Naar e Ishq part 8
তুরঙ্গনা
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে।শহর হতে প্রায় বেশ খানিকটা দূরে, শুনশান নীরব এলাকায় হঠাৎ গাঢ় কালো রঙের ফেরারি এসে থামল। দূরদূরান্তর অব্দি মানুষের তেমন কোনোই অস্তিত্ব নেই। চারপাশটাও খানিক বন-জঙ্গল ঘেরা।
অথচ এমন একটা জায়গায় এসে,কেকে গাড়ি হতে নেমে পড়ল। সরাসরি ভার্সিটি হতে, সে এখানে একাই এসেছে৷ কেকে নির্বিকার ভঙ্গিতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। তার গাড়ির ঠিক সামনাসামনি আরো একটি সাদা রঙের গাড়ি অবস্থান করছে। সে আশেপাশে তাকানোর কোনো প্রয়োজন মনে করল না। বরং সাদা রঙের গাড়ির কাছে গিয়ে,দরজাটা খুলে চুপচাপ গাড়িতে বসে পড়ল।
ড্রাইভিং সিটে নেভী-ব্লু শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিধেয় একজন ব্যক্তি বসে আছে। ভাবগম্ভীর্য স্বাভাবিক। মাথা ভর্তি সিল্কি চুলগুলো পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখা। এক হাতে ব্র্যান্ডের ঘড়ি, অন্যহাতে একটি আই-প্যাড। ভাবভঙ্গি কিংবা সাজসজ্জায় কোনো প্রশাসনিক ব্যক্তিই মনে হচ্ছে।
ব্যক্তিটি কেকে-কে দেখে মুচকি হাসল। অথচ কেকে গম্ভীর ভঙ্গিতে সম্মূখের দিকে তাকিয়ে। পাশে ফিরে একবার সেই ব্যক্তিটিকে দেখার প্রয়োজনও মনে করছে না।
—“কিরে ভাই, এমন বোবার মতো বসে আছিস কেন? একটু ভালোমন্দ তো জিজ্ঞেস কর।”
কেকে কাটকাট গলায় জবাব দেয়,
“কাজ হয়েছে?”
ব্যাক্তিটি ফিঁচকে হাসে। সে জানে কেকে এমনই।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
—“হুম,কিছুটা।”
এই বলেই সে নিজের আই-প্যাডটা এগিয়ে দেয়। কেকে তা নির্বিকার ভঙ্গিতে হাতে নিয়ে, ভ্রুকুটি করে কিছু ফাইল চেক্ করতে থাকে।ডিজিটাল স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে, কিছু ছবি, ব্যাঙ্কের লেনদেন, আর দুটি মর্গের রিপোর্ট—তার বাবা শাহমীর কাহসান চৌধুরী ও তার বাবার বন্ধু রাফায় আমিনের ফাইল। সবটা দেখা শেষে,সে সন্দেহজনক এক ব্যক্তির অস্তিত্বের উপস্থিতি পেতেই, পাশে ফিরে বলল,
“এই আরিজটা কে? এই কেসের সাথে তার কি সম্পর্ক?”
