Home Naar e Ishq Naar e Ishq part 9

Naar e Ishq part 9

Naar e Ishq part 9
তুরঙ্গনা

“এতো রাতে তুই এখানে?”
কেকের এহেন ভারিক্কি অভিব্যক্তিতে, সাদ সম্পূর্ণ থতমত খেয়ে যায়। সুহিনও অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে। সাদ খানিকটা সময় নিয়ে আমতাআমতা করে আওড়াল,
“আ…মানে…”
—“হুম বল?”
কেকের তীক্ষ্ণ-গম্ভীর্যতায় সাদ পুনরায় ভড়কায়। তবে নিজেকে খানিক তটস্থ করে বলল,
“এমন করিস কেন। আমি তো তোর খোঁজেই আসছিলাম।”

—“মিথ্যে বলছিস।”
—“আরে ভাই আমি সত্যি বলছি।”
—“সাদদদ…”,কেকে দাঁতে দাঁত পিষে আওড়াল। সাদ কিঞ্চিৎ ঢোক গিয়ে বলল,
“আমার কি দোষ। আমি তো দেখতে এসেছিলাম,তুই সুহিনের সাথে কি করিস।”
এই পর্যায়ে কেকের কপাল ভীষণভাবে কুঁচকে যায়। সে ভ্রুকুটি করে ভারিক্কি স্বরে বলে,
“হোয়াট ডু ইউ মিন?”
—“সুহিন তোকে দেখলেই যে ভয় পায়, এটা আমি নোটিশ করেছি। ওর সাথে যখনই কথা বলতে ধরি,তখনই আশেপাশে তোর দেখা পেলেই ও ঘাবড়ে দূরে কোথাও চলে যায়। আই’ম ড্যাম সিওর, তুই ওকে ভয় দেখাস।”
সাদের এহেন কথায় সুহিন নিজেই থতমত খেয়ে যায়। সে মাথা নুইয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিতেই,সাদ তা লক্ষ করে বলে ওঠে,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“ঐ দেখ দেখ, ও কেমন ভয় পাচ্ছে। বোন তুমি এই কাউয়াটাকে দেখে একদমই ভয় পেও না,আমি আছি তো।”
কেকে তৎক্ষনাৎ মাথা ঘুরিয়ে একপলক সুহিনকে দেখে। সুহিন তার হিংস্র-ক্ষিপ্ত নজরের সাথে চোখ মেলাতে না পেরে,মাথাটা নুইয়ে…পারলে মাটিতে শুয়ে পড়ে।
এদিকে সাদ এবার কেকের উদ্দেশ্যে বলল,
“দেখ ভাই,মেয়েটা এমনিতেই ছোট। তুমি বড়ভাই হিসেবে ছোট বোনকে টুকটাক শাসন করবি,মানা যায়। কিন্তু এভাবে ওর মাথার মধ্যে ভয়-ভীতি ঢুকিয়ে দেওয়ার কোনো মানে হয়? তুই শা’লা আসলেই একটা শয়’তান।”
কেকের তীক্ষ্ণ চোয়াল দৃঢ় হলো। সে মুখ ফিরিয়ে সাদের দিকে তাকিয়ে,সোজা তার হুডির কলার চেপে ধরে—চাপা স্বরে হিসহিসিয়ে বলে উঠল,
“ইডিয়ট! আমি ওর ভাই নই।”
হঠাৎ তার এমন আচরণে সাদ বা সুহিন দুজনেই ভড়কায়। তবে সাদ নিজেকে তৎক্ষনাৎ সামনে নিয়ে,পুনরায় ফিঁচকে হেসে বলে ওঠে,

