Home mad for you mad for you part 23

mad for you part 23

mad for you part 23
তানিয়া খাতুন

সময় সত্যিই কারও জন্য থেমে থাকে না।
চার বছর আগের সেই তুমুল ঝড়–ঝাপটা কাটতে না কাটতেই, জীবন সবার পথ বদলে দিয়েছে।
কেউ এগিয়ে গেছে… কেউ হারিয়ে গেছে… আর কেউ কেউ অন্ধকারের গভীরে তলিয়ে গেছে।
সেই অন্ধকারের নাম—ক্রিশ।
লোহার মোটা দরজার ফাঁক দিয়ে হালকা আলো ঢুকেছে।
জেলের ভেতরের স্যাঁতসেঁতে বাতাসে পুরোনো লোহাৱ গন্ধ মিশে আছে।
সেল নম্বর ৩৭–এ বসে আছে ক্রিশ, পিঠ দেয়ালে ঠেকানো, মাথা নিচু।
চার বছরের মধ্যে মানুষটা আর মানুষ নেই—একটা ঝড়ে রূপ নিয়েছে।
মাথাভর্তি জট পাকানো চুল,

দুই গালে নেমে আসা ঘন, অনিয়মিত দাড়ি,
চোখদুটো লালচে, রাগ আর প্রতিশোধে জ্বলে থাকা অগ্নি।
চেনা সেই আধিপত্যপূর্ণ হাসি নেই আর।
তার জায়গায় এসেছে নীরবতা—মারণ নীরবতা।
তার হাতে একটা পুরোনো, প্রায় ছিঁড়ে যাওয়া ছবি।
আঙুলগুলো দিয়ে ছবিটা ছুঁয়ে দেখছে বারবার, যেন প্রতিটি ছোঁয়ায় সে ফিরে পায় সেই মানুষটাকে…
Butterfly.
ক্রিশ ধীরে চোখ তুলে ছবিটার দিকে তাকায়।
“Butterfly… তুই আর একটু অপেক্ষা কর। তোকে আবার নিজের কাছে আনবো… নিজের বন্দি বানিয়ে রাখবো… বউ।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

দরজার ধাতব গায়ে মুষ্টি ঠুকে শব্দ তোলার সাথে সাথে তার শরীরের শিরাগুলো টনটনে হয়ে ওঠে।
চোখে সেই পাগল করা প্রতিশোধের নাচন—
“আর যে তোকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়েছে…”
ক্রিশের ঠোঁটের কোণে হালকা, বিপজ্জনক হাসি জন্মায়।
“তাকে আমি ছাড়ব না। আমি ওকে নিঃশেষ করে দেব।”
শেষ কথাটা বলেই ক্রিশ আবার ছবিটা বুকে চেপে ধরে…
অন্ধকার সেলে প্রতিশোধের গর্জন ধীরে ধীরে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।

লন্ডনের হিথ্রো এয়ারপোর্টে মানুষের ভিড় যেন ঢেউয়ের মতো ওঠানামা করছে।
ঘোষণা আর ট্রলির শব্দ মিলেমিশে চারপাশে এক অদ্ভুত ব্যস্ততা তৈরি করেছে।
সেই ভিড়ের মাঝেও যেন আলাদা করে চোখে পড়ে একজনকে—রুহি।
তার ডান হাতে ধরা একট ছোট আকারের trolley bag, ধীরে ধীরে মেঝেতে গড়িয়ে যাচ্ছে।
চোখে কালো sunglass,
পরনে ফিটিং jeans pant,
পায়ে হালকা হিল যুক্ত shoes,
আর গায়ে উষ্ণতার জন্য স্টাইলিশ এক overcoat jacket।

মুখে খুব বেশি মেকআপ নেই—যা আছে, তা শুধু তার স্বাভাবিক সৌন্দর্যটাকেই আরও পরিষ্কার করে তুলে ধরেছে।
চুলগুলো উপরে তুলে সযত্নে বাঁধা, কিন্তু সেই বাঁধার মধ্যেও একটা নরম এলোমেলো স্টাইল… যেন হাওয়া একটু ছুঁয়ে গেলেই খুলে যাবে।
রুহির চোখ বোঝা যায় না সানগ্লাসের আড়ালে, কিন্তু তার দেহের ভাষায় একটা ক্লান্তি, একটা দূরত্ব, আর খুব গভীর এক শান্ত যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে।
চার বছর আগের যাকে পেছনে ফেলে এসেছে, তাকে ভুলতে পারেনি এখনও।
রুহি ধীরে একটা দীর্ঘ শ্বাস নেয়।
আমান হাতে ধরা পানির বোতলটা নিয়ে এগিয়ে এসে রুহির দিকে বাড়িয়ে দিল।
রুহি হালকা হাসল,

