Home তুমি এলে বসন্ত নামে তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩৩

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩৩

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩৩
রিমঝিম বৃষ্টি

ভোরে উঠে প্রাইভেট পড়ার মজাই অন্যরকম। পুরো রাস্তা ফাঁকা থাকে, চারিপাশে কোলাহল মুক্ত যেনো। এইসময় বান্ধবী পাশে থাকলে আর কি লাগে। এই ধরুন প্রাইভেট শেষ করে একটু চায়ের আড্ডা দেওয়া গেলো বা ধরুন বান্ধবীর হাতখানা ধরে ফাঁকা রাস্তায় একটু হাটাহাটি করা কিন্তু সাবাহ্’র সব প্ল্যানই যেনো ভেস্তে দিলো, আজ তার একটা বান্ধবীও এলো না এসেছে ছাদ কিন্তু ছেলের সাথে যদি এমন ঘুরপাক খায় তাহলে বাড়ি গিয়ে পিঠে মাইর ছাড়া আর কিছুই থাকবে না তার কপালে। পাশেই এক খোলা মাঠে গিয়ে বসে পড়লো। আজও সে বোরকা পড়েনি পরনে এক লং ড্রেস সাদা রঙের।

চারিপাশে তেমন লোকজনও নেই, আজ বোধহয় বেশিই তাড়াতাড়ি ছুটি দিয়েছে এখনও পুরো এক ঘন্টা তাকে গ্যাফ দিয়ে আরেকটা কোচিং এ যেতে হবে কিন্তু এই এক ঘন্টা সে করবে টা কি? ব্যাগটা পাশে রেখে সেখান থেকে একটা বই বের করলো পড়া জন্য নয় উপভোগ করার জন্য। এটা তার অবসরে, সময় কাটানোর সঙ্গী লাভ স্টোরি বুক। সারাক্ষণ প্রেমে ডুব দিয়ে থাকে যে সে, এর পুরো টার জন্যই দোষী বোধহয় এইসব বইগুলো । তার বাবা তাকে যা টাকা দেয় বাঁচিয়ে সেখান থেকে এসব কিনে। আশেপাশে নজর বুলিয়ে দেখলো মনে হলো তাকে কেউ দেখছে কিন্তু কেউ নেই পুরোই ফাঁকা। কাউকে দেখতে না পেয়ে ঘাসের ওপর মাথা রেখে শুইয়ে পড়লো। বইটা খুলে পড়তে শুধু করলো। কয়েক সেকেন্ড বাদেই তার মাথায় যেনো চাপলো ভূত। রাগে বইটা মুখের পর রেখে আফসোসের গলায় বলে উঠলো,

” ইভান ভাই বুঝেন না কেন উফফ..!”
তারপর ফের কয়েক সেকেন্ড চুপ তার একটু পরেই আবার গুনগুন করে গাইতে শুরু করলো,
” বুকের মাঝে চিন চিন করে
জানো না কি এ মন পুড়ে
এভাবে দূরে থেকো না..
এতটুকু বলেই থামলো আর হুট করেই হঠাৎ খুব কাছ থেকে ভেসে এলো এক চেনা কন্ঠস্বর।
তোমার মাঝে ডুবি ভাসি
নিজের থেকে আরও বেশি
ভালোবাসি কেন বোঝো না..!”
সাবাহ্ চমকালো মুখের সামনে থেকে বই টা সরাতেই পাশে ফিরে দেখতে পেলো ইভানকে। ইভানও পাশে শুইয়ে আছে দু’হাত মাথার নিচে রেখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সাবাহ্ বই দিয়ে নিজের নাক অব্দি ঢেকে বললো,
” আপনি এখানে কী করছেন..? ”
ইভান সোজা আকাশের দিকে হলো। মেঘে ভাসা নীল আকাশকে দেখে বললো,
” বিড়ি টানার চেয়ে সুর টানা ভালো। এই পথ দিয়েই যাচ্ছিলাম দেখলাম এক ভিখারিনি গান ধরেছে তাই সাথে আমিও ধরলাম একটু..?”
সাবাহ্ পাশ ফিরে দেখলো তার কাছেই একটা সাদা গোলাপের বুকে রাখা তা দেখে বললো,

