Home mad for you mad for you part 26

mad for you part 26

mad for you part 26
তানিয়া খাতুন

রাত ১ টা বাজে।
নিস্তব্ধ জেলেৱ ভেতরে একমাত্র জেগে আছে ক্রিশ।
লোকআপের ছোট জানালা দিয়ে আসা ক্ষীণ আলোয় সে চুপচাপ তাকিয়ে আছে রুহির ছবিটার দিকে।
চারদিকে এমন নীরবতা—শুধু বাইরে ডিউটিতে থাকা কনস্টেবলদের পায়ের আওয়াজ মাঝে মাঝে ভেসে আসে।
হঠাৎ—

“টাক্!”
লোকআপের দরজা খোলার শব্দে ক্রিশ ভুরু কুঁচকে চমকে উঠে তাকায়।
ভেতরে ঢোকেন রফিক হাসান।
রফিক: “ক্রিশ, আগেরদিন মিসেস রুহি আপনার কেসটা রিওপেন করার জন্য আমার কাছে এসেছিলেন।
আপনাৱ সাথেও দেখা কৱতে এসেছিলেন। আপনাদের মধ্যে ঠিক কী কথা হয়েছিল—একটু বলবেন?”
ক্রিশ উঠে দাঁড়ায়, কণ্ঠ শুকনো।
ক্রিশ: “রুহির কী হয়েছে…?”
রফিক গম্ভীর ভঙ্গিতে সামনে এগিয়ে আসে।
রফিক: “সেটাই জানার জন্যই তো জিজ্ঞেস করছি। রুহি কিছু প্রমাণের কথা আপনাকে বলেছে।”
ক্রিশের গলা দিয়ে যেন কথা বেরোয় না।
শুধু মাথা নেড়ে না বোঝায়।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

রফিক ঘুরে বেরিয়ে যেতে শুরু করলে ক্রিশ দ্রুত এগিয়ে তার পথ আটকে দেয়।
ক্রিশ: “কি হয়েছে—পুরোটা বলুন রফিক হাসান!”
রফিক এক মুহূর্ত চুপ, তারপর ধীরে বলে—
রফিক: “রাতে রুহি আমায় ফোন করেছিল।
বলেছিল, তার কাছে সব প্রমাণ আছে…।
তারপর বলল—আমি যেন রেডি থাকি, ও এসএমএস করলেই যেন পুলিশ নিয়ে যাই… হাতে নাতে ধরার জন্য।
কিন্তু…
তার আর কোনো এসএমএস আসেনি।”
রফিকের কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে।

রফিক: “ক্রিশ, আপনা প্রথম দিনেই সব সত্য বলে দিলে আজ এসব হতো না।
রুহির কিছু হলে এর দায় কিন্তু আপনাৱ।”
সব কথা শুনে ক্রিশের মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
রাগে তার রক্ত টগবগ করে, চোখের শিরা ফুলে যায়।
ক্রিশ (চোখ লাল): “আমি রুহির জন্যই চুপ ছিলাম রফিক হাসান!
She is my wife!
ওকে রক্ষা করার জন্যই সব দোষ আমি নিজের ওপর নিয়েছিলাম—কারণ আমার বাটারফ্লাই তখন শত্রুর হাতে ছিল!”
রফিক (স্তব্ধ):

“What…?”
ক্রিশ: “লোকেশন বের করেছেন?”
রফিক ফোন বের করে মাথা নাড়ে।
রফিক: “হ্যাঁ। এখনই পুলিশ নিয়ে রওনা হচ্ছি।”
ক্রিশ দরজার দিকে এগোয়।
ক্রিশ: “চলুন।”
রফিক তার সামনে দাঁড়িয়ে যায়।
রফিক: “এক মিনিট।
আপনাকে নিতে পারব না।
যতই হোক—আইনের চোখে আপনি একজন ক্রিমিনাল।
আপনি কিছু করেননি—সেটা আমি জানি, কিন্তু বাকিৱা জানে না।”
এই কথাগুলোতে ক্রিশের মাথা পুরো গরম হয়ে ওঠে।
আর এক মুহূর্তও সহ্য করতে পারে না।
হঠাৎ ক্রিশ ঝড়ের মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে রফিকের কলার চেপে ধরে দেয়ালে ঠেসে ফেলে।
রফিক হতবাক হয়ে যায়।

এর আগেই ক্রিশ তার পকেট থেকে বন্দুকটা টেনে বের করে—
ঠাস করে ট্রিগারটা রফিকের কপালে ঠেকিয়ে ধরে।
ক্রিশ বন্দুকটা রফিকের কপালে ঠেকিয়ে ধরে খুব নিচু গলায় বলে—
“স্যার, এখন আর নিয়ম মানার সময় নেই। আমাৱ বাটারফ্লাই এৱ জীবন ঝুঁকিতে আছে।
আপনার ফোনটা দিন।”
রফিক আর কিছু বলতে পারে না।
ভয়ে ও বিস্ময়ে তার হাত কাঁপে।
ক্রিশ তার হাত থেকে ফোনটা টেনে নেয়।
ঠিক তখনই দুইজন কনস্টেবল দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়, পরিস্থিতি বোঝে না, শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
ক্রিশ বন্দুকটা আরও শক্ত করে রফিকের মাথায় ঠেকিয়ে বলে—
ক্রিশ: “পাশে সরে যান। আরেক কদম এগুলে আপনাদের অফিসারেৱ লাস পড়বে!”
কনস্টেবলরা ভয়ে জমে যায়।
একজন তো শ্বাসও নিতে ভুলে গেছে যেন।
ক্রিশ রফিককে সামনে ধরে ঢাল বানিয়ে ধীরে ধীরে লোকাপের বাইরে বের হয়।
রফিকের কণ্ঠ কাঁপছে—

