্দাসুলভ দৃষ্টি। সে সরু চোখে এলিজাবেথের দিকে তাকিয়ে শুধাল, “রেড, তুমি এখানে কী করছ? আমি তো তোমাকে ওইদিকে খুঁজছিলাম।”
অন্য এক মেয়েকে সাথে নিয়ে এসে এখন বউকে খোঁজা হচ্ছে! বেয়াদব লোক একটা! মনে মনে আঁইটাই করে উঠল এলিজাবেথ। ভয়ে তার গলা শুকিয়ে কাঠ, কয়েকবার অহেতুক ঢোকও গিলল। এই বইটা যেকোনো মূল্যে রিচার্ডের হাত থেকে বাঁচাতে হবে।
হঠাৎ রিচার্ডের নজর গিয়ে পড়ল এলিজাবেথের হাতের দিকে। সে সন্দেহজনক কণ্ঠে প্রশ্ন করল, “হাত পেছনে কেন? কী লুকাচ্ছ?”
এলিজাবেথের আত্মা কেঁপে উঠল। ভয়ে তার মুখচ্ছবি আর চোখের আতঙ্ক রিচার্ডের শকুনি দৃষ্টি এড়াতে পারল না। রিচার্ডের মনের সন্দেহ এবার আরও ঘনীভূত হলো। সে এলিজাবেথের পেছনের দিকে হাত বাড়াতে যাবে, ঠিক তখুনি অলৌকিকভাবে এলিজাবেথের পেছনে এসে দাঁড়াল সোফিয়া।
সোফিয়া অবিশ্বাস্য সূক্ষ্মতায় চটজলদি এলিজাবেথের হাত থেকে বইটি নিয়ে তার শপিং ব্যাগে লুকিয়ে ফেলল। কাজটি এতই দ্রুত ও নিঃশব্দে হলো যে রিচার্ড ঘুণাক্ষরেও তা টের পেল না। তারপর সোফিয়া একদম স্বাভাবিক গলায় বলে উঠল,”ওর হাতে তো কিছুই নেই, প্রিন্স!”
এলিজাবেথ হতবাক হয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে সোফিয়ার দিকে তাকাল। তবে সোফিয়া সেদিকে খেয়াল না করে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রিচার্ডের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। সেদিনের ঘটনার পর সোফিয়ার প্রতি এলিজাবেথের মনে অদৃশ্য আস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তাই আজ সে আর ঘাবড়ালো না। মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে হাত সামনে নিয়ে এলো। তারপর ঠোঁটে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে বলল,
“কই, কিছুই তো নেই!”
তবে রিচার্ডের চোখ থেকে সন্দেহ এত সহজে মলিন হয়না। সে সুচারু দৃষ্টিতে এলিজাবেথের দিকে চেয়ে থাকে। তার সেই অনড় দৃষ্টিতে এলিজাবেথের বুকচাপা আত্মবিশ্বাস যখন একটু একটু করে চূর্ণ হতে শুরু করেছে, তখন আচমকা বেজে উঠল রিচার্ডের ফোন।
রিচার্ড কবজির ঘড়িতে একবার সময় দেখে নিল। তারপর একটি কার্ড এলিজাবেথের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,”বাই হোয়াটএভার ইউ ওয়ান্ট। আ’ম কামিং।”
তার কণ্ঠে তাড়া। রিচার্ড আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে হনহন করে হেঁটে চলে গেল। সোফিয়াও নিঃশব্দে তার পিছু নিল। তবে চলে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে সে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে এলিজাবেথের দিকে তাকাল। তার সেই দৃষ্টিতে যেন লুকিয়ে ছিল রহস্যের গূঢ় অর্থ!