“হ্যাঁ,ও তোর নিজের বোন না-ই হতে পারে, কিন্তু ঐটুকু একটা মেয়েকে বোন ভাবতেও তো সমস্যা নেই৷ ছিহ্ ব্রো,আর যাই হোক তোকে আমি মহৎপ্রাণের মানুষ ভেবেছিলাম।”
সাদের এমন হা-হুতাশ মূলক ভাবভঙ্গিতে, কেকে ক্ষুব্ধ হয়ে,সাদকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে—দাঁতে দাঁত চেপে আওড়াল,
“গাধা একটা! সর এখান থেকে।”
এই বলেই সে গটগট করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। তার এহেন কান্ডে সাদ-সুহিন দুজনেই তব্দা খায়। তবে কিছুদূর যাওয়ামাত্রই সে পুনরায়, পেছনে ফিরে তাকায়। সাদের উদ্দেশ্যে আবারও দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
“হেই ইউ! ওখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস?জাস্ট গেট ব্যাক টু ইওর রুম। আবারও যদি তোকে ওর আশেপাশে ঘুরঘুর করতে দেখেছি,আই উইল যাস্ট কিল ইউ ড্যামিট।”

এই বলেই সে তড়িঘড়ি করে সিঁড়ি বেয়ে নিচে চলে যায়। এদিকে সাদ আর সুহিন একে অপরের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। সাদ অবশ্য আগ্রহবশত বিদ্রূপস্বরে আবারও বলে ফেলে,
“ভীতু মেয়ে, তোমার বড় ভাইয়ে মাথায় সত্যিই সমস্যা আছে। তুমি কিছু মনে করো না।”
সাদ আনমনে এসব আওড়াতে আওড়াতে সে নিজেও তার ঘরে চলে এদিকে। এদিকে তাদের যাওয়ার পানে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে, সুহিন দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে,খানিক বিরক্তির স্বরে আওড়ায়,
“সবগুলোই পাগল।”

নিচতলার মেইন করিডোর পেরোতেই দেখা মিলবে,একটি স্পেশাল রুম। যেখানে মূলত বাড়ির সর্বত্রের সিসিটিভি ফুটেজ গুলো মনিটরিং করা হয়। কেকে আগপাছ না ভেবে সরাসরি সেই রুমে চলে যায়। গিয়ে দেখে বাড়ির বিশ্বস্ত একজন ব্যক্তি তার দায়িত্ব অনুযায়ী গার্ড দিচ্ছে। তাকে দেখে লোকটি অকস্মাৎ কিঞ্চিৎ ঘাবড়ে গেল। যদিও পরে ততক্ষণাৎ নিজেকে সামলে নেয়। তবে এই সূক্ষ বিষয়টা কেকের নজর এড়ায় না।
কেকে ভ্রুকুটি করে ভারিক্কি গলায় গম্ভীর স্বরে বলল,
“এখানে কেউ এসেছিল?”
লোকটি মৃদু ইতস্তত ভঙ্গিতে আওড়ায়,
“না স্যার, কে আসবে? এখানে সচারাচর সবার আসা অনুমতি তো নেই।…আ স্যার,কোনো কি সমস্যা হয়েছে? সবকিছু ঠিক আছে?”
কেকে কথা না বাড়িয়ে, নিজেই ব্যক্তিটিকে পাশ কাটিয়ে, মনিটরের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কিছুক্ষণ আগের দোতলার সব ফুটেজগুলো দেখতে চাই।”

—“স্যার, কি হয়েছে? কোনো…”
কেকে স্রেফ ঘাড় বাকিয়ে ব্যক্তিটির দিকে, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায়। তৎক্ষনাৎ সে চুপ হয়ে,নিজের কাজে লেগে পড়ল।মনিটরের স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়ে ব্যক্তিটি ভয়ে ভয়ে আওড়ায়,
“এই যে স্যার দোতলার ফুটেজ…।”
​কেকে স্ক্রিনের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। স্থিরচিত্রের মতো প্রতিটি সেকেন্ড খুঁটিয়ে দেখছে সে। গার্ডের অস্বস্তি স্পষ্ট। মিনিটখানেক চলার পর, একটি বিশেষ সময় কেকে-র মনোযোগ কেড়ে নেয়। সে তৎক্ষনাৎ তীক্ষ্ণ স্বরে বলে ওঠে,”স্টপ!”
​গার্ড দ্রুত তার কথামতো নির্দিষ্ট স্ক্রিনটাইমে পজ করে দেয়।কেকে মনিটরের আরও কাছে ঝুঁকে যায়। ভিডিওর টাইম স্ট্যাম্পের দিকে তার দৃষ্টি। সে লক্ষ্য করে…০০:০১:১৭ থেকে ০০:০১:২১—মাত্র চার সেকেন্ডের একটি ফ্রেমে দৃশ্যটি যেন হঠাৎ সামান্য কেঁপে উঠেছে। এবং রঙের স্যাচুরেশন এক মুহূর্তে সামান্য বদলে গিয়েছে। একজন সাধারণ পর্যবেক্ষকের চোখে যা ধরা পড়ার কথা নয়, কিন্তু কেকে-র প্রশিক্ষিত চোখ এই সূক্ষ্ম,প্রায় অদৃশ্য অসঙ্গতিটি এড়িয়ে যেতে পারেনি।