“ক্রিশ… এটা ঠিক হচ্ছে না।”
ক্রিশ (দাঁত চেপে):“চুপ, এখন শুধু আমাৱ বাটারফ্লাই কে বাঁচানো জরুরি।”
করিডোর ধরে এগোতে থাকে তারা।
কনস্টেবলরা কারো নির্দেশ না পেয়ে নড়তেও পারছে না।
রফিকেৱ মাথায় বন্দুক ঠেকানো দেখে কেউই এগিয়ে আসার সাহস পাচ্ছে না।
বাইরে পৌঁছানোর পর ক্রিশ বলে—
“গেট খুলুন।”
গেটে থাকা কনস্টেবল দোটানায় পড়ে যায়।
কিন্তু রফিকের মুখের ভয় দেখে সে চাবি ঘুরিয়ে দেয়।
বাইরে বাতাস একটু ঠান্ডা।
রাত আরও গভীর।
পুলিশের গাড়িগুলো সারি করে দাঁড়িয়ে আছে।
ক্রিশ রফিককে ঠেলে সামনে নেয় এবং বলে—

“চলুন। ওই গাড়িটা।”
একটা কালো রঙের পুলিশের জিপ সামনে ছিল।
ক্রিশ রফিককে আগে উঠতে বলে, তারপর নিজে উঠে পাশের সিটে বসে পড়ে।
বন্দুকটা এখনও রফিকের মাথায় ঠেকানো।
এরপর—
ফোনটা আনলক করে রফিকের লোকেশন অ্যাপ খুলে দেয়।
ক্রিশ: “গাড়ি স্টার্ট দিন।
লোকেশন অনুযায়ী চালান।
বেশি দেরি হলে—আপনার মাথা উড়বে আগে।”
রফিক ভয়ে ঢোক গিলে ফেলে।
গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট হয়।
রাতের অন্ধকার চিরে পুলিশ জিপটা রুহির লোকেশনের দিকে ছুটে যায়।

রুহির মুখে হঠাৎ ঠান্ডা পানিৱ ছিটে পড়ে।
জল চোখে-মুখে লাগতেই ৱুহি ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে।
ছটফট করতে করতে চারদিকে তাকায়।
ঘরটা অন্ধকার, চারপাশে অচেনা গন্ধ।
তার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে সিমরান, হাতে পানিভরা গ্লাস।
রুহি (কাঁপা গলায়): “আমাকে… কোথায় এনেছিস তুই?”
সিমরান ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে।
সিমরান: “রিল্যাক্স বন্ধু, রিল্যাক্স…
আমি তোকে বিয়ে দিতে এনেছি।”
রুহির বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে ওঠে।
সে ভয়েভয়ে পিছিয়ে বসে।
রুহি: “বিয়ে?… কিসের বিয়ে?”
সিমরান গ্লাসটা পাশে রেখে চুলের গোছা আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে বলে—
সিমরান: “শোন, আমান তোকে অনেকদিন ধরে ভালোবাসে।
ও তোকে বিয়ে করবে।”
রুহির চোখ বড় হয়ে যায়।

রুহি: “আমান আমাকে ভালোবাসে—এটা যদি তুই জানতিস তাহলে ওকে লাভ-লেটার দিয়েছিল কেন?”
সিমরান আবার হাঁসে।
এইবার তার হাসিতে ঈর্ষা আর পাগলামির মিশ্র।
সে হঠাৎ এগিয়ে এসে রুহির চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে টান দেয়।
সিমরান: “সবই তো তোর জন্য!
আমি যাকেই চাই—তুই তাকে নিজের জালে ফাঁসিয়ে নিস!
প্রথমে আমি ক্রিশকে চেয়েছিলাম… তুই ক্রিশকে নিজের করে নিলি।
তারপর আমি আমানকে চাইলাম… তাকেও তুই নিজের জাদু দিয়ে বশ করলি!”
রুহি ব্যথায় মাথা ঘুরে যায়।
সে মরিয়া হয়ে সিমরানের হাত ঠেলে দেয়।

রুহি: “আমানকে আমি ভাইয়া বলি!
তাকে আমি ভাইয়ার মতোই দেখি!
এতেও তোর এত সমস্যা?
এই জন্যই আমার মুখে অ্যাসিড ফেলেছিলি?”
সিমরান এবার জোরে হেঁসে ওঠে।
হাসিটা এত বিকৃত যে রুহির গায়ে কাঁটা দেয়।
সিমরান: “হ্যাঁ, ভাই! সত্যি—এই নাটক তোর দ্বাৱাই সম্ভব।
হ্যাঁ, আমি তোর মুখে অ্যাসিড ছুঁড়েছিলাম।
কিন্তু আমি একা ছিলাম না।
আমার সাথে ছিল ক্রিশের সৎ বোন।
ক্রিশকে পাওয়ার লোভে ও আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল!”
রুহির চোখে পানি চলে আসে।
রুহি: “কিন্তু… ক্রিশের বাবা-মা তো তোকে কিছুই করেনি।
তাদের কেন মেরেছিলি?