“Thank you, ভাইয়া।”
আমান ঠোঁট বাঁকিয়ে মাথা নাড়ল।
“এখন নিজের বাড়ি ফিরছো… এখন কি আর এই ভাইয়াকে মনে থাকবে ”
রুহি হালকা কেঁপে উঠল কথাটা শুনে।
সে বোতলটা দুই হাতে ধরে নিচু গলায় বলল—
“অবশ্য‌ই মনে থাকবে। তুমি না থাকলে আজ আমি এইভাবে দাঁড়িয়ে‌ থাকতাম না… অনেক আগেই হারিয়ে যেতাম।”
আমান নিঃশ্বাস ছাড়ল।
একটু বিরতি নিয়ে বলল—

“তাহলে আবার কেন সেই একই অতীতে ফিরছো, রুহি? এখনো সময় আছে… ভাবতে পারো।”
রুহি সানগ্লাসের আড়ালে চোখ নামিয়ে ধীরে বলল—
“না ভাইয়া… আমি আমার আব্বু–আম্মুর সঙ্গে থাকতে চাই।
আর আপনারও তো একটা জীবন আছে… সারাজীবন আমার সঙ্গেই কি ঘুরবেন?”
আমানের বুকটা হঠাৎ শক্ত হয়ে উঠল।
সে মুচকি হাঁসে, কিন্তু সেই হাসির ভেতর লুকিয়ে থাকা ব্যথাটাকে চেপে রেখে বলল—
“সারাজীবন তোমার সঙ্গে ঘুরতে রাজি আছি।”
রুহি থমকে গেল।
একটু অবাক, একটু দ্বিধাগ্রস্ত স্বরে বলল—
“কি বললে ভাইয়া?”
আমান দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল, গলা খাঁকারি দিল।
“কিছু না… কিছুই না।”
আমান ধীরে রুহির পাশে হাঁটতে হাঁটতে কথাটা শুরু করল—

“বলছিলাম কি… Miss lawyer
আপনি কি এখনই কাজে যোগ দেবেন নাকি?”
রুহি হালকা হেসে কাঁধ ঝাঁকালো।
“না ভাইয়া, ততটা তাড়াহুড়ো না।
দুই–তিন দিন একটু রেস্ট নেবো… তারপর শুরু করবো।”
আমান মাথা নাড়ল, যেন ঠিক এই উত্তরটাই সে আশা করছিল।
আমানঃ “আচ্ছা, তাহলে এই দুই দিনের মধ্যে একদিন আমাকে দিও। আমার আব্বু–আম্মুর সঙ্গে তোমার দেখা করাবো।”

রুহি থমকে দাঁড়াল।
“আমাকে? না মানে… উনারা তো আমাকে চেনেন না।”
আমান একটু গম্ভীর, কিন্তু নরম গলায় বলল—
“হ্যাঁ, ঠিকই। কিন্তু উনারা তোমার সঙ্গে দেখা করতে চান। তোমাকে আমাদের বাড়ি নিয়ে যাবো।”
রুহি ভ্রু কুঁচকালো, আবার নিজেকে সামলে নিয়ে বলল—
“বেশ… তাহলে যাবো।”
আমানের চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত একটা আলো নাচল—
যেন সে অনেকদিন ধরে এই কথাটার অপেক্ষায় ছিল।

রুহি নিজের বাড়ির সামনে এসে গভীর একটা শ্বাস নিল।
চার বছর পর… এতদিন পর…
এই দরজাটা তার কাছে আবারও নতুন লাগছে।
সে হাত বাড়িয়ে ডোরবেলটা টিপল।
ভিতর থেকে দ্রুত পায়ের শব্দ, তারপর দরজা খুলে গেল।
দরজা খুলতেই রুহির আম্মুর চোখ ছলছল করে উঠল।
মুহূর্তের মধ্যেই তিনি রুহিকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
“আমার মেয়েটা কত বড় হয়ে গেছে… ভালো আছিস মা?”
তার কণ্ঠে অদ্ভুত কাঁপন—স্বস্তি, আনন্দ।
রুহি ঠোঁট কামড়ে ধরে হাসল।
“হ্যাঁ আম্মু, আমি ভালো আছি।”
আম্মু একটু দূরে সরে রুহির মুখ দু’হাতে ধরে তাকিয়ে বললেন—

