আপনাতেই আমি সিজন ২ পর্ব ৬২
ইশিকা ইসলাম ইশা
চারদিকে পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত চারপাশ। ভোরের সিগ্ধ বাতাসে আলাদা একটা ভালোলাগা কাজ করে। মনে হয় নীরব কোন শান্ত পরিবেশে প্রকৃতি বিলাস। রিদি ফজরের নামাজ আদায় করে তীরাকে দেখার উদ্দেশ্যে রুমে গিয়ে দেখল ,তীরা জেগে আছে। নামাজ আদায় করে তজবি গুনছে। তীরা রিদি কেl দেখে বিস্তর হেসে বলল,
“এত দ্রুত উঠেছিস কেন?”
রিদি মিষ্টি হেসে বলল,
“নামাজ আদায় করতে!!”
“নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়তি।এখনো অনেক সময় আছে।”
“তুমিও তো জেগে আছো!!”
তীরা হাসল।ঘুম আজকাল তার চোখে ধরা দেয় না।ঘুম ও আজ বুঝিয়ে দেয় সেও আমাকে একা করে দিয়েছে।তীরা রিদির হিজাবে মোড়ানো মুখানার দিকে বেশ কিছুক্ষণ বলল,
“রিদি!!”
“হুম!!”
“তোকে কিছু বলার আছে!”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“বলো না আম্মু কি বলবে!কিছু খেতে ইচ্ছে করছে?? আমি কিছু বানিয়ে দেব!!”
তীরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“না। এদিকে আয় !!আমার কাছে এসে বস।”
রিদি তীরার কাছে বসতেই তীরা রিদির হাত দুটো শক্ত করে ধরতে চেয়েও পারল না।শরীরের শক্তি একদম শেষ প্রান্তে এসে গেছে ।তীরা আলতো করে রিদির হাত ধরে বলল,
“আমাকে ঘৃনা করিস না রিদি।”
রিদি অবাক হয়ে বলল,
“এসব কি বলছ!তোমাকে কেন………”
“আমাকে বলতে দে।আজ তোকে কিছু সত্য কথা বলব। কথাগুলো শোনার পর হয়তো তুই আমাকে ঘৃনা করবি। আমি কতোবার যে বলতে চেয়েছি কিন্তু পারিনি।কারন আমি চাইনি তুই ও আমাকে ঘৃনা কর………………………….”
সকাল প্রায় ৭ টা বেজে ১০ মিনিট।
রিদি তীরা কে হুইল চেয়ারে বসিয়ে বাগানে এনেছে।
মূলত তীরার মাইন্ড ফ্রেশ করার জন্য সকালের আবহাওয়া ই ভালো।ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশ।রাতে বৃষ্টি হওয়াই আবহাওয়া বেশ সুন্দর।তাই রিদি তীরাকে বাগানে নিয়ে এসেছে। বিশাল এই চৌধুরী বাড়িতে বাগানটাও বিশাল বড়।সবুজ ঘাসের উপর বৃষ্টির ফোঁটা যেন ভোরের শিশির বিন্দুর মতো জমে আছে। আর রিদি খালি পায়ে সেই ঘাসের উপর হাঁটছে।নরম ঘাসে পায়ের তলায় সুরসুরি লাগতেই রিদি খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো।তীরা মুগ্ধ হয়ে সেই হাসির পানে চেয়ে আছে।রিদির দিকে তাকিয়ে থেকেই তীরা বিরবির করে বলল,
মেয়েটা কোন মাটি দিয়ে তৈরি!!এতো কিছু জানার পরেও তার চোখে নিজের জন্য বিন্দুমাত্র ঘৃনা দেখল না।তীরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আজকাল সে হাঁপিয়ে উঠে। মস্তিষ্ক শূন্য লাগে।এই শরীর এই রুপ নিয়ে কতোই না বড়াই করেছে।আর আজ এই শরীর,রুপ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।তীরা ক্লান্ত নিঃশ্বাস ফেলে বিরবির করে বলল,
“তোর সময় শেষ তীরা।তুই শেষ!তোর অহংকার শেষ।এরপর রিদির দিকে তাকিয়ে মলিন মুখে বলল! আচ্ছা!!এই ফুলটা আমার জীবনে আগে এলো না কেন?কেন এই ফুলটাকে আমি কাঁটা ভেবে উপরে ফেলতে চেয়েছি।হে আল্লাহ!! বুঝ যখন দিলেন একটু আগে কেন দিলেন না!!আমার তো এখন খুব বাঁচতে ইচ্ছে করছে।ঐ মিষ্টি মেয়েটার মা হয়ে বাঁচতে ইচ্ছে করছে।”
“আম্মু!!!!”
