Home mad for you mad for you part 24

mad for you part 24

mad for you part 24
তানিয়া খাতুন

পুরনো কফিশপ,
সকাল ১০টা। বাতাসে কফির গন্ধ, আর চারপাশে খুব কম লোক।
রুহি ঢুকলেই চোখে পড়ে এক কোণায় একজন‌ বসে আছেন –
গ্রে শার্ট, চোখে চশমা, টেবিলে ছড়ানো কিছু পুরনো ফাইল দেখেই ৱুহি দেখেই বুঝতে পারে এটাই
রফিক হাসান।
রুহি এগিয়ে যায়।
রফিক (উঠে দাঁড়িয়ে):

“আপনি ল‘ইয়ার রুহি, তাই তো?”
রুহি (হালকা মাথা নেড়ে):
“জি, আমি।”
রফিক বসতে ইশারা করে।
রুহি ধীরে বসে, কাঁধে ভর করা ব্যাগ থেকে তার আইডি বের করে সামনে রাখে।
রুহি: “আমি ল‘ইয়ার হিসেবে এই কেস রিইওপেন করতে চাই।
তাই সব তথ্য জানতে এসছি।”
রফিক কিছুক্ষণ তাকে দেখেন, যেন তার চোখের ভেতর সত্যি খুঁজছেন।
রফিক: “আপনি জানেন… এই কেসে তিনটা ডেড বডি ছিল?”
তিনি ধীরে তিনটি ছবি সামনে রাখেন—
রুহি তাকাতেই শিউরে ওঠে।
রফিক: “ক্ৰিশ খানের সৎ মা, সৎ বোন, আর তাৱ নিজেৱ বাবা।
তিনজনকে খুব নৃশংসভাবে মারা হয়েছিল।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

এবং ক্ৰিশ… স্বীকারোক্তি দিয়েছিল।”
রুহি ফটোতে চোখ আটকে যায়—
তার বুক যেন ভেঙে যাচ্ছে, তবু সে সাহস করে বলে—
রুহি: “স্বীকারোক্তি সব সময় সত্যি হয় না।
চাপ, হুমকি—হাজার কারণ থাকতে পারে।”
রফিক খান হালকা হাঁসেন—
রফিক: “আপনার সাহস আছে, এটা বুঝলাম।
কিন্তু ক্ৰিশ খানের ব্যাপারটা সহজ না, রুহি।
ও খুনের আগে ৭ দিন নিখোঁজ ছিল।
কোথায় ছিল, কেউ জানে না।
আর ফিরে এসে স্বীকারোক্তি দিয়ে দেয়!”
রুহির চোখ বড় হয়ে যায়।
রুহি:“৭ দিন নিখোঁজ?
এটা তো মামলায় উল্লেখই নেই!”

রফিক একটা সিগারেট বের করে, কিন্তু জ্বালায় না— শুধু আঙুলে ঘোরায়।
রফিক: “মামলায় ইচ্ছে করেই উল্লেখ করা হয়নি।
কারণ ‘উচ্চপদে থাকা কেউ কেউ’ চেয়েছিলেন কেসটা দ্রুত ক্লোজ হোক।”
রুহি (দাঁতে দাঁত চেপে): “অর্থাৎ… ক্ৰিশ কে ফাঁসানো হয়েছিল?”
রফিক সরাসরি উত্তর দেয় না।
চোখ নামিয়ে টেবিল থেকে একটি ফাইল এগিয়ে দেয়।
রফিক: “এটা ক্ৰিশেৱ স্বীকারোক্তি ভিডিওর স্ক্রিনশট।
দেখে বলুন—কিছু অস্বাভাবিক লাগছে না?”
রুহি ফাইল খুলতেই তার বুক ধক করে ওঠে।
স্ক্রিনশটে ক্ৰিশেৱ মুখ—
চোখে ভয়, মুখে কাটা দাগ, ঠোঁট ফাটা, গলায় আঘাতের দাগ।
রুহি ঠোঁট কাঁপে।