“আমান কোথায়? ওকে আনলি না?”
রুহি মাথা নাড়ল।
“ভাইয়ার তো কাজ আছে… পরে একদিন আসবে।”
আম্মু দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মাথা নাড়লেন।
“আচ্ছা, চল। তোর আব্বু তো তোকে দেখার জন্য কতোক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে।”
রুহি চারপাশে তাকিয়ে হালকা বুঝতে পারল কিছু একটা নেই।
“ভাই বাড়িতে নেই?”
আম্মু হাঁটতে হাঁটতে বললেন—
“না, ও হোস্টেলে আছে। তুই আসবি শুনেই তাড়াহুড়া করছে চলে আসবে তাৱাতাৱি।”
ড্রইংরুমে ঢুকতেই রুহির আব্বু উঠে দাঁড়ালেন।
তার মুখে কঠোরতা, কিন্তু চোখ দুটো ভরতি স্নেহের আলো।
তিনি হাত বাড়িয়ে রুহির মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলেন।

“আল্লাহ তোকে সুখী করুক, মা।”
এক মুহূর্তের জন্য রুহির চোখ ভিজে উঠল।
এতদিন পর “বাড়ি” শব্দটা তার ভেতরটা নরম করে দিল।
তারপর সবাই মিলে অনেকক্ষণ ধরে গল্প, হাসাহাসি খাওয়া দাওয়া কৱলো…
রুহি অনুভব করল—
যত দূরেই থাকুক, বাড়ির গন্ধটা কখনো ভুলে যাওয়া যায় না।
সব শেষে রুহি নিজের ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল।
ঘরটা ঠিক আগের মতো—
কিন্তু তার হৃদয়টা আর আগের মতো নেই।
দরজা বন্ধ করতেই নিঃশব্দে দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেলল সে।
সুগন্ধি বাতাসে যেন পুরোনো স্মৃতিরা ভেসে উঠল…
যা সে এড়িয়ে এসেছে,
আর যা তাকে এখনো টেনে ধরে…

সন্ধ্যা নেমে গেছে। ঘরের জানালার বাইরে হালকা বাতাস বইছে, আর রুহির ঘরে জ্বলছে টেবিল ল্যাম্পের উষ্ণ আলো।
সে টেবিলের সামনে বসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ঠিকঠাক করছে—
আর মাত্র এক–দুদিনের মধ্যেই সে জয়েন করবে নতুন লাইফ, নতুন স্বপ্ন, নতুন নিজের পরিচয় নিয়ে।
এতদিনের পরিশ্রম, কষ্ট—সব মিলিয়ে আজ তার মনে শুধু একটাই অনুভূতি—
“আমার স্বপ্নটা অবশেষে সত্যি হতে চলেছে।”
সে আর অপেক্ষা করতে চায় না।
কিন্তু টেবিলের ওপর এদিক-ওদিক ছড়িয়ে থাকা খাতা, বইয়ের স্তূপ দেখে তার ভ্রু কুঁচকে যায়।
রুহি বিরক্ত গলায় বলল—
“এই ছেলেটার স্বভাব গেল না! খালি আমার রুমেই এসে সব ফেলে যায়। নিজের খাতা-বইগুলোও আমার রুমে রেখে গেছে!”

বিরক্ত মুখে সে সব বই-খাতা একসাথে করে পাশে সরাতে গেল।
ঠিক তখনই বইগুলোর নিচ থেকে একটা পুরোনো পত্রিকা নিচে পড়ে গেল।
রুহি ভ্রু কুঁচকে পত্রিকাটা তুলল।
তার চোখের পাতা ধীরে ধীরে থেমে গেল—
তার নিঃশ্বাস আটকে গেল—
হঠাৎ করে পুরো পৃথিবী যেন থেমে গেল তার সামনে।
পত্রিকার প্রথম পাতায়—
ক্রিশের ছবি।
আর তার নিচে বড় অক্ষরে লেখা…