আজ সকলে শপিংয়ের উদ্দেশ্যে বের হলেও, আসলে কারও উদ্দেশ্যই কেনাকাটা ছিল না। প্রত্যেকের পেছনেই ছিল আলাদা এবং বিশেষ এক উদ্দেশ্য।
রিচার্ড আর লাড়া মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। রিচার্ডের গম্ভীর মুখে স্পষ্ট অসন্তোষের ছায়া। লাড়া ভেজা ঠোঁট জিভের ডগা দিয়ে চাটল, তারপর আবারও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করল,
“আই অ্যাম স্যরি এগেইন। ফাইল রেডি হলেই আমি আপনার কাছে হ্যান্ডওভার করে দিচ্ছি। এক্সচুয়ালি, আমি শারীরিকভাবে একটু অসুস্থ ছিলাম। বাট ডোন্ট ওয়ারি, এই দুর্বলতা আমাকে আটকে রাখতে পারবে না।”
বলতে বলতেই লাড়া আলতো করে তার পেটে হাত রাখল। রিচার্ড শান্ত চোখে তা দেখল। ধীরে ধীরে তার মুখ থেকে অসন্তোষের ছায়া মিলিয়ে গেলেও, সেখানে গভীর শোকের কালো ছায়া ফুটে উঠল। বুকজুড়ে খাঁ-খাঁ শূন্যতা তীব্রভাবে কামড়ে ধরল। এলিজাবেথ যদি ওই ভুলটা না করত, তবে আজ তাদেরও তো একটা সন্তান থাকত…
“বা…বা–বাবা-আআআ!”
হঠাৎ পাশ থেকে একটি শিশুর আধো-আধো কণ্ঠে বাবা ডাক ভেসে আসতেই রিচার্ড চমকে পাশে ফিরে তাকাল। মাস্ক পরা এক রমণী একটি বাচ্চা স্টলারে করে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বাচ্চাটি রিচার্ডকে দেখা মাত্রই উল্লাসে হাত-পা ছুঁড়তে শুরু করল। সে এমনভাবে ছটফট করতে লাগল যে রমণীটি থামতে বাধ্য হলো। দেখে মনে হচ্ছিল, ছোট বাচ্চাটা যেন স্টলারের লোহার খাঁচা ভেঙে এখনই রিচার্ডের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়বে!
লাড়া কপাল কুঁচকে সেদিকে তাকাল। কিন্তু শিশুটির নিষ্পাপ স্নিগ্ধ মুখের দিকে তাকাতেই তার কপালের ভাঁজ এক লহমায় মিলিয়ে গেল, ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল মুগ্ধতার হাসি। নিজের ভেতরে একটা নতুন প্রাণ ধারণ করার পর থেকেই বাচ্চাদের প্রতি তার আলাদা এক টান তৈরি হয়েছে। লাড়া হেসে বাচ্চাটির দিকে এগিয়ে গেল এবং আলতো করে তার জুটি করা সোনালী চুলগুলো ছুঁয়ে দিল। বিস্ময় ভরা কণ্ঠে আওড়ালো,
“ওয়াও! ব্লন্ড হেয়ার!”
বাচ্চাটি লাড়ার দিকে একবারও ফিরে তাকাল না। সে তখনও রিচার্ডের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে হাত-পা ছুঁড়ছে। ছোট ছোট দুটি কচি হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাকে কোলে নেওয়ার আকুল আবেদন জানাচ্ছে। লাড়া রিচার্ডের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ও আপনার কোলে উঠতে চাইছে, মি. রিচার্ড।”
রিচার্ড নিজেও বিহ্বল চোখে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে ছিল। লাড়ার এই সামান্য কথায় রিচার্ড যেন সংবিত ফিরে পেল। সে থমকে যাওয়া চোখে লাড়ার দিকে তাকাল, তারপর স্টলার ধরে রাখা মাস্ক পরা রমণীটির দিকে, আর শেষে আবারও সেই উৎফুল্ল বাচ্চাটির দিকে। জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে সে যেন একপ্রকার আচ্ছন্ন হয়েই প্রশ্ন করে বসল,