কেকের কথায় সুপুরুষ ব্যক্তিটি ক্ষীণ হাসে। নামটা তার ফাওয়াদ খান। পেশায় সে একজন সিআইডি অফিসার। একইসাথে কেকের ছোটবেলার বন্ধুও বটে। ব্ল্যাকভেইনের সদস্য ছাড়াও, এদেশের আরো বিভিন্ন বন্ধুসরূপ লোকজনের সাথে কেকের পুরোনো পরিচিতি রয়েছে।স্কুল-কলেজের জীবনে সেসব ব্যক্তিদের নিয়ে সে একটা ছোটখাটো গ্যাং-ও পরিচালনা করতো। সেসব সদস্যের মাঝে ফাওয়াদও ছিল। এরপর কালের পরিক্রমায় সকলের বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতেই বহুদিন তাদের যোগাযোগ হয়নি। তবে দেশে ফিরে কেকে তার আসল উদ্দেশ্য হাসিল করতেই, পুনরায় এই বন্ধুর শরণাপন্ন হয়েছে।
—“আরিজ খন্দকার। পেশায় সে সামান্য এক ফাইন্যান্স কনসালটেন্ট। অর্থাৎ সে একসময় তোদের কাহসান ইড্রাস্টির ব্যবসায়িক আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা নানান লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছে…কাগজে-কলমে তাই-ই দেখাবে। কিন্তু এই লোকটা যে কোনো এক বিশেষ ছায়াচক্রের সাথে লেনদেন করতো, সেটা সাধারণ ডাটাতে ধরা যায় না। তার নামটা প্রথম উঠে এসেছে তোর বাবা আর কাহসান ইন্ডাস্ট্রির পুরোনো নথি রিভিউ করতে গিয়ে।”
কেকে নিস্তব্ধ। মুখে কিছু না বললেও, তার চোখের কোণে তীক্ষ্ণ স্ফুলিঙ্গ।পুরোনো ক্ষতগুলো যেন আবার জেগে উঠছে।
এদিকে ফাওয়াদ আরও বলল,
—“সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার কি, জানিস? যে দুর্ঘটনার রিপোর্টটা অফিসার রাদিফ হান্নান বানিয়েছিল, সেই রিপোর্টের লেনদেনে আরিজের ডিজিটাল ট্রেইস আছে। তাও আবার দুর্ঘটনার আগের রাতেই। মানে বুঝতে পারছিস, এসব সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। দুটো মানুষের মৃত্যুর আগেই তাদের ডেড রিপোর্ট তৈরি হয়ে যাচ্ছে।”
কেকে এবারও সম্পূর্ণ নিশ্চুপ রয়। পাশ থেকে ফাওয়াদ বিদ্রূপসরূপ মৃদু হেসে আওড়ায়,
“এই দেশের আইন-কানুনের যে অবস্তা, ভাবতেই লজ্জা লাগে।”
এই বলে সে খানিক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে পুনরায় সিরিয়াস ভঙ্গিতে আওড়ায়,
“কাশিফ! ইট’স টোটালি অ্যা মার্ডার কেস ব্রো।”
কেকে ভারী শ্বাস ফেলে বলল,
“অ্যান্ড রাদিফ হান্নান ইজ ইনভল্ভড ইন দিস কেস,অ্যাম আই রাইট?”
ফাওয়াদ কিছুক্ষণ দ্বিধায় পড়ে। তারপর ধীর গলায় বলে,
“ডাইরেক্ট প্রুভ পাইনি… কিন্তু তার অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক কিছু শেল পেমেন্ট পাওয়া গিয়েছে। তুই যে দিন দেশে ফিরে ওনার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলি—সে দিন রাতেই রাদিফ হান্নান আলাদা করে কিছু ফাইল লক করে ফেলেছে। কেকে কেন দেশে ফিরেই শাহমীর ও রাফায় আমিনের পুরোনো কেস নতুন করে ঘাঁটতে এসেছে, এটা নিয়ে ওর ভেতরে অদ্ভুত টেনশন কাজ করছে।”
কেকে সামান্য মাথা নিচু করল। তার চোখে এখনো সেই একরোখা অন্ধকার—যেন আপন মনেই কোনো হিসেব মেলাচ্ছে।
গাড়ির বাহির হতে তখন হঠাৎ করে বাতাসের দমকা ঝাপটা ভেতরে এলো। কেকে সহসাই ভারী শ্বাস ফেলল। দূরে কোথাও কুকুর ডেকে উঠল।শুনশান স্থানে সেই শব্দটাও কেমন যেন অস্বাভাবিক ঠেকল।
এদিকে ফাওয়াদ আবারও বলতে শুরু করে,
“এখনে বেশ কিছু ঝামেলা আছে। তোর কথা মতো আমি বিষয়টা সিক্রেট ওয়েতেই হ্যান্ডেল করার চেষ্টা করব। তবে সব টুকরোগুলো মিলছে না। কিন্তু একটা জিনিস নিশ্চিত…রাদিফ হান্নান এই কেসটা ইচ্ছেকৃতভাবে ধামাচাপা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল, সেটা বিশেষ কারোর নির্দেশেই। আরিজ হয়তো শুধু ফ্রন্টপার্ট। আরিজকে একবার খুজে বের করতে পারলে অনেক কিছুই ক্লিয়ার হতো,কিন্তু এই লোকের কোনো নাম-নিশানও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। আদৌও একে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে কিনা কে জানে? কেননা এই খেয়াল মাস্টারমাইন্ড তো অন্য কেউ। যে লোকটার পর্দার আড়াল থেকেই, এই পুরো খেলাটা খেলা হয়েছে।”
ফাওয়াদ ভারী শ্বাস ফেলে, পাশে ফিরে কেকে-কে দেখে। তবে বেশ কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ কেকের দিকে তাকিয়ে থাকার পর, সে খানিকটা কপাল কুঁচকে ফেলল। কেকের ঠোঁটের কোণায় মৃদু তির্যক হাসিটা সন্দেহজনক।
“ব্রো! তুই কাউকে সন্দেহ করছিস?”