“তিন খুনের অভিযোগে গ্রেফতার—
শিক্ষামন্ত্রী শরিফুল খানের ছেলে ক্ৰিশ‌ খান।”
রুহির আঙুল থেকে পত্রিকাটা পড়ে গেল মেঝেতে।
তার বুকটা কেমন যেন দম বন্ধ হওয়ার মতো হয়ে উঠল।
মাথার ভিতর ঝড় বয়ে গেল।
দৃষ্টি কাঁপতে লাগল।
পত্রিকায় লেখা—
শরিফুল খান এবং তাৱ স্ত্রী,
আর তার সৎ–বোন সহ মোট তিনজনকে ক্রিশ খুন করেছে।
রুহির শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
তার হাত কাঁপতে লাগল…
চোখের সামনে অন্ধকার নেমে এলো।
তার কানে যেন আমানের আগের কথাগুলো প্রতিধ্বনির মতো বাজতে লাগল—
“ক্রিশ তার স্টেপ সিস্টারকে বিয়ে করতে চেয়েছিল… তাই তোমাকে ছেড়ে দিয়েছে… তাই তোমার মুখে অ্যাসিড দে‌ওয়া কৱিয়েছে লোক দিয়ে…”

কিন্তু এখন?
তাহলে এই খুন কেন?
এই অভিযোগ কেন?
এই অপরাধ কীভাবে?
রুহির মাথায় একটা প্রশ্ন জেগে উঠল—
“যদি আমান ভাইয়া যা বলেছিল—সবটাই মিথ্যে হয়?”
তার বুকের ভেতর চাপা ব্যথা জেগে উঠল।
কিছু একটা ভুল…
কিছু একটা বড় ভুল…
যা কেউ তাকে এতদিন জানতে দেয়নি।
তবে ক্ৰিশ আৱ ওই মেয়েটাৱ বিয়েৱ ফটো টা কি ছিলো।
রুহি ধীরে ধীরে মাটিতে পড়ে থাকা পত্রিকাটার দিকে তাকাল—
চোখে জল জমে উঠছে, শ্বাস ভারী হয়ে উঠছে।
তার ভিতরটা ভেঙে যাচ্ছে।
রুহি (হতভম্ব হয়ে):

“কোনটা ঠিক? কোনটা ভুল?…
“তাহলে কি উনি এখন জেলে?
উনি কি সত্যিই আমার মুখে অ্যাসিড দেওয়া কৱিয়ে ছিলেন?
না কি… আমাকে মিথ্যে বলা হয়ছে?”
সে ফোনটা তুলে হাতে নিয়ে আমান ভাইয়াকে কল করতে যায়।
আঙুলটা থেমে যায়।
রুহি (নিজেকে শক্ত করে):
“না, এখনই না। মাথা ঠান্ডা রাখ, রুহি।
তোকে সত্যিটা বের করতে হবে।
তুই একজন “lawyer”… তুই পারবি।”
ক্ৰিশের মুখটা মনে পড়তেই তার গলা ভারী হয়ে আসে।
রুহি: “কেন… কেন আপনি এমন করলেন?
আমি তো আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম,
আপনার যত্নগুলোকে সত্যি ভেবেছিলাম…
আপনি কি সত্যিই আমাকে কখনোই ভালোবাসেননি?”
চোখের পানি গাল বেয়ে পড়ে।
রুহি (ভাঙা গলায়):

“আমার মনে হচ্ছে কোথাও একটা ভুল আছে…
ক্ৰিশ… আপনি কি আসলেই খুনি?
নাকি কেউ আপনাকে ফাঁসিয়েছে?
আপনি কি সত্যিই… এমন মানুষ হতে পারেন?”
রুহি সেই মুচড়ে ওঠা হৃদয়টাকে সামলাতে না পেরে চোখ বন্ধ করে বসে থাকে।
রুহির চোখে পানি জমে ওঠে।
খবরের কাগজটা টেবিলের নিচে পড়ে থাকে, আর সে অসহায়ের মতো ফিসফিস করে—
(কাঁপা গলায়):
“বিস্বাস করুন… আমি আজও বিশ্বাস করতে পারি না যে আপনি আমার সাথে নাটক করেছিলেন।
আমি ভেবেছিলাম আপনার যত্নগুলো… আপনার ছোঁয়া… আপনার চোখের সেই কোমলতা—সবই সত্যি ছিল।”
তার গলা ভারী হয়ে যায়, তবুও কথা থামে না।