” একেই তো ভিখারী বললেন আবার ফুল দিচ্ছেন যে..?”
” ফুলগুলো ভিখারীনিকে দিতেই এলাম। ওয়েট! ওয়েট! ওয়েট! আবার ভাবিস না প্রেমে পড়েছি। ফুলগুলো মেয়ের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছিলো তাই ভাবলাম নিয়ে আসি। সকালে না খেয়ে এসেছিস শুনলাম..?”
সাবাহ্ হাতের বই টা দিয়ে ইভানের কাঁধে বারি মেরে বললো,
” আপনার পেট খারাপ হওয়া উচিত ছিলো, এতগুলো মাছ খেলেন কীভাবে..!”
ইভান হেসে উঠলো সাবাহ্’র হাত থেকে বইটা কেড়ে নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললো,
” তোর বাপ অফিসে গিয়ে কী দেমাগ দেখায় জানিস রাগ হলেই ফাইল ছুঁড়ে মারে সাংঘাতিক বাপ তোর। ওনাকে যে কেই শশুর বানাবে কে জানে তা..?”
” বাই এনি চান্স, আপনি কি এখন থেকেই আমার বাপকে শশুর ভাবছেন বাহ্ এত ফাস্ট..! ”
ইভান জবাব দিলো না। বইটা উল্টেপাল্টে দেখে বললো,
” এই জন্য মাথায় প্রেম ঘুরে তোর এইসব কি বই পড়িস তুই লাভ স্টোরি বুক ! যা দিনকাল পড়ছে আশেপাশের রংতামাশা দেখতে দেখতেই দিন ফুরোয় আজকাল মহিলাদের আর তুই কি এসব নকল, কাল্পনিক অস্তিত্বের প্রেমলীলা পড়িস..! ”

” এসব রংতামাশা দেখা মানেই হাজারটা দুশ্চিন্তা ভর করা তার চেয়ে কাল্পনিকদের নিয়ে সুখী সুখী চিন্তা ভর করা ভালো এতে আমার শরীর আর মন দুটোই অন্তত ভালো থাকবে..!”
ইভান সাবাহ্’র কথায় কপাল কুঁচকালো। ঘাসের ওপর হাত বুলিয়ে বললো,
” এখানে না শুইয়ে থাকায় ভালো কই থেকে কি পোকা উঠে আসবে গায়ে চল উঠি..?”
” এসব পোকারা কিন্তু একদম সঠিক জায়গাগুলো চিনে, ইভান ভাই আপনি কী ভয় পাচ্ছেন..?”
ইভান ঘাড় বাকিয়ে সাবাহ্’র দিকে তাকিয়ে তার কান টেনে ছেড়ে দিলো আর বললো,
” পোকা মেরে তাকে চ্যাপ্টা বানিয়ে তোর দঁড়ির মতো চুলে ক্লিপ মেরে দিবো তখন বুঝিস.!”
সাবাহ্ হেসে উঠলো কয়েক সেকেন্ড দু’জনেই নীরব রইলো।
” আপনি কি বিড়ি খান..!”
” সম্মান দিয়ে কথা বল সাবাহ্। ওটা বিড়ি না সিগারেট..? ”
সাবাহ্ মুখ কুঁচকে বললো,

” ওই একি হলো বলেন ওটা কী খুব পছন্দ আপনার..?”
” এক্কেবারে পরাণ..!”
” কিন্তু ওটা তো আপনাকে ভেতর থেকে শেষ করছে! ”
ইভান ভাবান্তর হয়ে বললো,
” তাতে আমার কী? প্রেমের চেয়ে ভালো আছে তো..!”
সাবাহ্ উঠে বসলো। নিজের চুলগুলো ঝাড়তে ঝাড়তে বললো,
” আপনি কী জানেন প্রেমের আরেক নাম মাদকাসক্তি.? ”
ইভান ভ্রু কুঁচকে তাকালো তা দেখে সাবাহ্ ইভানের দিকে ঝুঁকে এসে বললো,
” তাহলে তো আপনার মরণ বিড়িও এর মাঝে পড়ে। ওই একই ব্যাপার বিড়িকে ছেড়ে আমাকে ভালোবাসুন..!”
ইভান বিরক্ত হয়ে উঠে পড়লো তা দেখে সাবাহ্ ইভানের গেঞ্জি টানতে গিয়ে প্যান্ট টেনে ধরলে ইভান সাবাহ্’র হাত সরিয়ে বললো,