তীরা রিদির কথায় উওর করল,
“হুম বল!!”
” তুমিও পা দাও!দেখবে ঘাস তোমার পায়ের তালুতে সুরসুরি দিবে।”
রিদির বাচ্চামো কথায় তীরা হাসল।সম্মতি দিয়ে পা নিচে রাখতেই শিশির বিন্দু ছুয়ে গেল পা জোড়ায়।
“মজা না আম্মু!!”
“বেশ ভালো লাগছে!খুব মজজজজা!!”
“খুব মজ্জজজজা!!”
তীরা রিদি দুইজনেই হেসে উঠলো।তীরা নিজে হাটার চেষ্টা করে একটু একটু করে হাঁটতে লাগল।রিদি একটু দূরে একটা খরগোশের সাথে খুনসুটি করছে।তীরা হাঁটার মাঝেই কয়েককদম হেটেই হাঁপিয়ে উঠল।মাথা ঘুরে উঠতেই ব্যালেন্স রাখতে না পেরে পড়ে যেতে নিলেই কেউ তীরাকে ধরে ফেলে।চেয়ারে বসিয়ে মুখের সামনে পানি ধরতেই তীরা তাকালো তার দিকে।আর তাকাতেই হতভম্ব হয়ে তাকিয়েই রইল।তার কাছে কল্পনা লাগছে এটা। তীব্র!!! তীব্র!!তার সামনে তীব্র বসে আছে!! ততক্ষণে রিদিও দৌড়ে এসেছে ওদের সামনে। তীব্র কে দেখে সেও অবাক। তীব্র সারভেন্টদের উদ্দেশ্য চেঁচিয়ে উঠলো,
“What the hell is this! ধ্যান কোথায় থাকে আপনাদের? এখুনি যদি পড়ে যেত! হ্যাঁ!!কি করতে রাখা হয়েছে আপনাদের এখানে!!”
সার্ভেন্ট,নার্স ভয়ে কুঁকড়ে আছে।তীব্রর হুংকারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না,
“আই আকস ইউ সামথিংং ড্যামিট!…….”
রিদি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল তীব্রর দিকে।তবে এমন হুংকারে সে নিজেও কিছুটা চমকে উঠল। পরক্ষনেই কিছু একটা ভেবে তীরার দিকে এগিয়ে জোরে জোরে কান্নার সুরে বলল,
“আম্মুর শরীর খারাপ করছে তীব্র!আম্মুকে নিয়ে চলুন এখানে থেকে। তোমার কিছু হবে না আম্মু!আমরা আছি তো!!”
রিদির কথায় তীরা হতভম্ব হয়ে তাকাতেই রিদি চোখ টিপ মারল।তীরা কিছু বলার আগেই তীব্র ওকে কোলে তুলে হুইল চেয়ারে বসিয়ে দিল।তীরা আবারো কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল। তীব্র তার কেয়ার করছে এটা তার বিশ্বাস হচ্ছে না।
নাজমা চৌধুরী সহ সবাই তীব্রর হুংকারে বেরিয়ে এসেছে ইতিমধ্যে। তীরাকে নিয়ে তীব্রর চিন্তিত মুখখানা দেখে তারাও অবাক হয়ে চেয়ে আছে।মিহি ছুটে এসে তীরার উদ্দেশ্য বলল বলল,
“আর ইউ ওকে ফুপি??”