“কেন… কেন আমাকে ভালোবাসলেন না?
একবার… শুধু একবার যদি ভালোবাসতেন—
আমাদের জীবনটা আজ কতটা অন্যরকম হতো…
“আমি জানি না কোনটা সত্যি, কোনটা মিথ্যে…
কিন্তু আমার মন বলছে কোথাও একটা ভুল আছে।
আপনি কি সত্যিই এতটা নিষ্ঠুর হতে পারেন, ক্ৰিশ?”
“আমি সত্যিটা খুঁজে বের করব… যেভাবেই হোক।
কিন্তু যদি সবটাই সত্যি হয়—
তাহলে কেন?
আমার সাথে এমনটা করলেন কেন?”
সেই প্ৰশ্নেৱ উওৱ আপনাকে দিতেই হবে

রাত অনেকটা গিয়ে গেছে।
টেবিলে নিউজপেপার ছড়ানো, পাশে খোলা ল্যাপটপ।
সে টাইপ করতে থাকে—
“Soriful Khan family murder case details…”
“Krish Khan arrest”
একটার পর একটা খবর খুলছে, কিন্তু সবই ছোট ছোট তথ্য।
কোনোটাই পুরো ব্যাপারটা পরিষ্কার করছে না।
রুহির চোখ থেমে যায় একটি লাইনে—
“Case handled by Detective Rafiq Hasan.”
রুহির নিঃশ্বাস আটকে যায়।
রুহি (ধীরে):

“ডিটেকটিভ… ।”
সে মোবাইল তুলে নম্বর খুঁজতে শুরু করে।
আগের কোনো মামলার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে সে একবার সেই লোকটার নম্বর লিখে রেখেছিল।
Detective Rafiq Hasan – Personal Number
তার আঙুল কাঁপে।
ফোন করতে গিয়ে থেমে যায়।
রুহি (চোখ বন্ধ করে):
“না রুহি, ভয় পেলে হবে না।
তুই ল’ইয়ার… তুই কাউকে প্রশ্ন করার অধিকার রাখিস।”
রুহি ফোনটা কানে ধরেই গভীর শ্বাস নেয়।
রফিক হাসান (ওপাশে):
“হ্যালো? কে বলছেন?”

রুহি প্রথমে কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকে, তারপর পেশাদার, স্থির কণ্ঠে বলে—
“আমি এডভোকেট রুহি রহমান।
আমি আপনার তদন্ত করা ‘সৱিফুল খান ফ্যামিলি মার্ডার কেস’-এর বিষয়ে কথা বলতে চাই।”
ওপাশে রফিক খান একটু হতবাক।
রফিক: “…ওই কেস? হঠাৎ আপনার আগ্রহ কেন?”
রুহি চোখ নামিয়ে ফেলে, গলা নরম হয়ে আসে—
“আসামি… ক্ৰিশ খান।

তার সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল।
কিন্তু আমি সে সম্পর্ক নিয়ে না—কেসের সত্যটা জানতে চাই।”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা।
তারপর রফিক কঠিন গলায় বলেন—
রফিক: “মামলাটা পুরোটাই closed।
আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছে, ক্ৰিশ খানের ‘জাবর-জীবন কারাদণ্ড’ হয়েছে।
কেসটি আবার খোলার কোনো কারণ নেই।”
রুহি: “স্যার, আমি একজন ল’ইয়ার।
আর আমার মতে মামলাটায় অনেক ভুল আছে।
আমি কেসটি রিইওপেন করতে চাই।”
রফিক খান এবার পুরোপুরি থমকে যান।
রফিক: “আপনি বুঝতে পারছেন আপনি কী চাইছেন?
তদন্তটা সহজ ছিল না।

আর ক্ৰিশ খানের স্বীকারোক্তিও আছে।”
রুহি: “স্বীকারোক্তি সবসময় সত্যি হয় না, স্যার।
আমি জানি… কোথাও না কোথাও ভয়ানক ভুল হয়েছে।
আর আমি সত্যিটা না জানা পর্যন্ত থামব না।”
ওপাশে দীর্ঘ নীরবতা।
তারপর রফিক খান গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বলেন—
রফিক: “…ঠিক আছে।
তুমি যেহেতু অফিশিয়ালি ল’ইয়ার হিসেবে কথা বলছো, তোমাকে সাহায্য কৱবো।
কিন্তু ফোনে কিছু বলা যাবে না।”

mad for you part 22

রুহি: “তাহলে কবে দেখা করব?”
রফিক: “কাল সকাল ১০টায়।
Adress পাঠিয়ে দিচ্ছি চলে আসবেন।”
ফোন লাইন কেটে যায়।
রুহি স্থির হয়ে বসে থাকে—

mad for you part 24