” হেট কানী..! আমার ইজ্জত পাম্পচার করবি নাকি.?”
” কোথায় যাচ্ছেন..?”
ইভান সামনে হাটতে হাটতে বললো,
” ভার্সিটি..! ”
সাবাহ্ ফুল আর ব্যাগ নিয়ে ইভানের পিছনে দৌড় লাগালো আর বললো,
” আমিও যাবো এখনো এক ঘন্টা আমি ফ্রি, টাইম পার করবো কিভাবে আমায় নিয়ে চলুন..!”
” পারবো না..! ”
এই নিয়ে দু’জন যেনো খোলা মাঠের নিচে ছোটাছুটি করতে লাগালো। ইভান নিবে না তাকে কিন্তু সেও পিছু ছাড়ার মেয়ে নয়, ইভানকে পুরো মাঠ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

শিকদার বাড়ি—————
” হ্যালো কে বলছেন..?”
” তোর স্যান্ডু বর! তোর ভার্সিটিতে শুনলাম ফাইনাল পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিলাপ চলছে তুই খোঁজ রাখিস নি কেনো..?”
তুবা চোখ দুটো পিটপিট করে তাকালো। এলেমেলো চুলগুলো কানের পাশে সুন্দর করে গুজে আস্তে করে বললো,
” না মানে টাকা লাগবে তো, আমার কাছে এখন নেই..! ”
ফোনের ওপাশ থেকে জিসান দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বললো,
” রেডি হয়ে নে আমি নিতে আসছি, এখনি ভার্সিটি যাবি..!”,

বলেই ফোন টা কেটে দিলো তুবা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বেড থেকে নেমে টেবিল থেকে দরকারী ডকুমেন্টসগুলো ব্যাগে নিয়ে এগিয়ে গেলো আলমারির কাছে। ভুলবশত নিজের সাইড না খুলে খুললো জিসানের সাইড। সামনে তাকিয়ে জিসানের পোশাক দেখে আলমারি আটকাতে গিয়েও আটকালো না, দেখলো এক সাইডে একটা ফ্রেমে ছবি রাখা কাপড়চোপড় মাঝে যা ঝাপসা ভাবে দেখতে পেলো তুবা। জিসানকে না জানিয়ে তার জিনিসে হাত দিতে না চাইলেও কৌতূহল চেপে রাখতে পারলো না সে চট করে ছবিটা বের করে সামনে ধরলো। তা দেখে তার ঠোঁটের কোণায় পানসে হাসি ফুটলো। ছবিতে ফারিশা আর ইয়াশের ছোট বেলার ছবি। ইয়াশের বয়স হবে হয়তো দুই বা আড়াই বছর তখন, ফারিশা হেসে হেসে ছেলেকে নিয়ে একাই কথা বলছে যেনো আর ইয়াশ ঠোঁট প্রশস্ত করে হাসছে শুধু। ছবিটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে লুকিয়ে তোলা। তুবা ছবিটা আবার সেই জায়গায় রেখে আলমারির আটকে দিলো। তুবা আর কিছু ভাবলো না দ্রুত রেডি হয়ে নিচে চলে গেলো।
নিচে নামতেই দেখা হলো শাশুড়ীর সাথে জাহানার আজ ছুটি নিয়েছে তার শরীর টা ভালো নয় তাই। জাহানারা লিভিং রুমে বসে আদা চা খাচ্ছিলো তুবাকে নামতে দেখে জিজ্ঞেস করলো,