কাশিফ পাশে ফিরে নিষ্ফল চাহনিতে ফাওয়াদকে দেখল। ফাওয়াদ এতে ভ্রু-জোড়া আরো বেশি কুঁচকে ফেলল। অন্যদের আর কি সন্দেহ করবে,এই কেকে-কে দেখলেই তো তার সবকিছু ধোঁয়াশা লাগে।
এদিকে কেকে অকস্মাৎ মৃদু হেসে বলে উঠল,
“আই উইল টক টু ইউ লেটার। এখন যেতে হবে।”
এই বলেই সে গাড়ি হতে নেমে পড়বে,তৎক্ষনাৎ ফাওয়াদ অবাক স্বরে বলল,
“কি ভাই,এখনই কোথায় যাচ্ছিস?”
কেকে থামল না। বরং নিজের মতো গাড়ি থেকে নেমে পড়ে, দৃঢ় কন্ঠে বলল,
“দুদিন পর আমি তোকে আবার কল করব— একজন বিশেষ ব্যক্তির আদ্যপান্ত টেনে বের করার জন্য। আর হ্যাঁ, রাদিফ হান্নান যখন এই কেস-টার সঠিক ইনভেস্টিগেশন করতে পারেনি এবং এখনোও করতে অনিচ্ছুক—তবে বিষয়টা সবার চোখে অমীমাংসিত রূপে গোপনেই থাকুক। আফটার অল, দ্য রিজাল্ট উইল কাম আউট ইন্ সিক্রেট এনিওয়ে।”
পড়ার টেবিলের ল্যাম্প-লাইটটা নিস্পৃহে জ্বলছে।আজ সুহিন বই পড়ায় বেশ মনোযোগী হয়েছে। বারান্দা ও জানালা দিয়ে রুমের ভেতর জোছনার আলোয় প্রবেশ করায় রাতের আবেশ নিদারুণ সৌন্দর্যে পরিনত হয়েছে।
ঘড়ির কাঁটায় এখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। মাফিন তার স্বভাবগত কারনে রাত হওয়ার সাথে সাথেই নানান ক্রিয়াকলাপ শুরু করে দিয়েছে। মাফিনকে নিয়ে সুহিনের চিন্তা নেই। ফলে সময়ের সাথে সাথে ক্রমশই সে পড়ার মাঝে গভীর মনোযোগে ডুবে যেতে থাকে। কিন্তু এরপরই হুট করে কেমন যেন অদ্ভুত একটা শব্দ হয়। প্রথমবারে সুহিন বিষয়টাকে তেমন তোয়াক্কা না করেই,বইয়ে ডুবে থাকে।
কিন্তু পরপরই এইরকমের আওয়াজ শুনতে পেয়ে,সুহিন চমকে ওঠে। সে ভ্রু-জোড়া কুঁচকে, আশেপাশে ফিরে তাকায়। জানালা কিংবা বারান্দার দরজাটা খোলা। সে চকিতেই উঠে দাঁড়িয়ে,ভ্রুকুটি করে সেদিকে এগিয়ে যায়।
তার খুব করে মনে হচ্ছে, আশেপাশে কোথাও কেউ রয়েছে। কিন্তু সেটা হয়তো তার ঘরের ভেতর নয়। বাড়ির ডিজাইন অনুযায়ী বারান্দার আশপাশে কিছু জায়গা রয়েছে,যেখানে সহজেই কেউ যেতে পারে। সুহিন দেরি না করে ত্বরিত, বারান্দায় চলে যায়। এবং রেলিং এর আশেপাশে দাঁড়িয়ে চারপাশে নজর ফিরিয়ে দেখে—আদৌও এখানে কেউ আছে কিনা।
কিন্তু আশেপাশে কারো অস্তিত্ব না পেয়ে, সুহিন ভারী শ্বাস ফেলে বিড়বিড়িয়ে আওড়ায়,
“এখানে তো কেউ নেই।”