তীরার মিহির কথায় কোন ধ্যান নেই।সে এখনো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তীব্রর দিকে।যে ছেলে তার সাথে দেখা হলেও মুখ ফিরিয়ে নেয় সে আজ তার জন্য চিন্তা করছে!তার চিন্তা থেকেই কি এদের বকছে!তার চিন্তা থেকেই কি তবে তার কেয়ার করছে!!তীরার ভাবনার মাঝেই তীব্র তীরার হুইলচেয়ার ঠেলে বাসায় নিয়ে এসে মিহির উদ্দেশ্য বলল,
“ডক্টর মিহি আশা করছি আপনার পেসেন্টের আপনি যথেষ্ট খেয়াল রাখবেন!”
মিহি সম্মতি সুচক মাথা দোলাতেই তীব্র চলে যেতে নিলে রিদি হচকচিয়ে তাড়াহুড়ো করে করে,
“আরে আরে কোই যাচ্ছেন?আম্মু অসুস্থ আপনি আম্মুর সাথে থাকুন। দেখুন আম্মুকে আবার অসুস্থ লাগছে।আ……..”
“সাট আপ!যাস্ট সাট আপ!নাটক করছেন আমার সাথে!খবরদার! ফালতু নাটক যদি শুরু করেছেন তো!”
তীব্রর হুংকারে রিদি কেঁপে উঠে কিছু বলার আগেই তীব্র রেগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেই রিদি তীব্রর পিছু পিছু ছুটল।ওদের ছুটাছুটি দেখে তীরা মৃদু হাসল।আজ সে ভীষণ খুশি!তার নাড়িছেঁড়া ধন তার কেয়ার করেছে!মরার আগে শুধু একবার যদি মা বলে ডাকত!!
” তীব্র ভাইয়া তো খুব রেগে গেছে ফুপি!! রাগে যদি রিদিকে মারে!!আমি শুনেছি তীব্র ভাইয়ার রাগ ভয়ংকর! তাছাড়া সেদিন হসপিটালে…….”
মিহির কথায় তীরা কিছু বলার আগেই রুপ মলিন হেসে মিহির উদ্দেশ্য বলল,
“তীব্র চৌধুরী রাগ যেমন ভয়ংকর কুৎসিত! বৌয়ের জন্য তার ভালোবাসাও তেমনি ভয়ংকর সুন্দর মিহি!”
মিহি রুপের সুন্দরী মলিন মুখখানা দেখে বিরবির করল,
“আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য!! ভালবাসা রুপ দেখে হয় না”
“কি সমস্যা? ছাড়ছেন না কেন??”
তীব্রর কথায় রিদি আরো একটু শক্ত করে চেপে ধরলো তীব্র কে। তীব্র বিরক্ত হয়ে বলল,
“এভাবে সাপের মতো না পেঁচিয়ে সরেন।”
“উহু!!!”
“উহু!কিসের উহু!!সরেন…..”
“উহু!!”
“বালের উহু!”
“উহু বালের হয় না! উহু মানে সরব না।রিদি তীব্রর বুকে নাক মুখ ঘষে বলল।এমন কেন করছেন তীব্র! আপনি কেন আম্মুর সাথে কথা বলছেন না।মাফ করে দিন না প্লিজ!!”
তীব্র উওর করল না।আর না রিদিকে সরানোর চেষ্টা করল। শান্ত হয়ে পড়ে রইলো সেভাবে।রিদি তীব্রর নিশ্চুপতা দেখে রিদি তীব্রর বুক থেকে মুখ তুলে তাকালো ওর দিকে। এতক্ষণ তীব্র কে শক্ত করে জড়িয়ে মুখ চেপে ছিল প্রসস্থ বুকে যেন তীব্র রাগ করে চলে না যাই।অথচ সে জানে না ,”যাকে ছাড়া তীব্রর এক মূহুর্ত চলবে না, তাকে রেখে থাকা কখনোই তার দ্বারা সম্ভব না আর না তাকে রেখে কোথাও যাওয়া সম্ভব! রিদি তীব্রর নিশ্চুপতা দেখে মুখ তুলে বললো,
“প্লিজ তীব্র!!মাফ করে দিন না!”
তীব্র গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিদির কাঁদো কাঁদো মুখখানা দু হাতের তালুতে ধরে বলল,
“তোকে যে মেরে ফেলতে চেয়েছে তাকে আমি কিভাবে ক্ষমা করব বৌ !”