রুহি (ফিসফিস করে): “এটা… এটা তো নির্যাতনের চিহ্ন।
ওনাকে মারধর করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে!”
রফিক আবার সামান্য হেঁসে ওঠে।
রফিক: “এই প্রথম আপনি আসল জায়গায় হাত দিলেন।
কিন্তু আরো আছে…
রফিক তার কফির কাপ ঠেলে পাশে রাখে।
গলা নিচু করে বলে—
রফিক: “রুহি… ক্ৰিশ খুন করেননি।
এটা আমি জানি।”
রুহির চোখ ছলছল করে উঠল, গলার স্বর কেঁপে গেল।
রুহি: “আপনি জানতেন?
তাহলে সত্যিটা সামনে আনলেন না কেন?
একজন নির্দোষ মানুষকে আজীবন জেলে পচতে দিলেন?”
রফিক এবার চুপ করে থাকে কয়েক সেকেন্ড।
তার চশমার কাচে একটা অদ্ভুত অপরাধবোধের ছায়া।
রফিক:‌ “কারণটা… তুমি ক্ৰিশের সঙ্গে কথা বললেই বুঝে যাবে।”
রুহির ভ্রু কুঁচকে যায়।
রুহি: “মানে?”

রফিক চেয়ারটা একটু সামনে টেনে আরও নিচু গলায় বলে—
রফিক: “ক্ৰিশ নিজে কিছু কথা কাউকে বলেনি।
ওকে ভয় দেখানো হয়েছিল।
ওর চুপ থাকার পেছনে এমন একজন আছে,
যার নাম উচ্চারণ করাও বিপদ।
যে কারণে আমাকে সত্যি চাপা দিয়ে রাখতে‌ বলা হয়েছিল।”
রুহির ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
রুহি: “তাহলে আমাকে বলছেন না কেন?
আমি কেসটা রিইওপেন করব… না করব…
তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সত্যটা জানা জরুরি না?”
রফিক:‌‌ “আপনি যেদিন ক্ৰিশেৱ সঙ্গে দেখা করবেন…
নিজেই বুঝে যাবেন কারা ওনাকে চুপ করিয়েছিল।
ওনি যদি মুখ খোলে—

প্রমাণগুলো একে একে বের হয়ে আসবে।”
রুহি শ্বাস জোরে টানে।
তার কণ্ঠ কঠিন হয়ে ওঠে।
রুহি: “আমি ক্ৰিশে সঙ্গে দেখা করব।
আলোচনা করব।
আর সত্যটা বের করবই।”
রফিক মাথা নেড়ে সামনে একটা কাগজ ঠেলে দেয়।
রফিক: “আমি একজন পুলিশ অফিসারের সঙ্গে আগে থেকেই কথা বলে রেখেছি।
আপনি শুধু আমার নাম বললেই—
তারা ক্ৰিশেৱ সাথে আপনাৱ দেখা করিয়ে দেবেন।”
রুহি অবাক হয়ে তাকায়।
রুহি: “মানে… আজই দেখা সম্ভব?”
রফিক:“হ্যাঁ।

আপনি যদি সত্যি কেসটা রিইওপেন করতে চান…
তাহলে দেরি করা যাবে না।
ক্ৰিশেৱ সাথে যত দ্রুত কথা বলবেন—
তত দ্রুত প্রমাণ হাতে পাবেন।
আর একবার প্রমাণ পেয়ে গেলে…
কেসটা পুরো উল্টে যাবে।”
রুহি ধীরে উঠে দাঁড়ায়, তার চোখে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা।
রুহি: “ধন্যবাদ, রফিক স্যার।
আজই আমি ক্ৰিশের সাথে কথা বলব।”
রফিক শেষবার তাকে থামিয়ে বলে—
“রুহি… সাবধানে থাকবেন।
এই কেসটা যত সহজ দেখাচ্ছে—
আসলে তার থেকেও অনেক অন্ধকার।”
রুহি থামে না হেঁসে বেৱিয়ে যায় ।
তার পায়ের শব্দ কফিশপের দরজা পেরিয়ে বাইরে মিলিয়ে যায়।
সামনে শুধু একটাই লক্ষ্য—
ক্ৰিশেৱ মুখ থেকে সত্য শোনা।