এই ভেবে সে পুনরায় ঘরে ফিরে আসে।এমন ঘটনা আজ নতুন ঘটল।এতো বছর ধরে এই বাড়িতে থাকে,অথচ এর আগে কখনো তার এমন কিছু মনে হয়নি।…না!না! নতুন কেনো হতে যাবে। গতরাতে কেকে যখন তাকে চিজকেক দিয়ে চলে গেল,ঠিক তার পরপরই সে এমন কিছু আওয়াজ সে শুনতে পেয়েছিল। বিষয়টাকে তার মনের সন্দেহ ভেবেই, মাথা থেকে সরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু এখন তো তার ভিন্ন কিছু মনে হচ্ছে।
সুহিন অজান্তেই অদ্ভুত এক শিহরণে কেঁপে উঠল। এবং তার এই ভীতু মনকে আরো বেশি বিচলিত করতে, হঠাৎ রুমের দরজায় ঠকঠক শব্দ হলো। সুহিন বিস্ময়ের চাহনিতে দরজার দিকে ফিরে তাকায়। সে একবার পেছনে ফিরে বারান্দার দিকে তাকাচ্ছে, তো একবার দরজার দিকে। এরিমধ্য আবারও দরজায় শব্দ হতেই,সুহিন সেদিকে এগিয়ে গিয়ে তড়িঘড়ি করে আওড়ালো,
“ক…কে? কে এসেছেন?”
কোনো সাড়াশব্দ নেই। সুহিন আরো বেশি ভীত হলো। এদিকে আবারও অস্থির ভঙ্গিতে কেউ বারংবার শব্দ করে যাচ্ছে। যদিও তা মৃদু আওয়াজেই।
সুহিন আর উপায় না পেয়ে, দরজাটা খোলার সিন্ধান্ত নেই। বাড়িভর্তি মানুষজন, আর যাই হোক—কোনো চোর-ডাকাত তো আর আসবে না।
এই ভাবনায় সে নিজের চশমাটাকে ঠিকঠাক করে নিয়ে, দরজাটা আলগোছে খুলে দেয়। এবং দরজাটা খোলামাত্রই কেকের কর্কশ-গম্ভীর কন্ঠস্বর ভেসে এলো,
“হোয়াট দ্য হেল,দরজা খুলতে এতো সময় লাগে?”
সুহিন তাকে দেখে আশ্বস্ত হয়। তবে তার মাথায় কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে এটা জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, এতো রাতে এই কেকে আবারও কেন তার ঘরে এসেছে।
সুহিন কেকে-কে পরখ করে দেখে, তার চিরচেনা সেই একইরকম কালো পোশাক,এলোমেলো চুল ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি-স্বর নিয়েই এখানে হাজির হয়েছে। নতুনত্ব চোখে পড়ার মতো কিছুই নেই। তবে এসব বিষয় মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে,সে ঠোঁট ভিজিয়ে ইতস্তত স্বরে আওড়ায়,
“আপনি এখানে…কিছু হয়েছে?”
—“কি হবে?”
—“না মানে…”
সুহিনের কথা শেষ হয়না বরং তার পূর্বেই, কেকে এক’পা বাড়িয়ে রুমের ভেতর প্রবেশ করে। আবার পরক্ষণেই থেমে গিয়ে, সুহিনের দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আওড়ায়,
“মে আই কামিং?”
তার এহেন কথায় ভড়কে গেল সুহিন। ভেতরে প্রবেশ করে জিজ্ঞেস করছে,আসবে কিনা! আবার তাকে আরেকটু চমকে দিয়ে, কেকে তার থেকে কোনো জবাবের অপেক্ষা না করেই রুমে প্রবেশ করল। এবং তৎক্ষনাৎ দরজাটা বন্ধ করে দেয়।
—“কি আশ্চর্য! দরজা কেনো বন্ধ করছেন?”