” কোথাও যাচ্ছো তুবা..?”
” ভার্সিটিতে যাচ্ছি ফাইনাল পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিলাপ হচ্ছে শুনলাম । আপনার ছেলে নিতে আসতিছে..?”
জাহানারা চায়ের কাপ টা টেবিলে রেখে উঠতে উঠতে বললো,
” কত টাকা লাগতিছে বলো আমি দিচ্ছি..?”
তুবা মৃদু হেসে বললো,
” না না আম্মু লাগবে না, আছে আমার কাছে..?”
জাহানারা শুনলো না কয়েক মিনিটে রুম গিয়ে বেরিয়ে আসলো হাতে গুণে প্রায় বারো হাজার টাকা তুবার সামনে ধরে বললো,
” এখানে বারো হাজার টাকা আছে নিয়ে যাও..! ”
তুবা শাশুড়ির কথা শুনে কিছুটা অবাক হলো এত টাকা নিয়ে সে কী করবে। তবুও শাশুড়ির জোরাজুরিতে পড়ে টাকা নিলো। বাড়ি থেকে বের হতেই দেখলো জিসান গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তুবা ভেতরে বসতেই রওনা হলো। জিসান গাড়ি চালাতে চালাতে বললো,
” আম্মুকে বলে আসছিস তো..?”
” বলে ভুল করেছি আম্মু জোর করে বারো হাজার টাকা আরও ধরিয়ে দিলো..!”
জিসান শব্দ করে হেসে বললো,
” নে আমার টাকা বেঁচে গেলো, চল ভার্সিটির কাজ মিটিয়ে ঘুরো আসি একটু ভালো লাগছে না। সারাদিন কাজ করতে করতে শরীরটা ম্যাচম্যাচ করছে..!”
তুবা কথা বললো না এক নজর আঁড়চোখে জিসানের দিকে তাকালো শুধু। কয়েক সেকেন্ড দম ধরে থেকে তুবা শুধালো,

” ভালো আছিস তুই..?”
জিসান স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে বললো,
” এ আবার কেমন প্রশ্ন, মনে হচ্ছে তুই আমাকে কয়কাল পড়ে দেখলি..! ”
” না অনাকাঙ্ক্ষিত জালে ফেঁসেছিস তো তাই বললাম..!”
জিসান ক্ষীণ হেসে উঠলো আর বললো,
” উম.. কথা খারাপ বলিস নি তবে আমার মনে হয় জীবনে কখনো কখনো অপূর্ণতার স্বাদ নিয়েই থাকতে হয়। সবারই তো আর মনের আশা পূরণ হয় না। কত মানুষই কত ইচ্ছে, শখ করে থাকে তা কী পূরণ করতে পারে নাকি। অপূর্ণ রইলে সেই জিনিসের দাম সবসময় একই থাকে সবার কাছে আমিও সেই দলেরই একজন হলাম না হয়..!”
” বাবা বললো বাসায় আজ ওই ছেলেটা এসেছিলো..? ”
জিসান ভ্রু কুঁচকে তাকালো আর বললো,

” কোন ছেলে..?”
” যার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো। আবার এসেছে আমার সাথে দেখা করার জন্য ভেবেছে আমার বিয়ে হয়নি সেদিন..?”
জিসান গাড়ি টা স্লো করে বললো,
” তো তোর বাবা কী বলেছে..? ”
” মানা তো করে দিয়েছে আর না আসতে কিন্তু বলেছে কী আমি গেলে আবার আসবে নাকি.! ”
জিসান সূক্ষ্ম হেসে বললো,
” আসুক ওর পা ভেঙে আমি নিজ হাতে সেলাই করবো..!”
তুবা মুখে হাত দিয়ে হেসে উঠলো আর বললো,
” এতই যখন ভালোবাসে আমায় তাহলে পালিয়ে আরেক জনকে বিয়ে করলো কেনো বুঝলাম না..! ”
” মনে হচ্ছে তোর আফসোস হচ্ছে..?”
জিসানের কথা শুনে তাকে আরেকটু নাড়িয়ে নিতে তুবা কিছুটা ভাবান্তর হয়ে বললো,
” তা নয়তো কী স্বামীর ভালোবাসা তো পাইতাম একটু..!”
জিসান তা শুনে কথা বললো না সোজা ঘুরে গাড়ি চালাতে শুরু করলো তা দেখে তুবাও আর কিছু বললো না ।