“আ-আমি?” তার গলা জড়িয়ে এলো।
অদ্ভুতভাবে, মাস্ক পড়া সেই রমণীর চোখের কোণেও হঠাৎ যেন একরাশ আবেগ ভেসে উঠল। কিন্তু চোখে সানগ্লাস থাকায় সেই আবেগ কারও নজরে এলো না। রমণীটি বিনীতভাবে মাথা নেড়ে সায় দিল।
তবুও রিচার্ডের ভেতরে অদ্ভুত ইতস্তত ভাব। সংকোচে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সে। এতে বাচ্চাটার হ্যাজেল রঙা চোখের কোণে জল জমে, পলাশ ফুলের মতো কোমল ঠোঁট দু’টো ভেঙে আসে! সে হাত দুটো আরও উঁচিয়ে ধরে। শেষমেশ শিশুটির জেদের কাছে হার মানতেই হলো রিচার্ডকে। সে অত্যন্ত সতর্ক এবং সংবেদনশীলভাবে বাচ্চাটিকে বুকে তুলে নিল। কোলে উঠতেই বাচ্চাটা একদম শান্ত হয়ে রিচার্ডের বুকের সাথে মিশে গেল; কচি দুটি হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল রিচার্ডের গলা। মুহূর্তের মধ্যে এক স্বর্গীয় শান্তিতে ভরে উঠল রিচার্ডের বুক। কিছুক্ষণ আগেও যে খাঁ-খাঁ শূন্যতা তার ভেতরটা পুড়িয়ে ছারখার করছিল, এখন এই ছোট্ট শিশুটির ছোঁয়ায় তা যেন এক অপার্থিব পূর্ণতায় ভরে উঠল।
লাড়া রমণীটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “ওর নাম কী?”
রমণীটি কিছুটা কুণ্ঠিত কণ্ঠে উত্তর দিল, “ইসাবেলা।”
তখন হঠাৎ করেই রিচার্ডের ঠোঁটের কোণ থেকে নিঃশব্দে ঝরে পড়ল একটি শব্দ, “বেলা!”
লাড়া শিশুটির নিষ্পাপ মুখের দিকে মন্ত্রমুগ্ধকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে আওড়ায়, “ট্রাস্ট মি, এত সুন্দর বেবি আমি আমার লাইফে কখনও দেখিনি!”
রমণীটি কেবল আলতো করে হাসল। লাড়া এবার তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “আপনার নাম?”
উত্তর দিতে সামান্য সময় নিল রমণী। তবে সে যখন জবাব দিল, তার ঠোঁটের কোণে খেলে গেল একচিলতে রহস্যময় হাসি, “এলিনা… এলিনা আরমাস!”
“ওর বাবা কোথায়?”
ছোট্ট নিষ্পাপ সত্তাটিকে নিজের বুকের সাথে তুলোর মতো জড়িয়ে ধরে এবার কট্টর প্রশ্ন ছুঁড়ল রিচার্ড। রিচার্ডের এই আকস্মিক প্রশ্নে থমকে গেল এলিনা। তবে পরক্ষণেই তাকে ক্ষণিকের দ্বিধা কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে দেখে বোঝা গেল তার নার্ভ সত্যিই দুর্দান্ত! এলিনা মিষ্টি হেসে উত্তর দিল,
“ওর বাবা বিজনেস ট্রিপে দেশের বাইরে আছেন। আসলে ওর বাবা সবসময় কালো রঙের পোশাক পরে তো, তাই পেছন থেকে আপনাকে দেখে হয়তো বাবা ভেবেছে।”
কথাটা বলেই এলিনা তাড়াহুড়ো দেখাল। রিচার্ডের কোল থেকে ইসাবেলাকে কোলে তুলে নিয়ে দ্রুত শপিং মল থেকে বেরিয়ে গেল।
এলিনা চলে যেতেই রিচার্ড আবার তার আগের গম্ভীর রূপ ফিরিয়ে আনল। সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লাড়ার দিকে তাকাল। গলায় কট্টর ভাব এনে প্রশ্ন করল,
“জাস্ট ক্লিয়ার ওয়ান থিং… ইজ শি অ্যালাইভ?”