জেল____
দুপুর ২টা।
দেয়ালে টাঙানো পুরনো ঘড়ির টিকটিক শব্দ।
সিকিউরিটির গেট খুলতেই রুহির বুক কেঁপে ওঠে।
একজন পুলিশ অফিসার তাকে ভেতরে নিয়ে যায়।
অফিসার: ক্ৰিশ খানের সাথে দেখা করতে পারবেন।
কিন্তু… সাবধানে থাকবেন। লোকটা চুপচাপ, কিন্তু এমন ভাবে তাঁকায় মনে হয় সামনে‌ পেলেই খুন কৱবে।”
রুহি কিছু বলে না।
তার হাতের তালু ঘামছে।
লোহার গ্রিলের দরজা খুলে তাকে একটি অন্ধকার ঘরে নেওয়া হয়—
শুধু মাঝখানে একটা পুরনো টেবিল, দুদিকে দুইটা চেয়ার।
অফিসার দরজা বন্ধ করে দেয়, রুহি একা।
শুধু দেয়ালে একটানা ফ্যানের শব্দ…
আর এক অদ্ভুত ঠান্ডা ভয়ের গন্ধ।
কয়েক সেকেন্ড পরে—

পেছনের লোহার দরজা আবার খুলে যায়।
দুইজন গার্ড একজন বন্দিকে নিয়ে আসে।
বন্দির মাথা নিচু,
দীর্ঘ চুল এলোমেলো, গালে পুরনো কাটা দাগ,
দাড়ি-গোঁফে পুরো মুখ ঢেকে গেছে।
রুহি নিশ্বাস আটকে তাকিয়ে থাকে।
এমনটা সে কল্পনাও করেনি।
গার্ডরা তাকে বসিয়ে শুধু বলে—
গার্ড: “পনেৱো মিনিট। কথা দ্রুত শেষ করুন।”
দরজা বন্ধ হয়।
এক মুহূর্ত নীরবতা।
শুধু দুজন মানুষ—
একজন মুক্ত, আরেকজন জেলের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া।
ৱুহিঃ‌ ক্ৰিশ……. ‌

রুহির সেই পরিচিত, মায়ামাখা কণ্ঠস্বরটা নিস্তব্ধতা চিরে ভেসে আসতেই,
ক্ৰিশ যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো থেমে যায়।
মুহূর্তের মধ্যে শরীর শক্ত হয়ে আসে, তারপর ধীরে ধীরে সে মুখ তুলে তাকায়।
তার চোখদুটো যেন আটকে যায় এক জায়গায়—
তার বাটারফ্লাই…
এতদিন যাকে খুঁজেছে, রাত জেগেছে—
সে ঠিক তার সামনে দাঁড়িয়ে।
ক্ৰিশের নিশ্বাস কেঁপে ওঠে।
একটা গভীর বিস্ময়, অবিশ্বাস আর অদম্য তৃষ্ণা একসাথে ঝড়ের মতো আঘাত করে তার ভেতর।
রুহি কিছু বলতে যাবে—
“ক্ৰি…শ…”

কিন্তু শব্দটা ঠিকমতো বের হওয়ার আগেই
এক সেকেন্ডের কম সময়ে ক্ৰিশ উঠে আসে,
আর পরের মুহূর্তে রুহির ঠোঁটে তার তপ্ত ঠোঁট থেমে মিলে যায়।
রুহি পুরোপুরি জমে যায়।
ক্ৰিশের এমন আকস্মিক, বেপরোয়া স্পর্শে সে যেন শ্বাস নিতেই ভুলে যায়।
তাকে মনে হয়—এ স্বপ্ন কি? নাকি সত্যি?
এতদিন পর, এত যন্ত্রণা, এত দূরত্বের পর—
ভালোবাসার মানুষের এমন তীব্র পরশ পেয়ে সে যেন বাস্তবেই নেই।
অন্যদিকে ক্ৰিশ—

যেন বহুদিনের ক্ষুধার্ত মানুষ হঠাৎ তার প্রিয় খাবার সামনে পেয়েছে,
নিজেকে আর ধরে রাখতে পারছে না।
তার চাপা আকুলতা, দহন জ্বালা, সবকিছু ঠোঁটের চুমুতেই উগরে দিতে থাকে।
পাগলের মতো রুহির ঠোঁট চুষে নেয়,
কখনো শক্ত, কখনো নরম—
যেন রুহির অস্তিত্বকেই নিজের ভেতর টেনে নিতে চাইছে।
রুহির চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।
হৃদস্পন্দন এমন গতিতে ধাক্কা খেতে থাকে যে শরীরটাই কেঁপে ওঠে।
তার দু’হাত অনিচ্ছাসত্ত্বেও ক্ৰিশের শার্টের কলারে আটকে যায়—
প্রায় ১০ মিনিটের সেই বুনো, অস্থির, দমবন্ধ করা চুমুর পর ক্ৰিশেৱ শক্ত, পুরুষালি হাতের স্পর্শে
রুহির হুঁশ কিছুটা ফিরে আসে।
ৱুহি ক্ৰিশ কে ঠেলে সৱিয়ে দেই,
ক্ৰিশ থামে—কিন্তু চোখ নামায় না।
তাকিয়ে থাকে এমনভাবে, যেন রুহি এক মুহূর্তও হারিয়ে গেলে সে বাঁচবে না।
তারপর…