বিকেল হতেই ইরাদ ছেলেকে নিয়ে গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ফারিশার জন্য। ফারিশা এখনো বের হয় নি। ইরাদের পরনে সাদা পাঞ্জাবি তার হাতা দুটো গোটানো, চোখে কালো চশাম আর ইয়াশের পরনে সাদা শার্ট আর জিন্সের ফুল প্যান্ট আর চোখে চশমা। দু’জন কে দেখে যে কেউ অনায়াসে বলে দিতে পারবে তারা বাপ-ছেলে । তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দারোয়ান এগিয়ে এসে বললো,
” কোথাও যাচ্ছেন বুঝি স্যার, আমাদের ছোট স্যারকে কী সুন্দর লাগতিছে..!”
ইরাদ মৃদু হেসে বললো,
” হে যাচ্ছি একটু ঘুরতে..!”
ইয়াশ পাশ থেকে বললো,
” তুমিও চলো আমাদেল সাথে যাবে..?”
দারোয়ান হেসে বললো,
” না স্যার আপনিই যান..! “,
বলেই হাসতে হাসতে নিজের জায়গায় চলে গেলো। ইরাদ সামনে তাকাতেই দেখতে পেলো ফারিশাকে। ফারিশার পরনে লাল জামদানি শাড়ি, আঁচল টা সারিয়ে পড়েছে। চুলটা সুন্দর করে খোপা করা, সামান্য মেচিং করে একটু সাজ, দু’হাত ভর্তি কাঁচের লাল রেশমি চুরি আর সাথে সাইড ব্যাগ । ইরাদ মুগ্ধ নয়নে কেবল চেয়ে রইলো। ফারিশা এগিয়ে এসে বললো,

” চলুন..!”
ইরাদের ধ্যান ভাঙতেই ইরাদ স্নিগ্ধ কন্ঠে বললো,
” তোমাকে আজ ভীষণ সুন্দর লাগছে ফারিশা..! ”
” তোমাকে সুনদল লাগচে ফালিশা..!”
ইয়াশের কথা শুনে ইরাদ আর ফারিশা হেসে উঠলো। ফারিশা হাসতে হাসতে ছেলের গাল টেনে বললো,
” দুষ্ট একটা..!”
তারপর তিনজনই গাড়িতে বসতেই ফারিশা বললো,
” কোথায় যাবেন..?”
” চলো আগে আমার বউয়ের জন্য একগুচ্ছ ফুল কিনি উমম.. তারপর আমরা ফুসকা খাইতে যায় তোমার পছন্দ তো তাই না তারপর চা খাবো তারপর ঘোরাঘুরি..! ”
” আল চকলেত..?”
ইয়াশের কথা শুনে ইরাদ স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে বললো,
” অবশ্যই চকলেট না কিনলে কী চলে..? ”
” বাবা আমি মেলায় যাবো আল নতুন গালি কিনবো দিয়াল মতো..?”
ফারিশা পাশ থেকে হাসতে হাসতে বললো,
” যান এবার মেলায় নিয়ে! ”
” মেলা না থাকলেও পার্ক আছে তো সমস্যা নেই..! ”
ইরাদের কথা শুনে ফারিশা শুধু হাসলো। এর মাঝেই ইরাদের ফোনে তিহানের ফোন এলো। ফোনটা রিসিভ করতেই তিহান ওপাশ থেকে বলে উঠলো,

” কী ক্যাপ্টেন ছুটি তো প্রায় শেষের দিকে বউকে রেখে আসার জন্য প্রস্তুত হন..?”
” তুই বিয়ে কর বুঝবি কেমন লাগে..?”
তিহান হেসে বললো,
” তা তখন বুঝে নিবো কিন্তু আমার কাচ্চি কই ক্যাপ্টেন..?”
ইরাদ কিছুটা ভেবে ভ্রু কুঁচকে বললো,
” কাল আয় আমার বাড়িতে খাওয়াবো কাচ্চি..?”
” সিরিয়াসলি কাল আসবো.?”
” হু..!”
তিহান উৎফুল্ল হয়ে বললো,

” তার মানে ভাবী কে বাড়িতে নিয়ে গেছেন , আপনার পোলাকে রেডি করে রাইখেন কাল গিয়ে ওকেই আগে দেখবো কিউট একটা..! ”
” আচ্ছা পরে কথা হবে তাহলে আমি একটু বাইরে আছি..?”
” আচ্ছা আপনার বাড়ির লোকেশন পাঠিয়ে দিয়েন আমি তো যায় নি কখনো..!”
ইরাদ সূক্ষ্ম হেসে বললো,
” আচ্ছা..!”,
বলেই কেটে দিলো ফোন। ইরাদকে ফোন টা রাখতে দেখে ফারিশা বললো,
” কে আসবে..?”
” আমার বন্ধু। ও একটা হেল্প করছিলো তো তার জন্য সে নাকি তোমার হাতের কাচ্চি রান্না খেতে চায়..!”
ফারিশা মৃদু হেসে বললো,
” তাই কে সে আর কী হেল্প করলো আপনার শুনি..!”
ইরাদ ঘাড় বাকিয়ে ফারিশার দিকে তাকিয়ে বললো,
” সিক্রেট..! ”
ইরাদ বললো না জন্য ফারিশাও আর জিজ্ঞেস করলো না।