লাড়া স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে আঙুল দিয়ে চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিল। এমনিতেই তার চুল কাঁধ পর্যন্ত ছোট ছিল, প্রেমকে ডিভোর্স দেওয়ার পর সেগুলোকে আরও ছোট করে বয় কাট দিয়েছল সে। সব মেয়েরাই নতুন জীবন শুরু করার আগে প্রাথমিক স্টেপ হিসেবে চুল কাটে। নতুন জীবন শুরু করার সাথে চুল কাটার পেছনে কী সায়ন্স আছে, তা বোধহয় কেবল মেয়েরাই জানে!
লাড়া মাথা নেড়ে জানাল, “ইয়েস, শি ইজ অ্যালাইভ।”
কথাটা শোনামাত্রইরিচার্ডের বুক চিরে যেন ছোট্ট একটা ছিদ্র তৈরি হলো, আর সেই ছিদ্র দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বয়ে বেড়ানো ভার নিমেষেই উধাও হয়ে গেল!
“দেন এক্সপ্লেইন ইট।”
“ওয়েট আ সেকেন্ড।”
লাড়া ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ বের করে স্ক্রিনটা রিচার্ডের দিকে ঘুরিয়ে ধরল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল সেদিনের সেই ডেথ সার্টিফিকেট, যেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা এলিজাবেথের নাম।
রিচার্ড কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলল, “এটা আমি আগেই দেখেছি। এর পরেরটুকু বলুন।”
লাড়া মাথা নেড়ে আরেকটা ভিডিও ফুটেজ প্লে করল। সেখানে দেখা যাচ্ছে সেদিন রাতে হাসপাতাল থেকে এলিজাবেথকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন ইমান ওয়াসিম আর মিসেস নীহারিকা।
রিচার্ড অসন্তোষের ‘চ’ শব্দ করে, “দেখেছি এগুলোও।”
রিচার্ডের মতো এমন একজন গম্ভীর ও ধীরস্থির মানুষের মধ্যে এত অধৈর্যতা দেখে লাড়া ঠোঁট বাঁকিয়ে একটু হাসল। তারপর বলল,
“এতটুকু দেখেছেন ঠিকই… কিন্তু এর পরের অংশটুকু তো এখনও দেখেননি, মি. রিচার্ড।”
লাড়া স্ক্রিনে অন্য একটি ভিডিও ক্লিপ চালু করল। এটি একটি সিসিটিভি ফুটেজ, যেখানে মর্গের পেছনের দিকটা দেখা যাচ্ছে। সেখানে দেখা গেল, টম বয় চেহারার একটি মেয়ে অবিকল এলিজাবেথের মতো দেখতে একজনকে কাঁধে তুলে নিয়ে চুপিচুপি মর্গ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। আর এই কাজে তাকে সাহায্য করছে মর্গেরই এক পাহারাদার।
দৃশ্যটা দেখামাত্র শিউরে উঠল রিচার্ডের সমুদ্র-নীল চোখ জোড়া। রিচার্ডের চোখের ঝলসানো, থমথমে দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে লাড়া ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে সবটা খোলসা করতে শুরু করল,
“সেদিন মেট্রো দুর্ঘটনায় প্রায় সবাই মারা গিয়েছিল। কেবল অলৌকিকভাবে বেঁচে যান আপনার স্ত্রী এলিজাবেথ। ইয়েস, শি ইজ সো লাকি! দুর্ঘটনার পর আশপাশের একটি হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় আহতদের। কিন্তু হাসপাতালটি তেমন বড় ছিল না। হঠাৎ একসাথে এত রোগী সামলাতে গিয়ে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ডাক্তার আর নার্সের তুলনায় রোগীর সংখ্যা ছিল দ্বিগুণ। অনেকেই তো কেবিন দূর, একটা বেডও পায়নি। তবে সৌভাগ্যক্রমে আপনার স্ত্রীর পরিবার একটা কেবিন পেয়ে যায়। মিসেস এলিজাবেথকে কেবিনে নেওয়ার পর তাঁর নাম রেজিস্টারে তোলা হয়, কিন্তু তখনও চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়নি। নার্সরা রোগীদের সামলাতে এতটাই হিমশিম খাচ্ছিল যে কারও দিকেই পর্যাপ্ত নজর দিতে পারছিল না।”