​—“এই চার সেকেন্ডের ফুটেজটা রিওয়াইন্ড করুন। জাস্ট এই চার সেকেন্ড।”
​গার্ডটি দ্বিধাগ্রস্তভাবে রিওয়াইন্ড করতে গিয়ে সামান্য কাঁপতে শুরু করে। কেকে আর তার বিষয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ করল না।
— “স্যার, স্যার। এটি… এটি একটি সাধারণ টেকনিক্যাল ফল্ট। কখনো কখনো রেকর্ডিং করার সময় এমন হয়…”
​কেকে কথা শেষ না করতে দিয়ে, কঠিন দৃষ্টিতে গার্ডের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি যা করতে বলেছি, তাই করুন।”
​গার্ডটি আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সেই চার সেকেন্ডের ক্লিপটি বার বার লুপে চালাতে শুরু করে।দ্বিতীয়বার দেখার সময় অস্পষ্ট হলেও বোঝা গেল—ওই চার সেকেন্ডে কেউ একজন করিডোরের মাঝখান দিয়ে দ্রুত চলে গেল। কিন্তু এমন নিখুঁতভাবে ফ্রেমগুলো জোড়া লাগানো হয়েছে যে, দৃশ্যটি কেবল একটি সামান্য গ্লিচ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি মনে হচ্ছে।
সবটা দেখে কেকে আশ্চর্যজনক ভাবে, তির্যক হেসে আওড়ায়,
“আউটস্ট্যান্ডিং!”
সে পুনরায় গার্ডের দিকে ফিরে তাকায়। গার্ড তার শান্ত-গম্ভীর চাহনিতে খানিক ভড়কে যায়।

—“স্যার বিশ্বাস করুন,আমি কিছুই করিনি। আমি এসবের কিছুই জানিনা।”
কেকে আশ্চর্যজনক ভাবে তাকে আর কিছুই বলল না। আবার না বাকি ফুটেজ গুলো দেখার ইচ্ছেপোষণ করল। কেননা সে ভালো মতোই জানে, কালপ্রিট কখনোই নিজের পাপের চিহ্ন রাখতে চাইবে না। যথারীতি কেকে স্রেফ কিঞ্চিৎ বিদ্রূপাত্মক তির্যক হেসে, রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

ঘড়ির কাঁটায় রাত এখন ঠিক দুইটা বেজে সাতচল্লিশ মিনিট।নিজের ঘরে কালো রঙের বিন-ব্যাগে আধশোয়া হয়ে বসে আছে কেকে। ঘাড়টা পেছনের দিকে হেলানো, চোখ দুটো বুঁজে রাখা। মুখের উপর নিস্তেজ হাত। তার পাশে বসে বসে ঝিমাচ্ছে টমি। অন্যদিকে কেকের মানসপটে কিছু পুরোনো অতিতের দৃশ্য ভেসে বেড়াচ্ছে।
ঘটনাগুলো বেশ পুরোনো। কেকে ছোট বেলা থেকেই উগ্র-উশৃংখল,বেপরোয়া স্বভাবের ছেলে। সমাজের তৈরিকৃত সকল নিয়ম-নীতির প্রতিই তার ঘোর অনীহা। কোনোমতেই যেন কারো ধার ধরতে রাজি নয়। বড়লোক শিল্পপতি বাবার একমাত্র ছেলে হওয়ায়,সে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা কিংবা সুযোগ সুবিধাও পেয়েছে। তবে সমাজের প্রতি তার যে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে—এর কারণটা স্বত আপসে নয়,বরং তা বেশ জোরালো। তার মতে এই সমাজই তার জীবনকে একদম শুরু হতে ছিন্ন করেছে।