আয়েশা চৌধুরী রুমের মধ্যে একটু হাটাহাটি করছিলো সেই দুপুরে খাওয়ার পর থেকে শুধু শুইয়েই আছে। হাটাহাটি করতে করতে হঠাৎ আলমারি খুলে দেখতে লাগলেই তার চোখ আটকালো সেই গয়নার বাক্সের ওপর। যে বাক্স আজ প্রায় পনেরো-বিশ দিনের মতো গায়েব তা সামনেই আছে তা দেখে আয়েশা বেশ অবাক হলো। দ্রুত বাক্স টা বের করে বিছানায় গিয়ে বসলো। বাক্স টা খুলতেই ভেতরে দেখলো সব যেভাবে রাখা ছিলো ঠিক সেভাবেই রয়েছে। আয়েশা গলা উঁচিয়ে ডাকলে তার দুই বউমাকে।
” ইরাদের মা একবার রুমে আসো তো, তমার মা আছো কি..?”
দু’জনেই সব কাজকর্ম শেষ করে বসার রুমে একটু টিভি দেখতে বসেছিলো শাশুড়ীর ডাকে দু’জনেই উঠে তার রুমে গেলো।

” কি হয়েছে মা..? ”
ইভা কথাটা বলতে বলতে রুমে ঢুকতেই দেখলো সেই বাক্স টা তা দেখে এগিয়ে এসো বললো,
” কই পাইলেন আপনি..? ”
” সেটাই ভাবছি কোনো চালাকচতুর এই কাজ করছে। সুন্দর করে জায়গার টা জায়গায় রাইখা গেছে..!”
সুমানা পাশ থেকে বললো,
” জায়গার টা জায়গাই ছিলো দেখেন গা আপনিই ভুলে গেছিলেন..?”
” হো তোমরা আমারে পাগল ভাবো যে। কে এই কাজ করছে তা তো আমিই খুঁইজা বের করবো নে। যাক ভালোই হয়ছে তমার মা এদিকে আসো তো..? ”
সুমানা এগিয়ে যেতেই আয়েশা বাক্স থেকে এক সীতাহার বের করে তা সামনে ধরে বললো,
” নাও তো এটা আমার তমার জন্য..? ”
সুমানা এক বার ইভার দিকে তাকাতেই ইভা পাশ থেকে বললো,
” নাও মা দিচ্ছে..! ”
সুমানা হার টা হাতে নিয়ে বললো,

” এটা তো আপনার জিনিস মা..?”
” আমি আমার নাতনিকে দিছি তোমার এতো কথা কেন? আমার ছোট নাতনি সাবাহ্’র বিয়েতেও দিবো নে.? আরও ইভানের বউয়ের লাইগাও রাখছি.?”
সুমানা তার শাশুড়ির পানে তাকিয়ে বললো,
” তা তোমার ইরাদের বউ কী দোষ করলো শুনি ওকেও দাও একটা..!”
আয়েশা এক নজর ইভার দিকে তাকিয়ে তার বাক্স থেকে একটা মোটা ১০ আনার স্বর্ণের চেইন বের করে বললো,
” বড় বউমা এইডা তোমার বউমারে দিও আর তোমার টা নিয়ে নিও। ওটা তোমার বউকালের জিনিস..! ”
ইভা তা নিয়ে বললো,

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩২

” মা এখন বয়স হয়ে যাচ্ছে এসব সোনা পড়ে কী করবো আর..?”
” শোনো তুমি ছেলের মা, তোমার সবসময় একটু শক্তপোক্ত হয়ে থাকতে হবে। সামান্য গলাটুকুও খালি রাখবা না নয়তো ইভানের জন্য মেয়ে দেখতে গেলে বলবো ওই মায়েরা গরীব মনে হয় তাই কইবো..!”

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here