রিদি ফ্যালফ্যাল করে তাকালো।তীব্র রিদির তাকানো দেখে আলতো ভাবে মুখটা তুলে ঠোঁট ছোঁয়াল পুরো মুখে।রিদির মাথা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল বুকের মাঝে।রিদিও তীব্র কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে নিতে নিতে মুচকি হেসে বলল,
“আমি মাফ করে দিয়েছি তীব্র!তার শত অন্যায় ক্ষমা করে দিয়েছি।”
তীব্র শান্ত কন্ঠে বলল,
“জানতে চাইবেন না কেন?”
“উহু!!!জানি!!”
“তবুও!!”
“তীরা আম্মুর চাওয়াই কোন দোষের কিছু ছিল না তীব্র!ওনি চেয়েছে আপনি রুপ আপুকে বিয়ে করেন।রুপ আপু সুন্দর !ভীষণ সুন্দর।আপনাদের একসাথে মানায় বেশ।জানেন আমি প্রথম যেদিন রুপ আপুকে দেখেছিলাম!সেদিন আমি সত্যিই খুব অবাক হয়ে বলেছিলাম,”তুমি কি পরি”।বলেই সামান্য হাসল রিদি।তীরা আম্মুর ভুল সিদ্ধান্ত তার জীবনটা শেষ করেছে।তীরা আম্মু তখন মানতে নারাজ ছিল দোষটা তার। আর তিশা আম্মু কে শত্রু ভেবেই আমাকে…..
আর যদি বলেন আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল তো আমি বলব আল্লাহ যাকে দুনিয়াই বাঁচিয়ে রাখবে তাকে মেরে ফেলার সাধ্য কারো নেই।সে নিশ্চয়ই কোন মসিহা পাঠিয়েছিল আমাকে বাঁচাতে।”
তীব্র রিদির গলায় মুখ গুজতে গুজতে বলল,
“আমি আপনাকে হারাতে পারব না বৌ! তখন যদি আপনাকে হারিয়ে ফেলতাম!কিছু একটা হয়ে যেত!আমি!! আমি কি করতাম??”
“আপনি থাকতে আমার কিছুই হতো না তীব্র!আমার মনে হয় জানেন আপনি শুরু থেকেই আমার সঙ্গী হয়ে আছেন”
” সবটা জানেন বুঝি!!”
“জানি না!তবে মানি!! আমার সাথে আজ পর্যন্ত যা কিছুই ভালো হয়েছে তার পিছনের কারনটা কোন না কোন ভাবে আপনি!”
তীব্র রিদির গলায় মুখ ডুবিয়েই গলায় বাইট করে বলল,
“ট্রেইলার ভুলে গেছেন বুঝি!!কিভাবে বিয়ে করেছি?এরপর কিভাবে আপনার উপর …….
তীব্রর কথা শেষ না হতেই রিদি বলল,
“সেই অত্যাচার আর কষ্ট সহ্য করে যদি এমন অসীম ভালোবাসা পাওয়া যায় তবে আমি হাজার বার সেই অত্যাচার,কষ্ট সহ্য করতে প্রস্তুত। এমন হাজারো আঘাত মেনে নিয়ে যদি দিনশেষে আপনি আমার থাকেন,আমি সেই আঘাত হাসিমুখে মেনে নিতে প্রস্তুত।আমি প্রানটাও হাসিমুখে দিতে প্রস্তুত!! বিনিময়ে শুধু আপনার বুকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত থাকতে চাই।
আমার শুধু আপনাকে চাই।আমার গল্পের শেষ পৃষ্ঠা অবদি আপনাকে চাই !আমার আপনাকেই চাই প্রিয় রাক্ষস মশাই!”