শাহমীর কাহসান কাজের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই দূরে-দূরে থাকতেন।ফলে বাবার সাথেও তার বেশি একটা সখ্যতা গড়ে ওঠার সুযোগ হয়নি। কেকে বড় হতে থাকে। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে উগ্র-বেপোরোয়া ছেলেটা তখন কলেজে উঠল। আশেপাশের বন্ধুবান্ধব নিয়ে একটা গ্যাং বানাল।অতঃপর শহর দাঁপিয়ে বেড়াতে লাগল। কিন্তু তাকে থামানোর মতো কেউ নেই। শাহমীর কাহসান ছেলের ব্যাপারে খোঁজ-খবর পেলেও, ব্যবসাহিক ব্যবস্তায় তখন দেশ ছেড়েও তিনি বহু দূরে। ফলে ছেলেকে থামানোর সুযোগ তারও হলো না।

সেইসময় দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব ছিল জাভিয়ান হায়দারের। সম্পর্কে সে কেকের দূরসম্পর্কের চাচা হয়। তবে শাহমীর কাহসান তাকে সবসময় নিজের ভাইয়ের নজরেই দেখতেন। যথারীতি তখন কেকে-কে সামলানোর দায়িত্বটাও তাকেই দেওয়া হয়। কিন্তু শত চেষ্টা করেও,জাভিয়ান ব্যর্থ। গোপন সূত্র হতে এও খোঁজ এলো,কেকে পুরোপুরি বিগড়ে যাচ্ছে। সে নেশা করে, মেয়ে সঙ্গও খুঁজে নিয়েছে।
সবটা জেনেও শাহমীর কাহসান বাবা হয়েও, তেমন কিছুই করতে পারেনি। করার চেষ্টা থাকলেও হয়তো তা আর সম্ভব হয়নি। হয়তো বা এমনই কোনো এক অদৃশ্য বাঁধার বলে।
এদিকে রাফায় আমিনের সাথে শাহমীর কাহসানের বন্ধুত্বটা ছিল শুরু থেকেই বেশ জোড়ালো। অথচ রাফায় আমিন শাহমীরের চেয়ে বয়সে বেশ খানিকটা ছোট ছিল। আর দুজনের এমন বন্ধুত্ব নিত্যন্তই চোখে ধরার মতো।
তাদের বন্ধুত্বের সূত্রটা ছিল ব্যবসাহিক আবার কিছুটা পারিবারিক। কাহসান ইন্ডাস্ট্রির ভিত্তি দাঁড় করাতে দুজনেই একত্রে পরিশ্রম করে গিয়েছে। অথচ ইন্ডাস্ট্রির নাম কাহসান হওয়ার প্রেক্ষিতে, অনেকের কাছেই বিষয়টা বোধগম্য না-ও হতে পারে।

বিষয়টা এমন যে,রাফায় আমিন সম্পর্কে শাহমীর কাহসানের দাদা আমির কাহসানের নানার বাড়ির সূত্র হতে আগত আত্মীয় সমতুল্য। সম্পর্কটা বেশ দূরসম্পর্কের হলেও, আমির কাহসানের স্মরনে ‘কাহসান ইন্ডাস্ট্রি’র নাম নিয়ে রাফায় আমিনের কখনোই কোনো দ্বিধা-আক্ষেপ ছিল না৷ বরং দুজনে সমান তালে নিজেদের নাম-কর্ম প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে গিয়েছে।
এদিকে শাহমীর হতে বয়সে অল্প কিছু বছরের ছোট হলেও,রাফায় আমিন বিয়ে করেছিল প্রায় অনেক দেরিতেই। রাফায় আমিনের স্ত্রী ছিল পারস্যের এক অত্যাধিক সুন্দরী রমণী। নামটা তার আরশিয়া মেহের । যাকে বিয়ে করেই তিনি দেশে নিয়ে আসেন৷ অতঃপর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই, তাদের ঘর আলো করে নীল চোখের অধিকারী, রাজকন্যা রূপে ‘উম্মে হানি সুহিন’এর আগমন ঘটে।