কেকে তার প্রতি খানিক বিরক্ত হলো। তবুও তার তথাকথিত শান্ত-গম্ভীর স্বরে আওড়ায়,
“আমি কোনো বাঘ-ভাল্লুক নই—তোকে খেতে আসিনি।”
সুহিন ক্ষণিকের জন্য চুপ থেকে পুনরায় আওড়ায়,
“কেনো এসেছেন এখানে? আমি কিন্তু খাওয়াদাওয়া…”
সুহিনের কথা শেষ হবার আগেই, কেকে প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে দাঁতে দাঁত পিষে আওড়ায়,
“আমাকে কি তোর পাগল মনে হয়? একদিন চিজ-কেক বানিয়ে খাইয়েছি দেখে বারবার খাওয়াতে আসব?”
—“মানে…ও জিনিস আপনি বানিয়েছিলেন?”
—“না,হকার থেকে ইমপোর্ট করে এনেছিলাম।”
সুহিন এই একটা মাত্র মানুষের ভালোমন্দ কোনো কথারই তাল বোঝে না। যখন যেটা বলে সেটাই সত্যি মনে হয়,আবার কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যায়।
সুহিনকে ফ্যালফ্যাল করে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে,কেকে পুনরায় দাঁতে দাঁত পিষে আওড়ায়,
“এমন ইডিয়টের মতো তাকিয়ে থাকবি না। আই কেইম টু টক টু ইউ অ্যাবাউট সামথিং ইম্পরট্যান্ট।সো, আই কান্ট ওয়েস্ট এনি টাইম।”
সুহিন বুঝতে পারল না, কেকে হঠাৎ তার সাথে কি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে এসেছে। তবে তার ভাবভঙ্গিতে এইটুকু তো স্পষ্ট যে,সে খুব সিরিয়াস মুডেই আছে।
এরিমধ্যে কেকে নিজের ম্যাট-কালো আই-প্যাডটা বের করে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই কিছু একটা খুঁজে বের করতে লাগল। আর সুহিন শুধু বোকার মতো চেয়ে চেয়ে দেখছে,সে আদতে কি করছে।
—“লিসেন, আই হ্যাভ সাম ফাইলস্…”
কেকের কথা সম্পূর্ণ হলো না। অকস্মাৎ তার নজর আই-প্যাড হতে সরে গিয়ে, বারান্দায় পড়ল। সহসাই কপাল কুঁচকে, সে ভ্রুকুটি করে সুহিনের উদ্দেশ্যে বলল,
“হেই, তোর রুমে আর কেউ আছে?”
সুহিন যেন এই পর্যায়ে নিজেই খানিক চমকে উঠল। কেকের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি অনুসরণ করে, চকিতেই পেছনে এবার ঘাড় ফিরিয়ে আওড়ায়,
“কই না তো।”
এই বলে সে পুনরায় কেকের দিকে তাকায়। তবে এবার তার মাথায় নতুন জিনিস খেলে যায়। একটু আগে যে মনে হচ্ছিল আশেপাশে কেউ আছে—সে যদি কেকে না হয় তবে কে? সে তো কেকে-কে দেখে ভেবেছিল কেকেই হয়তো…! সুহিন বিস্ময়ের নজরে চোখ বড় বড় করে ফেলল। এদিকে কেকে তার চোখদুটো দেখে কি বুঝল জানা নেই। তবে নিমিষেই সে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে, নিজের আই-প্যাডটা বন্ধ করে দেয়। এবং এই বলেই সে চারপাশে নজর ফিরিয়ে কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করে।
খানিকক্ষণ সময় সম্পূর্ণ চুপচাপ থাকার পর, সে সুহিনের কাছে ঘেঁষে আনমনা স্বরে আওড়ায়,
“এই নিয়ে পড়ে কথা বলছি।”
Naar e Ishq part 7
এরিমধ্যে সে আর কোনো কথাবার্তা না বলে সোজা পেছনে ফেরে। এবং তৎক্ষনাৎ দরজার দিকে এগিয়ে—চটজলদি দরজাটা খুলে ফেলল।
সুহিন শুরুতে বুঝতে পারেনি,কেকে কি করতে চাচ্ছে। তবে দরজা খোলা মাত্রই চোখের সামনে পরিচিত মানুষটিকে দেখতে পেয়ে প্রচন্ড অবাক হলো সে। শুধু সুহিন নয়, বরং কেকেও বেশ অবাক হয়েছে। চকিতেই সে কপাল কুঁচকে ভারিক্কি স্বরে বলে উঠল,
“এতো রাতে তুই এখানে?”