লাড়া একটু থেমে স্ক্রিনের দিকে ইঙ্গিত করে বলতে লাগল, ”
“ঠিক তখুনি মিসেস এলিজাবেথের কেবিনে গুলিবিদ্ধ এক রোগীকে নিয়ে আসা হয়। সে আর কেউ ছিল না… সে ছিল রোজাবেথ! রোজাবেথের বুকে গুলি লেগেছিল। একজন নার্স তার পালস চেক করে ধরে নেয় সে মৃত। কিন্তু রোজাবেথ তখনও বেঁচে ছিল! তার হৃৎস্পন্দন আর স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে প্রাথমিক পরীক্ষায় যে কারও তাকে মৃত মনে হওয়াই স্বাভাবিক। ইমান ওয়াসিম রোজাবেথকে সেই অবস্থায় দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে যান। তিনি কিছুতেই চাননি দুই বোন আর কখনো মুখোমুখি হোক। তাই এলিজাবেথের জ্ঞান ফেরার আগেই রাতের আঁধারে তাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন। আর যেহেতু রেজিস্টারে কেবল এলিজাবেথের নামই তোলা হয়েছিল এবং দুজন দেখতে হুবহু এক, পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুলবশত এলিজাবেথের নামেই ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করে দেয়।”
রিচার্ডের নিরেট ঠান্ডা চিবুকের দিকে তাকিয়ে লাড়া স্ক্রিনের মেয়েটির দিকে আঙুল নির্দেশ করল,
“ফুটেজের এই মেয়েটিকে দেখতে পাচ্ছেন? নাম সেলিনা। রোজাবেথের গার্ডিয়ান এঞ্জেল! সেই রাতে সে-ই রোজাবেথকে মর্গ থেকে বের করে বাঁচায় এবং পরবর্তীতে ওকে নিয়ে লন্ডনে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরিত হওয়ারও কোনো অফিশিয়াল রেকর্ড নেই। তারা নিজেদের আসল পরিচয় পুরোপুরি ধুয়ে-মুছে ফেলেছে! চেনা মানুষকে খুঁজে বের করা সহজ, মি. রিচার্ড… কিন্তু যারা ছদ্মবেশ ধরে গা-ঢাকা দেয়, তাদের ধরা অত সহজ নয়। তবে কেসটা যেহেতু এখন আমার হাতে এসেছে, এর একদফা হেস্তনেস্ত আমি করেই ছাড়ব!”
কাঙ্ক্ষিত স্থানে বইটি রেখে প্রেম মল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরই হঠাৎ তার মনে পড়ে সে তার ওয়ালেটটা সেখানেই ফেলে এসেছে। ওয়ালেট নেওয়ার উদ্দেশ্যে আবারও মলের দিকে পা বাড়াল প্রেম। গেইট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার মুহুর্তে আচমকা তার পাশ দিয়ে হেঁটে গেল লাড়া। লাড়া শুধু চুলই ছাঁটেনি, বরং নিজের পুরো লুকটাই আমূল বদলে ফেলেছে। ফলে প্রথম দর্শনে প্রেম তাকে একেবারেই চিনতে পারেনি। কিন্তু লাড়া তাকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে কয়েক কদম এগিয়ে যেতেই প্রেমের টনক নড়ল।
Born to be villains part 40
সে চমকে উঠে ঝটপট পেছনে ঘুরে তাকাল। লাড়া তাকে এভাবে দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে চলে গেল? বিষয়টি মনে মনে তলিয়ে দেখার আগেই লাড়াড পিছু ছুটল প্রেম। কিন্তু লাড়া ততক্ষণে বাইক স্টার্ট দিয়ে ফেলেছে৷ তবে প্রেমও তো দমার পাত্র নয়। সে ওয়ালেট ফেলেই সঙ্গে সঙ্গে নিজের বাইকে সওয়ার হয়ে লাড়ার বাইকের পিছু ছুটল।