ক্ৰিশ আবার এগিয়ে আসে।
ধীরে… গভীরভাবে…
রুহির কোমরে হাত রেখে তাকে শক্ত করে নিজের বুকে টেনে নেয়।
রুহির মাথা ক্ৰিশের কাঁধে থেমে যায়।
ক্ৰিশ ফিসফিস করে—
কণ্ঠটা ভারী, কাঁপা, আর অশেষ তৃষ্ণায় ভরা—
“বাটারফ্লাই…
I need you…
বাটারফ্লাই, I really… really need you…”
রুহির চোখ বেয়ে নীরব অশ্রু ঝরে পড়ে।
সে শুধু চুপচাপ ক্ৰিশের বুকে মুখ গুঁজে দাঁড়িয়ে থাকে—
যেন সারাজীবন এভাবেই থাকতে চায় কিন্তু না সব ভুলে গেলে চলবে না ক্ৰিশ আসলেই সঠিক মানুষ নাকি ভুল সেটা জানতে হবে।
রুহি গলায় কড়া পেশাগত সুর এনে বলে ওঠে—

“Mr. Krish Khan… আপনি কি জানেন, আপনি যা করছেন তা ক্রাইম?
আপনি একজন আইনজীবীকে বিনা অনুমতিতে জোর করে জড়িয়ে ধরছেন, কিস কৱছেন
অশোভন কথা বলছেন।
এটার জন্য আপনার শাস্তি হতে পারে।”
ক্ৰিশ ধীরে ধীরে মাথা কাত করে হেসে ওঠে—
সেই বাঁকা, ধূর্ত, ভয়ংকর পুরুষালি হাসি।
সে হঠাৎ রুহির চুলের মুঠি টেনে ধরে খুব কাছে টেনে আনে।
ক্ৰিশঃ “তুই আমার বউ, মিসেস খান,
আর আমি আমার বউকে ‌আৱো কিছু কৱতে পাৱি।
“You will see”.

কথার সঙ্গে সঙ্গে তার এক হাত বজ্রগতিতে রুহির শার্টের ভেতরে ঢুকে যায়,
উষ্ণ তালুটা রুহির কোমরের উপর থেমে
ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকে।
রুহির পুরো শরীর কেঁপে ওঠে—
চোখ বড় হয়ে যায়, ঠোঁট কেঁপে উঠে নিঃশ্বাস ছুটে আসে।
সে চমকে ক্ৰিশের বুক ঠেলে নিজেকে সরিয়ে নেয়।
ৱুহিঃ “অসভ্যতা বন্ধ করুন!
যখন আমাকে ওইভাবে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলেন তখন আমি আপনার বউ হয় মনে হয়নি?
আমি আপনার কেসটা রি-ওপেন করবো।
তাই সব সত্যিটা আমাকে খুলে বলুন।”
ক্ৰিশের চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে।
তার চোখের দৃষ্টি ঠাণ্ডা, ধারালো।
“এখনই এখান থেকে চলে যা।”
রুহি থমকে যায়—

“মানে কি? সত্যিটা না জেনে আমি কোথাও যাব না।”
ক্ৰিশ টেবিলের ওপর হাত তুলে ঘুষির মতো আঘাত করে—
“I said get out!”
সেই পুরোনো দমকা রাগে পুরো ঘর কেঁপে ওঠে।
কিন্তু আজ রুহির ভেতরে ভয় না—
আগুন জ্বলে।
সে এগিয়ে যায়, ক্ৰিশের কলার চেপে ধরে বলে—
“Mr. Krish Khan, আপনার ধুমকি তে আমি ভয় পাই না।
এখনই সব খুলে বলুন।
আমার হাতে বেশি সময় নেই।”
ক্ৰিশ ধীরে ধীরে তাঁকায় ৱুহিৱ হাতে ধরা নিজের কলারের দিকে।
তারপর আবার সেই বাঁকা, বিপজ্জনক হাসিটা ফুটে ওঠে।
সে রুহির হাত সরায় না—