বেশ সাজানো গোছানো সংসার ছিল তাদের। এছাড়া সুহিন কিছুটা বড় হবার পর, প্রায়ই আত্মীয়তার সুবাদে তাদের কাহসান কুঞ্জে বেড়াতে আসা হতো। মাঝেমধ্যে রাফায় আমিনকে কাজের জন্য দেশের বাহিরে যেতে হলে—সে নিরাপত্তার ভয়ে নিজের স্ত্রী-সন্তানকে তাদের বাড়িতে একা না রেখে, কাহসান কুঞ্জেই রেখে যেত।
রাফায় আমিনের স্ত্রী আরশিয়া মেহেরের বয়সটা ছিল খুবই কম। খুব সম্ভবত সে কেকের চেয়ে বয়সে মাত্র পাঁচ-ছয় বছরের বড় ছিল। তবে মেহের এবং কেকের মাঝের সম্পর্কটা ছিল একদমই স্বাভাবিক। কেননা কেকের তখন নিজের পরিবার কিংবা বাড়িতে কি হচ্ছে,না হচ্ছে সেসব নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। তার জীবনের তথাকথিত নিয়মেই তার জীবন কাটছে।

তবে মাঝেমধ্যে সুহিনের সাথে তার লেগে যেতো। সুহিনের বয়স যখন সাত,তখন কেকে একুশ বছরের তাগড়া যুবক। অথচ বয়সে বাচ্চা মেয়েটার থেকে এতো বড় হবার পরও, সে মাঝেমধ্যে অদ্ভুত কিছু কাজকর্ম করে ফেলত। হতে পারে তা সুহিনের অতিরিক্ত অন্তর্মুখী স্বভাব,কিংবা বোকার মতো হাবভাব। অথবা ভিন্ন কোনো রহস্যের জেরে।
সে যাই হোক না কেনো,দুটো পরিবারের কারো মাঝেই এমন কোনো সমস্যার আগমন ঘটেনি যাতে সবার জীবনটা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হবে। যেভাবেই হোক,ভালো-মন্দের মিশেলেই সবার জীবন কাটছিল। অথচ এরিমধ্যে একদিন খবর এলো রাফায় আমিন আর শাহমীর কাহসান এই পৃথিবীর মোহমায়া ছিন্ন করেছে। খুব ভয়ং”কর এক এক্সিডেন্টে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কেকে তখন হিতাহিতজ্ঞানশূন্যের ন্যায় উম্মাদ। কোন নিকষ কালো অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে,তা হয়তো সে-ও জানে না।

অথচ একটা ঝড়ে জীবন তোলপাড় হতে না হতেই,তার জীবনে নতুন ঝড়ের আগমন ঘটল। সুহিন আর তার মা আরশিয়া মেহের নিরুপায় হয়ে কাহসান কুঞ্জে এলো। অতঃপর এক অন্ধকার রাতে নিকষ কালো ঘূর্ণিঝড়-ঝঞ্ঝার আবর্তে পড়ে গেল তাদের জীবন। আর সেই ঝড়ের নামই ছিল বোধহয় নিয়তি।

Naar e Ishq part 8

চিন্তামগ্ন কেকে ভারী শ্বাস ফেলল। মুখ থেকে হাতটা সরাতেই দেখা মিলল, চোখজোড়ায় লালচে আভা। সে কাঁদছে কিনা বোঝা মুশকিল। কেননা চোখ-মুখের ভাবগম্ভীর্য কঠিন। কেকের তন্দ্রাচ্ছন্ন চাহুনি গিয়ে পড়ল, সরাসরি খোলা বারান্দা ছাড়িয়ে দূর আকাশের বিস্তৃত চাঁদে। একটানা বেশ খানিকক্ষণ সেদিকে চেয়ে থাকার পর, অদ্ভুত ভঙ্গিতে সে বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে মৃদু হাসল।
পরক্ষণেই অদ্ভুত এক আবেশে মিইয়ে গিয়ে, চোয়াল শক্ত করে ভগ্ন স্বরে আওড়াল,
“মম! আই ওয়ান্ট টু বি উইথ ইউ, প্লিজ টেক মি।”

Naar e Ishq part 10