আর ওনাৱ বোন — সে তো তোকে সাহায্য করছিল… তাকে কেন মারলি?”
সিমরান: কারণ ও ক্ৰিশ কে পাচ্ছিল না, ক্ৰিশ ওকে ইগনোর করতো, তাই ও আমায় হুমকি দিচ্ছিল—আমি যদি ক্ৰিশকে ওর করে না দিই, তো ও আমায় ফাঁসিয়ে দেবে, পুলিশকে বলে দেবে আমি তোর মুখে অ্যাসিড দিয়েছি।
আর রইলো ক্ৰিশের বাবা–মা, ওদের আমি মারতে চাইনি। ওরা আমায় খুন কৱতে দেখে ফেলেছিল, তাই বাধ্য হয়ে ওদের কেউ মারতে হলো।
রুহির কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল।
সে আন্দাজ করতে পারেনি কোনোদিন‌ও যাকে নিজের কাছের মানুষ ভেবেছিল, সে এমন নোংরা মানসিকতার মানুষ।
অনায়াসে তিনটা খুন করে ফেলেছে!
রুহি: তুই এতটা নিচে কবে নামলি সিমরান?
তুই এতটা পালটা গেলি কীভাবে?
সিমরান: ওহ শাট আপ! তোর ইমোশনাল ড্রামা বন্ধ কর। এখন তাড়াতাড়ি রেডি হো, আমান কাজি নিয়ে চলে আসবে।

রুহি: তুই একটা কাজ কর—তুই আমানকে বিয়ে করে নে।
কারণ দু’জন মিলে তো এত প্ল্যানিং করেছিস—তোদের দু’জনেরই ভালো মিলবে।
সিমরান: I know জান, আমাদের ভালো ম্যাচ করবে।
ও আমার সবকিছুতেই সাপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু ওর খুব ইচ্ছে তোকে পাওয়া… I mean, বেডে পাওয়া।
আর আমার ইচ্ছে তোকে ক্ৰিশেৱ থেকে দূরে করা।
ক্ৰিশ যখন জানতে পারবে তুই আমানের সাথে শুয়েছিস, তখন ও তোর দিকে ঘুরেও তাকাবে না।
আর আমি ক্ৰিশেৱ হয়ে যাব।
রুহি: ছিঃ! আল্লাহ সব দেখছেন। সিমরান, আর শাস্তি কিন্তু তুই পাবি।
সিমরান: এই তোর ড্রামা বন্ধ কর তো! চল তাড়াতাড়ি।
তারপর তোদের বাসর এর ভিডিও বানাবো! — বলেই রুহির হাত ধরে টানতে থাকে।
রুহি নিজেকে ছাড়াতে থাকে। দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুৱু হয়।

ক্ৰিশ এখনো বন্দুকটা রফিকের মাথায় ঠেকিয়ে ৱেখেছে।
কিন্তু ৱফিকেৱ আস্তে গাড়ি চালানো দেখে ক্ৰিশেৱ মাথা গৱম হয়ে যাচ্ছে।
ক্ৰিশ: সরুন, আমি গাড়ি চালাব।
রফিক ভয় পেয়ে গাড়ি থামিয়ে সিট থেকে সৱে আসে।
ক্ৰিশ ড্রাইভারের সিটে ঝট করে বসে পড়ে।
চোখে রাগ–দুঃশ্চিন্তার মিশ্র আগুন।
রফিক কাঁপতে কাঁপতে পাশের সিটে বসে।
ক্ৰিশ এক সেকেন্ডও দেরি না করে গাড়ি স্টার্ট দেয়।
ইঞ্জিনের শব্দে আশেপাশের নীরবতা ভেঙে যায়।
ক্ৰিশ এক হাতে বন্দুক ধৱে ৱেখে এক হাতে ড্ৰাইভ কৱতে থাকে।
ক্ৰিশ (চোখ লাল ): বাটারফ্লাই… আমি আসছি।
গাড়িটা সে এমন জোরে রাস্তায় তোলে যে টায়ারের ঘর্ষণে ধোঁয়া উঠে যায়।
গাড়ি নিশ্বাস নেওয়ার সময়ও পাচ্ছে না—

mad for you part 25

ক্ৰিশ শুধু সামনে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে, স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে ছুটে যাচ্ছে অন্ধ গতিতে।
ক্ৰিশ: যেদিন তোকে হারিয়েছিলাম, সে দিন দিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি… আজ আর হারাতে দেব না।
গাড়ি রাতের অন্ধকার চিরে ছুটে যায়—

mad for you part 27