উল্টো নিজের শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করে।
রুহি ভড়কে ওঠে, দু’পা পিছিয়ে যায়—
“আপনি শার্ট খুলছেন কেন?”
ক্ৰিশ ভ্রু তুলে বলে—
“তুই তো বললি সব খুলে বলতে।”
রুহি চোখ পাকিয়ে চিৎকার করে—
“অফ! স্টুপিড!
আমি বলেছি—সব ঘটনা খুলে বলুন!”
ক্ৰিশ হঠাৎ রুহিকে কোমর ধরে টেনে তোলে—
তার হালকা শরীর সহজেই উঠে যায়
এবং পরের মুহূর্তে রুহিকে টেবিলের ওপরে বসিয়ে দেয়।
ক্ৰিশ দু’হাত টেবিলের দুপাশে রেখে রুহির মুখের খুব কাছে ঝুঁকে আসে।
তার চোখে সেই একই পুরোনো দখলদার উত্তাপ—
যা একসময় রুহির দুর্বলতা ছিল।

“Misses Khan…”
তার কণ্ঠ গভীর, ভারী—
“আপনি যত বড় লইয়ার হন না কেন,
আমার কাছে এখনো সেই আগের মতোই লেদা মাৱকা আছেন।
তাই আমার সাথে বেশি খেলা খেলবেন না।
নিজের ক্যারিয়ারে মন দিন।
আর ওই আমান ভাইয়ার থেকে দূরে থাকবেন।
শুধু সে না—সকল ছেলের থেকে দূরে থাকবেন।
আমি বেড়িয়ে তারপৱ আপনাৱ সাথে সব হিসেবপত্র মিলাবো… বুঝেছেন?”
রুহির নিশ্বাস আটকে আসে।
সে ঠোঁট কামড়ে কিছু বলতে যায়—
ক্ৰিশ হাত তুলে তার চিবুক ধরে স্থির করে।
“দ্বিতীয় বার যদি এখানে আসো…
এখানেই বাসর সেরে ফেলবো।

You know…
তোমাকে দেখলে আমি কতটা কন্ট্রোল লেস হয়ে যাই।”
সে ধীরে রুহির মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
“এখন বাড়ি যাও।
খাও, দাও, ঘুমাও।”
রুহির হৃদস্পন্দন এখনও থামছে না—
তার চোখে ভয়, রাগ, ভালোবাসা, দহন—
সব মিলেমিশে আছে।
রুহি টেবিলের ওপর বসা অবস্থায়ই ক্ৰিশেৱ চোখে নজর আটকে রাখে।
দু’জনের মাঝের হাওয়া যেন ভারী হয়ে ওঠে—
রাগ, তীব্রতা, দহন… সব মিলেমিশে তপ্ত।
ঠিক তখনই—
দরজায় টকটক শব্দ।

একজন কনস্টেবল মাথা নিচু করে ভেতরে উঁকি দেয়।
“সময় শেষ, ম্যাডাম। আপনাকে যেতে হবে।”
ঘর আরেকবার নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
রুহির বুকের ভেতরটা আরও বেশি খিঁচ ধরে যায়।
সে ধীরে ধীরে টেবিল থেকে নামতে থাকে।
মুখে সেই কঠোর পেশাগত ঠাণ্ডা ভাব—
কিন্তু চোখে ক্ৰিশের কারণে জন্মানো ঝড়টা এখনো স্পষ্ট।
রুহি দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করে—
তার হিলের শব্দ ধীরে ধীরে চাৱিদিক ভরিয়ে তোলে।
পেছন থেকে ক্ৰিশ তাকে থামিয়ে দেয় এক অদৃশ্য টানে—
“butterfly…”
রুহি থামে না।