দুপুরের সময়,
রিদি ঘুম ঘুম চোখ দুটো খুলে তাকাতেই নজরে এলো কাচে আবৃত ছাদ।যেখানে থেকে ঝরনার মত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এমন পরিবেশ শুধু তীব্র নিবাসেই সম্ভব।তারা এই মুহূর্তে তীব্র নিবাসেই আছে।কাচের তৈরি এই বাড়িটা খুব বড় না হলেও ভীষণ সুন্দর।রিদি আড়মোড়া ভেঙে উঠার জন্য নড়াচড়া করতেই বুঝল সে নড়তে পারছে না।কম্বলের নিচে তার শরীরটাকে শক্ত করে জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে তীব্র।রিদি তীব্র কে সরাতে গিয়েও পারল না। কপালে বিরক্তিকর ভাজ তুলে তীব্রর দিকে তাকাতেই কপালের ভাজ মিলে গেল। মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল তীব্রর ঘুমন্ত মুখখানা দেখে। ফর্সা চেহারায় রক্তিম আভা ফুটে উঠেছে।ঠিক মেয়েদের মতো লালচে ঠোঁটজোড়া।এই ঠোঁটজোড়া তাকে কতো অত্যাচার করে।হাহ!!রিদি এসব ভেবে লজ্জা পেয়ে মুচকি হাসল! আঙ্গুলের সাহায্যে তীব্রর কপালে পড়া চুল গুলো এলোমেলো করে আবারো ঠিক করে দিল।গালে আলতো করে হাত বুলিয়ে দুচোখের পাতায় ঠোঁট ছুঁইয়ে গুনগুনিয়ে উঠল,
“তোমার ঐ নীল নীল চোখ”
“তোমার ঐ লাল লাল ঠোঁট ”
” দেখে মরেছি”
“প্রেমে পড়েছি ”
“গোলাবি গালে টোল”
” আমায় করেছে পাগল ”
গানটা শেষ করেই টপাটপ দুটো চুমু বসিয়ে দেই তীব্রর গালে। চুমু দিয়ে নিজেই লজ্জায় কেমন লাল নীল হচ্ছে। ভাগ্যিস তীব্র জেগে নেই ।মনে মনে কথাটা বলে মুচকি হেসে বিরবির করে বলল,
“কিন্তু এই লাইনগুলো তো মেয়েদের জন্য ছিল!! টিভিতে দেখেছি শাবনূরের নীল নীল চোখ, লাল লাল ঠোঁট!হাহ…….কি কপাল রে তোর রিদু!!সুন্দরী মেয়েদের জন্য লাইনটা ছিল আর তুই কি না বরের জন্য গেয়ে নিলি।হু!!!! কিন্তু এতে আমার দোষ কোথায়? আমার বরটা এতো সুন্দর হবে কেন??
“বর সুন্দর হলে বেশি বেশি আদর করতে হয় বৌ!!”
রিদি হচকচিয়ে তাকালো তীব্রর দিকে।তীব্রর চোখজোড়া বন্ধ। কিন্তু ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি।রিদির তাকানোর মাঝেই তীব্র আচমকা চোখ খুলে তাকাতেই দুইজনের চোখাচোখি হলে রিদি লজ্জা পেয়ে তীব্রর দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিল।মনে মনে বলল,”তার মানে লোকটা জেগে ছিল।মানে তার গান আর…..ইসসস!!কি লজ্জা!!রিদি লজ্জা থেকে বাঁচতে ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতেই তীব্র রিদির বুকে নাক ,মুখ ঘষে পুরুষালী ঘুম ঘুম গলায় বলল,
“আপনি এতো আদুরে কেন বৌপাখি”
রিদি তীব্রর পুরুষালী ঘুম ঘুম কন্ঠ আর অবাধ্য ছোঁয়ায় কেঁপে উঠলো। লজ্জায় লাল আভা ফুটে উঠল তার মুখখানায়। ছটফটিয়ে উঠে ছাড়া পাওয়ার জন্য মুচরামুচরি করেও বিশেষ কোন লাভ হলো না। কোনদিন হয় ও না।আজ শুধু সে তীব্রর মতো শক্তিশালী না বলে!হাহ…
তীব্র রিদির ছটফটানি দেখে শক্ত করে ধরে মৃদু হেঁসে বলল,
“আপনাকে একটু আদর করি বৌ”
আপনাতেই আমি সিজন ২ পর্ব ৬১
রিদি দ্রুত বেগে মাথা এদিক ওদিক করল।যার অর্থ না। কিন্তু তীব্র সে কি আর শুনবে।তার এখন আদর করতে হবে মানে হবে। তীব্র বাঁকা হেসে বলল,
“আদরে নো কম্প্রোমাইজ!!এটা তীব্র চৌধুরীর লাইফের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুলস বৌপাখি ”