কিন্তু ঠিক দরজার কাছে পৌঁছানোর আগেই
ক্ৰিশ দুই আঙুল দিয়ে বাতাসে হালকা একটা ইশারা করে—
সে রুহির দিকে এক খেলাচ্ছলে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দেয়।
চোখে সেই একই বাঁকা, পাগলানো হাসি।
রুহি থমকে যায় এক সেকেন্ডের জন্য।
তার চোখে রাগের আগুন ঝলসে ওঠে—
গাল কেঁপে ওঠে, ঠোঁট কামড়ে ধরে।
এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকে মাত্র—
তারপর সে তীব্র রাগে, দ্রুত হাঁটে
কনস্টেবলের সঙ্গে বেরিয়ে যায় বাইরে।
তার হিলের শব্দ করিডোরে প্রতিধ্বনি তোলে—
টক… টক… টক…

প্রতিটা শব্দ যেন ক্ৰিশের বুকে গেঁথে যায়।
আর ক্ৰিশ চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে, হালকা হাঁসি মুখে—
চোখে আগুনের মতো ঝিলিক।
ঠিক সেই সময়
উচ্চ হিলের টকটক শব্দে ঘরজুড়ে একটা উত্তেজনা তৈরি হয়।
ক্ৰিশ মাথা ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখে—
সিমরান ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকছে।
সোজা ক্ৰিশের সামনে এসে দাঁড়ায়।
ক্ৰিশ বিরক্ত সুরে বলে—

“এখানে কেন?”
সিমরান গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে শান্ত, তীক্ষ্ণ স্বরে বলে—
ক্ৰিশ বিরক্ত হয়ে পাশ ফিরতেই
সিমরান তার সামনে এসে দাঁড়ায়—
চোখে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা।
সিমৱানঃ “ক্ৰিশ, এখনো সময় আছে।”
ক্ৰিশ ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
সিমরান ধীরে ধীরে, কিন্তু খুব স্পষ্টভাবে বলে—
“আমাকে মেনে নাও, ক্ৰিশ।
সে এক পা এগিয়ে আসে।
“আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাও।”
ক্ৰিশেৱ চোখ মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে যায়।
সিমরান কথা চালিয়ে যায়—
“তোমাকে এখান থেকে বের করে আনার দায়িত্ব আমার।”
“আর কতদিন জেলে বসে নিজের যৌবন নষ্ট করবে, ক্ৰিশ?”
সিমরানের কথা শেষও হয়নি—
ক্ৰিশের চোখ আচমকা লাল হয়ে ওঠে।
মুহূর্তের মধ্যেই তার ধৈর্য ভেঙে যায়।
এক ঝটকায় সে এগিয়ে এসে—
ঠাসসস!!

একটা ভয়ংকর থাপ্পড় সিমরানের গালে আঘাত করে।
সিমরান তীব্র চিৎকার করে ছিটকে দূরে গিয়ে মেঝেতে পড়ে যায়।
তার চুল এলোমেলো, চোখে বিস্ময় আর অপমানের পানি।
ঘর নিস্তব্ধ।
সিমরান কাঁপতে কাঁপতে মুখ তুলে তাকায়।
ক্ৰিশ জোরে জোরে হাসতে শুরু করে।
হাঁটুমোড়ে নিচু হয়ে বসে
সিমরানের মুখের সামনে সেই দানবীয় হাসিটা ছড়িয়ে বলে—
“উপস…
আমার সামান্য একটা চড়ও সহ্য করতে পারলে না?”
তার কণ্ঠে ঘৃণা, ব্যঙ্গ, তাচ্ছিল্য—

“তাহলে আমার বাকি জিনিসগুলো কীভাবে সামলাবে, বলতো?”
সে ধীরে ধীরে মাথা কাত করে বলে—
“ওগুলো তো শুধু একজনের জন্যই।”
সিমরানের বুক কেঁপে ওঠে—
সে বুঝে যায় সেই ‘একজন’ রুহি ছাড়া আর কেউ নয়।
ক্ৰিশ উঠে দাঁড়ায়, চোখে সরাসরি আগুন—
“আমার যৌবন এতটা লুজ না
যে তোর মতো থার্ড-ক্লাস মেয়ের ওপর ফসকে যাবে।”
তার কণ্ঠ এবার ঠাণ্ডা, ধারালো—

mad for you part 23

“গেট।
আউট।”
সিমরান ভয়ে, অপমানে, কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়ায়।
দরজা ঠেলে বেরিয়ে যাওয়ার সময়
ক্ৰিশের হাসিটা তার কানে ছুরি হয়ে বিঁধে যায়।

mad for you part 25